Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৩


তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৩

তানিশা সুলতানা

আবরারকে দেখতে না পেয়ে বড্ড মন খারাপ হলো আদ্রিতার। সে নাক ফুলিয়ে কিছু মুহুর্ত এদিক ওদিক দৃষ্টি ফেরালো। চিল্লিয়ে বড়মাকে ডাকলো। তবে তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেলো না। সিয়ামের কক্ষ থেকে দু বার ব্যাথাতুল আওয়াজ শোনা গেলো।

আদ্রিতার বড্ড মন খারাপ হলো। কান্না পেয়ে গেলো।সত্যি সত্যিই ঠোঁট উল্টে কেঁদে ওঠে। জুতো জোড়া খুলে এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে ফ্লোরে গোল হয়ে বসে পড়ে। নাক টানতে টানতে বলে

“শালা হাতি
নিবিই যখন না তখন কেনো আশা দেখালি? আমি কি তোর সব টাকা পয়সা শেষ করে দিতাম
খারাপ হাতি। তোকে আমি অভিশাপ দিলাম৷ একদম বউ টিকবে না৷ তোর বউ অন্য ছেলের সঙ্গে ভেগে

বাকিটা শেষ করার আগেই দেখতে পায় বাড়ির মূল ফটকে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে আবরার তাসনিন। দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে আদ্রিতার মুখ পানেই তাকিয়ে আছে। ভাবসাবে বোঝা গেলো।সব কথাই শুনেছে।
কথায় আছে না “যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়”
আদ্রিতার অবস্থাও তেমন৷ একবার কি করবে সেটাই বুঝতে পারছে না। তাড়াহুড়ো করে চোখের পানি মুছে
বোকার মতো মাথা চুলকে জুতো জোড়া কুড়িয়ে পায়ে পড়ে নেয়।
তারপর হে হে করে হেসে উঠে বলে
“আমি তো সিয়াম ভাইকে বকা দিচ্ছিলাম৷ যে জনমের খারাপ। আমায় আইসক্রিম কিনে দিতে চাইলো কিন্তু দিলো না।
কোনোদিনও বউ না পাক উনি। সিঙ্গেলই মরুক।

আবরার শুনলো তবে কিছু বললো না। চুপচাপ হেঁটে চলে গেলো। আদ্রিতাও পেছন পেছন দৌড় দেয়। গাড়ি খানা রাস্তায় ছিলো। এটা নতুন গাড়ি। কালো রংয়েরই। তবে ডিজাইন ভিন্ন। দেখতে বেশ সুন্দর।
বিদেশে কি পানির দামে গাড়ি বিক্রি করে?
নাহলে আবরার তাসনিন এতোগুলো গাড়ি কিনলো কিভাবে?
অংক মিলছে না আদ্রিতার। সে ভাবতে ভাবতে হাঁটছে। কখন গাড়ির কাছাকাছি চলে এসেছে বুঝতেই পারে নি। ফলস্বরূপ ঠাসস করে ধাক্কা খায় গাড়ির সঙ্গে। তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যায় মুখ থুবড়ে। ব্যাথা পায় নি একটুও তবে লজ্জা পেলো বেশ।
আবরারের সেসব দেখার সময় নেই। সে ইতিমধ্যেই গাড়িতে বসে পড়েছে। সিটবেল্ট বেঁধে স্ট্রার্ট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।
আদ্রিতা দৌড়ে এসে গাড়িতে বসে। নিজের সিট বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে বলে
“নতুন গাড়ি
এটা দিয়ে আট খানা গাড়ি হলো আপনার।
বলছি সুইজারল্যান্ড এ কি পানির দামে গাড়ি বিক্রি হয়? যদি হয় তো আমাকেও কয়েক খানা কিনে দিন।

আবরার জবাব দিলো না। সে গভীর মনোযোগে দক্ষ হাতে ড্রাইভিং করছে। দারুণ মানিয়েছে। এই গাড়িটি যেনো আবরার তাসনিন এর জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ড শহর বেশ পরিষ্কার এবং আভিজাত্যে ভরপুর। এখানকার প্রতিটা জিনিসই চোখ ভরে দেখার মতো। তবে আদ্রিতার কিছুই দেখতে ইচ্ছে করছে না। তার শুধু আবরারের মুখ পানে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে।
লোকটা কি জাদু করলো তাকে? পাগল হয়ে যাচ্ছে।
উমম
বাংলাদেশে থাকতে আদ্রিতা ইউটিউব এ দেখেছিলো একটা ভিডিও। টাইটেল এমন ছিলো ” যাকে পছন্দ করেন সে আপনাকে পাগলের মতো ভালোবাসবে। শুধুমাত্র এই দোয়াটি ৭ বার পাঠ করে ওই মানুষটির শরীরে ফু দিন”
আদ্রিতা দোয়াটি মুখস্থ করেছিলো।
আবরার তাসনিন এর ওপর এপ্লাই করবে না কি?
হুমম করাই যায়।
ভাবতে ভাবতে মনে মনে ৭ বার পাঠক করে “ওয়াআল কাইতুন আলাইকা মহাব্বাতাম মিন্নী”
তারপর আবরারের শরীরে ফু দেয় কয়েকবার।
আবরার গাড়ি থামায়।
আদ্রিতা পানে তাকিয়ে বলে
“হোয়াটস রং উইথ ইউ?

আদ্রিতা জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে বলে
” কিন্তু সেখানে তো লেখা ছিলো ভালোবাসার কথা।
বকা দেওয়া কথা তো ছিলো না।

আবরার বুঝতে পারলো না। শুধু অদ্ভুত ভঙ্গিমায় চোখ বাঁকিয়ে তাকিয়ে রইলো। আদ্রিতা বুঝতে পারলো ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে। তাই প্রসঙ্গ পাল্টে বলে
“না মানে বলছিলাম
দোয়া পড়ে ফু দিলাম।
যাতে মেয়েরা নজর দিতে না পারে। যত হোক ভাই তো আপনি আমার।

আবরার পূণরায় গাড়ি চালানো শুরু করে। এবং বলে
” ফাকিং ভাই

“না না চাচাতো ভাই।

আর কিছু বললো না আবরার।
Shoppi Tivoli শপিং মলের পাকিং এ গিয়ে গাড়ি থামায়। জায়গাটা কেমন ভুতুড়ে ভুতুড়ে। চারিপাশে অনেক গুলো গাড়ি কিন্তু মানুষজন নেই। আদ্রিতার একটু ভয় ভয়ই করছে। সে দরজা খুলে গাড়ি থেকে নামে। আশেপাশে চোখ বুলিয়ে বলে

” বাংলাদেশের শপিংমল গুলোই ভালো। পাকিং এরিয়াতেও ঝালমুড়ি পাওয়া যায়।
আর এখানে ভুতেরাও যেনো ভয় পাবে। বলছি গাড়ি রেখে যে নিশ্চিন্তে শপিং করতে গেছে কেই যদি চাকা খুলে নিয়ে যায়?

বলতে বলতে পেছনে তাকিয়ে দেখে আবরার নেই। বড় বড় পা ফেলে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে এক দৌড়ে আবরারের কাছাকাছি চলে যায়। ভয়ে ভয়ে হাতের সব থেকে ছোট আঙুলটা ধরে।।
আবরার ধমক দেওয়ার আগেই বলে
“প্লিজজ ভয় করছে।

আর কিছু বলে না। লিফট এর কাছাকাছি যেতেই সকলেই গুড মর্নিং তাসিন বলতে থাকে।
আবরার ভুলেও মুখ খুলছে না যেনো কুলুপ এঁটে আছে। এবার আদ্রিতার থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।
লিফট এ কয়েকজন উঠেছিলো তারা বেড়িয়ে যায়। আবরার ঢোকে পেছন পেছন আদ্রিতা। লিফট এর দরজা বন্ধ হয়। আদ্রিতা বলে ওঠে
” ওরা আপনাকে মর্নিং বললো আপনি জবাব দিলেন না কেনো?
দাঁতে পোকা ধরেছে? না কি কথা বললে ট্যাক্স দিতে হয়?

আবরার তাকালো ওর দিকে।।মুহুর্তেই দুই হাতে ঠোঁট চেপে ধরে যেনো দুনিয়া ধ্বংস হয়ে গেলেও ও আর কথা বলবে না। মনে মনে বলে “রোবট কোথাকার”
লিফট খুলতেই আবরার বেরিয়ে গেলো পেছন পেছন আদ্রিতা।
হঠাৎ কেউ পেছন থেকে নাম ধরে ডেকে উঠলো। আদ্রিতার পা থামে। পেছন ঘুরে তাকাতেই দেখতে পায় আসিফ আদনানকে।
ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা টেনে এগিয়ে আসছে তারই দিকে।
আদ্রিতাও খুশি হলো।
সে দু পা এগিয়ে গিয়ে বলে
“আরেহহ আপনি এখানে

” তুমিই তো আসতে বলেছিলে।
বাট এখন কলটাও তুলছো না। কি সমস্যা ত

বাকিটা শেষ করার আগেই দুজন গার্ড এসে আসিফ আদনানের দুই হাত ধরে। এবং বলে
“স্যরি স্যার ম্যামের সাথে কথা বলার পারমিশন নেই।
বলেই হিরহির করে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকে।

আদ্রিতা উচ্চ স্বরে চিৎকার করতে করতে বলে
” উনি আমার পরিচিত।
আর আমি আপনাদের ম্যাম না। আদ্রিতা আমার নাম।

শুনলো না তার কথা। পেছনে তাকিয়ে দেখে আবরার তাসনিন বুকে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টি আদ্রিতার পানেই।
“দেখলেন?
আমায় কেমন ম্যাম ম্যাম বললো?
পাগল না কি ওনারা?

আবরার গম্ভীর স্বরে বলে
” যাওয়া যাক?

আদ্রিতা মুখ বাঁকালো। আবরারের থেকে আগে আগে হাঁটতে থাকে।
“তাসিন ফ্যাশন হাউস”
নামক শোরুমে ঢুকে পড়ে।
কর্মরত ছেলে মেয়েরা আদ্রিতাকে থামানোর উদ্দেশ্যে এগুলেও পেছনে আবরারকে দেখে থেমে যায়। মিষ্টি হেসে সালাম জানায় এবং বসতে বলে।
আদ্রিতা বসে না সব ঘুরে ঘুরে জামা দেখতে থাকে।
আবরারের ফোন খানা বেজে ওঠে। সে রিসিভ করে কানে দিতেই কেউ বলে ওঠে
“বস মে/রে দিবো?

আবরার আদ্রিতার মুখ পানে এক পলক তাকিয়ে জবাব দেয়
” নাহহ
চোখে চোখে রাখো।
ওকে আমি মা/র/বো

আদ্রিতা ফট করে তাকালো। কাকে মা/র/বে এই রোবট হাতি?

চলবে

“আবরার তাসনিন” ইবুক কিনুন বইটই থেকে।

https://link.boitoi.com.bd/R7Hs

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply