সুতোয়বাঁধাজীবন
পর্বঃ০৮
কলমেসোনালিকাআইজা
হিংসার আগুন বোধহয় কয়লার আগুনের চাইতে বেশি উত্তপ্ত হয়। বাহ্যিক আগুন তো পানি ঢেলে নেভানো যায়। কিন্তু ভেতরের আগুন? সেই আগুন নেভানোর কি কোনো উপায় আছে? এই যেমন, এই মুহুর্তে তাসরিফ হিংসার আগুনে জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাচ্ছে। থেকে থেকে চিরচির করে জ্বলে উঠছে হৃদপিণ্ড। নিজের বিয়ে করা বউয়ের পাশে অন্য কোনো পুরুষের ছায়াও সহ্য হচ্ছে না ছেলেটার।
আংটিবদলের কার্যক্রম ইতিমধ্যে সমাপ্ত। গেস্টরা সবাই বর্তমানে খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত। মেহমান আপ্যায়নে মাঝারি সাইজের গোল টেবিল এবং প্রতিটা টেবিলের চারদিকে চারটে করে চেয়ার সাজানো হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে থেকেই একটা টেবিলের পুরোটা দখল করে নিয়েছে তাসরিফ, মায়া, দিহান এবং রুমি। এর আগে সরাসরি তাসরিফকে না দেখলেও, মায়ার ফোনে বেশ কয়েকবার তাসরিফের ছবি দেখেছিল রুমি। সেই সুবাদেই এক দেখাতে চিনে ফেলেছে বান্ধবীর ছেড়ে আসা স্বামীকে। কিন্তু এই উৎসবমুখর জায়গায় আচমকা তাসরিফের দর্শন মোটেও আশা করেনি রুমি। ফলাফল স্বরুপ, বেচারি আহাম্মকের মতো তাকিয়ে আছে।
বিরক্তি মায়ার চেহারাতেও কম ফুটে ওঠেনি। সেই যে ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর থেকে দিহান কেমন আঠার মতো চিপকে আছে মায়ার সাথে। বারে বারে এটা সেটা এগিয়ে দিচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশিই কেয়ার দেখাচ্ছে। এই যেমন, এই মুহুর্তে দিহান নিজে না খেয়ে মায়ার পাতে দুটো রোস্ট তুলে দিলো। যেখানে ছোটোখাটো দেহের মায়ার জন্য গোটা একটা রোস্ট শেষ করাই যুদ্ধ সমান। সেখানে দু দুটো রোস্ট খাওয়া তো বিলাসিতা। দিহানের এহেন অতিভক্তি মার্কা আচরণে মায়া ইতস্তত হেঁসে বললো,
—“আমি দুটো রোস্ট খেতে পারবো না স্যার।”
—“কেনো?”
—“এতো খাবার খাই না তো। নষ্ট হবে এগুলো।”
মায়া নিজের কথা শেষ করেছে কি করেনি, মুহুর্তেই ছো মেরে একটা রোস্ট নিজের পাতে তুলে নিলো তাসরিফ। আচমকা তাসরিফের এহেন কান্ডে থতমত খেয়ে গেলো মায়া। ইতস্তত চোখে তাকাতেই চোখাচোখি হলো তাসরিফের সাথে। তাসরিফ কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব নিয়ে বলল,
—“খাবার নষ্ট করা শয়তানের কাজ। আমি আবার ভালো মানুষ। তাই শয়তানকে প্রশ্রয় দিতে পারলাম না।”
বলেই হাতের রোস্টে বেশ বড়সড় একটা কামড় বসালো। মায়ার অস্বস্তি বাড়লো বইই কমলো না। সবসময় নাকের ডগায় অহংকার নিয়ে চলা মেজরের এ কেমন হেয়ালি পনা আচরণ? সবটাই কি অনুশোচনার জন্য? নাকি এর পেছনেও আছে লোকটা গোপন কোনো স্বার্থ?
এদিকে তাসরিফের আচরণে দিহানও বেশ বিরক্ত। ছেলেটা মন প্রাণ লাগিয়ে চেষ্টা করছে মায়ার সাথে আরও একটু ঘনিষ্ট হওয়ার। অথচ ওর প্রতিটা কাজেই থেকে থেকে বাম হাত ঢুকিয়ে দিচ্ছে তাসরিফ। বহু কষ্টে মনের বিরক্তিকে ধামাচাপা দিলো দিহান। মেকি হেঁসে আবারও নিজের প্রচেষ্টায় লেগে পড়লো। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে টুকটাক কথা বার্তায় মহল একদম মাতিয়ে তুললো। দিহানের সাথে মায়াকেও বেশ সহজ দেখালো আজ। এই যেমন, এই মুহুর্তে মায়া খাচ্ছে কম, দিহানের সাথে গল্প করছে বেশি। গল্পগুলোও কোনো প্রয়োজনীয় টপিকের ওপর নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় হাবিজাবি কথা দিয়ে ভর্তি। থেকে থেকে আবার ঠোঁট ছড়িয়ে মুক্তঝরা হাসিও দিচ্ছে মায়া। তাসরিফ আঁড়চোখে মায়ার স্পর্ধা দেখে যাচ্ছে শুধু। নিজের স্বামীকে একপাশে অবহেলার বস্তুর মতো ফেলে রেখে পরপুরুষের সাথে হাসাহাসি করার অপরাধে মেয়েটাকে কঠিন শাস্তি দিতে মন চাইছে। শাস্তির বিষয়ে আগাম হুঁশিয়ারি দিতে মায়ার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালো তাসরিফ। তবে সেই হুঁশিয়ারি মিশ্রিত চাহনি তাকানোর সাথে সাথেই কেমন যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। নয়ন জোড়া আটকে গেলো মায়ার সেই মুক্তঝরা হাসিতে। আজ প্রথম তাসরিফ খেয়াল করলো মায়া হাসলে ওর দুই গালে অল্প স্বল্প গর্ত তৈরি হয়। সহজ ভাষায় যাকে বলে টোল পড়া। এই টোলটাই বোধহয় মেয়েটার হাসিকে আরও বেশি দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। তবে কি এজন্যই দিহান ওকে মায়াবিনী ডাকে? হিংসের পাশাপাশি বুকের বাম পাশে নরম একটা প্রেমময় অনুভুতিও অনুভব করলো তাসরিফ। তার বউটা ভিষণ সুন্দরী। একেবারে চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া মতো সুন্দরী। হার্টবিট থমকে দেওয়ার মতো রুপের বাহার। বিয়ের দিন রাগ, জেদ, অহংকার একপাশে রেখে একবার যদি তাসরিফ মায়ার দিকে তাকাতো, তাহলে নিশ্চিত ওর প্রেমের নদীতে ডুবে মরতো। এই যেমন আজ ডুবে মরছে। প্রেম নামক ভরা নদীর মাঝামাঝিতে হাবুডুবু খাচ্ছে ছেলেটা। অথচ এই নদীর মালকিন আজ বড্ড বেশি নিষ্ঠুর।
মনে মনে তাসরিফ যখন প্রেমময় অনুভুতির সন্ধানে ব্যাস্ত ঠিক সেই মুহুর্তে দিহান ঘটিয়ে ফেলল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। খোশগল্পের মাঝেই টেবিল থেকে একটা টিস্যু নিয়ে অকারণেই মায়ার ঠোঁটের কোণ মুছে দিলো দিহান। ভাবটা এমন, যেনো ঠোঁটের কোণে সত্যিই কিছু লেগে ছিলো। বিষয়টা মায়া ধরতে না পারলেও তাসরিফের চোখে ঠিকই ধরা পড়লো। দুঃসাহসিকতার সেই কাজটা করে দিহান হালকা হেঁসে বললো,
—“লিপস্টিক ছড়িয়ে গেছিলো তোমার। এই সুন্দর মুখে এলোমেলো সাজ ঠিক মানায় না।”
কবিদের মতো ভাব নিয়ে বলেই একগাল হাসলো দিহান। ঠিক সেই মুহুর্তে আচমকাই টেবিলে জোরেশোরে একটা থাবা মেরে উঠে দাঁড়ালো তাসরিফ। বুকের ভেতর জ্বলতে থাকা অগ্নিশিখা টগবগ করে ফুটছে। মায়া যে তাসরিফকে জ্বালাতে ইচ্ছে করেই দিহানের এইসব ছ্যাবলামি সহ্য করছে সেটা বুঝতে তাসরিফের বিন্দু মাত্র বেগ পেতে হলো না। রাগটা এবার কার উপর গিয়ে পড়লো সেটা ঠিক বুঝতে পারলো না তাসরিফ। শুধু এটুকু অনুভব করলো, ওর বুকের ভেতর জ্বলছে। হিংসার আগুন ছেলেটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দিচ্ছে। মনের ভেতর চেপে রাখা রাগটা আরও ভয়াবহ রুপ নেওয়ার আগেই সেখান থেকে হনহন করে বেরিয়ে গেলো তাসরিফ।
পরিচিত মুখটা পুরোপুরি দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ার পর মাথা ঝুঁকিয়ে ছোট্ট করে দম নিলো মায়া। তাসরিফকে জ্বালাতে এতোক্ষণ ধরে দিহানের সাথে নাটক করলেও এবার যেনো মায়ার মনে একটু অনুশোচনাই হচ্ছে। মায়া কি একটু বেশিই করে ফেললো? উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জ্বালানোর থাকলেও লোকটার খাওয়া বাদ রেখে মাঝপথে উঠে যাওয়া ঠিক হজম করতে পারলো না মায়া। ওর নিজেরও আর খাবারগুলো গলা দিয়ে নামতে চাইলো না। এক বুক অনুশোচনা নিয়ে খাওয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো মায়া। কাউকে কোনো প্রকার জবাব না দিয়ে মায়াও বেরিয়ে গেলো সেখান থেকে।
–
সেই ঘটনার পর গুনে গুনে কেটে গেছে দুটো দিন। এই দুই দিনে এক সেকেন্ডের জন্যও তাসরিফের দর্শন পায়নি মায়া। কোনো অজ্ঞাত কারণ বসত কেমন যেনো গায়েব হয়ে গেছে ছেলেটা। হয়তো সেদিনের রাগটা এখনও মনটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্যই হয়তো জেদ করে মায়ার থেকে দুরত্ব তৈরি করে নিয়েছে। এতে অবশ্য ভালোই হয়েছে। মায়া নিজেও তো চাইছিল তাসরিফ ওর জীবন থেকে দূরে সরে যাক। সেই চাওয়াটাই তো আজ পাওয়া হয়ে ধরা দিয়েছে।
ভাবতে ভাবতে লম্বা একটা শ্বাস টানলো মায়া। রাত তখন প্রায় দুটোর কাছাকাছি। আকাশে ভরা জোছনা। উত্তরের বড় জানালাটা হাট করে খোলা। সেই খোলা জানালার ফাঁক গলিয়ে জোছনার আলো হুড়মুড় করে ঢুকছে ঘরে। আজ আবহাওয়াও বেশ আরামদায়ক। না শীত আর না গরম। আরামে ঘুম দেওয়ার মতোই নরম নরম ওয়েদার। তবুও আজ কোনো কারণে ঘুম নেই মায়ার চোখে। অবশ্য গত দুই দিন থেকেই চোখের ঘুম উড়ে গেছে মায়ার। মনটা আজকাল বড্ড বেশি বেইমানি করছে। শত ধমকা ধমকিতেও শক্ত রাখতে পারছে না। মনের সাথে যুদ্ধে ব্যাস্ত মায়ার ধ্যান ভাঙলো ফোনের রিংটোনের শব্দে। হঠাৎ পরিচিত রিংটোন বেজে উঠতেই চমকে ফোনের দিকে চাইলো মায়া। একটা অপরিচিত নাম্বার স্ক্রিনের ওপর জ্বলজ্বল করে ভাসছে। এই মাঝরাতে হঠাৎ অচেনা নাম্বার থেকে কল আসা দেখে ভ্রুদ্বয় কুঁচকে গেলো মায়ার। ধীরে সুস্থে ফোনটা রিসিভ করে কানে চেপে ধরলো। কিন্তু অদ্ভুত! ওপাশ থেকে কোনো কথা নেই। মিনিটখানেক সময় ফোনটা কানে চেপে ধরেই চুপচাপ শুয়ে রইলো মায়া। কিন্তু নাহ্। এখনও অপর পাশটা নিরব। শেষে বিরক্ত হয়ে মায়াই প্রথম কথা বলল,
—“হ্যালো, কে?”
—“একবার জানালার সামনে আসবে প্লিজ? জাস্ট পাঁচ মিনিটের জন্য।”
পরিচিত কন্ঠস্বর কানে আসতেই লাফিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো মায়া। অবাকেরা অদৃশ্য চাদরের মতো মেয়েটাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরেছে। দুটো দিন পুরো গায়েব হয়ে থেকে আজ হঠাৎ কোথা থেকে উদয় হলো লোকটা? মায়ার ভাবনার মাঝেই ওপাশ থেকে আবারও আওয়াজ এলো,
—“মায়া প্লিজ। আমি ভিষণ ক্লান্ত। ঘড়ি ধরে ঠিক দশ মিনিট পর আমি ক্যান্টনমেন্টে ফিরবো।”
—“আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়?”
—“বলবো। আগে প্লিজ একবার জানালার সামনে এসো।”
তাসরিফের কন্ঠস্বর অত্যাধিক করুন শোনালো। কথাগুলোও কেমন যেনো টেনে টেনে বলছে। অনিচ্ছা থাকার স্বত্বেও তাসরিফের সেই করুন স্বরের ডাক উপেক্ষা করতে পারলো না মায়া। চুপচাপ উঠে গিয়ে জানালার সামনে দাঁড়ালো। বেশ খানিকটা দূরে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় দেখা গেলো তাসরিফকে। দুরত্বটা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্পষ্ট কোনোকিছুরই বোঝা যাচ্ছে না। মায়া খুব করে চেষ্টা করলো মানুষটার মুখটা অন্তত একবার দেখার। ঠিক সেই মুহুর্তে তাসরিফ মৃদু হেসে বলল,
—“এমন উঁকিঝুঁকি দিও না বোকা। এতদূর থেকে আমাকে দেখতে পাবে না।”
হঠাৎ জবাবে থতমত খেয়ে গেলো মায়া। ফোনটা কানের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
—“আপনি কিভাবে জানলেন আমি আপনাকে দেখছি? দুরত্ব তো দুজনের জন্যই সমান সমান।”
—“বাইনোকুলার আছে আমার কাছে।”
রাগে নাকের ডগা লাল হয়ে গেলো মায়ার। রাত বিরেতে মশকরা করতে এসেছে লোকটা? কন্ঠে খানিকটা ঝাঁঝ নিয়ে মায়া বলল,
—“মাঝরাতে এখানে কেনো আপনি? কি চাই আপনার?”
—“চাইলেই কি পাবো?”
—“না পাবেন না। হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পাওয়া যায় না।”
—“এতো কঠোর কেনো হচ্ছো আমার সাথে? দিহানের সাথে তো খুব নরম হয়ে কথা বলো।”
—“সেটা আমার ব্যাক্তিগত বিষয়। আমি কার সাথে কেমন বিহেব করবো সেটা একান্তই আমার নিজস্ব ইচ্ছা।”
—“পছন্দ হয়েছে নাকি দিহানকে?”
—“হলেও দোষের কিছু নয়। আপনি আমার অতীত। প্লিজ অতীত হয়েই থাকুন। বর্তমানে আসার চেষ্টা করবেন না।”
ঝাঝালো কন্ঠে কথাগুলো বলেই খট করে ফোনটা কেটে দিলো মায়া। দাঁতে দাঁত চেপে অপমানটা হজম করে নিলো তাসরিফ। এই মেয়েটার মন পাথরের চেয়েও দ্বিগুণ শক্ত। এতো কাকুতি মিনতি করার পরেও ওর মন গলছে না। ইচ্ছে তো করছে ধরে এনে দুই গালে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দিতে। শুধুমাত্র ভুল নিজের ছিলো বলে মায়ার এতো নখরা হজম করে নিচ্ছে তাসরিফ।
ভাবতে ভাবতে দিহানের নাম্বারে ডায়াল করে ফোনটা কানে চেপে ধরলো তাসরিফ। দিহান তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। প্রায় মিনিট খানেক সময় নিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো সে। ঘুমঘুম কন্ঠে হ্যালো বলতেই তাসরিফ কাঠকাঠ স্বরে বলে উঠলো,
—“সাহায্য চাই তোর একটা। করবি?”
মাঝরাতে বন্ধুর সিরিয়াস কন্ঠস্বর শুনে ঘুমটা হালকা হয়ে গেলো দিহানের। চোখ ডলে উঠে বসলো ছেলেটা। ঘুম জড়ানো কন্ঠে জবাব দিলো,
—“কি হেল্প লাগবে বল? সাধ্যের মধ্যে হলে অবশ্যই সাহায্য করবো।”
—“এজ এ প্রক্সি টিচার, তোর হয়ে কাল ইকোনমিক ক্লাসটা আমি নিতে চাই।”
এই মাঝরাতে তাসরিফের এহেন অন্যায় আবদার শুনে ভড়কে গেলো দিহান। কিছুটা চেচিয়ে উঠে বলল,
—“পাগল হয়ে গেছিস তুই? এ আবার কেমন আবদার?”
—“কেনো? বন্ধুর জন্য এটুকু স্যাক্রিফাইস করতে পারবি না?”
—“তোর জন্য এরচেয়ে বেশি স্যাক্রিফাইস করতেও রাজি আছি দোস্ত। কিন্তু হঠাৎ, এসবের কি প্রয়োজন?”
—“প্রয়োজন আছে।”
—“প্রয়োজনটা কি সেটাই তো জানতে চাইছি।”
তাসরিফ থামলো একটু। কয়েক সেকেন্ড বিরতি নিয়ে বলল,
—“তোর ক্লাসের একটা স্টুডেন্টকে পছন্দ হয়েছে আমার। ওর কাছাকাছি যাওয়া বিশেষ প্রয়োজন। একটু সুযোগ করে দে।”
—“কোনো মেয়ে পছন্দ হয়েছে তোর?”
দিহানের কন্ঠে বিস্ময়। তাসরিফ রাগে দাঁত কটমট করে বলল,
—“শা*লা গে মনে হয় আমাকে? পছন্দ যখন করেছি, নিশ্চয়ই কোনো মেয়েকেই করবো।”
—“কিন্তু তুই তো বিবাহিত দোস্ত।”
—“বউ আছে আমার ঘরে? বউ থাকলে কি আর রাতে কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমাতে হয়?”
তাসরিফের মাথা যে হাই লেভেলের গরম হয়ে আছে সেটা ওর কন্ঠেই স্পষ্ট। দিহান বার কয়েক শুকনো ঢোক গিলে বলল,
—“সবকিছু ছেড়ে আমার চাকরির পেছনে কেনো পড়লি? ওটা আমার কাজের জায়গা ভাই।”
—“তো আমি কখন বললাম ওটা তোর শ্বশুর বাড়ি?”
দিহান হতাশ হলো। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
—“আচ্ছা আমি কিছু একটা ব্যবস্থা করছি। তুই মেয়েটার নাম ঠিকানা পাঠিয়ে দে।”
চলবে?
( মেজর সাহেব পাগল হয়ে গেছে 🤭🤭)
Share On:
TAGS: সুতোয় বাঁধা জীবন, সোনালিকা আইজা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ১
-
সুতোয় বাঁধা জীবন গল্পের লিংক
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ৬
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৫
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৪
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ৩
-
এক টুকরো মেঘ গল্পের লিংক
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৩
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ৭
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ১