Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ডেসটেনি

ডেসটেনি পর্ব ১৮


ডেসটেনি [ ১৮ ]

সুহাসিনি_মিমি

“মিস প্রিয়ন্তী! শেষমেশ কিনা আপনি আমার একুরিয়ামের মাছটাকেও ছাড়লেন না?আপনি পারলেন এটা করতে? শেষপর্যন্ত কিনা মাছ চুরির খাতায় নাম লিখালেন? শুধু শুধু কি সেদিন আপনাকে চোরের খেতাব দিয়েছিলাম?এভাবে যে অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাবে—আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না!”

“আমি, আমি চুরি করিনি। আমি চোর নই!”

তাজধীর এগিয়ে এলো আরেক কদম। তীক্ষ্ণ
চোখদুটোয় বিদ্ধ করার মতো দৃষ্টি নিঃক্ষেপ করে আওড়াল ফির,

“না? তাহলে কি মাছটা নিজে নিজেই হাঁটতে হাঁটতে আপনার রুমে গিয়ে উঠেছে?মিথ্যা বলার আগে অন্তত একটা যুক্তি সাজিয়ে নিতেন।”

“বিশ্বাস করুন, আমি..

“শশ্!একটা কথা জানেন, মিস প্রিয়ন্তী? আমি মিথ্যাবাদী মানুষ একদম সহ্য করতে পারি না। একেতো আমার বাড়ি থেকে আমারই একুরিয়ামের মাছ চুরি করে নিয়ে গেছেন। তার উপর আবার মুখের উপর দাঁড়িয়ে অস্বীকার করে যাচ্ছেন?ডাবল ক্রাইম।”

প্রিয়ন্তীর বুক ধড়ফড় করতে লাগল সমান তালে। কথারা তালগোল পাকিয়ে ফেলল। আমতা আমতা করে বলতে লাগল,

“আমি আমি চোর নই!”

“জানেন তো,একজন ডিফেন্স অফিসারের বাড়ি থেকে মাছ চুরি করার শাস্তি স্বরূপ আপনাকে আমি মামলায় জড়াবো! ডিফেন্সের লোকের বাসা থেকে কিছু চুরি করা—সেটা কিন্তু সাধারণ চুরি না।এটা সিকিউরিটি ব্রিচ।আর সিকিউরিটি ব্রিচের শাস্তি কী হতে পারে, আইডিয়া আছে?”

প্রিয়ন্তী মাথা নাড়ল ডানে বামে। মানে সে জানেনা।
তাজধীর এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল।বলল কাঠ কাঠ গলায়,

“মামলা। গ্রেফতার। জেল। আপনার বিরুদ্ধে আমি পার্সোনালি কেস ফাইল করব।এই শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে! নাহলে আমার মান-ইজ্জত কিছুই থাকবে না! লোকে বলবে নিজের বাড়ির মাছই যার নিরাপদ না, সে আবার দেশের নিরাপত্তা দিবে কীভাবে?আর আমার কাছে আমার ব্যক্তিত্ব আর আত্মমর্যাদার ঊর্ধ্বে কিছুই নেই।তাই একজন লেফটেন্যান্ট কমান্ডারের ঘরের মাছ চুরির দায়ে আপনাকে আমি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলাম।”

“না না প্লিজ। বিশ্বাস করুন আমি চোর নই। আমি চুরি করিনিতো!”

“বিশ্বাস? বিশ্বাস তো আপনি ভেঙেছেন, মিস প্রিয়ন্তী।
আমার ঘরের ভেতর ঢুকে আমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসে হাত দিয়েছেন আপনি। তাও আবার নিজের সঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছেন সেটাকে। আপনায় তো আমি জেলের ভাত খাওয়াইবো। তার আগে আমায় আমার মাছ ফিরিয়ে দিন। আসছি আমি এখুনি। “

“না না আমি আমি চোর নই। বিশ্বাস করুন। আমায় মাফ করে দিন। ভুল হয়ে গেছে আমার। শুনছেন এবারের মত প্লিজ ছেড়ে দিন। আর জীবনেও মাছ চুরি করবো না আমি!”

“তারমানে অন্যকিছু করবেন?আপনি তো ভারী সেয়ানা লোক। আপনার শাস্তি এবার কনফার্ম। আমি আসছি এখুনি। রেডি থাকেন জেলে যাওয়ার জন্য!”

“নাহহ!”

আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে পড়ল প্রিয়ন্তী। কপালে চটচটে ঘাম জড়ে জড়ে পড়ছে তখনো। নিঃশাসের তারতম্যয় বুক উঠানামা করছে অস্বাভাবিকভাবে।
অস্থির চোখে চারপাশে তাকাল একবার। সকালের আলোয় আলোকিত চিরপরিচিত কক্ষটা চোখে পরতেই দুম করে ছাড়ল স্বস্তির নিঃস্বাস।স্বপ্ন!স্বপ্ন ছিল এটা? কি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন ভাবা যায়!লোকটা ওকে স্বপ্নেও শান্তি দিচ্ছেনা দূ দণ্ড। ব্যাটা নিরামিষের বাচ্চা।

বিছানার পাশের টেবিল থেকে গ্লাস তুলে এক ঢোক পানি খেলো। অমনি চোখে পড়ল বেডসাইড টেবিলের উপর রাখা ছোট্ট গোল একুরিয়ামটায়। যার অল্প স্বল্প পানিতে সাঁতার কাটছে একটি নীলচে আভা ছড়ানো ব্লু হাফমুন বেটা ফিশ। নির্ভার ভঙ্গিতে লেজ নেড়ে নেড়ে দিব্যি আরামসে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছটা।

গতকাল রাতেই পাভেল পরিবারসহ নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন অফিসের কাজ থেকে দূরে থাকায় কাজের পেন্ডিং জমেছে অনেক। আসার পথে রাগের মাথায় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে, চিলেকোঠার ঘর থেকে খুঁজে খুঁজে প্রিয়ন্তী সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে মাছটা।এই ব্লু হাফমুন মাছটা তো লোকটার খুউব প্রিয়।কাউকে ছুঁতেও দেয় না, ধরতেও দেয় না।
আর তাইতো সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে, লুকিয়ে নিয়ে এসেছিলো সঙ্গে করে। ব্যাটা বুঝুক পছন্দের কারো অনুপুস্থিতে কিভাবে অন্তররা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়। আচ্ছা এভাবে আনাকে তো চুরিই বলা হয়। তাহলে কি ও সত্যিই চোর?

এহ। যদি সত্যিই ওই ব্যাটা মাছ চুরির দায়ে মামলা ঠুকে দেয়তো? তাহলে তো পুলিশ এসে ওকে ধরে নিয়ে যাবে। এরপর ওর ভাইকে উকিল হায়ার করতে হবে। লোকসম্মুখে করোনা ভাইরাসের মত ছড়াবে সেই নিউজ। ভাগ্যক্রমে ছাড়া পেয়ে গেলেও তো মানুষ দেখলে ওকে বলবে মাছ চোর।

নিজের মাথা নিজেই ঝাঁকিয়ে উঠল প্রিয়ন্তী। ধুর! লোকটা জানবেই বা কী করে? নিজেকেই যুক্তি দিয়ে বুঝাতে লাগল,উনি তো বাসায় ছিলেন না। কিছুই দেখেনি। আর অন্য কেউও তো দেখেনি।তাহলে এত ভয় কেন পাচ্ছিস তুই প্রিয়?জিজ্ঞেস করলে বলে দিবি —আমি নেইনি। জানিই না।

ঘাম ভেজা কপাল হাতের উল্টো পিঠে মুছে যেইনা স্বস্তির নিঃস্বাস ছাড়তে যাবে অমনি নিচ থেকে ভেসে এলো চিল্লাচিল্লির শব্দ।পাভেল চেচাচ্ছে কারো সঙ্গে। সকাল বেলা ভাইয়ের ফলার হাঁকডাক শুনে উঠে দাঁড়ালো প্রিয়ন্তী। এগোলো খোলা বারান্দার দিকে।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচে তাকাতেই দেখতে পেল—
পাভেল পুরো অফিস গেটআপে রেডি হয়ে দাঁড়িয়ে দারোওয়ান এর উদ্দেশ্য চেচাচ্ছে।ভাইয়ের সামনে দারোয়ান লোকটাও মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে। রাগে ফুঁসছে পাভেল।

“কি হচ্ছে এগুলো? দিনের বেলায় বাড়ির জিনিস চুরি হয়ে যায়, আর তুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখো?”

প্রিয়ন্তী ওপর থেকে ডাক দিল ভাইকে,

“কি হয়েছে ভাইয়া?”

পাভেল মুখ তুলে তাকাল ওপরে। বিরক্ত গলায় বলল,

“আর বলিস না! দুদিনের জন্য বাসায় ছিলাম না—আজ আসতে না আসতেই দেখি গেইটের সামনে রাখা ফুলের টবগুলো গায়েব! দিন-দুপুরে মানুষের বাড়ির জিনিস চুরি হয়ে যায়! এমন হলে এই দেশে মানুষ থাকবে কি করে?”

অমনি মেয়েটার মুখটা ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেল আরেকদফা। চুরি শব্দটা হুড়মুড় করে এসে কানে বিধলো ওর। অজান্তেই কয়েকবার ঢোক গিলল।
নিচে দাঁড়িয়ে পাভেল তখনও চেঁচিয়েই যাচ্ছে।ওর ভাই আজ আর থামবে না। ফুলগুলো মিতালীর ভীষণ পছন্দের নাকি। উপর থেকে প্রিয়ন্তী আপনাপানি বিড়বিড় করে বলল তখন,

“গন্ডগোল তো একটা আমিও করে ফেলেছি ভাইয়া।বউয়ের পছন্দের টপ চুরির দায়ে এভাবে বকছো, তাহলে ব্যাটা আমায় নিজের অতি পছন্দের মাছ চুরির দায়ে আবার সত্যিই সত্যিই শুলে না চড়িয়ে দেয়।এইজন্যই বলে ভাবিয়া করিয়ো কাজ। করিয়া খাইয়ো না বাঁশ!”
:
:
:
:
কোয়ার্টারের ভেতরটা তুলনামূলক বড্ড শান্ত আজ।
অর্ণব আর ফাহিম ইতিমধ্যেই সোফা দখল করে বসে পড়েছে। রুমটা অবশ্যই তাজধীরেরই। কেন জানিনা সবার রুম ছেড়েছুড়ে ওরা উনার রুমে এসেই আড্ডার আসর বসায়। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এখানেই ।পা তুলে hআরাম করে হেলান দিয়ে বসে আছে অর্ণব। দেখলে ভাববে এটা কোনো মিলিটারি কোয়ার্টার না, নিজেদের বাড়ির ড্রয়িংরুম বোধহয়।

“ভাই, একটা কথা বলি?”

“বল, আবার কী আইডিয়া মাথায় আসছে?”

অর্ণব গম্ভীর মুখ করে বলল,

“এই মিশন শেষ হইলে আমি বিয়ে করমু। ফাইনাল!”

“তুই আগে মিশন থেকে বেঁচে তো ফিরা আয়, তারপর বউয়ের কথা ভাবিস!”

অর্ণব গম্ভীর হয়ে বলল,

“না ভাই, লাইফের কোনো গ্যারান্টি নাই। তাই ভাবতেছি—আগে বউ, তারপর দেশ!”

“দেশের আগে বউ? সালা, তোরে কোর্ট মার্শাল করে দিবে শুনলে!”

“ বউও তো দেশেরই সম্পদ!”

মহান যুক্তি দার করাল অর্ণব তখন। বিছানার এক পাশে পা হেলিয়ে বসে আছে তাজধীর। কোলের উপর ল্যাপটপ, চোখ নিবদ্ধ স্ক্রিনে। অধীর মনোযোগ তার সেখানে। আঙুলগুলো কীবোর্ডে চালাচ্ছে অতি দ্রুত। মাঝে মাঝে ফাইল ওপেন করে নতুন , কিছু ইমেইল চেক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

উপস্থিত দুজনের এহেন অপ্রাসঙ্গিক কথায় উত্তর দেয়া তো দূর মাথা ঘামালো না পর্যন্ত। আর সেই মুখ্যম সুযোগটাই লুফে নেয় অর্ণব, ফাহিম। জানে তাজধীর নিজের কাজে ডুবে থাকলে সামনে যুদ্ধ লাগলেও “হু” বলবে না।

সামনে যে ওদের একটা মস্ত বড় মিশন এঁটেন্ড করতে হবে সেদিকেও বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপটুকুও নেই। এর অবশ্যই কারণ ও আছে। তাজধীর। যেখানে পুরো দায়িত্বটা তাজধীরের কাঁধে সেখানে ওরা একবুক স্বস্তি নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে নির্ধিদায়। জানে সে
সবকিছু সামলে নেবে। অর্ণব আবার শুরু করল,

“আমার এই এক জীবনে ‘ব’-এর খুব অভাব বোধ করছি বুঝেছিস?”

ফাহিম ভ্রু কুঁচকে বিচলিত হয়ে জানতে চাইলো,

“মানে?”

“এই যে বিয়ে, বউ, বাসর! এই ‘ব’গুলা লাইফে মিসিং হয়ে জীবনটা নিরামিষ, পানসেটে বানিয়ে দিয়েছে!”

“উহুম একটা মিস্টেইক করেছিস, মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি আরেকটা ‘ব্রেইন’ হবে। ওটা মিসিং তোর। মিশনের বৃফটা পড়েছিস?”

হাত দিয়েই ল্যাপটপেরে মাউস স্ক্রল করতে করতে ঠান্ডা গলায় বলল বলে উঠে তাজধীর। কিছুসময়ের জন্য ভড়কে গেল উপস্থিত বাকি দুজন। কি সুন্দর এক খান আলোচনা চলছিল আর এই ছেলেটা সবকিছুর ভিতরে পা হাত ঢুকিয়ে দিলো। এটা যদিও নতুন কিছু নয়। তখনি দরজাটা ঠাস করে খুলে ঢুকল শেহরোজ। ঢুকেই একবার ঘরের সবাইকে স্ক্যান করল। বলল বিরক্তিতে,

“খুব ফ্রি টাইম চলছে বুঝি?”

ফাহিম আস্তে করে পা নামিয়ে বসল। অর্ণব সোজা হয়ে বসল। সেহরোজ সরাসরি তাজধীরের দিকে তাকাল। প্রশ্ন ছুড়ল,

“ফাইলগুলো চেক করছিস?”

তাজধীর চোখ না তুলেই জবাব দিল,

“হ্যাঁ।”

“ধরতে পেরেছিস কিছু?”

“কিছু মুভমেন্ট আছে।বাট নোট কনফার্ম ইয়েট।”

“তোরা এভাবে হাসাহাসি করছিলি কেন? বাইরে থেকে তোদের হাসির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। স্যার শুনলে কি ভাববে?”

শেহরোজের ধমকে কাজ হলো বোধহয়। বাদ দিলো সেই টপিক। তবে একটু পরপরই অর্ণব বারবার মোবাইলটা হাতে নিচ্ছে। স্ক্রিন অন করছে। আবার অফ করছে। ফাহিম আড় চোখে তাকিয়ে বলল,

“কিরে? বোমা ডিফিউজ করার টাইম গুনছিস নাকি ? এতবার টাইম চেক করছিস কেন?”

“তার থেকেও ইম্পরট্যান্ট!”

ঠিক সাত টা বাজতেই মোবাইলটা তুলে সঙ্গে সঙ্গেই কল লাগালো কাউকে। পাশ থেকে ফাহিম কে ইশারায় বলল চুপ থাকতে। কলটা ডিরেক্ট ভিডিও করা হয়েছে। ওপাশে কিছুক্ষণ রিং হতে কল রিসিভ করা হলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি হেংলা পাতলা মেয়ের চেহারা। দেখতে অনেকটা অর্ণবের মতোই। ভেজা চুল মুছতে মুছতে এগোচ্ছে সামনে। দেখে মনে হচ্ছে সবে ফ্রেশ হয়ে এসেছে।অর্ণব প্রশ্ন ছুড়ল সোজাসাপ্টা,

“কিরে? কি করছিস?”

ফারহানা চোখ উল্টাল। বলল বিরক্তিতে,

“আমি কি করছি জিজ্ঞেস করার জন্য তো ফোন দিস নাই তুই। যেটার জন্য ফোন দিস সেটা বল।”

“এই, তোরে কতবার বলছি আমি তোর বড় ভাই। একটু রেসপেক্ট দিয়ে কথা বলবি। এই তুই-তোকারি বাদ দিবি।”

“পারবো না।অভ্যাস হয়ে গেছে।”

পাশে বসা ফাহিম মুখ চেপে হাসছে। অর্ণব চোখ রাঙাল বন্ধুকে। পরপর বলল আবার,

“ওইটা কই?”

ফারহানা বিরক্তিতে বলল,

“আপনার প্রাণপাখি সামনেই বসা।”

অর্ণব গম্ভীর হয়ে গেল তৎক্ষণাৎ। পাল্টালো মুখোভঙ্গি,

“ডাক। শুনতে পাচ্ছেনা?”

ফারহানা এবার ফোনটা ঘুরিয়ে দিল ব্যাক ক্যামেরায়।
স্ক্রিনে দেখা গেল—স্টাডি টেবিলে বইয়ের উপর মাথা হেলিয়ে দিব্যি আরামসে ঘুমাচ্ছে রুমু। অর্ণবের ফুপাতো বোন। এইবারের এস এস সী পরীক্ষার্থী।
অর্ণব চোখ স্থির করে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।
তারপর হঠাৎ বলে উঠল,

“এভাবে ঝিমুচ্ছে কেন?রাতে কি ঘুমায় নাই? পড়াশোনা করিস নাকি দুইজন বসে বসে ঝিমুস শুধু?”

ফারহানা তীক্ষ্ণ গলায় বলল,

“আজকে ম্যাডামের মন খারাপ। এসে শোনলাম ফুপু বকছিল নাকি। কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে এসে।”

অর্ণব ভ্রু কুঁচকাল,

“কেন?”

“রেজাল্ট নিয়ে টেনশন করছে ফুপু। পড়া নিয়ে বকাঝকা করেছে বোধহয়।”

অর্ণব দাঁত চেপে বলল,

“আমার বউটারে এখুনি এত অত্যাচার করোস? পরীক্ষার আগেই রেজাল্ট নিয়ে এত টেনশন, বিয়ের আগেই তো তাহলে বাচ্চার জন্য আমায় হাই টেনশন দেয়া শুরু করবে এই মহিলা!”

“তোরে ফুপু মেয়ে দেয় কিনা সেটা দেখ আগে!”

“কানের নিচে দুটো লাগাবো কষিয়ে। ভালো কথা মুখ দিয়ে বের হয়না? সবকিছু রেডি রাখ। এইবার পরীক্ষাটা শেষ হইলেই এসে নিয়ে আসবো সঙ্গে করে। বউ ছাড়া থাকা যাচ্ছে নারে। কষ্ট হয় খুব!”

“আচ্ছা এখন রাখি? পড়াতে বসবো।”

“হুম। খেয়াল রাখিস ওর।”

বলে লাইন কেটে দিলো অর্ণব। অমনি পাশে থাকা ফাহিম চেঁচিয়ে উঠল,

“ওরে শালা!তলে তলে এত কিছু! এই জন্যই তো বলি—ভাত খাইতে ভুলিস, কিন্তু প্রতিদিন এই টাইমে ফোন দিতে ভুলিস না কেন। আজকে একবারে হাতেনাতে ধরা!”

অর্ণব গা ছাড়া ভঙ্গিতে বলল,

“স্পেশাল কেইস, মামু। ওসব তোমরা বুঝবা না।”

“এইটা স্পেশাল না, ক্রিমিনাল কেইস! শেষমেষ কিনা পিচ্ছি কাজিনের উপর? তোর নামে তো বাল্যবিবাহের মামলা হবে সালা!”

“এই তোরা থামবি, বাল?”

শেহরোজের পরপর ধমকেও চুপ হলোনা অর্ণব। উল্টো গাঁ ছাড়া ভাব নিয়ে টেনে টেনে বলল,

“জ্বলে, জ্বলে, জ্বলে!”

“জ্বলবেই তো জীবনও আজ পর্যন্ত এরা দুজন কোনো রিলেশন তো দূর কোনো মেয়ে আগ বাড়িয়ে এদের সামনে আসছে কিনা আমার ডাউট। একটার তো মুখের নকশা দেখলেই মেয়েরা ভয়ে পালায়। আরেকটা ( তাজধীর কে ইশারা করে ) ঐটার সমস্যা তো আজও ধরতে পারলাম না। এক্সাক্সটলি মেইন প্রবলেম টা কই। চেহারা সুরুৎ দেখতে মাশাআল্লাহ। তারপরও মেয়ে দেখলে যেমন এলার্জির মত দূরদূর করে, আমার তো এখন এর আগাগোড়া নিয়ে টেনশন হচ্ছে।”

“দুইডাই সালা নিরামিষ। এইবার বাড়ি থেকে আসার পথে হারবাল নিয়ে আসবো। খেতে না চাইলেও জোড় করে খাওয়াবো। চাচা চুচা ডাক টাকও তো শুনতে হইবে এই জীবনে।”

“শাট আপ। ইডিয়েট!”

শেহরোজ পুনরায় গর্জে উঠলেও নিরুত্তর তাজধীর। বিশেষ কোনো হেলদুল লক্ষ্য করা গেলোনা ওদের কথার পরিপেক্ষিতে। আনমমা হয়ে বসে আছে। নিরামিষ কথাটা কানে যাওয়ার পর থেকেই এই আনমনা ভাব লক্ষ্য করছে সেহরোজ। নাহলে এতক্ষনে টার আগে সেই রাম ধমক দিয়ে উঠতো। ততক্ষনে কি মনে করে যেন তাজধীর পাশে থাকা ফোনটা হাতে তুলে নেয়। পরপর দুই সেকেন্ড নেড়েচেড়ে পুনরায় ফেলে রাখে বিছানায়।
:
:
:
আড্ডার আসরের ইতি ঘটিয়ে আপাতত গোল হয়ে বসেছে সবাই। তাজধীর আগের জায়গাতেই বসে। আদেশ দিলো সবাইকে,

“অপারেশন কোড“কালো জোয়ার। টার্গেট—কক্সবাজার উপকূলের বাইরে, ডিপ সি রুট।ইন্টেল বলছে—একটা আন্তর্জাতিক স্মাগলিং নেটওয়ার্ক এই রুট দিয়ে অস্ত্র চালান করছে। লোকাল সাপোর্টও আছে।”

ফাহিম ভ্রু কুঁচকাল,

“লোকাল মানে?”

“ভেতরের লোক।”

“এই অপারেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা—
টার্গেট ভিজিবল না।”

অর্ণব নিচু গলায় বলল,

“ঘাপটি মেরে আছে!”

“এক্সাক্টলি!”

তাজধীর মাথা নাড়ল। তারপর একে একে সবার দিকে তাকাল। বলল,

“অর্ণব।তোর কাজ—ডাটা ট্র্যাকিং। কমিউনিকেশন, সিগন্যাল, যেকোনো ডিজিটাল মুভমেন্ট—সব নজরে রাখবি। ওরা কোথা থেকে আসছে, কোথায় থামছে—আমি লাইভ আপডেট চাই সবকিছু। সবকিছু মিন্স এভরিথিং?”

অর্ণব মাথা ঝুঁকাল,

“ডান!”

“সেহরোজ তুই স্নাইপার কভার দিবি। দূর থেকে ক্লিন শট মারবি। কোনো মিস যেন না হয়। আর ফাহিম,তুই আন্ডারওয়াটার ইউনিটে থাকবি। যেখানে আমরা যেতে পারব না—সেখানে তুই যাবি।”

“বিষয়টা যতটা ইজিলি দেখাচ্ছিস ততটাও না কিন্ত। এটার সঙ্গে বড় কোনো চক্রের হাত রয়েছে। যার হাত সরাসরি আন্ডারওয়ার্ল্ড পর্যন্ত চলে!তাই কোনো ভুল চলবে না। গট দেট?”
:
:
:
:
ঢাকার অভিজাত বিজনেস জোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে নজরকারা কাঁচে মোড়া সুউচ্চ ভবন “এ আর জে কর্পোরেশন”দেশের অন্যতম বিলাসবহুল কর্পোরেট অফিস।

দশ তলা এই বিল্ডিংটির ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখ আটকায় এর মার্বেল ফ্লোর, ক্রিস্টাল লাইটিং,আর দেয়ালে মিনিমালিস্ট আর্টে। টপ ফ্লোরের গ্লাস-এনক্লোজড কনফারেন্স রুমটা আজকের মিটিংয়ের জন্য প্রস্তুত। দীর্ঘ ওভাল টেবিলের চারপাশে বসে আছে বাংলাদেশের নামকরা কর্পোরেট প্রতিনিধি, সাথে বিদেশি ক্লায়েন্টরাও।

সবাই মূলত অপেক্ষায়,একজনের জন্য।কোম্পানির
সিইও—জ্যানিফার রাজ। অবশেষে নির্দিষ্ট সময়েই তার পায়ের হাই হিলের শব্দ ভেসে এলো করিডোর জুড়ে।

অটোমেটিক সেলফ কন্ট্রোল কাঁচের দরজাটা খুলে গেল নিজে নিজেই। সাথে সাথে দৃষ্টিগোচর হলো কালো ফরমাল স্যুটে মোড়ানো এক নারী দেহে।
খোলা চুল গুলো মিডিয়াম সাইজের। ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করা পায়ের জুতোর কালারটাও। নিউড মেকাপের আস্তরণে থাকা নারীকে প্রথম দেখায় বুঝার সাধ্যি নেই তার জন্মস্থান বাংলাদেশ। হলিউড সিনেমায় দেখানো অত্যন্ত বিত্তশালী পরিবারের কোনো রাজনৈতিক ঘরের একরগা, রুষ্টভাষী, গুরুগম্ভীর পার্সোনালিটি সম্পূর্ণ মেয়েই মনে হবে হয়তো।

তাকে দেখতেই কক্ষে উপস্থিত বয়সে ছোট বড় সকলেই একযোগে দাঁড়িয়ে গেল।মেয়ে হলেও এর মধ্যে হাতে গুনা দু একটা মেয়েলি বৈশিষ্ট ছাড়া লক্ষ্য করা যায়না অন্যসব কিছুই। স্বভাব ছেলেদের থেকেও এগিয়ে। জ্যানিফার এগিয়ে গিয়ে বসে সিটে। বসতে বসতে আওড়ায় গম্ভীর গলায়,

“সিট্!”

বলা সবেই বসে পরে যে যার জায়গায়। পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পাশে ফাইল খুলে প্রস্তুত ততক্ষনে।
মিটিং শুরু হলো। প্রেজেন্টেশন চলছে, ডাটা শেয়ার হচ্ছে। কেউ অপ্রয়োজনীয় একটা শব্দও উচ্চারণ করলোনা। এর মাঝেই একজন বিদেশি ক্লায়েন্ট, সম্ভবত নতুন, ঠোঁট প্রসস্থ করে হেসে উঠে দাঁড়াল।

“নাইস টু ফাইনাললি মিট ইউ , মিস জ্যানিফের!”

বলে হাত বাড়িয়ে দিলো সম্মুখে হ্যান্ডশেকের উদ্দেশ্য।চারোপাশে উপস্তিত সকলের চোখ কপালে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিকতা কিছুটা আচ করতে পেরেই রীতিমতো থমকে গেছেন প্রত্যেকে। জ্যানিফার তাকালো নির্লিপ্ত।তবে বাড়ালো না হাত। লোকটা তখন হাত বাড়িয়েই রেখেছে ওর অভিমুখে। ওর পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, রণয়, সামান্য এগিয়ে এসে ভদ্র স্বরে জানাল তাকে,

“ম্যা’ম ডাজেন্ট ডু হ্যান্ডশেকস।”

লোকটি একটু ইতস্তত করে বসে পড়ল জায়গায়।
অপ্রস্তুত হাসি মেখে প্রত্তুত্তর করল,

“অহ আই সী!”

“শ্যাল উইই? “

জ্যানিফারের উক্ত বাণীতে থামিয়ে রাখা মিটিং শুরু হলো পুনরায়। সময় নিয়েই শেষ হলো কনফারেন্স। শেষ হতে না হতেই সবাই রুম ছাড়ল তাড়াহুড়ায়। কক্ষ থেকে বেরিয়ে হাফ ছাড়ল অনেকে।

জ্যানিফার উঠে দাঁড়িয়ে চলে গেল নিজের পার্সোনাল কেবিনে। স্বভাবতই এটা এই অফিসের অন্যান্য
অফিসের বাকি অংশের থেকেও বিস্তর আলাদা।
বড় গ্লাস ওয়াল, কালো-সোনালি টোনে সাজানো পুরো ইন্টেরিয়র। এক কোণে মিনিমাল ডেকোর, আর মাঝখানে বিশাল ডেস্ক। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে সেখানে বসে সে। রুমে আসতেই চোখে পরে দুজন গার্ডসের আওতাভুক্ত থাকা একজনেতে।লোকটার নাম মুজাম্মেল জাফর। একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী।কাজ করে যাচ্ছে বিগত নয় বছর যাবৎ। চেয়ারের এক কোণে গুটিয়ে বসে আছে লোকটা। মুখ দিয়ে ঘাম ঝরছে অনবরত। পকেট থেকে টিস্যু বের করে মুছে যাচ্ছে সেই অবিরাম ধরদর করে ধরা ঘামের রেশ। হাত কাঁপছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। বারবার নিজের আঙুল মুচড়ে যাচ্ছে অস্থিরতায়। কেন ডেকেছে এই আপদ তাকে?কিছু কি ভুল করেছে সে? মনে টু পড়ছেনা তেমন একটা। গত নয় বছর যাবত নিস্টার সাথেই পালন করে যাচ্ছে নিজের দায়িত্ব।

তার এই ভাবনা চিন্তার মাঝেই জ্যানিফার গিয়ে বসল তার নিজস্ব চেয়ারটায়। বসতে বসতে হাঁক ছাড়ল দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডসদের উদ্দেশ্যয়,

“মিঃ জাফর কে এখনো খাতির আপ্যায়ন শুরু করিসনি? এরজন্য ও কি তোদেরকে আলাদা করে ইনভাইটেশন পাঠাতে হবে?”

বলতে না বলতেই এতক্ষন যাবৎ প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে র্যাকা দুই গার্ড হঠাৎই ঝাঁপিয়ে পড়ল লোকটার ওপর।

“ম্যাডাম, ম্যাডাম…

বাকিটুকু বোলার আর ফুরসৎ পেলোনা লোকটা। তার আগেই বলিষ্ঠদেহি ওই দুইজন এলোপাথারি মেরেই যাচ্ছে লোকটাকে। লাথি ঘুষি কোনোটাই বাদ যায়নি।
নির্দয়ভাবে মা রতে শুরু করল তারা। লোকটার মুখ বিকৃত হয়ে গেল য ন্ত্রণায়।কাতরাচ্ছে, ছটফট করছে, চিৎকার করছে। নাক দিয়ে র ক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তবুও আকুতি জানিয়ে বললো অস্পষ্ট,

“ম্যাম! ম্যাম প্লিজ! আমি কি করেছি? আমার ভুলটা তো অন্তত বলুন!”

জ্যানিফার এতটা সময় ফাইল চেক দিয়ে যাচ্ছিলো। কিছু কিছু জায়গায় তার সাইন লাগায় সেখানে সিগনেচার দিয়ে থামে সে। এতক্ষণের জন্য একবারও তাকায়নি সেখানে চোখ তুলে। লোকটার আহাজারীতে একটা সময় বিরক্তিতে রণয় কে হাতে ইশারা করতেই লোকটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রণয়।

“ম্যাডামের অফিসে কাজ করিস, অথচ ম্যাডামের রুলস ভাঙার সাহস কোথা থেকে পেলি তুই?জানিস না ম্যাডাম এসব পছন্দ করেন না? “

“কি… কি করেছি আমি?”

অ্যাসিস্ট্যান্ট এবার আরও ঠান্ডা স্বরে বলল,

“গত কয়েকদিন ধরে যে অফিসে আসা নিউ এমপ্লয়ী কে উত্তক্ত করছিস, হ্যারাস করে যাচ্ছিস নিজের মেয়ের বয়সী মেয়েটাকে সেসব কি ম্যাডাম দেখবেনা ভেবেছিস?আর আজ তো তুই সব সীমানা অতিক্রম করেছিস। মেয়েটাকে বাজে ভাবে স্পর্শ করতে যাওয়ার ঘটনা জানতে পাড়ার পরও যে দিব্যি শ্বাস নিচ্ছিস তার শুকরিয়া কর অন্তত।”

জ্যানিফারের হাতে ধরা তখন একটা গোল স্পিনার। সেটা আঙুলের মাঝে রেখে ঘুরিয়েই যাচ্ছে সে। নির্লিপ্ত, শীতল দৃষ্টি তার স্থির সেদিকেই। লোকটার চিৎকার, কাকুতি কিছুই স্পর্শ করছে না তাকে।

“ম্যাম! প্লিজ আমি জানি না আমি..

পরপর আবারও গার্ডসের ঘুষিটে মাঝপথে থেমে লোকটা। নাক থেকে গড়গড় করে গড়িয়ে পড়ছে র ক্ত। মিশে যাচ্ছে তা মেঝেতে। অবশেষে প্রচন্ড বিরক্তিতে উঠে দাঁড়ালো জ্যানিফার। হাতের
ইশারা বুঝালো ওদের থামতে। থামল গার্ডরা।গার্ডদের থামতে লোকটা মনে কিছুটা বল পেলো। সেই জোরে জানালো আকুতিভরা অনুরোধ। হাত জোড় করে মিনতি করল,

“ভুল হয়ে গেছে ম্যাডাম। মাফ করে দিন শেষবারের মত। আর কখনো করবোনা এমনটা। এই শেষবারের মত ক্ষমা করে দিন আমায়। আমার ঘরে ছোট ছোট দুটো বাচ্চা আছে।”

জ্যানিফার এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো লোকটার সামনে।
কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আকস্মিক নিজের পায়ের উঁচু হিলটা তুলে সরাসরি লোকটার ডান হাতের উপর চেপে ধরল ও। সেই হাত—যে হাত দিয়ে সে স্পর্শ করতে চেয়েছিল একটি নিরীহ মেয়েরবয়সী নারীকে।

“আআআআআআআআ!!!”

ভয়ঙ্কর এক আর্তনাদ বেরিয়ে এলো লোকটার বুক ফুঁড়ে। থামল না তখনো জ্যানিফার। বরং আরও জোরে চাপ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো নিটল। শরীরেrর সমস্ত ভর ঢেলে দিলো ওই এক পায়েই। “Parda” ব্র্যান্ডের হিলের ধারালো প্রান্তটা মাংসের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে যেন। লোকটার ছটফটানি বাড়লো বহুগুনে।
কিন্তু গার্ডদের শক্ত হাত তাকে চেপে ধরে রেখেছে।নড়তে দিচ্ছেনা।,

“জ্যানিফার রাজের পার্সোনাল ডিকশনারিতে ক্ষমা বলে কোনো শব্দসংখ্যা নেই।”

হাতের তালুর উপর পা ডাবিয়ে রেখেই ইশারায় রণয় কে বলল কিছু একটা দিতে। রণয়ের জন্য ওই ইশারাটুকুই যথেষ্ট। তৎজলদি টেবিলে থাকা একটি বিশেষ পেন এনে তুলে দিলো তার বাড়ন্ত হাতটায়।সিলভার রঙের দাঁড়ালো সরু পেনটা আঙুলের ফাঁকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল একবার। এক ঝটকায় সামনে ঝুঁকে পড়ল এরপর। পেন্সিলটা সোজা করে লোকটার ডান চোখের কোণায় ঢুকাতেই যাবে, মাত্র ইঞ্চিপরিমান দূরত্ব কি অমনি রুমে প্রবেশ করে কেউ একজন। ডেকে উঠে পিছন থেকে অত্যন্ত উচ্ছ্বাসিত হয়ে,

“ম্যাম! একটা গুড নিউজ আছে আপনার জন্য। স্যার ব্যাক করেছে আগামীকাল। কোয়ার্টারেই আছেন আপাতত!”

বাড়ন্ত হাতটা থেমে গেল মাঝপথে। এতক্ষন যাবৎ থাকা গম্ভীর মুখটায় সঙ্গে সঙ্গেই দৃষ্টিগোচর হলো একটুকরো স্নিগ্ধ, প্রশান্তির স্পর্শ। নরম হয়ে এলো মুহূর্তেই ভিতরটা। পেন টা হাতে চেপে ধরেই একবার লোকটার দিকে অসহায় চোখে চেয়ে আওড়াল,

“তোর ভাগ্য ভালো। অনেকদিন পর মনটা আমার তৃপ্ত হয়েছে। বুঁকের ভিতরে থাকা অধম্ম যন্ত্রণার ছটফটানি কমেছে। ভালো লাগছে ভীষণ। মনটাও ভালো। আপাতত তোকে আর স্পর্শ করে হাতটা নোংরা করতে চাচ্ছি না। যা!”

বলেই গার্ডসের ইশারায় বলল রুম ক্লিন করতে। সেই সাথে পায়ের জুতোগুলো খুলে রাখলো একপাশে। রণয় কে বলল জুতোর ব্যবস্থা করতে। পাশ থেকে ইয়ারপড গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকা রণয় বিড়বিড় করে বলে উঠল,

“গতকালই কিনা আশি হাজার টাকার জুতো, শেষ! বড়লোকদের বড়লোক ব্যাপার সেপার। সমস্যা নাই
ড্রাই ক্লিন করে সেল দিলেও মোটা অংকের এমাউন্ট পাওয়া যাবে!”

চলবে….

যাদের শুধু নায়ক নায়িকার রোমান্টিক সিন্ ছাড়া ভালো লাগেনা তাঁরা আগামী আরও কয়েকটা পর্ব স্কিপ করবেন। কারণ গল্প আমার গতানুগতিক ধারা অনুযায়ী আগাতে হবে। হুট্ করেই তো আড় সব কিছু একত্রে করে দিতে পারিনা। এখানে যাদের ইন্ট্রোডিউস করানো হয়েছে তাঁরা সবাই আমার থিমের জন্য ইস্পেশাল। আমি চাইলেও তাদের বাদ দিতে পারবোনা।

(নিরামিষ পুরুষ কে নিয়ে অত্যন্ত আমিষ ধরণের ইবুক আছে কিন্ত আমার। আপনারা চাইলে বইটই এপস থেকে এসব সংগ্রহ করতে পারেন। )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply