দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৬
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬৬
দুপুর গনিয়ে বিকাল হয়ে এলো। সময় ৪ঃ০৬। খান বাড়ির সদস্যরাদের অবস্থান বর্তমানে মায়ার বাড়িতে। ঘন্টা দুয়েক হলো তারা এসেছে। ঘর ভরতি মেহমান। বিয়ের আলোচনা সমালোচনা চলছে। রিদ বাদে কেউ বাদ পড়েনি এই আলোচনায়। আয়নও এসেছে। বেশ ইচ্ছা করেই এসেছে সে, নিজের, মা-বাবা, নানা-নানি, খালা-খালু, আর নিহা সোহাগকে সহ বিয়ের তথ্য নিয়ে মায়ার জন্য। শাহেবার বড় মেয়ে মারিহা আসেনি। তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য। বাকিরা সবাই চার গাড়ির করে আসলো। একটাতে বডিগার্ড। বাকি তিনটাতে আয়নরা সবাই এসেছিল। খবর পেয়ে আরিফও চট্টগ্রাম থেকে চলে আসে সকাল সকাল। মায়ার পুনরায় রিদের সাথে বিয়ে নিয়ে আরিফও দ্বিমত পোষণ করেছিল কিন্তু মায়ার চাকচিক্য খুশিময় মুখ দেখে সেও দমে যায়। তেমন কিছু বলা বা করার সুযোগ পায়নি। তাছাড়া ফিহাও জানায় মায়া রিদের জন্য কতটা পাগল। অজ্ঞাত আরিফও চুপ করে যায় বাবা শফিকুল ইসলামের মতোন। শফিকুল ইসলাম মায়া ডিভোর্সের কাগজ নিয়ে স্ত্রীসহ কাল খান বাড়িতে গিয়েছিল ঠিক, কিন্তু রিদের মুখোমুখি তিনি হতে পারেননি। খান বাড়িতে বসে বেশ অনেকক্ষণ রিদের অপেক্ষা জন্য করছিল তিনি। মায়ার ডিভোর্সের কাগজ আরাফ খানের তুলে দিয়ে বলেছিল, পেপারে রিদের সাইন আনতে বডিগার্ড দিয়ে। তারপর বাকিটা আর উনার জানা নেই। তবে মায়া যখন হুট করেই হেনা খানকে কল করে জানায় ‘সে খান বাড়িতে ফিরে যেতে চাই। রিদকে পুনরায় বিয়ের করতে চাই। সেই সবটাই শফিকুল ইসলাম ও রেহেনা বেগম শুনেছিল। কারণ তাঁরা হেনা খানের সাথে তখনো ড্রয়িংরুমে বসেছিল। মায়ার কথা শুনে উনারা কোনো রকম প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে খান বাড়ির থেকে চলে এসেছিল তখনই। আসলে এখানে কথা বলার প্রয়োজন বোধ মনে করেন নি তাই। বলবেও বা কি? যেখানে উনার মেয়ে রাজি! সেখানে কিসের কি কথা বলবেন উনারা? বুকে চাপা কষ্ট ধরে রাতের ট্রেনে
আশুগঞ্জ ফিরে আসেন তিনি। তখন রাত প্রায় একটার ঘরে। রাত থেকে সকাল অবধিও কারও সাথে কথা বলেন নি তিনি। কেমন একটা গম্ভীর মুখেই ছিল সবটা সময়। মায়া তখনো জানতো না বাবার চাপা কষ্টের কারণটা। সে বেশ ফুরফুরে মেজাজে বাড়ির ভিতর ঘুরঘুর করছিল আর এটা সে খাচ্ছিল। এইতো সকলের দিকে আরিফ যখন চট্টগ্রাম থেকে ফিরে আসার সময় বাজার করে নিয়ে আসলো মেহমানদারি করার জন্য। ফিহা শাশুড়ীকে সাহায্য করে ফল, মিষ্টি, বাকি খাবার গুলো ফ্রিজে রাখল। মায়া ঘুরঘুর করতে করতে ফ্রিজ খুলে এটা সেটা আগ বাড়িয়ে খেয়ে নিল। বেশ করে খেল রসমালাই। পুরো বক্সের বেশ অর্ধেক রসমালাই খেয়ে বাকিটা ঘেঁটেঘুটে রস সহ বক্স সুন্দর করে ফ্রিজে তুলে রেখে চলে গেল সে। কাজের জন্য রেহেনা বেগম ফ্রিজ খুলে জিনিস হাতে নিতে গিয়ে দেখল রসমালাইয়ে বক্স খালি। বাকি জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা। কিছুক্ষণ পর মেহমান আসবে আর এখন প্রায় অনেক কিছু এলোমেলো করে খেয়ে রেখেছে মায়া। এতে করে তিনি অনেকটা রাগেই মায়াকে ধমক লাগাতে চাইলে, শফিকুল ইসলাম স্ত্রীকে কর্ড়া চোখে থামিয়ে দিল। রেহেনা বেগমের ভয়ে জড়সড় মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শফিকুল ইসলাম চলে যান ভৈরব। পুনরায় বেশ করে খাবারের জিনিসপত্র কিনে বাসায় ফিরলো। মায়ার জন্যও আলাদাভাবে সবকিছু নিল। মায়া ছোট থেকেই খাবারের প্রতি বেশ মনোযোগ। কিছুক্ষণ পরপর ঘুরঘুর করে করে খাওয়ার অভ্যাস। এমনকি মধ্য রাতে উঠেও খাবার চাইতো। ভাত, মাংস ছাড়া বাকি সবকিছু খেতে চাইতো বেশি। ভাতের চাহিদা পূরণ করে অন্যান্য খাবার খেয়ে। আজও তাই। ঘুরে ফিরে দোকানি খাবার না পেলে প্রচুর কান্নাকাটি করতো সেটাও সবাই জানে। তাই তিনি ছোট থেকে মায়ার পছন্দের খাবার কিনে আনতো বাজার থেকে রোজ রোজ। আবারও শেষ বিকাল করে উনার হাত ধরে হাঁটতে বের হতো রাস্তায়। আইসক্রিম হাতে উনার আঙ্গুল ধরে হাঁটত উনার ছোট ছোট দুই মেয়ে। সময়টা তখন খুবই সুন্দর ছিল। আজ সুন্দরটা নেই মনে হচ্ছে। বাবা হিসাবেও নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে। হ্যাঁ তিনি মায়ার আচরণে কষ্ট পেয়েছেন। তবে শফিকুল ইসলাম এটা ও বুঝতে পেরেছেন! মায়া আর উনাদের নেই। সে অনেক আগেই ঐ বাড়ির সদস্য হয়ে গেছে। ঐ বাড়ির মানুষদেরও ভালোবাসে আপন করে নিয়েছে। তাই মেয়ের মনের বিরুদ্ধে তিনি আর কিছুই করবেন না। মায়া যাহ চাই তাই হবে। বাঁধা দিয়ে মেয়ের চোখে আর খারাপ হতে চাই না। অতীতে যা হবার হয়েছে। বর্তমান মেয়ের সাথে তিনি যুদ্ধ করবে না। অন্তত ঐ বাড়ির ছেলের জন্য তো না-ই। মনে কষ্ট নিয়েই নীরবে সম্মতি জানানোটা শ্রেয় মনে করেন তিনি।
মায়া তখনো জানে না শফিকুল ইসলাম কেন রাজি হলো তার বিয়ের জন্য। তবে রাজি হয়েছে এতেই অনেক। মায়া নিজের বাবার সাথে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গিয়েও বলতে পারলো না বাবার গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে। মনে সংকোচ নিয়েই টই টই করতে লাগলো রেহেনা বেগমের আগুপিছু আঁচল ধরে। এক হাতে তখনো খাবার ছিল। ক্রিম রোল। পেটুক মায়া বিগত একমাস রিদের শোকে তেমন একটা খেতে পারেনি। রুম থেকেও তেমন একটা বের পযন্ত হয়নি। কিন্তু এবার যখন সবকিছু ঠিকঠাক তাই মায়ার স্বভাবের চঞ্চলতায় যেন পুনরায় প্রকাশ পায়। কাল রাত থেকে এই অবধি খাওয়ার উপরই আছে। কিছুক্ষণ পরপর ঘুরঘুর করছে আর খাচ্ছে। রেহেনা বেগম বেশ জোর খাটিয়ে মায়াকে নিজের সাথে রান্না ঘরে রাখলো। মূলত মায়াকে রান্না শেখানো জন্য। ফিহা জুঁইকে আর মুক্তাকে বলল, ঘর গুছিয়ে রাখতে। উনার রান্নার কাছে সাহায্য করতে একজন কাজের মানুষও আছে। এতদিন মায়া সংসার না করলেও এবার বিয়ের হলে অবশ্যই মেয়েকে সংসার সামলাতে হবে। তাই তিনি মায়াকে সাংসারিক কাজে দক্ষ বানাতে চাচ্ছেন। উনাদের ছোট মেয়ে মায়া। খুব আদুরের সবার। অথচ ছোট থেকেই মেয়েটাকে নিজেদের কাছে রাখতে পারছেন না। তিনি মায়ার প্রথম বিয়ের সময়ও মত ছিল না। মাত্র ছয় বছরের ছিল মায়া। তিনি চেয়েছিলেন মায়া বড় হলে না-হয় ঐ বাড়ির ছেলের সাথে বিয়ে দিবে। কিন্তু খান বাড়ির মানুষজনের জন্য তাও সক্ষম হলো না৷ নিজের শশুর বিছানায় শয্যাশায়ী ছিল বলে শেষ ইচ্ছাটুকু রাখতে মেয়েকে বিয়ে দেয়। তারপর হলো আরেক দুর্ঘটনা। ঐ বাড়ির ছেলে ছেলের বউ মারা গেল। তার দোষ এসে পড়ল উনার ছোট অবুঝ মেয়ের উপর। মায়া স্বামী কি বুঝতো না। অথচ সেই স্বামীই সেদিন উনার ছোট মেয়েটাকে গুলি করে মারতে গিয়েছিল! ভাগ্য ভালো ছিল বলে মেয়েটা বেঁচে গেল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই উনারা সবাই ঠিক করেছিল মায়াকে আর দিবেন না খান বাড়িতে। মায়া বড় হলে ডিভোর্স করিয়ে নিবে ঐ বাড়ির ছেলের সাথে। কিন্তু হঠাৎ করেই খবর আসে মায়াকে নিয়ে যাবেন খান বাড়ির মানুষ। নিয়েও গেল। কিন্তু এতে করে অশান্তি সৃষ্টি হলো উনার সুখের সংসারের। ছেলে মেয়ে সবাই মিলে দোষী করলো উনার স্বামীকে। আজও দেয়। অবশেষে উনারা মায়ার ডিভোর্স করাতে গিয়ে বুঝতে পারলো উনাদের মেয়ে উনাদের আর নেই। সে অনেক আগেই খান বাড়ির প্রতিটা মানুষকে আপন করে নিয়েছে। এমনকি ঐ বাড়ির ছেলেকেও। তাদের মাথায় বজ্রপাত হয়েছিল তখনই। যখন মায়ার ফোন আলাপের কথা গুলো শুনেছিল হেনা খানের সাথে। এক মূহুর্তেই যেন তারা নিরুপায় হয়ে গেল। বুঝতে পারলো পরিস্থিতিটা। প্রতিটা জিনিসই সেখানে ভালোবাসা, যত্ন বেশি পায়, সেখানটায় ভিড়ে যায়। মায়ার ক্ষেত্রেও তাই। হয়তো ঐ বাড়ির সকলের ভালোবাসা পেয়ে এখন নিজের পরিবারের কাছে থাকতে নারাজ। কিন্তু এতে কিছুর পরও উনার মায়ের মনটা সায় দিচ্ছে না রিদকে নিয়ে। তিনি যতটা জানেন ঐ বাড়ির ছেলেটা ভালো না খারাপ। গ্যাংস্টার ! রাগী আর বদমেজাজি। উনার মেয়েকে যদি কোনো কারণে রাগের বশে ফেলে দেয় সেই ভয়ে আষ্টশ উনাদের বুক। মেয়ে হারানোর ভয়ে রেহেনা বেগমের মনটা হু হু কেঁদে উঠে তৎক্ষনাৎ। ব্যস্ত হাতের ক্ষন্তি থেমে গিয়ে কেঁদে উঠে গুমরে। মায়া দেখার আগে শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে নিতে চাইল, কিন্তু বাঁধ ভাঙ্গা চোখের জল তখনো পড়ছিল মায়ার চিন্তায় চিন্তায়। মায়া নিজের মায়ের গুমরে কাঁদার শব্দ বুঝতে পেরে খাবার রেখে ছোট ছোট দু’হাতে তৎক্ষনাৎ রেহেনা বেগমের কমড় জড়িয়ে ধরতেই তিনি শব্দ করে ডুকরে কেঁদে উঠে মায়াকে বুকে টেনে।
দুপুরের দিকে খান বাড়ির মানুষ জন্য হাজির হয়। আরিফ, শফিকুল ইসলাম, শাহেদ এগিয়ে গিয়ে রিসিভ করলো তাদের। আরিফ প্রথমে সালাম দিলো সবাইকে। তারও শশুর বাড়ির মানুষজন হয় তারা। নম্রতা নিয়ে কৌশল বিনিময় করলো সবার সাথে। আয়ন, সোহাগের সাথে হ্যান্ডশেক করে সবাইকে বাড়ির ভিতর নিয়ে গেল। মুক্তা-শাহেদের ছেলে মাহাদী খালামুনিদের সাথে আছে মায়ার রুমে। আরাফ খান বডিগার্ড দিয়ে বিয়ের তথ্যের ডালা গুলো পাঠাল মায়াদের বসার ঘরে। একে একে সবাই এসে বসল বসার ঘরে। রেহেনা বেগম, মুক্তা দ্রুত হাতে সবাইকে ঠান্ডা শরবত প্রথম পাঠালো বাড়ির পুরুষদের দিয়ে। পরে বাকিসব নাস্তা দিল। কিন্তু হেনা খান খুচখুচ করে উঠে গেল মায়ার জন্য। মায়াকে কোথাও দেখতে না পেয়ে প্রথম আরিফকেই জিগ্যেসা করল মায়া কোথায়? আরিফ জানাল, ‘মায়া উপরে ঘরে রেডি হচ্ছে। হেনা খান তখনই উঠে চলে গেল আরিফের দেখানো রাস্তা ধরে মায়ার রুমের দিকে। গিয়ে দেখল মায়াকে শাড়ির পড়াচ্ছে ফিহা আর জুঁই মিলে। দরজা দিকে তাকিয়ে মায়া হেনা খানের উপস্থিতি বুঝতে পেরে, হুট করে অর্ধ শাড়ি পড়া মায়া দৌড়ে গিয়ে ঝাপটা ধরলো হেনা খানকে। অনেকটা দিন দূরে থাকায় ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে উঠে মায়া। হেনা খানও তাই! তবে তিনি সময় নিয়ে মায়াকে আদুরে সহিত শান্ত করে পুনরায় শাড়ি পড়িয়ে নিচে নিয়ে গেল বসার ঘরে নিচে। পিছন পিছন জুই ফিহাও গেল। মায়াকে নিচে নিতেই প্রথমে চোখ পড়লো আয়নের। অস্থিরতায় সে চোখ নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু তার আগেই চোখ গেল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জুইয়ের দিকে। জুই কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে তার দিকে। হয়তো বুঝতে পেরেছে আয়নের মায়ার প্রতি অস্তিত্ব বোধের কারণটা। আয়ন জুইয়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ হলো না। চোখ নামিয়ে নিতেই বুঝতে পারলো কেউ তাকে জড়িয়ে। আয়ন ফিহার উপস্থিতি বুঝতে পেরে আলতো হাতে ফিহাকে নিজের প্রশস্ত বুকে জড়িয়ে নিয়ে আদুর করলো। বিয়ের পর পির-যাত্রা শেষ করে ফিহা আর নিজের বাড়ি যায়নি। হয়তো নিজের মার প্রতি চাপা অভিমান পোষণ করেই যায়নি। আয়ন বেশ বুঝলো। ফিহা একে একে নিজের বাড়ির মানুষদের সাথে মিলিত হলো। নিজের মাকেও জড়িয়ে ধরলো। নিরবে চোখের পানিও ফেলল। এই প্রথম সে এতোদিন নিজের পরিবার থেকে দূরে থাকায়। মায়াকে নিয়ে হেনা খান বসল আরাফ খান আর উনার মাঝে। মায়া প্রথমে বেশ অস্তিত্ব আর লজ্জায় মিইয়ে গিয়ে জড়সড় হয়ে মাথা নুইয়ে বসেছিল সবার সামনে। এর মাঝে মায়াকে আরাফ খানও আলতো হাতে জড়িয়ে নিয়ে ছিল আদুর করে। চোখের ইশায় মায়াকে বুঝাল অস্তিত্ব বোধ না করে স্বাভাবিক হয়ে বসতে। মায়াও বেশ স্বাভাবিক হয়ে বসল। বাকি সবাই বেশ খুশি মনে দুই পরিবার কথা বলছিল একে অপরের সাথে। মায়া নিজের ডাগর ডাগর আঁখিদয় ঘুরিয়ে কৌতূহলী হয়ে চারপাশে তাকিয়ে রিদকে খুঁজলো। কিন্তু পেল না কোথাও। রিদকে আশেপাশে কোথাও দেখতে না পেয়ে মায়ার বুঝল রিদ আসেনি। হয়তো তার সাথে রাগ করা নিয়েই আসেনি রিদ। কষ্টে মায়া ঠোঁট ভেঙ্গে কাঁদা উপক্রম হলো। মূহুর্তে চোখ দুটোও টইটম্বুর হলো। রিদের রাগ যে মায়া সহজে ভাঙ্গতে পারবে না সেটাও বুঝলো। কিন্তু মায়া এখন কি করবে? কিভাবে ভাঙ্গাবে তার মিস্টার ভিলেনের রাগ। মায়া কিছুই বুঝে উঠতে না পারলো না। মায়ার কান্না থামল। হেনা খান হুট করে মায়ার কোলের নাস্তার প্লেট তুলে দিতেই মায়া এক মূহুর্তের জন্য রিদকেও ভুলে গেল খাবার পেয়ে। সেই সাথে সবার কথার মনোযোগ না হয়ে চোখে পানি নিয়েই নাক টেনে টেনে নিজের খাবার গুলো শেষ করতে লাগলো। আলোচনার একটা সময় হেনা খান মায়ার দু’হাতে বংশগত দুটো বালা আর একটি আংটি পড়িয়ে দিল। রিদের বাগদত্তা হিসাবে বেশকিছু গহনাপত্রের সাথে কিছু টাকাও সালামি সমেত দিলো। মায়ার বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক হলো সবার দুপুরের খারারের পর। বিয়ের ডেট ধরলো রিদের পূব থেকে ফিক্সড করা ডেট অনুযায়ী সামনের শুক্রবারে। আজকে শনিবার মানে আর ছয়দিন মাত্র। মাত্র ছয়দিন! বিয়ের এতো ছোট ডেট নিয়ে আপত্তি জানালো মায়ার পরিবার। কিন্তু আরাফ খান অনুনয় সুরে আবদার করলো ‘এই ডেট-টায় রাখতে। কারণ তাদের বিয়ে কার্ড অলরেডি এই ডেটে অর্ডার করা হয়ে গেছে। অনেককে পূব থেকেই এই ডেট-টে দাওয়াত করা হয়ে গেছে। তাই ডেট টা চেঞ্জ করলে সমস্যা হবে বলে জানায়।’ অজ্ঞাত মায়া পরিবার এটাও মেনে নেন। এবং সহমত পোষণ করেন। মায়ার বিয়ের ডেট, মেনু নিয়ে আলোচনা করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। খান বাড়ির মানুষজন ফিরে যেতে তাড়া দিলে মায়া পরিবার জানায় তাদের রাতের ডিনারের শেষে যেতে। বাঁধ্য হয়ে তখন আর কারও যাওয়ার হলো না। বসার ঘরে সবার বেশ খুশ মেজাজে আলোচনা সমালোচনা গ্রুপ হয়। মায়া হেনা খানের সাথে বসে আছে। তবে হুট করে আয়ন উঠে কিচেন দিকে গেল। ফিহা, রেহানা বেগম, মুক্তা, একজন কাজের মানুষের সাথে জুঁইও টুকটাক কাজ করছিল তখন। আয়ন কিচেন দরজা থেকে গলা কেশে নিজের উপস্থিত জানান দিল সবাইকে। সবাই চমকে সেদিকে তাকাতেই দেখলো আয়ন। ফিহা বেশ হাসি মুখে নিজের ভাইয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলো ‘ আয়নের কিছু লাগবে কিনা।
আয়ন ঠান্ডা পানি চাইলে, রেহেনা বেগম দ্রুত হাতে গ্লাস ভরতি ঠান্ডা পানি দিল আয়নকে। পানির গ্লাসটা সম্পূর্ণ শেষ করার মাঝে আয়ন একবার আঁড়চোখে জুইকে দেখে নিল। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পানির গ্লাসটা রেহেনা বেগমের হাতে তুলে দিতে দিতে বলল আয়ন..
—” আন্টি আমি একটু রেস্ট নিতে চাই! আসলে অনেকটা ক্লান্ত লাগছে আমার। যদি একটা রুমের ব্যবস্হা…
আয়নের কথায় ইতি টানার আগেই রেহেনা বেগমের ব্যস্ত গলায় বলল…
—” হ্যাঁ হ্যাঁ বাবা অবশ্যই হবে। তুমি রেস্ট নিতে চাও এতে সংকোচ কিসের। আমরা কি তোমাদের আপন না। ফিহা যাও তো তোমার ভাইকে উপরের গেস্ট রুমে নিয়ে যাও।
—” জ্বিই আম্মু! ভাই চলো।
ফিহার সম্মতি আর রেহেনা বেগমের কথায় হালকা হাসল আয়ন। ঠান্ডা কন্ঠে বলল…
—” আন্টি ফিহাকে মা ডাকছে। হয়তো কোনো কাজে হবে।
আয়নের কথায় রেহেনা বেগম তৎক্ষনাৎ বলল…
—” আচ্ছা ঠিক আছে! ফিহা তুমি তোমার মার কাছে যাও। এই জুই! যাতো তোর এই ভাইয়াকে উপরে গেস্ট রুমটা দেখিয়ে দিয়ে আয়। যাহ!
রেহেনা বেগমের মুখে জুইয়ের ভাই আয়ন, এই কথাটিতে বেশ চমকে উঠে সে। বিস্মিত বিস্ফোরণে চট করে তাকালো ফিহা জুইয়ের দিকে আয়ন। তাদের দুজনের ও একিই অবস্থা রেহেনা বেগমের কথায়। নিজের বউয়ের ভাই এক মূহুর্তে হয়ে যাওয়াতে বেশ নারাজ প্রকাশ করল আয়ন। তবে কাউকে বুঝতে দিল না সেটা তার মনে মনে রাখল। আয়ন কথা না বলে বের হয়ে যেতেই, মুড়েমুড়ে হাসলো জুই। সেও কিছু না বলে আয়নের পিছন পিছন যেতে লাগলো। ফিহাও গেল নিজের মায়ের কাছে। কিন্তু গিয়ে বুঝতে পারলো আসলে ফিহাকে মেহেরবান ডাকেই নি। আয়ন মিথ্যা বলেছে। কিন্তু কেন বলল প্রথমে বুঝতে না পারলেও৷ বাহিরের দিকে উঁকি মেরে সিঁড়ি দিকটা তাকিয়ে ঠিকই বুঝতে পারলো আয়ন জুইয়ের সাথে আলাদা ভাবে সময় কাটাতে চাই বলেই তখন মিথ্যা বলেছে। ফিহা হাসলো। পাশ থেকে আরিফ দেখলো সেই হাসিটা। সে এগিয়ে এসে ফিহার সাথে কথা বলতে চাইলে ফিহা আরিফকে ইগনোর করে চলে গেল পুনরায় কিচেনের দিকে। আরিফ দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তার দিকটা কখনো ফিহা বুঝবে কিনা কে জানে? তবে আরিফও সুযোগ সন্ধানে আছে। একটা সুযোগ সেও কাজে লাগাবে। ফিহাকে বশ করতে।
আয়নের পিছন পিছন সিঁড়ি বেয়ে দুতলা উঠে ফ্ল্যাটের দরজা খুলার সময় পাশে এসে দাঁড়ালো আয়ন। জুইয়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভরাট কন্ঠে প্রশ্ন করল…
—” জুই আমি কিন্তু ভিষণ চিন্তায় আছি। আমাদের ছেলে-মেয়ে গুলো আমাকে বাবা ডাকবে নাকি মামা ডাকবে সেটা নিয়ে। আপনার মা তো আজকে আমাকে আপনার ভাই বানিয়ে দিল। এবার বোন হিসাবে আপনিও কিন্তু নিজের ছেলে-মেয়েদের মামী হয়ে যাবেন।
লকে ধরে রাখা জুইয়ের হাতটা কেপে উঠে আয়নের বেগতিত কথায়। উত্তেজনায় বুকও ধড়ফড় করে উঠে তৎক্ষনাৎ। আয়ন যে ঠোঁট কাটা স্বভাবের সেটা জুই বেশ ভালোই জানে। কিন্তু ভেবেছিল আয়ন হয়তো আজ এই বাড়িতে মেহমান হিসাবে এসেছে বলে তার সাথে আজ অন্তত ভদ্রতা বজায় রেখে জুইকে কিছু বলবে না। ভালো আচরণ করবে। ভালো কথাও বলবে। কিন্তু জুইকে পুনরায় মিথ্যা প্রমাণ করলো আয়ন। জুই আয়নের কথা না শুনার মতো করে দ্রুত হাতে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। আয়নও দরজা সামনে ঠেসে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় কথাটা বলে জুইকে…
—” জুই একটু দাঁড়ান তো!
জুই ইতস্তত ভঙ্গিতে পিছন ঘুরে তাকাতেই আয়ন অতি চিন্তত ভাজ কপালে ফেলে জুইয়ের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে..
—” আজকে গোসল করেছিলেন আপনি?
আয়নের কথায় আর এগিয়ে আসা দেখে জুঁই ভয়ে লাফিয়ে ছিটকে দূরে সরে গেলো কয়েক কদম। পূবের কথা মনে করে জুই তেজি স্বরে বলল…
—” একদম না। আমার কাছে আসা যাবে না। আমি গোসল টোসল করেই এসেছি। নিজের জায়গায় থাকুন। আপনি নিজেই হয়তো গোসল করেন না। এজন্য অন্যের গোসল নিয়ে এতো চিন্তা।
আয়ন দাঁড়িয়ে পরে কপাল কুঁচকে বলে…
—” কে বলে আমি গোসল করি না? আপনি? ওহ আপনার তাহলে বিশ্বাস নেই আমি যে গোসল করি সেটা?
জুইয়ের কাঠকাঠ উত্তর…
—” হ্যাঁ তাই।
—” বেশ তাহলে নিজেই চেক করে নিন। আসুন। কাছে আসুন। চেক করুন।
কথাটা বলেই আয়ন পুনরায় জুইয়ের দিকে এগোই নিজের শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে। আয়নের হঠাৎ কান্ডে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় জুই। লজ্জা আষ্টশ হয়ে খানিকটা চিবিয়ে চিবিয়ে বলল…
—” আপনার মতো অসভ্য ডাক্তার আমি জীবন দুটো দেখিনি। ছিঃ কি কান্ড পর নারীর সাথে। ছিঃ
আয়ন দাঁড়িয়ে পরে কপাল কুঁচকে বলে…
—” আপনি পরনারী কোথায় পেলেন জুই? আমিতো আমার বউ ছাড়া আর কাউকে দেখছিনা। আমাদের আশেপাশে আরও কেউ আছে বুঝি? ওহ আচ্ছা! আপনি তাহলে সচেতন বউ। নিজের স্বামীর শরীর পরনারীদের দেখাতে চান না বলে কৌশলে না করছেন আমাকে। আচ্ছা থাক খুলবো না শার্ট। এই তো পড়ে নিচ্ছি। আপনার কথায় মানলাম। চুলুন আমরা রুমে যায়। রুমে গিয়ে শুধু আপনার সামনেই শার্ট খুলবো কেমন। তারপরও আপনি রাগ করবেন না জুই। আমি আপনার কথায় মানবো। চুলুন রুমে যায়।
আয়নের নির্লজ্জ কথায় জুঁইয়ের অনেক কাঁদা উপক্রম হলো। কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে গেল এই অসভ্য ডাক্তার। কথায় কথায় জুইকে স্বামী পাগল বউ বানায় দিল। বিস্ফোরণের জুইয়ের এখন হাত পা ছড়িয়ে ফ্লোরে কাঁদতে মন চাইছে। তবে সে কাঁদবে না। জুই হলো শক্ত মনের মানুষ। হুটহাট কাদার অভ্যাস তার নেই। তাও খুব বড় কারণ ছাড়া জুই বিশেষ একটা কাঁদে না। জুই রাগে দুঃখের কটমট করে বলে..
—” আপনি সত্যি যা ইচ্ছে তাই। মুখে লাগাম নেই। অডিও সাথে ভিডিওর কোনো মিল নেই। দেখতে ভদ্র! কিন্তু তলে তলে অভদ্রের সরদার। আমার গোসল নিয়ে চিন্তা না করে নিজের চরকায় তেল দিন। অসভ্য ডাক্তার।
কথাটা বলে জুই রাগে দুঃখের আয়নকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে। হাত টেনে ধরে আয়ন। জুইকে টেনে নিজের কাছে আনতে আনতে বলল..
—” আমি সচেতন নাগরিক হয়ে কি চেক করবো না, আমার আশেপাশে কেউ ময়লা ময়লা হয়ে ঘুরছে কিনা? পরিবেশ দূষণ বলতেও একটা কথা আছে। সচেতন নাগরিক হয়ে আমি পলিউশন কন্ট্রোল করে, তারপর তো নিজের চরকায় তেল দিব তাই না।
~~
ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসল আয়ন। ছোটখাটো সাধারণ একটি রুম এটি। ঘরের সব ফার্নিচার গুলোও কাঠের। তবে রুমটা বেশ গুছানো পরিপাটি। আয়ন সাদা টাওয়ালে মুখ মুছতে মুছতে এক পলক রুমটা দেখে নিল। তখনই রুমে প্রবেশ করলো জুই হাতে কফির মগ নিয়ে। আয়ন সেদিকে চোখ তুলে তাকায়। আকাশি রঙ্গা থ্রি পিসটায় জুইকে অদ্ভুত সুন্দর লাগলো আয়নের চোখে। হাতের সাদা টাওয়ালটা বিছানার উপর রেখে ডাকল জুঁইকে আয়ন..
—” এদিকে আসুন জুঁই।
জুই প্রচন্ড অস্থিরতার সহিত ধীর পায়ে আয়নের সামনে যেতে আয়ন হাত বাড়িয়ে কফির মগটা জুইয়ের থেকে নিল। খাটের পাশের টেবিলে রেখে বিছানার উপর রাখা নতুন ফোনটি নিয়ে জুইয়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে…
—” নিন এটা আপনার।
কপাল কুঁচকে তাকায় জুই আয়নের বাড়িয়ে দেয়া হাতের ফোনটির দিকে। প্রথমে বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করলো..
—” আমার মানে?
—” আপনার মানে আপনার। এটা আপনার ফোন ধরুন।
বিষন্নয়ে জুই বলল…
—” আমার ফোন হবে কেন? আমার তো ফোন নেই। এটা কার?
আয়ন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হুট করে জুইয়ের হাত টেনে ফোনটি ধরিয়ে দিতে দিতে বলে..
—” এটাই আপনার। আমি দিলাম। না করা যাবে না। স্বামী কিছু দিলে স্ত্রীদের গ্রহণ করতে হয়। তাছাড়া ফোন আমি আপনার জন্য দেয়নি আমার জন্য দিয়েছি। আমার সাথে যোগাযোগ করার জন্য দিয়েছি। সিম, আমার নাম্বার সবকিছু সেট করা আছে। প্রয়োজনে ফোন করবেন আমাকে।
আয়নের কথায় মূহুর্তে চমকে উঠে জুই। শরীর ছুঁয়ে গেল অনূভুতির শীতল হওয়া। বুক ধড়ফড়ে, কম্পন সৃষ্টি হলো শরীর। আয়ন জুইয়ের হাত ছেড়ে কফির মগ হাতে নিয়ে তাতে চুমক বসাল। জুই নিজের হাতের দামি আইফোনের দিকে তাকিয়ে ভয়ার্ত গলায় বলল..
—” আমি ফোন ব্যবহার করতে জানি না তেমন। একটু আকটু জানি কিন্তু আইফোন তো…
জুঁইয়ের কথা শেষ হবার আগেই আয়ন ভরাট কন্ঠে বলল…
—” শিখে নিবেন ফিহার কাছ থেকে। তাছাড়া ফোন চালানো শেখা বেশি দরকারও নেই। আমাকে কল করতে পারেন এতোটা জানলেই চলবে।
জুই এবার খানিকটা ইতস্তত গলায় বলল…
—” আমাদের কলেজে ফোন নেওয়া ও নিষেধ।
—” ফোন সবসময় ভাইব্রেট মুডে রাখবেন। আমি আপনার ক্লাস টাইমে কল দিব না কখনো। রাতে, সকালে আর লাঞ্চ টাইম ছাড়া।
জুই হাসফাস করে রুম থেকে যেতে চাইলে আয়ন পুনরায় থামিয়ে দিয়ে বলে…
—” আমি আপনাকে যেতে বলিনি জুই। আপনি থাকুন। আমার কথা আছে আপনার সাথে।
জুই ছোট ছোট চোখ করে আয়নের দিকে তাকাতেই তখনই খোলা দরজা নক করলো কেউ। আয়ন জুই সেদিকে চোখ তুলে তাকালে নীর শাড়ি পরিহিত মায়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলো দুজন। মায়া পরপর গমগম পায়ে রুমে প্রবেশ করে সোজা আয়নের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। রুমে তখনো নীরবতা বিরাজমান। আয়ন জুইয়ের দৃষ্টি ভেঙ্গে প্রথম কথা বলল মায়া…
—” আয়ন ভাইয়া তোমার ভাইকে ফোন দাও। আমি কথা বললো।
আয়ন মায়ার কথা বুঝতে না পেরে বলল…
—” কাকে, রিদকে ফোন দিবো?
মায়া মাথা উপর নিচ করে নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে বলল…
—” হুমমম।
—” ওহ! রিদ মনে হয় দেশে নেই। আ’ম নট শিওর। কেন কোনো প্রয়োজন?
‘রিদ দেশে নেই’ এই কথাটা সহজে মানতে পারলো না মায়া। প্রায় ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে ফেলে জেদ্দি গলায় বলল…
—” উনাকে কল দাও ভাইয়া।
মায়ার কান্না ভাঙ্গা গলায় তেজি সুরে বিষন্ন হলো আয়ন। মায়ার চোখ দুটোতে অশ্রুকণা টইটম্বুর হতেই অস্থির হলো আয়নের মন। রিদের প্রতি মায়ার ভালোবাসাটা বুঝে সে খানিকটা অস্থির কন্ঠে বললো…
—” ওকে ওকে রিল্যাক্স! কেঁদু না প্লিজ। আমি রিদকে এক্ষুনি কল করছি। হয়তো ওহ দেশেই আছে। আমি সঠিক জানি না। দাঁড়াও কল দিচ্ছি।
আয়ন কথা গুলো বলেই পরপর কল লাগায় রিদকে নিজের নাম্বার থেকে। খানিকটা সময় নিয়ে রিদের ফোন বাজতেই আয়ন মায়াকে জানায় রিদের ফোনে কল ঢুকেছে৷ মায়া খুশিতে আটখানা হয়ে দাড়িয়ে রইল রিদের সাথে কথা বলতে চাই বলে। কিন্তু রিদ কল রিসিভ করলো না। আয়ন ক্ষুব্ধ মনে মায়াকে জানাল ‘ ‘রিদ তার কল রিসিভ করছে না।
মায়া ছটফট মনে বলে…
—” আবার দাও।
আয়ন পুনরায় কল করলো কিছুটা সময় যেতেই রিদ কল রিসিভ করে ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠে ‘হ্যালো! বলতেই আয়ন বেশ ঠান্ডা কন্ঠে রিদের উদ্দেশ্য বলে…
—” মায়া কথা বলতে চাচ্ছে তোর সাথে। নে একটু কথা বল..
ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর করলো রিদ…
—” সময় নেই। মিটিংয়ে আছি। বাই।
রিদ কল কেটে দিল তৎক্ষনাৎ। আয়ন কান থেকে ফোন নামিয়ে মায়ার দিকে তাকিয়ে হতাশ গলায় বলল..
—” রিদ কল কেটে দিল। বলল সময় নেই নাকি মিটিংয়ে আছে।
মায়া ঠাস করে আয়নের হাত থেকে ফোন কেঁড়ে নিতে নিতে বলল..
—” আমি জানি না কিচ্ছু। আমি কথা বলবই। দিন ফোন দিন।
মায়া আয়নের ফোন নিয়ে চলে যেতে লাগলো রুম থেকে। দরজা অবধি গিয়ে পুনরায় ফিরে তাকালো আয়ন জুইয়ের দিকে। দু’জনই বিষন্নতায় ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে ছিল মায়ার দিকে। মায়া দুজনের দৃষ্টি অপেক্ষা করে বলল…
—” ভাইয়া আমার সাথে কিন্তু আপনার সকল দিক থেকেই ঠাট্টার মানে মজা করার সম্পর্ক। সেটা মানেন তো?
আয়ন প্রথমে বুঝতে না পেরে বলল…
—” মানে?
মায়া ঠোঁট প্রসারিত করে হেঁসে বলল…
—” সম্পর্কে প্রথমে আমি আপনার ভাবি হয়। আপনি আমার দেবর। দ্বিতীয়ত্ব আপনার বউয়ের ছোট বোন আমি! মানে আপনার শালি। তৃতীয়ত্ব আপনার বোন আমার ভাবি। তার মানে আমরা হলাম বিয়াই বিয়াইন। তারমানে আপনার সাথে আমার সবদিক থেকেই মজা করা সম্পর্ক আছে। তাই না?
আয়ন মায়ার কথায় সম্মতি দিয়ে মাথা নাড়ালো। তারমানে দুজনের ‘সত্যি মজার করারই সম্পর্ক তাদের। মায়া তৃপ্তির হেঁসে জুইয়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে আয়নকে বলল…
—” আসলে ভাইয়া! আপনার বউ সিস্টেম সম্পর্কে একটু বেশি বুঝে। চলেও বেশি। সারাদিন সিস্টেমের চিন্তায় করে বেড়ায়। আপনি তো ডাক্তার মানুষ। তাই একটু যদি দেখতে জুইয়ের সিস্টেম বেশি চলার কারণটা তাহলে উপকার হতো ওর। বেচারি বিপদে আছে সিস্টেম জ্বালায়। এজন্য অন্যকে…
মায়া কথা শেষ না করেই লজ্জায় হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যায় আয়নের ফোন নিয়ে। আপাতত ওর কাজ শেষ। জুইকে আয়নের সামনে লজ্জায় ফেলতে এমনটা করা তার। মূল কথা হলো প্রতিশোধ নিল সে এখন। তাছাড়া জুইও কম নয়। সারাদিন মায়াকে সিস্টেম সম্পর্কে বলে বলে খুঁচা দেয়। এই জন্য মায়াকেও কম পোহাতে হয়নি। বাজে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল। বিশেষ করে রিদের সাথে। রিদ মায়াকে এই সিস্টাম নিয়ে অনেক কথা শুনিয়েছে। মায়ার সিস্টেমে সমস্যা আছে নাকি দেখতেও চেয়েছিল শুধু মাত্র জুইয়ের বলা কথা গুলোতে। এবার জুইও বুঝতে পারবে মায়া কতটা লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল তার জন্য। আয়ন জুঁই দুজনই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে মায়ার যাওয়া দিকে। মায়া যে হুট করেই এসব কথা বলে বসবে সেটা ভাবতে পারেনি কেউ। মায়ার কথায় লজ্জায় সিঁটিয়ে গেল জুই। এমনিতেই আয়ন ঠোঁট কাটা স্বভাবের। মায়ার এসব কথাতে নিশ্চয়ই আয়ন আরও নাচাবে তাকে সুযোগ যেহেতু পেয়েছে। জুই লজ্জা আর ঘুরে তাকাল না আয়নের দিকে। লজ্জায় আষ্টশ হয়ে তৎক্ষনাৎ দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলো রুম থেকে, কিন্তু তার আগেই আটকা পড়ে আয়নের বাহু বন্ধনের। জুই চমকে উঠে ছটফট করতেই আয়ন জুইয়ের পিছন থেকে ঝাপটে ধরে টেনে দরজার সামনে গিয়ে দরজা লক করে দেয়। চমকানো ভঙ্গিতে আঁতকে উঠল জুই আয়নকে দরজা লাগাতে দেখে। তার ছটফটের মাত্রা আরও দ্বিগুণ হলো ছুটার জন্য। আয়ন ছাড়লো না। বরং দেয়ালের সাথে জুইকে মিশিয়ে দাড় করিয়ে দুহাত রাখল দুপাশে। আবাক হওয়া ভান ধরে বলল…
—” জুই সত্যি কি আপনার সিস্টেম বেশি চলে? রাতে একা থাকতে সমস্যা হয় আপনার? আমি কিন্তু একজন ডাক্তারের সাথে সাথে আপনার স্বামীও। আমাকে বলুন। আপনার কঠিন জটিল সমস্যার সমাধান কিন্তু আমাকে ছাড়া হবে না জুই। আমার পরিবার কিন্তু এখানেই আছে। আমাদের বিয়ের প্রস্তাব আজই রেখে দেয় আপনার বাবার কাছে। কি বলুন।
আয়নের বেগতিক কথার তলে যেন জুইয়ের কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হওয়ার উপক্রম হলো। লজ্জা মাথা যেন বনবন করে উঠল। ছিঃ এসব কোনো কথা? জুইয়ের রাতে একা থাকতে সমস্যা হবে কেন? ছিঃ। জুই লজ্জায় সিঁটিয়ে গিয়ে নত মস্তিষ্কের হলো! কম্পিত শরীরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল…
—” আমাকে যেতে দিন প্লিজ। আমি নিচে যাব।
—” আগে আমার জটিল ও কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিন জুই। আমার তো বড্ড টেনশন হচ্ছে। একে তো গোসল করেন না। তারপর আবার সিস্টেম বেশি চলার অভিযোগ আসলো কানে। বউয়ের সিস্টেম ঠিক করার দায়িত্ব তো আমারই তাই না? আমাকে লাগবে আপনার জুঁই?
জুঁই লজ্জা দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে নাক মুখ ছিটকে বলে..
—” ছিঃ! পথ ছাড়ুন।
আয়ন দুষ্টু হাসল। সে মূলত জানে মায়া যে মজা করে কথাটা বলেছে। তারপর জুইয়ের লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া ফেসটা দেখতে ভালো লাগে তার। জুইয়ের লাজুক অস্থিরতাটাও ভাল লাগে, এজন্য ইচ্ছাকৃত ভাবে আয়ন জুইকে লজ্জা ফেলার পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আর এখন তো মায়া সামনে থেকে আয়নকে সুযোগ করে দিয়ে গেল। বউকে লজ্জা দিবার। বিষয়টি হাত ছাড়া করতে চাই না বলেই সেটা কাজে লাগাচ্ছে সে।
হুট করেই আয়ন ঝুঁকে পড়ল জুইয়ের গলায়। জুইয়ের গলায় থাকা কালো তিলটাতে ঠোঁট ছুঁয়ে দিল মূহুর্তেই। আয়নের হঠাৎ কান্ডেই যেন হকচকিয়ে গেল জুই। শরীরে শিষ ধরা কম্পনে শিহরিত হয়ে জুই চেপে ধরল আয়নের দু-বাহুর শার্টের অংশটুকু। যতটা আয়নের ছুঁয়ার গভীরতা বৃদ্ধি পেল ঠিক ততটাই জুইয়ের কথা বলার বাক শক্তিও লোপ পেল। তিরতির করে কাঁপতে লাগল শরীরময়। জীবনের প্রথম শরীরে পুরুষ মানুষের আপত্তিকর স্পর্শে শিকার হচ্ছে জুই। যেটা চাইলেও বাঁধা দিতে পারছে না সে। কোথাও একটা আঁটকে যাচ্ছে যেন। জুই কম্পিত শরীরে চোখ বন্ধ করে নিতেই আয়ন একহাতে জুইয়ের কমড় চেপে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল তৎক্ষনাৎ। অন্যহাতে জুইয়ের ঘাড়ে পিছনে গুলিয়ে একের পর এক ঠোঁট ছুয়ালো জুইয়ের গলার বামপাশের তিলটার উপর। খানিকটা সময় নিয়ে আয়ন জুইয়ের গলায় আচানক নাক চেপে ধরে নিঃশ্বাস টানলো নিজের মাঝে। মোহাচ্ছন্ন কন্ঠে আস্তে করে বলল…
—” আপনার এই তিল! আপনার হাসি, আপনার চুল! আমার খুবই পূব পরিচিত জুই। এরা আমার খুব আপন। আমি জীবনে দ্বিতীয়বার এদের হারাতে চাই না জুই। আমার আপনাকে লাগবে। খুব করে লাগবে। আমার ভালো থাকার জন্য হলেও আপনাকেই লাগবে জুই। আমি কিন্তু আর ছাড়ছি না আপনাকে। এই জীবন, ঐ জীবন, কোনো জীবনেই ছাড়ছি না জুই। তাছাড়া আমি কিন্তু জানি আপনি আমাকে পছন্দ করেন। তাই স্বামী হিসাবে এবার থেকে আপনাকে ছুঁয়ে দিব আমি। আমি কিন্তু বিয়েটাকে মানি জুই।
দীর্ঘ সময় নিয়ে বুকের লুকায়িত অনূভুতিতে গুমরে উঠে জুঁই। গলায় দলা পাকিয়ে আসে গুমোট কান্না গুলো। আয়নের ভালোবাসাময় আবদারে হুট করেই যেন আবেগি হলো জুইয়ের কিশোরী মন। ভালোবাসার মানুষ হিসাবে আয়নকে পেয়ে যেন আছন্ন হলো সে। অশ্রুপাত হলো তৎক্ষনাৎ। গাল গড়িয়ে চোখের জল পড়ল। আয়নের গালের জুইয়ের চোখের পানি স্পর্শ করতেই মাথা তুলে তাকাল সে জুইয়ের দিকে। তিরতির করে কাঁপছে জুইয়ের বন্ধ চোখের পাতা। আয়ন আঁজলে দু’হাতে জুইয়ের গাল আঁকড়ে ধরে চোখের পানি মুছে দিয়ে, ভেজা দু-চোখের পাতায় চুমু খেয়ে বলে…
—” আমি আপনার আমৃত্যু সুখের কারণ হতে চাই জুই।
হাত বাড়িয়ে দেন বা না দেন। আমি কিন্তু এই হাত, এই মানুষ, আমৃত্যু ছাড়বো না জুঁইফুল।
~~
আয়ন ফোন পেয়ে রাগে তিরতির করে হুট করেই কনস্ট্রাকশন সাইড ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো রিদ। অর্ধ হওয়া বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার ফ্লোর থেকে বের হতে চাইলে চমকে উঠে আসিফ। বেশ কয়েক জন্য কাইন্ডদের মিলিত ডিসকাশন চলছে এই প্রজেক্টটি সম্পর্কে। অর্ধ মিটিং থেকে হুট করে রিদ উঠে যেতে চমকে উঠে সবার। রিদকে কিছু বলার সাহস না করলেও আসিফের দিকে তাকায় উৎসুক দৃষ্টিতে। আসিফ সবার কৌতূহল দৃষ্টি মেটাতে রিদের পিছন দৌড়ে গেল। ব্যস্ত গলায় রিদকে ডেকে বলল…
—” ভাই! মেটিং ছেড়ে কই যাচ্ছেন। আপনা…
রিদ পিছন ঘুরে তাকাতেই আসিফের চোখে পড়ল রিদের রক্ত লাল চোখ দুটো। রিদ হঠাৎ রাগ। আর রক্তচুক্ষ দেখে আর কথা বলার সাহস হলো না আসিফের। ভয়ে সে থেমে যায়। রিদ রাগে রি রি করে পুনরায় হাঁটে সামনে। যেখানে মনটাই সুস্থ না তার সেখানে কিসের মিটিং! কাজে মন বসে না। সবকিছুতেই অহেতুক রাগ হচ্ছে। বিরক্তি বাড়ছে। অশান্ত মনটার কারণে শরীরেও জোর পাচ্ছি না সে। ইচ্ছা করছে দুনিয়ায় সবকিছুতে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দিতে। ছেহ! শালার জিন্দিগি। কোনো কিছুতে শান্তি নাই। নারী বিহীন জীবনটা প্রথমে চালাতে গিয়েও পারলো না। শত চেষ্টা পরও দূরে থাকতে পারলো না সেই নারী নামক মানুষটির কাছ থেকে। অবশেষে সে বাঁধ্য হয়ে হেরে গিয়ে, জীবনের প্রথম কোনো এক নারীর কাছে ধরা দিলো। দুই দু-বার বিয়েটা পযন্ত করলো। বউ বানালো। অথচ তারপরও সেই বউয়ের কাছেই সে চরিত্রহীন। দুবার বিয়ে করার পরও তার ছুঁয়া নোংরা হয় বউয়ের জন্য। সে নাকি নোংরা হাতে ছুয়ে দেয় তার বউকে। সিরিয়াসলি? স্বামীর ছুঁয়াও কি কখনো বউয়ের জন্য নোংরা হয় পবিত্র ছাড়া? যদি না হয় তাহলে তার ছুয়া কিভাবে অপবিত্র হয়? প্রচন্ড রাগে তিরতির করে উঠে রিদের শরীর। গায়ের কালো কোটটা টেনে খুলে ফেল গাড়ির পিছনের সিটে ঢিল মেরে। বডিগার্ডরা রিদের পিছন পিছন দৌড়ে আসতে চাইলে তাদেরও রিদ রাগী চোখ দেখায়। বডিগার্ডরা থেমে গেল। রিদ শার্টের দু’হাতা গুটিয়ে টেনে কুইন অবধি তুলল। তেজি হাতে ঠাস করে গাড়ির দরজা খুলে সিটে বসে, পকেটের ফোন ডিল মেরে ফেলল পাশে। এক মূহুর্ত সময় না নিয়ে গাড়ি স্পিড বাড়িয়ে চলল নিজ গন্তব্যে। গুটি কয়েক মিনিট সময় যেতেই রিদের ফোন পুনরায় বেজে উঠল। রিদ রিসিভ করলো না। ফোন বাজতে বাজতে থেমে গেল। কিন্তু অল্প বয়সের ব্যবধানে আবারও পুরো দমে আগের নেয় ফোনটি বেজে উঠল। রিদ বিরক্তিতে গাড়ি স্টিয়ারিং চেপে ধরলো রাগে। সে জানে কে ফোন দিচ্ছে, তাই ধরার প্রয়োজন বোধ মনে করছে না। কিন্তু বেশিক্ষণ ফোনটি না ধরে পারলো না সে। একটা সময় বিরক্তিতে রিদ গাড়ি স্টিয়ারিং সামনে ফোন রেখে আয়নের কলটি রিসিভ করে লাউড স্পিকার দিয়ে বলল…
—” মেয়ে মানুষের মতো এতোবার ফোন দিচ্ছিস কেন তুই। কমনসেন্সে নাই! প্রেম করবি তুই আমার সাথে?এতোবার যে কল দিচ্ছিস আমাকে।
রিদের রাগান্বিত কথায় নড়েচড়ে বসে মায়া। কাচুমাচু ভঙ্গিতে আস্তে করে বলে…
—” হুমমম করবো তো।
মায়া কথা রিদ থেমে যায়। সে আয়নকে মনে করে কথা গুলো বলেছিল। কিন্তু মায়ার কন্ঠ শুনে চুপ করে গিয়ে রাগে ঠাস করে কলও কেটে দিল তৎক্ষনাৎ। রিদের কান্ডে মায়া কেঁদে উঠে। কিন্তু দমে না গিয়ে পুনরায় কল করে রিদকে। রিদ কল রিসিভ করলো না। একবার! দুবার! তিনবার! বেশ কয়েক বার পরপর কল দিল মায়া। কিন্তু রিদ মায়ার কল রিসিভ করলো না। চারপাশে তখন ভর সন্ধ্যায়। বেশ অন্ধকারও। মায়া শাড়ির আঁচলে কান্নার নাক মুছে পুনরায় রিদকে কল করে। এবার কেমন কেমন করে যেন রিদ কলটা রিসিভ করে নিল। রিদ কল রিসিভ করে নিজের রাগ ঝাড়বে তার আগেই মায়া কেঁদে কেঁদে বলে উঠে…
—” আমার পেটে ব্যথা করছে তো।
রিদ গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে রাগান্বিত গলায় বলে…
—” তো আমি কি করবো?
—” আপনি একটু কথা বললেই তো হয়। আমি ভালো হয়ে যায়। আপনার জন্যই তো পেটে ব্যথা করছে আমার। একটু কথা বলুন না প্লিজ।
ফোনের ওপাশ থেকে রিদের রাগি উত্তর এলো তৎক্ষনাৎ…
—” পারবো না।
—” আপনি কথা না বললে আমি কিন্তু বিয়েতে রাজি হবো না।
—” ব্ল্যাকমেইল করিস আমাকে। দেখি তোর কতটুকু ক্ষমতা আছে। পারলে বিয়েতে না করে দেখা আমাকে।
রিদের কথায় মায়া দমে গেল। মায়ার বিয়েতে না করা যাবে না কোনো মতেই। না করলেই ঘোর বিপদ নাচবে মায়ার কপালে। তাই মায়া বিয়ের প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে আদুরী গলায় ডাকলো রিদকে…
—” এই.. শুনুন না। এমন করছেন কেন? একটু কথা বলিনা আমরা। আমরা আমরাই তো তাই না।
রিদ অনেকটায় চমকে উঠে মায়ার বউগিরি ডাকে। রিদের অশান্ত কলিজা যেন মূহুর্তেই শীতল হয়ে গেল। রিদ কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেলেও মায়াকে বুঝতে দিল না সেটি। পুরো দমে আবারও রাগ প্রকাশ করে বলল..
—” পারবো না কথা বলতে। ফোন রাখ তুই।
মায়া পুনরায় কেঁদেকুটে বুক ভাসিয়ে বলে উঠে…
—” আপনি কথা না বললে আমি কিন্তু এক্ষুনি ছাঁদে যাব। আমাদের ছাদ থেকে দুটো সুন্দর হ্যান্ডসাম ভাইকে দেখা যায় তো।
মায়ার কথায় গাড়ি স্টিয়ারিং শক্ত করে চেপে ধরে রিদ রাগে কটমট করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে…
—” যাহ তুই ছাঁদে। আমারে আসতে দে শুধু একবার।
রিদের কথায় মায়া নাক টানলো কান্নায়। শাড়ির আঁচল দিয়ে শব্দ করে নাক মুছে বলল…
—-” আপনি এই রাতে আসতে আসতে আমি তো দুই চারটে প্রেম করেই নিব ততক্ষণে। আমাদের ছাঁদ থেকে পাশের বাড়ির ছাঁদ দুটোতে, সুন্দর সুন্দর দুইটা হ্যান্ডসাম ভাইয়া আছে। আমাকে বেশ পছন্দ করে তারা। এখন অবশ্য উনারা ছাদেই আছে। আপনি ফোন কাটলে, বা কথা না বললে, আমি এক দৌড়ে ছাদে চলে যাব কিন্তু তাদের সাথে প্রেম করতে! বলে দিলাম…
মায়ার কথায় রিদের রাগের যেন ঘিঁ পড়ল। তরতর করে বাড়ন্ত রাগে রি রি করে বলল..
—” তোর মরার পাখ গজাইছে। আমারে একবার আসতে দে শুধু। কাঁচা চাবাই খাবো তোকে। তোর প্রেম করার শখ আমি বের করবো। দেখিস!
মায়া নাক টেনে কেঁদে কেঁদে বলল…
—” একটু কথা বললে কি হয় আমার সাথে।
—” অনেক কিছু হয়। ফোন রাখ।
—” আমি কিন্তু এবার সত্যি সত্যি ছাঁদে চলে যাব। বলে দিলাম।
ফোনের অপাশ থেকে রাগীস্বরে চেচিয়ে উঠে রিদ…
—“রিত!
মায়া কান্না ভেজা নরম গলায় রিদকে কাবু করতে বলে…
—” এই! শুনোন না। একটু কথা বলিনা আমরা। জানেন জুই রুমে নেই। আয়ন ভাইয়ার সাথে এক রুমে আছে। এখানে আমি একা।
—“তো?
—” আপনাকে মিস করছি তো।
—” তোর মিস করতে হবে না আমাকে। ফোন রাখ।
মায়া আবারও পুরো দমে কেঁদেকুটে বুক ভাসিয়ে রিদকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল…
—” আপনার মতো আনরোমান্টিক! নিরামিষ! আমি জীবনের দুইটা দেখি নাই। একটু কথা বলতেও যুদ্ধ করা লাগে আমার। থাক আপনি ফোন রেখে দিন তাহলে! আমি এক্ষুনি রোমান্টিক রোমান্টিক ভাইয়াদের কাছে ছাঁদে চলে যাচ্ছি। আপনি থাকুন আপনার বদমেজাজি রাগ নিয়ে হুহহ।
—” সামনে পেলে তোরে আমি যে কি করবো? তোর লম্বা জবানটা আগে কাটবো আমি।দেখিস তুই।
মায়া রিদের রাগ আমলে নিল না। সে জানে রিদ তার সাথে রেগে আছে। সে অপরাধ করেছে। রিদকে নোংরা বলাটা উচিত হয়নি। কিন্তু সে কি করবে? বলে ফেলেছে কথাটা কিভাবে পুনরায় ফিরিয়ে নিবে। তাই রিদকে মানাতে চেয়ে আদুরে গলায় বলে…
—” এই.. শুনুন! আমি আজকে শাড়ি পড়েছি তো! সবাই বলেছে আমাকে নাকি খুব সুন্দর লাগছে। কিন্তু আপনি তো দেখেন নি আমাকে। একটা ভিডিও কল দিন না আমাকে প্লিজ।
রিদ উত্তর করলো না। রাগী হাতে ড্রাইভ করতে লাগলো। মায়া রিদের সাড়াশব্দ না পেয়ে পুনরায় বলে উঠে..
—” আমার আবার পেটে ব্যথা করছে। একটা ভিডিও কল দিন না। প্লিজ!
—” করুক।
—” যদি মরে যায়?
—” তাহলে আমি আরেকটা বিয়ে করবো।
—” আর আমি?
—” আমি কি জানি।
—” নাতো! হবে নাতো! আমি পেট ব্যথায় মরে গেলে হবে না। আমি মরলে আপনাকে কে বিয়ে করবে বলুন? আমি ছাড়া আপনি বিধবা হয়ে যাবেন না? আপনাকে কি আমি বিধবা করতে পারি বলুন।
—” সেই! আমি বিধবা হবো? সিরিয়াসলি! স্ত্রী আর পুরুষ লিঙ্গের পাথক্যটুকু জানা নেই। ইডিয়ট।
—” ছিঃ কি বাজে আপনি। লিঙ্ক নিয়ে কথা বলছেন কেন? আমার লজ্জা লাগছে না বুঝি।
মায়ার কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় রিদ। সে কি বুঝাতে চাইল, আর এই মেয়ে কি বুঝল। সে ভাষার সম্পর্কে বলতে চাইল। আর এই মেয়ে সোজা লিঙ্গে চলে গেল। রিদ ধমকে উঠে বলে…
—” শাট আপ স্টুপিড।
রিদ ঠাস করে কল কেটে দিল। গাড়ির ব্রেক কষে সাইডে রাখল। রাগে অস্থিরতায় সিটে হেলিয়ে কপালে হাত ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে আধ শুয়া হয়ে বসে রইলো কিছুক্ষণ। কিন্তু এতেই শান্তি পাচ্ছে না মায়ার অনবরত ফোনের জ্বালায়। রিদের মন ছটফট দ্বিগুণ হলো মায়ার ভালোবাসাময় আবদার শুনে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকতো যদি মায়া সেদিন তাকে চরিত্রহীন, নোংরা বলে অপবাদ না দিতো। রিদ কষ্ট পেয়েছে এসব সবকিছুতে। রিদের বাবা-মা মৃত্যু পর এই প্রথম সে মায়ার সবকিছু তাকে ইফেক্ট করে। শুধু ইফেক্ট না প্রচন্ড রকমের ঘায়েল করে তার মনে। আর এতেও রিদ বিরক্ত। তার অবাধ্য মনকে বাঁধতে পারছে না বলে। কেন তার বউ থেকে দূরে থাকতেও কষ্ট হচ্ছে এর জন্যও। তবে রিদ বাঁধ্য করবে এই বেহায়া, বেয়াদব মনকে। কোনো ভাবেই সে আর বউয়ের কাছে ধরা দিবে না। আর না বউকে ছুয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে কখনো। যেটা ভাবে আছে সেভাবেই থাকুন। কোনো রকম ভালোবাসা বাসি হবে না তাদের মধ্যে আর। রিদ মায়া কল কেটে নিজের দাদীকে ফোন করে বলে, আজ রাতটা মায়াদের বাসায় থেকে কাল সকালে খান বাড়িতে ফিরতে। সাথে এটা বলল, তিনি যেন মায়াকে কোনো মতেই ছাঁদে যেতে না দেয় এই রাতে।
সে জানে তার বউ তাকে মিথ্যা বলেছে। তারপরও বউকে নিয়ে রিক্স নিল না। যদি তার বউ ছাদে চলে যায় তাহলে? রাগ অভিমান রিদের ভিতরের থাকলো। তারপরও বউয়ের ভাগ সে কাউকে দিবে না। তার বউ তার অমূল্য সম্পদ। বুঝ-অবুঝ, চঞ্চল, পাগল, সবকিছু তার। কিন্তু কখনোই রাগ করে বউকে দেখার সুযোগ অন্যকে দিবে না। রিদ নিজের কথা শেষ করে ফোন বন্ধ করে দিল। আর বেশিক্ষণ মায়া সাথে কথা বললে রিদের ঢাকা থাকায় মুসকিল হয়ে যাবে। মায়ার কাছে ছুটে যেতে চাইবে। বলেই সে ফোন বন্ধ করে দিল। সে মায়া কাছে যেতে চাই না। নিজের মন বাঁধার জন্যই ফোন বন্ধ করল।
পরপর কল করে রিদের ফোন বন্ধ পেয়ে মায়া কেঁদেকুটে বুক ভাসালো অনেকটা। মায়ার কাঁদার মধ্যেই হুট করে হেনা খান মায়ার পাশে এসে বসল বারান্দায়। মায়াকে টেনে বুকে জড়িয়ে বলল, তিনি আজ মায়া সাথে এই বাড়িতে থাকবে। বাকিরা সবাই চলে যাবে। মায়া খুশিতে উৎফুল্লর হয়ে এক মূহুর্তের জন্য ভুলে গেল রিদের কথা। শুধু মনে রাখল হেনা খানকে। মায়ার হেনা খানের আনন্দে নিজের কান্নাও ভুলে গেল। সেই রাতে সবার ডিনারের পরপর চলে গেল শুধু হেনা খানকে ছাড়া। যাওয়ার আগে আরাফ খান নিজের স্ত্রীকে বলে গেল। তিনি সকালে গাড়ি পাঠাবেন উনার জন্য।
~~
সকাল নয়টা। শীতের সকল। সূর্যের নরম আলো আলোকিত সুন্দর ধরণী। ভোর সকালে দিকে আরাফ খান গাড়ি নিয়ে হাজির হয়েছিল মায়াদের বাড়িতে স্ত্রীর জন্য। তিনি হেনা খানকে বাসায় রেখে তারপর অফিসে যাবেন বলে। হেনা খান আসার সময় মায়াকেও সাথে করে নিয়ে আসল। শপিংয়ের জন্য। মাত্র ছয়দিন আছে বিয়ের। যত দ্রুত সম্ভব বিয়ের শপিং সারতে হবে তাদের। এই মূহুর্তে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের বাহিরে যাওয়ার সম্ভব নয় উনাদের। তাই আপাতত দেশের থেকেই বিয়ের শপিং করার চিন্তা উনার। তবে এই নিয়ে একবার রিদের সাথে কথা বলবেন তিনি। যদি রিদ ইমারজেন্সিতে তাদের দেশের বাহিরে যেতে ব্যবস্হা করে দেয় তাহলে যাবেন উনারা। শফিকুল ইসলাম মায়াকে বাসা থেকে পাঠাতে প্রথমে রাজি না হলেও পরে ঠিকই মায়াকে দিল। যেহেতু বিয়ের শপিং করতে হবে এই জন্য। জুইকেও মায়ার সাথেই পাঠানো হলো। ফিহাকেও যেতে বলেছিল তিনি। কিন্তু আরিফ বলল সে আজকে নয় কালকে বিয়ে সাথে করে নিয়ে যাবে ফিহাকে। তারপর সবাইকে শপিং করিয়ে দিয়ে আবার কাল মায়া আর জুইকে একসঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরবে। মূলত মায়া একদিনের জন্য খান বাড়িতে এসেছে। আরাফ খানের গাড়িটি পাকিং এরিয়াতে থামে। সবাই একে একে বের হলো। হেনা খান আরাফ খান সামনে হাঁটছে বলে মায়া জুইয়ের সাথে পিছন পিছন হাঁটলো চারপাশটা দেখতে দেখতে। মাত্র একমাস মায়া মান অভিমানে খান বাড়ির থেকে দূরে ছিল। অথচ মায়ার এখন মনে হচ্ছে যেন কয়েক যুগ পর সে খান বাড়িতে পা রেখেছে। চেনা জায়গা গুলোর মধ্যেও যেন ভিষণ অস্থির লাগছে মায়া। মায়া কয়েক কদম এগিয়ে আসলো বাড়ির পথে। তখনই চোখে পড়লো। খান বাড়ির বাগানের। যেখানে রিদ তার খোলা বাংলোতে অফিসার পোষাকে দাঁড়িয়ে আছে। গায়ের কোট আসিফের হাতে। শার্টের দু-হাতা টেনে সবসময়ের মতো কুইন অবধি টানা। কানে ফোন চেপে ধরে সামনে তাকিয়ে মনোযোগ সহকারে কথা বলছে। তার পাশেই আসিফ দাঁড়ালো সিরিয়াস ভঙ্গিতে। মায়া আর কিছু দেখার প্রয়োজন মনে করলো না। এমনি দেখলোও না আয়ন আর মেহু রিদের পিছনের সোফায় বসে আছে হাতের ফাইল নিয়ে। মায়া শুধু দেখলো রিদকে। আর রিদকে দেখেই ভৌ দৌড় দিল সেদিকে। আসিফ বেখেয়ালি চোখ গেল মায়ার দিকে। মায়াকে এদিকে প্রাণপূণ দৌড়ে আসতে দেখে চমকে উঠে তৎক্ষনাৎ ডাকলো রিদকে…
—” ভাই… ভাবি!
আসিফের হঠাৎ কথায় রিদ চমকে উঠে পিছন ঘুরে মায়াকে দেখতে চাইল। কিন্তু পারলো না। তার আগেই মায়া দু’হাতে রিদের গলা জড়িয়ে ধরে দু-পা ফেরে রিদের পেট জড়িয়ে কোলে উঠে গেল। আকস্মিক ঘটনায় রিদ তাল সামলাতে না পেরে একহাতে মায়া কমড় ধরে অন্য হাতে সোফা আকড়ে ধরে পরে যাওয়া থেকে নিজের ভাসাম্য ধরে রাখতে চাইল। কিন্তু সফল হলো না। আসিফ আয়নও তৎক্ষনাৎ দ্রুত এগিয়ে আসে রিদকে ধরতে কিন্তু তারাও ধরতে সক্ষম হলো না রিদকে। কারণ রিদ ততক্ষণে মায়াকে নিয়ে ঠাস করে ফ্লোরে পড়ে গেছিল। রিদ নিচে আর মায়া রিদের উপর। দু’হাতে রিদের গলা ঝাপটে ধরে মুখ ঢুবিয়ে আছে। উপস্থিত প্রত্যেকে থমথমে খেয়ে যায় মায়ার হঠাৎ কান্ডে। আয়ন, আসিফ, মেহু হতবাক হলো মায়াকে এখানে দেখে। আসিফ দ্রুত এগিয়ে রিদকে ধরে ফ্লোর থেকে উঠাতে চাইলে রিদ হাতে ইশারায় সবাইকে চলে যেতে বলে। বিনা শব্দের সবাই চলেও গেল। কিন্তু মেহু বেশ রাগ নিয়ে মায়াকে দেখে গেল। রিদ জায়গায় শুয়ে রইলো মায়াকে নিজের উপর থেকে সরানোর চেষ্টাও করলো না। এমনিতেই বিগত দিনের অশান্তিতে ভুক্তভোগী সে। মায়া রিদের গলা থেকে মুখ উঠিয়ে রিদের দিকে তাকিয়ে, আরও একটি কান্ড করলো। পরপর টুপ করে রিদের এ গাল ঐ গালে দুটো চুমু খেয়ে নিল, খুশিতে গদগদ করে বলল..
—” এত্তো গুলা মিস করেছি তো।
.
(সরি বাসায় মেহমান ছিল। তাই অনেকটায় দেরি হলো)
চলিত
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ২৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৩
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৮
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১৫