Golpo romantic golpo চেকমেট সিজন ২

চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৩


চেকমেট_২ ||১৩||

সারিকা_হোসাইন


ধূসর রঙের দামি টাইলসে অচেতন হয়ে লুটিয়ে আছে রোদ।রুদ্র মেয়ের মাথা নিজের কোলে নিয়ে সমানে গাল চাপড়ে মেয়েকে উদ্বিগ্নের সহিত ডেকে চলেছে।কিন্তু বেচারি চোখ খুলে দুনিয়া দেখছে না।হয়তো তার ধ্যান জ্ঞান দুনিয়া থেকে সাময়িক সময়ের জন্য ছুটি নিয়েছে।চুপকথা নিজের কাজ ফেলে ডাইনিং রুমে এলো।এসেই মেয়েকে এমন পরে থাকতে দেখে ভীত চোখে সারফরাজ এর পানে তাকালো।মেয়ের ফর্সা গালে টকটকে লাল জখম আর ঠোঁটের কোণে রক্ত ধারা দেখেই চুপকথা কিছু আন্দাজ করলো।এরপর সারফরাজ এর পানে পুনরায় জিজ্ঞাসা নজরে তাকালো।চুপকথার চোখে দৃষ্টি পড়তেই সারফরাজ ভাবলেশহীন হাত ইশারা করলো

“তোমার মেয়ের জ্ঞান বুদ্ধির ভ্যাকসিন দিলাম।হুঁশে ফিরলেই দেখবে সব ঠিক হয়ে গেছে।ডোন্ট ওয়ারী।একেবারে জানে মেরে ফেলিনি।

চুপকথা নিঃশব্দে মাথা নামিয়ে রুদ্রের দিকে এগিয়ে হাত ইশারায় শুধালো

“কতবার মেয়ের লাগাম টানতে বলেছি?এবার খুশি হয়েছ?তোমাদের রক্ত শুধু দূরত্ব তৈরি করতেই জানে।আপোষ নয়।

চুপকথা অপরাধীর ন্যয় সারফরাজ এর পানে তাকিয়ে সরি বললো।এরপর বিমর্ষ মুখে দুতলায় চলে গেলো।এই সংসার এই জীবন আজ কাল ভালো লাগে না তার।হঠাৎ সবকিছু কেমন জানি এলোমেলো।মেয়েটা বাবার মতো জটিল মনের হলো সেই সাথে স্বভাব পেলো ত্যাড়া।শাহরানকে ব্যাক্তিগত পছন্দ চুপকথার।কিন্তু তাদের বাবা মেয়ের সামনে ওই নাম উচ্চারণ করাও যেনো আজন্মের পাপ।তাই চুপকথা দেখতে চায় কেমন রাজকুমার এর কাছে মেয়েকে সপে দেয় রুদ্ররাজ চৌধুরী।

চুপকথা চলে যেতই রুদ্র মেয়েকে ছেড়ে সারফরাজ এর সামনে এসে শুধালো

“ওর জ্ঞান ফিরছে না কেনো?কিভাবে মেরেছিস?

“ফিরবে আধ ঘন্টা পর।তুমি ব্রেকফাস্ট করো নিশ্চিন্তে।

দাঁত পিষে রুদ্র বলে উঠলো

“আমার মেয়ে এই ঠান্ডায় মেঝেতে পরে আছে আর আমি ব্রেকফাস্ট করবো?

“তোমার মেয়ের জন্যও আমার ছেলে ইরকুৎস্ক এর ঠান্ডায় জেলে পরে ছিলো।আমি তার জন্য কিছু বলেছি?

রুদ্র হাত মুঠিবদ্ধ করে ফেললো।সারফরাজ এর সাথে তার প্রথম সাক্ষাৎ এভাবে হবে এটা তার কল্পনাতীত।কোনো কিছুই যেন আজকাল মন মতো হয়না।সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়।

রুদ্র ফস করে শ্বাস ছেড়ে নিজের ফোন থেকে ডায়াল করলো কেভিনের নম্বর।

“তোমার ছেলেকে পাঠাও কুইক ।রোদ কে হসপিটালে নিতে হবে।

কেভিনকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে খট করে লাইন কেটে দিলো রুদ্র।মেয়ের মলিন মুখের পানে তাকিয়ে রুদ্র গড়গড় করে বলে উঠলো

“তোর ছেলেকে আমার মেয়ে পছন্দ করে না।এখানে আমার কি দোষ?

“তোমারই দোষ।নিজের কুৎসিত সত্তা এখনো মাটি চাপা দিতে পারো নি তুমি।মেয়ে সেই সত্তায় ভীত শঙ্কিত।টের পাও ?বয়স হয়েছে।দুদিন বাদে কবরে যাবে।নিজের বিশ্রী রূপটাকে এবার একটু সুশ্রী বানাও।

রুদ্র বিস্ময়ে তাকালো সারফরাজ এর পানে।সে অবিশ্বাস্য কাতর গলায় বলল

“তুই ভুল ভাবছিস।আমি কখনোই ওর সামনে আমার ওই ঘৃণিত রূপ বের করিনি।না মেয়ের সামনে না তার মায়ের সামনে!

সারফরাজ হাসলো।সে বলল

“তুমি মিথ্যে বলছো।তুমি কঠিন শাসনে তোমার স্ত্রী সন্তানকে বেঁধে রেখেছো।তাদের কোনো স্বাধীনতা নেই।তাদের কোনো ইচ্ছে নেই,স্বপ্ন নেই।সব কিছুতে তোমার দখলদারিত্ব ।এই বা কম কিসে?তোমার স্ত্রী সন্তান তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চিনে না।তোমার বাড়ির আঙিনা ছাড়া তারা পৃথিবীর আর কোনো আলো দেখে না।না তো মন খুলে কারো কাছে কোনো মনের ভাব প্রকাশ্ করতে পারে।তুমি তো সবাইকে মানসিক রোগী করে ছেড়ে দিয়েছো রুদ্র।তুমি বুকে সাহস নিয়ে তোমার প্রানপ্রিয় স্ত্রী কে জিজ্ঞেস করো তো,সে কেমন আছে সারা পৃথিবী ভুলে শুধু তোমাকে নিয়ে?সে কি আদৌ সুখী আছে?

রুদ্র যেনো ভেঙে গুঁড়িয়ে গেলো।সত্যি ই কখনোই চুপকথা কে জিজ্ঞেস করা হয়নি সে রুদ্রের সাথে হ্যাপি কি না।ভালোবেসে বিয়ে করে সমস্ত প্রাচুর্য রুদ্র তাকে দিয়েছে।চাইবার আগে হাজির করেছে সব কিছু।মেয়েটি কখনো কোনো অভিযোগ জানায়নি রুদ্রের প্রতি।এমনকি কখনো কোনো প্রতিবাদও করেনি রুদ্রের আচরণে।রুদ্র তো ধরেই নিয়েছিল তার স্ত্রী সন্তান তার সঙ্গে ভালো আছে খুশি আছে।তবে সারফরাজ এসব কি বলছে?

রুদ্র মেয়েকে ফেলে দৌড়ে দুতলায় উঠলো।সে চুপকথার কক্ষে গিয়ে শুধালো

“আমার সাথে তুমি সুখে নেই চুপকথা?

প্রথম বারের মত স্বামীর প্রতি অবজ্ঞা দৃষ্টি নিয়ে তাকালো চুপকথা।ছেড়ে দিলো চোখের জল।অভিযোগ জানিয়ে বললো

“আমরা ভালো নেই ডক্টর রুদ্ররাজ চৌধুরী।এভাবে কেউ ভালো থাকতে পারে না।আমি একটা পরিবার চেয়েছিলাম।সকলের সাথে মিলি মিশে থাকতে চেয়েছিলাম।আমি ক্যালিফোর্নিয়া তেই থাকতে চেয়েছিলাম।কিন্তু তুমি আমাকে কখনো বুঝতেই চেষ্টা করো নি।আমি যত সবার সঙ্গে মিশে হাসতে চেয়েছি তুমি তত কঠিন একাকী নিঃসঙ্গ জীবন দিয়েছো আমাদের।তুমি হসপিটালে চলে গেলে আমি একা ।আমি গুমরে মরেছি শত সহস্র বার।তুমি জানতে চাওনি চেষ্টাও করোনি।তোমাকে চিনতে আমার ভুল হয়েছিলো।তুমি সত্যিই হৃদয় হীন।

রুদ্র নিজের আটান্ন বছর বয়সে এমন নিষ্ঠুর অভিযোগ শুনেনি।সবকিছু কেমন ভয়ানক দুঃস্বপ্ন লাগছে।চুপকথার থেকে কয়েক কদম দূরে সরে দাঁড়ালো রুদ্র।তার পা দুটো ভেঙে আসছে।সে তার চোখ বিশ্বাস করতে পারছে না।চুপকথার চোখের জল আর হাতের ইশারা তার দৃষ্টি পটে বারবার ভেসে উঠছে।চুপকথার ভেতরে আত্মচিৎকার যেনো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সে।নিজেকে বড্ড পাপী মনে হচ্ছে।দুনিয়াই যার জন্য জাহান্নাম হয়ে যায় পরপারে তবে তার জন্য কত ভয়ানক শাস্তি অবশিষ্ট রেখেছে বিধাতা?


রোদের হসপিটালে যাবার খবর শুনে নিজের ছেলেকে নিয়ে ছুটে এলো কেভিন।ড্রয়িং রুমে বুক টান করে দাঁড়িয়ে আছে সারফরাজ।পেছন থেকে তাকে দেখেই চমকে উঠলো কেভিন।সে আর এগুলো না।কিন্তু দৌড়ে এলো উইলসন।এলোমেলো হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে রোদ।ঠোঁটের রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে।উইলসন দৌড়ে রোদ কে ধরতে চাইলো।তার আগেই ভেসে এলো হুংকার

“ডোন্ট টাচ হার,আদারওয়াইজ ইউ উইল সাফার অ্যা লট।

উইলসন তোয়াক্কা না করে ধরতে চাইলো রোদকে।এবার আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না কেভিন।অসুস্থ শরীর নিয়ে ছেলের সামনে তেড়ে বসালো এক ঘুষি।বুড়ো বাপের নরম ঘুষি শক্ত পোক্ত উইলসনের একটা লোম ও বাকাতে পারলো না।এদিকে কিছু না বোঝা উইলসন বোকার মতো বাবার পানে তাকিয়ে রইলো।কেভিন ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলে উঠলো

“ইফ ইউ ডোন্ট লিসেন টু হীম ইউ উইল ডাই ,ইউ স্টুপিড ফুল ইনস্যান ।

উইলসন ঘাড় ঘুরিয়ে সারফরাজ এর পানে তাকালো।ঠোঁটে ঠান্ডা অদ্ভুত হাসি মাঝবয়সী মানুষটার।চোখ মুখের অভিব্যক্তি কেমন গোলমেলে।সহজেই বোঝা যায়না মনে মনে কি চলছে।উইলসনের জানার বড্ড খায়েশ হলো মানুষটা কে?

তার আগেই সেন্টার টেবিল থেকে সিরামিকের ফুলদানি তুলে ছুড়ে মারলো সারফরাজ।ত্বরিত বা হাতে সেই ফুলদানি অভিনব কায়দায় ক্যচ করে উইলসন নিজ হাতের মুঠোয় নিয়ে শুধালো

“হুয়াট ডিড আই ডু রং মিস্টার?

সারফরাজ ঠোঁট উল্টে ভারী পদে কেভিনের দিকে এগুলো।এদিকে উইলসনের চিৎকার শুনে বাইরে বেরিয়ে এলো রুদ্র।সারফরাজ কেভিনের বা হাত স্লিং এ ঝোলানো দেখে শুধালো

“হাত কি হয়েছে কেভিন?

কেভিন মাথা নিচু রেখে নিম্ন গলায় বলল

“বুড়ো মানুষের রোগের শেষ আছে?সবাই কি আর আপনার মত শক্ত সামর্থ্য?

সারফরাজ প্রশস্ত হাসলো।এরপর দু কদম এগিয়ে উইলসনের সামনে দাঁড়িয়ে মুহূর্তেই চোখ মুখে ফুটিয়ে তুললো কাঠিন্য।হাসি খুশি মুখটা সহসাই কেমন ক্রুর ভয়ানক হয়ে উঠলো।কেভিন কিছু বুঝে উঠবার আগেই নিজের আইকনিক স্টাইলে ঘুষি লাথি দিয়ে উইলসন কে নিজের বাগে এনে উইলসনের বা হাত মুচড়ে গলা টিপে ধরলো সারফরাজ।এরপর বলে উঠলো

“আমার ছেলেকেই কেনো ফাঁসালে?হুয়াই?

সারফরাজ এর হাতে ধরাশায়ী উইলসন কে বাঁচাতে রুদ্র আর কেভিন দুজনেই দৌড়ে এলো।উইলসনের চোখ মুখ লাল হয়ে উঠলো।শ্বাস টা যায় যায় অবস্থা।সারফরাজ কে নিজের যম রূপে দেখলো উইলসন।তার সমস্ত শক্তি কৌশল কিচ্ছু যেনো কাজে খাটছে না এই হিংস্র লোকটার সামনে।ছেলের প্রতি আকস্মিক সারফরাজ এর হামলে পড়ার কারন পুরোটাই অনবগত কেভিনের।তবুও হাটু মুড়ে সারফরাজ এর সামনে বসে কেভিন বলে উঠলো

“সব শাস্তি আমাকে দিন।তবুও ওকে ছেড়ে দিন।

কেভিনের কথায় সারফরাজ উইলসনকে ছুড়ে মারলো দূরে।ছাড়া পেয়ে উইলসন মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়ে কাশতে লাগলো।প্রাণ দূর আকাশে গিয়ে আবার যেনো তার দেহে ফেরত আসলো।তড়পানো উইলসনকে একপলক দেখে হো হো করে হেসে উঠলো সারফরাজ এরপর রুদ্রের সামনে গিয়ে বলে উঠলো

“ট্যুরে গিয়ে যে ছেলেটা খু ন হয়েছে তাকে কে মেরেছে জানো?

রুদ্র বোকার ন্যায় মাথা নাড়ালো।সারফরাজ উইলসন কে আঙ্গুলি নির্দেশ করে বলে উঠলো

“ও।

বলেই নিজের হাতে থাকা ফোন থেকে জনের গলার বা পাশের ভেইন কাটার ছবিটা মেলে ধরলো রুদ্ররাজ এর সামনে।ছবিতে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো রুদ্র।পরিচিত জানা শোনা যে কেউ এই ছবি দেখলে বলবে কেভিন করেছে এই কাজ।একদম কেভিনের সিগনেচার কাট।কিন্তু কেভিন ডান হা’তি।ডান হাত দিয়ে বা পাশে এতো নিখুঁত কাটা কোনো ভাবেই সম্ভব না। এবার চোয়াল শক্ত হলো রুদ্রের ।সে তেড়ে যেতে চাইলো উইলসন কে ছবক শেখাতে।কিন্তু সারফরাজ পথ রুখে দাঁড়িয়ে বললো

“আগে পুরো ঘটনাটা তো শুনবে।

রুদ্র অনিমেষ তাকিয়ে রইলো সারফরাজ এর পানে।সারফরাজ ডাইনিং টেবিলে থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে হাটু গেড়ে উইলসনের সামনে বসে পানি এগিয়ে শুধালো

“কি হয়েছিলো সে রাতে?

সারফরাজ এর হাত থেকে পানি নিয়ে ঢকঢক করে খেয়ে উইলসন হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলো

“ম্যাডামের উপর ওই ছেলেটার বাজে নজর ছিলো।সব সময় ম্যাডাম কে কামুক চোখে গিলে খেত।বহু বার আমি তাকে শোধরানোর ধমকি দিয়েছি।সে মানতে নারাজ।আমি এই বিষয়ে রুদ্ররাজ স্যার কে বলতে চেয়েছিলাম।কিন্তু ম্যাডাম আমাকে নিষেধ করেছে।ম্যাডাম যেদিন ট্যুরে গেলেন আমি তাকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি।সেদিনও জনের নজর ছিলো নোংরা।সন্দেহ হওয়ায় পরের দিন ফ্লাইটে আমি বৈকাল হ্রদে যাই।আর সেদিন রাতেই জন ম্যাডামের তাঁবুতে ঢোকার প্রস্তুতি নেয়।শুধু তাই নয় ম্যাডামের ফ্রেন্ড প্রিয়ন্তী কে খুন করে ম্যাডাম কে রে*প করার মতো নোংরা ভাবনা সে ভেবেছিলো তার বন্ধুদের সাথে।কিন্তু বন্ধুরা সায় দেয়নি।এজন্য আমি তাকে খু ন করেছি।আমার খারাপ কোনো ইন্টেনশন ছিল না।আর নাতো আমি কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছি।আমি জনের বডি যেখানে ফেলেছিলাম সেখানে কোনো মানুষের অস্তিত্ব ছিল না।আর আমি জানতাম ও না শাহরান ওই ফরেস্টের বাংলো তে অবস্থান করছে।।।

সারফরাজ রুদ্রের সামনে উঠে এসে বললো

“মেয়েকে ক্যালিফোর্নিয়া পাঠিয়ে দাও।পুরুষ মানুষ তো দূর মেয়ে মানুষ পর্যন্ত তাকিয়ে দেখার সাহস পাবে না।

সারফরাজ আর দাঁড়াতে চাইলো না এখানে।সে পা ফেললো যাবার জন্য।রুদ্র শুধালো

“শাহরান কোথায়?
.
হাত দিয়ে বিমান উড়ার ভঙ্গি করে সারফরাজ বলে উঠলো

“ক্যালিফোর্নিয়া।রাশিয়ার নোংরা বাতাস আর তোমাদের ঘৃণিত দৃষ্টি থেকে আমি আমার ছেলেকে সরিয়ে নিয়েছি।এবার তুমি বসে বসে তোমার মেয়ের আলগা দম্ভ উপভোগ করো।গুড বাই ।


নিজের ভালোবাসার চূড়ান্ত দাফন করে বিধস্ত চেহারায় ক্যালিফোর্নিয়া নিজের বাড়িতে ফিরে এলো শাহরান।নিনাদ আর সুফিয়ান চৌধুরী লাগেজ নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো।শাহরান দাঁড়িয়ে রইলো ড্রয়িং রুমে।রূপকথা শক্ত চোখ মুখে দাঁড়িয়ে আছে শাহরানের সামনে।এতগুলো দিন বাদে ছেলেকে কাছে পেয়ে তার মধ্যে কোনো আনন্দ কাজ করলো না।শাহরান অপরাধীর ন্যয় মায়ের দিকে তাকিয়ে কম্পিত স্বরে ডাকলো

“মাম্মা!..

মুহূর্তেই সপাটে এক চড় পড়লো শাহরানের ফর্সা গালে।শাহরান স্তব্ধ হয়ে গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।রূপকথা চিৎকার করে বলে উঠলো

“পাপার মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে শান্তি পেয়েছো?আত্মা শীতল হয়েছে?নাকি আরো হ্যানস্থ করা বাকি রয়ে গেছে মানুষটাকে?

শাহরান জবাব দেবার মত দুঃসাহস পেলো না।শুধু নিচু গলায় বলল

“আমি বদলে গেছি মাম্মা।

“কথায় নয় কাজে দেখাও।নয়তো ভুলে যাবো তুমি আমার সন্তান।অনেক ছ্যাচড়ামো করেছো।এবার নিজেকে শুধরাও।নয়তো নিজের পিতৃ পরিচয় ভুলে যাও।

শাহরান মাথা তুলে কাতর চোখে তাকিয়ে রইলো মায়ের মুখের দিকে।রূপকথা তাকিয়েও দেখলো না।সারফরাজ এর মা দৌড়ে নাতিকে বুকে টেনে বিস্মিত গলায় বলল

“ওকে তুমি মারলে রূপকথা?

“আজ মেরেছি ভবিষ্যতে এমন কান্ড দুবার ঘটালে প্রাণে মে রে দেব মা ।কারন বেয়াড়া সন্তান কে ঠিক করতে না পারলে তাকে বাঁচিয়ে রেখেও লাভ নেই।

সুফিয়ান চৌধুরী মেয়ের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ধমকে দৌড়ে এলেন

“নানাভাইএর এত এত ধকলের মাঝে তোর হাত কি করে উঠলো রূপকথা?

“তোমার নাতিকে কম করে লাই দাও বাবা।ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সে।ধ্বংসযজ্ঞের শেষ প্রান্ত থেকে ওকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমার।তাই কেউ আমাদের মা ছেলের মাঝে কথা না বললেই খুশি হবো।আর যদি কেউ একান্তই কথা বলতে আসে তবে তার জিভ টেনে ছিঁ*ড়ে নেব আমি।হোক সে আমার বাবা নয়তো স্বয়ং সারফরাজ!

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply