চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৬
সারিকা_হোসাইন
“ও পালিয়ে গেলো আর তুমি চেয়ে চেয়ে দেখলে?শিগগির ধরো ওকে।
“ধরবো মানে?
“না ধরলে আজীবন প্রস্তাবে মূর্খ মেয়ে।
রোদের উচাটন মন কেমন অধিক চঞ্চল হয়ে উঠলো।সে ত্বরিত
নানা ভাইয়ের ফোন কেটে দিয়ে নৌকায় থাকা টিমটিমে হারিকেন হাতে তুলে নিলো ।এরপর সিঁড়ি ধরে উঠে এলো চার্চের সম্মুখে। রোদ উদভ্রান্তের ন্যায় চারপাশে খুঁজলো সেই অদ্ভুত মানব কে।কিন্তু কোথাও তার হদিস নেই।চারপাশে বিদেশি মানুষে গিজগিজ করছে। রোদ কয়েকজনকে বিনয়ের সাথে শুধালো
“আচ্ছা তোমরা কেউ দেখেছো ওই অদ্ভুত লোকটাকে?
একজন প্রেমিক তেড়ে এসে জবাব দিলো
“দেখলে কি আর এখানে বসে হাপিত্যেশ করতাম?চামড়া তুলে ডুগডুগি বাজাতাম না?
রোদ ক্ষিপ্ত মানবের সাথে কথা না বাড়িয়ে এদিক সেদিক ছুটে বেড়ালো।ছুটতে ছুটতে হঠাৎ চার্চের বাইরের গেটের দিকে তার চপল দৃষ্টি স্থির হলো।কালো একটা ছায়া দাম্ভিক চলনে গেট মাড়িয়ে মাটি দাপিয়ে নরম সবুজ ঘাস পিষে চলে যাচ্ছে। রোদ হারিকেন নিয়ে সেদিকে ছুট লাগালো।কিন্তু ততক্ষণে মানুষটা গায়েব।রোদ মিহি গলায় ডাকলো
“শুনছেন?
কোনো উত্তর এলো না।রোদ দুই ধারে না তাকিয়ে সামনের দিকে চলতে লাগলো চলতে চলতে কখন যে পথ হারিয়ে ঘন অরণ্যে চলে এলো রোদ ঠাহর করতে পারলো না।হারিকেনের আলো যখন একদম নিভে যাবার উপক্রম তখন রোদের হুশ এলো।সে ভয়ে দাঁড়িয়ে গেলো ।আকস্মিক মনে পরে গেলো। বৈকাল হৃদের পাইন ফরেস্টের কথা। রোদ বিচলিত হলো।তার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করলো।সে পিছন ফিরলো।আকাশ ঘুটঘুটে কালো,চারপাশে দৈত্যাকার বৃক্ষরাজি।দমকা বাতাসে দপ করে নিভে গেলো হারিকেন।রোদ ঘেমে উঠলো অজানা ভয়ে।এই বুঝি হিংস্র জন্তু এসে গিলে নেয় তাকে। রোদ মুখ চেপে গুঙিয়ে উঠলো।কামারের হাপরের ন্যায় বুক উঠানামা করছে।বাইরে থেকে হৃদযন্ত্রের ধড়াস ধড়াস ধ্বনী স্পস্ট। রোদের সারা শরীর অবশ হয়ে এলো।পায়ের নিচে এক বিন্দু শক্তি অবশিষ্ট নেই।সর্বাঙ্গ কাপছে থরথর করে।এমন সময় শুকনো পাতায় মর্মর শব্দ তুলে এগিয়ে এলো কেউ।হতে থাকা কৃত্রিম আলোয় তার বিশালাকার ছায়া গহীন অরণ্যে রাজ করছে। রোদ নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না।পূর্বের ডিপ্রেশন আর বর্তমান ভয় তাকে মুহূর্তেই কাবু করে ফেললো।সে চোখ বুজে তাল হারিয়ে মাটিতে পরে গেলো।খুইয়ে ফেললো নিজের সমস্ত ধ্যান জ্ঞান।নিমিষেই পোক্ত দুটি হাত তাকে জড়িয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠল—
“মেয়েকে দু চারটে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালে রুদ্র রাজ চৌধুরী ভিখারি হয়ে যেত?এই মেয়ে যত বার জ্ঞান হারায় ততবার তো মানুষ মূত্র বিসর্জন করতেও যায় না।
শাহরান বেশ বেকায়দায় পড়লো এবার। সে যদি ঘূর্ণাক্ষরেও টের পেতো এখানে উৎসব দেখতে আসলে এই মেয়ের মুখোমুখি হতে হবে তাকে তবে প্রাণ গেলেও সে এখানে আসতো না।উল্টো এই মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়ে উটকো ঝামেলার সৃষ্টি হলো।
চোখে মুখে বিরক্তি ফুটিয়ে রোদ কে কাঁধে তুলে নিলো শাহরান ।এরপর পা বাড়ালো চার্চের দিকে।
রাতের গভীরতা আরেকটু বাড়তেই সকলেই চার্চ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।এদিকে রোদের ফোনে একের পর এক রিং বেজে চলেছে। স্ক্রিনে লেখা নানা ভাই।চার্চের বারান্দায় রোদ কে শুইয়ে ফোন তুলে কানে ধরলো শাহরাণ
“হ্যালো
শাহরানের গম্ভীর গলায় ওপাশের বৃদ্ধ চমকে উঠলো।তৎপর হয়ে জিজ্ঞেস করলো
“হুঁ আর ইউ?
বাকা হাসলো শাহরান এরপর গলা খাকরি দিয়ে বলে উঠল
“নাম জানা কি খুব জরুরি নানা ভাই?
নানা ভাই সম্বোধনে চুপকথার বাবা বিষ্ময়ে আপ্লুত হলেন।আর কথা বাড়ালেন না তিনি। পাছে তার গদগদ উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে যায়।চতুর বৃদ্ধ খট করে লাইন কেটে দিয়ে ফোন সুইচড অফ করে ফেললেন।এরপর নাতনিকে ফেলেই চলে গেলেন নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
শাহরান রোদের নম্বর থেকে বার বার ডায়াল করলো বৃদ্ধের নম্বর।কিন্তু সুইচড অফ।শাহরানের ফর্সা মসৃণ কপালে এবার বিরক্তি আর চিন্তার ভাজ প্রকট হলো।দাঁত দিয়ে নিজের পাতলা গোলাপি ঠোঁট জোড়া কামড়ে কিছু ভাবলো শাহরান এরপর রোদ কে ফেলে দৌড়ে চার্চের ফাদারের কাছে গেলো ।ফাদার মাত্রই নিজের আরাধনা শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন সময় শাহরানের উপস্থিতি তাকে বিষ্ময়ে ভরিয়ে তুললো।ফাদার এগিয়ে এসে বললো
“তুমি তো সেই যে,ঘন্টা বাজিয়েছিলে?অ্যাম আই রাইট?
“ইয়েস ফাদার।
“তবে পালালে কেন?
“কারন আমি বিয়ে করতে চাই না।
“বিয়ে করতে চাওনা তবে অন্যের সুযোগ নষ্ট করলে কেন?
“হৃদয়ে থাকা প্রেয়সী বড্ড নিষ্ঠুর ফাদার।তার হৃদয় গহীনে আমার জন্য বিন্দু পরিমাণ জায়গা নেই।বিধাতা বোধ হয় পাপীকেও এতো টা ঘৃণা করে না যতটা সে আমায় করে।
ফাদার ব্যথিত হলেন শাহরানের কথায়।এরপর তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠল
“কি চাইছো এখন আমার কাছে?
“মেয়েটার জন্য সামান্য আশ্রয়।আপনাকে আমি দীর্ঘ বছর ধরে চিনি।ইয়ং এর সাথে বহুবার এসেছি।আপনার চাইতে সৎ ব্যক্তি এই সাক্রামেন্ট এ একজন ও নেই।মেয়েটাকে দয়া করে রাত টুকু থাকতে দিন ।জ্ঞান ফিরলে বলবেন চলে যেতে।
“তুমি কেনো থাকছ না?
“অধিকার নেই এজন্য।তাছাড়া!
“কি?
“আমি কাল ভোরে সুইজারল্যান্ড চলে যাবো।যাবার আগে নিজের অবশিষ্ট সম্মান টুকু হারিয়ে ফেলতে চাই না।নিজের মূল্যবান বহু কিছু রাশিয়া ফেলে এসেছি ।
শাহরান আর কথা বাড়ালো না।করজোড়ে ফাদারের কাছে মিনতি করে শুধু বললো
“আমার বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে বলবেন আপনি তাকে জঙ্গলে অচেতন অবস্থায় পেয়েছেন।
বলেই দৌড়ে চলে গেলো। শাহরান দৃষ্টির সীমানা় পাড় হতেই ফাদার তপ্ত শ্বাস ফেললেন।রোদের পানে একবার নজর বুলিয়ে পুনরায় শাহরানের যাত্রা পথে তাকিয়ে বলে উঠলেন
“গড ব্লেস ইউ ,মাই সান।
শাহরানের লাগেজ গুছাতে গুছাতে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে রূপকথা।এই কয়েক মাস ছেলেকে বুকে জড়িয়ে বেঁচে ছিলো সে।পূর্বের কষ্ট গুলোও ধীরে ধীরে ভুলে যেতে বসেছিলো ছেলেকে কাছে পেয়ে।কিন্তু হঠাৎই সেগুলো যেন আবার তাজা হলো ।রূপকথার কান্নায় সারফরাজ এর বুক মুষড়ে উঠলো।সে নমনীয় গলায় বললো
“তুমি চাইলে আমরা ওখানে শিফট হতে পারি।
রূপকথা সারফরাজ এর পানে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকালো।অতঃপর বললো
“এই দেশের প্রতি অদ্ভুত এক মায়া পরে গেছে আমার।চাইলেও আমি এখান থেকে এক পা কোথাও নড়তে পারবো না সারফরাজ।
“তবে কেঁদে কেঁদে আমাকে কেনো মা*রছো?
রূপকথা চোখের জল মুছে নিজেকে সামলে বলে উঠলো
“ছেলেটা এতো তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি।চাইলেও ওকে এখন আর নিজের কাছে রাখতে পারি না।আমি তো এতো দ্রুত ওকে এতো বড়ো হিসেবে দেখতে চাইনি।
সারফরাজ কাতর চোখে রূপকথার পানে তাকিয়ে বলে উঠলো
“প্রকৃতির নিয়মের উপর আমরা চাইলেও হাত লাগাতে পারি না। ওসব যত ভুলে থাকবে তত তোমার জন্য মঙ্গল।
রূপকথা শাহরানের লাগেজে চেইন আটকে বলে উঠলো
“কোথায় গিয়েছে তোমার ছেলে?
“আমি এখানে।
বলেই দৌড়ে এলো শহরান।এসে রূপকথাকে বুকে জড়িয়ে চোখের জল মুছিয়ে বলে উঠলো
“তুমি বড্ড ছেলে মানুষ মা।আমি তো পৃথিবী ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না তাই না!ইচ্ছে হলেই ফিরে আসবো।মন চাইলে তুমিও যাবে, সব কিছু এতো কঠিন করে কেন ভাবছো?
রূপকথা ছেলেকে কান টেনে বলে উঠলো
“হয়েছে এত বড় বড় কথা বলতে হবে না ।মাতৃ হৃদয়ের যাতনা তুই কি বুঝবি?
“বলব না মানে আলবাত বলবো।ওই বুড়ো সুফিয়ান চৌধুরীর পরে তো আমি ই তোমার বাপ তাই না?
কথায় কথায় দুঃখের মুহূর্ত শেষ হয়ে হাসি ঠাট্টা আনন্দে ভরে উঠল পুরো ঘর।রাতের গভীরতা বাড়তেই শাহরানকে ঘুমুতে দিয়ে বেরিয়ে গেলো সরফরাজ আর রূপকথা।পরক্ষনেই সারফরাজ ফিরে এসে সন্দিহান গলায় বললো
“তোমার গা থেকে মেয়েলি পারফিউম এর গন্ধ আসছে ।এই গন্ধ রুদ্ররাজের মেয়ের।কোথায় গিয়েছিলে?
শাহরান কিছু না লুকিয়ে বলে উঠলো
“স্যাক্রামেন্টো ফেস্টিভ্যাল এ দেখা হয়েছিলো।
“কথা বলেছো?
“সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল কোনো কারণে।আমি শুধু চার্চ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি।
“তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছো?
“ফাদার জ্যাকব এর কাছে সে নিরাপদেই থাকবে আই হোপ।
সারফরাজ ভ্রু উঁচু করলো।এরপর ঠোঁট উলটে বলে উঠলো
“ওকে ঘুমাও।খুব সকালে বেরিয়ে যেতে হবে এয়ারপোর্টে।
“গুড নাইট পাপা।
সারফরাজ মাথা ঝাঁকিয়ে বেরিয়ে গেলো।এত গুলো মাস পরে রুদ্রের মেয়ের এখানে আসার হেতু তার বোধগম্য হলো না।রুদ্র তার পরিবার সমেত ফিরে এলো নাকি চুপকথা মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে এলো?
পাহাড়ের বুক চিরে ঝরঝর শব্দে ঝর্ণার সফেদ শীতল জল গড়িয়ে বিলীন হচ্ছে সাক্রামেন্টো নদীর বুকে । সাক্রামেন্টো ফরেস্ট জুড়ে নানান বাহারি পাখ পাখালী তুমুল শব্দে ডেকে ডেকে জানান দিচ্ছে রাতের আঁধার কেটে গিয়ে নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে।ভোরের কোমল আলো আর শীতল বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে সব কিছু।চার্চের সফেদ কক্ষে বৃহত জানালা ডিঙিয়ে কমলা রঙের আলো আছড়ে পড়লো।সেই আলো চোখে লাগতেই পিটপিট করে চোখ মেললো রোদ।ধবধবে সাদা ছাদের উল্টোপীঠ দৃষ্টিতে লাগতেই কপাল কুচকে এলো রোদের।মাথাটা কেমন ভারী হয়ে আছে।সে ত্বরিত উঠে বসতে চাইলো।এমন সময় ফাদার হাতে একটা চিনা মাটির পেয়ালা আর ছোট একটি ট্রে তে কিছু কাটা ফল নিয়ে উপস্থিত হলো রোদের কক্ষে । কারো আকস্মিক পদচ্ছাপের শব্দে দরজার পানে তাকালো রোদ।সাদা পবিত্র পোশাকে নিজেকে জড়িয়ে হাতে ক্রুশ আর রোজারি মালা হাতে গম্ভীর চলনে এগিয়ে আসছে কেউ ।তার চোখ মুখের অভিব্যক্তি আর শুভ্র শৃংখল জানান দিচ্ছে সে এই চার্চের ফাদার।কিন্তু রোদ তো কোনো অরণ্যের মাঝখানে ছিলো।এখানে এলো কি করে!
বিষ্ময়ে চমকিত হয়ে রোদ উঠে বসলো।মুখ ফুটে নিজের চমক জানান দেবার আগেই ফাদার শুধাল
“এখন কেমন অনুভব করছো মাই চাইল্ড?
রোদ মাথা নাড়লো।সে ভালো আছে।কিন্তু মন মস্তিষ্কে অনেক প্রশ্ন।ফাদার চিনা মাটির পেয়ালা রোদের পানে এগিয়ে বললো
“এটা পান করো।আরাম পাবে।এমন মস্তিষ্ক দুই শীতল হবে।
রোদের গলাটা সত্যিই শুকিয়ে উঠেছিলো। পাত্রের পানিটা সে দুই হাতে নিয়ে এক ঢোকে গিলে ফেললো।পানিটা সত্যিই জাদুর মতো কাজ করলো।তার বুকটা বড্ড শীতল হলো।
ফাদার আঙ্গুর,আপেল আর কয়েক টুকরো কমলার কোয়া সহ ট্রে টা রোদের দিকে এগিয়ে বললো
“এটা খেয়ে বাড়ি ফিরে যাও।সবাই একটু পরে প্রার্থনার জন্য চলে আসবে।
রোদ মাথা নিচু করে শোধালো
“সে কোথায় ফাদার?
ফাদার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো
“তুমি কার কথা বলছো?
“যে আমায় এখানে নিয়ে এসেছে?
ফাদার নিজের দেয়া কথা ভঙ্গ করলো না।তিনি বাইরে একটি ছেলেকে নির্দেশ করে বলে উঠলেন
“ভোরের দিকে ও তোমাকে জঙ্গলে অচেতন পরে থাকতে দেখে এখানে নিয়ে এসেছে।
রোদ কিছুক্ষন চুপ রইলো।এরপর ইতস্তত করে বললো
তার শীতল হাতের স্পর্শ এখনো আমি অনুভব করতে পারছি ফাদার।
ফাদার কথা বাড়ালেন না।এমন সময় চার্চের আকাশের উপর দিয়ে উড়ে গেলো একটি উড়োজাহাজ সেই সঙ্গে বেজে উঠল ঘন্টা ফাদার নির্দয়ের মতো বলে উঠলো
“it’s time to pray…,you have to go…my child।
রোদ ছলছল চোখে ফাদারের সুন্দর মুখের পানে তাকালো।ফাদারের স্বচ্ছ নীল চোখ জোড়া যেনো কিছু লুকাচ্ছে। রোদ নিজের শিয়রে ফোনটা দেখতে পেলো।সেটা নিয়েই চার্চের বাইরে বেরিয়ে এলো।এরপর কল করলো তার নানার নম্বরে
“আমায় নিয়ে যাও নানা ভাই।আমি হারিয়ে গেছি।
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০