দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৭৪_প্রথমাংশ
শেষ রাতের প্রহর। অর্ধ জ্ঞান অবস্থায় চোখ বন্ধ করে বিছানায় নেতিয়ে পরে আছে মায়া। নড়াচড়া বিহীন। রিদ ঝুঁকে মায়াকে বিছানার চাদরসহ মুড়িয়ে কোলে তুলে নেয়। রিদের কোলে নেওয়াতে ও যেন মায়া ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল। বন্ধ দু-চোখের পাতা টেনে রিদকে দেখতে চাইল মায়া কিন্তু নীল ব্যথায় কুঁকড়ে দেখা সম্ভব হলো না। রিদ মায়াকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমের শাওয়ারের নিচের নামিয়ে দিল। একহাতে মায়ার পিঠ আঁকড়ে ধরে উম্মুক্ত বুকে জড়িয়ে নিয়ে অন্যহাতে শাওয়ার ছেড়ে দিল। ঠান্ডা পানির স্পর্শ দেহে পরতেই যেন ব্যথায় জ্বলে উঠে মায়ার শরীর। জ্বালাময় শরীরে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে মায়া ডুকরে কেঁদে উঠে রিদের বুকের সাথে নেতিয়ে পরে। রিদ কিছু বলল না। বরং একহাতে মায়ার পিঠ জড়িয়ে রেখে অন্যহাতে দিয়ে মায়ার মাথা ধরে কপালে ভেজা ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। হাত বাড়িয়ে মায়ার খোঁপা করা চুল গুলো ছেড়ে দিতে চাইলে মায়া কান্না ভেজা গলায় গুমরে একটু করে নাহুচ করল…
—” উহুম!
রিদ মায়ার নাহুচ শুনলো না। বরং চুল ছেড়ে দিতে দিতে বলল…
—” চুল না ভেজালে ফরজ গোসল হয়না। অপবিত্রতা থেকে যায়।
মায়া চুপ থাকল। কিছু বলল না। রিদ মায়াকে যত্ন সহকারে গোসল করিয়ে বাথটব পড়িয়ে রুমে নিয়ে আসে কোলে করে। তার গাও পুরো ভেজা। প্যান্ট থেকে ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে পানি ফ্লোর ভেজে যাচ্ছে। রিদ সেদিকে মনোযোগ হলো না। বরং মায়াকে সোফায় বসিয়ে সে গেল গোসল করতে নিজের কাপড় নিয়ে। তবে যাওয়া আগে বিছানার ব্ল্যাঙ্কেটটি নিয়ে মায়ার গায়ে মুড়িয়ে বসিয়ে দিয়ে গেল। অল্প সময় নিয়ে রিদও দ্রুত গোসল সেরে বের হলো। মাথা মুছতে মুছতে সোজা কর্বাড থেকে নতুন বিছানার চাদর নিয়ে বেডে বিছিয়ে দিল। পুনরায় কর্বাডের দরজা খুলে মায়ার কাপড় খুঁজল কিন্তু শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পেল না। রিদের মেয়েলি কাপড় সম্পর্কে ধারণা নেই। কখনো মেয়ে সঙ্গ নেইনি তাই জানা নেই। শুধু বউ বউ করে মেয়েদের সম্পর্কে অনেক কিছু অবগত হয়েছে রিদ। কিন্তু তাই বলে সে যে মেয়েদের শাড়ি পড়াতে পারে ভুলেও সেটা না। তার তো শাড়ি খুলার কাজ! তাহলে সে কি করে শাড়ি পড়াতে জানবে? রিদ মায়ার শাড়ির রেখে শটকার্ট নিজের একটা সাদা পাঞ্জাবি হাতে তুলে নিয়ে কর্বাডের দরজা বন্ধ করে ফের মায়ার কাছে গেল। মায়াকে সোফায় হেলিয়ে পরে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখে রিদ বুঝতে পারে সে কতটা ব্যথায় আছড়ে পরে আছে। রিদ মায়াকে নরম হাতে টেনে সোফায় বসিয়ে গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে পাঞ্জাবিটা পড়িয়ে দিতে দিতে বাথটবটা নেয়। রিদের পাঞ্জাবি মায়ার গা মুড়িয়ে পায়ের পাতা ঢেকে ফ্লোর পযন্ত ঠেকলো অর্ধ হাত। রিদ পুনরায় মায়াকে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে মাথার টাওয়াল খুলে নিয়ে ভেজা মাথা মুছে দিতে লাগে। মায়া নিরব ভূমিকা পালন করে। রিদ রয়েসয়ে সময় নিয়ে মায়ার চুলের মুছে দিয়ে, খাটের পাশে ছোট টেবিলের ড্রয়ার থেকে খুঁজ করে ফাস্টের বক্স থেকে পেইন কিলার্স নিয়ে মায়াকে খাওয়াল।
সুন্দর করে মায়াকে বিছানায় শুইয়ে গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে দিয়ে রুমের লাইট নিভিয়ে সেও এসে মায়ার পাশে শুলো। মায়ার ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে ঢুকে আলতো হাতে মায়াকে টেনে নিজের বুকে নিয়ে ফের মায়ার কপালে চুমু খেল। আস্তে করে বলল…
—” বেশি ব্যথা পেয়েছ?
—” হুমমম।
—” খুব বেশি?
—” হুমমম।
—” আচ্ছা ঘুমাও! সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে।
রিদ মায়াকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। আরাম পেয়ে মায়াও বিড়াল ছানার মতো রিদের বুকে ল্যাপ্টে পরে রইল। একটা সময় দুজনই ঘুমিয়ে পড়ল।
~~
সকাল এগারোটা। শীতের দিন। বাহিরে কর্ড়া রোদ থাকলেও গরম নেই। আবহাওয়া নরম। মায়া রিদের বাহুতে মাথা রেখে কাত হয়ে শুয়ে আছে। তবে চোখ খুলা। নড়াচড়া নেই। মাথা পযন্ত ব্ল্যাঙ্কেট টেনে ঘন ঘন আঁখি পলব নাড়িয়ে অনবরত বিছানার চাদর খুটাচ্ছে সে। মূলত মায়া পেটের খিদায় জেগে আছে বিগত দুই ঘন্টা ধরে। ঘুম নেই দু-চোখে পাতায়। কিন্তু রিদকে ডাকতে পারছে না লজ্জায়। তাই ঘুমের ভান ধরে চুপচাপ শুয়ে আছে শক্ত হয়ে। রিদ মায়ার পিছনে থেকে পেট জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে। রিদের প্রতিটা ঘন গরম নিশ্বাস ব্যক্ত করছে রিদ কতটা গভীর ঘুমে আছড়ে আছে। মায়ার পিঠ রিদের খোলা বুকের সাথে ঠেকানো। সময়টা এইভাবেই আরও কিছুক্ষণ কাটল। মায়ার অবস্থাও একি। তবে রিদের ঘুমের রেশ ধীরে ধীরে কেটে উঠে মায়ার পেটের ভিতর গুমগুম শব্দে কারণে। রিদ তখনো পুরোপুরি ঘুমের রেশ কাটাতে পারি। দু-চোখের পাতা বন্ধ রাখা অবস্থায় নাক ঘষলো মায়ার চুলে ভেজা ঘাড়ে। ঘুম জড়ানো কন্ঠে আস্তে করে বলল…
—” কখন উঠেছ?
মায়া শব্দ বিহীন ঠায় পরে রইল। রিদের উষ্ণ ছুঁয়া, রিদের নেশাক্ত কন্ঠ সবকিছুই মায়ার শরীর যেন মূহুর্তেই কম্পন সৃষ্টি করে। রিদ মায়ার কম্পিত শরীরটার সাথে আরও চেপে গেল। মায়ার পেটের উপর জড়িয়ে রাখা হাতটা হাতড়ে মায়ার পেট চেপে চেপে চেক করে বুঝতে পারলো আসলে শব্দটা মায়ার পেট ডাকার শব্দ। রিদ নিজের মুখটা মায়ার ঘাড়ে আরও চেপে ধরে আগের নেয় বলল…
—” খিদা পেয়েছে তো আমাকে ডাকলে না কেন?
মায়া নিরুত্তর হয়ে ঠায় পরে রইলো চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে। এতোটা শক্ত যে সামান্য হাতটা পযন্ত নাড়াচ্ছে না গাঢ় লজ্জায়। রিদ মায়ার শব্দ না পেয়ে ফের বলে…
—” ফোনটা দাও খাবার অর্ডার করি।
মায়া তাও নড়লো না। ঠায় আগের নেয় শক্ত হয়ে পরে রইলো। রিদ মায়ার সাড়াশব্দ না পেয়ে মাথা উঁচিয়ে তাকায়। আশ্চর্য বউটা জাগ্রত থেকে কেন কথা বলছে না? রিদ ভ্রুর কুঁচকে মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে কিছু না বলে নিজেই মায়ার উপর দিয়ে হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিয়ে উঠে বসল। হোটেলের ম্যানেজারকে বলে খাবার অর্ডার করে ফের মায়ার দিকে তাকাল। অদ্ভুত তো! খিদা পেয়েছে সেটা না বলে এমন শক্ত হয়ে পরে আছে কেন? কারণটা রিদ তখনো বুঝল না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ব্ল্যাঙ্কেটের উপর দিয়ে মায়ার বাহুতে হাত রেখে ডেকে বলল…
—” রিত উঠো! খাবার অর্ডার করেছি ফ্রেশ হয়ে আসো যাও।
মায়াকে তখনো উঠতে না দেখে কপাল কুঁচকে রিদ। কি সমস্যা? বউটা এমন করছে কেন? কি হয়েছে সেটাই তো বুঝতে পারছে না সে। রিদ সম্পূর্ণ বিষয়টি তখন বুঝতে পারে যখন মায়ার মাথার উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেটটি টেনে সরাতে চাইল কিন্তু পারলো না। মায়া জোর খাটিয়ে পরে থাকে তখন রিদ বুঝতে পারে আসলে তার বউ তাকে লজ্জা পাচ্ছে। সেজন্য এমন মটকা মেরে শক্ত হয়ে বিছানায় পরে আছে। রিদ দুষ্টু হেঁসে ফের মায়ার দিকে ঝুকে পড়লো। মায়ার কানে কানে ফিসফিস করে বলল…
—” তুমি কি লজ্জা পাচ্ছ রিত? লজ্জা কাহিনি কিন্তু রাতে শেষ। তবে আমি কিন্তু নিষ্পাপ, পুরো ভার্জিন। তাই আমাকে দোষারুপ করা যাবে না।
রিদের কথায় মায়া উত্তর করলো না। বরং নাকে মুখে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে শরীর ঢেকে আরও শক্ত হয়ে চেপে শুলো বিছানায়। লজ্জায় নাক মুখ গুঁজে গেল মায়ার। শরীর কাপছে অনবরত তারপরও রিদের কথার উত্তরে কিছুই বলার চেষ্টা করছে না সে। রিদ মায়ার সাথে ফের দুষ্টু করে দুই একবার ডেকে চলে গেল ওয়াশরুমে। আপাতত ফ্রেশ হওয়া দরকার। তারপর না-হয় বউয়ের লজ্জা ভাঙ্গানো যাবে। রিদ সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতে হতে মায়ার দিকে তাকাল। সেই আগের নেয় এখনো মটকা মেরে বিছানা পরে আছে মায়া। নড়ছে না পযন্ত। রিদ মায়াকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে কর্বাড থেকে নতুন পাঞ্জাবি নিয়ে পড়ে ফেলল চট করে। ডোরবেলের শব্দে রিদ কর্বাডের দরজা বন্ধ করে সেদিকে এগিয়ে যেতেই মায়া টুপ ব্ল্যাঙ্কেট ভিতর থেকে মাথা বের করে উকি মারল। রিদ দরজা খুলতেই সামনে পেল দুজন সার্ভেন্ডকে সাথে নিয়ে ম্যানেজার দাঁড়িয়ে আছে খাবার নিয়ে। রিদকে দেখে প্রথমে ম্যানেজারই বলে উঠে…
—” গুডমর্নিং স্যার! আপনার খাবার গুলো নিয়ে এসেছি।
রিদ কপাল কুঁচকে দু-ট্রে ভরতি খাবার গুলো দেখলো। কিন্তু একটা চিন্তা করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল…
—” প্রতিটা খাবার আইটেম একটা প্লেটে নিয়ে টেস্ট করুন কুইক।
রিদের কথায় কেউ বিচলিত হলো না। বরং স্বাভাবিক ভাবেই নিল। যেন এটি এর আগেও বহুবার ঘটেছে তাদের সাথে। ম্যানেজার মিষ্টি হেঁসে বলে…
—” জ্বিই স্যার! শিওর।
একে একে প্রতিটি খাবার প্লেটে অল্প অল্প নিয়ে টেস্ট করে রিদকে খেয়ে দেখাল ম্যানেজার সাহেব। রিদ সন্তোষ হয়ে গম্ভীর মুখে তাদের চলে যেতে বলে। সবাই চলে যেতেই রিদ খাবার ট্রে টেনে ধরতেই মায়া পুনরায় টুপ করে ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে ঢুকে গেল। মূলত মায়া খাবার কথা শুনেই মাথা বের করেছিল কিন্তু রিদকে এদিকে আসতে দেখে লজ্জা ফের গুঁজে যায় ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে। রিদ দরজা লাগিয়ে খাবার ট্রে চালিয়ে সোফার সামনে রেখে মায়ার দিকে এগিয়ে গেল ডাকতে। মায়ার গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট উঠাতে চাইলে বুঝতে পারল মায়া সেটি শরীরে পেচিয়ে শুয়ে আছে। রিদ জোর খাঁটিয়ে টানতেই ব্ল্যাঙ্কেট-সহ মায়ার শরীর বেঁকে গেল তারপরও মায়ার শরীর থেকে সেটি আলাদা করা গেল না। রিদ ব্ল্যাঙ্কেট টেনে হতাশ গলায় বলে…
—” রাতের কাজ রাতে শেষ হয়ে গেছে রিত এখন কিসের লজ্জা? আমি কিছু করছি এখন? উঠো না রিত! খাবারটা খেয়ে আবার লজ্জা পেও কেমন। উঠো।
এবারও মায়ার নড়াচড়া বিহীনা মটকা মেরে পরে থাকায় দেখে রিদ মায়াকে ব্ল্যাঙ্কেটসহ মুড়িয়ে ঐ অবস্থায় কোলে তুলে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসল। মায়াকে কোলে বসিয়ে বামহাতে আকড়ে ধরে ডানহাতে প্লেটের খাবার তুলে নিল। মায়ার পছন্দের মাছ ভাত মাখিয়ে বলে…
—” আচ্ছা তুমি লজ্জা পাও আমি কিছু বলবো না। কিন্তু একটু করে মুখটা বের করো আমি খাবারটা খাইয়ে দেয় তোমায়। খাবার না খেলে ঠিকঠাক লজ্জা পাওয়া হবে না রিত। চলো খা করো।
রিদ ভাত মাখিয়ে মায়ার মুখের সামনে ধরতেই, মায়া রিদের কথা মতো একটু মুখটা বের করে টুপ করে খাবারটা মুখে তুলে নিয়ে পুনরায় ফেস ঢেকে নিল ব্ল্যাঙ্কেটে রিদকে নিজের মুখটা দেখাবে না বলে। কাল যাহ হলো তারপর কি মায়া আর জীবনে রিদকে মুখ দেখাতে পারবে? লজ্জায় মরে-টরে যাবে না সে। উফফ এতো লজ্জা মায়া জীবনেও এই মুখটা আর দেখাবার নয় মিস্টার ভিলেনকে। ইশশ! মায়ার কেঁপে উঠা রিদ বুঝতে পারলো। একহাতে মায়াকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে অপর হাতে ফের মায়ার মুখের সামনে ধরতেই মায়া পুনরায় একি কাজ করলো। রিদ প্রসন্ন হেঁসে দুষ্টু কন্ঠে বলল..
—” অল্পতেই এই অবস্থা তোমার রিত? সবে তো সংসার শুরু করেছি মাত্র। আর তো থামাথামি প্রশ্নই উঠে না। আমি যা মানুষ! রোজ তো কয়েক বার করে ধরবো তোমায় তখন কি এভাবে লজ্জা পেলে চলবে?
রিদের ঠোঁট কাটা কোথায় তীব্র হাড়ে গা কাপিয়ে কেঁপে উঠে মায়া রিদের বুকে হেলিয়ে পরে। রিদ হাসে তবে আর কিছু বলে না। বউ তার এমনিতেই লজ্জায় মুখ দেখাচ্ছে না। আরও বেশি কিছু বললে দেখা যাবে আর ভাতটাও খেল না। রিদ মায়াকে রয়েসয়ে পেট পুরিয়ে খাইয়ে দিয়ে পানি খাওয়াল। মায়া পানি খেয়ে ফের মুখ ঢেকে রিদ বুকে পরে রইলো। রিদ মায়াকে কোলে নিয়ে সে নিজেও খেয়ে নিল। হাতটা ধুয়ে টিস্যুতে মুছে মায়াকে সোফায় বসিয়ে বলে’ ড্রেস চেঞ্জ করে নিতে সে একটু বাহিরে যাবে জরুরি কাজে। কয়েক মিনিটের ভিতর ফিরে আসবে। মায়ার উত্তর না পেয়ে রিদ বাধ্য হয়ে মায়াকে সোফায় বসিয়ে বের হয় একটা কাজে। বাহির থেকে দরজা বন্ধের শব্দ পেয়ে মায়া মাথা বের করে উঁকি দিল। রিদকে দেখতে না পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাসে গায়ে থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে নিজের দিকে তাকাল। শরীরে রিদের সাদা একটা পাঞ্জাবি দেখে মায়া রাতে কথা মনে করে লাজুক হেঁসে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে মুখ ডেকে নেয়। ছিঃ কি লজ্জা? কি লজ্জা? মায়া লজ্জায় লাল হয়ে বেশ কিছুক্ষণ পর মুখ থেকে হাত সরিয়ে আষ্টশ হয়ে উঠে দাঁড়াতে চাইল। কিন্তু তীব্র তলপেটে টনটন ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে টুপ করে জায়গায় বসে পরে। কিছুটা সময় দাঁতে দাঁত চেপে বসে থেকে ফের উঠে দাঁড়াল। এতোটা সময় হাঁটেনি মায়া তাই ব্যথাটা বুঝেনি। কিন্তু এখন যেন হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। মায়া খুবই ছোট ছোট পা ফেলে কর্বাড পযন্ত গিয়ে সেখান থেকে শাড়ি আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ওয়াশরুমের ঢুকল। এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে রেডি হতে থাকল। রিদ গুটি কয়েক মিনিটের মধ্যে রুমে ফিরে আসল। দরজা বন্ধ করে পিছন ফিরে মায়াকে সোফায় দেখতে না পেয়ে হালকা কপাল কুঁচকায়। ওয়াশরুম থেকে পানি শব্দ কানে আসতেই রিদ বুঝতে পারলো মায়া ওয়াশরুমে আছে। রিদ স্বতস্ফুর্তার সঙ্গে বিছানা পাশে দাঁড়িয়ে হাতের ফোন ও পিল ঔষধের পাতাটা ছোট টেবিলের উপর রাখল। আজকে আর বাসায় ফিরবে না সে, আর না কাজে যাবে। একেবারে কাল ফিরবে। আপাতত আসিফকে বলা হয়েছে অফিসিয়াল দিকটা সামলাতে যতটা পারা যায়। ঝামেলা হলে রিদকে ডাকতে। আর বাড়ি যাবে না কারণ হলো বউয়ের সাথে একান্ত সময় কাটাতে চাই বলে। বাড়ি গেলে দেখা যাবে তার পাগল বউ তাকে ভুলে যাবে অন্য মানুষদের পেয়ে। এজন্য মূলত সে আজ বাড়িই যাবে না। কাল ভোর সকালে যাবে কারণ কাল বউভাতে অনুষ্ঠান হবে তাই। রিদ বিছানায় আর্ধ শুয়া অবস্থায় বসে কপাল হাত ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে। তার ঘুমটা পূরণ হয়নি। বউটা বের হলে ফের ঘুমাবে দুজন। কারণ রাতে আবার তাদের দুজনকে জাগ্রত ও থাকতে হবে। এখন ঘুমটা কম হলে চলবে? রিদের বেশ অনেকটা সময় একা পার হলো। একটা সময় ওয়াশরুমের দরজা খট করে খুলার শব্দ পেয়ে রিদ কপাল থেকে হাত সরিয়ে চোখ তুলে তাকাল সেদিকে। মায়ার গায়ে ভাঙরি কার্লারের একটা পাতলা শাড়ি পড়া। রিদ কপাল কুঁচকায়। তার সুন্দরী বউ কি আরও সুন্দর হয়ে গেল নাকি? এতো ঝলঝল করছে কেন চেহেরা, শরীর, সবকিছু? রিদ ছুঁয়ে দিয়েছে বলে এজন্য? সাংঘাতিক ব্যাপার তো! বউ যদি এমন ঝলঝল করে তাহলে রিদের সারাদিন ছুঁয়ে দিতে মন চাইবে। আর সারাদিন ছুয়ে দিতে মন চাইলে তো রিদের কাজ-কর্ম সব আকাশে উঠবে। অফিসেও মন বসবে না। উফফ না এই বউটা নিয়ে সে আর পারছে না। সে যায়ই করে না কেন? সবকিছুতে রিদ নিজেই ফেঁসে যায় বউটাকে নিয়ে। এবার তো বউটাকে ছুঁয়ে দিয়েও ভুল হয়ে গেছে। এখন বউ ছাড়া তো তার একদিনও চলবে না। রোজ তার বউ চাই-ই চাই ফাইনাল। রিদ নড়েচড়ে বসে। মায়া রিদকে রুমে দেখে হকচকিয়ে যায়। লজ্জায় পালাতে না পেরে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে পরে নত মস্তিষ্কের নার্ভাসে হাত কচলাতে কচলাতে। মায়া চাইলেও দৌড়াতে পারছে না তলপেটের ব্যথায়। রিদ এক দৃষ্টিতে মায়াকে দেখতে দেখতে বিছানার পাশে বসে। মায়ার দিকে তাকিয়ে মিহি স্বরে ডেকে বলে…
—” আমার কাছে আসো।
রিদ কথায় মায়া নড়েচড়ে উল্টো বেঁকে দাঁড়ায়। রিদ মায়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বলে…
—‘ এদিকে আসো! এখন কিছু করবো না আমি। আসো!
মায়া চোখ খিঁচে বন্ধ করে নেয় লজ্জায়। ছিঃ কি কথা? এখন কিছু করবে না মানে আরও কিছু করার বাকি ছিল বুঝি? রিদ ফের ডাকে। মায়া এবার বাধ্য মেয়ের মতোন রিদকে দিকে আগায় ছোট ছোট পা ফেলে হেঁটে। রিদ মায়াকে ছোট ছোট পা ফেলে হাটতে দেখে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেসা করে…
—” হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে?
মায়া হাল্কা নড়েচড়ে দাঁড়ায়। ইতস্তত ভঙ্গিতে আষ্টশ হয়ে নত মস্তিষ্কের দাঁড়িয়ে একটু করে বলল…
—” হুমমম।
—” বেশি?
মায়া কথা বলে না। রিদ ফের জিজ্ঞেসা করে…
—” বেশি?
—” হুমম।
রিদ চুপ করে যায়। ইশারায় নিজের পাশে বসতে বলে মায়াকে। মায়া এগিয়ে এসে আস্তে করে বসতেই রিদ দুটো টেবলেট, দুটো ঔষুধের পাতা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মায়ার হাতে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। এগিয়ে সোফার টি-টেবিলে থেকে মায়ার জন্য পানির গ্লাসটা আনতে সামনের দিকে পা বাড়াতেই, মায়া ঔষধ গুলোর দিকে তাকাল তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। একটা ঔষধ মায়া চিনে সেটা পেইন কিলার্স। রাতে একটা খেয়েছিল বলে মনে আছে। কিন্তু অন্যটা কি ঔষধ চিন্তে পারছে না বলেই মায়া ঔষধের পাতার দিকে তাকিয়ে নামটা দেখে নিল ‘পিল’। কিন্তু মায়া পিল ঔষধটা কিসের কাজ করে সেটাও জানে না। তাই সে দুটো ঔষধ হাতে নিয়ে বসে রইল। ততক্ষণে রিদ পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে মায়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল…
—” নাও! ঔষধ দুটো ঝটফট খেয়ে নাও।
মায়া হাসফাস করলো। ঔষধের পাতার দিকে আরও একবার আড়চোখে তাকিয়ে মিনমিন স্বরে বলল…
—” এই ঔষধ গুলা কিসের?
মায়ার কথায় রিদ সোজাসাপ্টা উত্তর করলো..
—” একটা তোমার ব্যথার জন্য পেইন কিলার্স। অন্যটা পিল। নাও খাও।
রিদ পানি এগিয়ে দিতে মায়া গ্লাটা হাতে নিল। ঔষধ গুলো মুখে না নিয়ে ফের বলল…
—” পিল কি? এটা কিসের ঔষধ?
মায়ার কথায় এবারও রিদ সোজাসাপ্টা উত্তর করলো মায়াকে..
—” এটা জম্ম নিরোধন ঔষধ। এটা খেলে তোমার বেবি হবে না। এবার খাও।
মায়ার বুক কেঁপে উঠে। না জেনেই সে এখন এই ঔষধটা যদি খেয়ে ফেলত তাহলে কি-হত? মায়ার পেটের বেবিটা মরে যেত না। এতো বড় পাপ কি মায়া জেনেশুনে কখনো করবে? অবশ্যই করবে না। রিদের বেবি চাই না। মায়া কখন বলল যে মায়ারও বেবি চাই না। অবশ্যই মায়ার বেবি চাই। একটা দুটো না গুনে গুনে পাঁচটা বেবি চাই মায়ার। সে যতক্ষণ না পাঁচ বেবি নিচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মায়া রিদের সাথে ছলনা করে যাবে বেবির বিষয় নিয়ে। এবার যতকিছু হোকনা কেন? মায়া স্বস্তির স্বাভাবিক চোখ তুলে রিদের দিকে তাকায় একবার। কোনো প্রকাশ রিয়েক্ট না করে চুপচাপ মুখে একটু করে পানি নিয়ে প্রথম পেইন কিলার্সটা খেল রিদের সামনে। দ্বিতীয় বার মুখে পানি নিয়ে পিল মুখে নিল ঠিকই কিন্তু গিলল না। গালের ভিতর জমিয়ে রাখল। শুধু রিদকে বুঝাল মায়া ঔষধটা খেয়েছে। রিদ সম্পূর্ণ বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নিল মায়া ঔষধটা খেয়েছে ভেবে পানির গ্লাসটা নিয়ে সোফার দিকে এগিয়ে যেতেই, মায়া টুপ করে গালের ভিতর থেকে পিল টেবলেট-টা বের করে তৎক্ষনাৎ বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলল রিদের দেখার আগেই। বেবির বিষয়টা এতো সহজে মায়া মেনে নিবে না। ঝামেলা হলে হোক তারপরও বেবি নিবে। মিস্টার ভিলেনকে তো বাবা বানিয়ে ছাড়বে মায়া।
চলিত….
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৭৪_শেষাংশ
বৌভাতের আয়োজনের জন্য রিদ বাঁধ হয়েই সেদিন দুপুরে দিকে মায়াকে নিয়ে হোটেল ছাড়ল। মায়াকে খান বাড়িতে রেখে সে গেইট থেকে ফিরেও গেল ব্যস্ততায় বিয়ের মেন্যুতে। তাড়াহুড়ো করে মায়াকে বাই পযন্ত বলল না। ছুটল নিজের কাজে। আয়োজন বিশাল। মানুষও বেশি। তাই সবকিছু ঠেকেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আসিফ, আরাফ খান, আয়নের একা পক্ষে। রিদকে প্রয়োজন। তাই অজ্ঞাত রিদও গেল সেখানে। রিদকে বাংলাদেশের দেখে হেনা খান বুঝতে পারলো রিদ মায়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া বিষয়টি। মূলত আরও কনফার্ম হল মায়াকে দেখে। তবে কেউ কিছু বললো না। যার যার মতো নিরব থেকে কাজে গেল। মায়াকে টিয়া ছায়ার সাথে রিদের রুমে পাঠাল। রিদের রুমে গিয়ে মায়া দেখল সেই আগের ফুলে ফুলে সাজানো পুরাতন বাসরটাকে। শুকনো নিস্তেজ সাদাফুলে ছড়িয়ে থাকা এলোমেলো বিছানাটা। যেমনটা মায়া রেখে গিয়ে ছিল। হেনা খান সার্ভেন্ড দিয়ে সবকিছু পরিষ্কার করাল দ্রুত। মায়াও বউ বউ হয়ে সারাদিন পার করলো হেনা খানের সাথে থেকে। বাড়িতে আগ্রত মেহমানদারিও করলো টুকটাক। তবে দিন শেষ রিদকে পাওয়া গেল না। কোথায় আছে তাও জানে না মায়া। শুধু জানে রিদ কাজে ব্যস্ত। মায়াকে একটু করে ফোন করার সময়টুকু তার নেই। প্রথমে বিষয়টি নরমাল ভাবে নিলেও পরর্বতীতে সেই বিষয়টিই কান্নার কারণ হয়ে যায় মায়ার। যখন দেখল রিদ দিন গিয়ে রাতেও বাড়ি ফিরল না তখন। মায়া ছটফট করতে করতে রাত একটা অবধি জাগ্রত অবস্থায় বসে থাকল রিদের অপেক্ষায়। তাতেও রিদ বাড়ি ফিরল না। মায়ার খুঁজও নিল না। ভালোবাসাময় মায়া অধৈর্য্যের নেয় ডুকরে কেঁদে উঠে কষ্ট ভারাক্রান্ত মনে। এটা কোনো কথা? বিয়ের পরদিনই এইভাবে লা-পাত্তা হয়ে থাকে কেউ? মায়া কি তার কেউ না? এতোটা গুরুত্বহীন মায়া? অন্তত মায়াকে একটা কল করার প্রয়োজন হয়-না তার? দিন গিয়ে রাত হলো। তারপরও একটু সুযোগ হয়না তার বউ হিসাবে মায়ার সামান্য খুঁজ করার একটা ফোন করে। এতো ব্যস্ততা কিসের তার? সবসময় কেন মায়ার থেকে তার কাজটা গুরুত্বপূর্ণ হয়। আগেও একদিন দুইদিন পার হয়ে যেত মায়ার সাথে সেধে কথা বলতে আসতো না। যদি মায়া ঘুরঘুর করে যেত তাহলে কথা বলতো নয়তো না। এখন বিয়ের পরও এমনটা করছে। মায়ার জন্য তার দিনে সময় হয়না। এখন কি তার রাতেও সময় হয়না দুটো কথা বলার জন্য। এই অবহেলা কি সারাজীবন চলবে মায়ার সাথে? বিয়ে হতে না হতেই মায়াকে একা ঘুমাতে হচ্ছে এতো বড় রুমে। কেউ মায়ার সাথে ঘুমাতে পযন্ত আসছে না, এই ভেবে রাতে হয়তো রিদ আসবে তাই। অথচ মায়া যে এখন ভয় পাচ্ছে সেটা কি দেখবে। গভীর রাত, নিস্তব্ধ পরিবেশে মায়ার ফুপানো কান্নার শব্দ কেউ শুনলো না। নিরবতার আড়ালেই রইয়ে গেল সব। মায়া সোফায় হেলিয়ে পরে কাঁদতে কাঁদতে একটা সময় ঘুমিয়ে গেল। মায়া ঘুম ভাঙলো ঠিক আটটার দিকে দরজার খটখট শব্দে। অলস মায়া শরীরটা টেনে সোফায় উঠে বসল। এলোমেলো ঘুমের জন্য ঘাড় শরীর টনটন ব্যথা অনুভব করতেই, মায়া শরীর বাঁকিয়ে ঘাড়ে হাত দিয়ে মাসাজ করল আলতো হাতে। ঘুম জড়ানো চোখ টেনে খুলে দরজার দিকে তাকিয়ে আড়মোড় ভেঙ্গে অলস ভঙ্গিতে উঠে দাড়িয়ে, দরজা খুলে দিতেই টিয়ার মুখোমুখি হলো মায়া। মায়ার অলসতা দেখে টিয়া বলে….
—” মায়ু তোকে দাদী ডাকছে নাস্তা করতি। আর রাতে একা ঘুমালি কেন? আমাকে ডাকতি বা তোর নিজের রুমে চলে যেতি, আমরা তো সেখানেই ছিলাম তাই না।
টিয়ার কথায় যেন মূহুর্তেই হুস ফিরল মায়ার। চমকে উঠে তৎক্ষনাৎ পিছন ফিরে নিজের খালি রুমটার ভিতর উঁকি মারল। রিদকে কোথাও দেখতে না পেরে বুকটা ধুক করে উঠল। ঘাড় ঘুরিয়ে টিয়ার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে বলল….
—” উনি রাতে আসেন নি?
—” না! ভাইয়া তো রাতে ফিরে নি। কেন তুই বলতে পারিস না?
ভিষণ কষ্টে বুক ভারি হলো মায়ার। ঘুম জড়ানো চোখ দুটো সিক্ত ভেজা হলো লোনাজলে। মায়া অল্প সল্প মাথা নাড়ালো। যার অর্থ সে জানে না। টিয়া ফের বললো…
—” ওহ! আসলে আমিও জানতাম না। শেষ রাতের দিকে আসিফ ভাইয়া ফোন করায় জানতে পারি তারা নাকি কি কাজে আটকে আছে। সকালে আগে নাকি বাসায় ফিরতে পারবে না।
মায়া তৎক্ষনাৎ কিছু বললো না। গলায় দলা পাকিয়ে আসা কষ্ট গুলো ঢুক গিলে একটু করে বলল…
—” তুই যা! আমি দাঁত ব্রাশ করে আসছি।
—” আচ্ছা আয় তুই। আমি নিচে গেলাম।
মায়া পিছন ঘুরে ফের খালি ঘরটা দেখল একবার। কাল থেকে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ না হওয়ার দারুণ গুমর কষ্টে কেঁদে উঠল। সত্যিই মায়া রিদকে ভিষণ মিস করছে। অনেক বেশিই মিস করছে। কাল থেকে চোখের দেখা দেখে না মায়া রিদকে। একটু করে মায়ার খবরও নিল সে। গোটা একটা দিন পারলো হলো দুজনের দূরত্বে। আর কত চলবে এসব? মায়া কষ্ট পেল। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কেঁদেকুটে ফ্রেশ হলো। সবার সাথে নাস্তা করে হেনা খানের সাথে সাথে থাকল ঘন্টা তিনেক। প্রায় এগারোটার দিকে মায়াকে পাঠানো হল গোসল করতে বৌভাতের অনুষ্ঠানের জন্য রেডি হতে। মায়া গেল। গোসলও করল। রেডি ও হলো। চারজন মেকাপ আঁটিস মিলিত ভাবে মায়াকে রেডি ও করল পুনরায় বউ সাজিয়ে। সবুজের সমাহার। চমৎকার সুন্দর দেখতে সবুজ রঙ্গা লেহেঙ্গা-গাউনটি মায়াকে পড়ানোর হলো। মায়া আয়না দেখে মিষ্টি হাসল। সারাদিনের রাগ অভিমান ভুলে গেল বঁধুবেশের সাজ দেখে। আহা কি সুন্দর দেখতে! মায়া এক মূহুর্তেই যেন খুশি হয়ে গেল। সাজ কমপ্লিট হতেই নিহা মায়ার বেশ কিছু ছবি তুলে নিল নিজের ফোনে। মায়াকে চমৎকার লাগছে বলে সেও নিজের সাজ কমপ্লিট করায় মনোরোগ হলো। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে সবাইকে বের হতে হবে মায়াকে নিয়ে। বাড়ির বড়রা সবাই অলরেডি বিয়ের মেন্যুতে আছে। মায়া সাথে শুধু টিয়া, ছায়া, নিহা, আর মারিহা আছে। প্রত্যেকেই অনুষ্ঠানে জন্য সাজতে ব্যস্ত। সেই সাথে রিদের অপেক্ষায় আছে। রিদ বাসায় আসলে বর-বউ একসঙ্গে রিসিপশনের এটেন্ড করবে এমনটা পূর্ব নিধারিত। মায়া ফের আয়না দেখল। আহ! আজকে মায়াকে দারুণ লাগছে। এই সাজ! এই মেকাপ! মায়া আগামী দুইদিনও তুলবে না। এতো সুন্দর সাজ কি এত সহজে ধুয়ে ফেলা যায়? মায়া কেন ধুবে? সুন্দর লাগছে না মায়াকে? সুন্দর সাজ মায়া দুই-দিন পযন্ত রাখবে। একদমই ধুবে না যতকিছুই হোকনা কেন? মায়া খুশিতে আটখানা হয়ে নিজের রুম থেকে বের হলো, উদ্দেশ্য রিদের রুমে যাবে। হেভি ভারি গাউনের উপরের পার্টটা মায়া দু’হাতে উঁচিয়ে আঁকড়ে ধরে হাটল দেরি দেরি। ভারি জিনিস আলগানো মুসকিল। পরে গেলে মায়ার ইজ্জত থাকবে না। বউ বলে কথা। পরলে হবে? মায়া উৎফুল্লর মনে রিদের রুমে গেল। দরজা লক না থাকায় সরাসরি ঢুকে পরলো। প্রথমে রিদকে লক্ষ না করলেও কয়েক সেকেন্ড মধ্যে ঠিকই লক্ষ করলো। মায়া দাঁড়ায়। উঁচিয়ে ধরা হাতে কাপড়টা ছাড়ল। দরজার সামনে থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রিদকে দেখল। কালকের সারা পাঞ্জাবি পায়জামা গুলো এখনো পরিহিত। তারমানে গোসল করেনি সে। রেডি ও হয়নি। অথচ এক্ষুনি তাদের রিসিপশনের অনুষ্ঠানে যেতে হবে। হাতে সময় নেই। কিন্তু তার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে না তার কোথাও যাওয়ার তাড়া আছে। কেন বিন্দাস উদাস মনে বসে আছে। যেন অনেক শোক পালন করছে সে এই মূহুর্তে। কিন্তু কিসের এতো দুঃখ কষ্ট তার? সেতো কষ্ট পায় না, কষ্ট দেয়? তাহলে আজ হঠাৎ এতো উদাস মন্ত কেন? মায়া চিন্তা করলো। কিন্তু উত্তর পেল না।
রিদ মায়ার উপস্থিতি বুঝতে পেরে একবার চোখ উঁচিয়ে দেখল মায়াকে। দীর্ঘ কয়েক সেকেন্ড এক দৃষ্টিতে মায়াকে পযবেক্ষণ করে ফের আগের নেয় উদাস মন্ত হয়ে গাল ফুলিয়ে বসে রইলো। যেন মায়াকে দেখে তার ভিতরের উদাসীনতাটা মূহুর্তেই আরও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেল এমন ভাব। মায়া কপাল কুঁচকায় রিদের গাল ফুলানো চেহারা দেখে। কোথায় মায়া রাগ করবে! কেন সে গোটা একটা দিন পর আসল। কেন মায়ার খরব নিল না কাল থেকে? অথচ মায়ার রাগ করার আগেই সে গাল ফুলিয়ে বিছানায় বসে আছে। মায়ার রাগ করার চান্স নেই। আচ্ছা এটা কি ঠিক? অন্তত মায়াকে একটা বার রাগ করার সুযোগটা তো দেওয়া উচিত ছিল তাই না? সবকিছুতেই সে কেন মায়ার আগে আগে থাকবে?
আর মায়া যদি রাগ করে তাহলে ভাঙ্গাবে কে? যে ভাঙ্গাবে সে নিজেই তো গাল ফুলিয়ে আছে। কিন্তু কেন? কিসের জন্য তার এতো অভিমান? মায়া সব ভুলে রিদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। মায়া কিছু বলবে, তার আগেই রিদ হালকা বামে মুড়ে বসল কথা বলবে না বলে। মায়া বুঝল রিদ আসলে অন্য কিছু নিয়ে নয়, বরং মায়ার সাথেই কোনো বিষয় নিয়ে রাগ করে আছে। কিন্তু মায়ার মিস্টার ভিলেন তো রাগ করে গাল ফুলানোর মানুষ না। বরং রাগে মাথায় ঠুস ঠাস থাপ্পড় মারার মানুষ। তাহলে আজ হলোটা কি? নিজের পার্সোনালিটির বাহিরে গিয়ে হঠাৎ কি জন্য এতটা অভিমান প্রকাশ করছে? তাও আবার মায়ার সাথে? ভালোবাসার মানুষ! আপন মানুষ ছাড়া তো আমরা কেউ, কারও সাথে এমন অভিমান, অভিযোগ করি না। তারমানে মায়ার তার মিস্টার ভিলেনের একান্ত মানুষ হয়ে গেছে এজন্য এমনটা প্রকাশ পাচ্ছে তার আচারণে। মায়া নিজের ভাবনাতেই তৃপ্তি হাসল ঠোঁট প্রসারিত করে। রিদ মায়ার হাসি দেখে আরও বেঁকে বসল কথা বলবে না বলে। মায়া আলতো হাতে রিদের বাহুর শার্ট টানল বেশ কয়েকবার নিজের দিকে ফিরাতে চেয়ে। কিন্তু রিদ ফিরল না। আর না মায়ার সাথে কথা বলল। বরং ঘাপটি মেরে বসেই রইল বিছানার পাশে ফ্লোরে পা ফেলে। মায়ার ফের রিদের বাহুর শার্ট টেনে বলল…
—” এই শুনুন না। ডাকছি তো।
রিদ কিছু বলল না। মায়া রিদকে ফিরতে না দেখে আগ বাড়িয়ে রিদের সাথে ঘনিষ্ঠ হলো। রিদের দু-পায়ের মধ্যস্হে দাঁড়িয়ে থুঁতি ধরে টেনে নিজের দিকে ফিরিয়ে মায়া কর্ড়া গলায় বলল…
—” কি? ডাকছি না আমি। শুনছেন না কেন?
রিদ মায়ার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল চুপ করে। মায়া হতাশ হয়ে ফের বলল…
—” বলুন না কি হয়েছে? এমন করছেন কেন? কাল থেকে এই পযন্ত কোথায় ছিলেন আপনি? কোনো খুঁজ খবর নেই। দেখুন পাঞ্জাবির কর্লারেও ঘামে ময়লা হয়ে গেছে। কাল থেকে নিশ্চয়ই গোসলটাও করেন নি তাই না?
মায়া কথা গুলো বলতে বলতে রিদের পাঞ্জাবির কলার উল্টিয়ে চেক করল। রিদ মায়ার পরপর প্রশ্নে একটা উত্তরও করলো না। বরং ঘাপটি মেরে জায়গায় বসেই রইলো। মায়া এবার হাসফাস করলো। আসলে রিদের কি হয়েছে তা কিছুই বুঝতে পারছে না সে। এমন অদ্ভুত আচরণ কেন করছে তাও জানে না। কাল মায়া লজ্জা কথা বলতে পারলো না। আর আজ রিদ অদ্ভুত কারণে গাল ফুলিয়ে আছে। কথা বলছে না। আচ্ছা কথা না বলাটা কি ছুঁয়াছুঁয়ি রোগ? মায়ার রোগটা কি তাহলে আজ তার স্বামীকে ধরে নিল? আহা মায়ার কি কষ্ট! এতো ছুঁয়াছুঁয়ি রোগ হলে মায়া কি করবে? কিছু করার আছে কি তার? মায়া হতাশ মনে ফের রিদের বাহু টেনে দাঁড় করাতে করাতে বলল…
—” উঠুন! গোসল করে আসুন। যান! তাড়াতাড়ি রিসিপশনের অনুষ্ঠানে যেতে হবে না আমাদের? আপনি বসে থাকলে হবে? যান না এবার!
মায়ার অল্প টানেই রিদ উঠে দাঁড়াল কিন্তু জায়গায় থেকে নড়ল না। মায়া রিদকে দাঁড় করিয়ে রিদের জন্য কাপড় আনতে গিয়েও পুনরায় থেমে গেল রিদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। মায়া ফের এগিয়ে এসে রিদের সামনে দাঁড়িয়ে কপাল কুঁচকে প্রশ্ন করে বলল…
—” কি হল দাঁড়িয়ে আছেন কেন? যান! দ্রুত গোসল করে আসুন। আমাদের দেরি হচ্ছে তো!
মায়ার কথায় রিদ আড়চোখে একবার মায়াকে দেখল! কিন্তু জায়গায় থেকে নড়লো না। দাঁড়িয়েই থাকল। মায়ার এবার ঠোঁট ভেঙ্গে কান্না পাচ্ছে। এটা কোনো কথা! রিদের কি চাই বললেই তো হয়। মায়া করে দেয়। কিন্তু এমন অদ্ভুত আচরণ করলে মায়া কি বুঝবে। মায়া কাঁদতে গিয়েও কাঁদল না। যদি সুন্দর সাজটা নষ্ট হয়ে যায় এজন্য। মায়া রিদের হাত ধরে টানতেই রিদ আপোষেই মায়া সাথে সাথে যেতে লাগল। দেরিতে হলেও মায়া বুঝতে পারলো এই মূহুর্তে মায়াকেই রিদের সব কাজ গুলো করতে হবে। নয়তো রিদ নিজের থেকে একটা কাজও করবে না। মায়া রিদকে ওয়াশরুমের শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে মিহি সুরে বলল…
—” আপনি গোসল করুন। আমি ততক্ষণে আপনার কাপড় গুলো বের করে রাখছি।
মায়া রিদকে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে গেল রিদের ড্রেসিংরুমে, রিসিপশনের জন্য আলাদা ড্রেস বের করতে। মায়ার নিজের সাথে মিল রেখে রিদের জন্যও সবুজ শেওরানি বের করল সাদা পাঞ্জাবি পায়জামা সাথে। ভাজ করা কাপড় গুলো নিয়ে মায়া ওয়াশরুমের ঢুকতেই দেখল রিদ এখনো আগের নেয় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে যেমনটা মায়া রেখে গিয়েছিল। গোসল তো দূরে থাক সামান্য নড়েনি পযন্ত। রিদের একগুঁয়েমি দেখে মায়া দুঃখ কষ্ট কাদু কাদু গলায় বলে উঠে…
—” আপনি এমন করছেন কেন? কি হয়েছে সেটাও বলছেন না। আবার গোসলও করছেন না। এমন করলে আমরা কখন রিসিপশনের পার্টিতে পৌঁছাব আপনিই বলুন? এখন কি আমি আপনাকে গোসল করাতে পারব? আমি রেডি হয়ে গেছি না? আমার সুন্দর ড্রেসটা ভিজে যাবে তো! আমার সাজটাও নষ্ট হয়ে যাবে। প্লিজ বুঝুন না! গোসল করে নিন না নিজে নিজে।
রিদ মায়ার কথা বুঝার চেষ্টা করা তো দূরে থাক উল্টো আরও বেঁকে মুড়ে দাঁড়াল। যার অর্থ সে পারবে না। মায়াও রাগে জেদ্দে দাঁড়িয়ে থাকল রিদের কাপড় নিয়ে। কারও মুখে কোনো কথা নেই। এক মিনিট! দুই মিনিট! প্রায় দশ- মিনিট পযন্ত দাঁড়িয়ে থাকার পরও যখন রিদের হেলদোল হলো না। তখন মায়া আর সময় নষ্ট করল না। রাগে দুঃখের হনহন করে ফের রিদের ড্রেসিংরুমে গেল। হাতের কাপড় গুলো ঠাস করে টেবিলের উপর রেখে আয়নার সামনে দাঁড়াল। মায়া জানে রিদকে এখন শত বলেও কাজ হবে না। সে এই মূহুর্তে নিজ থেকে কখনোই গোসল করবে না। অজ্ঞাত মায়া তেজি হাতে পরপর সবগুলো পিন খুলে মাথা আর গায়ের দু’টো দোপাট্টাই খুলে মাথার সাদা হিজাবটাও খুলল তৎক্ষনাৎ। রিদকে গোসল করাতে হলে এসব পড়ে তো আর গোসল করানো যাবে না তূই না। সবগুলো জিনিসপত্রই ভিষণ ভারি। মায়া নিজের রাগ মাটি করার চেষ্টা করল। অনেকটা সফলও হলো। হাতের চুড়ি থেকে শুধু করে গায়ে জড়ানো সবুজ ডায়মন্ডের অলংকার গুলো পযন্ত খুলে রাখল একে একে। অলংকার বিহীন হয়ে মায়া ওয়াশরুমের দিকে যেতে নিলেই আবারও থামে গায়ের ভারি কাপড় গুলোর দিকে তাকিয়ে। কয়েক সেকেন্ড ভেবে উপরের গাউনের সামনে থেকে সবগুলো বোতাম আলগা করে টেনে শার্টের মতোন খুলে নিল। নিচে লেহেঙ্গার সাথে এক্সটা ব্রাউজ থাকার পরও মায়া উপর দিয়ে রিদের একটা সাদা টি-শার্ট পরে নিল কমড়ের দিকে বেঁধে। মায়ার বিয়ের কাপড় বলে কথা। এতো অল্পতেই নষ্ট করা যাবে না। সারাজীবন গুছিয়ে রাখবে। তাই হাতে, পায়ের মোজাসহ হিল জুতা জোড়াও পযন্ত খুলে রাখল একপাশে। রিদের জন্য একটা সাদা টাওয়াল নিয়ে ফের গেল ওয়াশরুমের। রিদ তখনো আগের নেয় ত্যাড়ামি করে দাঁড়িয়ে ছিল। গায়ের পাঞ্জাবিটা পযন্ত খুলে রাখেনি। মায়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাতের টাওয়ালটা ওয়াশরুমে রেখে পুনরায় ড্রেসিংরুম থেকে চেয়ার এনে রিদের সামনে রাখল। রিদকে টেনে সেখানে বসিয়ে গায়ের পাঞ্জাবিটা মাথা গুলিয়ে খুলে, ভিতরের সাদা সেন্টু গেঞ্জিটা টেনে খুলার সময় মায়ার হাত দুটো কম্পমান হলেও স্বস্তির থাকার চেষ্টা করলো। ব্যবহিত কাপড় গুলো বালতিতে জমিয়ে রেখে মায়া রিদের পায়ের কাছে বসে ছোট ছোট হাতে রিদের প্যান্টের ফল্ট করে একটু উপরে তুলল। কালো লোমশ যুক্ত পা দুটো দারুণ আকর্ষণীয় লাগল মায়ার কাছে। তাই হাত বাড়িয়ে অল্প ছুঁইয়েও দিল। রিদ গাল ফুলিয়ে হোক বা আর যায় হোক না কেন? সে আঁড়চোখে বারবার মায়াকে পযবেক্ষণ করছিল বাক্য বিহীন। মায়া শান্ত ভঙ্গিতে রিদকে গোসল করাতে গিয়ে বেশ হিমসিম খেল। বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছিল রিদের শরীরে সাবান লাগাতে গিয়ে। রিদের ব্যবহারিত জিনিসপত্র গুলো বুঝতে পারছে না বলে মায়া নিজের জিনিসপত্রই ব্যবহার করলো রিদের শরীরে। রিদ দেখেও কিছু বলল না৷ অবশ্য মায়া বেশ কয়েক বার জিজ্ঞেসা করেছিল রিদকে যে ‘রিদ গোসল করতে কি ব্যবহার করে? কিন্তু রিদের চুপ থাকার দারুণ মায়া কিছুই বুঝল না। অজ্ঞাত মায়া নিজের জিনিসপত্র ব্যবহার করছে রিদের উপর। মায়া রিদকে সাবান শেম্পুয়ে মাখোঁ মাখোঁ করে শাওয়ারের ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে দূরে দাঁড়াল, যাতে সে ভিজে না যায়। এবং রিদকে বলল, ভালো করে শরীর ধুয়ে গোসল করতে! কিন্তু রিদ মায়ার কথা শুনলো না। নত মস্তিষ্কের ঠায় বসে রইলো পানির নিচে। রিদের নড়াচড়া না দেখে মায়া দ্রুত পানির ট্যাপ বন্ধ করে রিদের দিকে তাকিয়ে বলল…
—” এমন করছেন কেন? শরীর ধুতে বলছি। ধুচ্ছেন না কেন? এইভাবে ঠান্ডা পানির নিচে বসে থাকলে জ্বর উঠবে না? কি হয়েছে আপনার আমাকে বলুন না প্লিজ।
রিদ চোখ তুলে মায়ার দিকে তাকায়। তার শরীর তখনো সাবানের ফেনা ছড়িয়ে আছে। অজ্ঞাত মায়া রিদের উত্তরের আশা ছেড়ে দিয়ে নিজেই বালতিতে পানি নিয়ে মগ ভরতি পানি রিদের মাথায় টেলে গোসল করাল। টাওয়াল দিয়ে ভালো করে রিদের মাথা মুছে, গোছানো কাপড়ের গুলো এনে রিদের হাতে দিয়ে বলল ‘ ভেজা কাপড় গুলো চেঞ্জ করতে। মায়া দুই মিনিটের মধ্যে আসছে! এই বলে ফের মায়া রিদের ড্রেসিংরুমে গিয়ে সুজ, মোজাসহ বাকি জিনিসপত্র গুলো বের করে গুছিয়ে রেখে আবারও রিদের কাছে গেল ওয়াশরুমে। গিয়ে দেখল রিদ প্যান্ট পরে গলায় টাওয়াল ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে। মায়া দুঃখটা তখনো প্রকাশ করলো না। মেনে নিল। যার মায়ার মতো এমন একটা ত্যাড়া স্বামী থাকে সে মায়ার মতোই অসহায় হয়। এতে তাদের কিছু করার নেই। মায়া এগিয়ে রিদের হাত থেকে পাঞ্জাবিটা নিয়ে, রিদকে টেনে এনে বসাল ড্রেসিংরুমের সোফার উপর। রিদের ত্যাড়ামি করলো প্রচুর। মায়ার ধরলে নড়বে নয়তো জায়গায় দাঁড়িয়ে- বসে থাকবে বলে। মায়া রিদের চুপ থাকার বিষয়টি বুঝে নিয়ে সেচ্ছায় নিজ থেকে রিদের সব কাজ করে যাচ্ছে একের পর এক বিরতি বিহীন। মাথা মুছে রিদকে ভিতরের গেঞ্জিটা পড়ানোর সময় মায়ার বেখেয়ালি ভাবে চোখ যায় রিদের পেটানো প্রশস্ত শরীরের বুক পিঠের দিকে। লাল লাল রেশ দেখে মায়া আঁতকে উঠে তৎক্ষনাৎ বলে…
—” আল্লাহ্! এসব কি আপানার শরীর? এমন লাল হয়ে যাচ্ছে কেন?
রিদের দীর্ঘ চুপতি ভাঙ্গে মায়াকে উত্তেজিত হতে দেখে। হালকা নড়েচড়ে বসে আস্তে করে বলে…
—” আমার সাবানে এলার্জি আছে।
—” তাহলে আমাকে আগে বলেন নি কেন? আমি জিগ্যেসা করেছিলাম তো আপনাকে। দেখি আমাকে দেখান! শরীরে রেশ পরে যাচ্ছে তো! এখন কি করবো বলুন না?
—” কিছু করতে হবে না। এমনই চলে যাবে কিছুক্ষণ পর।
রিদের কথায় মায়া কষ্ট পেল। চেহারায় বিষন্নতা টেনে রিদকে গেঞ্জিটা পড়াতে পড়াতে বলল…
—” আপনি বলেন, আপনি কপাল করে আমার মতোন বউ পেয়েছেন। তাহলে আমি কি বলনো? আমিও তো কপাল করে আপনার মতোন স্বামী পেয়েছি তাই না। আমি আপনাকে বলে জ্বালায় সবসময়, যে আমার চাই সেটা নিয়ে। কিন্তু আপনি আমাকে না বলে জ্বালান। আপনার কি চাই সেটা ভুলেও মুখ ফুটে বলেন না। শুধু বলেন অবাধ্য হওয়া যাবে না রিত। কিন্তু আপনার বাধ্যকতার বিষয় গুলো আজ পযন্ত আমাকে বলেন নি। তবে যেটা করেন সেটা হলো, আপনার মর্জি মতো না হলেও বেঁকে বসবেন নয়তো রাগ দেখাবেন আমার সাথে। এই যে এখন গাল ফুলিয়ে আছেন! আপনার কি চাই তাও আমাকে বলছেন না। এখন আপনিই বলুন! আমি কি করবো? কিভাবে বুঝবো যে আপনার কি চাই?
চুপ থেকে রিদ মায়ার দিকে তাকাল। শুধু তাকিয়েই থাকল নিশ্চুপ অপলকে। মায়া রিদের ফের চুপতি দেখেও দমে গেল না। বরং হেঙ্গল থেকে পাঞ্জাবিটা নিয়ে রিদকে পড়াতে বলল…
—” কি হলো বলুন! কি চাই আপনার?
রিদ মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল…
—‘ তোমাকে চাই।
মায়া কেঁপে উঠে রিদের সরাসরি কথায়। রিদ সচারাচর এমন সরাসরি কথা মায়ার সাথে বলে না। কখনো না। তাই আজকে কথাটা যেন মায়ার বুকের ভিতরটা সিক্ত শীতল করে দিল। এই উগ্র, বদমেজাজি, ত্যাড়া, সুন্দর পুরুষ মায়ার। উফফ! মায়ার মতোন কি এতো সুখী কেউ আছে এই দুনিয়াতে? একজন ভিলেন মানুষকে ভালোবেসেও বুঝি এতো সুখে তাকা যায়? আচ্ছা এতো সুখ মায়ার কপালে সইবে তো নাকি আবারও আগুন লাগবে তার ভালোবাসাময় গোছানো সংসারে? ঠিকাতে পারবে তো মায়া নিজের সংসারটা ভবিষ্যৎ ঝড়-ঝাপটা? এবার যদি কোনো কারণে রিদকে মায়ার হারাতে হয় তাহলে মায়া সইতে পারবে না। একদমই মরে যাবে। এই খান বাড়ির থেকে তার লাশ বের হবে নয়তো না। এতো ভুল বুঝাবুঝি আর ভালো লাগছে না। মায়া শান্তি চাই। রিদের সাথে ভালোবাসার সংসার গড়তে চাই। কোনো রুপ ঝামেলা চাই। এবার আল্লাহ জানে কতটা কি হয়! মায়া অস্থির মনের শান্ত ভঙ্গিতে বসে রিদের পায়ে মোজা পড়াতে পড়াতে বলল…
—” কাল থেকে কিছু খেয়োছিলেন নাকি না খেয়েই দৌড়াদৌড়ি করছেন?
—” রাতে খেয়াছিলাম।
—” আর সকালে?
—” না।
মায়া তৎক্ষনাৎ কিছু বলল না। বরং রিদের দু’পায়ে মোজা পরিয়ে সুজ পরাল। উঠে দাঁড়িয়ে দক্ষ হাতে রিদের পাঞ্জাবির কলার টেনে সবগুলো বোতাম লাগিয়ে উপর দিয়ে সবুজ শেওরানিটা পরিয়ে দিল। মায়া এদিক সেদিক না তাকিয়ে বিনা বাক বয়ে সোজা গেল কিচেন রুমে খাবার আনতে। এমনই অনেক দেরি হয়েছে! আর একটু দেরি হলে কিছু হবে না। ফুয়েল পেপারে মুড়ানো বিরানি প্যাকেটটা প্লেট তুলে রাখল। আপাতত বাড়িতে কেউ নেই বেশ কয়েকজন বডিগার্ড ছাড়া। তাও তারা বাহিরে খান বাড়ি পাহারায় নিয়োজিত আছে। এমনকি রান্নার জন্য বাড়িতে শেইফ বা সার্ভেন্ড পযন্ত নেই। সবাই অনেক আগেই হেনা খানের সাথে রিসিপশনের পার্টিতে চলে গেছে। একমাত্র মায়াই যে তার ত্যাড়া স্বামী জন্য পিছনে পরে আছে। অথচ আজ তাদেরই রিসিপশন পার্টি ছিল। মায়া সাজগোছ নিয়ে রান্না করলো না। কারণ এই মূহুর্তে রিদের জন্য কিছু রান্না করতে গেলে দেখা যাবে আরও অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। তারপরও সন্ধ্যার আগে রিসিপশনে অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে পারবে না। মায়া খাবার হাতে ফের রিদের ড্রেসিংরুমে গেল। যাওয়া আগে ফ্রিজ থেকে পানির বোতল নিয়ে নিল একটা। প্যাকেট ছাড়িয়ে বিরানিতে চামচ লাগিয়ে রিদের হাতে দিতে দিতে বলল…
—” নিন! দ্রুত খেয়ে নিন। কাজের ঝামেলায় পরে রিসিপশনের গিয়ে খেতে পারবেন না।
মায়ার কথাটা পছন্দ হলো না রিদের। রাগে বিরক্তি প্রকাশ করে বলল…
—” নিয়ে যাও! খাব না আমি।
—” কেন? বিরানিতে এলার্জি আছে?
—” না।
—” তাহলে?
—” এমনই খাব না আমি।
—” বললেই হলো খাবেন না। দেখি খা করুন। খা!
কথা গুলো বলতে বলতেই মায়া নিজে চামচে অল্প বিরানি তুলে নিল রিদকে খাওয়াতে। রিদ বিরক্তি চোখে মায়াকে দেখে কিছু না বলে ফের বেঁকে বসল খাবে না বলে। মায়া হতাশ না হয়ে রাগে চামচাটা খানিক শব্দ করে প্লেট ফেলে রিদের থুঁতি ধরে টেনে নিজের দিকে ফিরাল। কর্ড়া চোখে তাকিয়ে বলল…
—” কি ভাল্লাগে না? কখন থেকে জ্বালাচ্ছেন। সবাই রিসিপশনের অনুষ্ঠানে চলে গেল, আর আমি বউ হয়ে আপনার পিছনে পরে আছি। এবার আপনাকে রেখে চলে যাব কিন্তু।
মায়ার কথায় রিদ উল্টো রাগ দেখিয়ে বললো…
—” তুমি যখন আমাকে জ্বালাও তখন আমি কিছু বলি? তাহলে আজ আমি একটু চুপ করে আছি বলেই তোমাকে জ্বালাচ্ছি আমি তাই না। বেশ করছি জ্বালাচ্ছি। নিয়ে যাও তোমার খাবার! খাব না আমি। যাও!
রিদের কথায় মায়া দমে গেল। মায়া তো সত্যিই রিদকে অনেক জ্বালায়। সবসময়ই জ্বালায়। কই রিদ তো কখনোই কিছু বলে না মায়াকে। নাও করে না কোনো কিছুতে। বরং সহ্য করে। তাহলে আজ কেন মায়া রাগ করছে? মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে ভেবে মায়া শান্ত হলো। হাতের চামচ রেখে এবার নিজ হাতেই লুকমা করে রিদের মুখের সামনে ধরতেই, রিদ বিনা বাক বয়ে আপোষই খেয়ে নিল। রিদের কান্ডে কপাল কুঁচকায় মায়া! আজব তার হাতে খেতে চাই সেটা বললে কি মায়া খাইয়ে দিত না? এতক্ষণ শুধু শুধু কেন ‘খাব না’ খাব না’ বলে দ্যাড়ামি করছিল? সোজাসুজি বলে দিলেই তো হতো। উফফ! সবকিছুই মায়াকে বুঝে নিতে হবে? একটু করে মাঝেমধ্যে মুখ ফুটে কিছু বললে কি হয় তার?
মায়াকে আজ ভিষণ বড় দেখাল। পুরোটা সময় দাড়িয়ে থেকে রয়েসয়ে রিদকে সম্পূর্ণ খাবার খাইয়ে দিয়ে ঝটপট বাকিটা রেডি করিয়েও দিল। রিদকে পরিপাটি ভাবে রেডি করিয়ে দিয়ে এবার সে গেল রেডি হতে। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে আটকে রাখা কান্নাটা দমন করতে না পেরে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে মুহূর্তেই। সেকি হুলুস্থুল কান্না! ঘেমে-নেয়ে নাজেহাল অবস্থা মুখের। ওয়াটার প্রুফ মেকাপ হওয়ায় তেমন নষ্ট না হলেও লেহেঙ্গার নিচের অংশটা সম্পূর্ণ ভিজে ছুপছুপ হয়ে আছে রিদকে গোসল করাতে গিয়ে। মায়া নিজের নাজেহাল অবস্থা দেখে বেশ উঁচু স্বরে কেঁদেকুটে বুক ভাসাচ্ছে।
রিদ মায়া কান্না দেখে এবার সে উঠে দাঁড়াল ফুরফুর মেজাজে। এতক্ষণ যাবত যেটা সে চাচ্ছিল এখন সেটাই হতে যাচ্ছে দেখে এগিয়ে গেল মায়ার কাছে। হাত বাড়িয়ে আয়নার সামনের সবকিছু সরিয়ে মায়াকে টেনে সেখানে বসাল। মায়া তখনো কাঁদছে সুন্দর সাজটা ঘেমে নষ্ট হয়ে গেছে বলে। এখন বউ হয়ে রিসিপশনের অনুষ্ঠানে গেলে খারাপ দেখেবে না মায়াকে? মায়ার দুঃখ কষ্টে কেঁদেকুঁটে আরও অনেকটা মুখের সাজ নষ্ট করে ফেলল। রিদ পাশ থেকে টিস্যু নিয়ে চেপে চেপে মায়ার কপালের গলার ঘাম মুছে দিল উপর উপর দিয়ে। মায়া অসন্তুষ্ট গলায় কেঁদেকুটে বলে..
—” আপনার জন্য আমার সুন্দর সাজটা নষ্ট হয়ে গেছে। আমাকে বাজে দেখাচ্ছে। আমি আর যাব না রিসিপশনের অনুষ্ঠানে। আপনি একাই যান।
মায়ার কপালে ঘামের লেপ্টে থাকা ছোট ছোট চুল গুলো গুছিয়ে দিতে দিতে রিদ সহমত পোষণ করে বলল…
—” আচ্ছা।
রিদের কথায় মায়া আরও কেঁদে উঠল। তার বিয়েতে সে থাকবে না। এটা কি মেনে নেওয়া যায়। মায়ার কান্নায় রিদ নরম গলায় বলল…
—” আমি কিছু বললে শুনবে তুমি রিত?
মায়া কান্নারত অবস্থায় মাথা নাড়াল। যার অর্থ সে শুনবে। রিদ ফের বলল…
—” ঠিক আছে তাহলে একটু সময়ের জন্য কান্নাটা অফ করো আমি কথা গুলো বলি। আমার কথাটা শেষ হলে তুমি আবারও কাঁদিও কেমন?
মায়া কান্না অফ করে নাক মুছল রিদের সাদা গেঞ্জিতে।
রিদের তাকিয়ে বলল…
—” আচ্ছা।
রিদ মায়ার সামনে ঢোল এনে সেটাতে বসে, মায়ার ছোট ছোট হাত দুটো নিজের প্রশস্ত হাতে নিয়ে ধীর গলায় বলতে শুরু করে…
—” দেখ রিত! আমার প্রফেশন সম্পর্কে কোনো কিছু লুকায়িত নয় তোমার কাছে। সবটায় জানা তোমার। আমার প্রফেশনে ভালো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ ভালো মানুষরা কখনো কাল দুনিয়াতে প্রবেশ করে না। আমার উঁচু শ্রেণির সব খারাপ মানুষদের সাথে ওঠাবসা। তাদের নিয়েই আমার কাজকর্ম। আজকের আমাদের রিসিপশনের অনুষ্ঠানে আগত দেশ-বিদেশের প্রতিটা ক্ষমতাধর মানুষই খারাপ চরিত্রে লোক। সেখানে হাজারে পাঁচ মানুষ পাওয়া যাবে যারা ভালো। মেয়েদের সম্মান করে। ভালো চোখে দেখে। বাকিরা সবাই উপর দিয়ে ভালো ব্যবহার করবে। ভালোটা বুঝাবে! কিন্তু তারা কেউ ভালো না। এখন আমি আমার বউকে সেই সকল খারাপ চরিত্রে মানুষদের সামনে প্রেজেন্ট করতে চাই না। শত পর্দা দিয়ে রাখলেও নিতে চাই না। আমার বউ! আমার সম্পদ। আমি ছাড়া অন্য কেউ দেখুক সেটা আমার পছন্দ না। আর না বউকে সাজিয়ে গুজিয়ে অন্যেদর সামনে যেতে দিব কখনো। আমি নিজের জিনিসের প্রতি অনেক সচেতন। আজকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত থাকবে আমাদের অনুষ্ঠানে। তোমার প্রতি সবার দৃষ্টি আমি আটকাতে পারবো না। কারণ আমি সামনে না তাকালেও আমার অগোচরে ঠিকই তাকাবে তোমার দিকে। তোমাকে নিয়ে বাজে কথাও বলবে আমার পিছনে। তাই আমি চাই না তুমি সেই সকল খারাপ মানুষের নজরে আসো। বর্তমান সবাই জানে আমার বউ আছে। আমি বিয়ে করেছি। কিন্তু রিদ খানের বউ কে সেটা কেউ জানে না। শুধু আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনরা ছাড়া। আমি তোমার কথা রেখেছি, সমাজকে জানিয়ে বিয়ে করেছি তাই বলে, এখন তোমাকে আমি সেই সমাজের মানুষের সামনে তুলে ধরবো এমনটা রাজি নয়। বাঁচা মরা আল্লাহ হাতে। এখন আমার কিছু হলেও তুমি সেইফ থাকবে! কারণ তোমার পরিচয় এখনো গোপন। কিন্তু আজকে তোমাকে সবার সামনে নিলে আমার মৃত্যু পর প্রথম টার্গেট তুমিই থাকবে তাদের। আমার সাথে শত্রুতা না থাকলেও মজা নিতে চাইবে তোমার। কারণ এটাই স্বাভাবিক। এজন্য গ্যাংস্টার মানুষরা বিয়ে করে না। অবশ্য আরও অনেক কারণে বিয়ে করতে চাই না। কিন্তু তোমাকে সেইফ রাখা আমার প্রথম প্রায়োরিটি। তাই আমি চাই আজ অন্তত তুমি আমাকে বুঝবে। আমাকে অমান্য করে রিসিপশনের অনুষ্ঠানে যেতে চাইবে না। বরং আমাকে প্রধান্য দিবে। সবকিছু উর্ধ্বে স্বামী হিসাবে আমাকে মানবে। আমাকে বুঝবে।
রিদের দীর্ঘ কথার তলে মায়া নাক টানল। বামহাতে উল্টো পিঠে গাল মুছে বলল…
—” আমি এমনইও যেতাম না। আপনি আমার সুন্দর সাজটা নষ্ট করে দিয়েছেন। আমার বিয়ের ড্রেসটাও পানিতে ভিজিয়ে দিয়েছেন। আপনি এতো সুন্দর সাজুগুজু করে যাবেন আর আমি পঁচা বউ সেজে যাব বুঝি? যাব না তো! কক্ষুনো যাব না! আপনি একাই যান।
মায়া কথায় রিদ হাসল। বউ তার বড় হয়ে যাচ্ছে দিন বা দিন। মিথ্যা কথা গুলো এখন গুছিয়ে বলতে শিখে গেছে। রিদ একহাতে মায়ার অপর গালের পানি মুছে বলল…
—” তোমার সাজ পুরোপুরি নষ্ট করা এখনো বাকি আমার। এখন ধরতে পারছি না তাই বেঁচে গেলে। তবে রাতে ছাড়াছাড়ি নেই। একটা রাত এমনই আমার বিফলে গেল। তাই আজকের রাতটা আমার হবে। বি রেডি! খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সবকিছু চুকিয়ে নাও আমি ফিরতে ফিরতে। বলা তো যায় না রাতে ঘুমানোর সুযোগই পেল না আর। তখন সকালে উঠে কান্নাকাটি করে দোষারোপ করবে আমাকে। তোমার ভালোর জন্য বলছি ঘুমিয়ে নিও কতক্ষণ কেমন।
রিদের কথায় লজ্জায় সিঁটিয়ে গেল মায়া। রিদ হঠাৎ করে এসব কথা বলে বসবে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি মায়া। সে এতক্ষণ যাবত রিদের সাথে স্বাভাবিক থাকলেও এখন যেন বেশ অস্তিত্ব বোধ করছে তীব্র লজ্জায়। রিদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মায়া হাসফাস করে লজ্জায় দৌড়ে পালাতে চাইলে। আকস্মিক ঘটনায় রিদও তৎক্ষনাৎ মায়ার কমড় টেনে ধরে আটকিয়ে, নিজের কোলে জোরপূর্বক বসিয়ে পেট জড়িয়ে ধরল শক্ত করে। মায়ার কানে নিজের নাক চেপে ধরে ফিসফিস স্বরে বলল…
—” যেতে বলেনি। আমার অনেক কিছু করা বাকি। বেশি না হোক অল্প-সল্প তোমার সাজ নষ্ট করা এখনো বাকি আমার, বউ।
~~
গায়ের শেওরানিটা টেনে খুলতে খুলতে গাড়িতে উঠে বসল রিদ। আপাতত তার কাজ শেষ। বউকে বুঝানোর জন্য এতক্ষণ যাবত গুমরো মুখে থাকতে হয়েছে তাকে। এতে ভালো হয়েছে দুটো দিক থেকে! এক, বউয়ের ভালোবাসাও পেল! আবারও বউকে রিসিপশনে না নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যটাও সফল হলো। কারণটা আগেরই। কিন্তু এই বিষয়টি যদি রিদ স্বাভাবিক ভাবে মায়াকে বুঝাতে চাইত তাহলে দুজনের মধ্যে ঝামেলা হতো শত%। কারণ মায়া সহজে মানতে চাইত না। বরং ভুল বুঝতো রিদকে। রিদ আবারও মায়ার সাথে মিথ্যা ভালোবাসার গেইমস খেলছে এজন্য সমাজের সামনে আনতে চাইছে না। এসব বলে বলে রিদের মেজাজ বিগড়ে দিতো। যার ফলে রিদও রাগের বশে হয়তো বউটার উপরই হাত তুলে ফেলত। বহুদিন পর তাদের সম্পর্কটা একটু স্বাভাবিক হয়েছে। এতো অল্পতেই নষ্ট করতে চাই না বলেই রিদ ইচ্ছা করেই গুমরো মুখে হয়ে থাকল। আর এতে করে মায়া তার মন বুঝার চেষ্টা করেছে। তাকে বুঝতে চেয়েছে। অন্য কিছু ভাবেনি। যার জন্য রিদের কথা গুলো খুব সহজ ভাবেই মেনে নিতে পেরেছে দ্বিমত পোষণ করেনি। রিদ মায়ার উপর ভিষণ সন্তুষ্ট হলো। এবার ঝামেলা বিহীন ভালোবাসাময় সংসার করবে বলে একবুক আশাও রাখল রিদ। কিন্তু সময় সাপেক্ষের ভাগ্যটা তাদের সুপ্রসন্ন সহায় হতে গিয়ে যেন হচ্ছে না। ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দূর্ভাগ্যের দিকে।
চলিত…
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬০(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৪