দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_১৭
★★★
রাত ১১ টা ছুঁইছুঁই। নিশান বিমানে বসে আছে ঘুমন্ত নোভার দিকে তাকিয়ে।মুখটা খুব শান্ত হয়ে আছে।নিশান হালকা হাসল।তার যে ঘুম আসছেনা। মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ তারপর নাহিয়ানকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে নেয় নিশান।
★★★
তুবা নিজের রুমে বসে আছে চোখমুখ খিঁচে তার আজকে হঠাৎ করে ভয় লাগছে।বাসায় নিহান আর সে ছাড়া কেউ নেই আতিয়া বেগম আজ চলে গিয়েছে।কাল সকালে আসবে।তুবা শুকনো ঢোক গিলে।পরমুহুর্তেই ভূতের ভয় লাগতে লাগল।তুবা বিড়বিড়িয়ে পড়ে,
—”ভুত আমার পুত!
পেত্নি আমার ঝি।
“ভুত আমার পুত!
পেত্নী আমার ঝি।
হঠাৎ কারেন্ট চলে যায়। কারণ বাইরে হালকা হালকা বৃষ্টির ফোটা পড়ছে।তুবা জোরে চিৎকার করে উঠে।
” আআআআআ আম্মুউউউ।”
কিছুক্ষণ পর নিহান আসে হাতে মোমবাতি।নিহান মোমবাতি মুখের সামনে ধরে আছে।যার কারণে মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মোমবাতির আলোয়।বিছানা থেকে একটু দুরে দাড়িয়ে আছে।নিহান শান্ত স্বরে বলে,
—”এই মেয়ে?কি সমস্যা?এরকম চিলাচ্ছো কেন?”
তুবা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,
—”মা..মানে আ..আম..আমার ভয় লা..লাগছিলো।”
নিহান হালকা ঝুঁকে এসে ফিসফিসিয়ে বলে,
—”এত ভয় পেলে দুনিয়াতে চলবে কীভাবে?”
তুবা হালকা কেঁপে উঠল।নিহানের চোখের দিকে তাকাল।
তুবা ভয়ে ভয়ে বলে,
—”বা..বা বাইরে বৃষ্ট..বৃষ্টি পড়ছে তা..তাই মমনেহয় কারেন্ট চলে গেছে।আম..আমার তাই ভয় লাগছে।শ..শুনেছিললাম এরকম বৃষ্টির রা..রাতেই ভ..ভুত আসে।”
“তোমার মাথায় কি ব্রেন আছে সত্যি?এরকম সিনেমার আলতু ফালতু কথাগুলো শুনে কি কি বলো?ব্রেইনলেস কোথাকার!”
তুবা ভয়ে হালকা হালকা চোখ বন্ধ করে রেখেছে।নিহান চলে যেতে নিলেই তুবা নিহানের শার্ট পেছন থেকে খামচে ধরে।
যেতে যেতেও নিহান থেমে যায়।নিহান পেছনে তাকায়। মেয়েটা এখনো চোখ মুখ খিঁচে আছে।এক হাত বিছানার চাদরে আরেক হাত নিহানের শার্টে।নিহান বাঁকা হাসল।
“ছাড়ো আমাকে রুমে যাবো।”
তুবা ধীরে বলল,
“প্লিজ না আমাকে ছেড়ে যাবেন না। আমার ভয় লাগছে পুরো বাসায় কেউ নেই তার উপর কারেন্ট ও নেই।”
নিহন তুবার দিকে ফিরল। এবারও হালকা ঝুঁকে বলল,
“কীসের ভয় হচ্ছে? ভুতের নাকি অন্যকিছুর?”
তুবা নিহানের শার্ট ছেড়ে চোখ খুলল।নিহান এখনও ঝুঁকে আছে তার দিকে।তুবা নিহানের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে বলে,
“ন..না।বাজে কথা বলবেন না একদম। “
নিহান মাথা তুলে হাটতে শুরু করবে তুবা চিল্লিয়ে কেঁদে বলল,
“আমাকে নিয়ে যাননা।আমার ভয় লাগছে।”
নিহান এবার আর কেনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না।গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“আমার সাথে আসো তাহলে।”
তুবা শুকনো ঢোক গিলে উঠে দাড়াল।নিহানের পিছু পিছু রুমে যেতে লাগল।বাইরে এবার তুমুল বর্ষণ শুরু হয়েছে।
তুবার যদিও বৃষ্টি পছন্দের কিন্তু এই মুহুর্তে বৃষ্টি তার বিরক্ত লাগছে।নিহান রুমের ভেতরে ঢুকল তুবাও তার পেছনে গেলো।নিহান দরজা লাগিয়ে দেয়।তুবা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল,
“কি হলো?দ..দরজা বন্ধ করলেন কেন?”
“আমার রুম আমার যা ইচ্ছে তাই করব তুমি কে হও বলার?
তুবা চুপ করে থাকল।আসলেই তো সে কে হই?সে কি নিহানের কেও যে তার কথা শুনবে?সেই বা নিহানকে এতো
কিছু বলে?তুবা চুপ করে বিছানায় বসল।বাইরের বৃষ্টি বেলকনি থেকে খুব ভালো দেখা যাবে তাই তুবা সিদ্ধান্ত বৃষ্টি দেখবে একটু ভিজলেও ভিজবে।এই বাজে লোকটার সামনে থাকার চেয়ে বৃষ্টিতে ভেজা ভালে আর কথা বলবে না সে নিহানের সাথে। মনে একরাশ অভিমান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলো তুবা।তুবা ধীর গতিতে বিছানা থেকে উঠে বেলকনিতে গেল।নিহানের নজর গেল সেদিকে।আজ আবার বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধাবে এই মেয়ে।তুবা বৃষ্টির পানিতে হাত ভিজিয়ে রেখেছে।বৃষ্টির পানির ফোঁটাগুলো তার মুক,গলা,ও শরীরে ছিটকে গিয়ে পড়ছে।তুবা ধীরে বলে,
—❝এই বৃষ্টি?শুনছো নাকি? আমার হয়ে একবার তাকে ছুঁয়ে দিও না। যাকে ছুঁয়ে দেখার অধিকারটা আমার নেই, তার গায়ে তোমার ফোঁটায় আমার না-পারা স্পর্শটা রেখে দিও।❞
তুবা কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকল।অনুভব করছে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা।অনেকদিন পরেই এই শহরে বৃষ্টির দেখা।
তুবা চোখ বন্ধ করেই বিড়বিড় করে বলে,
” এই শহরে বৃষ্টি নামলেই বা কি?মনের দুঃখগুলো তো আর যায় না।ইস্!যদি বৃষ্টির সাথে সাথে মনের দুঃখগুলো ও ভেসে যেতো পানির সাথে।”
পেছন থেকে কেও এসে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“বৃষ্টিতে ভিজছ কেন?”
তুবা কোনো উত্তর দেয় না।সে একিই ভাবে চোখ বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে।নিহান আবারও বলল,
—”কিছু জিজ্ঞেস করছি আমি?”
এবারেও চুপ।নিহান এবার পেছন থেকে তুবাকে জড়িয়ে ধরে হাত দুটোকে নিজের দুহাতের মাঝে আঁকড়ে ধরল।
তুবা এবার চোখ খুলে।ভেতর থেকে কথা বলার শক্তি বা সাহস কোনোটাই পাচ্ছেনা।শরীর দিয়ে যেনো গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে।একেতো বৃষ্টির পানিতে হাত দুটো ঠান্ডা হয়ে ছিল আর এখন নিহানের পুরুষালি হাতের মাঝে।অসস্তি,ভয়,লজ্জা,অভিমান,রাগ সব যেনো মিলিয়ে ফেলছে তুবা।ঘন ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ নিহানের হাতে পড়ছে।নিহান বাঁকা হাসল। তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
” এখন কীসের ভয় করছে বার্বিডল?”
তুবা কিছু বলতে যাবে তার আগেই কানের লতিতে ছোট্ট করে একটা চুমু খেল নিহান।তুবা কেঁপে উঠে। নিহান টের পেয়ে হাসল।নিহান আবারও ফিসফিস করে বলে,
—”আমাকে ইগনোর করার ফল হারে হারে টের পাবে তুমি।আমাকে যতটা সহজ মনে করো ততটা না আমি।পুরে দুনিয়ায় খোঁজ নিয়ে দেখো তারপর বুজতে পারবে নিহান এহসান কেমন।”
তুবা দুচোখ খিঁচে দাঁতে দাঁত চেপে আছে।মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছে আজ যেনো কিছু না হয়।এমনিতেই তার শরীর অবশ হয়ে আসছে।নিহানের ছোঁয়াতে যেনো সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠছে।নিহান এক হাত তুবার কোমড়ে রাখে।হালকা চাপ দিতে থাকে।তুবার কান্না আসছে।এ লোকটা তার সাথে এমন কেন করে?বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে পড়তে তুবার সাদা কামিজটা ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে।নিহান এখনো পুরোপুরি ভিজেনি।নিহান পেছন থেকে তুবার কোমড় সমান লম্বা চুল সরিয়ে দেয়।তুবার গলায় নাক ডুবিয়ে দেয়।তুবা বুঝতে পারে এ লোক ধরেছে মানে ছাড়ার নাম নিবে না।আর এখন সে কিছু করতেও পারবেনা।সে একা একটা মেয়ে, নিহান একটা ছেলে তার উপর ক্ষমতাবান।তুবা আগের কিছুদিনের কথা মনে করে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি পরে।কিছুক্ষণ পর ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। নিহান গলা থেকে মুখ উঠিয়ে প্রশ্ন করল,
—”কাঁদছো কেন?কিছুই তো করিনি।”
নিহানের বলার পরমুহুর্তেই তুবা নিহানের বুকে ঢলে পড়ে।
নিহান চোখ বন্ধ করে লম্বা একটা নিঃশ্বাস নেয়।তুবাকে পাঁজা কোলে তুলে রুমের দিকে যায়।তুবার চোখ দুটো বন্ধ হাত দুটোতে কোনো শক্তি নেই তাও নিহানের গলা জড়িয়ে আছে।নিহান সোফার কাছে এসে তুবাকে নামিয়ে দেয়।তুবার আবার ঢুলে পড়ে সোফায় বসে পড়ে।নিহান টাওয়াল নিয়ে এসে তুবার চুল মুছে দেয়।জামাকাপড়ের কথা ভাবল কিছুক্ষণ দাড়িয়ে। তারপর কাবার্ড থেকে নিজের একটা টি-শার্ট আর থ্রি কোয়াটার প্যান্ট বের করল।তুবা কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে নরম কন্ঠে বলল,
—”এগুলো পড়ে নাও।”
তুবা ধীরে বলল,
—”পারবো না আমি।”
—”কেনো?এরকম ভেজা কাপড় পড়ে থাকবে নাকি?”
—”হুম।সমস্যা নেই।”
—”একটা থাপ্পড় মারবো স্টুপিড!এরকম নেচে নেচে বৃষ্টিতে ভিজতে কেন গিয়েছিলে তাহলে?”
তুবা চুপ করে থাকে।অনেকক্ষণ বৃষ্টির মধ্যে থেকেছে তার উপরের নিহানের কিছুক্ষণ আগের কর্মকান্ড সব মিলওয়ে এই অবস্থা হয়েছে।তুবার যেনো মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না।নিহান আবারও বলল,
—”আবার জ্বর আসবে।পরে নাও এগুলা।”
তুবা চোক হালকা হালকা বন্ধ করে শুয়ে আছে। শরীরে শক্তি পাচ্ছে না মোটেও।নিহান তুবাকে চুপ থাকতে দেখে রেগে গেল।ফু দিয়ে মোমবাতি বন্ধ করে নিল।নিজের হাতের অনুমানে তুবার ওড়না টা একটানে ফেলে দিল বুকের উপর থেকে।তুবা চমকে উঠল। নিহানকে বাঁধা দিতে চেয়েও পারলোনা।নিহান কিছুক্ষণ পর কাপড় চেন্জ করে দেয় তুবার।নিহান শান্ত কন্ঠে বলল,
—”তোমাকে মানা করেছিলাম তুমি শুনোনি।এখন আমার জ্বর যদি আসে দেখিও কি অবস্থা করি।”
তুবা মনেমনে বিরক্ত হয় কিন্তু নিহানকে কিছু বলল না।নিহান তুবাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেয়।তুবা চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলো টের ই পেলো না।
(আসসালামু আলাইকুম।সবাই ইয়া বড় বড় কমেন্ট করবেন।
সবাি ১ কে করে দিবেন তাহলে কালকে দিয়ে দিবো পর্ব।)❤️🩹
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০