চেকমেট_২ ||৮||
সারিকা_হোসাইন
“বাড়ি ফিরে এসো শাহ,তোমার চিন্তায় তোমার মা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।তোমার দাদু কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় শয্যা নিয়েছে।তোমার নানী হার্টের পেশেন্ট।এতো ধকল সে নিতে পারে?তোমার কথা ভেবে ভেবে আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।কোনো কিছুতেই মন বসাতে পারছি না।কোটি কোটি টাকা লস হচ্ছে ঠিক মতো বিজনেস মিটিং এটেন্ড করতে না পারার কারণে।সব মিলিয়ে অসহনীয় এক সময় কাটছে আমাদের। সামান্য এক মেয়ের জন্য আমাদের সবাইকে এভাবে কষ্ট কেনো দিচ্ছ?যদি চাও রুদ্ররাজ এর মেয়েকে তুলে আনতে পারি এখনই সঙ্গে রুদ্ররাজ কে সহ।কিন্তু ভালোবাসায় জবরদস্তি খাটে না।এসব মনের মিলের ব্যাপার।এভাবে কখনোই সুখী হবে না তুমি।আমি কখনোই চাইবো না আমার আদরের একমাত্র কলিজার টুকরা আজীবন কষ্ট পাক।সব যন্ত্রনা সওয়া গেলেও ভালোবাসার জন্ত্রনা সওয়া যায়না শাহ।বুঝতে পেরেছো কি বুঝাতে চাইছি আমি?
সারফরাজ এর কথায় শাহরান দীর্ঘশ্বাস ফেললো।এরপর কপাল স্লাইড করতে করতে বলে উঠলো
“আমি আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাক করবো পাপা।আর ওই মেয়ের জন্য আমার মনে কোনো ফিলিংস নেই এখন।ওসব আমি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়েছি।নেক্সট টাইম ওকে নিয়ে আমায় কিছু বলো না।আমি শুনতে চাই না।আপাতত মুভ অন করার ট্রাই করছি আমি।
“তবে ওখানে বসে কি করছো?এমন কঠিন বরফ ঝরা ঠান্ডায় তোমার নানা ভাইকে কষ্ট কেনো দিচ্ছ?উনাকে নিয়ে চলে এসো।ইমারজেন্সি ফ্লাইট বুকিং করে দিচ্ছি,নয়তো জেট পাঠাই!
“প্লিজ পাপা ,জোর করো না।আমার কিছু জরুরি কাজ আছে সেসব সেরে তবেই ফিরবো।আর নানা ভাই ভালো আছে।আমি তার খেয়াল রাখছি।
ছেলের সাথে কথায় না পেরে সারফরাজ বলে উঠলো
“ঠিক আছে থাকো।কিছু হলে পাপাকে একবার জানাবে।দরকার পড়লে তামাম দুনিয়া এক করে সেই জিনিস হাসিল করে দেব তোমায়।তবুও একাকী গুমরে মরো না।নিজের ভেতর সবকিছু চাপিয়ে রাখা বন্ধ করো।তোমার মা আছে আমি আছি।আমাদের বন্ধু ভাবো।বাবা মা ভেবো না।
কল কেটে গেলো।ফোনের পানে এক পলক তাকিয়ে খোলা ঝাপসা অন্ধকার আকাশে নজর নিবদ্ধ করলো শাহরান।আকাশে আজ চাঁদ নেই।হয়তো মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়েছে।সবকিছু দমবন্ধকর।রাশিয়ার বাতাস ও আজকাল বিষাক্ত অক্সিজেন হীন লাগে তার কাছে।কোথাও কোনো শান্তি নেই।চারিধারে অসহ্য রকমের জন্ত্রনা চিৎকার করে বেড়ায়।শাহরান কাঁধ উচালো।মনের মধ্যে জেগে উঠা বিষাদ গুলোকে ঝেড়ে মন থেকে বার করলো।এরপর ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে নিজের বেড রুমের পানে এগিয়ে গেলো।আলোকিত কক্ষে প্রবেশ করতেই দেয়ালে ঝোলানো বিশাল ফটো ফ্রেম নজরে এলো।তাতে রোদের বৃহতাকার এক হাস্যজল ছবি।ছবিটা তুলেছিলো শাহরান তাও বছর চার আগে।চোয়াল কেঁপে নাক ফুলে উঠলো শাহরানের সেই ছবি দেখে।মনের ভেতর ঘৃণা কিলবিল করে উঠলো।চারপাশে কিছু খুজলো শাহরান।পেলো না।অতঃপর হাত দিয়ে শক্ত কয়েক ঘুষি বসালো কাঁচের ফ্রেমে।মুহূর্তেই শক্ত ঘুসিতে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হলো ফটো ফ্রেম।ফ্রেমের ধারালো ভাঙা কাঁচ নির্দয়ের মতো কেটে নিলো শাহরানের হাত।তা থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত ঝরতে লাগলো।বিশেষ পাত্তা দিলো না শাহরান।হৃদয়ের ব্যাথার তুলনায় শরীরের ব্যথা যেন কিছুই নয়।ব্যাগ্র গতিতে দেয়াল থেকে ফ্রেম নামিয়ে মেঝেতে সজোড়ে ছুড়ে মারলো সে।ঘৃণিত নজর নিবদ্ধ করলো বিধস্ত ছবিতে।যত্নের ছবিটা আজ বড্ড অযত্নে মেঝেতে লুটিয়ে রয়েছে।এরপর পা চালিয়ে হিংস্র গতিতে রিডিং টেবিলের ড্রয়ার থেকেও বের করে আনলো শত শত ছবি।সঙ্গে নিজের বহু শখের ব্যাবহৃত ক্যামেরা।সব কিছু নিয়ে ছুড়ে মারলো ঘরে জ্বালানো ফায়ার প্লেসের জলন্ত অগ্নি শিখায়।দাউ দাউ জলন্ত শিখায় সেগুলো জ্বলে উঠলো দ্বিগুন লেলিহানে।শাহরানের চোখ জোড়া যেনো আগুনের ফুলকি।এই বুঝি সেই ফুলকিতে সব জ্বলে খাক হয়ে যায়।চোখের সামনে নিমিষেই ছাই হয়ে গেলো বহু বছরের জমানো প্রত্যেকটা স্মৃতি।শাহরান পাশের কাউচে ধপ করে বসে পড়লো।শরীরটা ভার লাগছে বেশ।যেনো বহু বছর একাকী পথ হেটে বড্ড ক্লান্ত।ধরে আসা মাথাটা কাউচে হেলিয়ে চোখ বুঝলো শাহরান।অতঃপর বিড়বিড় করে আওড়ালো
“তোমাকে যদি আমার পিছনে উন্মাদিনীর ন্যায় না দৌড় করিয়েছি তবে আমি সারফরাজ শাহজাইন এর জন্মই নই।ইউ উইল সাফার সো মাচ প্রীটি লেডি!
শাহরান ধীরে ধীরে নিদ্রায় ডুবে গেলো।শান্ত হলো মস্তিষ্ক।অসহায় ক্লান্ত চোখ থেকে টুপ করে খসে পড়লো এক ফোটা জল।শাহরান হুঁশে রইলো না।মুছল না সেই জল।শুধু ডুবলো ভারী ঘুমে।
প্রত্যেক ক্লাসে লেকচারার নোটিশ মারফত জানিয়ে দিলো আগামী সানডে সবাই ট্যুরে যাবে।ট্যুরের ঘোষণা শুনে সকলের মাঝে উচ্ছাস দেখা দিল।আজ আর বাকি ক্লাস হলো না।লেকচারার নিজের খাতা পত্র গুছিয়ে বিদায় নিলেন।প্রিয়ন্তী যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচল।ক্লাসে তার মন বসে না।যতক্ষণ লেকচারার থাকে ততক্ষণ চোখে ঘুম জেঁকে ধরে থাকে।লেকচারার যেতেই প্রিয়ন্তী রোদ কে বলল
“চলো কফি খেয়ে আসি।নেক্সট পিরিয়ডে ম্যাথ ক্লাস রয়েছে।মাথাটা খুব ধরেছে।
রোদ উঠে দাঁড়ালো।প্রিয়ন্তী কে অনুসরণ করে চলতে লাগলো।প্রিয়ন্তী আর রোদ যখন ক্যান্টিনে পৌছালো তখন শাহরান আর নিনাদ কে দেখা গেলো খাবার খেতে।বাম হাতে কব্জি পর্যন্ত মোটা ব্যান্ডেজ শাহরানের।শাহরানকে এমন অবস্থায় দেখে প্রিয়ন্তীর কপাল কুচকে এলো।রোদ আর প্রিয়ন্তী একটা টেবিলে বসে কফি ওর্ডার দিলো।উশখুশ করতে করতে রোদের নজর শাহরানের পানে নিবদ্ধ হলো।ছেলেটি কারো পানে না তাকিয়ে গোগ্রাসে খাবার খাচ্ছে।যেনো বহু জন্মের ক্ষুধার্ত।খাবার খেতে খেতে সামনে তাকালো শাহরান।মুহূর্তেই চোখা চোখি হলো দুজনের।শাহরান তাৎক্ষণিক নজর সরিয়ে নিলো।থেমে গেলো খাবার চিবুনি।চোখের দৃষ্টি কেমন ক্রুর হলো।চোয়াল শক্ত হয়ে রইলো।হাতের চামচ প্লেটে ছুড়ে মেরে উঠে দাঁড়ালো শাহরান।নিনাদ তখনো খাবার খাওয়ায় ব্যাস্ত।শাহরান কে উঠতে দেখে নিনাদ অবাক হয়ে শুধালো
“কি হলো খাবিনা?
“না
“সেকি কেনো?
“চারপাশে দারুন গন্ধ ছড়াচ্ছে।সেই গন্ধে গলা দিয়ে খাবার নামছে না
বলেই হনহন করে বেরিয়ে গেলো শাহরান।নিনাদ চারপাশে তাকিয়ে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করলো।রোদকে দেখে তার নিকট সবটা পরিস্কার হলো।নিজেরও আর খাওয়া হলো না।ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো শাহরানের পিছু পিছু।শাহরানের এহেন নিষ্ঠুর অদ্ভুত আচরণে রোদের বুকে কেমন ধাক্কা লাগলো।বড্ড অপমান বোধ হলো।ওয়াইটার কফি দিয়ে গেলো।রোদ এখনো বিস্ফারিত চোখে শাহরানের যাবার পানে তাকিয়ে রয়েছে।প্রিয়ন্তী কফিতে ছোট চুমুক দিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলে উঠলো
“ও তোমাকে দুর্গন্ধ বাতাস বললো।কেমন অনুভূতি হচ্ছে এটা শুনে?কেউ ইগনোর করে অপমান করলে বড্ড খারাপ লাগে তাই না?
এবার প্রিয়ন্তীর পানে বিস্ময় নিয়ে তাকালো রোদ।সে মিইয়ে আসা গলায় শুধালো
“কি বলতে চাইছো তুমি?
প্রিয়ন্তী ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো
“তোমার ভেতর এই মুহূর্তে যেই অনুভূতি টার সৃষ্টি হয়েছে আমি শুধু সেটার ব্যথা জানতে চাইলাম।
“তোমায় কে বললো আমার ভেতর কষ্ট হচ্ছে?
কিছুটা কঠিন গলায় শুধালো রোদ।প্রিয়ন্তী কফি খেতে খেতে বললো
“তোমার চোখের দৃষ্টি জলের মতো স্বচ্ছ।কফি খাও।ঠান্ডা হয়ে গেলে তেঁতো লাগবে।
রোদ কফিতে চুমুক দিলো।অলরেডি এটা ঠান্ডা হতে শুরু করেছে।সত্যিই স্বাদ হীন তেঁতো লাগলো।প্রথম চুমুকেই চোখ মুখ কুঁচকে এলো।প্রিয়ন্তী বাঁকা হেসে শুধালো
“ট্যুরে যাচ্ছ তো নাকি?
“সিউর বলতে পারছি না।বাবা খুব স্ট্রিক্ট।
“তোমার বয়স তো আঠারো প্লাস তাইনা?
“হ্যা কেনো?
“তোমার এখন তোমার বাবার শাসন নামক গন্ডি থেকে বের হওয়া উচিত।একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত বাবা মা তার সন্তানকে শাসন করতে পারে।বয়স টা পাড় হয়ে গেলে সেটা হয় বাড়াবাড়ি।
“কি বলতে চাইছো?
“বলতে চাইছি নিজের মতো বাঁচো কলের পুতুল না হয়ে।
রোদ কেমন অবাক হলো।প্রিয়ন্তীর কঠিন কথা তার মাথায় ঢুকছে না।এমন সময় এলিজা দৌড়ে এলো।এসে বললো
“শাহরানের হাতে কিসের ব্যান্ডেজ ওটা?কাল কি এক্সিডেন্ট করেছে সে?
রোদ নিশ্চুপ বসে রইলো।এলিজা ফট করে বলে উঠলো
“এতো সুন্দর একটা চকলেট বয় কে কিভাবে হাতছাড়া করলে তুমি রোদসী?তোমার খারাপ লাগছে না?
রোদ জবাব দিতে পারল না।এলিজা নিজেই পুনরায় বলে উঠলো
“ইশ সে যদি আমাকে এভাবে ভালোবাসতো তবে সব উজাড় করে বুকে জড়িয়ে রাখতাম তাকে।তুমি একটা বোকা মেয়ে।
বলেই তাড়া দেখিয়ে চলে গেলো সে।এলিজা যেতেই প্রিয়ন্তী বলে উঠলো
“একবার বাইরের দুনিয়াটা ঘুরে দেখো, স্বাধীনতার স্বাদ পাবে।
রাতের খাবার টেবিলে রোদ নিজের বাবার কঠিন চেহারা খানা একপলক দেখলো।এরপর মনে হাজারো সংকোচ আর ভয় চাপিয়ে চুপচাপ খেতে লাগলো।কিন্তু খাবার মুখে দিতেই কেমন বমির উদ্রেক হয়।রুদ্র তা খেয়াল করে মেয়েকে শুধালো
“কিছু বলতে চাও?
রোদ নিশ্চুপ রুদ্রের পানে তাকিয়ে এক ঢোক পানি খেয়ে বললো
“সবাই ট্যুরে যাচ্ছে।
রুদ্রের মুখ কঠিন হলো।সে বলল
“যাক।নেক্সট উইকেন্ডে আমরা জার্মানি ঘুরতে যাবো।
বলেই পুনরায় খাওয়ায় মনোযোগী হলো রুদ্র।রোদ হাত গুটিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে একবার মায়ের পানে নজর নিবদ্ধ করলো।অতঃপর শক্ত গলায় বলল
“বন্ধুদের সাথে আমি যেতে চাই বাবা।আমি জার্মানি যাবো না বাবা।
রুদ্রের ভ্রু উঁচু হলো।সে অবিশ্বাস্য চোখে মেয়ের পানে তাকালো।ততক্ষনে খাবার ফেলে উঠে দাঁড়ালো রোদ।সে সিঁড়ি ধরলো নিজের কক্ষে যাবার জন্য।রুদ্ররাজ ঠান্ডা গলায় শুধালো
“ট্যুর কোথায় ?
“বৈকাল হ্রদ।
সাইবেরিয়ার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় বাস ধীরে ধীরে এসে থামল বৈকাল হ্রদ এর তীরে। গাড়ির দরজা খুলতেই এক ঝলক কাঁপুনি ধরানো ঠান্ডা বাতাস সবাইকে ছুঁয়ে গেল। সবাই সেই হীম বাতাসে শিউরে উঠলো।গায়ের ভারী শীত বস্ত্র সেই কাঁপুনি টিকতে দিলো না বেশিক্ষন।
শিক্ষকেরা আগে নেমে চারপাশ দেখে নিলেন, তারপর একে একে স্টুডেন্টদের নামতে নির্দেশ দিলেন।নির্দেশ পেয়েই একে একে নামতে শুরু করলো সকলে।প্রত্যেক গাড়ির স্টুডেন্ট এর জন্য দুজন করে গাইড রয়েছে।সেই গাইড রা হুড়মুড়িয়ে নামা সকল স্টুডেন্ট দের সতর্ক বাণী ছুঁড়লো
“সামনের পাইন অরণ্যে ভয়ানক প্রাণীর বসবাস থাকতে পারে।কেউ দল চ্যুত হবে না।আর গাইডের অনুমতি ব্যতিত কোথাও একাকী যাবে না।
সবাই সমস্বরে হ্যা মিলিয়ে গাড়ি থেকে নেমে চারপাশ দেখতে লাগলো।
দূরে যতদূর চোখ যায়, নীলচে ধূসর জলের বিস্তৃতি। বিশাল হ্রদের উপর হালকা কুয়াশা ভাসছে যেন প্রকৃতি নিজেই কোনো রহস্য লুকিয়ে রেখেছে তার গভীরে। তীরের পাশে উঁচু উঁচু পাইন গাছ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।তাদের ডালপালা ঠান্ডা বাতাসে ধীরে দুলছে।
কিছু স্টুডেন্ট মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখায় ব্যস্ত হলো। কেউ কেউ আবার হাতে থাকা ক্যামেরা দিয়ে সুন্দর দৃশ্য ক্যাপচার করতে ব্যস্ত হলো আবার কেউ কেউ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে শুধু প্রকৃতিটাকে অনুভব করতে লাগলো।
হঠাৎ আকাশের বুক চিরে নাম না জানা কয়েকটা বুনো পাখি উড়ে গেল। তাদের ডানা ঝাপ্টানির শব্দ বৈকাল হ্রদের নীরবতাকে ছুঁয়ে গেল মুহূর্তের জন্য। দূরের জঙ্গলের ভেতর থেকে মাঝেমধ্যে অদ্ভুত পশুপাখির ডাক ভেসে আসছে। আশেপাশের বড় বড় পাইন গাছে কাঠবিড়ালির ছুটোছুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে।কেউ কেউ নিজের উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ অনুভূতি ধরে রাখতে না পেরে জঙ্গলের দিকে ঢুকে পড়তে চাইলো।কিন্তু গাইডের কঠিন নির্দেশনায় তাদের রোমাঞ্চকর অনুভূতি তে বরফ জমলো।
এদিকে শিক্ষকদের নির্দেশে কয়েকজন কর্মচারী দ্রুত তাঁবু খাটাতে শুরু করল। মুহূর্তের ব্যাবধানে তাদের দক্ষ হাতে একটার পর একটা বড় বড় ক্যাম্পিং তাঁবু দাঁড়িয়ে গেল হ্রদের তীরের পাশে। স্টুডেন্টদের থাকার জন্য আলাদা আলাদা তাঁবু তৈরি করা হলো।একেক তাঁবুতে দুজন করে থাকবে।
তবে সবার নজর গেল একটু দূরে দাঁড় করানো একটি বড় ও আলাদা তাঁবুর দিকে।
ওটা অন্য সবগুলোর চেয়ে অনেক বড়, আর ভেতরে বাড়তি ব্যবস্থাও আছে। শিক্ষকরা নিজেরাই সেটার তদারকি করছিলেন।
কারণ সেই তাঁবুটি ছিল বিশেষ কারোর জন্য।
সকলেই অবাক হয়ে জানতে চাইলো
“ওটা কার জন্য?কোনো স্পেশাল গেস্ট বুঝি?
এমন সময় শাহরান গাড়ি থেকে নেমে ধীরে ধীরে চারপাশটা দেখল। ঠান্ডা বাতাসে তার কোটের কলার একটু উঁচু হয়ে উঠেছে। চোখে এক অদ্ভুত স্থিরতা।সে তার লাগেজ নিয়ে বরফের বুক চিরে এগিয়ে গেলো সেই তাঁবু অভিমুখে।
শাহরানের জন্য বানানো বিশেষ তাঁবুটি হ্রদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।এটার পজিশন বাকি সব গুলোর থেকে সুন্দর।শাহরান তাঁবুতে ঢোকার আগেই জন তার দুজন উশৃঙ্খল বন্ধু নিয়ে দৌড়ে এলো।এসে বললো
“এখানে আমরা থাকবো।
শাহরান বাঁকা হাসলো।অতঃপর জনের এলোমেলো কলার ঠিক করতে করতে বলে উঠলো
“তোর বাপ যদি এক্সট্রা পেমেন্ট করে থাকে এই তাঁবুর জন্য তবে অবশ্যই থাকবি।
জন বুঝলো না শাহরানের বাংলা কথা।এমন সময় তবু ম্যানেজমেন্ট শিক্ষক দৌড়ে এসে জন কে ধমকে উঠলো
“হাউ ডেয়ার ইউ?ঝামেলা করতে এখানে এসেছো?সরে এসো।ওটা শাহরানের পার্সোনাল তাঁবু।এর আশেপাশে আমি কাউকেই দেখতে চাইনা।
বলেই জনকে টেনে সরিয়ে নিয়ে গেলেন তিনি।নিনাদ শাহরানের লাগেজ নিয়ে তাঁবুতে ঢুকে আরাম করে শুয়ে গেলো।শাহরান ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো।একাকী বরফ জমা হ্রদের সৌন্দর্য উপভোগে।কিন্তু হঠাৎ তার চোখ গেলো জনের দিকে।লুলুপ দৃষ্টি তে রোদের পানে তাকিয়ে নিজের সহচরি দের কি কি যেন বলছে আর অদ্ভুত হাসছে।শাহরান পাত্তা দিলো না সেই হাসি।মেয়েটার সাথে তার সমস্ত লেনাদেনা চুকেছে।তার পানে যে খুশি সে তাকাক তাতে তার কি?তার নিজেরই তো অধিকার নেই তাকে দেখার।
রাতের বেলা তাঁবুতে শুয়ে জনের মনে অদ্ভুত এক ফন্দি এলো।সে তার বন্ধুদের বললো
“পাইন ফরেস্টে ভাঙা অব্যাহৃত একটা ঘর আছে।সময় সুযোগ বুঝে আমরা কয়েকজন মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবো ওখানে।বরফ ঝরা হীম ওয়েদারে একটু শরীর গরম করলে মন্দ হয় না।
পিটার নামের ছেলেটি প্রতিবাদ করে বলে উঠলো
“ঝামেলা হয়ে যাবে।আমি এসব এর মধ্যে নেই।
পিটারের সাথে সায় জানিয়ে স্টিভেন নামক ছেলেটিও নিজের মত জানালো।কিন্তু জন কেমন মরিয়া হয়ে উঠলো।রোদ মেয়েটাকে তার চাই ই চাই।একদম শিকারি জন্তুর মতো ওঁৎ পেতে থেকে মেয়েটাকে তুলে নিয়ে যাবে সে।এরপর যা হয় পরে দেখা যাবে।
চলবে
(নিয়মিত গল্প দেই না জন্য আপনারা রাগ করেন।আপনারা অনেকেই জানেন আমি দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ।নিউমোনিয়া হয়েছিলো আমার।অধিক ঠান্ডায় নাকে ঘা হয়ে গিয়েছে।ওগুলো থেকে রক্ত ঝরে।টনটনে ব্যথায় মাথার মগজ ছিঁড়ে যায়।তার মধ্যে রোজা।সব মিলিয়ে আমি একটু এলোমেলো।আশাকরি ঈদের পর নিয়মিত হবো আগের মতো।আমার জন্য দোয়া করবেন।)
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৭
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৩
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১১
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১১