Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৯


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬৯
—” আজ মনে হচ্ছে আমি সত্যিই বিয়ে করেছি জুই। আপনাকে বাসায়, নিজের পরিবারের সাথে দেখে কেমন একটা বউ বউ ফিল পাচ্ছে আমার। কি করি তো বলুন? চলুন না আমরা রুমে যায়। বাসরটাও সেরে ফেলি। বাহিরের ঠান্ডা পড়ছে বউ সাথে থাকলে শীতটাও হালাল হয়ে যাবে।

জুইয়ের অন্তত-মন কেঁপে উঠে আয়নের কথায়। লজ্জায় শিরশির করে উঠে শরীরের পশম। এতদিন আয়ন ঘুরেফিরে কথা বললেও আজ যেন সরাসরি বলছে সবকিছু জুইকে। লজ্জায় জুই মিইয়ে গেল আয়নের নির্লজ্জ ঠোঁটকাটা কথায়। হতভম্ব জুঁই লজ্জা উঠে পালতে চাইলে বাঁধা দেয় আয়ন। বামহাতে জুঁইয়ের কমড় চেপে ধরে নিজের সাথে মেশিয়ে নিয়ে বলে…

—” আহা জুঁই! কোথায় যাচ্ছেন। জানেন না স্বামীকে রেখে কোথাও যাওয়া অমানবিক নির্যাতনের পরে। আপনি চলে গেলে আমি কষ্ট পাবো। তখন সেটা আমার উপর অদৃশ্য অত্যাচার করা হবে জুই। আমি ডাক্তার মানুষ! মানুষের সেবা করাই আমার ধর্ম। অথচ আমি নিজেই সেবার অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছি জুই। আমার সেবা করার কেউ নাই। দিন দিন আমি পুষ্টিহীনতায় ভুগছি। আহা আমার কষ্ট! দিন জুই আমাকে খাইয়ে দিন। আজকে আমি আপনাকে শুনাই আমার কষ্ট গুলোর কথা।

অর্ধেক খাওয়া রেখে আয়ন হাত ধুয়ে বসল। সে সত্যিই পুষ্টিহীতায় ভুগছে এমন একটা ভাব ধরে বসল জুইয়ের সামনে। হতবাক, হতবুদ্ধি জুই প্রায় কেঁদে ফেলার উপক্রম হলো। এই অসভ্য ডাক্তার যে তাঁকে একা পেলে এরকম কিছু করবে সে আগেই জানতো। শুধু শুধু জুইকে হেনস্ত করাই তার উদ্দেশ্য। এজন্যই জুই এই বাড়িতে প্রথমে আসতে চাইনি। কিন্তু মেহেরবানের মুখের উপর না করার সাহস হয়নি বিদায় অনেকটা বাধ্য হয়ে আসতে হলো এখানে। আর এই সুযোগটায় যে এই অসভ্য ঠোঁটকাটা ডাক্তার ওকে একা পেয়ে কাজে লাগাচ্ছে হাড়ে হাড়ে সেটা ঠিক বুঝতে পারছে জুই। লজ্জায় আষ্টশ জুই হালকা নড়েচড়ে উঠে, আয়নের হাতটা নিজের কাঁধ থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে…

—” ছাড়ুন।

—” ছাড়ুন মানে? ছিঃ ছিঃ জুই এসব কি ধরনের কথা? বউ ছাড়বো কেন? বউ হলো ভালোবাসার জিনিস, আদুরের জিনিস! জড়াজড়ি করা জিনিস, শীতের দিনে ঠান্ডা প্রতিরোধ করার জিনিস। এতসব ফ্যাসিলিটি পেয়ে বউ ছাড়ব কেন? নাউজুবিল্লাহ! তাছাড়া আমাদের বংশের দুই বিয়ের করার রেওয়াজ নেই জুই। এখন আমি সবাইকে ওভারটেক করে কিভাবে দুই বিয়ে করবো? ছিঃ এসব বাজে কথা আর বলবেন না জুই। আমার লজ্জা লাগে। আমার একটা বউই চলবে। ।

চোখ বড় করে তাকায় জুই। কোথাকার কথা কোথায় টেনে নিয়ে গেল এই লোক। জুই তো শুধু তাকে আপাতত ছাড়তে বললো। প্রচন্ড অস্তিত্ব লাগছে তার জন্য। আর এই লোক? আল্লাহ! লজ্জা জুই মিইয়ে গিয়ে রাগে চাপে স্বরে বলে…

—” আপনি সত্যি যা-তা। অসভ্য ডাক্তার।

আয়ন তৎক্ষনাৎ কিছু বললো না। খোলা ডাইনিংয়ে সার্ভেন্ড বা নিজের মা চলে আসতে পারে সেটা ভেবে আপাতত চুপ থাকলো। তবে জুইয়ের খুলে দেয়া শাড়ির কুঁচিটা হাতে নিতে চাইল পড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তখনই ডাইনিংয়ে আগমন ঘটলো দু’জন সার্ভেন্ডের। আয়নের ধরে রাখা কুঁচি গুলো টেবিলের নিচ দিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলো চক্ষু লজ্জায়। কারণ সার্ভেন্ডদের সাথে সাথে মেহেরবান ও কিচেন রুমে থেকে এদিকটাই আসছে। আয়ন জুইয়ের অস্তিত্বের বিষয়টি বুঝে চট করে উঠে দাঁড়িয়ে চলে গেল নিজের রুমের দিকে কাউকে কিছু না বলে। আয়নের আর খাওয়া হলো না। কারণ উপস্থিত সার্ভেন্ড গুলো তখনো মুখ টিপে হাসছিল তাদের দেখে। লজ্জায় জুঁই মাথা নুইয়ে ডাইনিংয়ে বসে থাকলো। মেহেরবান আসতেই সার্ভেন্ডরা তাড়াহুড়ো করে কাজে গেলে পড়লো ভয়ে। মেহেরবান জুইকে খাবার নিয়ে বসে থাকতে দেখে বুঝতে পারলো জুই আর খেতে পারছে না। তিনি জুইকে হাত ধুয়ে উঠে যেতে বললো। কথা মতো জুই খুলে যাওয়া শাড়ির কুঁচি গুলো আকড়ে ধরে উঠতেই কপাল কুঁচকা মেহেবান। ইতস্তত জুই লজ্জায় হাসফাস করে জানায়, পায়ের সাথে বেজে শাড়ির কুঁচি গুলো খুলে গেছে তখন। উত্তরে মেহেরবান কিছু বললো না। জুই এঁটো হাত নিয়ে দাড়িয়ে থাকলো। মেহেরবান এগিয়ে এসে জুইয়ের শাড়ির কুঁচি করে পুনরায় পড়িয়ে দিল। কিচেন থেকে জুই এঁটো হাত ভালো করে ধুয়ে পিছন ঘুরে দাঁড়াতেই মেহেরবান জুইয়ের হাতে এক গ্লাস দুধ তুলে দিয়ে বলে উঠে…

—” এটা আয়নের জন্য। ওর রুমে নিয়ে যাও।

গ্লাসটা হাতে নিয়ে জুই প্রচন্ড অস্তিত্ব বোধ করল। পুনরায় আয়নের রুমে যাওয়া মানে দেয়ালে মাথা ঠুকে মরা সমিল। এমনই খুব কষ্টে বাচল তখন। তাও সার্ভেন্ডরা হঠাৎ এসে পরায়। ঠোঁট কাটা অসভ্য লোক এবার যদি নিজের রুমে পুনরায় জুইকে পায় তাহলে কি করবে? জুই শুকনো ঢুক গিলল বেশ কয়েক বার। মেহেরবানের মুখের উপর খুব করে বলতে চাইল। ‘ আমি পারব না। আপনার অসভ্য ঠোঁট কাটা ছেলের জন্য দুধ নিয়ে। আপনি অন্য কাউকে পাঠান।
সাহসের অভাবে জুইয়ের কথা গুলো বলা হলো না আর মেহেরবানকে। মেহেরবান পুনরায় জুইকে তাড়া দিতেই জুই দুধের গ্লাস হাতে কিচেন রুমে থেকে বের হয় ধীর পায়ে। খানিকটা সময় পর মেহেরবান আবারও পিছন ডাকলো জুইকে। জুই ঘুরে তাকালে তিনি গম্ভীর মুখ ফের বলে…

—” আয়নের রুম আর ফিহার রুম পাশাপাশি। তোমার যেটাতে ভালোলাগে সেই রুমে থাকতে পারো।

বিষন্ন, বিস্মিতের জুইয়ের চোখ জোড়া স্থির করলো মেহেরবানের দিকে। যেটাতে থাকবে মানে? অবশ্যই জুই ফিহার রুমে থাকবে। তাহলে তিনি কেন জুইকে অপশন দিচ্ছে যেকোনো একটা রুমে থাকতে?
আচ্ছা! তিনি কি জুইকে কোনো ভাবে বুঝাতে চাইছেন নাতো আয়নের রুমে থাকার জন্য। আর এজন্য তিনি এমন ভাবে কথাটা ঘুরেফিরে বলল জুইকে। হতবাক জুই ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মেহেরবানের দিকে। মেহেরবান জুইয়ের হঠাৎ অবুঝ দৃষ্টি দেখে তিনিও লজ্জায় পড়ে গেলেন। থমথমে পরিবেশে তিনি জুইকে কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যায় নিজের রুমের দিকে। মা হয়ে তিনি কিভাবে ছেলের জন্য কথা বলবে? যাও তুমি তোমার স্বামী রুমে যাও। স্বামী সাথেই তোমাকে ঘুমাতে হবে। এটা কি আদৌও ভালো দেখাবে শাশুড়ী হয়ে ছেলের বউকে বলাটা। বাসায় আরও কেউ থাকতো তখন না-হয় তিনি অন্যের মাধ্যমে জুইকে এই কথাটা বলে আয়নের রুমে পাঠাতো। কিন্তু কেউ নেই বলেই, তো তিনি কৌশল অবলম্বন করে জুইয়ের হাতে দুধের গ্লাস তুলে দিয়েছেন। এখন জুইয়ের অবুঝ চোখের দৃষ্টিতে তিনিও লজ্জা পাচ্ছেন। মেহেরবানের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে জুই লজ্জা তরতর করে কেঁপে উঠে শিরদাঁড়া। একহাতে ধরে রাখা দুধের গ্লাসটাও তরতর করে কাঁপতে দেখে জুই দু-হাতে চেপে ধরল গ্লাসটাকে। পানির তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে কাট হয়ে গেল জুইয়ের। সে এই কোথাই এসে ফেসে গেল। আল্লাহ মালুম। মা আর ছেলে দু’জন এডভান্স। কম্পিত শরীরে জুই কাঁপতে কাঁপতে কোনো রকম পৌঁছাল আয়নের দরজা অবধি। কিন্তু দরজায় নক করার সাহস হলো না জুইয়ের। শরীরের কম্পনে দুধের গ্লাস থেকে দুধ পরে যাওয়ার উপক্রম হলো। বুক ধড়ফড়ে তৃষ্ণার্ত গলা ধুঁকছে খাঁ খাঁ করে জুইয়ের। উত্তেজনা, অস্থিরতায় জুই নিজেই গ্লাসের দুধটুকু সবটা খেয়ে ফেলল একটানে। তখনই খট করে দরজা খুলে বের হলো আয়ন। জুইয়ের হাতের খালি গ্লাস দেখে সে কপাল কুঁচকাল। আয়ন কিছু বলবে তার আগেই জুই ঝটফট করে আয়নের হাতে দুধের খালি গ্লাসটা তুলে দিয়ে বলল…

—” নিন আপনার দুধ। আপনার মা পাঠিয়েছে খেয়ে নিন।

কথাটা বলেই জুই আর দাঁড়ালো না আয়নের সামনে। এক দৌড়ে পালিয়ে গেল ফিহার রুমে। আয়ন খালি দুধের গ্লাসের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়িয়ে হেঁসে উঠে। জুইকে অনুসরণ করে আয়নও গেল ফিহার রুমে। তার ভাগের দুধ জুই খেয়ে নিয়েছে। এখন তারও উচিত বউয়ের সাথে সুদ আসল হিসাব করে নিজের দুধের ভাগ ফিরিয়ে নেওয়া। আয়ন দরজা টেনে রুমে
প্রবেশ করে জুইকে কোথাও পেল না। ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ আসতেই আয়ন বুঝল জুই সেখানেই আছে। আয়ন ধীর পায়ে এগিয়ে ফিহার পড়ার টেবিলে চেয়ার টেনে বসলো। জুইয়ের জন্য অপেক্ষা করলো। জুই সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই মুখোমুখি হলো আয়নের। আয়নের আকস্মিক আগমনে চমকালো, ভড়কালো, হকচকিয়ে গেল জুই। আতংকিত গলায় বলল…

—” আপনি এখানে?

আয়ন চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। হাতের গ্লাসটা টেবিলে উপর রাখতে রাখতে অকপট স্বীকারোক্তিতে জুইয়ের উদ্দেশ্য বলল…

—” দুধ খেতে এসেছি জুই।

আয়নের বেগতিক সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে মাথায় বজ্রপাত হলো জুঁইয়ের। আয়নকে ভুল বুঝে দুই কদম পিছিয়ে গেল বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে। জুইয়ের হঠাৎ কান্ডে আয়নও থমথমে খেয়ে গেলো। সে কি এমন বললো যে জুই হঠাৎ অদ্ভুত রিয়াকশন দিল। আয়ন থেমে কপাল কুঁচকে ভাবে, বিষয়টি প্রথমে বুঝতে না পারলেও পুনরায় নিজের বলার কথাটা মনে মনে আওড়ালো, বেশ কয়েক বার। সে দুধ খেতে এসেছে! এর মধ্যে খারাপ কি বলল? আয়ন পুনরায় ভাবল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জুইয়ের দিকে তাকাতেই নিজের কথার অর্থটা বুঝল। তার কথাটা সম্পূর্ণ নেগেটিভ সাউন্ড করে যার জন্য জুইয়ের এমন রিয়েকশনের কারণ। আয়ন নিজেও বুঝতে পারেনি নিজের বলা কথাটা বলে সে এভাবে ফ্যাসাদে পরে যাবে। লজ্জা আয়নও পেল। তবে জুইকে বুঝতে দিল না। বরং অবুঝ সেজে কপাল কুঁচকে তাকাল জুইয়ের দিকে। এমন একটা ভাব যেন জুইয়ের আরচণ গুলো কিছুই বুঝতে পারছে না আয়ন। জুই দাঁতে দাঁত চেপে বলে….

—” ছিঃ অসভ্য লোক! বের হন আপনি এই রুম থেকে।

—” বের হবো মানে? আগে আমার ভাগের দুধের দিন। যেটা আম্মু আমার জন্য পাঠিয়ে ছিল। কিন্তু সেটা আপনি চুরি করে খেয়ে ফেলেছেন। আর এখন আমাকে রুম থেকে বের করে দিচ্ছেন।

আয়নের রাখা গ্লাসটার দিকে তাকিয়ে জুই সহজ, স্বাভাবিক হলো। নিজের ভুল বুঝতে পেরে এবার সে-ই লজ্জায় মরি মরি ভাব হলো। বুক হাত নামিয়ে হাসফাস করে এদিক সেদিক তাকাল। আপাতত আয়নের কোনো কথার উত্তর তার কাছে নেই। আয়ন জুইকে নত মস্তিষ্কের হাসফাস করতে দেখে সে ফের জুইয়ের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল…
—” জুই আমার গ্লাসের দুধ ফেরত দিন।
মিনমিন স্বরে জুই বলল…
—” আমার কাছে নেই। আমাদের বাসায় গেলে আপনাকে তখন ফিরত দিব।
জুইয়ের কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো আয়ন। দেয়ালের দুপাশে হাত রেখে মধ্যস্হে রাখলো জুইকে। আতংকিত জুই দেয়ালের সাথে চেপে দাঁড়াতে আয়ন জুইয়ের মুখের উপর ঝুঁকে বলে…

—” বাকি কাম ফাকি। আমি নগদে বিশ্বাসী। দেখা গেল আজকে আপনি আমার ভাগের দুধ খেয়ে কাল ভুলে গেলেন। পরে আমার দুধ ফিরত দিবেন না বলে বেঁকে বসলেন। তখন আমি কি করবো? আমার কাছে তো প্রমাণ নেই আপনি আমার দুধ খেয়েছে সেটার? তাই বাকি কাজ চলবে না। এখন যখন হাতেনাতে চোর ধরলাম। তখন তো আর এমনই এমনই চোরকে ছাড়া যাবে না জুই। ডাক্তার মানুষ হলেও হিসাবে বেশ পাক্কা আমি। আরেকটা কথা! তখন আপনি ঐ রকম রিয়েক্ট করলেন কেন? আমি তো তখন আমার গ্লাসের দুধের কথা বলছিলাম। কিন্তু আপনি কি মনে করেছিলেন জুই? নিশ্চয়ই দুষ্ট চিন্তা করছিলেন আমাকে নিয়ে? আপনি অনেক দুষ্ট জুই?

লজ্জায়, রাগে জুই আয়নের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরাতে সরাতে চাপা স্বরে বলল…

—” আপনার কোনো কাজ নাই। যখন তখন আমার পিছনে লাগায় আপনার কাজ। ঠোঁট কাটা লোক। ছিঃ কথা কি অশ্লীল!

জুইয়ের ধাক্কায় আয়ন সরলো না। বরং আরও ঝুকে পরলো জুইয়ের মুখের উপর…

—” আমার তো বউ ছাড়া কোনো কাজ নাই জুই। দেখুন না আমি কেমন দিন দিন বউ পাগল হয়ে যাচ্ছি। না এবার বউটা না হলেই নয়। একটা হিল্লে আমারও করা দরকার। রিদ একিই বউকে তিন তিনবার বিয়ে করতে পারে। আর আমি বউকে কিছু বললেই অশ্লীল হয়ে গেলাম। আচ্ছা জুই একটা কথা বলুন তো! আমি অশ্লীল নাকি আপনার চিন্তা অশ্লীল। আমাকে নিয়ে যে তখন কিসব ভাবছিলেন সেটা কে বলবে? আমাকে আপনার এই মনে হয় জুই? আমি কি কখনো গ্লাসের দুধ খেতে না চেয়ে আপনার দ…

জুই তুমুল লজ্জায় আষ্টশ হয়ে আয়নের মুখ চেপে ধরল তৎক্ষনাৎ। তেজি কন্ঠে বলল..
—” চুপ। একদম চুপ।
আয়ন জোরপূর্বক জুইয়ের হাতটা নিজের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঠোঁট প্রসারিত করে দুষ্টু হেসে বলে…

—” আসলে আমি এমনই জুই। আমি চাইতাম। বউয়ের কাছে তো সবই হালাল তাই না।

লজ্জা আষ্টশ জুই তৎক্ষনাৎ পিছন ঘুরে দেয়ালের দিকে মুখ ফিরে নিল। আয়নের মুখোমুখি হওয়া সম্ভব হলো না জুইয়ের। জুই জীবনের এতটা ঠোঁটকাটা স্বভাবের লোকের সাথে কখনো পরিচয় হয়নি সে। আয়নের চোখের সামনে ভেসে উঠলো জুইয়ের উম্মুক্ত পিঠ। আয়ন দূরত্ব গছিয়ে ঘনিষ্ঠ হলো জুইয়ের সাথে। জুইয়ের শাড়ির বেঁধ করে উম্মুক্ত উদরে হাত রাখল। আয়নের ঠান্ডা হাতের স্পর্শে জুই কেঁপে উঠতেই আয়ন টেনে জুইয়ের পিঠ নিজের প্রশস্ত বুকে সাথে মেশাল। ঠোঁট বাড়িয়ে পরপর স্পর্শ করলো জুইয়ের উম্মুক্ত কাঁধে উপর। কম্পিত জুই শক্ত করে শাড়ির আঁচল চেপে ধরে দাড়িয়ে থাকলো। আয়ন দু’হাতে জুইয়ের পেট জড়িয়ে ধরে ঠোঁট বুলাতে বুলাতে কানের কাছে গেল। ফিসফিস সুরে বলল…

—” জুই রেডি আছেন তো? আমি কিন্তু আজ আপনাকে ছুঁয়ে দিব কনফার্ম।

জুই আয়নের হাতে খামচে ধরে কম্পিত স্বরে কোনো রকম বলল…
—” প্লিজ না।

‘না’ শব্দটা শুনে আয়ন ছোট করে কামড় বসাল জুইয়ের কানের লতিতে। জুই অস্পষ্ট স্বরে গোঙ্গাতেই আয়ন হুট করে জুইকে কোলে তুলে চলল নিজের রুমে। উত্তেজিত জুই ঝটফট করলো আয়নের সাথে যাবে না বলে। আয়ন শুনলো না। জুইকে নিয়ে নিজের রুমে গেল। দরজা লক করে জুইকে কোলে নিয়ে বসলো বিছানায়। দু’হাতে জুইয়ের পেট জড়িয়ে ধরে কাঁধে থুঁতি রাখল। ছোট করে চুমু খেল জুইয়ের খোলা কাঁধে। সিরিয়াল কন্ঠে বলল…

—” আপনাকে তাড়াতাড়ি না ছুঁইয়ে দিলে তো আমি পিছনে পরে যাব জুই। আমার ছেলে দুনিয়াতে আসতে দেরি করল! আর ততদিনে রিদের মেয়ে হয়ে গেল। সমস্যাটা তখনই কিন্তু বেজে যাবে জুই। রিদ যে ত্যাড়া মানুষ। ওর মেয়েকে কখনোই আমার ছেলে কাছে বিয়ে দিবে না। যদি আমার ছেলে ছোট হয়। রিদ আরও ত্যাড়ামী করে আমাকে বলবে, তোর ছোট ছেলের কাছে আমার বড় মেয়েকে বিয়ে দিব না। তখন আমার ছেলে আঁটুক থাকবে জুই। বউ পাবে না আপনার জন্য। আপনি আমার ছেলেকে আসতে দিচ্ছেন না দুনিয়াতে। তবে যতকিছু হোক না কেন। আমিও পিছন ছাড়বো না। রিদ না মানলে। বাপ-ছেলে মিলে ছেলের বউকে উঠিয়ে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসব। তারপরও রিদের কাছে হার মানা যাবে না জুই। ক্ষমতা আমাদেরও আছে। ছেলেকে সোজা বললো, তোর ভিলেন শশুরকে আমি সামলাব, বাবা তুমি বউ নিয়ে পালিয়ে যাও। আমরা বাপ ছেলের দুজনই আপনার জন্য ফেঁসে যাব জুই। শুধু আপনাদের জন্য আমার ছেলেটা দুনিয়াতে আসতে আসতে পুনরায় ফিরত গেল।
~~
দুজন দারোয়ান বিশাল গেইট টেনে মেলে দাঁড়ালো। রাতের আঁধারে কালো গাড়িটি খান বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই তার পিছন পিছন আরও দুটো গাড়ি ঢুকলো বাড়িতে। কারও অপেক্ষা না করে রিদ নিজেই গাড়ির পিছনের দরজা খুলে বের হলো। গায়ে পুরো কালো ড্রেসআপ করা। গায়ের কোট-টা গাড়িতেই রাখা। শার্টের দু’হাতা টেনে কুইন অবধি ফোল্ড করা। ঠান্ডা মাঝেও যেন শীত নেই রিদের। দিব্যি নির্বিঘ্নে হেঁটে যাচ্ছে বাগানের খোলা বাংলোর দিকে সে। বেপরোয়া সেই আচরণ। বামহাতের উল্টো পিঠ ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে তাজা রক্ত পরছে জমিনের মাটিতে। রিদের পিছনে আসার কারও সাহস হলো না। আসিফের ও না। ভয়ে অসহায় মুখ করে পিছন থেকে তাকিয়ে রইলো আসিফ।

গাড়ির শব্দ ধড়ফড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে বারান্দা গেল মায়া। উপর থেকে উঁকি ঝুঁকি মেরে দেখল রিদ এসেছে কিনা। রিদের গাড়ি গুলো পাকিং এরিয়াতে ঢুকতে দেখে, মায়া চারপাশে তাকিয়ে রিদকে খুঁজল। দেখতে পেল রিদ খোলা বাংলোতে সাদা সোফায় উপর গা এলিয়ে শুয়ে আছে পা মেলে। মায়া দেরি করলো না। এক দৌড়ে নিচে নেমে গেল। রাত তখন বারোটা ছুঁই ছুঁই। গিয়ে দেখল রিদ সোফায় গা ছেড়ে শুইয়ে সিগারেট টানছে আকাশ মুখি চেয়ে। এক-পা সোজা করে মেলে রাখা তো অন্য পা -টা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটু ভাঙ্গা। মায়া বিরস মুখে দাড়িয়ে পরলো রিদ থেকে কিছুটা দূরে। আজকাল প্রায় মায়া রিদকে সিগারেট খেতে দেখে তার সামনে। এমন না রিদ কখনো সিগারেট খায় না। খায়! তবে মায়ার সামনে খেত না। কিন্তু আজকাল খায়। মায়া বিরস মুখে দাড়িয়ে থেকে বেখেয়ালি চোখ গেল সোফার উপর রাখা রিদের বামহাতটার দিকে। চমকিত মায়া আঁতকে উঠল রিদের হাতের অবস্থা দেখে। সোফার উপর দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রিদের বামহাতটা ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে রক্ত পরছে সাদা টাইলসে উপর। আতংকিত মায়া দৌড়ে গেল সেদিকে। ধুপ করে ফ্লোরে বসে রিদের রক্তাক্ত কাটা হাতটা টেনে নিতে চাইল নিজের হাতে। কিন্তু পারলো না। কারণ তার আগেই রিদ ঝাড়া দিয়ে মায়া হাত ফেলে দেয় নিজের হাতের উপর থেকে। আতংকিত মায়া কান্নায় ফুপিয়ে উঠে। অশ্রু সিক্ত চোখে রিদের দিকে তাকাতেই দেখল রিদ আগের নেয় আকাশ মুখে হয়ে সিগারেট টানছে। মায়ার দিকে তাকাচ্ছে না পযন্ত। কিন্তু মায়ার স্পর্শ, মায়ার উপস্থিতি রিদ বুঝতে পারছে বলেই, নিজেকে ছুঁয়ার অনুমতি মায়াকে দিচ্ছে না। কান্নারত মায়া থেমে থাকলো না। পুনরায় জোর করে নিজের দু’হাতে মাঝে রিদের হাতটা আঁকড়ে ধরতে চাইলো কিন্তু এবারও রিদ একিই কাজ করলো। মায়া হাতটা ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিল। ধরতে দিল না। বরং চাপা শান্ত স্বরে বলল রিদ…

—” গেট লস্ট ফ্রম হেয়ার।

মায়া ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। রিদের বিরুদ্ধে সামান্য খারাপ কথাটা যেখানে মায়া সহ্য হয়না। সেখানে রিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম তার। রিদ যে মায়ার সাথে পূব রাগ ধরে রেখে এখন ছুঁতে দিচ্ছে না সেটা বেশ বুঝতে পারছে মায়া। কিন্তু অসহায় মায়াও বা কি করবে? ভুল হয়ে গেছে! এখন সে কিভাবে ফেরত নিবে ওর বলা কথা গুলো? মায়া বুঝে রিদকে নোংরা, চরিত্রহীন কথাটা বলার উচিত হয়নি। কিন্তু তখন মায়ার মাথা কাজ করছিল বলেই তো বলে ফেলেছে। মায়া ভুল করেছে। শাস্তি স্বরুপ দীর্ঘ একটা মাস কেঁদেছে রিদ থেকে দূরে থেকে। ভুল বুঝে আরও অপরাধ বোধ কাজ করছিল তার মনে। এখন কি মায়া ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য না? মায়াকে কি একটা বার ক্ষমা করা যায় না? মায়া ঠোঁট কামড়িয়ে কান্না আটকিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে পুনরায় চেষ্টা করলো রিদের হাতটা ধরার। কিন্তু রিদ পুনরায় একিই কাজ করলো। মায়া ফ্লোরে বসা অবস্থায় হেলিয়ে পড়ল রিদের ছড়িয়ে রাখা বাম-পায়ের উপর গাঢ় অপরাধ বোধে। দুহাতে রিদের পা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রিদের উরুতে কপাল ঠেকিয়ে। শব্দ করে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে জড়ানো গলায় বলল মায়া…

—” আই এমন সরি। সরি! সরি! কি করবো আমি? বলে ফেলেছি কথাটা কিভাবে ফিরত নিব আপনি বলুন। আমি আর এমন করবো নাতো প্রমিস। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন না প্লিজ! আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে তো। সত্যি আমি আপনাকে আঘাত করতে চাইনি। বাজে কথা গুলো বলতেও চাইনি। বিশ্বাস করুন আমার প্লিজ।

রিদের বিন্দুমাত্র ভাবান্তর হলো না। আগের নেয় গা এলিয়ে সিগারেট টানতেই লাগল। মায়ার কথা আদৌ শুনছে কিনা তাও বলা দায়। মায়াও কতক্ষণ একই ভঙ্গিতে হেলিয়ে বসে রইল। নড়লো না কেউ। খানিকটা সময় পর মায়া উঠে রিদের পাশে বসলো অশ্রু সিক্ত নয়নে। তখনই মায়ার চোখে পরল রিদের বুক বরাবর তাজা কাটা ছেঁড়ার দাগটার দিকে। মায়া আঁতকে উঠে রিদের শার্টের বোতামের হাত দিতে নেয়। কিন্তু রিদ মায়ার হাতটা ঝাড়া দিয়ে ফেলে বলে….

—” নোংরা কিছু ছুঁয়ার দরকার নেই দূরে থাকো।

মায়া জোরপূর্বক রিদের গলা জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠে বলে…

—” আমি আর এমন বলবো না আপনাকে। কখনো আপনার অমান্যও করবো না। আপনার সব শাস্তি মঞ্জুর। তারপরও আমাকে একটু দেখতে দিন না আপনাকে প্লিজ। আপনার বুকের পাশটা অনেকটা কেটে গেছে তো। একটু ধরতে দিন না আমাকে।

সিগারেটের তীব্র গন্ধে খুক খুক কেশে উঠল মায়া। তারপরও রিদের গলা জড়িয়ে ধরা ছাড়লো না। মায়া রিদের নড়চড় না দেখে মায়া আরও চেপে বসল রিদের শরীরের সাথে। রিদের গলায় মুখ গুজে বলল…

—” আপনি তো আমাকে ভালোবাসেন না। আর এখন আপনাকে একটু করে ছুঁতেও দিচ্ছেন না আমাকে। আমি কি করবো বলুন? আপনি বললে আমি বিয়েটা ভেঙ্গে দিতে দেব। থাক আপনার জোরপূর্বক আমাকে বিয়ে করতে হবে না। আমি কালই গিয়ে আব্বুকে না ক…

মায়া কথা শেষ হলো না। তার আগেই রিদ সিগারেট টেনে অবশিষ্ট ধুঁয়াটা নিজের মুখে রাখল। জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন চেপে ধরলো মায়ার কমড়ে। আগুনের তাপে হকচকিয়ে গেল মায়া। কমড়ে জ্বলন্ত সিগারেটের তাপ পেতেই মায়া ঠোঁট ফেরে কেঁদে উঠল রিদের ভয়ে। আর সেই সুযোগটায় কাজের লাগালো রিদ। মায়া ঘাড় টেনে চেপে ধরল নিজের ঠোঁট। ততক্ষণ রিদ মায়া ঠোঁট আঁকড়ে রাখলো যতক্ষণ না পযন্ত রিদের মুখে জমিয়ে রাখা সিগারেটের সম্পূর্ণ ধুয়া মায়ার পেটে চালান না হচ্ছে। মায়া নিশ্বাস আঁটকে আসার উপক্রম হলো। দু’হাতে রিদকে প্রাণপূর্ণ ধাক্কিয়ে ছটফট করতে লাগলো রিদের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য। এতে রিদ আরও শক্ত করে চেপে ধরল মায়াকে নিজের সাথে। মায়ার ছটফটের কারণে রিদ মায়াকে নিয়ে হেলিয়ে শুয়ে পরল সোফার উপর। মায়া দু’হাত বেঁধে মাথার উপর দিয়ে সোফায় চেপে ধরে রাখলে মায়ার সকল ছটফট করা এক মূহুর্তেই বন্ধ হয়ে গেল রিদের বক্ষতলে পিষ্ট হয়ে। গুটি কয়েক মিনিট পর রিদ মায়ার ঠোঁট ছেড়ে উঠে বসতেই মায়া ছাড়া পেয়ে বুকে হাত দিয়ে কাশতে কাশতে সেও উঠে বসল সোফার উপর। রিদের দেওয়া সম্পূর্ণ সিগারেটের ধুয়া মায়ার পেটের ভিতর দলা পাকিয়ে আসতেই মায়া গড়গড় করে বমি করে দিল ফ্লোরে উপর রিদের সামনে। রিদ যেন দেখেও দেখল না। বরং সোফার টেবিল থেকে পুনরায় সিগারেট আর লাইটার নিয়ে সিগারেটে আগুন ধরিয়ে খেতে খেতে উঠে চলে গেল বাসার ভিতরের দিকে।
~~
রাত তখন প্রায় দুই-টার ঘরে। মায়া রিদের রুমে লুকিয়ে চুকিয়ে প্রবেশ করলো। গায়ের ওড়নাটা দুপাশ টেনে দেওয়া। চুল গুলো সব হাত খোঁপা করা। আবছা আলোয় মায়া স্পষ্ট দেখতে পেল রিদ গলা অবধি ব্ল্যাঙ্কেট টেনে কাত হয়ে ঘুমিয়ে আছে বিছানায়। মায়া ভয় ভয় নিয়ে রিদের পাশে দাঁড়ালো। হালকা রিদের মুখের উপর ঝুঁকে উঁকি মেরে দেখল, সত্যিই রিদ ঘুমিয়েছে কিনা? রিদের ঘন নিশ্বাস আর বন্ধ দু-চোখের পাতা দেখে মায়া বুঝল রিদ সত্যি ঘুমিয়ে পড়েছে। মায়া নির্ভয় হলো। স্বস্তির শ্বাস ফেলল। ওড়নার আঁচলে লুকিয়ে রাখা কাটা-ছেঁড়ার মলমটা বের করলো। রিদ ব্যথা পেয়েছে মূলত এই একটা কারণে এখনো অবধি ঘুমাতে পারেনি মায়া ঝটফট করতে করতে। কখন রিদ ঘুমাবে আর মায়া এই রুমে আসবে। সেই চিন্তায় রুমে পায়চারি করে সময় কাটিয়েছে সে। মায়ার তখন বমি করে কাঁদতে কাঁদতে রিদের পিছন পিছন সেও রুমে চলে এসেছিল। কিন্তু রিদের ভয়ে ফের রিদের কাছে আসার সাহসে কুলায়নি। তাই এতক্ষণ যাবত নিজের রুমেই ছিল সে। রুমে ড্রিম লাইট জ্বালানো। মায়া রিদের পাশে বসে রিদের হাতটা বের করতে চাইল ব্ল্যাঙ্কেটের নিচ থেকে। কিন্তু এতে রিদ হালকা নড়াচড়া করতেই মায়া ভয়ে দ্রুত দাঁড়িয়ে পরে। কিভাবে কি করবে, ভেবে পুনরায় গিয়ে দাঁড়াল রিদের পায়ের দিকে বেডের পাশে। মায়া ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে বার কয়েক উঁকি মেরে দেখলো রিদ পুনরায় নড়াচড়া করছে কিনা। না রিদের নড়াচড়া দেখতে না পেয়ে মায়া দারুণ একটা বুদ্ধি খাটাল। রিদের পায়ের কাছে ব্ল্যাঙ্কেটের নিচ দিয়ে ঢুকে, রিদের গলা দিয়ে বের হলো। কচ্ছপের মতো হালকা মাথা বের করে উঁকি মারলো রিদ উঠে গেছে কিনা দেখতে। রিদকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেয়ে মায়া টুপ করে ফের মাথা ঢুকিয়ে ফেলল ব্ল্যাঙ্কেটের ভিতর। রিদের শরীরে সাথে চেপে চেপে সোজা হয়ে শুলো। রিদের বামহাতটা টেনে নিজের শরীরের উপর রেখে ব্ল্যাঙ্কেটের ভিতর গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে হাতের মলমটার ক্যাপ খুলে হাতরে হাতরে রিদের হাতটাতে ধীরে ধীরে ফুঁ ফুঁ দিয়ে দিয়ে সেখানটায় যত্ন সহকারে ঔষধ লাগিয়ে দিল। হাতের চিনচিন জ্বালা পুড়ায় রিদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুমের রেশ কাটাতে রিদ চোখ খিঁচে বন্ধ করে রাখল কয়েক সেকেন্ড। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকাল। কাঁচা ঘুম ভাঙ্গার দারুণ রিদের মেজাজটাও চটে গেল ততক্ষণে। সবেমাত্রই শুয়ে ছিল সে। কিন্তু বুকের ভিতর তীব্র খচখচ, নড়াচড়ায় কারণে রিদ শান্তিমতে ঘুমাতে পারছে না। রিদ চোখ খুলে তাকিয়ে সামনে কাউকে দেখতে পেল না। বিরক্তির ভাজ আরও কয়েকটা পরলো কপালে। পুরোপুরি ঘুমের রেশ কাটিয়ে মাথার নিচের গুঁজে রাখা হাতটা বাকিয়ে গায়ের ব্ল্যাঙ্কেটটা হালকা উঁচু করে ধরতেই দেখল তার বুকের মধ্যে কারও উপস্থিত? ড্রিম লাইটের আলোয় রিদ স্পষ্ট দেখল মায়ার মাথা আর নড়াচড়া করা হাত দুটো। রিদ সর্তকতার সহিত উঁচু করে রাখা ব্ল্যাঙ্কেট ছেড়ে দিল। পুনরায় বালিশের উপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে নিল। আপাতত সে ঝামেলা পাকাতে চাচ্ছে না। বুকটা তার এমনিতেই খালি পরে আছে অনেক দিন ধরে। এখন যখন বউটা তার নিজ থেকেই কাছে এসেছে তখন সেও ঘুমের ভান ধরে পরে থাকবে বিছানায়। তারপরও বউকে বুকে পাওয়ার সুযোগটা মিস করবে না।

মায়া তীব্র খচখচ আর নড়াচড়া করে অন্ধকারের মধ্যে হাতরে রিদের হাতে মলম লাগিয়ে দিল। রিদের বুকের কাটা জায়গায় মলম লাগাতে গিয়ে তখনই বিপত্তি ঘটলো রিদের গায়ে টি-শার্ট নিয়ে। এটা খুলতে গিয়ে যদি রিদ জেগে যায় তো? নিশ্চয়ই ঘুম থেকে উঠে মায়াকে উল্টো হাতে ঘুরিয়ে দুটো থাপ্পড় মারবে এখানে আসার দায়ে। ভয়ার্ত মায়া শুকনো ঢুক গিলে পুনরায় রিদের গলার ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে মাথা বের করল। রিদের মুখোমুখি হয়ে দেখল রিদ এখনো ঘুমিয়ে আছে কি-না? না কোনো নড়াচড়া নেই। মায়া খুশি মনে টুপ করে আবারও ব্ল্যাঙ্কেটের ভিতর মাথা গলিয়ে দিল। দু’হাতে রিদের কমড়ের টি-শার্ট আঁকড়ে ধরে টেনে রিদের বুকের উপর উঠাতে চাইল। কিন্তু বিপত্তি বাজল রিদ কাত হয়ে শুয়ে থাকায় রিদের শরীরের নিচে চাপা পড়া টি-শার্টের অংশটা কোনো মতেই মায়া টেনে উপরে তুলতে পারছে না। নড়াচড়া করে শক্তি খাটিয়ে খাটিয়ে ব্ল্যাঙ্কেটের ভিতর ঘেমেও যাচ্ছে। তারপরও হার মানছে না। একপ্রকার যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সামিল মায়া ব্ল্যাঙ্কেটের ভিতর রিদের টি-শার্ট ধরে টানাটানি করা লেগে যেতে দেখেই রিদ মায়ার কষ্টটা বুঝতে পেরে নিজের শরীর উঁচু করলো হালকা, যাতে মায়া বুঝতে না পারে ততটা। সুবিধা পেয়ে ক্লান্ত মায়া এবার খুব সহজেই রিদের টি-শার্টটি দুহাতে টেনে রিদের বুকের উপর উঠাল। অন্ধকারে মধ্যে ফের হাতড়ে হাতড়ে রিদের বুকের কাটা জায়গায় গুলোতে খুঁজে খুঁজে মলম লাগাল। কাজ শেষ হতেই মায়া এবার বের হতে চাইল। মায়া নড়েচড়ে করে রিদের বুক থেকে সরে আসতে চাইলে রিদ খুব কৌশলেই ঘুমের ভান ধরে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে মায়াকে জড়িয়ে নিল নিজের সাথে। আপাতত বউকে যেতে দিতে চাচ্ছে না বলেই তার এমনটা করা। বউয়ের সাথে মান অভিমান আছে তার। কিন্তু তাই বলে এখন বউকে বুকে পেয়েও ছেড়ে দিবে এমনটাও না।

মায়া ভয়ে হকচকিয়ে উঠে রিদের হঠাৎ জড়িয়ে ধরায়। এখন নিশ্চয়ই রিদ উঠে যাবে মায়া নড়াচড়া করলে। সেই ভেবে মায়া আর নড়াচড়া করলো না বরং চুপচাপ শুয়ে থাকলো। রিদ ঘুমিয়ে পড়লে মায়া চুপচাপ উঠে যাবে নিজের রুমে। তাছাড়া রিদ তো আর জানে না মায়া ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে আছে সেটা। মায়াকে তো দেখা যাচ্ছে না। তাই রিদও বুঝতে পারবে না মায়া কোথায় আছে সেটা? নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে মায়া চুপচাপ শুয়ে থাকলো রিদের বক্ষতলে আটকা পরে। অপেক্ষা করলো রিদের কখন ঘুমিয়ে পড়বে সেটার জন্য। অধৈর্য মায়া রিদের অপেক্ষা করতে করতে একটা সময় নিজেই হামি দিতে দিতে ঘুমিয়ে পড়ল রিদের বুকে। মায়ার ঘন ঘন নিশ্বাস রিদের বুকের মাঝে ভারি খেতেই রিদ চোখ মেলে তাকায়। বুঝতে পারে তার বউ ঘুমিয়ে পড়েছে। রিদ গায়ের ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে, মায়ার বাহু টেনে নিজের বালিশে শুয়াল। মায়ার আদুরের ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে রিদ গুমোট শ্বাস ফেলে নিজের নাক চেপে ধরলো মায়ার ফোলা ফোলা গালে। রিদের অস্থির বুকটা আরও অস্থির হয় যখন বউটা তার এইভাবে পাগলামো করতে করতে তার কাছে আসে তখন। তার পাষাণ্ড বুকে প্রশান্তি ঢেউ বয়ে যায় বউটার অল্প সানিধ্যেই। কি এক অবস্থা তার! আজকাল নিশ্বাস নেওয়াটাও মুসকিল হয়ে উঠেছে এই বউটাকে ছাড়া। এই বউটা বিহীন মনে হয় যেন সে অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবে যেকোনো সময়। এই বউটা তার কাছে থাকবে না’ এই একটা শব্দতেও রিদের মাথায় আগুন ধরে যায়। ইচ্ছা করে দুনিয়ায় সবকিছু ধ্বংস করে দিতে নয়তো এই বউটাকেই তার সাথে পিষে ফেলতে। যাতে আর কারও নজরে না পরে তার বউ। শুধু তার হয়ে থাকুক সারাজীবন। সে তার বউকে ভালোবাসে। এক বুক ভালোবাসা বউয়ের জন্য। আজীবন বউকে ভালোবাসলেও কখনো কমার নয়। রিদের ভালোবাসা অপরিসীম। দুনিয়ায় কোনো কিছু সাথে তুলা করলেও রিদের ভালোবাসা নেয় গভীর কোনো কিছুই হবে না এমনটা তার ধারণা। তার এই বউটাকে চাই। বউয়ের ভালোবাসাকে চাই। মায়া শুধু রিদকে দেখুক! বুঝুক! অন্য কাউকে আর না দেখুক। সে পাগল হয়ে যাবে এই বউটাকে ছাড়া। সত্যিই মরে যাবে ধুঁকে ধুঁকে। মায়ার গালে রিদের চেপে থাকা নাকটা উঠিয়ে পরপর ঠোঁট বুলাল মায়ার এ-গালে, ঐ-গালে। মায়ার কপালে, বন্ধ চোখের পাতায়, নাকের ডগায় ছোট ছোট চুমু খেয়ে , মায়ার কানের কাছের মুখ নিয়ে ফিসফিস স্বরে বলে…

—” আই লাভ ইউ বউ। আমার ভালোবাসার শ্রেষ্ঠতম নারী তুমি। আমার রাজ্যের রানী তুমি। আমার অবুঝ পাখি তুমি। আমার পরকালের সাথী তুমি। আমার অশান্তির শান্তি তুমি। আমার শত দেওয়ানাপানের কারণ তুমি। আমার শেষ ঠিকানা তুমি। তোমাতে মন্ত আমি।

কথা গুলো বলতে বলতে রিদ মায়ার সাথে ঘনিষ্ঠ হলো। মায়ার কমড় চেপে নিজের সাথে মেশাল। মায়া বুকের ওড়নাটা টেনে খুলে একপাশে রাখল। ঘুমন্ত মায়াও যেন কেঁপে কেঁপে উঠছে রিদের স্পর্শের অতলে। রিদ মায়ার বুকে নিজের জন্য জায়গায় করে নিয়ে মুখ গুঁজাল মায়ার গলায়। একহাতে মায়ার কমড় চেপে ধরে এক-পা উঠাল মায়া শরীরে। মায়াকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে প্রশান্তিতে চোখ বন্ধ করলো।

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply