চেকমেট_২ ||৯||
সারিকা_হোসাইন
দিনের ধবধবে আলোর পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ধীরে ধীরে বৈকাল হ্রদের কিনারায় আছড়ে পরলো টকটকে লাল গোধূলীর সূর্য।সূর্যের সেই কোমল কমলা রঙা আলো সাদা শক্ত বরফের বুকে প্রতিফলনের দৃশ্য অংকন করলো।অপার্থিব এক সৌন্দর্য ধরা দিলো সূর্য ডোবার আগে মুহূর্তে।ধীরে ধীরে সূর্য মিলিয়ে গেলো পাইন ফরেস্টের ওপাড়ে।
বাইরের তাঁবুর সামনে সঙ্গে করে আনা কাঠ খড়ি দিয়ে জ্বালানো হলো আগুন।সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসলো সবাই।শুধু গেলো না শাহরান।মানুষের এতো কোলাহল তার ভালো লাগছে না।সে তার গিটার টা নিয়ে চলে গেলো সকলের হাসি ঠাট্টা থেকে বহু দূরে।জায়গাটা শাহরানের অপরিচিত নয়।তার বাবার সাথে আরো বেশ কয়েকবার এখানে বেড়াতে এসেছে সে।এখানকার সব কিছু তার নখ দর্পণে।শাহরান কে নিনাদ পেছন থেকে ডাকলো
“অ্যা ই শাহ!প্লিজ আমাদের একটা গান শোনা।এখানে আয়।আরে আয়না বাবা!
শাহরান তাচ্ছিল্য হাসলো।গেলো না।কাঁধে গিটার ফেলে ট্রাউজার এর দু পকেটে হাত গুঁজে ঠোঁট গোল করে শিস বাজাতে বাজাতে পা ফেললো সামনে।এটা দেখে নিনাদ মাথা নিচু করে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো।ছেলেটা আজকাল বড্ড কঠিন আর অহংকারী হয়ে উঠেছে।দুদিন আগের হাস্যজল,কোমল মনের সুন্দর শাহরানের সাথে এই শাহরানের কোনো মিল নেই।এভাবে হুট করেই বুঝে কেউ নিজেকে বদলে ফেলে ?হয়তো বা।
আড্ডায় বসা একজন স্টুডেন্ট খেয়াল করলো শাহরানের বেয়াড়া চলন।কাউকেই পরোয়া না করে কিভাবে এগিয়ে গেলো সামনে।ছেলেটির জানতে ইচ্ছে হলো শাহরানের এই স্বাধীনতার কারন।তাই সে গাইডের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো
“ও নির্দ্বিধায় পাইন ফরেস্ট এর দিকে চলে যাচ্ছে এই ভয়ানক সন্ধ্যায়।ওর বেলায় কেউ কিছুই বলছে না।তবে আমাদের জন্য এতো রেস্ট্রিকশন কেন?
ছেলেটির প্রশ্নে গাইড হাসলো অতঃপর বললো
” সামান্যতম বিপদ ওকে ছোবার আগেই ওকে উদ্ধার করার জন্য পুরো রাশিয়া উন্মাদ হয়ে উঠবে।তোমার জন্য কতিপয় বন্ধু পরিজন আর শিক্ষক রা শুধু চিন্তা করবে ছেলেটা গেলো কোথায়?তফাৎ এটুকুই।
“রাশিয়া কেন উন্মাদ হবে ওর জন্য?
ছেলেটি শক্ত চোয়ালে গাইড কে শুধালো।এবার এগিয়ে এলো ট্যুর ম্যানেজার।এসে গম্ভীর গলায় জবাব দিলো
“পুরো রাশিয়া কেনার ক্ষমতা ওর বাপের আছে এজন্য।তোমার বাপের কি আছে শুনি?
ছেলেটি এবার চুপসে গেলো।শাহরানের চাল চলন আম স্টুডেন্ট দের মতো নয়।সব সময় সে সবার চাইতে আলাদা।নেহাত পয়সা ওয়ালা লোকের ছেলেই সকলে তাকে ভেবে এসেছে এতো দিন।কিন্তু তার বাবা এতোটা ক্ষমতাধর এটা কখনো কেউ ভাবে নি।পৃথিবীতে টাকার মূল্য সব কিছুর অধিক।টাকায় আকাশের চাঁদ মিলে।শাহরান তো শুধু অরণ্যে পা বাড়িয়েছে মাত্র।
সন্ধ্যার অন্ধকারে শাহরান মিলিয়ে যেতেই রোদ প্রিয়ন্তী কে ফিসফিস করে শুধালো
“ও কোথায় যাচ্ছে?শুনেছি পাইন ফরেস্টে অনেক ভয়ানক প্রাণী আছে।যদি কিছু হয়ে যায়?
আগুনে বারবিকিউ পোড়াতে পোড়াতে প্রিয়ন্তী বলে উঠলো
“ওকে হায়েনা এসে ছিড়ে খেলেও তোমার তাতে কি?তোমার তো বরং খুশি হবার কথা তাই না?পথের কাটা দূর হলো কি না!
প্রিয়ন্তীর খোঁচা দেওয়া কথায় তপ্ত শ্বাস ফেললো রোদ।নিজেকে গুছিয়ে বলে উঠলো
“সর্বোপরি আমরা মানুষ এবং একই প্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট।একসাথে এসেছি আনন্দ করতে।এখানে কারোর কিছু হলেই খারাপ লাগবে।শুধু শাহরান জন্য নয়।
প্রিয়ন্তী ভাবলেস বলে উঠলো
“অজগর এসে গিলে নিলেও ওর বাপ এসে অজগরের গলা টিপে ছেলেকে বার করে আনবে।তুমি নিজে ইনজয় করো।একে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।সে ছোট মানুষ নয়।তার ঘটে যথেষ্ট চিকন বুদ্ধি আছে।কোথায় পা ফেলা যাবে আর কোথায় ফেলা যাবে না তা সে বেশ জানে।তবে তোমার বেলায় সে একটু অবুঝের মতো আচরণ করেছে।এই আরকি।তাই তোমার মনে হচ্ছে ছেলেটা দুর্বল।
রোদ প্রিয়ন্তীর নির্বিকারে বলা কথা গুলো শুনে উঠে দাঁড়ালো।এই সন্ধ্যা আনন্দ হঠাতই তার কাছে বিরক্তি লাগছে।সকলের হাসি ঠাট্টা আনন্দ গায়ে ধারালো সূচ হয়ে বিধছে।রোদ বসলো না।উঠে দাঁড়ালো।এরপর পা চালালো নিজের তাঁবুতে ফেরার জন্য।প্রিয়ন্তী ডেকে শুধালো
“কোথায় যাচ্ছ?উঠলে যে?
“ভালো লাগছে না।একটু রেস্ট দরকার।ইউ গায়েজ ক্যারি অন।
কারো উত্তরের প্রত্যাশা না করে লম্বা পা ফেলে তাঁবুর ভেতর এসে নরম বিছানায় ধপ করে বসে গেলো রোদ।আচমকা মনটা কেমন খচখচ করলো।কোন টানে যেনো ভেতরটা মুষড়ে উঠলো।তাঁবুর ভেতর টিকতে পারলো না রোদ।সে বাইরে বেরিয়ে এলো পুনরায়।সকলেই যখন হাসি আনন্দের তুঙ্গে তখন সবার অলক্ষে শাহরান যে দিকে গিয়েছে সে দিকে পা চালালো।রোদ ধীরে ধীরে পাইন ফরেস্টের গহীনে প্রবেশ করলো।চলতে চলতে হঠাৎই অদ্ভুত এক বন্য পশুর ডাকে চমকে কেঁপে উঠলো সে।এবার যেনো সম্বিত ফিরলো।ভয়ে ভয়ে চারপাশে ভীত নজর বুলালো।চাঁদের আলো এখানে আর পথ দেখাচ্ছে না।চারপাশ মৃত্যু কূপের ন্যয় ভয়ানক অন্ধকার।হাতে থাকা মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে এদিক সেদিক দুরু দুরু বক্ষে পথের নিশানা খুজলো।কিন্তু আফসোস!এখানে কোনো পথিক হয়তো পা ই রাখেনি।
রোদ দ্বিগুণ ভয়ে শিউরে উঠলো।ফর্সা রক্তিম মুখ ফ্যাকাসে হলো।গোলাপি ঠোঁট জোড়া ক্রমাগত কাঁপতে লাগলো।এখানে শীতের মাত্রা বেশি।কুয়াশায় ভেজা মাটিতে এলোমেলো পা ফেলে এদিক সেদিক ছুটতে লাগলো রোদ।ভয়ে সারা শরীর যেনো জমে গিয়েছে।সে আর এগুতে পারছে না।মনে হচ্ছে কাঁদামাটির সাথে পা জোড়া দেবে রয়েছে।
রোদ গলা উঁচিয়ে সাহায্য প্রার্থনার জন্য চিৎকার করতে চাইল।কিন্তু পরক্ষনেই কেউ ফিসফিস করে কানে কানে বলে উঠলো
“খবরদার !চিৎকার করো না।মানুষ খেকো প্রাণী গুলো চিৎকার শুনে তোমায় ছিঁড়ে খাবে!
রোদ কেঁদে ফেললো এবার।অনবরত ঝড়া উষ্ণ চোখের জল দু হাতে মুছতে মুছতে দিক হীন হেটে চললো।সাহায্যের জন্য ফোনে কল করতে চাইলো প্রিয়ন্তী কে।কিন্তু কোনো সিগন্যাল নেই।চোখের সামনে নিশ্চিত মৃত্যু দেখতে পেলো রোদ।কিন্তু বেঁচে থাকার সংগ্রাম মনে সাহস যুগালো।সে উদ্যম নিয়ে হাটতে লাগলো।কতক্ষন এভাবে হাটলো সে জানে না।কিন্তু হঠাতই তার পায়ের গতি স্থির হলো।উত্তাল বুক ধুকপুক ধীরে ধীরে শীতল হলো।শুষ্ক গলা ভেজাতে ফাঁকা ঢোক গিললো সে।চোখ দুটো সামনে নিবদ্ধ হলো।যেনো কোনো আশার আলো খুঁজে পেলো তারা।রোদ ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো সামনের অর্ধ ভগ্ন আলো জ্বালানো কটেজ টার দিকে।গিটারের সুরের মূর্ছনায় ছেয়ে আছে পুরো জায়গা।সেই সঙ্গে জাদুকরী এক গলা
“হৃদয়ের লেনাদেনা
এ পাড়ে তে আর হবে না
দেখা হবে দেখা হবে ওই পাড়ে
তোমার আমার দেখা হবে ওই পাড়ে”
আকস্মিক শব্দে থেমে গেলো গান ,বন্ধ হলো গিটারের টুংটাং।শাহরান কোল থেকে গিটার নামিয়ে বড় একটা মোমবাতি নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো।দরজার কাছে আসতেই দমকা বাতাসে নিভে গেলো হলদেটে কোমল আলো।কিন্তু নিভে যাবার আগে নীল চোখ জোড়ার সঙ্গে কালো মনির দর্শন করাতে ভুলেনি সে।চোখের সামনে বিধস্ত রোদ কে দেখে শক্ত করে মোমবাতি চেপে ধরলো শাহরান।ভেতরে কেমন অসহনীয় তোলপাড়।মেয়েটা এখানে কি চায়?
শাহরান তপ্ত শ্বাস ফেলে শক্ত চোয়ালে বলে উঠলো
“কি চাই?
থতমত খেলো রোদ।উত্তর গুলো মাথায় নেই।সব কেমন ফাঁকা ফাঁকা।তবুও নিজেকে সামলে বলে উঠলো
“হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছি।আপনি এখানে আমি জানতাম না।দুঃখিত।
বলে আবারো দাঁড়িয়ে রইলো।শীতে শরীর জমে যাচ্ছে।ভেতরের ফায়ার প্লেস থেকে আগুণের তাপ গায়ে মাখতে পারলে মন্দ হতো না।কিন্তু সব চিন্তায় পানি ঢেলে শাহরান বলে উঠলো
“গেট আউট।
বলেই দরজা আটকে দিলো।মানুষটা যথেষ্ট নির্দয়।রোদের আগুন পোহানোর আশা ঝুরঝুর করে ঝরে পরলো।কিছুক্ষণ এভাবেই দাঁড়িয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে দরজায় পুনরায় করাঘাত করার জন্য হাত উচালো।সেই মুহূর্তে সাইবেরিয়ান নক আউট বাগ এসে কামড়ে দিলো রোদের ফর্সা হাতে।বিষাক্ত নীল ডোরা কাটা পোকার কামড়ে ব্যাথায় ককিয়ে উঠলো সে।দাঁত চেপে ব্যাথা সয়ে নিতে চেষ্টা করলো।কিন্তু ব্যাথার মাত্রা বাড়লো হাজার গুণ।অধিক ব্যাথায় কালো হয়ে উঠলো রোদের চোখ মুখ।কয়েক পল না যেতেই মাথা ঘুরতে আরম্ভ করলো।এদিকে রোদের চিৎকার শুনে পুনরায় বাইরে বেরিয়ে এলো শাহরান।এসে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই চৌকাঠে লুটিয়ে পরতে নিলো রোদ।কিন্তু ব্যস্ত হাতে তাকে আগলে নিলো শাহরান।জ্ঞান হীন রোদসী অরোরা চৌধুরী পরাজিত হয়ে শাহরানের প্রশস্ত বক্ষে লুটালো।তার সমস্ত অহংকার, দম্ভ ,জেদ খসে পড়লো শাহরান শাহজাইন এর গহীন হৃদয়ে।
নিভু নিভু চোখে রোদ শাহরান কে কিছু বলতে চাইলো।ব্যার্থ হলো।নীলাভ চোখ দুটো বন্ধ হলো।শাহরান নিজের দাম্ভিকতা ,গাম্ভীর্য কিচ্ছুটি ধরে রাখতে পারলো না।পূর্বের থেকে দ্বিগুন উন্মাদ হয়ে রোদের গালে চেপে ধরে ডেকে উঠলো
“রোদ!
সাড়া দিলো না রোদ।সাড়া দেবার অবস্থায় থাকলে এই অহংকার মানবী নিশ্চিত শাহরানের বুকে ধরাশায়ী হয়ে পরে থাকতো না।শাহরান অস্থির চিত্তে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিলো রোদ কে।এরপর ব্যস্ত পায়ে নিজের ঠিক করে রাখা কক্ষের নরম বিছানায় শুইয়ে দিলো।জমিয়ে রাখা কাঠের স্তুপ থেকে ফায়ার প্লেসে ছুড়ে দিলো কয়েকটা কাঠ।চেতে উঠলো লেলিহান শিখা।আরেকটু খানিক আলোকিত হলো কক্ষ।সেই আলোয় রোদের পেলব মুখশ্রী নজর কাড়লো বেশ করে।মাথার চুল দুই হাতে টেনে ধরলো শাহরান।মাথায় কিচ্ছুটি কাজ করছে না।হঠাৎ ঘটনা কি হলো সে বুঝে উঠতে পারছে না।ধীরে ধীরে ঘটনা বোঝার জন্য রোদসীর কাছে এসে দাড়ালো শাহরান।নজর বুলালো পুরো শরীরে।মুহূর্তেই ফর্সা হাতের টকটকে লালচে দাগে দৃষ্টি স্থির হলো।সাপ খোপে কামড়ালো কি না সেই ভয়ে শাহরানের ফর্সা মুখ সাদা হয়ে উঠলো।উপায়ন্তর না পেয়ে কল করলো রূপকথাকে।
সবেই ঘুম থেকে উঠেছে রূপকথা।আজ ছুটির দিন।সেরকম কোনো কাজ নেই আজ।সারফরাজ কে নিয়ে নেলির বাড়িতে যাবে আজ ।বহুদিন নেলিটার সঙ্গে দেখা হয় না।অভিরূপের পায়ে নাকি হঠাৎ ব্যাথা এসেছে।হাটতে পারছে না।তাই জরুরি তলব করেছে নেলি।
রূপকথা নাস্তা বানানোর জন্য কিচেনে যাবে সেই মুহূর্তে বেজে উঠলো ফোন।রূপকথা ব্যস্ত ভঙ্গিতে ফোনের কাছে যেতেই স্ক্রিনে শাহরানের চেহারা ভেসে উঠলো।ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটিয়ে ভিডিও কল রিসিভ করলো রূপকথা
“হ্যালো বাবা
“মা এটা কিসের কোমরের দাগ?
আকস্মিক এহেন প্রশ্নে ঘাবড়ে উঠলো রূপকথা।চোখ মুখে বিস্ময় আর ভয় ফুটিয়ে ফোনের স্ক্রিনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রূপকথা বলে উঠলো
“এটা কার হাত?
“রুদ্ররাজ চৌধুরীর মেয়ের!
“ও তোমার কাছে কি করছে?
“জানিনা মা।এসব প্রশ্নের সময় এখন নয়।আগে বলো এটা কি সাপের কামড়?
রূপকথা গভীর পরখ করলো হাত খানা।অতঃপর বললো
“না এটা কোনো বিষাক্ত পোকার কামড় মনে হচ্ছে ।
“ও কি এই কামড়ে মরে যাবে?
“সেটা বলতে পারছি না।হসপিটালে নিয়ে পরীক্ষা না করলে বোঝা যাবে না।
“ও জ্ঞান হারিয়েছে মা।
রূপকথা কিছু বলতে চাইলো।কিন্তু নেটওয়ার্ক পেলো না।সিগন্যাল কেটে গেলো।রূপকথার চিন্তিত মুখশ্রী স্থির হয়ে স্ক্রিনে আটকে রইলো।শাহরান হাঁপিয়ে উঠলো।ফোন ছুড়ে ফেলে রোদ কে জাগাতে চেষ্টা করলো।রোদ জাগলো না।অতঃপর রোদ কে কাঁধে তুলে ছুটলো তাঁবুর দিকে।ওখানে ডক্টর মার্টিন আছেন।উনি ঠিক একটা কিছু করে রোদ কে বাঁচিয়ে নিতে পারবেন।
সকালের নরম হলুদ রোদ ধীরে ধীরে বৈকাল হ্রদ কে জাগ্রত করলো।পাখির কিচিরমিচির শব্দে উদ্বেলিত হলো চারপাশ।সেই সাথে দূর থেকে ভেসে এলো হিংস্র পশুর গর্জন।সেই গর্জনে উড়ে গেলো পাইন ডালে বসে থাকা শত শত পাখির দল।
গত রাতে এক বিন্দু ঘুমায়নি শাহরান।মেয়েটার বর্তমান অবস্থা জানার জন্য মন ছটফট করে উঠলো।গায়ে একটা সাদা স্যান্ডু পরে বেরিয়ে এলো তাঁবুর বাইরে।ফিনফিনে বাতাস চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো শাহরান কে।কাঁপিয়ে তুললো লোম কূপ।কিন্তু মানুষটার চোখ মুখের অভিব্যক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারলো না।শাহরান নিজের কাঁপুনি রোধে একটা সিগারেট ধরালো।অতঃপর তা লালচে ঠোঁটে চেপে এক হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে আরেক হাতে সিগারেট এ লম্বা টান দিয়ে রোদের তাঁবুর দিকে তাকালো।চোখের দৃষ্টি কেমন ক্লান্ত আর আকাঙ্খায় ভরা।সেই আকাঙ্খা পরিপূর্ণ করতে ঢুলু ঢুলু শরীরে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলো রোদসী।তপ্ত রোদে দুই হাত মেলে হাই তুললো।ওপাশের পুরুষের বুকের আগুন বোধ করি মুহূর্তেই নিভলো।সিগারেট খানায় লম্বা টান দিয়ে ভোরের বাতাসে ধোয়া উড়িয়ে উল্টো দিকে হাঁটা ধরলো।অতঃপর বাঁকা হেসে বলে উঠলো
“ব্লু আইড অ্যান্জল!
(সবাইকে ঈদ মোবারক)
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ৪
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩১