দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_১৩
নোভা চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস নেয়।নিশান তাকিয়ে আছে নোভার দিকে।একি জায়গায় দাড়িয়ে নোভা।কোনো নড়চড় নেই।নিশানের রাগ আরো বেড়ে গেল।একটু এগিয়ে নোভাকে কোলে তুকে নেয়।নোভা এমন ঘটনায় রেগে বলে,
—”ছাড়ুন।নাহলে নামালে অবস্থা খারাপ করে দিবো।”
নিশান চোয়াল শক্ত করে তাকাল নোভার দিকে।কন্ঠে রাগ।
নিশান নোভার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
—”আমি আরো অবস্থা খারাপ করে দিতে পারব।”
নোভা অবাক হলো কিছুটা।নিশান লিভিংরুমে এসে নামিয়ে দিলো নোভাকে।নোভা আশেপাশে তাকায়।সোফায় নাহিয়ান বসে আছে।এসব দেখে যেনো মাথায় আবারো বাজ পড়ল।
নাহিয়ান বসা থেকে উঠে বলে,
—”ভাই ও তো আমাদের অফিসে কাজ করে ওকে কোলে করে এখাবে কেনো এনেছো আর সবচেয়ে বড় কথা ও তো আমাদের….
নিশান চোখ রাঙিয়ে নাহিয়ানের দিকে তাকায়। নাহিয়াম চুপ করে যায়।নোভা নিশান কে বলে,
—”আপনার কি বিন্দু পরিমাণ লজ্জা নেই?লম্পট কোথাকার।”
নিশান ঠোঁট কামড়ে বলে,
—”আমার লজ্জাগুলো আপনাকে দিয়ে দিয়েছি তাই লজ্জা নেই।”
নোভার রাগ লাগল।নিজের নরম হাতগুলো দিয়ে নিশানের ডানগালে একটা থাপ্পড় মারল।নাহিয়ান যেনো কিছু বলার ভাষা নেই।তার বাঘের মতো ভাইকে মেরেছে এই মেয়ে।কত বড় সাহস।নিশান রেগে বলে,
—”এইযে এখন মা’রলে তার ফল রাতে পেয়ে যাবে।”
নাহিয়ান হালকা কেশে উঠে এসব শুনে।নিশান নাহিয়ানকে উদ্দেশ্য কের বলে,
—”তুই তোর রুমে যা।এখানে থাকা তোর জন্য ভালো হবে না।”
নাহিয়ান কিছুর আভাস টের পেয়েই হালকা কেশে সিড়ির দিকে এগোতে থাকে।নোভা অন্তত রেগে বলে,
—”আমি বাসায় যাবো।আমাকে আটকানোর চেষ্টা করবেন না একদম।”
নিশান জোরে হেসে উঠে।
—”এমন দুঃসাহস দেখানোর আগে আমাকে ভালো করে চিনে রেখো।”
—”শাট আপ মি.এহসান।আপনাকে চিনার মতো শখ আমার নেই।”
—”তো কাকে চেনার শখ আছে ওই বাস্টার্ড আহির কে??”
নোভা বিরক্ততে চোখ মুখ কুঁচকে বলে,
—”জানেন আপনাকে আমি খুব সম্মান করতাম কিন্তু আপনার এই এইসবের জন্য আপনার মুখে এখন থুথু দিতে ইচ্ছে করে আমার।আপনি আমার সাজানো গোছানো জীবনটাকে এভাবে ন’ষ্ট করে দিলেন কেনো?কি ক্ষতি করেছি আমি আপনার?”
—”আরেকটা কথা মুখ থেকে বের করবা এমন থাপ্পড় দিবো যে কান থেকে গ’লগল করে র’ক্ত পড়বে।”
—”আমি আপনাকে ভয় পায় না।”
—”পাবা সময়ের অপেক্ষা।”
—”আমি দরকার হলে ম*রে যাবো তাও আপনার সামনে মাথা নত করব না।ইট’স মাই চ্যালেন্জ।”
—”আমিও তোমাকে চ্যলােন্জ দিলাম।”
—”আমি বাসায় যায়।”
নিশান কঠোর ভাবে বলে,
—”আমি অনুমতি দিইনি।”
নোভা জেদি কন্ঠে বলে,
—”আপনার অনুমুতি লাগবেও না।”
নিশান শক্ত হাত দিয়ে নোভার হাত ধরে সিড়ি দিয়ে হাটতে লাগল।ননিশান এমনভাবে হাত ধরেছে যে নোভার লাগল তার হাত ছিঁড়ে যাবে।নিজের রুমে এসে নোভার হাত ছেড়ে দেয় নিশান।নোভা হাতে হালকা করে হাত বুলালো। হাতটা হালকা লাল হয়ে আছে।নিশান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—”শুয়ে পড়ো।”
—”কীহ?আমি বাসায় যাবো।”
নিশান হাত হাত দিয়ে নোভার গাল চেপে ধরে বলে,
—”বাসায় গিয়ে কোন ভাতারের কাছে যাবি?”
নোভা কিছু বলল না।এ লেকের সাথে কথা বলা মানেই সময় নষ্ট। কিছু একটা চিন্তাভাবনা করে মুচকি হেসে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।নিশান নোভাকে বিছানায় শুতে দেখে বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,
—”গেম স্টার্ট বেবস।”
★★★★
সকালের আলো ফুটটেই তুবা চোখ খুলে।পায়ে কিছু অনুভুত হতেই পায়ের কাছে তাকাল।দেখল নিহান শুয়ে আছে।তুবা তাড়াতাড়ি উঠে বসল।নিহানের হাত তুবার পায়ে।তুবা নিজের পা সড়িয়ে নেয়।কিছু কথা মনে আসতেই মুখ কুঁচকে উঠে।নিহানকে সেভাবে রেখেই নিজের রুমে যায়।কাবার্ড থেকে ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে লম্বা একটা শাওয়ার নেয়।ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আয়নার সামনে দাড়ায়।চুল মুছতে মুছতে গালের দা’গগুলো দেখে।এখনো হালকা লাল হয়ে আছে থাপ্পড়ের দা’গগুলা।চোখ বন্ধ করে জোরে নিঃশ্বাস নেয় তুবা।হঠাৎ দরজায় চোখ পড়তেই দেখে নিহান দাড়িয়ে আছে।মুখে সবসময়ের মতো গম্ভীর ভাব,চুলগুলো এলোমেলো,বুকে হাত গুজে দাড়িয়ে আছে।তুবা নিহানকে দেখে শান্ত কন্ঠে বলে,
—”কিছু লাগবে?”
—”গোসল কেনো করেছো?কাল রাতে তো কিছুই করিনি।”
তুবা অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,
—”জ্বর চলে গিয়েছে তাই গরম লাগছিল।”
—”ব্রেকফাস্ট করতে আসো।”
—”আমি পরে খাবো।”
—”চুপ করে খেতে এসো।আর একবার যাতে বলতে না হয়।”
এই বলেই নিহান চলে যায় লিভিংরুমে। তুবাও পিছু পিছু যায়।নিহান গিয়ে ডাইনিং এ বসে।তুবাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে শান্ত কন্ঠে বলে,
—”তোমাকে কি বসার জন্য আলাদা করে দাওয়াত দিতে হবে?”
তুবা তাড়াতাড়ি বসে পড়ে।ডাইনিং এ আর কেও নেই।তুবা আর নিহান ছাড়া।আতিয়া বেগম খাবার নিয়ে টেবিলে রাখে।তুবা খাবার দেখে চোখ ছোট ছোট করে বলে,
—”আমি এসব খাবোনা।এগুলা কেও সকালে খাই।”
নিহান ভ্রু কুঁচকে বলে,
—”প্রোটিন জাতীয় খাবার না খেয়ে ছাইপাশ খাওয়ার জন্য এতো পাগল হয়ে যাও কেনো?আচ্ছা কি খাবা?”
—”আমি পরোটা বানিয়ে আনি আমার জন্য। “
—”তুমি বসো। মিস আতিয়া আপনি ওর জন্য পরোটা বানিয়ে এনে দিন।”
তুবা বিস্মিত চোখে তাকাল নিহানের দিকে।তুবা নিজেই তো একটা কেয়াট্যাকার।আবার তার জন্য অন্য কেয়াট্যাকার খাবার বানাবে।এসব ভাবতে ভাবতেই সিঁড়ি দিয়ে কারো নামার শব্দ আসতেই নিহান আর তুবা তাকাল।নিহান সবে পানি মুখে নিয়েছিলো এটা দেখার সাথে সাথে মুখ থেকে পানি পরে যায়।তুবাও বিশ্বাস করতে পারছেনা এটা কি দেখছে সে।নিহানের কান্ড দেখে একদিকে হাসি পাচ্ছে আর অবাক ও হচ্ছে। সিঁড়ি নোভা নামছে তার পেছনে নিশান।নিহান অবশ্য নোভাকে আগে থেকেই চিনত।নোভার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা বিরক্ত সে।তুবা মেয়েটাকে দেখল শাড়িতে এত সুন্দর লাগছে বলার মতো না।নিশান এসে নিহানের পাশে বসল।নোভাও বসে পড়ল।নিহান ভ্রুটাকে হালকা কুঁচকে ফিসফিস করে বলে,
—”বিয়ে করে ফেলছো?”
—”করিনি তবে কেনো এনেছি তুই তো খুব ভালো কেরই জানস।”
—”বিয়ে করে ফেলতা।”
—”দেখা যাক।আমাদের উদ্দেশ্য যেটা সেটা করতে পারলেই হইছে আর আমি কি ওকে ভালোবাসি নাকি যে বিয়ে করব।”
—”হুম এটাও ঠিক বলেছো।”
তুবা নোভাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
—”আচ্ছা তোমার নাম কি?”
নোভা মেয়েটার দিকে তাকাল।পুরো ছোট্ট বাচ্চাদের মতো চেহরাটা।হালকা গুলুমুল।টানা টানা চোখ।ঠোঁটে হালকা হাসি।নোভা মুচকি হেসে বলে,
—”নোভা।তোমার নাম?”
—”তুবা।”
—”বাহ্ সুন্দর নাম তো।”
দুজনেই হালকা হাসি দিয়ে খাবার খেতে লাগল।নিশান ও নিহান একে অপরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চুপ করে খাবার খেতে লাগল।কিছুক্ষণ পর নাহিয়ান এসে দেখে হেঁসে উঠে।বড় ভাইয়ের কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে,
—”তোমরা দুজন তো পেয়ে গেলে আমার কি হবে?”
—”শালা ওদের কি বিয়ে করেছি নাকি তুই তো ভালো করেি জানস।”
—”হুহ বুঝি সব।”
নাহিয়ান তারপর একটু চিল্লিয়ে বলে,
—”আসসালামু আলাইকুম ভাবিরা।কেমন আছেন?”
নোভা এবং তুবা দুজনই হতভম্ব।নাহিয়ান ওদের ভাবি বলছে।নোভা তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
—”আপনার ভাবি হওয়ার বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছে আমার নেই।”
তুবাও নোভার সাথে তাল মিলিয়ে বলে,
—”আমারও।”
নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—”তো তুমি কি মনে করো তোমাকে আমি বউ বানাতে চাই?রিয়েলি?নিহান এহসান তোমাকে বউ বানাবে?তুমি এই বাড়ির কেয়াটেকার হয়ে মালিকের বউ হওয়ার সপ্ন দেখো?”
তুবা নিহানের দিকে তাকাল।খাবার ছেড়ে দৌড়ে সিড়ি দিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।তুবাকে উঠে যেতে দেখে নোভার খারাপ লাগল।তুবার পেছন পেছন গেল।নিশান জোরে হেসে উঠে। নিহান ও হেঁসে উঠে।নিহান হেঁসে বলে,
—”ভাই এরা কি পা’গল?আমার বউ হওয়ার সপ্ন দেখে?সিরিয়াসলি আমার?আমার মনে কোনো ফিলিংস ই নেই ওর প্রতি।”
—”আমারও। আমাকে যতবার জিজ্ঞেস করা হবে নারী কেমন?আমি ততবারিই বলব পৃথিবীর প্রত্যেক টা নারীই ছলনাময়ী।আমার মনে কোনোদিন কারো প্রতি বিশ্বাস জন্মায়নি।”
★★★
তুবা বিছানায় বসে আছে।তার পাশে নোভা।তুবার নিজেও বুঝতে পারছে না সে কাঁদছে কেন?নোভা ব’লে,
—”ভালোবাসো ওনাকে।”
তুবা উত্তর দেয় না।যেনো নোভা কোনো কঠিন প্রশ্ন করে ফেলেছে তাকে।তুবা ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। নোভা আবারো বলে,
—”বলো ভালেবাসো?”
তুবা চোখ মুছে বলে,
—”এটার উত্তর আমার কাছেও নেই।”
—”নেই কেনো?”
—”জানিনা।”
—”নিশ্চয় ভালোবাসো নাহলে তো কাঁদতে না।”
তুবা ধীরে বলে,
—”এটা আত্মসম্মানবোধের জন্য। জা’নেয়ারটাকে ভালোবাসার জন্য না।
—”সত্যিই কি তাই?”
—হুম।প্রেমে পড়া মানেই পাপ।এটি ধ্বংসের সর্বোচ্চ ধাপ বলে মনে করি আমি।আমি প্রেমে পড়লেও সঠিক মানুষের প্রেমে পড়ব,কোনো চরিত্রহীনের নয়।”
—”আজ এটা বলছো মানলাম প্রেমে পড়নি।কিছুদিন পড় যাতে কথা পাল্টে না যায় তুবা।”
চলবে???
(আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই?পর্বটা কেমন হয়েছে জানাবেন ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।ভালোবাসা রইল সবার জন্য।)❤️
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৫
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৯