Golpo romantic golpo চেকমেট সিজন ২

চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৮


চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৮

সারিকা_হোসাইন


শাহরানের ধমকে নড়ে উঠলো রোদ।পূর্বের শাহরানের সাথে এই শাহরানকে কিছুতেই যেন মেলাতে পারছে না সে।তার কেবলই মনে হচ্ছে চোখের সামনে যা কিছু ঘটছে তার পুরোটাই ভ্রম।রোদ তখন স্তব্ধ পায়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে। মেয়েটার বিস্মিত অবিশ্বাস্য চেহারা খানা আরেকবার নজর বুলিয়ে দুই হাতের আজলায় মুখ মুছল শাহরান।এরপর খপ করে চেপে ধরলো রোদের হাত।নির্দয়ের মতো টেনে হিচড়ে রোদ কে ঘর থেকে বের করে ম্যানেজার এর সামনে দাঁড়িয়ে হিসহিস করে বলে উঠলো

“চোখ কান খোলা রেখে তবেই হোটেল ব্যবসা করবেন।ভদ্রলোক বলে ছেড়ে দিলাম।

বলেই মুখের উপর ধড়াস করে দরজা লাগিয়ে দিলো শাহরান।ম্যানেজার সরি টুকুন বলার সময় পেলো না।রোদ এখনো ঘোরের মধ্যে আছে।তার মাথা কাজ করছে না।কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে সে টের পাচ্ছে না।ম্যানেজার রোদের সামনে দাঁড়িয়ে দুঃখিত বাণী আওড়াতে চাচ্ছে।কিন্তু রোদ যেন কিছুই শুনছে না দুই কানে।এমন সময় পুনরায় খুলে গেলো দরজা।শাহরান চোখ মুখে কাঠিন্য ভাব ফুটিয়ে রোদের লাগেজ ছুড়ে মারলো করিডোরে।এরপর আগের মতো শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিলো।চমকিত বিস্মিত রোদ বন্ধ দরজার পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।নীল চোখ জোড়া নোনতা জলে ছলছল করছে।এই বুঝি কপোল গড়িয়ে বর্ষণ ঝরে।রোদের লাল হয়ে আসা মুখের পানে তাকিয়ে ম্যানেজার লাগেজ নিয়ে ছুটলেন রোদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষে।এরপর একজন বয় বিনয়ের সহিত মাথা নিচু করে বলে উঠলো

“ম্যাম চলুন।

রোদ বশীভূত মানুষের ন্যয় বয়কে অনুসরণ করে চলতে লাগলো।তার কেবলই মনে হলো পুরোটাই স্বপ্ন।নয়তো একটা হাসিখুশি মানুষ হঠাৎ কি করে এহেন কঠিন হতে পারে?রোদ যেনো মাটিতে হাঁটছে না।

নিজ কক্ষে ঢুকেই বিছানায় ধপাস করে গা এলিয়ে চোখ বুজে নিলো রোদ।বহু কষ্টে আগলে রাখা অশ্রু কণা এবার বাধন হারা হলো।বাধাহীন চোখের কার্নিশ গড়িয়ে বিছানায় পতিত হলো।সেই সাথে মস্তিষ্ক বলে উঠলো

“অহেতুক কাওকে প্রয়োজনের চাইতে বেশি অপমান করলে কেমন অনুভূতি হয় রোদসী অরোরা?

রোদ নিজের প্রশ্নে নিজেই খেই হারিয়ে ফেললো।এই প্রশ্নের জবাব নেই তার কাছে।তখন সে যা করেছে সবটাই না বুঝে করেছে।বয়স অল্প ছিলো জ্ঞান বুদ্ধি ছিলো তলানীতে।আঠারো বছর বয়সটাই তো ভুলে ভরা।তবে সেসব এখনো কেন মনে রেখেছে শাহরান?রোদের কি উচিত শাহরানের কাছে ক্ষমা চাওয়া?কিন্তু সে ভুল কি করেছে?একজন কে একজনের ভালো নাই লাগতে পারে।তাকে উপেক্ষা করা কি দোষের?

রোদ কোনো কিছু ভেবে কুলাতে পারলো না।দীর্ঘ জার্নি আর অপমানে মাথাটা টনটনে ব্যথায় কাবু হয়ে আছে।রোদ মাথার চুল খামচে ধরে চোখ খিঁচে বন্ধ করে রাখলো।এই মুহূর্তে ঘুমানো বড্ড জরুরি।নয়তো পাগল হয়ে যাবে সে।বহু খন বালিস বুকে জড়িয়ে এপাশ অপাশ করলো।অক্ষি পল্লবে ঘুম ধরা দিলো না।কানে কেবলই শাহরানের কন্ঠের গম্ভীর আধিপত্য।রোদ চোখ খুলে উঠে বসলো।এরপর কাপড় নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে এলো।লম্বা একটা শাওয়ার নেবার পর মাথায় ব্যথাটা কমলো কিছু।হেয়ার ড্রায়ার এ চুল শুকিয়ে গায়ে একটা ব্ল্যাংকেট জড়িয়ে ধরে ধীরে নিদ্রার সাগরে তলিয়ে গেলো।সেই নিদ্রায় শাহরান ভয়ানক স্বপ্ন হয়ে হানা দিলো।ফিসফিস ঠান্ডা গলায় সুন্দর ঠোঁট জোড়া নাড়িয়ে বলে উঠলো

“লাভ টু হ্যাট ইউ!


সূর্যের তেজ যখন অল্প কমলো তখন গাইড সবাইকে নিয়ে ছুটলো ব্লু মাউন্টেইন এ।বিকেলের দিকে অদ্ভুত সব প্রাণীর ডাক শোনা যায় এখানে মাঝে মাঝে ক্যাঙ্গারুর পালের ছুটোছুটি দেখা যায়।তাই আর এক মুহূর্ত দেরি করা ঠিক হবে না।তার চাইতে বেশি সৌন্দর্যের জিনিস যেটা তা হচ্ছে সূর্যাস্ত।ব্লু মাউন্টেইন এর থ্রি সিস্টার্স পাহাড়ের সূর্যাস্ত সবচেয়ে নজরকাড়া।শুধুমাত্র এই সূর্যের ডুবে যাওয়া দৃশ্য দর্শনের জন্যই লাখো মানুষ ভিড় জমায় এখানে।

রোদ তার সঙ্গে আসা সকলকে নিয়ে উপস্থিত হলো পাহাড়ে।অবাক দৃষ্টি মেলে চারপাশে নজর বুলালো।এখানে বাতাসটা বড্ড অদ্ভুত।কেমন ঠান্ডা।একদম নাসারন্ধ পেরিয়ে বুকের ভেতরে ঢুকে যায়।এরপর পুরোনো সমস্ত গ্লানি বের করে নতুন এক সফেদ অনুভূতির সৃষ্টি করে।আর অদূরের সাদা ঝর্ণা যেনো শিল্পীর রঙ তুলির আঁচড়ে বানানো অনন্য কোনো চিত্র।

গাইড সকলের উদ্দেশ্যে জানালো তারা প্রথমে ক্যাবল কারে উঠে পাহাড়ের তলদেশে যাবে এরপর রেইন ফরেস্টে উঠবে।আর যারা এক্সট্রা এডভেঞ্চার পছন্দ করে তারা ক্যাবল রেল ওয়ে তে যেতে পারে।কারন অনেক স্পীডে পাহাড়ের তলদেশে নেমে যায় সেই ক্যাবল ট্রেন।যাদের অন্ধকারে ফোবিয়া আছে তারা সমস্যায় ভুগতে পারে।

রোদের লোভ জাগলো সেই ক্যাবল ট্রেনে উঠার।সে তার মতামত জানালো গাইড কে।রোদের সঙ্গে আর কেউ যেতে রাজি হলো না বিধায় গাইড অল্প গড়িমসি করলেন।কিন্তু রোদ শুনলো না।সে দ্রুত ট্রেনের ভেতর উঠে বসলো।

মুহূর্তেই সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে ট্রেন ছুটতে শুরু করলো বুলেটের গতিতে।কিন্তু যখন পাহাড়ের ভেতরের সুড়ঙ্গে ট্রেন ঢুকে পড়লো তখন রোদ ভয়ে কেঁপে উঠলো।চারপাশ নিগূঢ় অন্ধকারে আবিষ্ট।শুধু ট্রেনের ছুটে চলা শব্দ।রোদের মনে হলো এই বুঝি ট্রেন গড়িয়ে পাহাড়ের গহ্বরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।ভয়ে অনেক যাত্রী চিৎকার করে উঠলো।রোদ নিজেও গলা ফাটিয়ে চিল্লাতে চাইলো।পারলো না।

হঠাতই মনের অধিক ভয় আর দুশ্চিন্তায় নিজের কঠিন মৃ*ত্যু চোখের সামনে দেখতে পেলো সে।তাই বাঁচার তাগিদে পাশে বসা যাত্রীর বাহু খামচে ধরলো।এরপর ঢুকে যাবার চেস্টা করলো তার জ্যাকেটের ভেতর।সব কিছু চুলোয় যাক।তার বেঁচে থাকা চাই।
রোদের পাশের ব্যক্তি শক্ত আলিঙ্গনে চেপে ধরলো রোদ কে।এবার সবচাইতে বেশি নিরাপদ অনুভব করলো রোদ।
ভয়ে শ্বাস আটকে ঘাপটি মেরে মানুষটার বুকে চেপে রইলো সে।এরপর ধীরে ধীরে ট্রেন যখন নীচে নামলো তখন মুখ বার করলো।ট্রেন থামলো।খুলে গেলো কাঁচের দরজা।একে একে সমস্ত পর্যটক নামতে শুরু করলো।শুধু বসে রইল রোদ আর কালো পোশাকে আবৃত সেই পুরুষ।রোদ বড় বড় শ্বাস ফেলে মানুষটার দিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য তাকালো।উপরে তাকাতেই তার মাথা ঘুরে উঠলো দ্বিগুন হারে।মুখ ঢাকা মানব মুখের মাস্ক সরিয়ে বাঁকা হাসলো।বললো

“পিছুই ছাড়ছ না দেখছি!যেখানে যাচ্ছি সেখানেই গিয়ে জড়িয়ে ধরছো, ওয়াশ রুমে ঢুকে সব দেখে নিচ্ছ এসব কি?দ্যা গ্রেট রুদ্ররাজ চৌধুরীর অহংকারী দেমাগী মেয়েকে এসব মানায় বুঝি?দু বছরের চরিত্রের এত অধঃপতন হয়েছে?

বলেই ঠোঁট গোল করে শীষ বাজাতে বাজাতে শাহরান ট্রেন থেকে নেমে দুই হাত মেলে আড়মোড়া ভাঙলো।এরপর আরেকবার ভৎসর্নার চোখে ট্রেনের দিকে তাকিয়ে হনহন করে হেটে গেলো পাহাড়ের ঢাল ধরে।

রোদ মাথা নিচু করে বসে রইলো।ছেলেটা বার বার তাকে ভুল বুঝে চলেছে।অথচ রোদের মনে এরম কিছুই নেই।একই মানুষের থেকে অযথা বিনা কারণে অপমানিত হচ্ছে সে।রোদের ইচ্ছে হলো এখনই অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে চলে যেতে ।কিন্তু পাহাড়ের এই অনিন্দ্য সৌন্দর্য তাকে মোহে আবিষ্ট করলো।রোদ ট্রেন থেকে নেমে নিজের সংগীদের দিকে এগিয়ে গেলো।এরপর তারা হাইকিং শুরু করলো।

ছোট ছোট গ্রুপ হয়ে একেক জন একেক দিকে হাঁটা ধরলো।গাইড সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো কেউ যদি হারিয়ে যায় তবে সে যেনো ওয়াকিটকিতে যোগাযোগ করে।নয়তো সেন্টার পয়েন্টে এসে অপেক্ষা করে।সকলেই সমস্বরে হা মিলিয়ে ছুটলো যার যার পছন্দ সই জায়গায়।

রোদ অবাক মুগ্ধ দৃষ্টি তে সর্পিল পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চলছে।ধূসর পাহাড়ের ঢালে নাম না জানা অদ্ভুত সুন্দর সব ফুল।বাহারি রঙের পাতা ওয়ালা গাছ গুলো চোখ ধাঁধানো সুন্দর।নামহীন নানান জাতের পাখির সুন্দর কলতান আর ঝর্ণার ঝরঝর ধারার শব্দ।রোদ যেনো অন্য এক জগতে প্রবেশ করলো।পৃথিবী থেকে সে যেনো কল্পনার রাজ্যে পদার্পণ করলো।

টানা এক ঘন্টা হেটে পেছনে তাকাতেই রোদ দেখলো তাঁর সঙ্গে আসা মেয়ে দুটোকে আর দেখা যাচ্ছে না।রোদ ঘাবড়ালো না।আশেপাশে অনেক মানুষের সমাহার।আর সকলেই সূর্যাস্তের সময় একই জায়গায় গিয়েই অবস্থান নেবে।তাই এখানে হারিয়ে যাবার শঙ্কা খুবই কম।

রোদ পাহাড়ের ঢালের রাস্তা ধরে মন খুশি মতো হাটতে লাগলো।হাটতে হাটতে তার দৃষ্টি আটকালো সুন্দর একটা ফুলের দিকে।ফুলটা বেশ করে আকর্ষণ করলো তাকে।রোদ সাবধানে হেটে হেটে সেই ফুলের নিকট গিয়ে দাড়ালো।দূর থেকে দেখে যতটা কাছে মনে হলো কিন্তু এতটা কাছে নয়।আরেক পাহাড়ের সঙ্গে লাগোয়া ঢালে সেই ফুলটা ফুটে রয়েছে পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে।ফুলটাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হলো না রোদের।সে গাছের সাথে জড়ানো একটা মোটা লতাকে শক্ত করে ধরে ধীরে ধীরে পা বাড়ালো পাহাড়ের ঢালে।উপুড় হয়ে বাড়ালো অপর হাত।মধ্যম আঙ্গুল ছুঁই ছুঁই সেই ফুলটা।কিন্তু রোদ ছিঁড়তে ব্যর্থ হলো।রোদ দ্বিতীয়বার চেষ্টা চালাতেই মনে হলো লতাটা গাছ থেকে ছিড়ে যাচ্ছে।রোদ যখন বুঝতে পারলো তখন বেশ দেরি হয়ে গেলো।লতাটা ছিড়ে পরে গেলো গাছ থেকে।পাহাড়ের খাদ আর রোদের পা চুল পরিমান দূরত্বে।কিছু বুঝে উঠবার আগেই হাতে হ্যাচকা টান অনুভব করলো রোদ।তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে এলো পেছন দিকে।হুমড়ি খেয়ে পড়লো কারো প্রশস্ত বুকে।গড়িয়ে গড়িয়ে নেমে গেলো স্বল্প ঢালে।ধারালো পাথরে লেগে থে/তলে গেলো শরীরের বিভিন্ন অংশ সেই সাথে ম/চকে গেলো পা।পায়ের ব্যথায় চোখ মুখ খিঁচে আর্তনাদ করে উঠলো রোদ।শক্ত হাতে খামচে ধরলো নীচে থাকা শাহরানের কলার।সর্বাঙ্গের অসহনীয় ব্যথায় শাহরানের গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে গুঙিয়ে উঠলো সে।

ব্যতিব্যস্ত হয়ে শাহরান রোদ কে ঠেলে সরিয়ে নজর বুলালো কোথায় ব্যথা পেলো।পরনের জিন্স আর গায়ের সাদা টিশার্ট ছিড়ে ছুড়ে একাকার।শাহরানের নিজের হাত পা ও কে/টে কু/টে একাকার।ফিনকি দিয়ে র/ক্ত বেরুতে চাইছে সেই ক্ষ/ত গুলো থেকে ।নিজের ব্যথা তোয়াক্কা না করে শাহরান রোদকে ডাকলো

“অ্যাই মেয়ে শুনছো?কোথায় লেগেছে?

রোদ কথা বলার অবস্থাতে নেই ।ব্যথায় তার গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না।চোখ জোড়াও নিভে আসার উপক্রম।শাহরান রোদ কে নিজের ব্যগ থেকে ওয়াটার বোটল বের করে পানি খাওয়ালো অল্প।রোদ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো ব্যথায়।ছিলে যাওয়া কম্পিত হাতটা বাড়িয়ে শাহরানের হাত চেপে ধরে মিইয়ে আসা গলায় ভেঙে ভেঙে বলে উঠলো

“পা য়ে অসহনীয় ব্য/থা।সেই ব্যথায় আমার প্রাণ যাচ্ছে।

শাহরান রোদের পায়ের দিকে এগিয়ে এক টানে খুলে ফেললো স্নিকার্স।এরপর হাতে তুলে নিলো ধবধবে সাদা পা।পায়ের গেড়ো মুহূর্তেই ফুলে লাল হয়ে উঠেছে।একবার রোদের পায়ের দিকে তাকিয়ে আরেকবার রোদের মুখের দিকে তাকালো শাহরান।ব্যথায় মেয়েটার সাদা মুখটা লাল হয়ে উঠেছে।চোখের কার্নিশ গড়িয়ে ঝরঝর করে জল ঝরছে।সেই জল বিলীন হচ্ছে মাটিতে পরে থাকা ইউক্যালিপটাস এর শুকনো পাতায়।

শাহরান রোদকে বলে উঠলো

“তোমাকে এখন অনেক ব্যথা দেব আমি।বিনিময়ে নাহয় আরেকটু বেশিই ঘৃ/ণা করো আমায়।

রোদ জবাব দিলো না।শাহরান রোদের পা চেপে ধরে মোচড় দিতেই রোদ গগন কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলো সে।মেয়েটির চিৎকারে শাহরানের বুকের ভেতর কেমন মুষড়ে উঠলো।চোখ জোড়া হয়ে উঠলো কাতর।কিন্তু মুখে কোনো ভাব প্রকাশ করল না।এরপর রোদের পাশে বসে পিঠের নীচে হাত দিয়ে তুলে দাঁড় করলো তাকে।মেয়েটা নিজের সমস্ত শক্তি যেনো হারিয়ে অথর্ব হয়ে গিয়েছে।জড় বস্তুর মতো শাহরানের সহায়তা নিয়ে ধ্যান জ্ঞান ভুলে চোখ বুঝে দাঁড়িয়ে রইলো।রোদকে এক ঝটকায় নিজের কাঁধে তুলে সামনের দিকে হাঁটা ধরলো শাহরান।


পাহাড়ের ভেতরেই নিকটবর্তী একটা মাউন্টেইন কটেজে চড়া মূল্য দিয়ে তাতে রোদকে নিয়ে উঠলো শাহরান।সংকীর্ণ কটেজে একটা মাত্র কক্ষ খালি আর তাতে একটাই বিছানা।ছোট বিছানা খানায় রোদকে শুইয়ে শাহরান একটা চেয়ার টেনে বসলো।তার শরীরের অবস্থাও যাচ্ছেতাই।ক্ষ/ত গুলো থেকে র/ক্ত ঝরে জমাট বেঁধে আছে।সারা শরীরে ব্যথা।শাহরান দাঁত চেপে ব্যথা সয়ে কটেজ ম্যানেজার এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো

“এখানে ডক্টর পাওয়া যাবে?

ম্যানেজার তাৎক্ষণিক মাথা নেড়ে না বললো।এমন গহীন পাহাড়ে ডক্টর আসবে কোথা থেকে?এখানে মানুষ কয়েক ঘন্টা কিংবা শুধু একটা রাত কাটাতে আসে।তাই সেই অনুযায়ী ব্যাবস্থাই রয়েছে এখানে।তবে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত একটা মেডিকিট বক্স শাহরানের হাতে দিয়ে মাঝবয়সী ভদ্রলোক বলে উঠলো

“আপাতত এতেই কাজ চালিয়ে নাও।

সাদা রঙের ছোট বাক্সটার দিকে এক পলক তাকিয়ে শাহরান তপ্ত শ্বাস ফেললো এরপর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নিজ কক্ষে এলো।

বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে রোদ।এহেন অসহনীয় যন্ত্র/ণার চাইতে মৃ/ত্যু বুঝি ঢের ভালো।শাহরান কক্ষের দরজা আটকে বক্সটা খুলে চেয়ারে বসলো।রূপকথার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা খুব ভালো রপ্ত করেছে সে এতগুলো বছরে।ডাক্তারি পড়লে তার ফিউচার খুব ব্রাইট হতো।কিন্তু ওসবে মন টানেনি তার।শাহরান একটা এন্টিসেপটিক আর তুলো হাতে নিয়ে রোদ কে বলে উঠলো

“দাঁত চেপে যত গালি আছে আমায় দিতে পারো আমি কিচ্ছু মনে করবো না।

বলেই ক্ষত গুলোতে এন্টিসেপটিক ঢেলে দিলো।শক্তিহীন রোদ লবন ছিটানো জোঁকের ন্যয় মুচড়ে উঠলো।গালি তো দূর মুখ খুলে আহ টুকুন করতে পারলো না সে।শারীরিক কষ্ট আর যন্ত্রনায় বিছানার চাদর খামচে ধরে জ্ঞান হারালো রোদ।শাহরান নির্দয়ের মতো টা খেয়াল করলো না।দৃশ্যমান ক্ষ/ত গুলো পরিস্কার করে শাহরানের নজর গেলো রোদের মেদহীন উদরে।পেটের বাম পাশের টিশার্ট র/ক্তে ভিজে শুকিয়ে আছে।

শাহরান কোনো কিছু না ভেবেই টিশার্ট উপরে তুললো।বাম পাশের পেটে বেশ খানিক কেটে গিয়েছে ধারালো পাথরে।লাল মাংস বেরিয়ে আছে।ড্রেসিং না করলে ইনফেকশন হবে।সেলাই দিতে পারলে বেশি ভালো হত।মেয়েটির এমন বিপদে শাহরান ঠোঁট কামড়ে কিছু ভাবলো এরপর যত্নসহকারে তাতে এন্টিসেপটিক এ তুলো ভিজিয়ে পরিস্কার করে মলম লাগিয়ে সাদা ব্যান্ডেজ করে দিলো।

বিপত্তি বাধলো টিশার্ট নামাতে গিয়ে।সহসাই শাহরানের নজর নিবদ্ধ হলো নাভি রন্ধের পানে।শত চেষ্টা করেও দৃষ্টি সরাতে ব্যর্থ হলো সে।ধীর গতির শ্বাসে রোদের পেট অল্প উঠানামা করছে।সেই মোহনীয় দৃশ্যে শাহরানের গলা শুকিয়ে উঠলো।পিপাসা পেলো চূড়ান্ত।শুকনো গলবিল সামান্য ভেজাতে শাহরান ফাঁকা ঢোক গিললো।এরপর নিজেকে সামলে চট করে রোদের টিশার্ট নামিয়ে বেরিয়ে গেলো বারান্দায়।

কটেজের বারান্দা থেকে মাউন্টেইন ব্লু এর ঝর্ণা গুলো বেশ ভালো দেখা যায়।ঝর্ণার ঝরে যাওয়া অবিরত জলরাশির পানে তাকিয়ে শাহরান বলে উঠলো

“সবটাই মোহ।তাকে পাবো না জেনেও তার প্রতি মোহকৃষ্ট হওয়া পাপ,অন্যায়।তারচেয়ে ভালো দূরে সরে যাওয়া।আগুনের থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই মোমের জন্য মঙ্গল।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply