পার্ট_৩২
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌_
পরপর চারটা ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।আহি,সাইফা,তিহা, তিহান আর শ্রেয়া।সামনের ফ্যানটার আজ কি জানি হয়েছে।চলছে না এই গরমে ফ্যান ছাড়া থাকা অসম্ভব। তাই ওরা পাঁচজন শেষের বেঞ্চে গিয়ে বসেছে।এখন ফাইজের ক্লাস।ফাইজের আসতে দেরি হচ্ছে দেখে পাঁচজন গোল হয়ে বসে গল্প করছে।
শ্রেয়া: অনেক দিন হচ্ছে আমরা একসাথে ফুচকা খাই না।আজকে চল সবাই মিলে ছুটির পর একসাথে ফুচকা খাবো।
বাকিরাও রাজি হয়।তবে তিহান এসবে নেই। ছেলে মানুষ এসব পছন্দ করে না। ওরা ওরাই বকবক করছে।সে বসে বসে ওদের বকবক শুনছে। মাঝে মধ্যে হু হ্যাঁ করছে।তবে বাঁধা সাধল আহি।
আহি:আজ হবে না।ছুটির পর পরই ভাইয়া আমাকে নিতে আসবে।খুঁজে না ফেলে তখন কি হবে।
শ্রেয়া: ঘোড়ার ডিম হবে।এত চিন্তার কী আছে বলদি।ফাইজ স্যার তোর ভাই না।তাকে বলে দিবি তোর ভাইকে কল দিয়ে বলতে একটু দেরি করে আসতে। আমরা সবাই একসাথে ফুচকা খাবো সাথে একটু আড্ডা দিব।প্লিজ না করিস না।
আহি মেনে নেয়।কিছুক্ষণ পরই ফাইজ ক্লাসে ডুকে।সবাই সালাম দেয়।ফাইজ সবাইকে বসতে বলে।সবার দিকে চোখ বুলিয়ে বোনকে খুঁজল। দেখল শ্রেয়া খোঁচা দিয়ে আহিকে কিছু বলছে। আহি ভ্রু কুঁচকে শ্রেয়ার কথা শুনছে।ফাইজ মনে মনে ভাবে। এই মেয়ে আবার তার বোনকে কী বলছে।এই মেয়েকে সে শান্তশিষ্ট ভেবেছিলো সেদিন বৃষ্টিবিলাশ করতে দেখে।কিন্তু আসলে এই মেয়ে একটা বদের হড্ডি আস্ত এক শয়তান।সেদিন দ্বিতীয় বার মেয়েটার সাথে দেখা হয়েছিল আর বুঝতে ফেরেছে।
দ্বিতীয় বার এই মেয়ের সাথে দেখার হওয়ার পর ফাইজ একটু অবাক হয়েছিল। সে ভাবেনি মেয়েটার সাথে তার আবার দেখা হবে।তাও তারই কলেজে।আর সবচেয়ে বেশি অবাক তখন হয়েছে যখন শুনেছে এই মেয়ে তার বোনের বান্ধবী।
সেদিন ফাইজ একটু তাড়াতাড়ি কলেজে আসে। অনেকদিন পর কলেজে যাচ্ছে। একটু তাড়াতাড়িই যাওয়া উচিত বাকি স্যারদের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করতে হবে।গেট দিয়ে ডুকতে না ডুকতে কেউ একজন এসে তার সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়।
—কোণ বাঁদরের ঘরে বাঁদর আমাকে ধাক্কা দিয়েছে।শালা কানা নাকি চোখে দেখিস না?বজ্জাত সিমেন্ট বালু খাস নাকি এত শক্ত কেন তোর শরীর।ও আল্লাহ গো আমার মাথাটা শেষ করে দিছে।
ফইজ প্রথমে শ্রেয়াকে এখানে দেখে অবাক হয়েছে।এই মেয়ে এখানে কী করছে?সে ভাবতে থাকে তবে বেশিক্ষণ ভাবতে পারেনি।শ্রেয়ার কথা শুনে একবারে তাজ্জব বনে গেছে বেচারা।মেয়েদের ভাষাও এমন হয়?এই মেয়েকে শান্তশিষ্ট ভদ্র ভেবে ছিলো।আর এখন এসব কী দেখছে এই মেয়ে আস্ত এক বজ্জাত আবার তাকে বজ্জাত বলছে?ধাক্কা তো মেয়েটা দৌড়ে এসে খেয়েছে।শ্রেয়া ততক্ষণে মাথা তুলে সামনে তাকায়।দেখে একটা সুদর্শন লোক তার দিকে কেমন করে তাকিয়ে আছে।বুঝল এই লোকই তাকে ফেলে দিয়েছে।নিচ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাজখাঁই গলায় বলে
— ওই মিয়া, চোখ কি পকেটে নিয়া ঘুরেন?* মাইয়া মানুষ দেখলেই ধাক্কা মারতে মন চায়?
ফাইজ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মেয়েটার সাহস দেখে সে হতবাক। কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে এমন ভাষায় কথা বলতেছে? ইউনিফর্ম পরা, নিশ্চয়ই স্টুডেন্ট। কিন্তু মুখের লাগাম নাই।
—তুমি নিজে দৌড়ে এসে আমার গায়ে পড়ছো। চোখ আমার ঠিকই আছে, তোমার পা দুইটা কন্ট্রোলে নাই। আর ভাষা ঠিক করো। এটা কলেজ,তোমার বাড়ি না।
শ্রেয়া তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। কোমরে হাত দিয়ে বলে,
—ওহ আচ্ছা? আমি দৌড়ে এসে পড়ছি? আপনি তো দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। সব দোষ তো আমারই।আপনি শুধু খাম্বার মতো দাড়িয়ে ছিলেন কাকে বাড়ি খাইয়ে ফেলে দিবেন সে চিন্তায় ছিলেন।বলে কী আর কাউকে চোখে পড়ে নি আমাকেই ফেলেন?
ফাইজের মেজাজ চড়ে যায়। কিন্তু নিজেকে সামলায়। আশেপাশে স্টুডেন্টরা আড়চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।ততক্ষণে গেট দিয়ে তিহা আর তিহান ডুকে।ফাইজকে দেখে সালাম দিল।ফাইজ সালামের উওর দিল।শ্রেয়া ভ্রু কুঁচকে বলল
—তোরা এই অসভ্য লোকটাকে সালাম দিতেছিস কেন? জানিস, এই লোক আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিছে। নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টো মেয়েদের মতো কোমড়ে কাপড় বেঁধে ঝগড়া করছে।
তিহা আর তিহান হা করে শ্রেয়ার দিকে তাকায়। তারপর ফাইজের দিকে। দুইজনের চোখ কপালে। বেচারা ফাইজের মনে হয় আজকে অবাক হওয়াই দিন বেচারা অবাকের ছোটে কী রিয়াকশন দিবে সেটাই ভুলে গেছে।তিহান শ্রেয়ার কানে ফিসফিস করে বলে
—কাকে কী বলছিস এটা আমাদের ফাইজ স্যার।মানে আহির ভাই।
স্যার? শ্রেয়া শুকনো ঢোগ গিলে।শ্রেয়ারে আজকে তুই শেষ।এজন্যই মা বলে বেশি কথা বলা মানে বিপদ জনক।আজ কথা সত্যি মিলে গেলো।শ্রেয়া একটা কেবলা মার্কা হাসি দিয়ে বলল
—হে হে হে আসসালামু আলাইকুম স্যার।ভালো আছেন স্যার? আমি জানি আপনি ভালো আছেন ভালো না থাকলে তো এখানে আসতে পারতেন না।আমি আসলে আপনাকে চিন্তে পারিনি। চিনবো কীভাবে বলুন আমি তো এখানে নতুন।এর আগে আপনাকে কখনো দেখিনি।এজন্য এত বড় মিস্টেক হয়ে গেছে।আসি স্যার আমাদের কাজ আছে।এই তাড়াতাড়ি চল।
শেষের কথাটা তিহা আর তিহানকে উদ্দেশ্য করে বলে। বলেই তড়িঘড়ি করে হাঁটা ধরল।ভালোই ভালোই কেটে পড়াই ভালো। তিহা আর তিহান হতাশ ওরাও বিদায় নিয়ে শ্রেয়া পিছনে ছুঁটল। মেয়েটা অতিরিক্ত কথা বলে। কারো বাপের সাধ্য নেই এই মেয়ের মুখ বন্ধ করার মেশিনের মতো চলে।
ফাইজ নিজেকে সামলে নেয় আশেপাশে অনেক স্টুডেন্ট এখনো তাকিয়ে আছে।
—আধা পাগল মেয়ে কোথা কার। ছ্যাহ্ ফাইজ শেষে কিনা তুই একটা আধা পাগলের চোখের প্রেমে পড়লি?
বিরবির করতে করতে নিজেও অফিসের দিকে চলে গেলো।
সেদিনের কথা গুলা ভেবে ফাইজ দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।মেয়েটা একবারে বাঁচাল বেয়াদব। এই যে এখন যে সে স্যার বসে আছে সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।দিব্বি বকবক করেই যাচ্ছে। ফাইজ উঠে নিঃশব্দে ওদের বেঞ্চের কাছে গেলো।
—এই তোর ভাইয়ের নজর খারাপ আমার দিকে কেমন করে জানি তাকায়।
শ্রেয়ার কথায় ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত হয়ে আহি বলে
—আমার ভাইয়ের নজর খারাপ না।বরং তুই বেয়াদব আমার ভাইয়ের সাথে বেয়াদবি করেছিস এজন্য ভাই তোকে চোখে চোখে রাখছে।
—এই মেয়ে দাঁড়াও।
হঠাৎ ফাইজের কন্ঠ শুনে ওরা দুজনেই চমকে উঠে।তবে কাকে দাঁড়াতে বলেছে।ওরা বুঝতে পারছে না তাই দুজনেই বসে আছে।
—কি হলো এখনও বসে আছো কেন?,
—আ আমাকে বলছেন স্যার?
—নাহ তোমাকে বলতে জাবো কেন?নিজেকে নিজেই বলেছি।
ফাইজের ত্যাড়া কথা শুনে শ্রেয়া বিরক্ত হয়ে দাঁড়ায়। সুন্দর করে বললেই তো সে দাঁড়াতো।
—ক্লাসে মধ্যে এতো কথা কিসের?
শ্রেয়া উওর দেয় না।চুপ করে দাড়িয়ে থাকে।শ্রেয়াকে চুপ করে থাকতে দেখে মেজাজ গরম হয়ে যায় ফাইজের।মেয়েটা এতো বেয়াদব স্যারকে পর্যন্ত সম্মান দিতে জানে না।
—এই মেয়ে চুপ করে আছো কেন?বের হও আমার ক্লাস থেকে। আমার ক্লাসে কোনো বেয়াদবি চলবে না।
এই বলে ফাইজ নিজের জায়গায় চলে যায়।শ্রেয়া তো এতক্ষণ এটাই চেয়েছিল।সে ব্যাগ নিয়ে গদগদ হয়ে যেতে যেতে আহিদের বলল
—তোরা কর এই ডিপজলের ক্লাস।আমি গেলাম ঠান্ডা খেতে।টা টা।
এই বলে সুন্দর মত বের হয়ে গেলো।আর ফাইজ সে এখন আর অবাক হল না।সে জানে মেয়ে টা কী লেভেলের বেয়াদব।অন্য কেউ হলে বলতো স্যার আর হবে না এবারের মত মাপ করে দেয়।কিন্তু এই ইডিয়েট নাচতে নাচতে বের হয়ে গেছে।আহিরাও হতাশ শ্রেয়ার কান্ডে।সবাই ক্লাসে মনেযোগ দেয়।
আদ্রের রুমে বসে ল্যাপটপে কিছু করছে রৌদ্র। আদ্র ওয়াশরুমে।এমন সময় ইয়ানা এলো কপি নিয়ে।
—আসবো।
—আসো।
রৌদ্রের কথায় ইয়ানা ভিতরে ডুকে।কপিটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে
—আপনার কপি।ভাইয়া কোথায়?
রৌদ্র ল্যাপটপে চোখ রেখেই কপিটা নিয়ে চুমুক দিতে দিতে বলল
—ওয়াশরুমে।
রৌদ্র কপি চুমুক দাওয়া মাএই চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল।কপিটা গলা দিয়ে নামছে না।মুখেই আটকে আছে।এইদিকে ইয়ানা।ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতে বেমালুম ভুলেই গেছে।সে কি কান্ড করেছে।রৌদ্র কপিটা শব্দ করে পাশে রেখে উঠে দাঁড়ায়। সেই শব্দ ইয়ানা তাকায় রৌদ্রের দিকে তাকাতেই মনে পড়ে কিছু একটা তড়িঘড়ি করে পালাতে নিবে।রৌদ্র খোপ করে হাতটা ধরে ফেলে।ইয়ানা ভীতু হয়।
—সরি ভা
আর বলতে পারল না রৌদ্র একটা ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়ে ফেলে।ইয়ানা কথা বলার জন্য হা করতেই রৌদ্র ওর গাল চেপে নিজের মুখের সবটুকু কপি ইয়ানার মুখে পুরে দেয়।নিজের ঠোঁট দ্বারা ইয়ানার ঠোঁট চেপে ধরে রেখেছে যতক্ষণ না ইয়ানা কপি টুকু গিলে।ইয়ানা ছাড়া পাওয়ার জন্য চটপট করছে।তবে রৌদ্র তো রৌদ্রই।ইয়নাকে গিলিয়েই ছাড়ল।তার পর রৌদ্র ছেড়ে দিল।ছাড়া পেয়ে।মুখ চেপে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায় ইয়ানা।এদিক রৌদ্র ঠোঁট বেঁকিয়ে হেঁসে বিরবির করে বলে
— নাইস টেস্ট।
[যারা গল্প পড়ে চলে যাও লাইক কমেন্ট করো না।তাদের বলছি লাইক গুলা কী তোমাদের শ্বশুর বাড়িতে নিবা🙂।চুরি করে গল্প পড়ে চলে যায় লাইক কমেন্ট করে না।একটারও কিন্তু বিয়ে হবে না বলে দিলাম🙂🫠।দিন দিন রেসপন্স কমে যাচ্ছে। কেমন হয়েছে জানিও।
চলবে,,,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১০
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৯
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৪
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পার্ব ৩১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৮
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৬