Golpo romantic golpo কাছে আসার মৌসুম

কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭২.১


কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৭২.১

নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি

পরদিন
দুপুরের পরের কথা। তুশি দাদির কোলে শুয়েছিল। হাসনা গভীর মমতায় চুলে বিলি কেটে দিচ্ছেন। সেই সাথে বিয়ের পর মেয়েদের কী কী করতে হয়,কীভাবে সংসারের খেয়াল রাখতে হয় বোঝাচ্ছিলেন ওকে। তুশিকে দেখে মনে হলো না ও শুনছিল এসব। বরং অন্য ভাবনায় ডুবেছিল মেয়েটা। হাসনা খেয়াল করতেই ফরসা টসটসে গালটায় মৃদূ থাপ্পড় মেরে শুধালেন,
“ কী কই হুনোস?”
তুশি নড়েচড়ে তাকাল,
“ হু হু।”
“ শোয়ামির পায়ের নিচে জান্নাত। এই জান্নাত পাইতে হইলে শোয়ামির সব কতা হুনতে অইব। হেয় যহনই কাছে ডাকপো, না করবি না। কুনোদিন ব্যাদোবি করবি না। যহন যা কইব হুনবি। বুজছোস?”
“ অন্য কিছু বলো না,দাদি!”
হাসনা থাপ্পড় মারলেন মাথায়। রেগে রেগে বললেন,
“ ছেমরি, ভালো কতা তো হুনবি না। হুনবি খালি কার বাড়িত চুরি করোন যায়!”
তুশি মনে দুঃখ পেলো। দুনিয়ার সবাই ভুলে গেছে ও চোর, ও নিজেও ভুলে গেছে,ভোলেনি শুধু দুজন। ওই বিটকেল আর দাদিটা…
এর মাঝেই ঘরের সামনে এলেন রেহণূমা। জিজ্ঞেস করলেন হেসে হেসে,
“ আসতে পারি?”
মাকে দেখেই তুশি অভিমানে মুখ ফিরিয়ে রাখল। হাসনা তৎপর হয়ে বললেন,
“ আসো মা আসো।”
তুশি মায়ের দিকে তাকাল না। শুয়ে রইল চোখ বুজে। রেহণূমা মুচকি হেসে পাশে বসে বললেন,
“ একজনের জন্যে নারকেল দিয়ে ঝুরিঝুরি সেমাই রেঁধেছি। সে কি খাবে খালা?”
তুশি মুখ ভার রেখেই জানাল,
“ না।”
“ কেন? তার কি এখনো রাগ কমেনি?”
“ আমার কীসের রাগ? আমি কি মানুষ নাকি! আমাকে তো যা খুশি বলা যায়,যখন মন চায় মারা যায়। আমি তো মানুষের কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে তাই না! কিছু হলেই আমার ওপর দোষ পড়বে।”
রেহণূমার হাসিটা মুছে গেল। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ আমি জানি তুই কষ্ট পেয়েছিস!
কিন্তু, তুই আমার জ্বালা বুঝবি না, মা। যখন তোর নিজের মেয়ে হবে, তখন হয়ত বুঝবি। কোনো কিছুর পেছনে সন্তানের নাম জড়ালে,দাগটা সবার আগে বাবা মায়ের গায়ে এসে লাগে। একবার ভাব তো, অয়ন যদি কাল চলে যেত, বাড়িটার কী অবস্থা হতো তাহলে? বড়ো মায়ের দিকে মাথা উঁচু করে তাকাতে পারতি?”
তুশি ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে বলল,
“ কিন্তু এখানে তো আমার দোষ নেই । আমি কি ওনাকে যেতে বলেছিলাম? আমি নিজেও তো কষ্ট পাচ্ছিলাম ওনার যাওয়া নিয়ে।”
“ আমি জানি, মা। কিন্তু ঘুরেফিরে এর পেছনের মূল কারণ তুই। তোর কি ইউশার কথায় বিয়েতে রাজি হওয়া উচিত হয়েছে? দুবোন মিলে এত ছেলেমানুষী কেন করতে গেলি? একবার আমাকে বলতে পারতি। দাদিকেও তো বলিসনি মনে হয়, বলেছিল খালা?”
হাসনা দুপাশে মাথা নাড়লেন।
“ তাহলে? বিয়ে নিয়ে মিথ্যে বলা কি ভালো কিছু হয়েছে? তুই যদি শুরুতেই অয়নকে বলে দিতি বিয়েতে তোর মত নেই, বিয়ে তুই করবি না অয়ন এতদূর এগোতো না। কথায় বলে, ভুল করে ভুল ট্রেনে উঠে গেলে, পরের স্টেশনেই নেমে যেতে হয়। কারণ স্টেশন যত এগোবে,ফেরার পথ তত দূরে যাবে। তোর ভুল ছিল এটাই,তুই অয়নকে বিয়ের আশ্বাসের নামে প্রশ্রয় দিয়েছিলি,স্বপ্ন দেখিয়েছিলি। ওর বিয়ের দিন ওর হবু স্ত্রী ওর বড়ো ভাইকে বিয়ে করে বাড়ি ঢুকলে মাথা ওর খারাপ হবে না তো কার হবে? আপা ভালো মানুষ তাই কখনো কাউকে কিছু বলে না। অন্য কেউ বা আমি হলেও তো চুপ করে থাকতাম না। আর আপার এত ভালোমানুষি নিয়ে এমন গুমড়ে গুমড়ে মরাটাই আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়,তুশি। কথার প্রতিবাদের চেয়েও,কারো নীরবতা আরো বেশি ভয়ংকর। আমি তো মা হয়ে তোকে একটু শাসনই করেছি। মায়ের রাগটাই দেখবি শুধু, ভালো যে বাসি তা দেখবি না?”

“ তুমি আমাকে ভালোবাসো?”
রেহণুমা সঙ্গে সঙ্গে মেয়েকে বুকে টেনে আনলেন। ছলছলে চোখে বললেন,
“ তুই আমার নারী ছেড়া ধন রে, মা। কত বছর নামাজে বসে কেঁদেছি তোকে ফিরে পাওয়ার জন্যে। তোকে ছাড়া একটা দিনও আমার ভালো যায়নি,কিছুতে সুখ পাইনি। সব সময় মনে হয়েছে তুই কোথায়,তোকে কোথায় পাব। মোনাজাতে কতবার বলেছি,আমার সব সুখ নিয়ে হলেও তোকে যেন ফিরে পাই। আর সেই যখন তোকে পেলাম,ভালোবাসব না?”

তুশির চোখ ভিজে গেল। কিন্তু কান্নাকে প্রশ্রয় দিলো না। বুক থেকে মুখ তুলে হাসল মেয়েটা। মায়ের চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলল,
“ কেঁদো না তো। তুশির মা ছিঁচকাদুনে হলে লোকে হাসবে না?”
“ আর তুই যে কাঁদছিস?”
হাসনা বললেন,
“ ওর কান্দার কতা কইয়ো না। এই মাইয়া এই বাড়িত আওয়ার পরতে খালি কান্দে। এমনে জীবনে কানতে দেহিনাই। একবার হইসে কী হুনো, খোদেজা গো বাড়িত গেছে খেলতে। যাইয়া ওর বাফের নোকিয়া মোবাইল চুরি কইরা লইয়া আইছে। বয়স তহন এগারো বৎসর। হেরা আইসা আমারে কী গালাগালি! পরে রাগে চ্যালাকাঠ দিয়া এক্কেরে পাছার উপ্রে দুইখান বাড়ি দিছি,দাগ বইসা গেছিল কিন্তু এই মাইয়া কান্দেনাই।”
রেহণূমা চোখ বড়ো বড়ো করে চেয়ে রইলেন। হাসনা আরো বললেন,
“ ছুডোত্তে খালি ছ্যারাগো লগে খ্যালতে যায়। কান ধইরা বাড়িত আনছি,আবার যায়। ওগো লগে হাডুডু খেলে,মারবেল খেলে। বস্তির পোলাপাইনে এরে ডাকে-
ওস্তাদ! নিজে চুরি কইরা হেগো খাওয়াইত। যা দেখতো তাই চুরি করতো। দোকানে যাইয়া বাকি চাইলে না দিলে বোইয়োম লইয়া দৌড় দিত।
কী যে কশটো হইছে আমার এইডারে নিয়া!”
তুশির লজ্জা লাগছিল।
কথা কাটাতে মিনমিন করে বলল,
“ সেমাইটা কি খাব না?”
রেহণুমা ঠোঁট চেপে হাসলেন। এক চামচ তুলে ওর মুখে দিতে দিতে বললেন,
“ খেয়ে সুন্দর করে হাত-মুখ ধো। আমি আমার একটা শাড়ি আর কিছু গয়না দিয়ে যাচ্ছি।
খালা আপনিও তৈরি হন।”
“ কই যাইবা?”
“ আর বলবেন না, রোকসানার ননাশের ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছে। কথাবার্তা তো আগে থেকেই শুনছিলাম। আজ রাতে অনুষ্ঠান। অয়ন চলে যাচ্ছিল, তাই বাড়ির অবস্থা দেখে ভাইজান যাবেন না বলেছিলেন। তবে এখন তো সব ঠিক হলো। আবার ওদিক থেকেও বারবার কল করছিলেন ওনারা। সব ভুলে যেন যাই,অনুরোধ করছিলেন। তাই ভাইজান বললেন সন্ধ্যের পরপর সবাই একসাথে বের হব, এখনই তোড়জোড় শুরু করতে। বাড়িতে এত মেয়েমানুষ সময় তো লাগবে তাই না!”
হাসনা বললেন,
“ হেগো বাড়ি কুন জাগায়?”
“ আয়োজন তো বাড়িতে না,খালা। সেই,সেনানিবাসে। ওনার ছেলেও তো আর্মিতে।”
তুশি বিছানার চাদর খুটতে খুটতে বলল,
“ আমি ওখানে যাব না। ফুপি আমাকে দেখলেই কেমন করে।”
“ সার্থ আছে তো, ওর সামনে তোকে কেউ কিছু বলতে পারে? একদম খেয়ে ফেলবে তাহলে!”
লজ্জায় তুশির বুক ভিজে যায়। হাসনা নিঃশ্বাস ঝেড়ে বললেন,
“ হ বাপ,আর আমাগোও শোয়ামি আছিল এক খান মার্কা মারা। শাউড়ি খাডাইয়া মারতো,এ আইসা ও আইসা যা মঞ্চায় কইত। জামাই ফিইরাও চাই না। খালি বাত্তি নিভাইনার আগে কয়ডা মিডা কতা হুনতাম। বাত্তি জ্বললেই সব শ্যাষ। কপাল হইছে আমার বুর! কী ভালো জামাই পাইছে! কেউ কিছু কইতে গেলে সাপের লাহান ফোস কইরা উডে।”
তুশি মনে মনে বলল,
“ নিজে যে আমাকে কত কী বলে তা যদি জানতে! ওনার আইন মানে ওনার জিনিস নিজে ইচ্ছে মতো দলাবে,কিন্তু কেউ ছুঁতেও পারবে না। হুহ!”
মুখে বলল,
“ কিন্তু শাড়ি কেন পরব,মা? এত গরম!”
“ গরম কোথায়? বাড়িতে এসি,গাড়িতে এসি ওখানে এসি। নতুন বিয়ে হয়েছে,এখন সবার নজর থাকবে তোর ওপর। এই সময় মেয়েদের সেজেগুজে থাকতে হয়। তাছাড়া শাড়িতে আমার মেয়েকে যা সুন্দর লাগে,অন্য কিছু ফেইল না?”
ততক্ষণে বাটি খালি হলো। রেহণূমা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
“ আমি যাই, মিন্তুটা কী পরবে বের করে দিয়ে আসি। তোর বাবা বললেন তৈরি হয়ে থাকতে, এসেই আমাদের নিয়ে বের হবে। সব এত হঠাৎ করে হলো না! ওহ খালা আপনি তো খেলেন না!”
“ আমি অহন খামু না। গেস্টিক হইব খাইলে। তুমি লইয়া যাও মা!”
“ আচ্ছা, তবে আমি নারকেল ছাড়া আপনাকে রান্না করে দিচ্ছি।”
“ আইজ থাক। পরে খামুনে। আইজ বিয়া খাইয়া আই।”
রেহণূমা যেতে নিলেই তুশি মৃদূ স্বরে ডাকল,
“ মা?”
“ কী?”
“ উনি,উনি যাবেন তো?”
“ উনিটা আবার কে!
হাসনা টেনে টেনে বলেন,
“ বুজো না? ওনার সোয়ামী!”
“ উফ দাদি!”
রেহণূমা হাসলেন,
“ তোর বাবা তো বললেন সবাই যাবে। তোকে যা বললাম, কর!”

তুশি স্ফূর্ত মনে নেমে দাঁড়াল। নিজেকে বাদ দিয়ে এক ছুটে চলল সার্থর ঘরে। সে তো এখন নেই। কাবার্ড খুলে ব্লু রঙের স্যুট আর সাদা শার্ট বের করল তুশি। টাই,বেল্ট, প্যান্ট সব নিয়ে মেলে রাখল খাটে। যাতে সার্থ এসেই তৈরি হতে পারে।

ইউশা দাঁত নিয়ে নখ কামড়াতে কামড়াতে ঘরে পায়চারি করছিল। কাল বিকেল থেকে আজ বিকেল,পাক্কা চব্বিশটা ঘন্টা ওর অয়নের সাথে দেখা হয়নি। ইউশা লজ্জায় যেতে পারেনি তার কাছে। এত অস্বস্তি হচ্ছিল! মানুষটা ওকে এখন খোলা বইয়ের মতো জানে। পড়ে ফেলেছে ওর ভেতরটা! ইউশা কীভাবে যে আগের মতো সহজ করবে সম্পর্কটাকে! যাকে একবার অন্তত না দেখলে দিন কাটে না!
এদিকে বাড়ি জুড়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে। সবাই রেডি হতে ব্যস্ত! শুধু ইউশা কিছুতে মন দিতে পারছে না। অয়ন ভাই যাবেন তো? কিছু যে জানতেও পারছে না। না পারছে ওনাকে একটা কল দিতে। ইউশা কতবার হাতে ফোন নিয়েও রেখে দিয়েছে তার হিসেব নেই। উফ,ভালোবাসায় এত জ্বালা কেন?
তক্ষুনি দরজায় এলো তুশি। দুষ্টুমি করে বলল,
“ বাবাহ,আজকাল দেখছি কেউ আমাকে মনেই করছে না।”
ইউশা চকিতে ফিরে চায়। সব চিন্তা ঠেলে গাল ভরে হেসে এগিয়ে যায় অমনি। বোনের হাত ধরে বলে,
“ তুশি,এসো না।”
“ কী হবে এসে? তুমি তো আমাকে ভুলেই গিয়েছ।”
ইউশা কপাল কুঁচকে বলল,
“ তাই না? তুমি জানো আমি তোমার কতটা রেগে আছি?”

“ আচ্ছা? তা কেন?”
“ তুমি অয়ন ভাইকে চিঠি দিয়েছ ভালো কথা। আমার কথা বলে দিলে কেন?”
“ এমা, জেনে গেছ? কী করে জানলে?”
“ চালাকি? কাল যখন অয়ন ভাই বলল চিঠি পড়ে সব বুঝেছে, আমি শুনেছি না?”
তুশি বুক ফুলিয়ে দম ফেলল। মুচকি হেসে বলল,
“ বেশ করেছি বলে দিয়ে। অনেক তো কাঁদলে, এবার চোখের জল শুকানোর সময় এসেছে,ইউশা। আর নিজেকে আড়াল করে রেখো না।”
“ রাখিনি। চেয়েও পারিনি রাখতে। নিজের সবটুকু প্রকাশ করেছি কাল। কিন্তু, আমার চোখের জল তো বিরহ বাতাসে অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে তুশি। এখন শুধু মনের রক্তক্ষরণটা আছে,যেটা কোনোদিন শেষ হবে না।”
তুশি উদ্বীগ্ন হয়ে বলল,
“ কেন? অয়ন ভাই কী বলেছেন কাল?”
“ ওসব বাদ দাও না! বিয়েতে যাচ্ছ না?”

“ হ্যাঁ। সবাই যাচ্ছে।”
“ অয়ন ভাইয়ের কথা তো কিছু জানতেই পারছি না।”
“ ফোন করোনি?”
“ লজ্জা করছে।”
তুশি উল্টোঘুরে ছুটে গেল অমনি। কথাবার্তা ছাড়া এমন করায় একটু অবাক হলো ইউশা। তবে মেয়েটা ফিরে এলো ঝডের মতো। নিজের চকচকে ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ এই নাও, আমার ফোন থেকে কল দাও।”
ইউশা তাজ্জব হয়ে বলল,
“ এ কী, এত দামি ফোন!
ভাইয়া দিয়েছে?”
তুশি মাথা নোয়ায়,লাজে ফেঁপে ওঠা দুগাল নিয়ে আস্তে করে বলে,
“ হুউ।”
“ কবে দিলো? আমাকে তো বলোইনি।”
“ সেই আমার এক্সিডেন্টের দিন কিনে দিয়েছিল। ওনার কাছে ছিল মনে হয়, ওইদিন যখন ওনার ঘরে গেলাম তখন বের করে দিয়েছিল। কিন্তু অনেক কঠিন জানো, আমি কিছু কিছু জিনিস বুঝতে পারছি না। “
“ সে না হয় আমি বুঝিয়ে দেবো। তুমি অয়ন ভাইকে কলটা করো না।”
তুশি আঁতকে বলল,
“ ওরে বাবা না না। তুমিই কল দাও। আর কথা শেষ করে নম্বরটা ডিলিট করে দিও কেমন! উনি নাহলে রাগ করবেন।”
ইউশা দুই ভ্রু উঁচাল,
“ বাবাহ! আজকাল বরের রাগ নিয়েও তুশি ভাবছে? তুশি তাহলে ভালো বউ হচ্ছে?”
তুশি লজ্জা লজ্জা ভাব করে ওরনায় আঙুল প্যাঁচাল। বলল,
“ একটা কথা তো সত্যি,আমার জীবনে আজ রঙিন যা কিছু আছে সব ওনার জন্যে পাওয়া।”
ইউশা হাসল, পরপর বলল,
“ কিন্তু এটা থেকে কল দিই বা আমারটা,একই তো কথা তুশি। আমার যে অয়ন ভাইয়ের সাথে কথা বলতেই লজ্জা লাগছে।”
তুশি চটে গেল, ফোনটা ছো মেরে নিয়ে বলল,
“ তাহলে দিতে হবে না। বেশি লজ্জা করলে মুখে ঘোমটা দিয়ে বসে থাকো। অয়ন ভাই এসে তুলে নেবেন। হুহ!
বেনুনির ঝাপটা ঘুরিয়ে চলে গেল ও। ইউশা ঠোঁট উল্টে ধপ করে বসে পড়ল বিছানায়। তক্ষুনি কানে এলো বসার ঘর হতে পুরুষালি কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। এই আওয়াজ ইউশার চেনা। ও তড়াক করে দাঁড়াল। অয়ন ভাই!
তারপর দমকা হাওয়ার বেগে এক ছুটে নেমে এলো নিচে।
তনিমা বললেন
“ এটা কোনো কথা! সবাই যাবে, তুই যাবি না?”
অয়ন মাত্রই ফিরেছিল। মুখ জুড়ে ক্লান্তি। যে হাসপাতালে ও কর্মরত ছিল,সকাল সকাল ডাক পড়েছিল সেখানে। রেহণূমা হাতে পানির গ্লাস দিলেন। ও নিতে নিতে বলল,
“ কিছু তো করার নেই। সব আজই ঠিক হলো। একটা বিয়ে খাওয়ার চেয়ে একশো বাচ্চার চিকিৎসা করব সেটা ভালো না?”
এই যুক্তির পর কি আর কথা থাকে! তনিমাও মেনে নিলেন। জয়নব শুধালেন,
“ ট্রেন কটায় তাহলে?”
“ আটটায়।”
তনিমা বললেন,
“ তাহলে আর দেরি করিস না। ফ্রেশ হয়ে আয়। একটু খেয়ে যা।”
অয়ন মাথা নেড়ে উঠে দাঁড়াল। সোজা পা চালিয়ে হাঁটা ধরেও থামল হঠাৎ। পাশ ফিরে ঘাড় বাঁকিয়ে চাইল ইউশার দিকে। ঐ চোখাচোখিতে বুকের কোণে বিদ্যুৎ চমকে ওঠে মেয়েটার। তড়িৎ পায়ের পাতায় মাথা নামিয়ে নেয়। অয়ন আর দাঁড়াল না। চলে গেল তাড়াহুড়ো করে। ইউশা
এগিয়ে এসে বলল,
“ অয়ন ভাই কোথায় যাবেন বড়ো মা? কীসের ট্রেনের কথা বলছিল?”
“ কাল থেকে সিলেটে ওদের ক্যাম্পেইন শুরু হবে। গোটা টিম যাচ্ছে, ওর ফেলোশীপ ক্যান্সেল করে দেয়ায় ওকেও বলল। আর জানিসই তো তোর অয়ন ভাই এসব হেলথ ক্যাম্প ট্যাম্প কী পছন্দ করে!”
ইউশা ছটফট করে উঠল,
“ তাহলে, তাহলে অয়ন ভাই আমাদের সাথে বিয়ে খেতে যাবে না?”
“ না। আর কীভাবে? ও তো এক্ষুনি বেরিয়ে যাবে বলল।”
ইউশার মুখ কালো হয়ে গেল। আর এক ফোঁটাও আলো নেই সেখানে। একবার বলতে চাইল,তাহলে আমিও যাব না। কিন্তু মা আছেন,সন্দেহ করলে? ঠোঁট টিপে চুপচাপ ঘরের দিকে চলে গেল তাই!

বাড়ির বড়ো মাইক্রোটা ধুয়ে-মুছে সাফ করা হয়েছে। এটাতেই এক সঙ্গে রওনা করবে সবাই। একেবারে ঝকমকে জামাকাপড় পরে তৈরিও সকলে। মিন্তুও আজ স্যুট পরেছে। বসার ঘরে পা থেকে মাথা অবধি দেখা যায় অমন বড়ো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গোটা দশেক সেলফি তুলেছে সে।
তুশির পরনে একটা ল্যাভেন্ডার রঙের টিস্যু শাড়ি। ম্যাচিং ব্লাউজ, গলায় খুব চিকণ হীরের নেকলেস, আর দুটো ছোটো ছোটো হিরের কানের দুল কানে। নাকে নাকফুল, দুই হাতে পাথরের চুড়ি পরিয়ে দিয়েছেন রেহণূমা। লম্বা খোলা চুলের সাথে, ঠোঁটে ন্যুড পিংক লিপস্টিকটায় ঠিক সন্ধ্যের আকাশের মতো সুন্দর লাগছে ওকে। ইউশা অবশ্য চুরিদার পড়েছে। মুখে সাজগোজ নেই! অয়ন বেরিয়ে গেছে ঘন্টাখানেক হবে। যাওয়ার বেলায় একবার তাকায়ওনি ওর পানে। ইউশার শীর্ণ বুকে ভয় জাগে! খারাপ লাগে এতে! কোথাও গিয়ে মনে হয়, সব জেনে যাওয়ায় অয়ন ভাই হয়ত ওকে আগের মতো কাছের ভাববে না। হয়ত আস্তেধীরে এই দুরুত্ব বেড়ে সীমাশূন্য সমুদ্র বনে যাবে।
মিন্তু এসে ফোন দেখিয়ে বলল,
“ এই দ্যাখ দ্যাখ ছবিটা দ্যাখ! আমি অনেক হ্যান্ডসাম না?”
ইউশা মুখ তুলে ধমকে বলল,
“ যাবি এখান থেকে? পকপক পকপক,যা সর!”

“ এইজন্যেই তুই একটা পেত্নি। সারাক্ষণ শুধু নাকে বাজিয়ে খ্যাকখ্যাক করছে। ভালো কথা জানিস না? আম্মু তোমার এই মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছো না কেন? বিদেয় করো এটাকে!”
মিন্তু গিয়ে তুশির পাশে বসল। মেয়েটা সোফার হাতলে হাত ঠেকিয়ে গাল ধরে বসে আছে। ওইভাবেই শুধাল,
“ ধরল, বাবা?”
সাইফুলের কানে ফোন।
মাথা নাড়লেন দুদিকে। বললেন “ রিং তো হচ্ছে।”
তনিমা বললেন,
“একটু আগেই না বলল থানা থেকে এক্ষুনি বের হব? এর মধ্যে আবার কী হলো?”
শওকত অধৈর্য হয়ে পড়লেন। এভাবে রেডিশেডি হয়ে বসে থাকা যায়? চ সূচক শব্দ করে বললেন,
“ এই ছেলের সবেতে খামখেয়ালি। না গেলে বলে দিলেই হয়। শুধু শুধু সবাই হত্যে দিয়ে বসে আছি।”
সাইফুল ফিসফিস করলেন,
“ ধরেছে, ধরেছে। হ্যাঁ সার্থ, কোথায় তুই?”
ওপাশ থেকে ব্যস্ত জবাব এলো,
“ চাচ্চু একটা কেসে আটকে গেছি। আমার দেরি হবে। তোমরা চলে যাও।”
“ ওমা সে কী! আর তুই?”
“ আমি এখান থেকে ডিরেক্ট যাব। লাইভ লোকেশন দিয়ে রেখ।”
“ উল্টোরাস্তা হবে না?”
” আর তো কিছু করার নেই।”
“আ- আচ্ছা।”
লাইন কাটতেই তুশি শশকের মতো নড়েচড়ে শুধায়
“কী বললেন? কখন আসবেন?”
“ কেসে আটকে গেছে নাকি, দেরি হবে। আমাদের চলে যেতে বলল।”
তুশির উত্তেজনা মিইয়ে গেল অমনি। শরীর ছেড়ে দেয়ার মধ্যেই হাতটা পৌঁছাল কোলে রাখা পাথরের ছোট্ট পার্সটার গায়ে। তুরন্ত কী যেন ভেবে ওটাকে নিয়ে কোথাও একটা ছুটে গেল ও।
ফোনে লক নেই। কল দিতে তুশি জানে। বাড়ির লোকদের ছাড়া ফোনে আর কারো নম্বর নেই। সার্থ নিজেই নিজের নাম সেইভ করে দিয়েছিল “ my hubby” দিয়ে!
তুশি ঝটপট কল দিলো ওই নম্বরে। দুবার রিং-এই ধরল সে। মেয়েটা অবিলম্বে শুধায়,
“ আপনার কি বেশি দেরি হবে?”
“ হুউ,কেন?”
“ কতটা দেরি হবে?”
“ নো আইডিয়া। তুমি সবার সাথে চলে যাও। আর যদি ইচ্ছে হয় স্বামীর সাথে যাবে,তাহলে অপেক্ষা করো,আমি কাজ শেষ করে এসে নিয়ে যাব। করবে?”
তুশি মুখের ওপর বলল,
“ না!”
“ ফাইন।”
সার্থ লাইন কেটে দিলো। তুশি ঠোঁট উলটে এসে আবার দাঁড়াল সবার মাঝে। সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে বের হওয়ার। ও আস্তে করে মাকে গিয়ে বলল,
“ মা, আমি পরে যাব?”
“ পরে কেন?”
তুশি অস্বস্তিতে নুইয়ে যায়। মিনমিন করে বলে,
“ উনি বললেন উনি এসে নিয়ে যাবেন।”
“ এতক্ষণ একা থাকবি?”
“ একা কোথায়? আসমা আপা আছে না?”
“ তাও। ও কখন না কখন আসে! আবার দেখা গেল বেশি দেরি হওয়ায়, যদি না-ই যায়?”
“ তাহলে তো আমারো যাওয়া উচিত না। এই যে এসব পরানোর সময় বললে নতুন বিবাহিত মেয়েদের এরকম সুন্দরী সাজতে হয়,তো বিবাহিত মেয়ের যদি বরই না যায় সুন্দর লেগে কী লাভ?”

“ মেয়ের কথা শুনলেন, খালা? লজ্জা শরম কিছু নেই৷”
হাসনা হাসলেন। উনি বললেন,
“ আচ্ছা থাক তবে! ভালো করে বুঝিস,পারবি তো?”
“ পারব রে বাবা।”
পাশ থেকে ইউশা বলল,
“ তুশি, আমি থাকব তোমার সাথে?”
রেহণূমা বললেন,
“ তুই থেকে কী করবি? বাড়িতে গাড়ি দুটো। একটা অয়ন নিয়ে স্টেশনে গেছে আরেকটা আমরা নিচ্ছি৷ সার্থ তো ওকে বাইকে নিয়ে যাবে। তুই কী বাইকের চাকায় আটকে যাবি?”
ইউশা আর কথা বাড়ানোর জায়গা পেলো না। ঠোঁট গোজ করে বাবার পিছু পিছু বেরিয়ে গেল। সবাইকে বিদায় দিয়ে সোফায় দুই পা তুলে বসল তুশি। টিভি চালিয়ে হাঁক ছুড়ল,
“ আসমা আপা, আমাকে একটা নুডুলস বানিয়ে দাও। বিয়ে খাব শোনার পর থেকেই খিদে পেয়ে গেছিল!”
আসমার সময় লাগেনি বানাতে। নুডুলসের বাটি হাতে ফিরল চটপট।
তুশি শাহরুখ খানের সিনেমা ধরেছে। আসমা দাঁত বের করে বলল,
“ আরে এই ব্যাডায়? এই ব্যাডারে আমার ভালোই লাগে। গালে মাইয়া মাইনষের মতো টোল দেখছেন আফা?”
তুশি হেসে ফেলল। ও বলল,
“ আপনে হাসলেও টোল পড়ে। তয় অল্ফো। এক্কারে চাইয়া না থাকলে ধরোন যায় না।”
তুশি জোরে হেসে ফেলল এবার। আসমা নিজেও হাসে। নিচে বসতে যায়,ও বলে
“ আরে এখানে বসছো কেন? আমার পাশে বসো।”
আসমা বসলো। মন দিলো সিনেমায়। হঠাৎ কান খাড়া করে বলল,
“ আফা গো, বিদ্যুৎ চমকাইতাছে। ভাইজানে ভিইজ্জা যাইব না?”
“ বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে? ওমা একটু আগেও না বাইরে সব পরিষ্কার দেখলাম?”
“ আফা, বৈশাখ আইতাছে। অহন দ্যাখবেন ক্যামনে হুটহাট জর বইন্যা উটবো। আর গরম পড়ব এমন পড়া,কুত্তাও মইরা পইড়া থাকব রাস্তায়।”
তুশি চিন্তায় পড়ে গেল। বাবা মায়েরা তো গাড়িতে যাবেন। ভেজার চান্স নেই। কিন্তু সার্থ বাইকে এলে ভিজবে না?
ও টিভিতে বা নুডুলসে মনোযোগ দিতে পারছিল না। ক্ষণে ক্ষণে দেখছিল ঘড়িটা। রাত এগারটা বাজতে চলল। তুশি অপেক্ষা করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়ল এবার। বুঝল,ওর আর বিয়েতে যাওয়া হবে না। বাড়ির সবাই নটায় বেরিয়েছে, দশটায় পৌঁছালেও এখন তো ফেরার প্রস্তুতি নেয়ার কথা। তুশি দেখল ওর ফোনে কল আসছে। মা দিচ্ছেন! মনটা খারাপ থাকায় ধরল না আর। এদিকে আসমা একটা লম্বা হাই তুলে বলল,
“ ভাইজান মনে হয় আইব না।”
“ না এসে যাবে কোথায়?”
“ আপনেরে থুইয়াই গেছে মনে হয়!”
“ হাই তুলছো, ঘুম পেলে ঘরে যাও।”
“ যাই। ওরেহ বৃষ্টি নামলে তো ছিডায় সব ভিজব। খালায় বারবার কইয়া গেছিল জানলা সব আটকাইয়া বইতে।”
মনে পড়তেই আসমা টিভি ফেলে ছুটল। তুশিরও খেয়াল পড়ল, সার্থর ঘরের বারান্দার দোর খোলা। ওটাতে গ্রিল নেই,খোলা বারান্দা। বৃষ্টি ছুটলে বালু আর পানিতে তো পুরো ঘরের মেঝে তলিয়ে যাবে। তাড়াহুড়ো পায়ে নেমে নিজেও দৌড়াল মেয়েটা। শাড়ি পরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে কিছু হিমশীম খেলো।

বারান্দা, জানলা সবই খোলা ছিল এ ঘরে। এসে ভালোই করেছে। বাতাস ছুটেছে অল্পস্বল্প। তুশি সব আটকাতে আটকাতে ভাবল,সাজগোজ খুলে ফেলবে। যাওয়া যখন হবে না,রেখে কী লাভ? সেই সাথে সার্থর প্রতি অভিমানে মনটা আরো বিষণ্ণ হয়ে উঠল। না যাক, অন্তত ফোন করে জানাবে না? তুশি তো শুনেছিল বড়ো মা গাড়িতে উঠতে উঠতে ওনাকে ফোনে বলছিলেন – তুশি তোর জন্যে থেকে গেছে,ওকে নিয়ে যাস!
ফের অবজ্ঞা,ফের অবহেলা! গুরুত্ব নেই। ছোঁয়াছুঁয়ি ছাড়া আর কিছু জানে নাকি? আচমকা নিচে শব্দ হলো। বিকট আওয়াজে কাচের মতো ভেঙে পড়েছে কিছু একটা। চমকে উঠল তুশি। নিচে আসমা একা। কী ভাঙলো আবার?
তুরন্ত বসার ঘরের দিকে ছুটল সে। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নামতে নামতে ডাকল,
“ আসমা আপা,আসমা আপা? ভাঙল কী?”
আসমার জবাব এলো না,তবে চট করে লোডশেডিং হওয়ায় অন্ধকারে তলিয়ে গেল বাড়ি। তুশির বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। ভড়কে দাঁড়িয়ে গেল জায়গায়।
এত অন্ধকারে হাত-পা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ও হাতড়ে হাতড়ে সোফা অবধি এলো। হাতলটা পারল ছুঁতে। থেমে থেমে ডাকল,
“ আসমা আপা,শুন-শুনতে পাচ্ছো?”
সারা বাড়ি অন্ধকার,ফাঁকা ঘর। কোথাও কোনো শব্দ নেই। তুশির ভয় বাড়ছে,বুক কাঁপছে। একটা মানুষ হঠাৎ করে উধাও হলো কীভাবে? তক্ষুনি টুং করে শব্দ হলো। যেন গিটারের তারে আঙুল ঘষেছে কেউ। তুশি আঁতকে উঠলেও শব্দের উৎস খুঁজে পেলো না। মিছিমিছি তাকাল এদিক ওদিক। ফের আবার শব্দ হয়। সেই সাথে
ক্যাচ করে কিছু প্রেস হওয়ার মতো কোনো আওয়াজে ছেয়ে যায় ঘর।
তুশির বুক শুকিয়ে গেল। হঠাৎ মাথার ওপর থেকে তিরের বেগে একটা লম্বা আলো গিয়ে ঠিকড়ে পড়ল পেছনে। চকিতে সেদিকে ঘুরে চাইল মেয়েটা।
আলোর ঠিক ফোকাস পয়েন্টে দেখা গেল সার্থকে। বিন ব্যাগের নরম গদিতে দুহাতে গিটার নিয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে আছে সে। মনোযোগ সেই গিটারের তারে। টুং টুং করতে করতে বরফ চোখজোড়া তুলে চাইল সে। ওই ঘোলাটে দৃষ্টিতে গায়ে কাঁটা দিলো তুশির। দাঁড়িয়ে গেল লোমকূপ! সার্থর নজর আর সরাল না। অমন চেয়ে চেয়েই গিটারের তারে আঙুলের গতি বাড়িয়ে দিলো সে। নিরেট কণ্ঠে দুটো লাইন ধরল,
“ ভালোবেসে এইবার আয় কাছে তুই,
সব ভুলে একবার আয় তোকে ছুঁই,
ভালোবেসে দুজনে ডুবেছি অতল
আয় তবে এইবার ভালোবাসি চল!
কে আছে বল, তোরই মতো এমন?
কে বোঝে বল, বোঝে আমারই মন?”

চলবে…
কাহিনী গোছানোর চক্করে শেষ করতে পারিনি। 🤧 আরো একটু বাকি আছে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply