লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
সীমান্তরেখা পর্ব ৩১ [স্পেশাল পর্ব!]
আকসা যেন বুঝতে পারেনি মেজবাহ’র কথা৷ হতবুদ্ধের ন্যায় তাকিয়ে থেকে প্রশ্ন করলো, “আপনার কথাটা আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।”
মেজবাহ কেমন অদ্ভুতভাবে যেন হাসে ওর কথা শুনে। আকসার কপালে ডান হাতের তর্জনী আঙুল দ্বারা একটা ধীর-স্থির টোকা মেরে সেই হাসিটা ধরে রেখে বলে, “বোকা মেয়ে! মস্তিষ্ক এখনো পরিপক্ব হয়নি তোমার!”
“আপনি কি ওই কথাটা আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন?”
আকসা নিজে প্রশ্ন করে নিজেই চমকে ওঠে। এতোক্ষণে ওর মস্তিষ্ক মেজবাহ’র অদ্ভুত কথাটার অর্থ উপলব্ধি করতে পেরেছে৷ কেন পেরেছে তা জানে না, বরং উপলব্ধি করতে না পারলেই বোধহয় ভালো হতো৷ বুকের বাঁ পাশ বরাবর কেমন যেন খাবলা ধরা খামচি অনুভব করলো। মেজবাহ’র ঠোঁটের কোণে তখন সেই একইরকম চতুরতার হাসি। স্বাভাবিক লাগে না সেটা৷ মোটেও ভালো মানুষের হাসি নয়৷ খারাপ মানুষদের হাসি এমন হয়। আকসা ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলার আগেই মেজবাহ বলে, “হোয়াই সো লেইট টু আন্ডারস্ট্যান্ড, সুইটহার্ট?”
‘সুইটাহার্ট’ শব্দটা উপহাস্য করেই বলা হলো৷ আকসার গা রি রি করে উঠলো৷ ঘরময় আঁধারে ঘৃণাভরে মেজবাহ’র মুখের দিকে চাইলো। দু’জনের দূরত্ব তখন ক্ষণিকের। সামান্য কয়েক ইঞ্চির ফারাক। আকসা সরার প্রচেষ্টা করতেই মেজবাহ ওর কোমর চেপে টেনে কাছে নিয়ে আসলো। দূরত্ব আরো কমলো৷ আকসা দাঁতে দাঁত চেপে অগ্নি-স্নাত দৃষ্টিতে তাকালো। মেজবাহ পরোয়া করলো না। ভীষণ রকমের বেপরোয়াভাবে ঠোঁট আঁকড়ে হেঁসে বললো, “এমন ঘৃণাভরে তাকিয়ে লাভ নেই। বিপরীতে তুমি ঘৃণাও পাবে না। ঘৃণা তো দূর, তোমার জন্য আমার সামান্য করুণাও হবে না।”
আকসা আজ আর হতবাক হয় না৷ শুধু প্রতিক্রিয়াহীনভাবে তাকিয়ে থাকে। একপর্যায়ে বলে ফেলে, “এতোটা ঘৃণা? তাহলে ছেড়ে দিলেই তো পারেন মেজবাহ! কী দরকার যাকে ঘৃণা করেন, তাকে নিজের কাছে রাখার? নিজের আশেপাশে সারাক্ষণ সহ্য করার? কষ্ট তো আপনার-ই হবে!”
“উঁহু। ভুল বুঝলে সুইটহার্ট। ঘৃণা নয়। আমার ঘৃণা পাওয়ার অধিকারও তোমার নেই।”
আকসা প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে চায়। মেজবাহ পুনরায় হাসে, “আসলে তোমার প্রতি আমার কোনো ফিলিংস নেই। আ’ম ফিলিংলেস ফর ইউ। যার জন্য কোনো ফিলিংস থাকে না, তাকে নিজের কাছে রাখতে একদমই কষ্ট হয় না। এ নিয়ে তোমার টেনশন করার প্রয়োজন নেই।”
আকসা তীব্র তেজের সাথে মেজবাহকে সর্বশক্তি দ্বারা সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে, “আপনার রাখতে কষ্ট না হলেও আমার থাকতে কষ্ট হবে, আপনার কাছে। ঘৃণা লাগছে আপনাকে। দূরে সরুন!”
“দূরে সরাবে হু? কীভাবে? নিজেও বা সরবে কীভাবে? তোমার শাস্তি কী জানো?”
আকসা ভ্রু কুঁচকে তাকায়। মেজবাহ আরো কাছে টানে ওকে।
“আমার সাথে সারাজীবন কাটাতে হবে তোমার। আমার স্পর্শ পাবে, শারীরিক সকল চাহিদা পাবে। আমার ব্যাংক-ব্যালেন্স পাবে; প্রোপার্টিজ, পেনশন— এভ্রিথিং পাবে। শুধু পাবে না আমাকে। এটাই তোমার শাস্তি।”
“তো কীসের শাস্তি দিচ্ছেন আমাকে? কী পাপ করেছি আমি?”
মেজবাহ ঠোঁট এগোয় আকসার কানের নিকটে। এরপর ফিসফিসিয়ে জবাব দেয়, “তোমার আমাকে করা অসম্মানের। যেই অসম্মানের জন্য আমার বন্ধুমহল ছাড়তে হয়েছে। যেই বয়সে একটা ছেলের মাঠে ফুটবল খেলার কথা, সেই বয়সে তাকে মাঠে ট্রেনিং নিতে হয়েছে। যেই বয়সে ট্যুর দেওয়ার কথা, সেই বয়সে মাইলের পর মাইল পথ দৌড়াতে হয়েছে। স্টিল, এভ্রিথিং কুড হ্যাভ বিন অ্যাকসেপ্টেড। কিন্তু আমার মামনি, যে আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তাকে আমায় ছাড়া কতগুলো বছর থাকতে হয়েছে! এমনকি, বছরে একদিনও দেখতে পেতো না আমাকে। কার জন্য? তোমার জন্য। অথচ সে আজও জানে না, তার আদরের বৌমার জন্য তাকে কতগুলো বছর পুত্র-বিয়োগে ভুগতে হয়েছে!”
মেজবাহ হেঁসে ওঠে। এই হাসির কারণটা আকসা ঠিক ধরতে পারে না৷ হঠাৎ করেই মেজবাহকে ভীষণ ভয় পেতে শুরু করে ও। মেজবাহ আচনক ওকে শক্ত করে জাপ্টে ধরে বলে, “একটা ছেলের ইয়াং-লাইফ পুরোটাই নষ্ট করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করো, কী পাপ করেছো তুমি? কীসের শাস্তি দিচ্ছি তোমাকে? আরে এই শাস্তি তো তোমার জন্য খুবই সামান্য হয়ে গেছে আকসা। পারলে তোমাকে গলা টিপে মেরে ফেলতাম। পারি না শুধু…”
“পারেন না শুধু কী? কী কারণে পারেন না?”
আকসা অস্থির হয় প্রচন্ড। যেন ওকে মেরে ফেললেই বেশি আনন্দিত হয়। তবে মেজবাহ তা করবে না৷ কেন করবে না, সেটাও জানে না আকসা। মেজবাহ বলবে বলেও মনে হয় না। আকসার মনে হয়, ওকে মেজবাহ ঠিক এতোটা ঘৃণা করে, যতোটা ঘৃণা করলে একজন মানুষকে মেরে ফেলা অবধি যায়। তাহলে ওকে মেরে ফেলে না কেন? আকসা এই প্রশ্নের জবাব পেল না। ও তিরতির করে বললো, “এতোই অসহ্য লাগে যখন, তাহলে দূরে সরতে দিন আমাকে। নিজে না সরালেও আমাকে অন্তত সরার সুযোগ দিন। আপনার মতো লোকের সাথে থেকে নিজের সারাটা জীবন নষ্ট করতে চাই না। এতোটা বোকা নই আমি। একজন মেয়ের ডিভোর্স দেওয়ার অধিকার আছে। একটা সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসার অধিকার আছে। সেই অধিকারের জোরে বলছি, আমি আপনার সাথে আর থাকবো না। মেজবাহ প্লিজ ছাড়ুন আমাকে। আমি আর আপনার সাথে থাকতে পার. . .”
কোমরে প্রচন্ড জোরে চাপ প্রয়োগ হতেই আকসা ক্ষীণ আর্তনাদ করে ওঠা মাত্র পরমুহূর্তেই আরো একবার আর্তনাদ করার সুযোগও পেল না৷
ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে মেজবাহ ওর ঠোঁটের ওপর নজর রেখে বললো, “অধিকার হু? দেখাবো আরো একটু?”
সঙ্গে সঙ্গে এক ধাক্কায় মেজবাহকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আকসা বললো, “আমার ওপরে আপনার কোনো অধিকার নেই। কোনো অধিকার-ই না!”
মেজবাহ হাসে। আকসার কথা, ওর ওই আগ্নেয়াস্ত্রের ন্যায় ধারালো চাহনি যেন গায়েই লাগে না। আকসা ওর দিকে হিসহিসিয়ে চাপা স্বরে বিরবির করতে থাকে। এক পর্যায়ে বলে, “আপনি আমাকে আসলেই কোনোদিন ভালোবাসেননি, তাই-না মেজবাহ? ভালোবাসলে মানুষ এমন আচরণ করতে পারে না।”
“বাসিনি।”
মেজবাহ’র সহজ স্বীকারোক্তি। আকসা আর ধাক্কা খেল না৷ ধাক্কা যা খাওয়ার, যথেষ্ট খেয়েছে; আর না। ও এবার শক্ত গলায় বললাম, “ঠিক আছে। মেনে নিলাম, আপনি আমাকে কোনোদিন ভালোবাসেননি। অবশ্য বাসার কথাও নয়৷ বিশ্বাস করুন, আমি সামান্য অবাকও হইনি। আপনার কাছ থেকে এটাই আশা করেছিলাম। তবে একটা কথা আপনাকে বলে দিচ্ছি মেজবাহ ইফতেখার, আপনি যেহেতু আমাকে ভালোবাসেন না, সুতরাং আমার ওপরে আপনার নূন্যতম কোনো অধিকার নেই। এক ছিটেফোঁটাও না। ভালোবাসার মানুষের ওপর অধিকার দেখানো যায়। আমি আপনার কেউ না৷ সুতরাং, আপনি আমার ওপরে বিনা অনুমতিতে, আমার অনিচ্ছায় কোনো অধিকার দেখালে বা দেখানোর চেষ্টা করলে সেদিন আমি ধরে নিবো, আপনি আমাকে ভালোবাসেন। আর এটা হবে আমার জিত এবং আপনার পরাজয়।”
মেজবাহ কি একটু স্তম্ভিত হলো? বোধহয়! আবছা আঁধারে তেমনটাই মনে হলো৷ হঠাৎ এতোক্ষণের উপহাস্য-ঠাট্টার সুর বদলে গম্ভীর হলো।
“ওকে। আসো তাহলে একটা ডিল করি।”
আকসা প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে চায়। মেজবাহ একই সুরে বলে, “ভবিষ্যতে কোনোদিন যদি তোমার ওপর আমি কোনো অধিকার দেখাই বা ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনেও তোমাকে প্রটেক্ট করতে যাই, তাহলে সেদিন বুঝে নিও, মেজবাহ ইফতেখার তোমাকে ভালোবাসে। এবং সেটা হবে আমার জন্য পরাজয়ের দিন।”
“কখনো আমার জীবন-মরণ অবস্থা হলেও আপনি আমাকে বাঁচাতে আসবেন না মেজবাহ। তাহলেও আমি ধরে নিবো, আপনি আমাকে ভালোবাসেন।”
মেজবাহ ঠাট্টা করে হেঁসে জবাব দিলো, “এমন দিন কখনো আসবেও না। বাজে স্বপ্ন না দেখে ঘুমাও।”
আকসা ঘুরে অপর পাশে মুখ করে শুয়ে পরলো। মেজবাহও বিপরীতে মুখ ঘুরিয়ে শুলো। দু’জন আর শেষ রাত অবধি মুখোমুখি হলো না।
.
.
পুশ-আপ তেত্রিশটা হলো সবে। ছাঁদের দোলনার ওপরে রাখা ফোনটা ক্রিংক্রিং শব্দে বেজেছে একবার। সম্ভবত কোনো বন্ধুর কল। জরুরি কল নয়। জরুরি কল হলে অবশ্যই টানা কয়েকবার কল আসতো। একারণে মেজবাহ পুশ-আপ ছেড়ে আর ওঠেনি কল রিসিভ করতে। এখনো কমপক্ষে সাতচল্লিশটা পুশ-আপ বাকি।
পুশ-আপের মাঝে হঠাৎ ডানদিকে তাকাতেই ছাঁদের দরজার দিকে চোখ গেল ওর। আকসা দাঁড়িয়ে আছে দরজার থামের পাশে। একহাত থামে ঠেকিয়ে রাখা। বোধহয় সবে ভাঙা ঘুম কাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মেজবাহ একবার তাকিয়েই দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। প্রতিক্রিয়া করার মতো বিষয় মোটেও নয়। আকসার রুটিন হয়ে গেছে এটা। প্রতিদিন ঘুম ভাঙতেই ছাঁদে ছুটবে। মেজবাহ খালি গায়ে ব্যায়াম করবে আর ও তাকিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে।
আকসা চোখ ডলে তাকাতেই হঠাৎ একটা ব্যাপার লক্ষ্য করে আঁতকে ওঠে। মেজবাহ পুশ-আপ করছে, এদিকে ওর পিঠের সেই কাঁটা স্থান থেকে অনবরত রক্তের ফোঁটা গলগল করে ছাঁদের ইট-সিমেন্টে ঢালাই করা ছাঁই-রঙা মেঝের ওপরে পরছে!
এমন অবস্থা দেখে আকসার আর সে-মুহূর্তে মেজবাহ’র প্রতি তৈরি হওয়া বিতৃষ্ণা, ক্ষোভ কিছুই আপাতত মাথায় রইলো না। দৌড়ে মেজবাহ’র কাছে গেল। ওর হাতের বাহু ধরে থামিয়ে বললো, “কি করছেন আপনি! আপনার পিঠ থেকে রক্ত ঝড়ছে, দেখতে পাচ্ছেন? তবু ব্যায়াম থামাচ্ছেন না!”
মেজবাহ আসলে র’ক্ত পরার বিষয়টা খেয়াল করেনি। এমনকি অনুভবও হয়নি ওর। আকসার কথায় এবার ঘাড় ঘুরিয়ে ছাঁদের ওপরে পরা রক্তের ফোঁটাগুলো দেখলো। তবে তোয়াক্কা করলো না। আকসা ভ্রুক্ষেপ করেছে বলেই বোধহয় আরো গতি বাড়িয়ে পুশ-আপ শুরু করলো। আকসা আতঙ্কিত হয়ে ওর বাহু শক্ত করে চেপে ধরে থামানোর চেষ্টা করলো।
“করছেনটা কি! থামেন! মেজবাহ!”
চিৎকার-চেঁচামেচি, আর্তনাদেও কোনো কাজ হলো না৷ আকসা এবার একপ্রকার জোরজবরদস্তি করে মেজবাহ’র হাতের বাহু আরো শক্ত করে দু’হাতের মাঝে আঁটকে রেখে জোরে চেঁচিয়ে বললো, “থামবেন আপনি? আমার ওপরে রাগ দেখিয়ে নিজেকে কেন কষ্ট দিচ্ছেন?!”
“হু আর ইউ? যার জন্য মেজবাহ ইফতেখার নিজেকে কষ্ট দেবে? তুমি ভাবলেও বা কীভাবে?”
কথাটা শোনামাত্র মেজবাহ’র বাহু থেকে হাত সরিয়ে নিলো আকসা। বিতৃষ্ণা-ভরা দৃষ্টিতে চাইলো ওর চোখের দিকে। মুহূর্তেই দৃষ্টি সরিয়েও নিলো৷ পরপরই উঠে দাঁড়ালো। ছাঁদের দরজার দিকে পা বাড়িয়ে বিরবির করে বললো, “সৃষ্টিকর্তা যেন আপনার সাথে কথা বলার তৌফিক আর না দেন আমাকে। আমিন।”
মেজবাহ কথাটা শুনতে পেলো না৷ নাহলে নির্ঘাত “সুম্মা আমিন” বলে বসতো।
.
.
আজ সোমবার।
সিলেট ট্যুরের জার্নি শুরু হবে আজ থেকে। এই ট্যুরে মেজবাহ-আকসা, জেমি-আফসান, মিহি, রিমু আর তাহসিনের যাওয়ার কথা। সবার জন্য টিকেট কেটেছে আফসান। গতকালই আকসার শ্বশুরবাড়ির সবাই গ্রাম থেকে ফিরে এসেছে। রিমুরা তো এসেই লাগেজ গুছিয়ে নিয়েছে। মিহিও সবকিছু গোছগাছ করে নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ এ-বাড়িতে চলে এসেছে। রাতটা এখানেই কাটিয়েছে।
এখন আকসার ঘরে বসে তৈরি হচ্ছে মিহি আর রিমু। আকসা বিছানার ওপরে বসে আছে৷ তাকিয়ে দেখছে ওদের। সাড়ে সাতটার বাস। এখন ছয়টা বাজে। মোটামুটি সবাই তৈরি। তবে আকসার তৈরি হতে ইচ্ছা করছে না৷ যেখানে যাওয়ার-ই ইচ্ছা নেই, সেখানে তৈরি হবে কী কারণে? গত পরশু রাতে মেজবাহ’র আর ওর মধ্যে ঘটে যাওয়া সেই বিশ্রী ঘটনার পর থেকে লোকটার সাথে আর কোনো কথা হয়নি ওর। আগে তো টুকটাক যা-ও কথা হতো, এখন সবই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য মুখ দেখাদেখিও হয় না। এমন লোকের সাথে ট্যুরেও বা যাবে কীভাবে? বলা হয়, শ্বশুরবাড়িতে মেয়েদের আপন মানুষ হলো, তার স্বামী। স্বামীর সাথে সম্পর্ক ঠিক থাকলে সব ঠিক। যেখানে স্বামীর সাথেই সম্পর্কটা এখনো পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি, সেখানে শ্বশুরবাড়ির বাকি সদস্যের সাথে ট্যুরে যেয়েও বা কী লাভ? আনন্দ? আনন্দ না ছাঁই হবে। ট্যুরটাই মাটি হবে। এর চাইতে বোধহয় কিছুদিনের জন্য বাপের বাড়ি গিয়ে থাকলেও মন ভালো হতো। অবশ্য তা আর পারে কই? লোকটা এতোটাই জালিম, বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম শুনলেও পারলে হাত-পা বেঁধে ঘরে আঁটকে রাখে।
আকসা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। জীবনটা দিনকে দিন দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে ওর। কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছে না। পুরোটা জীবন এভাবেই কেটে যাবে বুঝি?
মেজবাহ রুমে নেই। নিত্যকার রুটিনমাফিক সেই ভোর সাড়ে পাঁচটায় উঠে ছাঁদে গেছে ব্যায়াম করতে। হয়তো আর পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যেই নিচে এসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেবে।
মিহি তার ভাবীকে বসে থাকতে দেখে তাড়া দিলো। মিহির জোরজবরদস্তিতে আকসার আর বসে থাকার জো রইলো না। ও উঠে ওয়াশরুমে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে আসলো।
.
.
জেমি ভোর ভোর উঠে গোসল করে তৈরি হয়ে লাগেজটা আরেকবারের মতো দেখে নিচ্ছিল। ও বেশ আগেই তৈরি হয়ে নিয়েছে। এখন আয়ানকে তৈরি করবে। আফসান জিম সেরে এসেছে সবে। এখন ব্যালকনিতে চেয়ারে বসে আয়না সামনে ধরে নিজে শেভ করছে। জেমি আড়চোখে কয়েকবার দেখেছে লোকটাকে। লোকটার সম্পূর্ণ মনোযোগ তার দাঁড়ি শেভ করায়৷ যেন একটু এদিক-ওদিক হলেই দক্ষযজ্ঞ লেগে যাবে।
জেমি ঘরের মধ্য থেকেই বেশ জোরে জোরে শুনিয়ে বললো, “এই বুড়ো বয়সে ব্যাটা মানুষদের যে কি হয় বুঝি না! এদের সাইকোলজি বোঝা কঠিন। বয়স চৌত্রিশ পার হয়ে যাচ্ছে, এক বাচ্চার বাপ হয়ে গেল; অথচ এই বয়সে এসে দাঁড়ি শেভ করা লাগছে! ট্যুরে যাচ্ছে, নাকি মেয়ে পটাতে; বোঝা বড় দায়!”
কথাগুলো যেহেতু শোনানোর জন্য বলা হয়েছে, তাই আফসান স্পষ্ট-ই শুনতে পেল। জেমিকে উদ্দেশ্য করে সেখান থেকেই বললো, “আজকাল এক বাচ্চার বাপের ওপরেও মেয়েরা ফিদা হয় নাকি?”
“আপনি যে মানুষ, হতেই পারে!”
“হওয়াটা অবশ্য প্রেফারেবল৷ আফটার অল, আ’ম ঠু মাচ হ্যান্ডসাম!”
জেমি আয়ানের চুলে চিরুনি চালানো থামিয়ে এবার বাঁকা চোখে আফসানের দিকে তাকায়। আফসান ওর অমনভাবে তাকানো লক্ষ্য করে হাসতে থাকে। জেমি বিরবির করে বলে, “সেলফ অবসেসড অহংকারী লোক!”
একথা অবশ্য আফসান শুনতে পায় না। শুনতে পেলে নিশ্চয়ই জবাব দিতো— “তা তো হতেই হবে। এতো হ্যান্ডসাম যে!”
আফসান শেভ করে এসে ওয়াশরুমে প্রবেশ করার আগে মেজবাহকে কল দিলো একটা। দু’বার রিং বাজার পরে কল রিসিভ হলো। ফোনের ওপাশ থেকে মেজবাহ জানালো, তৈরি হয়ে ছয়টা পয়তাল্লিশ নাগাদ রওয়ানা দিচ্ছে ওরা। বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে আনুমানিক বিশ মিনিট লাগবে।
.
.
বাসায় সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আসতে মিনিট বিশেকের মতোই সময় লেগেছে।
হানিফ পরিবহন। সিলেট যাত্রীবাহী এটাই। আফসানরা কিছুক্ষণ আগে এসে পৌঁছেছে। জেমিদের বাসে সিটে বসিয়ে দিয়ে বাইরে এসে সিগারেটে টান মারছিল ও। মেজবাহ গাড়ি থেকে নেমে বাসস্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়াতেই তীক্ষ্ণ চোখে দূর থেকে টং দোকানের আড়ালে দুলাভাইকে সিগারেটে টান দিতে দেখলো। মিহিকে বললো, “তোরা বাসে গিয়ে বোস। আমি পাঁচ মিনিটে আসছি।”
তাহসিনের হাতে সব লাগেজ ধরিয়ে দিয়ে টং-এর দিকে এগোলো মেজবাহ।
.
.
“দুলাভাই।”
আফসান চমকে পেছনে তাকালো। মেজবাহকে দেখে মৃদু হাসার চেষ্টা করে বললো, “আরে শালাবাবু যে!”
ও সিগারেট লুকানোর চেষ্টা করছে। তবে সফল হলো না। আর লুকিয়েও বা হবে কী? মেজবাহ তো আগেই দেখেছে। ও মুখের হাবভাব যথাসম্ভব গম্ভীর করে বললো, “স্মোক করছেন?”
আফসান স্তিমিত হলো। মেজবাহ কিছুটা ঝুঁকে বললো, “আপনার না স্মোক করা নিষেধ? আপু জানে আজকের এই কার্যকলাপ?”
“উহুঁ।”
আফসান ঢোক গিললো। এই একটা বিষয়ে জেমিকে ও বিশাল ভয় পায়।
“আপুকে জানিয়ে আসি তাহলে।”
কথাটা বলে মেজবাহ পেছন দিকে ঘুরে পা বাড়াতেই আফসান ওর হাত টেনে ধরলো। টেনে সামনে এনে বললো, “আমার এতবড় সর্বনাশ কোরো না শালাবাবু। তোমার আপু এমনিতেই আমার ওপর রেগে আছে। তারওপর একথা জানতে পারলে তুলকালাম বাঁধিয়ে ছাড়বে।”
মেজবাহ বাঁকা হাসলো। ওর এই হাসির পেছনের উদ্দেশ্য প্রথমে ধরতে পারলো না আফসান। বুঝতে পারলো তখন, যখন মেজবাহ পকেটে হাত ঢুকিয়ে মুখ উঁচিয়ে বললো, “তাহলে আজ আপনার তরফ থেকে সিগারেটের ট্রিটটা আমার জন্য।”
আফসান ভ্রু কুঁচকে তাকালো। প্রশ্ন করলো— “তুমি না খাওয়া ছেড়ে দিয়েছো?”
“সে আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনি এখন আমার জন্য ব্যবস্থা করেন।”
“বেনসন নাকি মার্লবোরো?”
“মার্লবোরো।”
আফসান দোকানদারের উদ্দেশ্যে বললো, “কাকা একটা মার্লবোরো দেন।”
“উহুঁ। একটাতে তো চলবে না দুলাভাই। কিপ্টামি করেন কেন? এক প্যাকেট নেন।”
আফসান চোখ বড় বড় করে তাকালো। আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “এক প্যাকেট দিয়ে কী করবে তুমি?”
“কী করে মানুষ?”
মেজবাহ জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে। আফসান দীর্ঘশ্বাস ফেলে এক প্যাকেট কিনলো। ওর হাতে দিয়ে বললো, “তোমার বউ জানে?”
“কী?”
“তোমার এই স্মোক করার বিষয়ে?”
“উহুঁ। জানে না।”
“যদি জানতে পারে?”
“জানবে, তো?”
“জানলে কী হবে ভেবে দেখেছো?”
“কী হবে?”
আফসান হতাশ। এই ছেলেকে কিছু বলে লাভ নেই। তবুও শেষ বারের মতো বললো, “জানতে দিও না৷ জানলে সংসারে অশান্তি। আমাকে দেখছো না? তোমার আপু নিত্যদিন এই স্মোক করা নিয়ে ঝামেলা করতো। এজন্য ওকে বুঝালাম, স্মোক করা ছেড়ে দিয়েছি। তারপর থেকে তো আড়ালে-আবডালে খাই। ওকে আর বুঝতে দিই না। বুঝতে দেওয়া মানে আবারও অশান্তি। তোমার বউটা খুব সহজ-সরল। দেখলে বোঝা যায়, স্মোক করা পছন্দ করে না। এসব ছেড়ে দাও শালাবাবু। ভালো ছেলেরা স্মোক করে না।”
“তারমানে বলতে চাচ্ছেন, আপনি ভালো ছেলে না?”
আফসান ধরা খেল। এই ছেলের সাথে কথায় পারবে না। পরাজয় ভবিতব্য। ওর কথার জোর এবার কিছুটা কমে গেল। হালকাভাবে বললো, “আমার তো বহু পুরোনো অভ্যাস। পনেরো বছর আগে থেকে খাই। তুমি চাইলে ছাড়তে পারবে৷ তোমার ওপরে শুধু তোমার বউয়ের হক থাকা উচিত। হক আদায় করতে শেখো।”
“আপনাকে ভাবতে হবে না। হক কীভাবে আদায় করতে হয়, সেটা মেজবাহ ইফতেখার ভালোভাবেই জানে। আপনি এখন চিন্তা করেন, সিগারেটের স্মেল সরাবেন কীভাবে।”
“তারমানে তুমি স্মোক করা ছাড়ছো না?”
“আপনি যেদিন ছাড়বেন, সেদিন ছেড়ে দেবো দুলাভাই।”
মেজবাহ হাতের দুই আঙুলের ফাঁকে থাকা আধপোড়া সিগারেটটা পায়ে পিষে এবার বাসের দিকে পা চালালো। আফসান আবারও চরম হতাশ হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো৷ বিরবির করে বললো, “শালা আমার একটা চিজ বটে!”
.
.
আকসা মিহির পাশে বসতে চেয়েছিল। কিন্তু মিহি তো বরাবরই নাছোড়বান্দা মেয়ে। ভাবীকে জোরপূর্বক তার ভাইয়ের পাশের সিটে বসিয়ে দিয়ে এসেছে৷ রিমুর পাশে বসেছে ও। জেমি আর আফসান সামনের দিককার সিটে। আকসাদের সিট পেছনের দিকে। ওদের দু’টো সিট বাদে সামনের বিপরীত পাশের দু’টো সিট মিহি আর রিমুর। মিহিদের পাশাপাশি সিটে তাহসিন একজন মাঝবয়সী লোকের সাথে বসেছে। ওর কোনো জোড়া নেই৷ তবে কোলে ভাগিনা রয়েছে। আয়ানকে নিয়ে এসেছে তাহসিন। ওর সাথে বসে খেলা করছে৷
বাস ছেড়েছে সবেমাত্র। আকসা জানালার পাশের সিটে বসে ছিল। মেজবাহ’র দিকে এরমধ্যে একবার মাত্র অনিচ্ছাকৃত চোখ গিয়েছিল। তখন দেখেছে, লোকটা ফোন ঘাঁটতে এবং চকোলেট চিবোতে ব্যস্ত। এর আগে কখনো মেজবাহকে চকোলেট খেতে দেখেছি এভাবে। একটু অবাকই হয়েছে বৈকি। হঠাৎ আকসার মনে হলো, ওর নাকে সিগারেটের গন্ধ এসে ঠেকছে। সঙ্গে সঙ্গে দু’হাতে নাক-মুখ চেপে ধরলো ও। মুখ আর ভ্রু কুঁচকে মেজবাহ’র দিকে তাকালো ও। বলেই বসলো, “কি বিশ্রী সিগারেটের গন্ধ! আপনি পাচ্ছেন না?”
মেজবাহ প্রশ্নটা শুনেও কোনোরকম প্রতিক্রিয়া দেখালো না। একমনে ফোন স্ক্রল করতে ব্যস্ত ও। আকসা এখনো বুঝতে পারেনি, স্মোক করে আসা ব্যক্তিটি মেজবাহ-ই। ও মনে করেছে, হয়তো বাসের মধ্যেই কেউ স্মোক করে এসেছে৷ সেই স্মেল আসছে এদিকে। ও বিরবির করে একরাশ রাগ নিয়েই বললো, “মানুষের আক্কেল-জ্ঞান যে কোথায় উধাও হয়ে গেছে কে জানে! বাস ভর্তি মানুষ। তারমধ্যে সিগারেট খেয়ে আসা লাগে! আল্লাহর গজব পরুক এসব মানুষের ওপরে। আল্লাহ হেদায়েত দান করুক এদের।”
মেজবাহ আড়াআড়িভাবে সরু চোখে তাকালো ওর দিকে। মুখে কিছু বললো না৷ তখনও চকোলেট চিবিয়ে চলেছে ও।
.
.
রাজশাহী থেকে সিলেট পৌঁছাতে ঘন্টা নয়ের মতো সময় লাগলো। আরো আগেই পৌঁছে যেত। কিন্তু পথিমধ্যে জ্যামের কারণে কিছুটা সময় বেশি লেগেছে। বাসস্ট্যান্ডে নেমেই ওরা আরেকটা বাসে উঠলো। এই বাসটার যাত্রাপথ সুনামগঞ্জের দিকে। সেখান থেকে তাহিরপুর উপজেলা। সবাই মোটামুটি ক্লান্ত৷ মেজবাহ, আফসান আর তাহসিন সবগুলো লাগেজ নিয়ে বাসের কম্পার্টমেন্টে রাখলো। আকসা বাসে উঠেই দ্বিতীয়বারের মতো ঘুম দিয়েছে। বাস যে কখন সুনামগঞ্জে পৌঁছালো, সেই খেয়ালও নেই ওর। ঘুম ভাঙলো তাহসিনের ডাকে। তাহসিন “ভাবী, ও ভাবী” বলে অনবরত ডাকছে। আকসা চোখ মেলে ওকে একবার দেখে খেয়াল করলো, ওর মাথাটা মেজবাহ’র কাঁধে রাখা। মেজবাহ সটান হয়ে বসে আছে বুকে দুই হাত গুঁজে। মুখ বেশ গম্ভীর। ও দ্রুত মাথা সরিয়ে নিলো। তাহসিন বললো, “সুনামগঞ্জে চলে এসেছি ভাবী। দ্রুত নেমে আসেন। আমাদেন আবার লেগুনা ধরতে হবে।”
মেজবাহকে পাশ কাটিয়ে তাহসিনের পিছু পিছু বাস থেকে নেমে গেল আকসা।
একটা লেগুনা পরিচিত লোকের মাধ্যমে বুকিং করাই ছিল। লেগুনা চালক আফজাল শেখ স্টপেজের পাশের রাস্তায় গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। মেজবাহরা কল করে গাড়ির কাছে যেতেই তিনি নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসে লাগেজগুলো উঠিয়ে নিলেন গাড়িতে। মেজবাহকে বললেন, “ভাই আইজ কিন্তু মেঘলা আকাশ। বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভবনা৷ দেরি কইরেন না। আপনাগোরে ঠিকঠাক মতো তাহিরপুর হাওরের গেটওয়ে পর্যন্ত পৌঁছায় দিতে পারলেই আমরোর শান্তি।”
মেজবাহ তাকে আশ্বস্ত করে দ্রুত উঠলো সবাইকে নিয়ে। দক্ষ আফজাল শেখ দ্রুত লেগুনা টান দিলেন। ঘুটঘুটে অন্ধকার, মেঘলা আকাশ আর মধ্যম বাতাসের মধ্য দিয়ে ছুটে চললেন তাহিরপুর হাওর গেটওয়ের দিকে।
.
.
তাহিরপুর হাওর গেটওয়েতে যখন ওরা পৌঁছেছে, তখন রাত প্রায় আটটা বাজে। হাউসবোট ছাড়ার কথা রাত নয়টার দিকে। ওরা একটা ছোট ট্রলারে করে ঘাট থেকে মাঝ নদী অবধি গেল। সেখানে হাউসবোট নোঙর করা ছিল। হাউসবোটের লোকেরা ওদেরকে উঠিয়ে নিলো একে একে৷ আকসা সবার পেছনে ছিল। মেজবাহ উঠে পেছনে ঘুরে তাকিয়ে আকসাকে ওঠানোর উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই আকসা জেদের সহিত বললো, “লাগবে না। আমি নিজেই উঠতে পারি।”
ওর কথা শুনে মেজবাহ’র চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। হাত সরিয়ে মুঠো করে নিলো ও। আকসা যতোই মুখে বলুক, তবে একটা উঠতে পারলো না৷ এর আগে কখনো হাউসবোটে ওঠেনি ও। শেষমেশ বোটের একজন লোক এসে ওর হাত টেনে ধরলো। আকসা তার হাত ধরেই বোটে উঠলো। মেজবাহ দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ঘটনাটা দেখলো।
.
.
বোট ছাড়েনি এখনো। আর দশ-পনেরো মিনিট বাদে ছাড়বে। দমকা হাওয়া বইছে। রাতের দিকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে নিরানব্বই ভাগ।
রুমে লাগেজগুলো রেখে লিভিং এরিয়ায় এসে সব ঘুরেফিরে দেখছে আকসারা। মেজবাহ আফসানের সাথে একপাশে দাঁড়িয়ে আলোচনা করছে কি একটা বিষয়ে। হঠাৎ মিহি লিভিং এরিয়ার ভেতরে তাহসিনের সাথে ছুটে এলো প্রায়। অতি উচ্ছ্বসিত হয়ে আকসা আর রিমুকে উদ্দেশ্য করে বললো, “জানো আজকে ডেকে নাচ-গান হবে। আমি আর তাহসিন গান করবো ঠিক করেছি।”
মিহির আজদাহা গলা। একারণে কথাটা মেজবাহ’র কান অবধি গেল। আর ওর কানে যেতেই ও এক ধমক দিয়ে বললো, “না! এখানে অনেক মানুষ আছে। এতো মানুষের মধ্যে নাচ-গান করা আমার পছন্দ নয়। কোনো নাচ-গান হবে না! গট ইট?!”
মেজবাহ এতো জোরে ধমক দিলো যে, লিভিং এরিয়ায় উপস্থিত বোটের অন্যান্য যাত্রীরাও বড় বড় চোখ করে তাকালো। মিহি চুপসে গেল৷ আকসা সরু চোখে মেজবাহ’র দিকে তাকিয়ে হঠাৎ কি মনে করে অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত মেজবাহকে শুনিয়ে মিহিকে বললো, “মিহি নাচ-গান কখন হবে?”
“বোট ছাড়ার ঘন্টা দুয়েক পরে হবে ভাবী।”
“আজ আমি নাচবো সেখানে। আমার ঘুঙুরু তোমার ব্যাগে আছে। ভাগ্যিস এনেছিলাম কি মনে করে! বের কোরে রেখো তো।”
আড়চোখে মেজবাহ’র দিকে তাকিয়ে কথাটা বলতেই খেয়াল করলো, মেজবাহ ওর দিকে অগ্নিমূর্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আকসা গায়ে মাখলো না। মেজবাহ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময়ে ওকে উদ্দেশ্য করে ফিসফিসিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো, “এতো মানুষের ভীড়ে খোলা ছাঁদে নেচে দেখো শুধু; তোমার কি অবস্থা করি দেখে নিও!”
চলবে
📌 পড়ুন এই গল্পের ই-বুক ভার্সন “সীমান্তরেখা”; লিংক— https://link.boitoi.com.bd/bR73r
জয়েন হোন আমার পাঠক গ্রুপে। লিংক— https://facebook.com/groups/901545638314662/
▪️বি:দ্র: আজ রাতে আরেকটা ছোটখাটো পর্ব আসবে। অর্থাৎ, ৩১ তম পর্বের বর্ধিতাংশ। তাই, অবশ্যই সবাই এই পর্বে রেসপন্স করবেন। রাত দশটার মধ্যে ৪ হাজার রিয়্যাক্ট করে দেওয়ার অনুরোধ রইলো। তাহলে বড় পর্ব দেওয়ার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ।
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সীমান্তরেখা গল্পের লিংক
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৪
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৮
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১১
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৭
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৯
-
সীমান্তরেখা পর্ব ২০
-
সীমান্তরেখা পর্ব ২৬
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১৮