Golpo romantic golpo প্রিয়তার পূর্ণতা

প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১৪


প্রিয়তার_পূর্ণতার

Nadia_Afrin

১৪

রান্নাবান্না শেষে ঘামার্ত মুখ নিয়ে সোফায় বসলাম।
আজ রান্না সব কাজের আন্টিরা করেছে।আমি শুধু তাদের হেল্প করেছি।
ফ‍্যানের ঠান্ডা বাতাসে ভীষণ ভালো লাগছে।
এক আন্টি আচলে হাত মুছতে মুছতে আমার কাছে এসে বলল,”গোসল সেরে নিন মা।ঘেমে গেছেন আপনি।”

মাথা ঝাঁকিয়ে উঠে দাঁড়ালাম।
গোসল করে শুধু মাত্র তোয়ালে শরীর পেঁচিয়ে বের হয়েছি চুল মুছতে মুছতে।ভেবেছি ঘরে গিয়ে অলিভ ওয়েল মেখে তারপর ড্রেস পড়বো।
মাথা উচিয়ে তাকাতেই দেখি প্রলয় বিছানায় বসে ড‍্যাপড‍্যাপ করে আমার দিকে তাকিয়ে।
আমি তাকে দেখে ভুত দেখার মতো চমকেছি।
ও এলো কোথেকে?

প্রলয় চোখ ঘুরিয়ে নিল।
আমি কোনো মতে দু-হাতে গা জড়িয়ে ধরি।
বললাম,”আপনি এখন?”

“একটা ফাইল নেওয়ার ছিল।সেটাই নিতে এসেছি।
আই এ‍্যাম স‍্যরি।”

এদিকে আমার লজ্জায় মরিমরি অবস্থা।
জামাটা রেখেছি আলমারির কাছে।তারমানে জামা নিতে গেলে প্রলয়কে ক্রস করতে হবে আমার।
ওকে তে দিতে বলবো সেটাও পারছিনা লজ্জায়।জামার সঙ্গে আমার প্রাইভেট জিনিস আছে।
বাধ‍্য হয়ে নিজেই গুটিগুটি পায়ে যেতে লাগলাম।
প্রলয় উঠে দাঁড়িয়ে বলল,”ফাইল পেয়ে গেছি।যাচ্ছি আমি।”

ও সবে হাঁটা ধরবে,তখনই ঘরের দিকে একজন ছেলে মানুষের কন্ঠস্বর এগিয়ে এলো।ঘরে আসছে কেউ।আমি চমকে উঠলাম।কী করবো বুঝতে না পেরে কাছাকাছি প্রলয়কে দেখে ভুলবসত ওকে জাপটে ধরেছি।পারলে ওর শরীরের ভেতর ঢুকে নিজেকে লুকাই।
আমার কান্ডে সে আবার।
আবারো ডাকটা এলো।প্রলয় বুঝতে পেরে আমায় দু-হাতে আগলে নিয়ে পেছন ঘুরলো।
ওর বুকের মাঝে জড়ো হয়ে রইলাম।ভয়ে মুখখানা চুপসে গেছে আমার।
ছেলেটা ঘরের ঠিক সামনে আসতেই প্রলয় হাঁক ছেড়ে বলে,”রিপা নেই এঘরে।ওর রুমেই আছে।”

ছেলেটা বলল,”ওর রুমে দেখেছি নেই ও।ডেকেছিও।”

প্রলয় এবার উচ্চস্বরে বলল,”বললাম না ঘরেই আছে।গেট লস্ট।”

ছেলেটা একটু ভয় পেল।
চলে গেল তৎক্ষণাৎ।প্রলয় পেছনে তাকিয়ে বলল,”ফালতু একটা ছেলে!বন্ধুর বাড়িতে এসে শুধু এঘর- ওঘর উকি দিয়ে বেড়ায়।”

প্রলয় ছেড়ে দিল আমায়।আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেছি।প্রলয়ের সামনে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে প্রথমবার।
কোনো মতে জামাটা দিয়ে এক দৌড়ে বাথরুম। ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছি।
মিররের দিকে তাকিয়ে দু-হাতে মুখ ঢেকে বিরবিরিয়ে বললাম,এটা তোর সঙ্গে কী হলো প্রিয়তা?
এবার প্রলয়ের সামনে যাবি কী করে?

নিচ থেকে হাঁকডাক শুনতে পেলাম।
দ্রুতই তৈরি হয়ে নিচে নামলাম।প্রলয় চলে গেছে।মাথায় বড়ো ঘোমটা টেনেছি।
সুমা আপুর বরকে সালাম দিলাম।ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করলাম।সে সৌজন্যের সাথে জবাব দিল।
তাকে বসতে দিয়ে কিচেনে গেলাম আমি।
সব খাবার বাড়তে হবে।
আন্টিরা আমায় সাহায্য করছে।
কিচেন থেকেই শুনতে পাচ্ছি তাদের কথা।সুমা আপু লাগেজ খুলতে বলছে তার স্বামীকে।উনি পরে খোলার কথা বললে ছেলেকে উস্কে দিচ্ছে।বলছে ব‍্যাগে চকলেট আছে।
ছেলেটাও বায়না ধরলো এবার।বুঝলাম না,একটা মানুষ এতোবছর পর ফিরেছে।কতো জার্নি করে এসেছে।কই তাকে ফ্রেশ করিয়ে আগে খেতে দেবে তা না ওরা পড়েছে লাগেজ নিয়ে।
আমার শাশুড়িও দেখলাম তাল মিলিয়ে বলল,”আহা বাবা দাও না খুলতে।ছেলেটা চাইছে।”

কবির ভাই ছেলেকে কাছে ডেকে কপালে চুমু দিয়ে বলল,”একটু পরে খুলি বাবা।তোমার দাদি-ফুফুকে কল দিয়েছিলাম।ওরা আসছে।আসলে একসঙ্গে খুলি কেমন?”

ছেলেটা সুন্দর হেসে মাথা নাড়িয়ে চলে গেল।

মা আর আপু যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো।ফুসতে ফুসতে রান্নাঘরে এসে বলল,”দেখলে মা ও কতো অসভ‍্য!
দেশে আসতে না আসতে মা-বোনকে খবর দেওয়া শেষ।কী করে ওর মা ওর জন্য? সামান্য ফোন দিয়ে তো খোঁজ ও নেয়না।”

বললাম,”নেবে কীভাবে আপু?
আপনি নিতে দেন?আমার বিয়েতে এসে আপনার শাশুড়ি আপনাকে কতো বার বলল ছেলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে।কতো পিছে পিছে ঘুরলো মহিলাটা।
ধমক দিয়ে দিয়ে বসিয়ে রাখলেন।ননদকে তো যাচ্ছেতাচ্ছে করে অপমান করলেন।
ননদকে নাকি আপনিই ফোন নিতে দেননা।মেয়েটা কলেজে পড়ে তাও এমন করেন।সবই নিজ চোখে দেখলাম আমি।”

আপু আরো রেগে ফোস করে উঠলো যেন।
“তুমি কেন আমার ব‍্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলছো?
তোমায় এতো স্পর্ধা কে দিয়েছে।আমার শাশুড়ি-ননদ,আমি যা পারি বলবো করবো।তাতে তোমার কী?
এমনিতেই প্রচন্ড রেগে আছি আমি।আমার রাগে আর ঘী ঢালতে এসোনা বলে দিলাম।”

উনি হনহন করে চলে গেলেন।
মা বললেন,”দরকার কী সব বিষয়ে কথা বলার?যার টা তাকে বুঝতে দাওনা।আমি ঘরে যাচ্ছি।ক্লান্ত লাগছে আমার।তুমি কবিরকে খাবার দাও।”

মা-মেয়ে দুজনেই চলে গেল।দায় যেন আমারই।হয়ত বলতেই পারতাম,আমি কেন দেব খাবার?আমার কিসের দায়?তার স্ত্রী,শাশুড়ি দিক।

কিন্তু বললাম না।ওদের মতো মনুষ্যত্বহীন আমি নই।একজনের ওপর ঈর্ষা করে আরেকজনকে ক্ষুদার্ত রাখতে পারিনা আমি।
এছাড়াও কবির ভাইকে দেখেই মনে হয়েছে উনার ক্ষিদে পেয়েছে।
আর দায়িত্বটাও প্রলয় আমায় দিয়েছে।

টেবিলে খাবার দিলাম।কবির ভাই ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে ছেলেকে নিয়ে বসেছে।তার প্লেটে ভাত আর ভাজি দিলাম।খাওয়া শুরু করতে বললাম।
উনি এক লোকমা মুখে নিতে না নিতেই দেখলাম সুমা আপু এলো।পাশে বসলো।
মনে মনে ভাবলাম অনেকদিন পর স্বামীকে পেয়ে একসঙ্গে খেতে চাইছে বোধহয়।এটাই ভালো!
একটু পর রিপা এসেও বসলো।সঙ্গে মাও।এতো বছর পর একসঙ্গে মেয়ে-জামাই খেতে বসেছে।এখানে উনাদের আসার কী দরকার ছিল?
আমিই তো খাবার দেওয়া হলে চলে যাবো।ওদের একা সময় দেব।

তো সবাই খাওয়া শুরু করলো।
সবাইকে দেখছি ভাজা-ভুজি ছেড়ে মাংস দিয়েই খাচ্ছে।এদিকে আজ মাংস ফ্রিজে এটুকুই ছিল।দুজন খাওয়ার মতো হবে।প্রলয় ও ছিল না যে ওকে আনতে বলবো।
ওরা আজ মাংস না খেলে কী এমন হতো?রোজ তো খায়।জামাই খেতে বসেছে,সে ভালো মতো খেয়ে নিক।মা কিন্তু দেখলোই আমি হাড়ির সবটুকু মাংস ঢেলে বাটিতে দিয়েছি।
চিকেনও নেই।কবির ভাইকে কী শুধু ডিম,ডাল,ভাজি দিয়েই খেতে হবে নাকি?সুমা আপুই বা কেমন স্ত্রী?স্বামীর খাওয়ায় কোনো নজর নেই।নিজের মতো খেয়ে যাচ্ছে।
যে যার মতো গপসে খাচ্ছে।কবির ভাই অনেক ধীরে খাচ্ছে।ছেলেকে খাওয়াচ্ছে তারপর নিজে খাচ্ছে।
বাটিতে তখন তিনপিস অবশিষ্ট।একটা হাড়,একটা চর্বি আর একপিস মাংস।
রিপাকে দেখলাম ভাত জড়ো করছে।বারবার মাংসের বাটির দিকে তাকাচ্ছে।ভাবেই বুঝছি ও ছোঁ দেবে এবার।
উপায় না পেয়ে একগাল হেসে বললাম,”রিপা একটা ডিম নাও না।কোরমা করেছি।শুনেছি তুমি তো কোরমা পছন্দ করো।”
চোখ দিয়ে ইশারা করছি কবির ভাইয়ের দিকে।ও বুঝেও না বোঝার ভান করলো।উঠে দাঁড়িয়ে মাংসের বাটি সহ নিয়ে প্লেটে ঢালতে ঢালতে বলল,”মন চাচ্ছেনা।”
ঝোল সহ মুছে নিয়ে নিল।
আমার মুখটা শুকিয়ে গেল।কী করি এবার?
রান্না করেছি আমি।বেড়েছি আমি।খেতেও দিয়েছি আমি।অসম্মান হলে আমারই হবে।লজ্জায় মাটির মাঝে ঢুকে যেতে ইচ্ছে করছে।
ঠিক তখনই একজন লোক ভেতরে এলো।
আমার হাতে দুটো বাটি ধরিয়ে দিয়ে বলল,”আমার দোকান সামনেই।একটু আগে প্রলয় সাহেব কল করে বলল দু-বাটি কালাভুনা আর জালিকাবাব দিয়ে আসতে।এজন‍্য নিয়ে এলাম।”

উনি বাটি দুটো আমার হাতে দিয়ে চলে গেল।তখনই কল করে প্রলয়।
কবির ভাইকে দিতে বলে।কবির ভাইকে বলল,”ভাই এই কালাভুনা মাংসটা আমাদের ওখানের সবচেয়ে বিখ্যাত।এজন‍্য আপনার জন্য অর্ডার দিয়ে দিলাম।বাড়ির রান্নাতো সবসময় খাবেনই।আজ বরং বাইরের বিখ্যাত কিছু খেয়ে দেখুন।”

কবির ভাই সামান্য হেসে সম্মতি জানায়।ফোন আমায় দেয়।কথা বলবে প্রলয়।
প্রলয় আমায় বলল,”আন্টি কল দিয়ে বলল মাংসের কথা।উনারা তো আমার বাড়িতে বহুদিন কাজ করে,তাই আমার বাড়ির পরিস্থিতি আপনি না জানলেও উনারা বেশ ভালোই জানে।এজন‍্য ওগুলো অর্ডার করে দিয়েছি।আপনায় আর লজ্জায় পড়তে হবেনা।নিজে যেমন দায়িত্ব নিয়ে সবটা করেছেন।এবার এই মাংসটাও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কবির ভাইকে খাইয়ে দেবেন।উনি এটা বেশ পছন্দ করে।অন‍্য কাউকে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এবং আরেক বাটির টুকু আপনি ও আন্টিরা মিলেমিশে খেয়ে নেবেন।রান্না করেছেন কষ্ট করে।এটা আপনাদের প্রাপ‍্য।
আমার ফিরতে দেরি হবে।খেয়ে নেবেন।”

প্রলয় কল কাঁটে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি আমি।একটা বাটি রেখে একটা খুলি।রিপা উকি দিয়ে আক্ষেপের স্বরে বলে,”যাহ!এটা মিস হয়ে গেল।ভাইয়া অর্ডার করবেই যখন,একটু আগে করবেনা?
আমরাও খেয়ে দেখতাম তাহলে।এখন খাওয়া শেষ।”

সুমা আপু বলল,”খাওয়া শেষ তো কী হয়েছে?
এমনিই একটু নে চাখার জন্য।
প্রিয়তা আমাদের দু-বোনের থালে একটু করে মাংস দাওতো।”

উনারা থাল এগিয়েছে।
আমি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে কবির ভাইকে মাংস দিতে দিতে বললাম,”আপনারা তো খেলেনই।এগুলো বরং আপনাদের আর খেতে হবেনা।
যদি পেটটেট খারাপ হয়ে যায়।”

দুজনে অপমানে মাথা নত করলো।
হাত ধুয়ে চলে গেল।আমি কবির ভাইকে খাওয়াম।তার খাওয়া শেষ হতেই সে বলল,”ধন‍্যবাদ প্রিয়তা।আজ বহু বছর পর কেউ এতো যত্ন করে খাওয়ালো।বিদেশে তো নিজে না খেলে নাই।ধন‍্যবাদ তোমায়।”

উনি ঘরে যেতেই আন্টিদের সঙ্গে নিয়ে খেতে বসে পড়ি।
খাওয়া শেষে যখন হাত ধুচ্ছি তখন এলো মা।
এসে বলল,”দু-বাটি মাংসের একটাতো কবিরকে খাইয়েছো।আরেক বাটি ফ্রিজে রেখে দাও।রাতে গরম করে খাওয়া হবে।”

“ওটাতো আমরা খেয়ে নিয়েছি।প্রলয় খেতে বলেছিল।”

মা ভাবতে পারেননি আমি খেয়ে নেব।
বলল,”বাহ বউমা।শাশুড়িকে রেখে একা ভালো খাও?ননদের কথা নাহয় বাদই দিলাম।বয়স্ক শাশুড়ির কথাও ভাবলেনা?
আর খেলেই না কোন মুখে?আমার থেকে অনুমতি নিয়েছো?”

“যেই মুখ দিয়ে সবাই খায় ঐ মুখ দিয়েই খেয়েছি মা।খাবারে আবার অনুমতি নিতে হয় নাকি?
আর যদি বলেন ভালো খাওয়ার কথা,আপনারাও তো টেবিলে বসে নিজ নিজের মতো ভালো খেলেন।আমার কথা ভেবেছেন একবারো?”

মা এবার চুপ।কথা নেই।মুখ বাকিয়ে চলে গেলেন বিরবির করতে করতে।কখনো ভাবিনি এভাবে খাবারের বিষয়ে কথা বলবো।ওতো ছোট আমি নই।কিন্তু এ বাড়িতে বলতে হবে।অন্তত ন‍্যায় ফলানোর জন্য হলেও সব বিষয়ে আমার বলতে হবে।

সুমা আপুর শাশুড়ি,ননদ এলো।এসেই কবির ভাইকে ধরে সে কী কান্না!এতো বছর পর ছেলেকে দেখেছে।আবেগ সামলাতে পারেনি।

মা আমার পাশেই দাঁড়ানো ছিল।ধীর স্বরে বলল,”এই এলো আরেক ঢংগী।নেকামো সব।”

কথাটা শুনতে পেয়ে বললাম,”আপনার ছেলেতো কাছে থাকে এজন্য মর্ম বোঝেননা।দূরে থাকলে বুঝতেন।অবশ‍্য টাকা দিলে আপনারা নাও বুঝতে পারতেন।”

আমার শেষ কথাটি মা ঠিক বুঝতে পারেনি।তাকিয়ে রইলো ফ‍্যালফ‍্যাল করে।আমি সরে গেলাম সেখান থেকে।কবির ভাইয়ের সামনে ঝামেলা চাইনা।

কবির ভাইয়ের মা-বোনকে নাস্তা দিলাম।
সুমা আপু ঠিক মতো কথা অব্দি বললনা।মুখ ব‍্যাজার করে রেখেছে।ওরা আসায় সে খুশি নন।
আমিও সব করলাম।

এবার লাগেজ নিয়ে এলো কবির ভাই।মোট চারটে লাগেজ এনেছে।প্রথমটা খুলে সুমা আপুকে একসেট গহনা,দামি হেয়ার ওয়েল সব শ‍্যাম্পু,ক্রিম,বডিজেল সহ কতো কিছু দিল দেখলাম।বলতে গেলে তারই সব।সুমা আপু মহা খুশি।রিপাকেও দিল কিছু জিনিস।এবার আমায় দিতে নিল।আমি অবাক হয়েছি।
সুমা আপু বলল,”ওকে আবার আলাদা করে দেওয়ার কী আছে?আমার আর রিপার টাই ব‍্যবহার করতে পারতো।”

চরম আত্মসম্মানে লাগে আমার।আমি যেন ভিখারি।
বললাম,”এই ব্র‍্যান্ডের জিনিস আমি ব‍্যবহার করিনা আপু।সুতরাং আপনার স্বামী দিলেই যে আমি লুটে নেব এমনটা ভাববেন না।”

কবির ভাই বলল,”এমন ব‍্যবহার কেন করছো সুমা?
তোমায় দিচ্ছি,তোমার বোন আমার বোনকে দিচ্ছি।ও কেন বাদ যাবে?ও তো আমার বোনেরই মতন।এছাড়াও ওর স্বামীর টাকায় সবাই খাচ্ছো পড়ছো,ওর সঙ্গে এমন ব‍্যবহার করলে হবে?প্রলয়ের কানে কথাটা গেলে কী হবে জানো?
প্রলয় কিন্তু চাইলেই এসব জিনিসের পাহাড় দাঁড় করিয়ে দিতে পারে বউয়ের জন্য।”

সুমা আপু সামান্য হেসে বলল,”আরে মজা বোঝোনা তোমরা?
আমি প্রিয়তার সঙ্গে মজা করছি।আমার ভাইয়ের বউকে তুমি কিছু দেবে আর আমি নিষেধ করবো নাকি?বোকা নাকি আমি?
দিলেতো আমারই ভালো।ভাইয়ের কাছে নাম হবে।দাও যা দেবার প্রিয়তাকে দাও।”

কবির ভাই জোর করে আমার হাতে কিছু জিনিস দিল।
পরপর দুটো লাগেজ ভর্তি শুধু সুমা আপু আর তার ছেলের জিনিস।সুমা আপু খুশিতে পাগল হয়ে যাচ্ছে।
মাকেও দেখলাম কিসব মলম,হেয়ার ওয়েল দিচ্ছে।মা নিচ্ছে হাসছে আর বারবার বলছে এসবের কী দরকার ছিল বাবা।
ড্রামার অভাব নেই এ বাড়িতে।
কবির ভাই এবার তিন নম্বর লাগেজ খোলে।সেখান থেকে একটা স্বর্ণের আংটি বের করে আমায় দিয়ে বলল,”এটা তোমার জন্য বোন।”

আমি হাতে নেওয়ার আগেই দৌড়ে এসে ছোঁ মারলো সুমা আপু।বিষ্ময়ের স্বরে বলল,”সোনাআআআর আংটি!”

“হ‍্যা।প্রিয়তার সঙ্গে প্রথমবার দেখা আমার।নতুন বউয়ের মুখ দেখে কিছু দেবনা?”

“তাই বলে স্বর্ণ দেবে?জিনিসপত্র তো দিলেই।”

“তেল-শ‍‍্যাম্পু দিয়ে কেউ নতুন বউ দেখে?”

“পাঁচশত টাকা হাতে ধরিয়ে দিতে পারতে।”

আমি এবারে বললাম,”ভাই আপনি আমায় দিতে চেয়েছেন,বোন বলে ডেকেছেন এতেই আমি খুশি।আর কিছু চাইনা আমার।পাঁচশত টাকাটা বরং আপুকে দিয়ে দেবেন।
আপুর কাজে লাগবে।”

আপু সরু চোখে চেয়ে বলল,”তুমি কথায় কথায় রাগ করো প্রিয়তা।একটু মজাও করা যায়না তোমার সঙ্গে।”

উনি হাতের আংটিটা আমার হাতে একপ্রকার রাগ নিয়ে দিল।
আমি নিলাম না সেটি।ঘুরিয়ে দিলাম।আত্মসম্মান আগে আমার কাছে।

এ নিয়ে বেশ কথা চললো।
আমার জবাব একটাই,কারো জিনিস পড়ার শখ নেই আমার।
কবির ভাই মন খারাপ করেছেন।কিন্তু এতে কিছু করার নেই আমার।ওতো ভালো আর হতে পারছিনা।

কবির ভাই তার মাকে একটা ব‍্যাথার মলম দিল।সুমা আপু বলে ওটা তার মাকে দিতে।
আবার বোনকে একটা হেয়ারড্রায়ার দিয়েছে দেখে সুমা আপু বলে ওটা তাকে দিত।মেয়েটার মাথায় নাকি চুল নেই।বাতাসেই শুকে যায় ওটুকু চুল।হেয়ার ড্রায়ার কী হবে?
অথচ মেয়েটার চুলের খোপা দেখে মনে হচ্ছে বালিশ ছাড়া ঘুমোতে পারবে।এতো চুল!
কবির ভাই কিছু বললনা।
উনার মা-বোন অপমানিত বোধ করছে।মেয়েটার রীতিমতো কান্না করার জোগাড়।
এ কেমন ছেলে?ভাই?
উনি এবার উনার মাকে একটা ব‍্যাথার মলম দিলেন।মালিশ করলে ভালো উপকার পাওয়া যায়।
সুমা আপু ত‍ৎক্ষণাৎ বললেন,”আমার মায়েরও ব‍্যাথা।এটা আমার মাকে দাও।তোমার মাকে পরে কোনোবার দিও।”

বললাম,”আপু এগুলো দেশেও পাওয়া যায়।প্রলয়কে বলে আনিয়ে দেব আমি।ওটা বরং উনিই নিক না।ছেলে তার মায়ের জন্য এনেছে।”

“আমার মা কী ওর মা নয়?
এই তোমার মতো মেয়েদের জন্য আজকের সমাজে শাশুড়িরা জামাইয়ের কাছে অসম্মান হয়।”

আমি কিছু বলতে নিলে কবির ভাইয়ের মা থামিয়ে দেন আমায়।বললেন,”থাক মা।এসব কিছু আমার লাগবেনা।বেয়ান নিক সব।
আমি আমার ছেলেকে চোখের দেখা দেখতে পারছি এই অনেক।”

আমার চোখে পানি জমে।মানুষটা কতো অসহায়!
এসব আর ভালো লাগছেনা।ওপরে চলে গেলাম।প্রলয়কে কল দিয়ে বললাম,”এমন কেন কবির ভাই?এতো কিছু হচ্ছে,উনি কোনো প্রতিবাদ কেন করছেনা?
এ কেমন মানুষ?ভেবেছিলাম উনি হয়ত শক্ত হবে।”

প্রলয় বলল,”যা হচ্ছে চুপচাপ দেখে যান।আসল মজা শুরু হবে কাল।কবির ভাই যে কী জিনিস সেটা কাল সবাই বুঝবে।শুধু একটা কথা শুনে রাখুন,কাল থেকে ওদের পতন শুরু।
সেটাও শুরু হবে সুমাকে দিয়ে।”

“কীভাবে?কী হবে?”

“ওটা সিক্রেট।তবে যা হবে তা কখনো কল্পনা করেননি।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply