জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪৪ [ছোট খাটো নিকা]
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
মিসেস মিহু রাশিয়া থেকে ভিডিও কলেই আদ্রিতাকে দেখে চলেছে।
আদ্রিতাকে একটা অফ হোয়াইট রঙা জামদানী পরানো হয়েছে।
হালকা সাজিয়ে মাথায় একটা লাল ওড়না।
আদ্রিতাকে সাজিয়ে দেওয়ার পর মিরা এবং প্রিয়াও চলে গিয়েছে রেডি হতে।
আদ্রিতা বসে আছে আয়নার সামনে।
কিছুক্ষণ আগে মিসেস মিহু কল কাটলেন।
তবে আদ্রিতার চোখের সামনে এখন আদ্রিসের সব রকম রূপ ভেসে আসছে।
কিভাবে আদ্রিসের খুন করতে একটুও হাত কাপে না। কতটা নির্দয় ভাবে সে খুন গুলো করে।
প্রশ্ন হলো হটাৎ এই মুহুর্তে আদ্রিতার মাথায় এসব কথা কেন আসছে।
এর পেছনে কারণ ছিলো মিসেস মিহু।
তিনি হাজার বার আদ্রিতাকে রিপিট করেছে।
“মাম্মাম যদি কিছু মনের বিরুদ্ধে হয় তবে এক সেকেন্ডে সব ফেলে সায়ের কে বলবে। তোমার মম আছে তোমার পাশে।”
সত্যি বলতে এতটা ভরসা আদ্রিতা কখনো পায়নি।
তবে এই গোটা পরিবার বিহীন তাকে যে মানুষটা এতটা সাপোর্ট করেছে সেটাত আদ্রিস।
আদ্রিতার মাথায় কি সব আজগুবি চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
আদ্রিতা নিজেও বুঝতে পারছে না।
হুট করেই কেমন গরম লাগছে তার। সাফোকেটেড ফিল হচ্ছে।
আদ্রিতা দক্ষিণা জানালাটা খুলে দেয়।
ঘন বৃষ্টির ঝড়ো হাওয়া ধেয়ে আসে জানালা দিয়ে।
আদ্রিতার শরীর ছুঁয়ে দিতে ভেতরে শান্তি কাজ করে।
হয়ত একটু পরেই বৃষ্টি হবে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা।
আদ্রিতা আকাশের দিকে তাকায়। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
আদ্রিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
এমন সময় হটাৎ দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আদ্রিতা ফিরে চায়।
সায়ের এসেছে।
আদ্রিতা মিষ্টি হাসে।
সায়ের এগিয়ে গিয়ে আদ্রিতার সামনে দাঁড়ায়।
“মাসআল্লাহ কি মিষ্টি লাগছে আমার বোনকে।”
প্রতিত্তোরে আদ্রিতা মিষ্টি হাসে। সায়ের পকেট থেকে ব্রেসলেট এর একটা লাল বক্স বের করে আদ্রিতাকে দেয়।
“এটা কি?”
“খুলে দেখো প্রিন্সেস৷”
আদ্রিতা খুলে বক্সটা। ভেতরে চকচকা সোনার একটা মোটা ব্রেসলেট।
আদ্রিতা মিষ্টি হাসে। তার এটা খুব পছন্দ হয়েছে।
“পছন্দ হয়েছে?”
“হুম খুব।”
সায়ের বোনের কপালে চুমু খায়।
“মিষ্টি মেয়েটা। যদি এক সেকেন্ড এর জন্যও মনে হয় তুমি এই স্টেপ নিবে না। তবে সরাসরি আমাকে বলবে ঠিক আছে?”
পরিবার বুঝি এমন হয়। সায়েরের কথা শুনে আদ্রিতার ঠিক কেমন অনুভুতি হচ্ছে তা আদ্রিতা বোঝাতে পারবে না।
এর আগে এমন কথা সে কখনো শুনে নাই।
এই যে কত মিষ্টি করে বলছে ভালো না লাগলে প্রয়োজন নেই। অথচ ছোট থেকেই আদ্রিতা শুনেছে ভালো লাগুক আর না লাগুক এটাই মেনে নিতে হবে।
সায়ের কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা বসে বিছানায়৷
বিয়ে একটা বড় সিদ্ধান্ত। যে মেয়েটার গোটা জীবনটাই একটা যুদ্ধ ছিলো। সে এমন একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গেলে অবশ্যই একটু দ্বিধা করবে।
আদ্রিস কাবার্ড খুলে।
সেখানে শুধুই সুট রাখা।
আদ্রিস একটায় হাত দিতে নিলে সায়ের চড় মারে হাতে আদ্রিস অবাক হয়ে ফিরে তাকায়৷
“হোয়াট হ্যাপেন্ড?”
“বিয়ের দিনেও এসব পরবি?”
“ত কি পরব?”
সায়ের একটা প্যাকেট তুলে দেয় আদ্রিসের হাতে,
“এটা পরবি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে বোন নিয়ে যাব বিয়ে দেব না বলে দিলাম।”
আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“বললেই হয়ে গেলো নিয়ে যাবা?”
সায়ের দাঁত বের করে হাসে,
“হুম। বললেই হয়ে গেলো৷”
কথাটা বলে সায়ের বেরিয়ে যায়। আদ্রিস হাসে।
প্যাকেট থেকে একটা সাদা পাঞ্জাবি বের হয়৷
আদ্রিস সেটা পরে রেডি হয়ে নেয়৷
মাধবী বেগম অনেক কিছু সামলে নিয়েছেন একা হাতে।
ওদিকে আসরাফ খান যেন সব কিছুর মাঝে থেকেও নেই।
তার মাথায় এখন অন্য কিছু চলছে।
তিনি এত ভাবছেন যে মাথা এমনিতেই যন্ত্রণা শুরু করে দিয়েছে।
মাধবী বেগম হাতের কাজ সেরে আসরাফ খানের পাশে এসে বসলেন,
“কি ব্যপার কি এত ভাবছো? তোমার ছেলে বিয়ে তোমারত খুশি হবাড কথা।”
আসরাফ খান মাথা থেকে হাত সরিয়ে স্ত্রীয়ের দিকে তাকালেন।
এরপর হালকা হাসার চেষ্টা করলেন,
“হ হ্যাঁ আমি খুশি। আমি ভীষণ খুশি।”
মাধবী বেগমের কথাটা জমলো না। তবে তিনি কিছু বললেন না৷
কিছুক্ষণের মাঝে প্রিয়া, রেভেন, সায়ের, মিরা নিচে নেমে আসে।
আদ্রিসও এসেছে।
আদ্রিসকে দেখে মাধবী বেগম খুব দোয়া করলেন।
আদ্রিসের জন্য আজকে স্বপ্ন সত্যি হবার দিন।
কিছুক্ষণ পর কাজি চলে এলো।
প্রিয়া আর মিরাকে পাঠালো আদ্রিতাকে আনতে।
আদ্রিসের রুমেই বসে ছিলো আদ্রিতা।
হটাৎ প্রিয়া এবং মিরা আসায় সে মৃদু কেঁপে ওঠে।
মিরা তা দেখে এগিয়ে যায়।
“আদ্রিতা? তুই কি নার্ভাস বোন?”
আদ্রিতা মৃদু হাসে।
প্রিয়া এগিয়ে যায় আদ্রিতার দিকে।
“কিরে মন খারাপ?”
মিরা আদ্রিতার গালে হাত রাখে,
“কি হয়েছে?”
আদ্রিতা মাথা নুইয়ে নেয়। প্রিয়া, মিরা দু’জন দুজনের দিকে দেখে।
ওরা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে।
তবে আদ্রিতার এমন অন্যমনস্কতা আদ্রিসের সামনে পড়লে সে আগুন জ্বালিয়ে দিবে এখন।
মিরা গিয়ে আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে,
“কিরে কোন সমস্যা হচ্ছে?”
আদ্রিতা হেসে মাথা নাড়ায়৷
মিরা আদ্রিতার পাশে বসে।
“আচ্ছা আদ্রিতা তুই কি কোন ভাবে এটা মেনে নিতে পারবি। আদ্রিসের হাতে অন্য কোন নারীর হাত?”
আদ্রিতা প্রশ্নটি শুনে অবাক সাথে বুকের মাঝে ধক করে উঠলো অজান্তেই।
এক নিশ্বাসে সে জবাব দিলো,
“না।”
“তাহলে মনের ভেতরে বাড়তে থাকা ভয় কে দুরে সরিয়ে দে। তোকে হতে হবে মিসেস খান। আদ্রিসের সমস্ত বাজে সভাব তোকে বদলে দিতে হবে। ওকে নিজের মত করে নিতে হবে।”
“কিন্তু আমি কি পারব?”
মিরা মৃদু হাসে,
“পারবি আদ্রিতা। তোকে যে পারতেই হবে।”
কিছুক্ষণ পর প্রিয়া এবং মিরার সাথে হেঁটে আসে আদ্রিতা।
আদ্রিতাকে এমন পুরতুলের মত সাজানো হয়েছে দেখে আদ্রিস কিছুক্ষণের জন্য নিশ্চুপ হয়ে যায়৷
সে মন ভরে তার বউকে দেখছে।
আদ্রিতা হেঁটে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে। আদ্রিসের চোখ যেন সরছে না। ওদিকে আদ্রিতা একটা বারও লজ্জায় আদ্রিসের দিকে ফিরে তাকায় নি।
মিসেস মিহু ভিডিও কলে আছেন সব সময়ই।
আদ্রিতাকে, আদ্রিসের পাশে বসানো হলো।
কাজি বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন।
আদ্রিস এবং আদ্রিতার বিয়েটা হয়ে গেলো খুব সুন্দর করে।
বিয়ে শেষে সবাই সুন্নাহ হিসাবে খেজুর খেলো।
এরপর ডিনার করতে বসল।
সার্ভেন্ট যদিও তেমন থাকেনা এই মেনশনে। মিরা এবং আদ্রিতাই সব কাজ করে থাকে।
তবু আজ কিছু সার্ভেন্ট আছে।
তারাই সকল ব্যাবস্থা করেছে।
সবাই এক সাথে ডিনার করার পর লিভিং রুমে বসে হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠলো।
সায়ের এই ফাকে মিরাকে মিসেস মিহুকে দেখিয়ে ফেলেছে।
মিসেস মিহু, মিরাকে বেশ পছন্দ করেছে।
সবাই লিভিং রুমে বসে আছে।
বিয়ের পর কোন তেমন রিচুয়াল ফলো না করলেও রেভেন একটা সুন্দর আয়না নিয়ে এসেছিলো। সেই আয়নাতে এখন বর কনে কে মুখ দেখানো হবে।
আদ্রিস এবং আদ্রিতাকে পাশাপাশি বসানো হয়েছে।
আদ্রিতার লাল ওড়নাটা আদ্রিসের মাথায়ও দিয়ে দেওয়া হলো।
প্রিয়া আয়নাটা এগিয়ে ধরে আদ্রিসের দিকে,
“কি দেখতে পাচ্ছো ভাইয়া আয়নাতে?”
আদ্রিস তাকিয়ে রয় আদ্রিতার দিকে। আদ্রিতা লজ্জায় তাকাচ্ছে না। আদ্রিস এক নিশ্বাসে বলে ওঠে,
“আমার পুরো পৃথিবী। আমার শুখ, আমার শান্তি টুকু।”
আদ্রিতা তখন চোখ ফেরায় আদ্রিসের দিকে। আদ্রিসের কথাটা শুনে উপস্থিত সবাই হাসতে তালি দেয়। সায়ের এসব রেকর্ড করছে।
এরপর আদ্রিতাকে একই প্রশ্ন করে প্রিয়া৷
“আদ্রিতা। আমার নতুন ভাবি কি দেখো আয়নায়?”
আদ্রিতা বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে,
“আমার স্বামীকে।”
কথাটা বলে আদ্রিতা লজ্জায় লাল হয়ে যায়।
উপস্থিত সবাই হাতে তালি দেয় আদ্রিতার উত্তর শুনে।
কিছুক্ষণ পর,
মিরা একটা কাজে বাগানের দিকে গিয়েছে। সেখানে গিয়ে মিরা দেখে সায়ের সিগারেট টানছে৷
মিরা তা দেখে এগিয়ে যায়।
“কি করছেন?”
সায়ের ফিরে চায়৷ মিরাকে দেখে সে অবাক হয়।
“কাজ করছি।”
“সিগারেট খাওয়া আপনার কাজ?”
“হুম বলতে পারো।”
কথাটা বলে সায়ের মিরাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে মিরা সায়েরের হাত ধরে বসে।
সায়ের বাঁকা হাসে। তবে সেই হাসি না দেখিয়ে সায়ের ফিরে তাকায় মিরার দিকে।
“কি হয়েছে?”
“র রাগ করেছেন?”
“কেন তুমি আমার কে যে আমি রাগ করতে যাব।”
মিরা ছেড়ে দিলো সায়েরের হাত।
“আ আমি কেউ নই?”
“উহু।”
মিরা আর কোন শব্দ করলো না। চলে গেলো সে ভেতরে।
সায়ের বাঁকা হাসলো।
“সেটাত সময় বলবে জানেমান। তুমি আমার কি। “
সায়ের ভেতরে চলে যায়।
আদ্রিস, আদ্রিতার জন্য ছোটখাটো ডেকোরেশনে লেগেছে, সায়ের, রেভেন,প্রিয়া এবং মিরা।
তবে সেই সময়টাতেও মিরার সাথে সায়েরের কোন কথা হয়নি।
ওদিকে মাধবী বেগম আদ্রিতার সাথে বেশ কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
আদ্রিতাও সব উত্তর দেয় মাধবী বেগমের।
সব কিছুর মাঝে আসরাফ খানই যেন ছিলো কোন চিন্তায়৷
চলবে?
[ রেসপন্স করবা ]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৪
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১০
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৯
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১