Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৪


লামিয়ারহমানমেঘলা

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫৪

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
আদ্রিতাকে বিছনায় শুইয়ে দিয়ে আদ্রিস খানিক্ষন তাকিয়ে রইলো ঘুমন্ত আদ্রিতার মুখপানে।
কি মায়াবী মুখশ্রী মেয়েটার।
যাকে দেখলে আদ্রিস নিজের হিংস্রতা ভুলে কেমন তরল পানিতে পরিণত হয়।
অথচ মেয়েটা যখন তার চোখের সামনে বোকামি করে তখন ইচ্ছে করে কান ধরে ছাঁদ থেকে ফেলে দিতে। কিন্তু তাহলেত মরে যাবে তখনত আদ্রিস বাঁচতে পারবে না।
নিজের ভাবনার সাথে সাথে ঠোটের কোণায় ফোটে অদ্ভুত এক হাসি।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার পাশে বসে।
আদ্রিতার পরনে ঢিলা টি শার্ট আর স্কার্ট।
বিগত কিছু দিন যাবত বেশ গরম পড়ছে রাশিয়াতে।
আদ্রিস বাম হাতে আদ্রিতার টি শার্টের ভেতর ঢুকিয়ে আদ্রিতার অন্তর্বাসের পেছনের স্ট্রাপ খানা ধরে। এরপর খানিকটা প্রসারিত করে সজোড়ে আঘাত করে আদ্রিতার পিঠে।
ঘুমের মাঝে আচমকা এমন আঘাত পেয়ে আদ্রিতা ধড়ফড়িয়ে ওঠে।
সে হকচকিয়ে আশেপাশে তাকায়।
আদ্রিস তার পিঠের কাছেই বসে। আদ্রিতা ফিরে তাকায়। আদ্রিসের পুরুষালি ঘ্রাণ আদ্রিতার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে সর্বদা জাগ্রত করে দেয়।
“ক কি করছেন?”

আদ্রিস একটু নিচু হয়ে ফের আদ্রিতার স্ট্রাপ খানা টেনে ধরে। হিসহিসিয়ে বলে,
“তুই আমার উপস্থিতি অনুভব করিস আদ্রিতা যখনই আমি তোর আশেপাশে থাকি। তুই বুঝতে পারিস ওটা আমি?’

আদ্রিতা কোন উত্তর দিবে তার আগেই আদ্রিসের আরেকবার আঘাত পেয়ে আদ্রিতা চিৎকার করে ওঠে,
” আআআআহহহহ……”

আদ্রিসের থেকে ছুটে উঠে বসে বিছনায়। ঘুম ঘুম চোখ দুটো ভরে গিয়েছে পানিতে।
“কি সমস্যা মারছেন কেন?’

“মারছি না জান পানিশমেন্ট দিচ্ছিলাম। কিন্তু তোর পছন্দ হচ্ছে না। তুই আরও গভীর কিছু চাস বুঝি?”

আদ্রিতা বুঝে ওঠেনা লোকটার মতিগতি। হয়েছেটা কি এটাই বুঝতে পারছে না এখনো সে।
“সমস্যা কি সেটা বলুন। এমন করছেন কেন?’

আদ্রিস উঠে বসে বিছনায়,
” বেশ ঠোঁট চলে আজকাল তোর। খুব সাহসী হয়ে গেছিস তাইনা?”

“আমি কি করেছি?”

প্রশ্নটা শোনা মাত্র আদ্রিস হুট করেই হিংস্র রূপ ধারণ করলো। বাম হাতে আদ্রিতার কন্ঠনালী শক্ত করে চেপে ধরে বিছনায় শুইয়ে দিলো।
আদ্রিতা ঝুল সামলাতে না পেরে বিছনায় পড়ে গেলো। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগলো মেয়েটার। নিজের দুটো হাত দিয়েও আদ্রিসের এক হাতকে নিজের থেকে এক বিন্দু নাড়াতে পারলোনা সে। বিপরীতে আদ্রিসের মুঠো শক্ত হলো বেশি। আদ্রিতা বহু দিন পর আদ্রিসের এই রূপ দেখে এবার সত্যি ভয় পাচ্ছে। লোকটা কি করছে কেন করছে আদ্রিতা তখনো বুঝতে পারছে না।
“কুত্তার বাচ্চা সাহস বেড়েছে তোর? বান্দির বাচ্চা তোর এত সাহস বেড়েছে। তোর সাথে এত কিছু হয়ে গেলো তুই একটা শব্দ আমাকে বলার প্রয়োজন বোধ করলি না। ওই টোটোর সাথে দেখা করে এলি তুই। ওই টোটো আমার স্ত্রী আমার স্ত্রী তোকে তুলে নিয়ে গেলো। আর তুই ঢেই ঢেই করে সেখান থেকে ঘুরে এলি।
কুত্তার বাচ্চা তোর ভেতরে একটুও ভয় করলো না। আমি জানলে পারলে কি হবে? নাকি অন্তর থেকে সে ভয় চলে গিয়েছে। এই বেয়াদব বল। বলছিস না কেন বল।”

নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আদ্রিতার চোখের সাদা অংশ বেরিয়ে আসার উপক্রম। মেয়েটা কেন ভাবেই নিজেকে আর সামলে রাখতে পারছে না।
আদ্রিতার এমন অবস্থা দেখে আদ্রিতাকে ছেড়ে দেয় আদ্রিস।
আদ্রিতা পাশ ফিরে কাশি দিতে শুরু করে। ফর্সা গলায় আদ্রিসের ৫ আঙ্গুলের দাগ বসে গিয়েছে।
খানিকটা সময় পর আদ্রিতার নিঃশ্বাস সাভাবিক হয়। সে অশ্রুসিক্ত নয়নে আদ্রিসের পানে চায়।
আদ্রিসের চোয়াল তখনো শক্ত হয়ে আছে। যেন যে কোন মুহুর্তে আদ্রিতাকে মেরেই ফেলতে পারে।
আদ্রিতা, মাথা নুইয়ে নেয়।
“এই বেয়াদব মাথা উঁচু কর। আমার দিকে তাকিয়ে কথা বল। আমার চোখে তাকিয়ে বলবি। সুন্দর করে ঘটনা খুলে বল। নাইলে তোকে মেরে এখানেই পুতে রাখব আর রাগাস না আমাকে। “

আদ্রিসের মেজাজ খারাপ। সিংহের মত যে হুঙ্কার দিচ্ছে এতেই আদ্রিতার কলিজার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে।
বাকি কিছুর প্রয়োজন হচ্ছে না তার।
আদ্রিস নিজের বাম হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকায়,
“তোর কাছে ২ মিনিট আছে। ২ মিনিটে বলা শুরু করবি পুরো ঘটনা। ২ মিনিট পর যেকয় সেকেন্ড অপেক্ষা করাবি আমাকে ততগুলো থাপ্পড় খাবি।”

আদ্রিতা মিন মিন করে বলা শুরু করে।
“আ আমি জানতাম না এসব হবে। ও ওই ড্রাইভার আমাকে হুট করেই অন্য রাস্তায় নিয়ে যায়। আমি যখন বললাম কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন তখন চাকু ধরে আমার দিকে। আমি ভয় পেয়ে যাই। “

কথাটা শুনে আদ্রিস ফের আদ্রিতার দিকে তাকায়। ওর কোমড় ধরে নিজের দিকে এগিয়ে এক টানে পরনের টি শার্ট আর স্কার্ট খুলে ফেলে।
এই পরিস্থিতিতে আদ্রিস এটা করবে আদ্রিতা ভাবেনি। তার উপর লাইট জ্বলছে। সে দু হাত বুকের সামনে দিয়ে সরে যেতে নিলে আদ্রিস বলে,
“সবই দেখে নিয়েছি। এমন বিহেব করিস না এটা নতুন। আমাকে দেখতে দে কেউ তোর শরীর ছুঁয়েছে নাকি।”

আদ্রিসকে এই মুহুর্তে সাইকোদের মত লাগছে। আদ্রিতা বুঝতে পারেনা, আদ্রিস রেগে গেলে এমন হয়ে যায় কেন। এত ভয়ঙ্কর হয়ে যায় আদ্রিতার তখন মনে হয় এই লোকটার থেকে মুক্তি পেলে বোধ-হয় শান্তি হতো।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে, আদ্রিতা আদ্রিসকে ধরে বলে,
“ছুই নি কেউ আমাকে। কেউ স্পর্শ করেনি আমাকে। ওরা দুরে দুরে ছিলো।”

আদ্রিস তাকায় সোজা,
“এরপর?”

“জ জমা।”

“থাপ্পড় মেরে দাঁত ফেলে দেব বেয়াদব। তোর শরীর আমার সামনে নতুন হ্যাঁ? যেন এর আগে দেখিনি। এমন কোন অংশ আছে যেখানে চমি ছুই নি তোকে?’

আদ্রিসের চিৎকার শুনে আদ্রিতা ফের চুপ হয়ে যায়। বুকের সামনে হাত বেঁধে মাথা নুইয়ে বলতে শুরু করে বাকিটা।
” এরপর আমাকে একটা মেনশনে নিয়ে যায়। সেখানে একটা লোক আসে। হাতে ট্যাটু, কাধে ট্যাটু। আমাকে বলে আমাকে চিনো? আমি বললাম না। সে বলল আদ্রিসকে জিজ্ঞেস করো টোটো কে।
এরপর কাউকে বলে আমাকে পৌঁছে দিতে বাড়িতে। বিশ্বাস করুন কেউ স্পর্শ করেনি আমায়৷”

কথাটা শেষ হতে না হতে না হতে কশিয়ে একটা থাপ্পড় পড়লো আদ্রিতার গালে।
আদ্রিতা বিছনার উল্টো দিকে ছিটে পড়লো।
“এখন আমি অপেক্ষা করবো ওরা তোকে কখন স্পর্শ করবে তাই?”

আদ্রিতা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আমি কখন বললাম সেটা। আপনিইত বলছেন ওরা ছুয়েছে নাকি। তাইত বলছি।”

আদ্রিসের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এই মেয়ে জানে ওই লোক এর সাথে কি কি করতে পারত। মানে এই মেয়ের সে বোধ টুকু আছে কি।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার লম্বা চুলের মুঠি চেপে ধরে নিজের বলিষ্ঠ হাতের মুঠোয়।
আদ্রিতা চিৎকার করে ওঠে যন্ত্রণায়,
“কুত্তার বাচ্চা তুই জানিস ও তোর সাথে কি কি করতে পারত? তুই আমাকে কেন বলিস নি কিছু? কেন আমাকে অন্য ভাবে সবটা জানতে হলো। বল কেন বলিস নি?’

আদ্রিতা ফুঁপিয়ে ওঠে,
” ভ ভয় পেয়েছিলাম। আ আপনি এমনিতেই রেগে ছিলেন, তাই বলিনি কিছু।”

ছেড়ে দেয় আদ্রিস আদ্রিতার চুলের মুঠি। তার ভেতরে যে কি বয়ে যাচ্ছে তা শুধু আদ্রিসই জানে।
আদ্রিতার ছোট্ট শরীরটা বুকের সাথে চেপে ধরে আদ্রিস।
আদ্রিতা নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করেনা। কারণ চেষ্টা করলে আর রক্ষা থাকবে না।
আদ্রিসের হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়েছে আদ্রিতা তা বেশ বুঝতে পারে।
কিছুক্ষণ ওভাবে থেকে আদ্রিস, আদ্রিতার মুখশ্রী নিজের দিকে ফেরায়। চুমু খায় সম্পূর্ণ গালে ।চড়টা খেয়ে আদ্রিতার ঠোঁট ফেটেছে। ঠোঁটের কাছে লেগে থাকা রক্ত টুকু চুষে নেয়।
আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে নেয়।
আদ্রিস ওভাবে আদ্রিতাকে বুকের মাঝে রাখে। আদ্রিতাও ভুলে যায় সব লজ্জা। সে যে মাত্র তার অন্তর্বাসে আছে সেটাও ভুলে যায়।
কিছুক্ষণ ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটা ওভাবে ঘুমিয়ে যায়।
আদ্রিস ধিরে ওকে বালিশে শুইয়ে দেয়।
আদ্রিতা কাত হয়ে যায় এক পাশে।
আদ্রিস উঠে আসতে নিলে খেয়াল করে আদ্রিতার উরুর পাশে একটা তিল। বেশ বড়ো একটা তিল।
তিকটা সে আগে দেখেছে। যেহেতু সব সময় কাপড়ের নিচে থাকে সব সময় দেখা হয়না।
আবার যখন তারা রোমান্টিক হয় তখন এসবের খেয়াল থাকেনা। তবে যে কয়বার দেখেছে সে কয়বার ওই তিলটা তাকে টেনেছে।
আদ্রিস নিচু হয়ে আদ্রিতার উরুতে থাকা তিকটায় ঠোঁট ছোঁয়ায়।
এরপর সেখানে একটা কামড় বসিয়ে দেয়।
আদ্রিতা কেঁপে ওঠে ঘুমের ভেতরে।
আদ্রিস সেখানে শুয়ে পড়ে। আদ্রিতার উরুর পাশে মাথা দিয়ে জড়িয়ে ধরে আদ্রিতার পা দু’টো।

সে মনস্টার, কিন্তু এই মেয়েটার সামনে তার এত শক্তি এত রুক্ষতা যেন কিছুই না। বার বার দুর্বল হয়ে ফিরে আসে আদ্রিস এই দোয়ারে।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply