জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৫১
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
মিরা চোখ বড় বড় করে সায়েরের দিকে তাকিয়ে আছে।
সায়ের নিজের খাবার শেষ করে সম্পূর্ণ টা ওভাবেই৷
মিরা বিরক্ত হলেও ওই মুহুর্তে করার কিছুই ছিলোনা৷
সবাই ব্রেকফাস্ট করে ছেলেরা বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতাকে শাড়িতে দেখে মিরা আর প্রিয়া দু’জন বেশ প্রশংসা করে।
সচরাচর আদ্রিতাকে শাড়িতে দেখা যায় না৷
শাড়িতে দেখলে বেশ ভালোই লাগে মেয়েটাকে।
সকাল সকাল লাড়া ঘুম থেকে উঠে টোটোর কিচেনে নিজের জন্য গ্রিন টি বানিয়ে নেয়।
ততক্ষণে টোটোও ঘুম থেকে উঠে গিয়েছে।
টোটো হাতে সিগারেট নিয়ে কিচেনে এসে দাঁড়ায়।
দু’জনের পরনেই সিল্ক নাইট ড্রেস।
লাড়া, টোটোকে দেখে মৃদু হাসে,
“গুড মর্নিং মিস্টার টোটো৷”
“গুড মর্নিং। লাড়া, কি করছো?”
“গ্রিন টি। আপনার লাগবে?”
“হ্যা।”
লাড়া আরেক কাপ গ্রিন টি বানিয়ে দেয় টোটোকে।
দু’জন গ্রিন টি নিয়ে লিভিং রুমের সোফায় গিয়ে বসে।
“ত কি ভাবলেন মিস্টার টোটো?”
“নাথিং। আমি কিছু করার আগে অনেক বেশি চিন্তা করা পছন্দ করিনা৷”
লাড়া হাসল মৃদু,
“আই সি ভেরি ক্লেভার৷”
টোটো বাঁকা হাসে,
“ইউ ক্যান গো নাউ মিস লাড়া। আই উইল হ্যান্ডেল এভরিথিং”
“আর ইউ সিওর। আপনার আমাকে আর কোন প্রকার লাগবে না? “
লাড়ার সিডিউসিং কন্ঠ শুনে টোটো একটা শুকনো ঢোক গিলে। সেও বুঝে গিয়েছে লাড়া ঠিক কি বোঝাতে চাইছে।
“তাহলে আপনি কি চাইছেন?”
“আপনি বলুন। আপনার মতামত জানি৷”
“ইউ ক্যান স্টে হেয়ার৷”
লাড়া বিজয়ের হাসিটা দিলো। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেটাই হয় যেটা সে চায়।
টোটো দ্বিতীয় কোন কথা বাড়ায় না। সে নিজের বেডরুমে গিয়ে সাওয়ার নিয়ে অফিসের জন্য বেরিয়ে যায়৷
লাড়া অবশ্য বেলকনি থেকে সে দৃশ্য দেখে।
সব কিছু তার সাজানো ছবির মতই হচ্ছে। বিষয়টা ভেবে ঠোঁটের কোণায় ফোটে কিনচিৎ বাঁকা হাসি।
অফিস রুমে বসে নিজের এত দিনের বাংলাদেশ ভ্রমণের শখ মেটাচ্ছিলো আদ্রিস৷
এমন সময় রেভেন অনুমতি না নিয়েই হুড়মুড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো।
আদ্রিস তা দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
রেভেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হলো আদ্রিসের দিকে,
“বস৷”
আদ্রিস রুক্ষ কন্ঠে জাবাব দিলো,
“হোয়াট?”
“টোটো এসেছে৷”
আদ্রিস, সরাসরি রেভেনের চোখের দিকে তাকায়।
রেভেন ঘটনাচক্রে হকচকিয়ে গিয়েছে খানিকটা।
সে আদ্রিসের ক্রোধ সম্পর্কে বেশ ভালোই ধারণা রেখে।
“ভেতরে আসতে বল৷’
” ইয়ে মানে বস। মিটিং রুমে সায়ের স্যার এবং আপনার দুজনের সাথে দেখা করতে চায় সে৷”
আদ্রিস কথাটা শুনে নিজের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো।
রেভেনকে আট কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই হনহনিয়ে হেটে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে।
অপর দিকে সায়েরও কপাল কুঁচকে মিটিং রুমের দিকে যাচ্ছে।
দু ভাই এক সাথে মিটিং রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
মিটিং রুমের বসের জন্য দু’টো চেয়ার রাখা৷ একটা আদ্রিসের অন্য টা সায়েরের।
টোটো একটা চেয়ারে বসে অপর চেয়ারে পা দুটো তুলে বসে আছে। তার হাতে সিগারেট।
আদ্রিস এবং সায়েরকে দেখে হাতের সিগারেট খানা সামনের ডাস্ট কৌটায় ফেলে।
“হেই গুড মর্নিং বয়েজ। মিস্টার আদ্রিস খান। শুনলাম বিয়ে করেছেন।
নতুন বউয়ের সাথে সংসার কেমন কাটছে?”
আদ্রিস প্রচন্ড রাগে নিজের হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়৷
সায়ের, আদ্রিসের পিঠে হাত রাখে। এটা ইসারা সর্ট টেম্পার মানুষটা যাতে এই মুহুর্তে নিজের টেম্পার লুস না করে।
টোটো, আদ্রিসের হাতের দিকে লক্ষ করছে।
সে বাঁকা হেসে নিজের চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়।
টেবিলের উপর থেকে এক তোড়া ফুল হাতে এগিয়ে আসে।
“রিলাক্স মিস্টার আদ্রিস। আমরা শত্রু হতে পারি কিন্তু এখানে কোন শত্রুতা করতে আসিনি।
মাফিয়া ওয়ার্ল্ডে কেউ বিয়ে করলে তাকে শুভকামনা জানাতে হয়৷
আমিও সেটাই করছি৷
হ্যাপি ম্যারেড লাইফ।”
কথাটা বলে টোটো আদ্রিসের হাতে ফুলের তোড়া ধরিয়ে দেয়।
এবং মিটিং রুম ত্যাগ করে।
৫ মিনিটের এত এক পাক্ষিক কথপোকথনের ভেতরেই লুকিয়ে ছিলো বিরাট রহস্য।
আদ্রিসের মাথার সিরা গুলো ফুলে উঠেছে রাগে।
সায়ের থ মেরে দাঁড়িয়ে আছে।
তারও বুঝতে বাকি নেই টোটো কিসের হিন্ট দিয়ে গিয়েছে।
টোটোর লক্ষ এখন আদ্রিতা।
আদ্রিস হাতে থাকা ফুলের তোড়াটা এক ঝটকায় ছিড়ে ফেললো।
“বাস্টার্ড।”
এতক্ষণ চেপে থাকা ক্রোধ মুহুর্তের ভেতর উপচে পড়লো।
রেভেন কেঁপে উঠলো।
“ছাড়ব না। ছাড়ব না ভাইয়া৷ ওকে আমি ছাড়ব না৷ আমার আদ্রিতার দিকে চোখ দিলে ওর চোখ তুলে আমি আমার পালতু কুত্তাকে খাওয়াব।”
সায়ের৷ আদ্রিসের কাঁধে হাত রাখে,
“রিলাক্স,
নিজের রাগটা সঠিক জায়গায় খাটাতে হবে আদ্রিস।
You know that your anger is your strength, but it is also your weakness.”
“দিস টাইম আই কান্ট ভাই।
এটা আদ্রিতার প্রশ্ন।”
“এই জন্যই নিজেকে ঠান্ডা কর। এটা আদ্রিতার প্রশ্ন।”
দু’জনের মাঝে নেমে এলো নীরাবতা৷
আজ দুপুরের লাঞ্চ টাইমের সময় মিসেস মিহুর কাছে আদ্রিতার বায়না ছিলো সে আদ্রিস এবং সায়েরের অফিসে যাবে।
মিসেস মিহু, মেয়েটার এত মায়াবী আবদার শুনে আর না করতে পারলেন না।
“আচ্ছা যাবে। কিন্তু মিরাও যাবে সাথে। আমি ড্রাইভার পাঠাব৷”
“হ্যাঁ সমস্যা নেই কিন্তু ওদের বলবে না৷”
আদ্রিতাকে বেশ ফুরফুরে দেখা যায়৷ মিসেস মিহু হাসলেন। আদ্রিতার থুতনিতে হাত দিয়ে চুমু খেলেন হাতে।
“আচ্ছা বলব না। মেয়ে আমার হাসবেন্ড কে সারপ্রাইজ দিবে।”
কথাটা শোনা মাত্র আদ্রিতা লাল হয়ে গেলো।
মিসেস মিহু ফিক করে হেসে দিলেন।
সাথে আদ্রিতাও।
যা কথা তাই কাজ।
আদ্রিতা এবং মিরা ড্রাইভারের সাথে করে আদ্রিস এবং সায়েরের অফিসে চলে গেলো।
অফিসের সামনে ড্রাইভার গাড়ি থামাতে দু’জন বের হয়৷
মস্কো শহরের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে এই বিরাট বিল্ডিং খানা৷
সামনে থেকে সম্পূর্ণ কাঁচের দেয়াল।
আদ্রিতা মাথা উঁচু করে দেখে। এমন বিল্ডিং দেশে দেখা যায় না তেমন।
মিরা, অপর দিক থেকে বেরিয়ে এসে আদ্রিতার পাশে দাঁড়ায়।
“কিরে যাবি না ভেতরে?”
আদ্রিতার ধ্যান ফিরে।
“হ্যা চলো।’
দু’জন হেঁটে ভেতরে চেলে আসে। কিন্তু এত বড় বিল্ডিং এর কোথায় ওদের কেবিন এটাই বুঝতে পারছে না দু’জন।
ওদের দেখে দরজায় পাহারা দেওয়া গার্ড ওদের আঁটকে দেয়।
” আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? আপনাদের কি কাজ?”
মিরা এগিয়ে দাঁড়ায়,
“আমরা এই কম্পানির বস দের সাথে দেখা করতে চাই৷”
“আপনাদের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?”
“জি আছে।”
“ঠিক আছে৷”
গার্ড দরজা ছেড়ে দেয়।
দু’জন ভেতরে আসে৷ কিন্তু কোথায় যাবে এটাই বুঝতে পারছে না।
মিরা খানিকটা খুঁজে দেখতে পায় রিসিপশনের একটা জায়গা আছে।
মিরা আদ্রিতাকে দাঁড়িয়ে সেদিকে এগিয়ে যায়।
আদ্রিতা দাঁড়িয়ে রয় সেখানে।
এমনিতেও সে এত মানুষের ভিড়ে কিছুটা ভয় পাচ্ছে। আর দুজনের পরনে বাংলাদেশি পোশাক তাই আশেপাশের রাশিয়ান এমপ্লয়িরা ওদের কেমন এলিয়ানের মতই দেখছে।
আদ্রিতা এক পাশে দাড়িয়েই ছিলো এমন সময় ওর সামনে এসে দাঁড়ায় একটা ছেলে।
ছেলেটাকে দেখে বোঝা যায় ছেলেটা বাংলাদেশি।
আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। ছেলেটা মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করে,
“এখানে নতুন?”
“জি।”
“বাংলাদেশি?”
“জি!”
“ওয়াউ। কোন সেক্টরে কাজ করবেন?”
“জি না আমি কাজের জন্য আসিনি৷”
“তাহলে কেন এসেছেন?’
আদ্রিতা এত প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছে না৷
সে একটু সরে দাঁড়ায়। কিন্তু ছেলেটা তাকে যেন ছাড়তে চাইছে না। সেও খানিকটা পিছিয়ে গিয়ে ফের প্রশ্ন শুরু করে,
” তুমি খুবই একা তাইনা? এখানে কেন এসেছো? আমাকে বলো আমি তোমাকে সব চিনিয়ে দেই। সমস্যা নেই আমিও বাংলাদেশি।”
আদ্রিতা খুবই বিরক্ত হচ্ছে সেই সাথে সে আরেকটু পিছিয়ে যেতে নিলে হটাৎ করেই কেউ তার কোমড় জড়িয়ে ধরে পেছন থেকে।
হটাৎ করেই এমন স্পর্শ পেয়ে আদ্রিতা কেঁপে ওঠে। সে ফিরে চায় পেছনের দিকে।
আদ্রিতা ফিরতে তার চোখ পড়ে ভয়ঙ্কর হিংস্র দু’টো চোখের সাথে।
আদ্রিতা সাথে সাথে নিজের মাথা নুইয়ে নেয়।
আদ্রিসকে দেখে সামনের ছেলেটাও মাথা নামিয়ে নেয়।
“বস৷”
“হোয়াট আর ইউ ডোইং হেয়ার? ইট’স ইয়োর ওয়ার্ক টাইম আই গেস?”
“ইয়াহ বস। আসলে আমি কফি নিতে এসেছিলাম। ওনাকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসেছি।”
“কে কোথায় এক দাঁড়িয়ে থাকলো এটা তোমার দেখার বিষয় না।”
“সরি বস৷”
“গেট লস্ট৷”
আদ্রিসের এমন অপমান পেয়ে লোকটা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।
আদ্রিস শক্ত হাতে আদ্রিতার কোমড় জড়িয়ে ধরে।
আদ্রিতা ভীত চোখে চায় আদ্রিসের দিকে।
আদ্রিস একটা সেকেন্ড দেরি না করে আদ্রিতাকে সোজা টেনে নিয়ে যায় লিফটের ভেতর।
ওদিকে মিরা যে রিসিপশনে আছে সে কথা বলারও সুযোগ দেয়না আদ্রিস আদ্রিতাকে।
নিজের কেবিনে এসে আদ্রিতাকে সজোড়ে ধাক্কা মারে আদ্রিস।
আদ্রিতা সোজা ফ্লোরে গিয়ে পড়ে।
আদ্রিতা ভয় পেয়ে যায়। আদ্রিস তার সাথে এমন আচরণ করেনা বললেই চলে।
আজ হটাৎ কি হলো।
আদ্রিস হাঁটু ভাজ করে আদ্রিতার দিকে ঝুঁকে বসে।
আদ্রিতা ভয়ে গুটিশুটি মেরে ফ্লোরে বসে রয়।
“Who gave you permission to leave the house?”
আদ্রিসের রাগান্বিত কন্ঠ শুনে আদ্রিতা রীতিমতো ভয় পেয়ে যাচ্ছে। সে কাপা কন্ঠে জবাব দেয়।
“আ আম্মু।’
চলবে?
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৫২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৯
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৮