Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৩


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা) সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

২৩
রাত বারোটা। আয়নের গাড়িটি থামলো খান বাড়ির পাকিং এরিয়াতে। আয়ন দ্রুততা ন্যায় গাড়ি থেকে নেমে দরজা খোলে দেয় পিছনে সিটের। মায়া ধীর গতিতে জুঁইয়ের হাত ধরে গাড়ি থেকে নামায়। অসাবধানতার কারণে জুইয়ের আঘাত প্রাপ্ত পায়ে পুনরায় ব্যাথা পায়। এবং পড়ে যেতে ন্যায়। কিন্তু আয়ন দ্রুততা ন্যায় জুইয়ের বামহাতের বাহু চেপে ধরে পড়া থেকে বাঁচায়। মায়া ডানপাশে তো আয়ন বামপাশের বাহু চেপে ধরা। জুঁই চমকে উঠে দ্রুত আয়ন থেকে নিজে বামহাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে ভয়ে ঝাপটে ধরে মায়াকে। আয়নের ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়ে মায়াকে টেনে নিজের সামনে দাঁড় করায় জুঁই। মায়া পিছনে লুকিয়ে পড়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা চালাই আয়ন থেকে। জুইয়ের আকস্মিক ঘটনায় মায়া অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় আয়নের দিকে। জুইয়ের হুটহাট এতটা ভয় পাওয়ার কারণটা বোধগম্য হলো না আয়নের। জুইয়ের হঠাৎ আচরণে কপাল কুঁচকে তাকায় আয়ন মায়ার পিছনে জুইয়ের দিকে। আজব’ কিছুক্ষণ আগেও তো মেয়েটা ঠিক ছিল। তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিল। এখন হুটহাট কেন ভয় পাচ্ছে তাঁকে এই মেয়েটা। এতটা ভয় পাওয়ার কিছুই তো দেখছে না আয়ন’। আয়ন কয়েক সেকেন্ড মায়ার পিছনে জুইয়ের দিকে চোখ আওড়ায়। জুইয়ের ভয়ের কারণ ধরতে না পেরে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার মুখপানে। মায়া দৃষ্টি নিস্তর অসহায়। কারণ এই মূহুর্তে আয়ন জুইয়ের ভয়ের কারণটা বুঝতে না পারলেও মায়া ঠিকই বুঝতে পারছে জুইয়ের ভয়ের কারণটা। তাই মৃদু স্বরে আয়নকে বলে উঠলো মায়া….

—” ভাইয়া আমি ওকে বাসায় নিয়ে যায়?

মায়ার মুখে ভাইয়া ডাকটা পছন্দ হলো না আয়নের। কিছুক্ষণ আগে বিয়ে হলো তাদের। আর এখন নিজের বউয়ের মুখে ভাইয়া ডাক শুনে খানিকটা বিরক্তি বোধ করলো সে। তারপরও এই মূহুর্তে মায়াকে কিছু বললো না সে। কারণ অনেকটা ক্লান্ত ও ভয়ে আছে মেয়ে দুটো। তাদের কিছু বলা মানেই বোকামো। আয়ন ভাবে, মায়ার সাথে এই বিষয় পড়ে কথা বলে নিবে। তাই ছোট করে সম্মতি জানিয়ে বললো আয়ন…

—” হুমমম যাও।

মায়া খানিকটা বিব্রত বোধ করে জুইয়ের হাত ধরে টেনে পিছনে থেকে বের করে ধীর পায়ে সামনে দিকে যেতে থাকে। মায়া জুঁইকে নিয়ে কয়েক কদম এগোতেই পিছন থেকে ডেকে উঠলো আয়ন।

—” শুনো!

মায়া জুইয়কে নিয়ে পিছন ঘুরলো না। বরং জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে। আয়ন দুই কদম এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়ালো আবারও মায়ার। এক পলক দু’জনকে দেখে নিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে মায়াকে বলে উঠলো আয়ন…

—” আজকে আমাদের বিয়েটা সম্পর্কে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। কাউকে কিছু বললে উল্টো ঝামেলা হবে এটা নিয়ে। তাই আপাতত তোমরা দুজনই চুপ থাকবে এই বিয়েটা নিয়ে। কাউকে কিছু বলবে না। সময় হলে আমি নিজেই পরিবারের সবার সাথে কথা বলবো এই বিষয়ে। কাল আমি লন্ডন চলে যাবো আমার এক্সাম আছে তাই। বাংলাদেশে ফিরতে আমার আরও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। ফিরে এসে সবাই সাথে কথা বললো বিয়েটা নিয়ে। ততদিন আশা করি তোমরা কেউ এই বিষয়ে কারও সাথে কথা বলবে না। মনে থাকবে?

আয়নের মুখে বিয়ে কথাটা শুনে ভয়ে চমকে উঠে জুই। উত্তেজনার সাথে সাথে মায়ার হাত খামচে ধরে ভয়ে। মায়া ব্যথা পেলেও শব্দ করলো না আয়নের সামনে। শুধু একবার নিরব চোখ বুলিয়ে জুইয়ের ভয়াৎ চেহারাটি দেখে নিল সে। মায়া দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে পুনরায় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় আয়নের গম্ভীর মুখের দিকে। আজ অনেক কিছু ঘটে গেছে তাদের সাথে। এসবকিছু পরিবারের সবাই শুনলে কি হবে? সেটা নিয়ে ভাবতে পারছে না মায়ার ছোট মস্তিষ্ক। কতটা ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে তাদের জীবনে সেটাও চিন্তা করতে পারছে না মায়া। শুধু জানে আজকে যাহ ঘটেছে সেটা ঠিক হয়নি মোটেও। এবার আল্লাহ জানে আজকের এই বিয়েটাকে ঘিরে কি ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায় তাদের জীবনে। মায়া আহত দৃষ্টিতে চোখ বুলাই আয়নের দিকে। মুখে কোনো জবাব না দিয়ে নিরবে নিজের মাথায় নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। যার অর্থ ” হ্যাঁ তাঁরা দুজন কাউকে কিছু বলবে না।

আয়ন দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে। স্বস্তির হয়ে পুনরায় বলে উঠে…

—” ঠিক আছে বাসায় যাও। আর তোমার বোনকে সুপ জাতীয় কিছু খাওয়াও। আমি কাউকে দিয়ে তোমার রুমে মেডিসিন পাঠিয়ে দিব। মেডিসিন খেয়ে নিলে রাতে আর পা ব্যথা করবে না। ঠিকঠাক ঘুমাতে পারবে। আর তুমিও কিছু শক্ত খাবার খেয়ে নিবে কেমন। নয়তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। ঠিকছে?

মায়া পুনরায় মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। মিহি সুরে বললো…

—” আচ্ছা।

—” হুমম। যাও।


রাত প্রায় দুটোর কোঠায়। মধ্য রাত। মায়া টুকটাক শব্দ করে নিজের জন্য নুডুলস বানাচ্ছে কিচেনের মধ্যে। জুঁই সুপ খেয়ে মেডিসিন নিয়ে ঘুমাচ্ছে মায়ার রুমে। খান বাড়ির কেউ এখনো পযন্ত জানে না মায়া আর জুঁই ফিরে এসেছে সেটা। আয়ন সময় মতো দ্বায়িত্ব করে মেডিসিন পাঠিয়েছিল সার্ভেন্ড দিয়ে কিছুক্ষণ আগে। সেটা খেয়েই জুঁই ঘুমাচ্ছে। মায়ার ঘুম আসছিল না বিকাল থেকে ঝামেলা কারণে না খেয়ে থাকায় ঘুম ধরা দিচ্ছিল না চোখে। তাই নিজের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ঝটফট হাতে ঝাল ঝাল নুডুলস বানিয়ে ন্যায় মায়া। ফ্রিজে অন্যন্যা খাবার তুলা থাকলেও সেগুলো আপাতত খেয়ে নারাজ মায়ার মন। তাই নিজ হাতে নুডলস বানানো। গরম গরম নুডলস প্লেটে ঢেলে পা বাড়ায় ডাইনিং এর উদ্দেশ্য। এক হাতে নুডলস এর প্লেট তো অন্য হাতে ফ্রিজ ঠান্ডা পানির বোতল চেপে ধরা। ডাইনিং টেবিলের পাশের লাইটটা জ্বালিয়ে বসলো চেয়ার টেনে সেখানটায়। পেটের ক্ষুধার জন্য মায়া পরপর কয়েক চামচ তুললো মুখে। ঝালের কারণে চোখের কোণে মৃদু মৃদু পানি কর্ণা জমলো মূহুর্তে মায়ার। তারপরও স্বাদমতো টেস্ট হওয়ায় সেই নুডুলস খেতে লাগলো মনের আনন্দে সে। মায়া পুনরায় নুডলস মুখে তুলবে তখনই হামলা বসালো কেউ। মায়া হাতে নুডলসের চামচটি জোর পূবক নিজের মুখে তুলে নিল কেউ। মায়া চমকে উঠে পাশে তাকাতেই চোখে পড়লো রিদকে। রিদ সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার টেনে মায়ার পাশে বসে পড়ে ধুপ করে। মায়া রিদের ভয়ে আতংকে উঠে দ্রুত উঠতে নিবে তার আগেই রিদ মায়ার চেয়ার টেনে নিজের আরও কাছে নিয়ে আসে। এবং ধমক স্বরে বলে….

—” এই মেয়ে চুপচাপ বসে থাক। আমার খাব এখন।

কথা গুলো বলতে না বলতেই সাথে সাথে মায়ার খাবার প্লেট কেঁড়ে ন্যায় নিজের কাছে। পরপর কয়েক চামচ কেটে নুডলস মুখে দিতেই চোখ মুখ লাল হয়ে আসে প্রচন্ড ঝালে রিদের। ঝালে কারণে হালকা হিশাতে লাগলো রিদ। বিরক্তি নিয়ে মায়াকে বললো…

—” উফ এতো ঝাল কেন? নেক্সট এতো ঝাল হাওয়া যাবে না তোমার। বেশি ঝাল খাওয়া মানুষদের নাকি বেশি রাগ হয়? কিন্তু তোমার রাগ থাকা যাবে। তোমার রাগ থাকাটাও নিষেধ। তাই তোমার ঝাল খাওয়াটাও নিষেধ আজ থেকে।

মায়া রিদের কথায় ভয়াৎ দৃষ্টিতে তাকায় সেদিকে। রিদের লাল হয়ে যাওয়া চেহারাটা স্পষ্ট জানান দিচ্ছে রিদের ঝাল জাতীয় খাবার গুলো একদমই পছন্দ নয়। খেতে পারে না সে। রিদের অবস্থা দেখে মায়া মনে অদ্ভুত মায়া সৃষ্টি হলো রিদের জন্য। কিন্তু তাহ প্রকাশ করলো না। রিদ হিশাতে হিশাতে খেতে লাগলো মায়ার বানানো সম্পূর্ণ নুডলস গুলো। বিন্দু মাত্রও নষ্ট করছে না। বরং যত্ন সহকারে খাচ্ছে মায়ার হাতের নুডলস। খেতে খেতে আবারও বলে উঠলো রিদ….

—” যাও! আমার জন্য ব্ল্যাক কফি বানিয়ে আন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে।

রিদের কথায় মায়া ইতস্তত বোধ করে মাথা নত করে বসলো রিদের সামনে। হাসফাস করতে লাগলো অপরাধীর মতো। রিদ মায়ার নড়চড় না দেখে খাওয়া বন্ধ করে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার দিকে। তীক্ষ্ণ কন্ঠে প্রশ্ন করে বললো…

—” কি সমস্যা যাচ্ছ না কেন?

মায়া নড়েচড়ে বসে আঁড়চোখে একবার তাকায় রিদের দিকে। সাথে সাথে চোখাচোখি হয় দু’জনের। যেহেতু রিদ মায়ার দিকেই তাকিয়ে ছিল তাই। মায়া দ্রুত নিজের দৃষ্টি নিচে নামিয়ে ন্যায় রিদ থেকে। তারপর আস্তে করে মিনমিন গলায় বলে উঠলো…

—” আমি ব্ল্যাক কফি বানাতে পারিনা।

মায়ার উত্তরটা পছন্দ হলো না রিদের। তাই রাগে হিটমিট মেজাজে বললো…

—” তাহ পারবা কেন? আমার কোনো কিছু তো তোমার পাড়ার কথা না। তুমি তো আর আমার কিছু হওনা । আমি ছাড়া বাকি সবার অনেক কিছু লাগো তুমি। তাই সবারটায় খেয়াল থাকে তোমার শুধু আমারটায় খেয়াল থাকে তোমার। তাই না?

রিদের হঠাৎ রেগে যাওয়া কারণটা বুঝলো না মায়া। তবে এতটা বুঝতে পারলো যে ওর রিদ ভাইয়ার খেয়াল রাখা প্রয়োজন ছিল। মায়া চমকা। চোখ তুলে তাকাই রিদের বিরক্তি মাখা ফেঁসে দিকে। আর মনে মনে ভাবে’ আচ্ছা ” সত্যিই কি তাঁর রিদ ভাইয়ার খেয়াল রাখা দরকার ছিল? কিন্তু কেন? কোনো দিন তো মায়ার প্রয়োজন হয়নি তার রিদ ভাইয়ার তাহলে আজ কেন প্রয়োজন হলো? মায়া আরও কিছু ভাবার আগেই কানে আসলো রিদের তিরতির মেজাজের কথা।

—” যাও যেটা পারো যেটাই বানিয়ে নিয়ে আসু আপাতত আমার জন্য। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসবে কিন্তু। বুঝেছ?

মায়া মাথা নাড়ায় বলে…

—” আচ্ছা।

—” দ্রুত যাও।

মায়া চলে যেতে রিদ পুনরায় নিজের খাওয়াতে মনোযোগী হয়। ঝালের কারণে এবার চোখ দিয়ে অনর্গল পানি ঝরছে। কিন্তু তারপরও খাচ্ছে। সম্পূর্ণ নুডলস শেষ করার আগেই রিদের ঝাল উঠে যায় মস্তকে। কাশতে থাকে অনবরত। বামহাতটা নিজের বুকের উপর রেখে ঘষা দিতে দিতে নিজের কাশিটা কন্ট্রোলে আনার চেষ্টা চালায় রিদ। কিন্তু তাতেও ব্যর্থ। মায়া কিচেন রুম থেকে কফি হাতে ছুটে আসে রিদের কাঁশির শব্দ শুনে। রিদের নাজেহাল অবস্থা দেখে দ্রুততা সঙ্গে দৌড়ে যায় সেদিকে। মায়া অস্থির বংগিতে হাতের কফিটা টেবিলের উপর রেখে ঠান্ডা পানির বোতলটা এগিয়ে দেয় রিদের সামনে। উত্তেজিত কন্ঠে বলে…

—” দ্রুত পানিটা খেয়ে নিন আগে। নয়তো আরও কষ্ট হবে আপনার। নিন!

রিদ হাত বাড়িয়ে মায়া থেকে পানির বোতলটা নিতেই মায়া এক অপ্রত্যাশিত কান্ড করে বসলো রিদের সাথে। মায়া নিজের উত্তেজনায় রিদের শার্টের উপরের তিনটি বোতাম খুলে সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাত রাখলো রিদের উম্মুক্ত বুকে। ডানহাতে রিদের বুক মালিশ করতে করতে বামহাত রাখলো রিদের মাথার চুলের ভাঁজে। মায়ার এমন অপ্রত্যাশিত কান্ডে রিদ চমকে উঠে পানি না খেয়ে আবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে মায়ার দিকে কাশতে কাশতে। মায়া রিদকে পানি খেতে না দেখে দ্রুত তাড়া দিয়ে বলে উঠে…

—” কি হলো পানি খাচ্ছেন না কেন? দ্রুত পানিটুকু খেয়ে নিন। ভালো লাগবে আপনার।

মায়া কথা মতো রিদ পানিটুকু নিজের মুখে তুলে মায়ার দিকে তাকিয়ে থেকে। এই মূহুর্তে তাঁর বুকের ব্যথা কমছে নয় বরংচ বেড়ে গেছে এই নারীর ছুঁয়াই। সেটা কিভাবে বুঝাবে এই নারীকে? সেকি বুঝবে তাই এই বুকে ব্যথাটা? রিদ চোখ বুলাই মায়ার চিন্তিত চেহারায়। মায়ার চোখে মুখে নিজের জন্য টেনশন দেখে মূহুর্তেই অদ্ভুত শীতল হওয়া বয়ে যায় রিদের বুকে। রিদের মনে প্রবল ইচ্ছা জাগে নিজের ক্ষতি করে করে এই নারীকে তাঁর জন্য টেনশনে ফেলে রাখতে সারাজীবন। এতে করে রিদের মনে সুখ ও এই নারীর মনে দুঃখ পাবে। সেই আনন্দে এটাই করতে চাই সে। রিদ আরও কিছু ভাবার আগেই মায়া হালকা শাসায়িত কন্ঠে রিদকে বলে উঠলো….

—” যেটা খেতে পারেন না সেটা খেতে যান কেন আপনি? ঝাল আপনার মোটেও পছন্দ না তারপরও কেন খাচ্ছে এই গুলো?

রিদ পুনরায় চমকে উঠে। পানি খাওয়া অবস্থায় আবারও নাকে মুখে উঠে যায়। কাশতে থাকে অস্থির বংগিতে। এবার ঝালের জন্য নয় বরং মায়ার মধ্যে রিদের জন্য অধিকার বোধ দেখে। রিদ বুঝতে পারে মায়ার মনে রিদের জন্য মায়া কাজ করে। তাই তো এতটা অস্থির তোলপাড় রিদকে নিয়ে মায়ার। যেন কষ্টটা রিদের নয় মায়ার লাগছে। রিদ চুপ থাকে। মায়াকে কিছু বলে না। শুধু কাশির বেগটা কমিয়ে আনতে চাই নিজের মধ্যে। মায়া রিদের বুক দ্রত হাতে মালিশ করে। রিদকে শান্ত করার চেষ্টা চালায় অস্থির বংগিতে। মায়ার হাতের রেশমি চুড়ি গুলো ঝংকার তুলে শব্দ করে রিদের কানে। রিদ অনুভব করে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রিদের কাশি থেমে যায়। শান্ত হয় মূহুর্তেই। কিন্তু তখনও মায়ার হাত চালায় রিদের বুকে। রিদ শান্ত হয়। কিন্তু মায়াকে থামানোর চেষ্টা করে না বরং নিজেই ঢলে পড়ে মায়ার বুকে। দু’হাতে জড়িয়ে ধরে মায়ার কমড়। মায়া চমকে উঠে। থমকে দাঁড়ালো মূহুর্তেই রিদের কান্ডে। এতক্ষণ যাবত রিদের জন্য অস্থির থাকলেও এখন ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছে প্রচন্ড ভাবে। রিদকে মায়া ভয় পায় প্রচন্ড ভাবে। মায়ার জানা মতো রিদ ভালো নয় খারাপ মানুষ। কিন্তু রিদের অসুস্থতা দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি মায়া। নিজের অজান্তেই মায়া রিদের জন্য অস্থির হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু রিদের কান্ডে হুঁশ ফিরতেই মায়া ভয়ে আষ্টশ যায়। পালাতে চাই রিদ থেকে। কিন্তু তার আগেই রিদের বাহুডরে আটকা পড়ে মায়া। মায়া ছটফট করে রিদের বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়। রিদের শক্তির সাথে পেরে উঠে না। সে নিজের দুহাতে মায়ার কমড় ঝাপটে ধরে শক্ত করে চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায়। মায়ার বুকে মাথা রেখে নেশাক্ত কন্ঠে বলে উঠে….

—” আচ্ছা আমাকে দেখলে কি তোমার কিছু কিছু হয়না? আমার তো হয় অনেক কিছু তোমাকে দেখলে। স্টিল এখনো হচ্ছে অনেক কিছু। উফফ অসয্য অস্থির তোলপাড় হচ্ছি আমি তোমাতে। মনে তীব্র ইচ্ছা জাগ্রত হচ্ছে তোমাতে হারাতে। কি করবো আমি বলো?

মায়া শারীর তরতর করে কাঁপনী দিয়ে উঠছে বারবার। দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটা পাচ্ছে না রিদের এমন ছুঁইয়া। মায়ার কিশোরী বয়সে এই প্রথম কোনো পুরুষ মানুষের ছুয়া পেল। তাও এতটা গভীর ভাবে। রিদ মায়ার কম্পিত শরীরটা বুঝতে পেরে আরও গভীর ভাবে জড়িয়ে ন্যায় মায়াকে নিজের সাথে। মোহিত স্বরে পুনরায় বলে উঠে….

—” আচ্ছা তুমি কি আমার জন্য হালাল নাকি হারাম?

মায়া নিরুত্তর। রিদ আবারও বলে উঠে আগের ন্যায়…

—” হারাম হলে সেটা আমি মানিনা। আর যদি হালাল হও তাহলে আমার এখন কি করার উচিত তোমার সাথে? চুমু খাওয়া উচিত? আচ্ছা? বিয়ে তো হয়েছে অনেক দিন হলো এখন কি তোমার সাথে আমার বাসরটাও করে নেওয়া উচিত?

চলিত…..

দেওয়ানা_২

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply