[ পর্ব ৫৭] প্রথম অর্ধেক
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
থরথর কম্পমান হাত দুটো। ন্যান্সির দেহাবয়ব যেন স্থবিরতার এক নির্মম প্রতিমূর্তি। বিস্ফারিত নেত্রে সে নিবদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সম্মুখবর্তী দৃশ্যপটে, যেখানে এক রক্তা’ক্ত পুরুষ নতজানু হয়ে ধীরে ধীরে ধসছে মৃ’ত্যুর প্রান্তসীমায়।
লোকটি ভূমিতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে, বুকে ক্ষ’ত অবিরাম র’ক্তস্রোত গড়িয়ে পড়ছে। তবুও তার ওষ্ঠদ্বয় থেমে নেই প্রাণনাশের কিনারায় দাঁড়িয়েও যেন বিদ্রূপমিশ্রিত দৃঢ়তায় উচ্চারণ করে চলেছে শেষ বাক্যগুলো। ন্যান্সির কর্ণকুহরে প্রতিধ্বনিত হলো তার ভগ্ন অথচ তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর,
“বেঁচে ফিরলে কানের নিচে দেব শুধুমাত্র নিশানা ভুল করার জন্য।”
গু’লিটি তার বক্ষের বাঁ পাশে, ঠিক কয়েক আঙ্গুল উপরে। নিকটবর্তী স্থানে আ’ঘাত হেনেছে যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস মৃ’ত্যুর সঙ্গে লড়াই। অথচ সেই অবস্থাতেও তার কণ্ঠে অদ্ভুত স্থৈর্য, যেন মৃ’ত্যুকেও অবজ্ঞা করছে।
ন্যান্সির চেতনা যেন মুহূর্তের জন্য লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎই সম্বিত ফিরে পেতেই তার অন্তর্লীন আ’তঙ্ক বিস্ফোরিত হলো অশ্রুধারায়। এক আ’র্তনাদ ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো তার কণ্ঠনালি চিরে, সে দৌড়ে গিয়ে র’ক্তাক্ত দেহটিকে বুকে জড়িয়ে ধরল।
“এই এই আফরিদ! শুনছেন? আফরিদ! আমি,,আমি ভুল করে ফেলেছি,,,প্লিজ,,, চোখ বন্ধ করবেন না,,, আমার দিকে তাকান। আপনি যেতে পারেন না আফরিদ, প্লিজ!”
মেয়েটার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছে হেঁচকিতে, প্রতিটি শব্দে অনুশোচনা ও ভয়ের তীব্রতা স্পষ্ট। নাসারন্ধ্রের উপরিভাগ র’ক্তিম আভা ধারণ করেছে, অশ্রুজলে ভিজে গেছে সমগ্র মুখাবয়ব।
অন্যদিকে, গুলির বিকট শব্দে ড্রয়িংরুমে অবস্থানরত সকলে তড়িঘড়ি করে ছুটে এলো বাগানের দিকে। দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করতেই যেন সময় থমকে দাঁড়াল স্তব্ধতা নেমে এলো সবার মাঝে।
স্মাইলি দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে ন্যান্সির পাশে বসে পড়ল। তার দৃষ্টি আ’তঙ্কে বিস্ফারিত।
ইদ্রান পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তীব্র কণ্ঠে নির্দেশ দিল
“ঈশান, গাড়ি বের কর এখনই, ফাস্ট!”
ঈশান আর বিলম্ব করল না, ছুটে গেল গাড়ির দিকে।
এই সময় স্মাইলি কাঁপা হাতে ন্যান্সির মুঠো থেকে রিভলভারটি ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে নিক্ষেপ করল। তার কণ্ঠ ভীত, প্রায় কাঁপতে থাকা ফিসফিস,
“ইলহাম, তুমি এটা কী করলে? তুমি,,, তুমি ওনাকে মেরে ফেললে?”
কিন্তু ন্যান্সি নিরুত্তর। তার ঠোঁট স্তব্ধ, কণ্ঠনালি যেন শুকিয়ে কাঠ। দৃষ্টিতে শূন্যতা, যেন সমস্ত অনুভূতি নিঃশেষ হয়ে গেছে এক নিমেষে।
তিতলি দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এলো। সে ন্যান্সির বাহু আঁকড়ে ধরে তাকে টেনে তুলতে তুলতে বলল,
“চলুন আপু আপনি এখানে থাকবেন না এসব দেখবেন না।”
তিতলি প্রায় জোর করেই তাকে ভেতরের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। তাদের পিছনে নিঃশব্দে অনুসরণ করল স্মাইলি তার মুখেও আত’,ঙ্কের ছাপ সুস্পষ্ট।
পেছনে পড়ে রইল র’,ক্তে র’ঞ্জিত বাগান, আর সেখানে মৃ’ত্যুর সঙ্গে সংগ্রামরত এক আ’হত পুরুষ যার প্রতিটি ক্ষীণ শ্বাস যেন সময়ের বি’রুদ্ধে এক শেষ প্রতিরোধ।
হাসপাতালের শীতল, নির্বাক পরিবেশের অন্তঃস্থলে অপারেশন থিয়েটারের উজ্জ্বল শ্বেত আলোয় নিথর দেহ নিয়ে শুয়ে আছে আফরিদ এহসান। চারপাশে তীব্র অ্যান্টিসেপটিকের গন্ধ, যন্ত্রপাতির ক্ষীণ ধাতব শব্দ, আর মনিটরের একঘেয়ে বিপ্ বিপ্ ধ্বনি যেন এক অদৃশ্য স্নায়ুচাপে আবদ্ধ করে রেখেছে পুরো পরিবেশটিকে।
অভিজ্ঞ সার্জনদের দল, যাদের হাত সাধারণত অটল ও শীতল স্থিরতায় অভ্যস্ত আজ যেন অদৃশ্য ভয়ের শিকলে আবদ্ধ। প্রধান সার্জন, যিনি বহু জটিল অপারেশনের সাক্ষী, তিনিও প্রথম দৃষ্টিতেই সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছিলেন। তার অভ্যন্তরে এক অজ্ঞেয় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল কার এমন দুর্ধর্ষ সাহস যে আফরিদ এহসানের বুকে গু’লি করেছে বা করার দুঃসাহস দেখায়?
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই অপারেশন থিয়েটারের ভেতর উত্তেজনার ঘনত্ব বাড়ছে। সার্জিক্যাল ট্রে থেকে একের পর এক সূক্ষ্ম যন্ত্র তুলে নেওয়া হচ্ছে স্ক্যালপেল, ফোর্সেপ, হেমোস্ট্যাট প্রতিটি ব্যবহারে যেন নিখুঁততা আর স্নায়বিক চাপের এক অদ্ভুত সমন্বয়।
ডক্টরদের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠেছে, যদিও থিয়েটার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। তাদের আঙুলে হালকা কম্পন, তবুও পেশাদারিত্বের কঠোর আবরণে তা আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা।
অবশেষে, এক নিঃশ্বাসবিহীন মুহূর্তে প্রধান সার্জন ফোর্সেপ ধীরে ধীরে ক্ষতস্থলের গভীরতা থেকে প্রবেশ করালেন। কয়েক সেকেন্ড যেন অনন্তকালের সমান দীর্ঘ হয়ে উঠল। তারপর, সতর্ক নিপুণতায় তিনি গু’লিটিকে টেনে বের করলেন।
এক মুহূর্তের জন্য পুরো থিয়েটার নিস্তব্ধ। প্রধান সার্জনের চোখে বিস্ময় স্পষ্ট। তার পূর্বাশ’ঙ্কা ছিল গু’লি হয়তো হৃদপিণ্ডকে আ’ঘাত করেছে, যার ফলে পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়কর হতে পারত। কিন্তু যা দেখা গেল, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত যুক্তিকে যেন অস্বীকার করে।
সহকারী সার্জন হঠাৎ বিস্ফারিত চোখে বলে উঠল,
“এটা তো সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য, ডক্টর!”
প্রধান সার্জন নিজেও স্তম্ভিত। এতদিন তিনি কেবল পাঠ্যপুস্তক কিংবা গবেষণাপত্রে রেয়ার অ্যানোমালি বা মিরাকুলাস সারভাইভাল এর কথা পড়েছেন যা শতকরা এক ভাগেরও কম সম্ভাবনায় ঘটে। কিন্তু আজ, তার সামনে বাস্তব রূপে সেই বিরল ঘটনাই উপস্থিত। যা দেখছে তাতে সত্যি অবাক হচ্ছে। সত্যি আফরিদ এহসান সকলের থেকে আলাদা। সর্বদা নিজেকে আলাদা উপস্থাপন করে এসেছে।
গু’লিটি বুকের বাঁ পাশের মাত্র কয়েক মিলিমিটার পাশ দিয়ে সরে গিয়ে এমনভাবে অবস্থান নিয়েছিল, যা প্রাণঘা’তী হওয়ার কথা থাকলেও অদ্ভুতভাবে প্রধান অঙ্গগুলোকে অ’ক্ষত রেখেছে। যেন অদৃশ্য কোনো শক্তি মৃ’ত্যুর দুয়ার থেকে তাকে সামান্য দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এবং আরো একটি রহস্যময় ঘটনা ঘটেছে যা তাদের বাধ্য করেছে বিশ্বাস করতে।
দুই ঘণ্টাব্যাপী টানটান উত্তেজনার পর অপারেশন সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হলো। সার্জনদের মুখে ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু তার মাঝেও এক অদ্ভুত স্বস্তি।
অপারেশন থিয়েটারের বাইরে, নির্বাক প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন মাইমুনা এহসান, ইদ্রান ,ঈশান। রয়েছে অনেকগুলো গার্ড যারা বাইরেই অপেক্ষা করে চলেছে। ঈশান সবকিছু সামাল দিয়ে তবেই ভেতরে এসেছে । নয়তো বিজনেস টাইকুন আফরিদ এহসান গু’লিবিদ্ধ হয়েছে আর শ’ত্রুতা সুযোগের সদ্ব্যবহার করবে না তা কি হতে পারে?
মাইমুনা এহসান অস্থির হচ্ছেন প্রথম সন্তানের জন্য। তার দৃষ্টি দরজার উপর স্থির, অথচ চোখের গভীরে ঘূর্ণায়মান অস্থিরতা, ভয় আর অনিশ্চয়তা স্পষ্ট।
“আমার বেটাকে ওই অসভ্য মেয়েটা শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আমি একবার পৌঁছাই ছাড়ব না ওকে।আই উইল কি’ল ইউ ইলহাম।”
পুরো কথাটা শ্রবণ করল ঈশান। কোনো রকম প্রত্যুত্তর করল না সে।কেউ থুড়িই না কিছু করতে পারবে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনার। করলে তো একমাত্র আফরিদ এহসানই করবে!
হঠাৎ করেই অপারেশন থিয়েটারের দরজার উপরে লাল বাতিটি নিভে গেল।
সময়ের স্থবিরতা যেন ভেঙে পড়ল।
মাইমুনার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা আরও তীব্র হয়ে উঠল পরবর্তী মুহূর্তে কী সংবাদ অপেক্ষা করছে, তা জানার জন্য তার সমগ্র অস্তিত্ব।
ডক্টর বেরিয়ে এলেন, ভয়ে জর্জরিত কন্ঠে বললেন।
” operation was successful. patient is out of danger now.”
ভোরের আকাশে সূর্য উঠেছে। নতুন দিনের আগমনের বার্তা নিয়ে এসেছে সূর্য্যি মামা। নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে প্রখর তাপ ছড়াচ্ছে! এইতো রাতের হিমশীতল আবহাওয়াকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বলছে “আমি এসে গেছি এবার তুই ফুট শা’লা।”
কেবিনের অন্তঃস্থে শুয়ে একদৃষ্টিতে ছাদের দিকে চেয়ে আছে নিষ্ঠুর মানব। মোটা একটা স্থূলাকার সিগার ঠোঁটে গুঁজে ফুকে চলেছে সে। কে বলবে কাল পর্যন্ত সে মৃ’ত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল? সে এখন নির্লিপ্ত প্রশান্তিতে নিমগ্ন? এইতো জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে ডক্টরকে হুমকি ধামকি দিয়ে বলেছে ডিসচার্জ পেপার রেডি করতে নয়তো হসপিটালের ‘হ’ আর খুঁজে পাবেনা কেউ!
অগত্যা বাধ্য হয়েই ডক্টরটা তাকে ডিসচার্জ দেবে বলে ঠিক করেছে!
ঈশান ভেতরে এলো, আফরিদকে দেখা মাত্রই উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞাসা করল।
“বস, আপনি ঠিক আছেন?”
আফরিদ পার্শ্বদৃষ্টি নিক্ষেপ করল ঈশানের দিকে। কিছু একটা স্মৃতির উন্মেষিত হতেই তার কন্ঠস্বর গম্ভীর ,গর্জনময় হয়ে উঠল,
“এদিকে আয় তো ঈশান।”
ঈশান কোনোরূপ প্রশ্ন না করেই আফরিদের সন্নিকটে এগিয়ে গেল। বেডের কাছাকাছি যেতেই আচম্বিতে তার হাত খামচে ধরে আফরিদ। মুচড়ে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,
“এই হাতেই তুই ওকে কোলে নিয়েছিলি তাই না?”
হকচকালো ঈশান। আতংক স্তম্বিত হয়ে গেল। কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। এইজন্যই বুঝি তাকে ডেকেছে? যাহ্ বাবা সে তো ফেঁসে গেল। এরূপ পরিস্থিতিতে আকস্মিক বিহ্বল হয়ে কাঁপা গলায় বলল,
“ব..বস আমি.. আমি তো ম্যামকে বাঁচাতে কোলে নিয়েছি। বিশ্বাস করুন আমার অন্যকোনো ইনটেনশন ছিলো না।”
আফরিদের চোখে ক্রো’ধের জ্বা’লায় প্রজ্বলিত অগ্নিশিখার মতো প্রখর হয়ে উঠেছে। কপালের শিরাগুলো নীলাভ স্ফীততায় স্পন্দিত । তীব্র ক্রোধ নিয়ে নিস্প্রভ কন্ঠে বলে উঠে,
“তবুও তুই কোলে নিয়েছিস।”
ঈশান বুঝে উঠতে পারল না কি করবে! পরিস্তিতি সামাল দিতে ব্যর্থ অসংলগ্নভাবে বলল,
“ববববস হাতের কিছু হলে তিতলি আমাকে বিয়ে করবে না!”
আফরিদ। হঠাৎ করেই তার হাতটি মুক্তি দিলো। পুনরায় সিগারেটে আসক্ত হয়ে ধোঁয়া নির্গত করতে করতেই তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,
“তোর ক্যারেক্টার এত ঢিলা কেন?”
ঈশানের ওষ্ঠোদ্বয় কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে এলো। বিস্ময় আর বিরক্তির মিশ্রণে অনিচ্ছাকৃত ভাবে মুখ ফসকে ছেলেটা বলে উঠল,
“আপনি করলে রাশলিলা ,আর আমি করলে ক্যারেক্টার ঢিলা?”
এই কথাতে আফরিদের দৃষ্টি দহনশিখার ন্যায় প্রজ্বলিত হয়ে উঠল। পরিস্তিতির তীব্রতা অনুভব করতেই ঈশান ছিটকে দূরে সরে এলো নতুবা আফরিদ ক্রো’ধোন্মত্ত হয়ে নিঃশেষে ধ্বং’স করত।
“একবার উঠি তারপর তোর হাত বডি থেকে আলাদা করব।”
হতাশ ফলো ঈশান। প্রত্যুত্তর বক্ষ হতে ওই হতাশার তপ্ত নিঃশ্বাস টুকুই নির্গত হলো। আপন মনে বিড়বিড় করে,
“বউয়ের হাতে গু’লি খেয়েও শিক্ষা হলোনা!”
“ও কোথায়?”
ঈশান ঠিক বুঝল আফরিদ কার কথা জিজ্ঞেস করছে! মৃদু স্বরে বলশ,
“ম্যাম কে এখানে আসতে দেয়নি বড় ম্যাডাম। খুব রেগে আছেন উনি। ইলহাম ম্যাম খুব কান্নাকাটি করছিলেন!”
অচিরেই হাসলো আফরিদ। নিদারুণ ভঙ্গিতে কপাল ঘষে বলে,
“Foolish woman, I will not let you go so easily.”
“তোমার তো লজ্জা হওয়া উচিত। শেইমলেস গার্ল!”
কল্পনার কটাক্ষ করে বলা একেকটি মন্তব্য মুখ বুঁজে সহ্য করছে ন্যান্সি। কোনোরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। দুপুর দুইটা ছুঁই ছুঁই। সে একটিবারের জন্যও আফরিদকে দেখতে পায়নি। লোকটার অপারেশন হয়েছে,লোকটা এখন ঠিকঠাক কিন্তু তবুও নারীসুলভ সত্ত্বা ভীত হয়ে আছে। যতক্ষন না সচক্ষে লোকটাকে দেখবে ততক্ষন তা প্রশমিত হবে না।
স্মাইলি একপাশে চুপ করে স্থবির ন্যায় দন্ডায়মান। এই মহিলার বাচনভঙ্গি মোটেও পছন্দ হচ্ছেনা।
ন্যান্সির এহেন নির্লিপ্ত স’হ্য হলোনা কল্পনার। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে একনাগাড়ে বলেই যাচ্ছে,
“আজকে যদি আফরিদ ভাইয়ার কিছু হয়ে যেতো তবে? গড নোস তুমি ওনাকে শেষ করতে আর কি কি করবে!”
এতক্ষণে প্রতিক্রিয়া দেখালো ন্যান্সি। সটান দাড়িয়ে পড়ল বিছানা ছেড়ে। কিছু একটা খুঁজতে উদ্ধত হয়। তিতলি বুঝল না কি খুঁজে চলেছে ন্যান্সি। অকস্মাৎ সকলকে অত্যাশ্চর্য করে বলে ওঠে,
“কাঁচি কোথায় তিতলি?এই মহিলার জিভ খুব চলে।আজ ওনার জিভ কেটে ফেলবো আমি। আমাকে কাঁচি এনে দাও এখুনি।”
সর্বাঙ্গ অসাড় হয়ে এলো কল্পনার। দু’হাতে মুখ চেপে ধরল। এ মেয়ে বলে কি? স্বামী একবার হুমকি দেয় আর স্ত্রী সোজা জিভ কাটতে চলে আসছে?
এবার তো তাকে জিভ গোপন সিন্দুকে লুকিয়ে রাখতে হবে, যখন প্রয়োজন দুটো কথা শুনিয়ে আবারো সিন্দুক বন্দী করে লুকিয়ে রাখবে।
চলবে………..।😒
(📌 পর্বটা বড় তাই দুভাগে দেব। বাই দ্য চৌরাস্তা বলুনতো ডক্টর কেন বিস্মিত হয়েছে?এমন কি জানতে পেরেছে যার জন্য এতটা অবাক?)
আমার আইডি Farhana Nijum
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৫ শেষ অর্ধেক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮ {প্রথম অর্ধেক}