দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫১
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫১
দরজা জালানা কুন্ডলী মেরে বিছানায় বসে আছে মায়া। শরমে মরণ হচ্ছে বহুবার তার। একটু আগেই মাত্র রিদ গেল মায়ার রুম থেকে তাও জুঁইয়ের আগমনে। বন্ধ দরজার ভিতর আটকে থাকতে মায়া আর রিদকে একসঙ্গে দেখেছে জুঁই। প্রথমে চমকিয়ে ছিল পরে অপদস্তক হলো দু’জনকে একসঙ্গে রুমে ভিতর দেখে জুঁই। রিদ হুম! হ্যাঁ! কোনো প্রকার শব্দ করেনি। বরং নিঃশব্দে স্থান ত্যাগ করেছিল যেন জুইকে চোখেই পড়েনি রিদের। হতবাক জুই রুমে ঢুকে মায়াকে কিছু বলবে তার আগেই দৌড়ে পালালো মায়াও ওয়াশরুমের দিকে। হতবুদ্ধি জুই তখনো কিছুই বুঝলো না আসলে কি হয়েছে। হঠাৎ করে দু’জন এই রকম করলোই বা কেন? সেতো শুধু দরজা কড়া নেড়ে মায়াকে ডাকলো দরজা খুলতে। কিন্তু মায়ার জায়গায় দরজা খুলে বের হলো রিদ! প্রথমে জুই ভাবলো হয়তো ভুলবশত রিদের রুমে নক করে ফেলেছে সে। তাই রিদকে সরি বলার জন্য প্রস্তুতিও নিল জুঁই কিন্তু তার আগেই বিনা নোটিশে চলে গেল রিদ। হতভম্ব জুঁই ভাবলো মায়াকে জিগ্যেসা করবে আসলে কি হয়েছে? রিদ কেন এসেছিল মায়ার রুমে? প্রশ্ন গুলো মাথায় নিয়ে রুমেও ঢুকলো জুঁই কিন্তু এখানেও বিপত্তি ঘটলো মায়াকে নিয়ে। জুঁই কৌতূহল বশত মায়াকে কিছু বলবে তার আগেই মায়াও হাওয়া হলো ওয়াশরুমের দিকে। অক্ষাত জুই ঠোঁট উল্টালো কিছু বুঝতে না পেরে। পরে মায়া ওয়াশরুম থেকে বের হতেই জুইও গেল ফ্রেশ হতে। আপাতত তার ফ্রেশ হওয়া দরকার। এমনিতেই আজ কিছু হলো সেটা নিয়ে মায়ার সাথে রাতে আলোচনা সারবে সে।
ওয়াশরুমে থেকে পানির ঝনঝন শব্দ নিধিধারা শুনা যাচ্ছে মায়ার কানে। জুঁই গোসল করছে হয়তো। কিন্তু মায়ার সেদিকে মনোযোগ নেই। আপাতত সে লজ্জায় জর্জরিত হচ্ছে বহুবার। কুঁকড়ে উঠছে রিদকে নিয়ে তীব্র অনূভুতি ফিলিংসে। তার দিন-দুনিয়ার সব কথা ভুলে শুধু মনে রাখলো রিদকে। রিদের সাথে কিছুক্ষণ আগে কাটানোর মূহুর্তে গুলো কে। অনাকাঙ্ক্ষিত রিদের সেই চুমু দৃশ্যপটটা মায়ার চোখে ভেসে উঠতেই, তুমুল লজ্জা আছড়ে পড়লো মায়া বিছানার বালিশের উপর। দু’হাতে বালিশের দু-পাশ আঁকড়ে ধরে মুখ গজালো সেখানটায়। উফ! মায়া প্রেম করছে তার মিস্টার ভিলেনর সাথে! সত্যি? এখন মায়া কি করবে? তার এই মুখটা দেখাতে পারবে তার মিস্টার ভিলেনকে? লজ্জায় মরে যাবে না? উফফ! কিভাবে করবে সে প্রেমটা তার মিস্টার ভিলেনের সাথে? মায়ার হাজার চিন্তা ভাবনার মাঝে একটা চিন্তা আসলো আগামী এক মাস সে রিদের সামনে পড়বে না। লুকিয়ে চুকিয়ে বেড়াবে। তাহলেই মায়াকে আর লজ্জা পেতে হবে না তার মিস্টার ভিলেনকে নিয়ে। মায়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোটা রাত পার করলো। রাতে ডিনার করলো রিদ খেয়ে যাওয়ার পর। কিন্তু সকাল হতে হতে ভুলে গেল আসলে সে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রিদকে নিয়ে। ভুলে গেল সে রাতে রিদের সাথে প্রেম শুরু করেছিল। সবকিছু ভুলে টুলে মায়া সকাল সকাল রুম থেকে বের হলো নাস্তা করতে। এবং সে দরজার বাহির হতেই খট করে রিদও অফিসার গ্যাটাপে দরজা খুলে বের হলো। অপ্রত্যাশিত ভাবে দু’জনই দু’জনার সামনে পড়লো। মায়ার চট করে মনে পড়লো সবকিছু। সেতো কাল রাতেই রিদের সাথে প্রেম শুরু করেছে? তাই সকালে রিদের সামনে যাওয়াটা নিষেধ না মায়ার জন্য? মায়ার লজ্জা লাগবে না? রিদ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকলোও মায়া অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে দৌড় লাগায় পুনরায় নিজের রুমে ভিতর লজ্জায়। রিদ কপাল কুঁচকে মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে চলে যায় ডাইনিং টেবিলের। এবং যথারীতি নাস্তা করে অফিসেও চলে যায় রোজকার মতোই। মায়া রিদের চলে যাওয়াটা বারান্দায় দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি মেরে দেখে নিশ্চিত হয়ে তারপর নিচে নামলো নাস্তা করতে। যেহেতু শফিকুল ইসলামকে আজ হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করে দিবে তাই খান বাড়ির সবাই একবার হসপিটালের যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। মায়া বোকরা পড়ে গেলো হসপিটালের নিজের পরিবারকে বিদায় জানাতে। শফিকুল ইসলাম প্রথম যেদিন ছোট মায়াকে বোকরা পড়তে দেখলো? সেদিন হতবাকের বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। উনার এতো ছোট মেয়েটা কবে সবকিছু গুছিয়ে বড় হয়ে উঠলো বুঝতেই পারলেন না তিনি। তবে মায়াকে বেশ নীরবে দোয়া করলো মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।
শফিকুল ইসলামকে যখন হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করা হয়। তখন ঘড়ির কাটায় সকাল এগারোটা ছুঁই ছুঁই। শফিকুল ইসলামকে ধরাধরি করে আরিফ আর শাহিন গাড়ির পিছনের সিটে বসালো। এই কারটি ভাড়া করেছে আরিফ ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে যাওয়ার জন্য। আরাফ খান অবশ্য নিজেদের গাড়ির মধ্যে একটা গাড়ি নিতে বলেছিল আরিফকে কিন্তু আরিফ সেটি নেয়নি। বরং নিজ খরচ ক্যাপ ভাড়া করলো। রেহেনা বেগম স্বামী একপাশে বসলো অপর পাশে বসে আছে জুই। অষেন্ন্য মনে জুই গাড়ির জালানা ধরে পুনরায় হসপিটালের দিকে তাকালো একবার, হয়তো কাঙ্ক্ষিত কাউকে দেখার আশায়। কিন্তু চোখে মিলল না কাউকে। জুঁই জানে এই সময়ে তাকে পাওয়া যাবে না। সে হয়তো নিজের ফ্ল্যাটেই আছে। সারারাত ভর ঢেউটি করে সকালে যায়। তাকে এই মূহুর্তে আশা করাটাও নিরর্থক। জুঁই বিষন্ন মনে গুটিয়ে বসলো বাবার পাশে। শফিকুল ইসলামের কাঁধে মাথা ফেলতেই আদুরে হাতে জড়িয়ে নিল তিনি জুঁইকে। বুক ভারির দীর্ঘ নিশ্বাস গোপন করে জুঁই চোখ বন্ধ করলো। আচ্ছা ডক্টর সাহেব কি আজ হসপিটালের এসে জুঁইকে খুঁজবে? জুই চলে গেছে বলে কষ্ট পাবে জুইকে নিয়ে বিন্দুমাত্রও? নাকি খুশি হবে জুই নেই বলে? খুশি হওয়ার কথা নয় কি? অবশ্যই খুশি হবে! হসপিটালের এসে অপদস্তক ভাবে আর জুঁইয়ের সামনে পড়তে হবে না বলেই ভিষণ খুশি হবে ডক্টর সাহেব। আজ হয়তো জুই চিরতরে চলে যাচ্ছে এই ঢাকা শহরে ছেড়ে। জীবনে কখনো কোনো পরিস্থিতিতে হয়তো আর দেখা নাও হতে পারে আয়নের সাথে জুইয়ের। না হওয়াটায় স্বাভাবিক। কারণ তার পরিবার এবার মায়াকেও দ্রুত নিজের কাছে নিয়ে যাবেন বলে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। মায়ার আঠারো বছর হওয়ার অপেক্ষা করবে না। সেখানে জুইয়ের পুনরায় ঢাকা আসাটাও বিলাসিতা মনে করা। আরিফের সাথে ফিহার সম্পর্কের বিষয়টিও শফিকুল ইসলাম ছাড়া বাকি সবাই জেনে গেছে। এই নিয়ে রেহেনা বেগমেও ভিষণ অসন্তুষ্ট। তাই আয়নের সাথে ডিভোর্সের ব্যাপারটা আপাতত মায়াকে দিয়েই চুপিসারে সারতে হবে জুইকে। নয়তো শুভ সাথে ডিভোর্সের বিষয়টি শেয়ার করতে হবে হেল্প চাওয়ার জন্য। এবং শুভকে দিয়েই আয়ন থেকে ডিভোর্সের কাগজটি আনা নেওয়ার করতে হবে ঢাকা থেকে ব্রাক্ষনবাড়িয়াতে। সবকিছুই পূবে থেকে ঠিক করা ছিল জুইয়ের মাথায়। তারপরও কেন একটা গুমোট অস্থিরতার কাজ করছে জুইয়ের মনের মধ্যে আয়নকে নিয়ে। সেটা আজ থেকে নয়। বিগত চারমাস ধরেই এমনটা হচ্ছে তার। কারণটা জুইয়ের জানা নেই বলতে! জুই আপাতত ইচ্ছাকৃত ভাবেই জানতে চাই না এই কারণটা। কি দরকার এমন অসভ্য ডাক্তারকে নিয়ে কারণ খুঁজার জুইয়ের। যা তার না, সেই জিনিসের প্রতি জুইয়ের কখনোই লোভ হয় না। তাই আজও করবে না। তাছাড়া জুইয়েরও আয়নের প্রতি কোনো রকম আপেক্ষিক বা আশা নেই। সে মুক্ত! জুইয়ের আয়নকে চাই না। মোটেও চাই না! তার বাবার খান বাড়ির সাথে সম্পর্ক পছন্দ না তার মানে জুইয়েরও পছন্দ না। তাই সবার মঙ্গল আপাতত জুইয়ের নীরবে ডিভোর্সটা হয়ে যাওয়াতেই।
আরিফ শুভ আর শাহিন কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, শফিকুল ইসলামের রিপোর্ট গুলো একবার চেক করলো। গাড়ির সামনে আসতেই দেখলো মায়া হিচকি তুলে কাঁদছে রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়ের হাত ধরে। মায়ার থেকে কিছুটা দূরে হেনা খান আর আরাফ খান দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পাশেই ডাইভার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরিফ দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো। না চাইতেও আদুরে ছোট বোনটাকে রেখে যেতে হচ্ছে এই বিষাক্ত ঢাকা শহরের তল্লাটে। এই ঢাকা শহরের মানুষ গুলো তাদের জীবনে বিষাক্ত ঝড় ছাড়া ভালো কিছুই বয়ে আনেনি। জীবনে পাওয়া না পাওয়ার বড় একটা অধ্যায় থেকে গেল এই ঢাকা শহরে তল্লাটে। নিজের বোনটাকেও কবে মুক্ত করে নিতে পারবে কে জানে? আরিফ ফিহা কথা মনে করে পুনরায় বুক ভারির দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
মায়া কাছে যেতে যেতে তখনই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। কোথায় থেকে একটা ছেলে নাকি লোক, ঠিক বুঝার উপায় নেই গায়ে জ্যাকেট মুড়িয়ে মুখে কালো কাপড় পরিহিত! চোখে কালো বড় ফ্রেমের চশমা পড়া। হঠাৎ করে কোথায় থেকে ছেলেটি দৌড়ে এসে মায়াকে জোর হাতে ধাক্কা দিয়ে ফেল দিল যানজট রাস্তায়। এবং সেই গতিপথেই হওয়ার গতিতে আবারও দৌড়ে চলে যেতে লাগলো সামনে দিকে ছেলেটি। আকস্মিক ঘটনায় তখনো কেউ কিছু বুঝতে পারলো না আসলে কি হলো? মায়া উল্টে রাস্তার ট্রাকের নিচে পড়তে নিলেই হতভম্বে আরিফ দৌড়ে এসে মায়াকে বাঁচায়। তৎক্ষনাৎ মায়াকে টেনে রাস্তা থেকে তুলে নিজের বুকে চেপে ধরে চিৎকার করে সেই অপরিচিত ছেলেটিকে সে। শুভ শাহিন দ্রুত দৌড় লাগায় অপরিচিত ছেলেটিকে ধরতে। কিন্তু ততক্ষণে ছেলেটি একটি কারের ভিতর উঠতে উঠতে আরিফকে শাঁসালো আঙ্গুল নাড়িয়ে নাড়িয়ে। এবং নিমিষেয় গাড়িটি সাঁ সাঁ করে চোখের অদৃশ্যপটে চলে গেল ধরা ছুঁয়ার বাহিরে। উপস্থিত সদস্যদের বিষয়টি বোধগম্য হতে উত্তেজিত ভঙ্গিতে দৌড়ে আসে সবাই মায়া আর আরিফের কাছে। হেনা খান আরিফ থেকে টেনে মায়াকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরেই কেঁদে উঠলো ভয়ে। সঠিক সময়ে আরিফ না আসলে হয়তো এই মূহুর্তে মায়ার লাশ হয়ে যেত রাস্তায়। হেনা খানের কান্নার বেগ বাড়তেই আতংকিত মুখ খুললো আরাফ খান…
—” ছেলেটির আরচণের মনে হলো, ছেলেটি মায়াকে ইচ্ছাকৃত ভাবে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু কেন?
আরিফ শরীর এখনো কাঁপছে কিছুক্ষণ আগের কথা গুলো চিন্তা করেই। আজ সে সঠিক সময়ে না আসলে কি হতো মায়ার সাথে কথাটা ভেবেই আতংকে উঠছে বারবার বুকের ভিতর। আরাফ খানের কথায় পাশ থেকে সায় জানানো শাহিন। দৌড়ে এগিয়ে এসে বললো…
—” জ্বিই দাদাভাই! অনেকটা তাই মনে হলো আমাদের। ছেলেটার হাতে ধারালো অস্ত্র দেখেছি আমরা। সম্ভবত গোন্ডা টাইপের কিছু হবে।
তৎক্ষনাৎ সম্মতিতে বললো শুভও…
—” জ্বিই! আমারও তাই মনে হচ্ছে। গাড়ির ভিতর আরও অনেক গুলো মুখোশদারি ছেলেদের দেখলাম বসে আছে অস্ত্র হাতে। সম্ভবত কোনো গ্যাং লোক হবে তাঁরা। কিন্তু তাঁরা মায়াকে মারতে চাইবে কেন?
গা শিউরে উঠে তীব্র ভয়ে সবার। হেনা খান কিছু বলবেন তার আগেই মায়াকে বুক টেনে নিল রেহেনা বেগম। জুইও মায়ের পাশাপাশি গাড়ি থেকে বের হয়েছে মায়াকে দেখতে। রেহেনা বেগম মায়াকে বুকে জড়িয়ে নিঃশব্দে কেঁদে উঠলো হারানোর ভয়ে। অন্তত আদুরের ছোট মেয়েটা উনার। স্বামী মন রক্ষাতে মেয়েটার সাথে তিনি শক্ত হয়ে থাকেন যাতে মেয়েটা খান বাড়িতে থাকতে সুবিধা হয়। কষ্ট না পায় পরিবারের জন্য। কিন্তু তাই বলে উনার এতো ছোট অবুঝ মেয়েটিকে মারতে চাইবে কেউ? যার দিন দুনিয়ায় খবর নেই থাকে না সেই অবুঝ মেয়ের শত্রুতার কার সাথে হতে পারে? যার জন্য একেবারে জানে মারতে চাই। তিনি মা হয়ে নিজের মেয়ের মৃত্যুটা কিভাবে সয্য করবেন। ভাবতেই তো গা শিউরে উঠছে বুক ফাটা চিৎকার। তিনি আরও শক্ত হাতে মায়াকে জড়িয়ে ধরলেন। তবে শফিকুল ইসলাম গাড়ি থেকে তখনো বের হলেন না। তিনি সবাটায় দেখেছেন! এবং সবাটায় শুনেছেন! তারপরও সবার সামনে নিজের দূর্বলতাটা প্রকাশ করলেন না। বরং শক্ত থাকলেন। চাপা আর্তনাদে বুক চেপে বসে রইলেন গাড়ির ভিতর কপালে হাত ঠেকিয়ে। একটা বাবা কতটা অসহায় হলে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না সন্তানের প্রতি। বরং শক্ত থাকার অভিনয় করতে হয় প্রতিনিয়ত। নিজের অবুঝ সন্তানকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে রেখেও চুপ থাকতে বাধ্য হওয়াটায় একজন ব্যথা বাবার পরিচয়। তিনি ব্যথা বাবা হিসাবে আবারও একবার পরিচিত হলো সন্তানদের কাছে। গাড়ির সিটের মধ্যে ব্যর্থতার শরীরটা টেনে এলিয়ে দিলেন শফিকুল ইসলাম। চোখে হাত বাঁধা অবস্থায় নীরবে চোখে জল গড়িয়ে পড়লো পাশ বেয়ে। শফিকুল ইসলাম বুঝতে পারছেন এই মূহুর্তে মায়ার উপর জেনে বুঝে অ্যাকট করা হয়েছিল উনার মেয়েকে মারার জন্য। তাও নিশ্চিত! সেটা খান বাড়ির পূব শত্রুতার ধরে কেউ হবে। যারা মায়াকে মেরে নিজেদের প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে খান বাড়ির থেকে। কিন্তু তাঁরা তো আর জানে না মায়া আর খান বাড়ির কেউ না। মাত্র সাময়িক সময়ের মেহমান উনার মেয়ে খান বাড়ির। তিনি অশ্রু সিক্ত চোখে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে। এবার যাহ করার দ্রুত করতে হবে সবকিছু। নিজের মেয়েকে দ্রুত নিজের কাছে না নিয়ে গেলই নয়! যেকোনো সময় উনার মেয়ের প্রাণটা হারাতে হবে খান বাড়ির শত্রুতার তল্লাটে। এবার আর না। তিনি এবার সবকিছুর ব্যবস্থা করেই নিজের মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন শীঘ্রই। ইনশাআল্লাহ!
~~
রাত হতে হতে রিদের কানে গেল মায়ার এক্সিডেন্টের কথা। তখন সবেমাত্র রিদ ডিনারে বসে ছিল। রাত প্রায় বারোটা উপর বাজে। সারাদিন মায়ার সাথে দেখা বা কথা অবধি হয়নি তার। যাও সকালে একটু দেখা হতো সেটাও মায়া লজ্জা পেয়ে সামনে আসেনি আর। রিদ নিজের ব্যস্তায় বেশ রাত করে বাসায় ফিরে সবেমাত্র ডিনারে বসে ছিল। তখনই চিন্তিত ভঙ্গিতে হেনা খান জানায় মায়ার রোড এক্সিডেন্টের কথা গুলো। রিদের প্লেটের চালানো ছোট ছুরি ও চামচ দুটোই বন্ধ হয়ে যায় হেনা খানের কথাটা কর্ণকুহর হতেই। হাত দুটো স্থির হয়ে থমকে থাকলেও তখনো মুখের ভাব ভঙ্গি ছিল স্বাভাবিক। বরং শান্ত স্বরে প্রশ্ন করে বলে…
—” বডিগার্ড ছাড়া বাসা বাহিরে যেতে নিষেধ করেছিলাম কিনা আমি! শুনলে না কেন আমার কথা?
রিদের শান্ত স্বরে কথায় কেঁপে উঠে হেনা খান ও আরাফ খান। হেনা খান মূহুর্তে ভয়াৎ দৃষ্টিতে বিলাই আরাফ খানের দিকে। আরাফ বিষয়টি বুঝতে পেরে চোখ ইশারায় আশ্বস্ত করলো নিজের স্ত্রীকে। রিদের দিকে তাকিয়ে যান্ত্রিক কন্ঠে বললো…
—” রিদ আসলে বিষয়টি এমন ভাবে ঘটবে বুঝতে পারিনি আমরা কেউই। তাছাড়া হসপিটাল থেকে খান বাড়ির বিশ মিনিটের রাস্তা ছিল বলে আর গায়ে লাগিয়ে বডিগার্ড নিতে চাইনি আমরা। এর মাঝেই এমনটা হবে বুঝতে পারিনি। আ….
আরাফ খানের বাকি কথা গুলো শেষ করার আগেই তীব্র শব্দে রিদের প্লেট জায়গায় পেল ফ্লোরে। প্লেট, চামচ, ছুরি, ঝনঝন শব্দ করে ভাজলো ফ্লোরে। শান্ত শীতল পরিবেশটা হঠাৎই থমথমে হয়ে গেল রিদের আচরণে। দ্রুততার সঙ্গে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো আরাফ খান ও হেনা খান। রিদ যে হঠাৎ করে এতটা রিয়েক্ট করবে বুঝতে পারেনি তারা কেউই। তাছাড়া উনারা দেখেছে রিদ কীভাবে সব পরিস্থিতিতে শান্ত মস্তিষ্কের সবকিছু হ্যান্ডেল করে এসেছে সেটা। তবে আজ রিদ যে এই ভাবে রিয়েক্ট করবে ভাবেনি সেটা। দুজন চুপ হয়ে থাকলো রিদের রাগের কারণে। নীরবতা ভেঙ্গে রিদ শক্ত গলায় বলে উঠে….
—” ফর দ্যা লাস্ট দাদা-দাদী! এরপরও যদি তোমাদের আমার অবাধ্য হয়ে বডিগার্ড ছাড়া চলা ফেরা করতে হয়। সেই দিনই থাকবে আমার বাংলাদেশে শেষ দিন। সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে দেশান্তর হবো আমি। তবে এবার একা যাবে না। আমার বউকে আমাট সাথে করে নিয়েই দেশান্তরি হবো চিরতরে। এরপর তোমাদের যতখুশি আমার অবাধ্য হয়ে বডিগার্ড ছাড়া চলে ফেলে করো। আমার দেখার বিষয় হবে না সেটা। এবার তোমার চুজ কর তোমরা কি করবে? তবে যেটাই করো না কেন? আমার কোনো কিছুতেই যায় আসবে না।
রিদের পাষাণ্ড কথায় কেঁদে উঠে হেনা খান। তিনি অন্তত কাতর গলায় বলে….
—” তুই এতটা পাষান্ড কেন রিদ। সামান্য একটু ভুলের জন্য তুই আমাদের সাথে এতটা বাজে ব্যবহার করছিস। আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাটা কতটা সহজে বললি। একটাবার ভাবলি না আমাদের তুই ছাড়া কে আছে? তোর জন্যই তো আমরা এতো ঝড়-ঝাপটায় এখনো বেঁচে আছি!
—” তোমাদের সবাই আছে দাদী। আমারই কেউ নেই। তোমার দুই মেয়ে আছে। জামাতা,নাতি-নাত্তর বাপের বাড়ির সবাই আছে। তাই তুমি একা নও। আর যেটা
তোমাদের কাছে সামান্য ভুল মনে হচ্ছে। সেটা আমার কাছে মোটেও সামান্য ভুল মনে হচ্ছে না। কারণ তোমাদের একটু সামান্য ভুলের জন্য আজ আমি আবারও সবকিছু হারিয়ে এতিম হতে পারতাম দাদী। তোমার তিনজনই আমার জীবনের সর্বোচ্চ দূর্বল পার্ট। যেটা তোমাদের এই সামান্য ভুলের জন্য আমি তোমাদের আজ হারাতে পারতাম। শুধু যে আমার বউয়ের জন্য হামলাটা হয়েছিল সেটা কিন্তু ভুলেও না। তোমাদের তিনজনের জন্যই হয়েছিল। ভাগ্য বশত তোমাদের আশেপাশে সাথে মানুষ থাকায়! তোমরা আজ সশরীরে বাসায় ফিরে এসেছো। নয়তো কি হতো সেটা অজানা হয় তোমাদের। আজকে শুধু টার্গেট হিসাবে আমার বউকে রাখলো। তোমাদের কি মনে হয় দাদী? মাস শেষে আমি এমনি এমনি কোটি কোটি টাকা দিয়ে তোমাদেরকে সেফটি-সিকিউরিটি দিয়ে রাখি? তার পিছনে কোনো কারণ নেই আমার? সবকিছু এতো সহজ ভাবো কেন তোমরা?
রিদের কথা গুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা চিন্তিত মানেটা বুঝতে পারলো হেনা খান ও আরাফ খান। উনারা অন্তত অনুতাপে রিদের কাছে এগিয়ে আসতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই ডাইনিং টেবিলের ছেড়ে উঠে গেল রিদ। তীব্র রাগে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে যেতে যেতে হঠাৎ থেমে গেল মায়ার রুমের দিকে তাকিয়ে। সময় না নিয়ে তৎক্ষনাৎ ঢুকলো মায়ার রুমে রিদ। অন্ধকার রুমে আবছা আলোয় দেখতে পেল মায়াকে বেডে মধ্যে এলোমেলো অবস্থায় দু-পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকতে। রিদ মায়াকে ঠিকঠাক দেখে স্বস্তির দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে, ভিতর থেকে দরজা লক করে দিয়ে মায়ার দিকে এগিয়ে আসলো সে। বেডের পাশে দাঁড়িয়ে ডিম লাইটের আলোয় দেখলো মায়া দুই পা দুইদিকে ছড়িয়ে, চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। বালিশের মাথাটা কাত হয়ে কাঁধে সাথে থুঁতি লাগিয়ে ঝুঁকে পড়ে আছে। চুল গুলো সব বেনি করে বালিশের উপর দিয়ে বাহিরে ফেলে। হাত দুটোর একটা বালিশ উপর মাথার পিছনে ফেলে, আর অন্য হাতটা ছড়িয়ে বিছানার উপর ফেলা। রিদ প্রথমে যত্ন সহকারে নিজের এলোমেলো বউকে ঠিক করতে চাইলো। তাই বেডের উপর ঝুঁকে মায়ার ছড়িয়ে রাখা পা দুটো একত্রিত করতে চাইলো কিন্তু মায়ার পায়ে হাত দিতেই বুঝতে পারলো মায়ার গায়ে তীব্র জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। রিদ চমকে উঠে ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকায়। পরে দ্রুততার সঙ্গে মায়ার পা দুটো একত্রিত করে দিয়ে, ছড়িয়ে রাখা হাতটাও টেনে ভাজ করে মায়ার পেটে তুলে দিলো। অতি যত্ন সহকারে গায়ের এলোমেলো জামাটাও টেনে ঠিক করে দিয়ে মায়ার মাথার কাছে বসে কপালে হাত দিলো রিদ। মায়ার গায়ে মাত্রাতিক বেশি জ্বর থাকায় রিদ অস্থির ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়াতে চাইলো ডক্টর ডাকার জন্য। কিন্তু তখনই বেখেয়ালি চোখ গেলে বেডের সাথে লাগানো ছোট টেবিলের উপরে মায়ার জ্বরের মেডিসিন গুলোর দিকে। রিদ অস্থির হাতে মেডিসিন গুলো নিতেই বুঝতে পারলো হেনা খান মায়াকে এই ঔষধ গুলো খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে গেছেন, মায়ার জ্বর এসেছে বলে। রিদ চাপা অস্থিরতায় ভোগলো মায়ার জ্বর কমছে না বলে। নিশ্চয়ই তার বউয়ের অনেক কষ্ট হচ্ছে এই জ্বরে? তাই রিদ আগে দ্রুত হাতে থার্মোমিটার নিয়ে মায়ার জ্বরটা মাপলো! ১০২ ডিগ্রি। অস্থিতের পিষ্ট রিদ মায়ার গলা অবধি ব্ল্যাঙ্কেট টানলো তৎক্ষনাৎ। মায়ার মাথার উপর রাখা হাতটা রিদ অতি সন্তপর্ণে আস্তে করে ব্ল্যাঙ্কেট নিচে গলিয়ে দিয়ে! পুনরায় মায়ার কপালে গলায় হাত দিয়ে জ্বরটা চের করলো আরও একবার। চিন্তিত ভঙ্গিতে কপাল কুঁচকা রিদ। হঠাৎ মায়ার এতটা জ্বরের কারণ বুঝতে পারছে না সে। তাই রিদ দম ধরে কয়েক সেকেন্ড মন্ত হয়ে বসে থাকতে হঠাৎই পুনরায় মায়ার গায়ের ব্ল্যাঙ্কেটি উড়িয়ে ফেলে পাশে চাপা উত্তেজনায়। আজ তার অবুঝ বউ রোড এক্সিডেন্টের করেছে, নিশ্চয়ই ব্যথাটা-ত্যাটা পেয়েছে অনেক! যার জন্য এতটা জ্বর আসলো তার। রিদ মায়ার শরীর চেক করতে চাইলো তার আগেই চোখে পড়লো মায়ার দু-হাতে ঘিড়ায় হালকা পাতলা ব্যান্ডেজ আছে। শটহাতার জামা পড়ায় মায়ার হাতদুটোর ব্যান্ডেজ অনাহেষে রিদ দেখতে পারলো। দ্রুত মায়ার হাত দুটো নিজের দু-হাতে নিলো, রাস্তা পরে যাওয়াতে অনেকটায় ব্যথা পেয়েছে তার বউ। নিশ্চয়ই শরীরের আরও কোথাও ব্যথা রয়েছে। এবার রিদ মায়ার পুরো শরীর চেক করতে চাইলো। প্রথমে দ্বিধায় রিদের হাত কাপলেও পরে আস্তে ধীরে চেক করতে লাগলো তাও মার্জিত ভাবে। বেশি কিছুই চেক করতে চাইলো না রিদ। শুধু আন্দাজে চেক করলো গুটি কয়েকটি জায়গায়। ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়লে কোথায় কোথায় ব্যথা পেতে পারে সেই অনুমানে মায়ার শরীর চেক করলো সে। মুখে, গালায়, পেটে, কমড়ে, পায়ে চেক করে যতটুকু বুঝতে পারলো। তার বাচ্চা বউ দুহাতে আর দুই পায়েই শুধু ব্যথা পেয়েছে। তবে দুই পায়ের হাঁটুর একটু নিচে বেশিই ব্যথা পেয়েছে। রক্ত ব্যান্ডেজের উপর দিয়ে ভেসে আছে। রিদ মায়ার প্লাজু নিচে নামিয়ে পুনরায় গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট টেনে দেয় গলায় অবধি। আপাতত তার বউয়ের মেডিকেল চিকিৎসা দরকার নেই যেহেতু মেডিসিন খেয়ে রাতে ঘুমিয়েছে তাই। এই অবস্থায় খানিকটা প্রাথমিক চিকিৎসাটা দরকার তার বউয়ের। রিদ মায়ার ওয়াশরুম থেকে ছোট মগে করে ঠান্ডা পানি আনলো জলপট্টি দেওয়ার জন্য। তারপর উঠে মায়ার কবাট খুললো ছোট কোনো কাপড়ের জন্য মাথায় জলপট্টি করার জন্য। আবছা অন্ধকারের কবাট হাতড়ে বেশ সুবিধা করতে পারলো না রিদ। বরং আরও এলোমেলো করে ফেললো মায়ার সম্পূর্ণ কাবাট। সবগুলো তাগেই মায়ার বড় বড় কাপড় রাখা। সবশেষে কবাটে লাস্ট তাগকে মায়ার অনেক গুলো ছোট ছোট কাপড় পেতেই সেখান থেকে একটা তুলে নিল রিদ না দেখেই। কিন্তু হাতে নেওয়ার পর তার মনে হলো এই ছোট কাপড়টি বেশ সুবিধার না, বরং অন্য রকম মনে হলো তার কাছে। তাই রিদ দুই কদম এগিয়ে গিয়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে নিজের হাতের দিতে তাকাতেই চমকে উঠে স্তব্ধ নিবাক হয়ে গেল মূহুর্তেই। গা শিউরে উঠে কম্পন ধরলো রিদের শরীরে তার বউয়ের ভিতরের ছোট কাপড়টি দেখে। বিস্ফোরণে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো মায়ার ঘুমন্ত চেহারার দিকে। তার বউ এসবও পড়ে? হ্যাঁ পড়ে তো! রিদ তো আরও আগেই বুঝেছিল তার বউ এসব ছোট ছোট কাপড় ভিতরে পড়ে বেড়ায়! কই তখন তো এতটা নার্ভাস লাগেনি তার? তাহলে এখন লাগছে কেন? বউয়ের ছোট কাপড় সরাসরি হাতে নিয়েছে বলে? রিদ অস্বস্তির ভারি নিশ্বাস ফেলে নিজেকে সংযম করতে চাইলো। আজকাল বউয়ের প্রেমে পড়ে সেও এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে দিন বা দিন। শক্তপোক্ত নির্দয় মানুষটা শুধু তার বাচ্চা বউয়ের কাছে আসলেই কোমল হতে মন চাই। বউটা আশেপাশে থাকলে শত রাগ বিরক্তিও কেটে যায় তাঁর মূহুর্তেই। অশান্ত মনের শান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বউয়ের পাগলামিতে। আজকাল বউটা ছাড়াও ঠিকঠাক নিশ্বাসটা নিতে পারে না সে। অস্থিরতায় দম ফাঁটে।
আর আজ যদি সেই বউটার কিছু হয়ে যেত তাহলে কি করতো রিদ? সেকি স্বাভাবিক থাকতে পারলো? নাকি সবকিছুর ধ্বংসলীলায় নামতো? অবশ্যই নামতো! তার আদুরের বউয়ের দিকে যে হাত বাড়াবে তাকে ছাড়বে রিদ? কলিজা ছিড়েখুঁড়ে খাবে না সে? বংশ শুদ্ধ নির্বংশ করে দিবে না? এতো সহজ তার কলিজায় হাত দেওয়া? আজকের কাজটির জন্য সে অন্তত এতটা সিওর যে, তাঁর শত্রুমহলের সবার জানাজানি হয়ে গেছে তার বউ সম্পর্কে। যেহেতু একবার অ্যাটাক করেছে তাই বারবার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। কারণ রিদকে কিছু করতে না পারলেও টার্গেট হিসাবে বন্দুকের আগায় রাখবে তার বউকে। রিদের দূর্বলতা হিসাব করে তার বউকে ব্যবহার করে। যেটা রিদ অন্তত হতে দিবে না। কার কতো বড় কলিজা হয়েছে সেটা কালই দেখে নিবে রিদ। আপাতত তার বাচ্চা বউয়ের সেবা দরকার। রিদ বুক ফুলিয়ে শ্বাস ছেড়ে নিজেকে সংযম করে, পুনরায় কবাটের দিকে এগিয়ে গেলো। হাতের কাপড়টি জায়গায় রাখতে গিয়ে আস্তে করে ফিতাবন্ধনীটি উল্টিয়ে সাইজটা দেখে নিল একবার ঠোঁট কামড়িয়ে দুষ্ট হেঁসে। পরে অনেক খুঁজে খুঁজে রিদের সেই সাদা রুমালটি পেল যেটি রিদ মায়াকে বিয়ে করার দিন মাক্স হিসাবে মুখে বেঁধে ছিল। রিদ যত্ন সহকারে মায়ার মাথায় দীর্ঘ দেড় ঘন্টা জলপট্টি করলো আর বারবার হাত দিয়ে চেক করলো মায়ার জ্বর নেমেছে কিনা। তখন রাত প্রায় দুটোর ঘরে। রিদ আরও কিছুক্ষণ জলপট্টি করার পর দেখলো মায়ার জর নেমে এসেছে! প্রায় নেই। রিদ পানি মগটি ওয়াশরুমে রেখে আসতে আসতে দেখলো মায়া নড়েচড়ে ছটফট করে কিছু গোঙ্গাচ্ছে। রিদ কপাল কুঁচকে মায়ার মাথার পাশে বসে আবারও জ্বরটা চেক করলো। না জ্বর তো নেই? তাহলে ছটফট করছে কেন তাঁর বউ? রিদ কিছু একটা ভেবে খাটে সাথে হেলান দিয়ে বসে পিঠের নিচের বালিশ দিলো। আস্তে ধীরে মায়াকে টেনে নিজের বুকের নিল। আলতো করে মায়াকে একহাতে জড়িয়ে ধরে গলার ওড়নাটা খুলে পাশে রাখলো। মায়া তখনো অস্পষ্ট স্বরে কিছু আওড়াচ্ছিল বলে রিদ নিজের সর্তক কানটা ধরলো মায়ার মুখের সামনে। এবং বুঝতে পারলো মায়া জ্বরে উত্তাপে পড়ে পানি খেতে চাচ্ছে। রিদ একহাতে মায়াকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে অন্যহাতে টেবিলের উপর থেকে গ্লাসটি নিয়ে পানি খাওয়ালো। মায়া চুমুক দিয়ে সম্পন্ন পানি গ্লাস শেষ করতেই রিদ মিহি সুরে মায়াকে বললো…
—“আর পানি খাবে?
মায়া জ্বরে তাপে নিজের অজান্তেই মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানিয়ে বলে…
—” না!
রিদ মায়ার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিতেই মায়া দূর্বল হাতে রিদের পেটের পাশের টি-শার্ট আঁকড়ে ধরে পুনরায় জ্বরে তাপে বলে..
—” আপনি সত্যি এসেছেন মিস্টার ভিলেন?
—” হুমম!
—” সত্যি?
—” সত্যি!
—” তাহলে আমাকে জড়িয়ে ধরুন।
—” এই যে ধরে রেখেছি তোমায়।
—” উহুম! এই ভাবে না তো! শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন না মিস্টার ভিলেন! নয়তো আপনি হারিয়ে যাবেন।
—” উহুম! আর হারাবো না বউ। না তোমাকে হারাতে দিব। তুমি ঘুমাও! আমি আছি তো!
—” সত্যি হারাবেন নাতো?
—” সত্যি!
—“তাহলে এবার আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন না মিস্টার ভিলেন।
—” ব্যথা পাবে না?
—” হুমমম!
—” তাহলে কাল ধরবো। এখন ঘুমাও তুমি কেমন।
—“আচ্ছা!
রিদ আদুরে হাত মায়ার মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতে আস্তে করে মাথায় ছোট করে একটা চুমু খেলো। মায়া কেঁপে উঠতেই রিদ আবারও মিহি কন্ঠে বলে..
—” বেশি খারাপ লাগছে?
—” হুমম!
—” ব্যথা পাচ্ছো?
—“না!
—” তাহলে?
রিদের আদুরে প্রশ্নে মায়া ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে উঠলো রিদের বুকে। জরের ঘোরে মনের সব কথা গুলো মায়া বহিঃপ্রকাশ করতে লাগলো রিদের কাছে…
—” আপনি আমার হিরো মিস্টার ভিলেন। আপনি আমার জীবনে ম্যাজিক ম্যানের মতোন। আপনি আমার জীবনের আসায় আমার সবকিছু ম্যাজিকের মতো হয়ে যায়। এবাও আমার জন্য আরও একটা ম্যাজিক করে দিননা মিস্টার ভিলেন। আমার আরিফ ভাইয়া আর ফিহা আপু কষ্ট পাচ্ছে। তাঁরা তিন বছর ধরে একে অপরকে ভালোবাসে। কিন্তু আয়ন ভাইয়ার আম্মু মেনে নিচ্ছে না আরিফ ভাইয়াকে আমরা গরীব বলে। আমাদের টাকা নেই। তাই আমরা ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য না। আপনি বলুন গরীব ঘরের মেয়েতো আমিও। আপনিও কি আমাকে দূরে সরিয়ে দিবেন আমার বাবার টাকা নেই বলে। আপনার অযোগ্য বলে! কই দাদা-দাদী বা আপনি কখনোই তো আমি গরীব বলে অবহেলা করেননি। দূরে সরিয়ে রাখেন নি। বরং যত্ন করেন আমার। তাহলে আমি আমার ভালোবাসা পেলে আমার ভাইয়া কেন পাবে না মিস্টার ভিলেন? আরিফ ভাইয়াও তো ভালোবাসে ফিহা আপুকে। আমি খান বাড়িতে আসার আগে থেকেই ভালোবাসে দু’জন দু’জনকে। তাহলে আমার জন্য কেন তারা তাদের ভালোবাসা পাবে না মিস্টার ভিলেন আপনিই বলুন! এটা কি ঠিক? অন্যায় করা হচ্ছে না আমার ভাইয়া আর ফিহা আপুর উপর। প্লিজ মিস্টার ভিলেন আপনি আয়ন ভাইয়ার আম্মুকে বলুন না আমার ভাইয়ার ভালোবাসাটা মেয়ে নিতে। তাদের বিয়ে করিয়ে দিতে। সত্যি বলছি আরিফ ভাইয়া ফিহা আপুকে অনেক সুখে রাখবে। কখনো কষ্ট পেতে দিবে না। প্লিজ আপনি কিছু করুন না? প্লিজ!
রিদ বিরুক্তি নিয়ে ত্যাড়া জবাবে বললো….
—” পারবো না আমি। কার কি হলো না হলো সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। খাক, মরুক, বাচুক, যার যার ব্যক্তিগত ইস্যু। আমি অন্য বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছেুক নয়। বউ ছাড়া আমি বাকি কাউকে চিনি না। আর না চিন্তিতে চাই। তাছাড়া তোমার ভাই সামান্য একটা মেয়ে মানুষকে সামাল দিতে পারে তার বিয়ে না করাই উচিত। কুমার থাকুক সারাজীবন। ব্লাডি পেল্যু পিপল! ছেহ! যে নিজের জিনিস অন্যের হাতে তুলে দেয় ভোগ করার জন্য! তাও পরিবারের সো কল্ড কথার তলে পরে? তার বিয়ে না করাই উচিত। তোমার ভাইয়ের বিয়ে করা লাগবে না। তোমার তো বিয়ে হয়েছে সেটাই ফেয়ার এনাফ! এবার চুপচাপ ঘুমাও।
মায়ার ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রিদের বক্ষতলে। দূর্বল হাতে রিদের পেট জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলে…
—” আমি কষ্ট পাচ্ছি মিস্টার ভিলেন! প্লিজ আমার জন্য হলেও আরিফ ভাইয়ার বিয়েটা ফিহার আপু সাথে করিয়েন দিন না আপনি। আপনি ছাড়া কেউ পারবে না এই কাজটা করতে। সত্যি বলছি! আর প্রমিসও করছি! আর কখনোই আপনার অবাধ্য হবো না। একদম লক্ষী বউয়ের মতোন আপনার সব কথা শুনব! প্লিজ আমার জন্য হলেও কোনো ম্যাজিক করে দিন না মিস্টার ভিলেন, আরিফ ভাইয়া আর ফিহা আপুর সম্পর্কে মধ্যে। প্লিজ!
মায়ার কান্নায় রিদের খানিকটা বিরক্তি কমে আসে। বউয়ের জন্য সে সবকিছুই করতে রাজি। তাই আর অমত করলো না। বরং মায়ার মাথায় আদুরে একহাত বুলিয়ে দিল মায়াকে পুনরায় ঘুমপাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। রিদের ঊষ্ণ ছুঁয়া মায়া আরও কিছুক্ষণ বকবক করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো। মায়া ঘুমাতেই রিদ মায়াকে ঠিক করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে রুমের লাইট করে ডিম লাইট দিল। যত্ন সহকারে মায়ার গলা অবধি ব্ল্যাঙ্কেট টেনে দিয়ে পাশে বসলো পুনরায়। চোখ আওড়িয়ে ঘড়ি দিকে এক পলক তাকিয়ে সময়টা দেখে নিয়ে মায়ার দিকে তাকালো রিদ। বউকে ছেড়ে যেতে নারাজ তার মন। তাছাড়া নিজের রুমে গিয়েও শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না সে বউয়ের জন্য। মন ছটফট করবে ভিষণ। তার চেয়ে উত্তর রিদের এখানে ঘুমানোটা। রিদ মায়া ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে ঢুকে মায়াকে ঊরে(কোল) নিল। মায়ার বালিশে নিজের মাথা রেখে কাত হয়ে শুয়ে মায়াকে নিজের দিকে টেনে কাত করে শুয়ালো সে। রিদ মায়াকে টেনে অল্প কাছে আনলো তবে দূরত্ব বজায় রাখলো দুজনের মধ্যে ইঞ্চি ছয়ের মতো। রিদের মুখোমুখি ঘুমন্ত মায়ার কপালে গভীর চুমু খেয়ে নিজের একটা হাত রাখলো মায়ার কমড়ের উপর। রিদ মায়ার আর কাছে যেতে না চেয়ে ঐভাবেই ঘুমানোর চেষ্টা করলো এবং অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়লো। তবে আপত্তি জানালো ঘুমন্ত মায়া। সে রিদের প্রশস্তর কোল পেয়ে আরামে আরও চেপে চেপে আসলো রিদের বুকের মাঝে। দুজনের মধ্যে দূরত্ব গজিয়ে রিদের সাথে মিশে রইলো মায়া। এবং রিদের গলদেশে নিজের মুখ গজিয়ে এক পা তুলে দিল রিদের পায়ের উপর। মায়া নড়েচড়ে রিদকে জড়িয়ে ধরার জন্য উপরের হাত রিদের হাতের নিচ দিয়ে নিয়ে পিঠের উপর রাখলো। তারপর মায়ার অন্য হাতটা নিচে হওয়া বেশ একটা সুবিধা করতে পারছে না সে। ঘুমের ঘোরেই বেশ কয়েক বার রিদের পিঠের নিচ নিয়ে হাতটা ঢুকাতে চাইলো রিদকে জড়িয়ে ধরার জন্য। কিন্তু পারলো না। ঘুমের ঘোরে বিরক্তি নিয়ে বারবার নড়েচড়ে একিই কাজ করতে লাগলো থেমে থেমে। এবার রিদও ঘুমের ঘোরেই কাত রাখা পিঠটা হালকা উঁচু করে দিতেই, মায়া তৎক্ষনাৎ সেখান দিয়ে হাতটা গুলিয়ে রিদকে জড়িয়ে ধরে আরাম পেয়ে। রিদ মায়ার আরাম দৃঢ়তা করতে মায়ার কমড় ধরে টেনে নিজের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে এবার সেও মায়াকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে। নিজের কাঁচা ঘুমন্ত লাল লাল চোখ জোড়া খুলে আস্তে করে মায়ার কপালে ডিপলি চুমু খেলো। বলে…
—” আমার অসীম সুখের ঠিকানা তুমি। আমার শত রাগের বারণ তুমি। আমার অধৈর্যের ধৈর্য তুমি। আমার দেওয়ানা হওয়ার কারণ তুমি। আমার পাষাণ্ড বুকের শান্তির ফুল তুমি। আমার বোকা রানী তুমি। আমার প্রিয় বউ তুমি।
মায়া ঘুমের মাঝেই খানিকটা কেঁপে কেঁপে উঠে। রিদের কোনো কথায় শুনলো না। অজানা থেকে গেল নিস্তব্ধ রাতে মতোন। হয়তো মায়াও জেগে থাকলে রিদ কখনোই বলতো না। মায়ার অজানা মধ্যে দিয়েই রিদের জানা অনূভুতি গুলো প্রকাশ পেল। রিদ চোখ বন্ধ করে মায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে। মায়াও বিড়াল ছানার মতো কুঁজো মেরে পড়ে রইলো রিদের বুকে ভিতর।
~~~
সকাল সকাল আড়মোড়া ভেঙ্গে ঘুম থেকে উঠলো মায়া। নিজেকে বিছানায় ঠিকঠাক পরিপাটি হয়ে ঘুমাতে দেখে খানিকটা আশ্চর্য হলো। সে আজ নিয়ে দুই দিন নিজেকে এতো গোছালো ভাবে বিছানায় পেল। এক দিন রিদের রুমে আর আজকে! মায়া ভাবলো সত্যি বুঝি সে আজকাল গুছিয়ে ঘুমাতে শিখে গেছে। তাই উৎফুল্লর মনে মায়া উঠে বসলো বিছানা ছেড়ে। গায়ে জ্বর নেই তার। বেশ ফুরফুরেই আছে। বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে পায়ে টনটন ব্যথা অনুভব করলো মায়া। এবং তৎক্ষনাৎ মনে পড়লো সে কাল রোড এক্সিডেন্ট করেছিল তাই হাতে পায়ে ব্যথা। এবং রাতে এরজন্য জ্বরও হয়েছিল তার। তারপর আর কিছুই মনে নেই। এবং এটাও মনে নেই যে রাতে মায়ার রুমে রিদের আসা যাওয়াটা বিষয়টি। রিদের দীর্ঘ সময়র সেবা যত্নের করাটা। বরং মায়া বিষন্নতায় ভোগলো এই ভেবে যে, সে অসুস্থ ছিল অথচ তার মিস্টার ভিলেন তাঁকে একটা বার দেখতেও আসলো না। পর মূহুর্তে মায়া আবারও ভাবলো, হয়তো তার মিস্টার ভিলেন জানে না, তাই আসেনি। তাছাড়া মায়াতো গোটা একটা দিন ধরে তার মিস্টার ভিলেন থেকে লুকিয়ে চুকিয়ে বেড়িয়েছে। কেউ কাউকে দেখেনি তাই জানে না তার মিস্টার ভিলেন মায়ার অসুস্থতার বিষয়টি। কিন্তু এই মূহুর্তে তার মিস্টার ভিলেনকে না দেখলেই নয়। গোটা একটা দিন মায়া দেখেনি তার মিস্টার ভিলেনকে! তাই আপাতত তার স্বামীর সাথে দেখা করাটা জরুরি। ভাবনা অনুযায়ী মায়া দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিল ওয়াশরুম থেকে। নিজের জ্বরের প্রকোপে এতটা মনে রাখতে পারলো না গোটা রাত সে রিদের বুকেই ঘুমিয়ে কাটিয়েছে। মায়া ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখলো রিদ সবেমাত্র ডাইনিংয়ে বসেছে নাস্তা করতে। আশেপাশে আর কেউ নেই। হেনা খান কিচেনে থেকে আরও নাস্তা আনতে গেছেন। আরাফ খান এখনো আসেনি। তাই মায়া খানিকটা লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে গিয়ে বসলো রিদের পাশে চেয়ার টেনে। মায়া প্রেম করছে রিদের সাথে এই কথাটিই নিজের মাথায় রেখে বেশ নমনীয়তার সাথে প্লেট উল্টালো লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে। গুটি কয়েক বার আড়চোখে রিদের দিকে তাকিয়ে লজ্জাও পেল একমনে। কিন্তু রিদের কোনো হেলদোল হলো না বিন্দুমাত্রও মায়া। রিদ দিব্যি নাস্তা খেয়েই যাচ্ছে। যেন এই মূহুর্তে খাবার টেবিলে রিদ ছাড়া দ্বিতীয় কেউ উপস্থিত নেই। মায়া প্রথমে গুটিয়ে কয়েকবার লজ্জা মিশ্রিত দৃষ্টিতে রিদের দিকে আড়চোখে তাকালেও এবার পূর্ণ দৃষ্টিতে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকলো তার স্বামী দিকে। আশ্চর্য! মায়া যে পাশে বসে আছে বা এতক্ষণ ধরে লজ্জা পাচ্ছে সেটা কি চোখে পড়ছে না তার স্বামীর! কই একটু আদুরে হাতে নাস্তা-টাস্তা এগিয়ে দিবে তা না মায়াকে তো চোখে পড়ছে না। এতে কি মায়াকে অপমান করা হচ্ছে না? আশ্চর্য কাল প্রেমটা শুরু করতে করতেই আজ ভুল গেল নাকি তাঁকে? নিজের চিন্তা ভাবনার মাঝেই আতংকে উঠলো মায়া। হেঁ! হেঁ! তার স্বামী ভুলে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। কি সাংঘাতিক! স্বামী তার প্রেমটা শুরু করেই ভুলে গেল। অথচ সে দ্বায়িত্ববান বউ হয়ে এখনো অবধি মনে রাখলো শুরু হওয়া প্রেমটাকে। মায়া রিদকে এবার খানিকটা চেক করতে চাইলো। তাই ইচ্ছাকৃত ভাবেই শব্দ করে করে প্লেটে, নাস্তা নিচ্ছে। আর ঠাস ঠুস শব্দ করছে রিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। কিন্তু রিদ বরাবরই নিরাশ করলো মায়াকে। বিন্দুমাত্র মাথা উঠিয়ে দেখলো না মায়াকে। হতাশ মায়ার এবার পূর্ণ ধৈর্য ভেঙ্গে অধৈর্য্য হয়ে উঠলো। নিজের চেয়ার টেনে রিদের আরও পাশ ঘেষে বসলো। এতোও যেন রিদের পরিবর্তন হলো না। তাই অধৈর্য্যর মায়া বিরক্তি নিয়ে রিদের গ্লাসটি দুহাতে চেপে ধরে টকটক করে সবটা পানি খেয়ে ঠাস শব্দ করে পুনরায় রাখলো জায়গায়। চোখ উঠিয়ে রিদকে লিপিপ্ত ভঙ্গিতে চামচ কেটে একে একে নাস্তা মুখে তুলতে দেখে মায়া ঠোঁট উল্টায় কান্নায়। টেবিলের উপর ঝুঁকে পড়ে রিদকে মনে করিয়ে দিতে চাইলো নিজেদের প্রেমের কথাটা…
—” আপনি কিন্তু বলেছেন আমি প্রেম করছি…
.
চলিত….
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৮(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৩