Golpo romantic golpo অবাধ্য হৃৎস্পন্দন

অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৬৭


সোফিয়া_সাফা

ফিরে দেখা অতীত <৪>

উদ্যান তখন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে স্মোকিং করছিল। সোহম এসেছে শুনে সে দরজা খোলার হুকুম দিল। সোহম ভেতরে এসে উদ্যানের পাশে দাঁড়াল।

“পেইনফুল ম’রে গেলে তুই অনেক শান্তি পাবি তাইনা তেহ? আচ্ছা ও ম’রে গেলে তোর কী এমন লাভ হবে বলতে পারিস? আঙ্কেল সুস্থ হয়ে যাবে? যাবেনা তো।”

উদ্যান পকেটে একহাত গুজে সিগারেটের ধোঁয়া ওড়াতে ওড়াতে বলল, “আমার কোনো লাভ হবে না। তাই তো আমি ওকে মা’রছি না। যদি ওর মৃত্যুতে বাবা সুস্থ হয়ে যেতো তাহলে আমি কবেই ওকে মে’রে ফেলতাম।”

“তুই ওকে মে’রে ফেলেছিস তেহ।”

উদ্যান ভ্রু কুচকে তাকাল। সোহম নিচু গলায় বলল, “ও ভেতর থেকে অল্রেডি ম’রে গেছে। এই ধরনের মানুষদের জন্য নিঃশ্বাস নেওয়াটাও কষ্টকর হয়ে যায় তেহ। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। প্রতিটা নিঃশ্বাসের সাথে ও যন্ত্রণা অনুভব করছে। এতোটা কষ্ট বোধহয় কাউকে আগুনে পুড়িয়ে মারলেও অনুভব করেনা।”

উদ্যান চোখ বুজে নিলো। এক মুহূর্তের জন্য তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। তারপর নির্বিকার কণ্ঠে বলল, “আমি কি করতে পারি?”

“তুই ওর প্রতি একটু সদয় হ, ওকে নিয়ে চল নিজের সাথে। মেয়েটা তো আর বেশি কিছু চাইছে না। শুধু এটুকু তো করতেই পারিস?”

উদ্যান এবার সিগারেটটা হাতের মুঠোয় পিষে ফেলল। সে স্থির দৃষ্টিতে সোহমের দিকে তাকাল। সোহম আজ দৃষ্টি নামিয়ে নিল না। বরং একবুক আকুতি নিয়ে ধরা গলায় বলল, “প্লিজ তেহ, নিয়ে চল ওকে।”

“ওকে নিয়ে যাবো, বাট হোয়াই? একটা কারণ দেখা।”

“ও ম’রে যাবে।”

“যাক, ও ম’রে গেলে আমার কী? তুই কি প্রমাণ করতে চাইছিস ওর প্রতি আমার দুর্বলতা আছে?”

“তুই যদি ওর মৃত্যুই চাইতি তাহলে কেন এইপর্যন্ত বারবার বাঁচিয়েছিস ওকে?”

“আমি চাইনি আমাকে ভালো না বেসেই ও ম’রে যাক। আমি ওর দম্ভ ভাঙতে চেয়েছিলাম। সেটা পেরেছি। ও আমাকে ভালোবেসে আমার নামের কলঙ্ক নিয়ে ম’রে যাক এখন। আই ডোন্ট কেয়ার।”

সোহম বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। উদ্যান আদৌ মানুষ তো? এই নির্দয় দানবটার সাথে তারা কী করে এতোগুলো বছর কাটিয়েছে? এর আগে তো কখনো উদ্যানকে খারাপ বলে মনে হয়নি ওর, তবে আজ কেন মনে হচ্ছে?

সোহম ব্যালকনি থেকে বেরিয়ে দরজা খুলে চলে যেতে নেবে তখনই দেখল দরজার পাশে থাকা এন্ট্রি বেঞ্চের ওপর কতোগুলো ড্রাগস পড়ে আছে। সোহম সেগুলো দেখে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেল। সে সেগুলো হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখল। চেহারায় কাঠিন্যভাব ফুটে উঠল তার। প্যাকেট গুলো নিয়ে চলে গেল উদ্যানের সামনে।

“এগুলো কী তেহ? তুই এগুলো দিয়ে কী করছিস?”

উদ্যান তার হাত থেকে প্যাকেট গুলো ছিনিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে নিল, “কিছু না।”

সোহম চিৎকার করে উঠল, “তেহ, আর ইউ আউট অফ ইয়োর মাইন্ড? তুই খুব ভালো করেই জানিস…”

“হ্যাঁ আমি জানি এগুলোতে খুব সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ে মানুষ। আর সেই জন্যই এগুলো আমার প্রয়োজন। প্রবাদে বলে না, কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে হয়? এগুলো দিয়ে আমি সেটাই করব।”

সোহম আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, “তেহ, প্লিজ নাহ। তুই দিয়ে দে ওগুলো আমাকে।”

“তুই অর্ডার করছিস আমাকে? যা এখান থেকে।”

সোহম ঘাবড়ে গেল, “তেহ, তুই এমনটা করতে পারিস না। তেহ, কী হয়েছে বল আমাকে।”

“কিছুই হয়নি। যা সোহম।”

“তুই আমাদের কথাও ভাববি না? আমরা তোর ওপর কতোটা নির্ভরশীল তুই জানিস না বল?”

উদ্যান সোহমকে ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিল। তার স্বরে নেমে এল এক ধরণের নিঃস্পৃহতা। “স্বনির্ভর হতে শেখ সোহম। আমি আর তোদের ভার বহন করতে পারছি না। আই অ্যাম ডান।”

সোহমের চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল। উদ্যান তাকাল না তার দিকে। সোহম আবারও এগোতে নিলে উদ্যান হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল। “সল, প্লিজ লিভ মি অ্যালোন।”

সোহমের হাতপা বেঁধে দেওয়ার জন্য এই একটা কথাই যথেষ্ট ছিল। সে চোখ মুছে বেরিয়ে গেল উদ্যানের রুম থেকে। সে বেরিয়ে যেতেই উদ্যান পকেট থেকে একটা প্যাকেট বের করল। সেটার মধ্যে ছিল ধবধবে সাদা পাউডার। সে উদাসীন চোখে সামনে তাকিয়ে প্যাকেটে টা ছিঁড়ে রেলিঙের উপর ঢেলে দিল পুরোটা। তারপর ঝুকে গিয়ে গভীর এক নিঃশ্বাসের সাথে টেনে নিলো সেগুলো।

লুহান নিজের রুমে বসে ব্যাগ গোছাতে ব্যস্ত ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সোহম ঝড়ের বেগে ভেতরে ঢুকে রুদ্ধস্বরে বলল, “লুহান, তেহ… তেহ ড্রাগস নিচ্ছে।”

লুহান হাতের কাজ থামিয়ে দিল। অবিশ্বাসের সুরে সে শুধাল, “কী বলছিস এসব?”

সোহম শুকনো ঢোক গিলে বলল, “হুম, আমি সত্যিই বলছি। আমার মনে হচ্ছে ও বড়সড় কোনো সমস্যায় ভুগছে।”

লুহান সোহমকে ধরে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিল। তারপর একগ্লাস পানি ধরিয়ে দিয়ে বলল, “রিল্যাক্স সোহম।”

সোহম নিজেকে ধাতস্থ করে বলল, “কী করবো আমরা?”

“তেহ ড্রাগস নিচ্ছে? ও যেখানে নিজেই এই ব্যাপারে বারবার আমাদেরকে সতর্ক করে সেখানে ও সেসব ভুলে গিয়ে এমন কিছু করছে?”

“হুম, আমার মনে হচ্ছে ও ঠিক নেই।”

“যাই হোক, এখনই কিছু বলা যাবেনা। আগে ওকে অবজার্ভ করতে হবে৷”

সোহম মাথা নেড়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাবে তার আগেই ফুলের কথা মনে পড়ে গেল। সোহম তড়িঘড়ি করে নিজের রুমে ছুটে এল। ড্রয়ার থেকে এক পাতা স্লিপিং পিল বের করে একটা ট্যাবলেট সাবধানে কেটে নিল সে। তারপর হাঁটা ধরল ফুলের রুমের উদ্দেশ্যে।
,
,
,
বালতি ভর্তি পানির মধ্যে মুখ ডুবিয়ে বসে ছিল ফুল। বেশ অনেকক্ষণ ধরে সে বারবার এমনটাই করে যাচ্ছে। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে তার কান সজাগ হয়ে গেল। পানি থেকে মুখ তুলে তাড়াহুড়ো করে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিল। ঠান্ডায় তার হাতপা কাঁপছে। তবুও তার অবচেতন মন ধরেই নিল উদ্যান এসেছে। যদিও মস্তিষ্ক বাচবিচার করে জানাল, উদ্যান কখনো নক করে না; কিংবা ফুলের দরজা খোলার অপেক্ষাতেও থাকে না।

কাঁপা কাঁপা হাতে দরজা খুলে বাইরে উঁকি দিতেই সোহমের প্রতিমূর্তি নজরে এল। ফুলের রক্তিম চেহারা দেখে সোহম ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ফুল মাথার ওড়নাটা আরেকটু টেনে নিয়ে প্রশ্ন করল, “কিছু বলবেন, সোহম স্যার?”

সোহম নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে ট্যাবলেট টা ফুলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “এটা স্লিপিং পিল। একটা খেলে প্রায় পনেরো ঘন্টা ঘুমাতে পারবে। খুব বেশিই খারাপ লাগলে খেয়ে নিও এটা। ভুলেও উল্টো পাল্টা কিছু করার চিন্তা মাথায় এনো না। সময়ের সাথে সাথে সব ক্ষতই শুকিয়ে যায়। তেমনি এই খারাপ সময় গুলোও পেরিয়ে যাবে। মনে রেখো, অন্ধকার যত বেশি ঘন হয় ভোরের আলো ততো বেশিই সন্নিকটে। আর কারো জন্য না হোক নিজের জন্য বেঁচে থাকো।”

ট্যাবলেট টা হাতে নিয়ে ফুল প্রাণহীন কণ্ঠে বলল, “ধন্যবাদ সোহম স্যার, কিন্তু আমি নিজেই আর নিজের নেই। আমি নিজেকে ওনার হাতে তুলে দিয়েছিলাম।”

সোহম দম নিয়ে বলল, “তোমার আল্লাহ নিশ্চয়ই বেঁচে থাকার কোনো না কোনো কারণ জোগাড় করে দেবে তোমায়। তার ওপর ভরসা রাখো, হাল ছেড়ে দিও না। কিপ ফাইটিং!”

ফুল হালকা ভাবে মাথা নেড়ে ভেতরে চলে যেতে নিল তখনই সোহম তাকে পিছু ডাকল, “ফুল শোনো…”

ফুল পিছু ফিরল। মৃদুস্বরে বলল, “যাক একবার অন্তত আমার নাম ধরে ডাকলেন তবে।”

কথাটা শুনে সোহম ভুলে গেল সে কী বলতে চেয়েছিল। উঁহু ঠিক ভুলে যায়নি, শুধু কীভাবে বলতে চেয়েছিল সেটা ভুলে গেছে। ফুল শোনার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে ঠোঁট নাড়ল, “বলুন?”

সোহম জোরপূর্বক হেসে মাথা নাড়ল। থাম্বস আপ করে বলল, “গুড নাইট! হ্যাভ বিউটিফুল ড্রিমস।”

“ধন্যবাদ।”

সোহম কথা হারিয়ে ফেলে উলটো ঘুরে ত্রস্ত পায়ে উপরে চলে গেল।

ফুল আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল উদ্যানের। তার অবুঝ মনটা বারবার বলে যাচ্ছে উদ্যান আসবে তার কাছে। ফুল উপলব্ধি করতে পারল তার মনের বলা কথা সত্যি হবে না। তাই সে এক চুমুক পানি নিয়ে স্লিপিং পিলটা পাতা থেকে বের করতে উদ্যত হলো, তখনই সেটা বের হয়ে কোনো একদিকে ছিটকে পড়ল। পুরো রুম তন্নতন্ন করে খুঁজেও ফুল পিলটা আর খুঁজে পেল না। চরম হতাশায় তার শরীরে অশান্তি শুরু হলো।
সে ধুপধাপ পা ফেলে ওয়াশরুমে গিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো মাথা নিচু করে পানি ঢালতে শুরু করল। এর ফলে তার জামাকাপড় ভিজে গেল প্রায়।
সে সেভাবেই বের হয়ে টলতে টলতে অগ্রসর হলো ওয়ার্ডোবের দিকে। ড্রয়ার খুলতেই উদ্যানের দেওয়া সেই ব্লেজার টা চোখে পড়ল। ফুল হয়তো আনমনেই এই ড্রয়ারটা খুলে ফেলেছে। চুল বেয়ে টুপটুপ করে পানি ঝরে পড়ছে তার। শীতের চোটে শরীর শিউরে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। ফুল ব্লেজারটা গায়ে জড়িয়ে সেটায় থাকা ঘ্রাণ শুষে নিতে লাগল নিঃশ্বাসের সঙ্গে।
রুমে ডিম লাইট জ্বলছিল আগে থেকেই। ওয়াশরুমের দরজা খোলা থাকায় দরজার ফাঁক গলে ওয়াশরুমে জ্বলতে থাকা শুভ্র লাইটের আলো রুমের মেঝেতে লম্বা ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

হঠাৎ ফুলের মনে হলো কেউ তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। সে ঘুরে তাকাতেই উদ্যানকে দেখে খুশি হয়ে গেল। “আপনি এসেছেন?”

উদ্যান প্রত্যুত্তর করল না শুধু ফুলের ওড়নাটা নিয়ে তার চুল মুছে দিতে লাগল।

“ছোটবেলায় তো আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তবে এখন কেন চাইছেন না?”

উদ্যান এবারও নিশ্চুপ রইল। ফুল হঠাৎই ওড়নাটা টেনে নিয়ে খপ করে উদ্যানের হাত আঁকড়ে ধরল। তার হাতের কবজিতে ওড়নাটা প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে আবেগঘন কণ্ঠে গাইল,
“আঁচলে বান্ধিয়া রাখিবো গো তোমারে।
আঁচলে বান্ধিয়া রাখিবো…
চোখেরও কাজল করিবো গো তোমারে।
চোখেরও কাজল করিবো…”

আচমকাই ফুল দেখল উদ্যান সামনে থেকে মিলিয়ে গেছে। সে এদিক ওদিকে তাকিয়ে খুঁজতে লাগল উদ্যানকে। “কোথায় গেলেন?”

আশেপাশে এলোমেলো চোখে তাকাতেই ফুলের নজরে এলো উদ্যান দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে দৌঁড়ে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল। উদ্যানের দিকে তাকিয়ে ম্লান হেসে আক্ষেপের সুরে গাইল,
“এই পৃথিবী ছেড়ে কখনো যদি
তোমার আগে চলে যাই…
মৃত্যুর ওপারে তখনো কী গো
তোমারই বুকে দেবে ঠাঁই?”

উদ্যান আবারও মিলিয়ে গেল দৃষ্টির অগোচরে। ফুলের আর বুঝতে বাকি রইল না যে তার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। উদ্যান আসেনি তবুও সে তাকে মনের খেয়ালে দেখতে পাচ্ছে। ফুলের মনটা ভেঙে গেল। সে ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে মেঝেতেই শুয়ে পড়ল।

কাঁদতে কাঁদতেই ফুলের চোখ লেগে এসেছিল। তখনই সে অনুভব করল। কেউ একজন তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে। সে ধড়ফড়িয়ে উঠে চোখ মেলতেই অবয়ব দেখে বুঝে গেল যে এটা উদ্যান। তার মনে হলো সে হয়তো ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখছে। তবুও সে উদ্যানের বুকে সিটিয়ে গিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখল। এই ভয়ে যে হয়তো চোখ খুললেই তার স্বপ্ন ভেঙে যাবে।

“ফ্লাওয়ার, শুনছিস?” উদ্যানের ভারী কণ্ঠ শুনে ফুল সম্মোহনী সুরে উচ্চারণ করল, “হুমমম।”

“একটা মানুষের বাচ্চার মনস্টার হয়ে ওঠার গল্প শোনাবো তোকে আজ। শুনবি?”

ফুল ভীতিগ্রস্ত হয়ে ফোঁপাতে লাগল। উদ্যান তাকে সময় দিল। মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে বলল, “একটু শক্ত হয়ে শুনবি তো নাকি? বলার আগেই এমন করলে কীভাবে হবে?”

“বলুন… আমি শুনছি।”

উদ্যান ফুলকে কোলে নিয়ে খাটে গিয়ে শুয়ে পড়ল। গায়ে কমফোর্টার টেনে ফুলকে আবারও বুকে টেনে নিল। ফুল পুরোটা সময় চোখ বুজেই রইল।

“শোন তাহলে।”

অতীত…

তাশরিফ খানজাদার অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার পরপরই খানজাদা নিবাস যেন উদ্যানের জন্য নরকে পরিনত হয়েছিল। মাহবুবা সুলতানা উঠেপড়ে লেগেছিলেন তাকে দূরে পাঠিয়ে দিতে। উদ্যান যখন জানতে পারল তাকে মেক্সিকো পাঠিয়ে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে তখন উদ্যান প্রতিক্রিয়া দেখাল,
“আমি কোথাও যাবোনা, কেন আপনি আমাকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে চাইছেন? আমার বাবা হসপিটালে ভর্তি, তাকে নিয়ে না ভেবে আপনি আমাকে নিয়ে অস্থির হয়ে পড়েছেন কেন? আমি কি আপনাকে বিরক্ত করেছি? অসম্মান করেছি কখনো?”

মাহবুবা সুলতানা বললেন, “উদ্যান, আমি তোমার ভালোর জন্যই তোমাকে সেখানে পাঠাতে চাইছি। ওখানে আমার বোন আছে। তোমার থাকা খাওয়ায় কোনো সমস্যা হবেনা।”

“ওহ আচ্ছা বুঝলাম এখানে আমার থাকা খাওয়া নিয়ে আপনাকে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে? ওকে ফাইন, আপনিই ভেবে দেখুন আমার বাড়িতেই যদি আমার থাকা খাওয়া নিয়ে সমস্যা হয় তবে অন্য জায়গায় সেই সমস্যাটা কি আরও বেশি হওয়ার কথা নয়?”

মাহবুবা সুলতানা চুপ হয়ে গেলেও পাশ থেকে রেহানা বেগম বললেন, “তোমার থাকা খাওয়া নিয়ে কোথাও কোনো প্রবলেম হবে না উদ্যান। কী নিয়ে হবে জানো? তোমার বিহেভিয়ার নিয়ে। তুমি সবসময় এমন ভাব করো যেন তোমার দয়ায় বেঁচে আছি আমরা।”

উদ্যান অবাক হয়ে গেল তার কথা শুনে, “আমি কখনো আপনাদের সাথে খারাপ বিহেভ করেছি বলে তো আমার মনে পড়ছে না। আপনারা কেন আমাকে ব্লেইম করছেন? আর আপনি, হ্যাঁ আপনিই বলে দিন যে আপনার সাথে আমার কেমন বিহেভ করা উচিত।”

রেহানা বেগম তিক্ত গলায় বললেন, “আমি কী বলবো? তোমার মা তো তোমাকে আদব কায়দা কিছুই শেখাতে পারে নি। কথাই তো বলতে পারতো না সে, তার ওপর ছিল আবার গণ্ডমূর্খ।”

উদ্যান তার কথায় প্রভাবিত হলোনা একটুও। বরং শ্লেষাত্মক কণ্ঠে বলল, “যেই শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে আপনি বড়াই করছেন সেই শিক্ষা টুকুও আমার বাপ-দাদার বদৌলতে অর্জন করতে পেরেছেন। একেই বলে—বাইটিং দ্য হ্যান্ড দ্যাট ফেড ইউ।”

রেহানা বেগম চরম ক্ষুব্ধ হয়ে গেলেন। কোলে থাকা ফুলকে সোফায় আবেশের পাশে বসিয়ে রেখে তেড়ে গেলেন উদ্যানের দিকে। তাকে ধাক্কা দেওয়ার জন্য হাত ওঠাতেই সে ধরে ফেলল তার হাত, “আমাকে মে’রেই দেখুন। আমি সোজা গিয়ে থানায় রিপোর্ট করে আসবো আপনাদের নামে।”

মাহবুবা সুলতানা গিয়ে রেহানা বেগমকে টেনে আনলেন। কানে কানে বললেন, “গায়ে হাত তুলতে যেয়োনা। হিতে বিপরীত হয়ে যাবে।”

“হ্যাঁ ভালো করে বুঝিয়ে বলুন ওনাকে।” বলেই উদ্যান নিজের রুমে চলে যেতে নিল তখনই মাহবুবা সুলতানা পেছন থেকে বললেন, “আমি তোমার সাথে খারাপ করতে চাইনা উদ্যান। তুমিও আমাকে বাধ্য কোরো না। যদি মেক্সিকো যেতে রাজি না হও তাহলে তোমার খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে স্কুল, কোচিং সব বন্ধ হয়ে যাবে।”

কথাটা উদ্যান চুপচাপ শুনে রুমে চলে গেল। সারাটাদিন বিছানায় শুয়েই কাটলো তার। চোখ বন্ধ করতেই মায়ের মুখ ভেসে উঠল। সেই প্রথম মায়ের কাছে অভিযোগ করল উদ্যান, “আমাকে এভাবে ফেলে রেখে যাওয়া ঠিক হয়নি মা। আমাকেও নিয়ে যেতে পারতেন নিজের সাথে। আমার কেমন যেন নিঃশ্বাস আটকে আসে যখন কেউ আপনাকে নিয়ে বাজে কথা বলে। ইচ্ছে করে তার জবান বন্ধ করে দিই। শুধুমাত্র বাবার কথা ভেবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখি। আমি না থাকলে তার কী হবে? কেউ তো তাকে দেখতেও যায়না। তিনি ম’রে গেলেই বোধহয় ভালো হবে তাদের।”

কেটে গেল মাসখানেক। উদ্যান বুঝতে পারল দেশের বাইরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই তার। মেক্সিকো যাওয়ার সব ব্যবস্থা করা হয়ে গেছে। সে সবেমাত্র ব্যাগপত্র গুছিয়ে রেখে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছিল। তখনই ভেসে এলো আবেশের কণ্ঠ।

“ভাই…য়া।” হঠাৎ তার কণ্ঠ শুনে উদ্যান একবার দরজার দিকে তাকিয়ে পুনরায় চোখ বন্ধ করে ফেলল, “আমার নাম তেহজিব; ভাইয়া নয়। কতোবার বলে দিতে হবে?”

আবেশ খাটের পাশে এসে দাঁড়াল। সবে আট বছরে পা দিয়েছে সে। ছেলেটা তার হাতের ওপর হাত রেখে বলল, “সরি ভাইয়া।”

উদ্যান হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, “আরেকবার ভাইয়া বললে আমি খুব রেগে যাবো। তারপর কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে বিচার দিয়েও লাভ হবেনা।”

আবেশ চুপ হয়ে গেল। উদ্যান উঠে বসে বলল, “কী চাই?”

আবেশ মাথা নিচু করে আঙুল খুঁটতে খুঁটতে বলল, “মম বলল, তুমি নাকি বেড়াতে যাবে। সত্যিই চলে যাবে?”

“হুম, সত্যিই যাবো। তো?”

“তোমার রঙ পেন্সিল গুলো দিয়ে যাবে আমায়?”

উদ্যান বিনাবাক্যে উঠে গিয়ে লাগেজ থেকে রঙ পেন্সিল গুলো বের করে দিয়ে দিল। যতো তাড়াতাড়ি তাকে বের করে দেওয়া যায় আরকি!
পেন্সিল গুলো হাতে পেয়ে আবেশ মহাখুশি। “ধন্যবাদ ভাই… না মানে তেহজিব।”

“হুম, এবার তুমি যেতে পারো।”

আবেশ দরজার দিকে পা বাড়াতেই উদ্যান আনমনেই প্রশ্ন করল, “তুমি ওগুলো দিয়ে কী করবে?”

আবেশ উৎফুল্ল মেজাজে ফিরে তাকিয়ে বলল, “ফুলের ড্রইং করবো।”

উদ্যানের ভ্রু কুচকে গেল, “কোন ফুলের?”

“বোনফুলের।”

উদ্যান একটু ইতস্তত করে তার দিকে ঝুঁকি গিয়ে বলল, “ওকে, ওগুলো যত্ন করে রেখে দিও আমি ফিরে এলে দিয়ে দেবে আমাকে। ঠিক আছে?”

আবেশ মাথা নাড়ল, “হুম ভাই… না মানে তেহজিব।”

“যেভাবে রেখে যাচ্ছি সেভাবেই ফিরিয়ে দেবে, নইলে কিন্তু আমি খুউব রেগে যাবো।”

আবেশ শুকনো ঢোক গিলে দৌঁড়ে বেরিয়ে গেল। পরপরই উদ্যান গিয়ে দাঁড়াল জানালার সামনে। সেখান দিয়ে মা-বোনের কবরের দিকে তাকিয়ে আপনমনেই আওড়াল, “মা, আমি চলেই যাচ্ছি। ওরা আমাকে আপনাদের কাছে থাকতে দিল না। আপনারা কি আমাকে মিস করবেন? আমি আপনাদেরকে খুব মিস করবো।”
,
,
,
উদ্যান মেক্সিকোতে এসেছে আজ প্রায় এক বছর। আবেশের মেজো খালা মার্জিয়া বেগম স্বামীর সাথে মেক্সিকোতে এসেছেন বিয়ের পরপরই।
উদ্যান এখানে আসার পর থেকেই যেন সে মার্জিয়া বেগমের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে। অগণিত বার উদ্যানকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন, উদ্যান তবুও সব সহ্য করে পড়ে আছে তাদের বাড়িতেই। ছেলেটা আর যাবেই বা কোথায়? এই দেশে সে চেনেই বা কাকে? মার্জিয়া বেগমকে দেখার পর উদ্যান বুঝেছে মাহবুবা সুলতানার চেয়েও সে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তারা অন্তত তার গায়ে হাত তোলেনি কখনো। কিন্তু মার্জিয়া বেগম কথায় কথায় হাত তুলে ফেলে। যদিও উদ্যানের সাথে সে সহসাই পেরে ওঠেনা। যেদিন উদ্যান তাকে প্রতিরোধ করতে যায় সেদিনই সে অসম্মানের ছুতোয় তার খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয়। তারপর স্বামী কাজ থেকে ফেরা মাত্রই গিয়ে তার কাছে নালিশ করে।

“শুনছো সুনেরার বাপ? ওই হারামজাদাটা আজ আবারও আমার হাত মুচড়ে ধরেছিল। তুমি এর বিচার করো।”

সুনেরার বাবা এমনিতেই অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত ছিলেন। অফিসের কিছু জটিলতার কারণে তার মুড আগে থেকেই খারাপ ছিল। সে গায়ের কোটটা খুলে ফেলে লাঠি নিয়ে এগিয়ে গেলেন উদ্যানের রুমের দিকে।
উদ্যান রুমে বসেই মার্জিয়া বেগমকে বিচার দিতে শুনেছে। তাই ঘরের এককোনায় গুটিসুটি মেরে বসে রইল। ছেলেটা খুব ভয় পায় লোকটাকে। সুযোগ পেলেই লাঠি নিয়ে তেড়ে এসে জমে থাকা সব রাগ উগরে দেয় তার ওপর। উদ্যান বুঝতে পারল আজও তেমন কিছুই হবে। সুনেরার বাবা দরজা ঠেলে খুব সহজেই রুমে ঢুকে পড়লেন। বলাবাহুল্য যে উদ্যানের রুমের দরজায় কোনো লক করার সিস্টেম নেই।

লোকটাকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে উদ্যান শূন্য চোখে তাকাল।
“উনি আমাকে মারতে এসেছিলেন সেই জন্যই ভুলবশত ওনার হাতে ব্যাথা পেয়েছেন, সরি। আমি আর করবো না।”

লোকটা হাসলেন, “ভুল করলে শাস্তি পেতে হয়। এগিয়ে এসো।”

উদ্যান হাঁটুতে ভর দিয়ে তার সামনে এসে বসে পড়ল। বলা চলে সে এসবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রথম প্রথম খুব ব্যাথা অনুভব করতো সে, কিন্তু আস্তে আস্তে ব্যাথা গুলো সয়ে গেছে তার শরীরে।
উদ্যানকে মারধর করে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন সুনেরার বাবা। দেখলেন, উদ্যান ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে গেলেও তার চোখে জল নেই। এটা আজ নতুন নয়। সে কখনো কাঁদতে দেখেনি ছেলেটাকে। তবুও আজ তার খুব রাগ উঠল।
“তুমি কাঁদছো না কেন? ব্যাথা পাওনি?”

উদ্যানের চোখ টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। পানির জন্য হাঁসফাঁস করছে ছেলেটা।
“একটু… পানি দিন।”

লোকটা শয়তানি হাসলেন। পানির বোতলটা হাতে নিয়ে বললেন, “কেঁদে কেঁদে পানি চাও তবেই পানি পাবে।”

উদ্যানের মনে হতে লাগল কেউ তার গলা চেপে ধরেছে। সে কাতরাতে লাগল। কান্না করার চেষ্টা চালালো খুব; তবুও তার চোখ দিয়ে পানি বের হলো না।

“আমার চোখে পানি নেই কিন্তু বিশ্বাস করুন… আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, তেষ্টায় গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে। একটু পানি দিন। দরকার হলে আরও মা`রুন তাও একটু পানি দিন।”

উদ্যানের মুখাবয়ব বিভৎস রকমের লাল হয়ে গেল। হঠাৎ কেন তার এতো পিপাসা পেয়েছে সে জানেনা। তখনই মনে পড়ে গেল তাকে কয়েকদিন ধরে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি। সে প্রতিদিন ওয়াশরুমের কল থেকে পানি খেলেও আজ সে সেটাও ভুলে গিয়েছিল। সুনেরার বাবা বাড়িতে ফেরার আগে ড্রিংকস করেছিলেন। তাই উদ্যানকে তড়পাতে দেখেও তার মনে একটুও মায়ার উদয় হলো না। সে বোতলের ছিপি খুলে নিজে সবটুকু পানি খেয়ে বোতলটা উদ্যানের মুখের ওপর ছুড়ে মারল।

উদ্যান উদ্ভ্রান্তের মতো সেটায় পানির তালাশ করল কিন্তু একফোঁটা পানিও অবশিষ্ট ছিল না। সে কোনোমতে শরীরটাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল ওয়াশরুমে যা দেখে সুনেরার বাবা নিজের মেজাজ খুইয়ে ফেললেন। উদ্যানের হাতটা ধরে টেনেটুনে নিয়ে এলেন রুমের বাইরে। মার্জিয়া বেগম ড্রইংরুমে বসে ছিলেন। সুনেরাও বসে বসে কার্টুন দেখছিল টিভিতে।

মায়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে দরজার দিকে তাকাতেই সুনেরার শরীর শিউরে উঠল। ছয় বছরের বাচ্চা মেয়েটা যখন দেখল, উদ্যানকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন সে গলা ফাটিয়ে কেঁদে উঠল। উদ্যান শুধু আধো খোলা চোখে কান্না অনুসরণ করে একবার তাকাল তার দিকে। মানসপটে ভেসে উঠল ফুলের প্রতিচ্ছবি।
মার্জিয়া বেগম সুনেরার মুখ চেপে ধরে তাকে নিয়ে রুমে চলে গেলেন। উদ্যানকে রেখে আসা হলো দরজার বাইরে।

রাত দুটো, বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। গেটের বাইরে থাকা পিলারে হেলান দিয়ে চোখ বুজে আছে উদ্যান। বৃষ্টির পানিতে তার তৃষ্ণা মিটে গেছে। তবে শরীরে উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তি না থাকায় নিশ্চল হয়ে পড়ে আছে সে। ক্ষতস্থান থেকে রক্তের লালিমা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে ড্রেন বেয়ে চলে যাচ্ছে।

হঠাৎই সে দেখল একটা গাড়ি তার সামনে এসে থেমেছে। মিনিট খানিক পরেও সেই গাড়িটা একচুলও নড়ল না। উদ্যান মুখ তুলে তাকাতেই নজরে এল গাড়ির মধ্যে বসে থাকা একজন তরুণী অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। উদ্যান ফাঁকা ঢোক গিলে বহু কষ্টে উঠে দাঁড়াল। সে জানে মেক্সিকোর পথেঘাটে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাত বিরাতে।
এর আগেও তাকে শতাধিক বার বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে তবুও তেমন কিছুই ঘটেনি। কিন্তু আজ তার মস্তিষ্ক বলছে পালিয়ে যেতে।

উদ্যান উঠে দাঁড়াল ঠিকই কিন্তু পা ফেলতে গিয়েই আবারও লুটিয়ে পড়ল সে। লোকটা তার পায়ের ওপর অনেক গুলো আঘাত করেছে। গাড়ীতে বসে থাকা মেয়েটা এবার বৃষ্টি মাথায় নিয়েই চটজলদি নেমে এল। উদ্যানের মুখটা উঁচু করে ধরে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাল। মুহূর্তের মধ্যেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ল মেয়েটা। বিশুদ্ধ স্প্যানিশে বলল, “তিয়েনেস উনোস ওহোস মুই এরমোসোস, চিকো। এরেস মুই গুয়াপো ই মুই সেক্সি। কোনোসে মে, সোয় ‘মারিয়া।’ কোমো তে ইয়ামাস?”

উদ্যান তার হাতটা সরিয়ে দিল। স্প্যানিশ ভাষা পুরোপুরি না বুঝলেও সে বুঝতে পেরেছে তার মস্তিষ্ক কেন তাকে পালিয়ে যেতে বলছে। উদ্যান বহু চেষ্টা করেও পালিয়ে যেতে পারল না। মেয়েটা গলা চড়িয়ে ডাক দিতেই দুজন বডিগার্ড ছাতা নিয়ে বেরিয়ে এল। তারা দুজন উদ্যানকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেল দৃষ্টিসীমার বাইরে। পিলারের গায়ে লেগে থাকা উদ্যানের রক্তের চিহ্নগুলোও ভারী বর্ষণে বিলীন হয়ে গেল কয়েক মুহূর্তেই।

চলবে,,,

শব্দসংখ্যা: ৩১০০+

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply