চেকমেট_২ ||১২||
সারিকা_হোসাইন
ইরকুতস্ক এর একটি ম*র্গের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সারফরাজ।সঙ্গে লরেন্স সহ আরো বিশেষভাজন বিশেক লোক।সকলেই সারফরাজ এর পরিচিত বাম হাত।ক্ষণকাল গড়াতেই নিজের টাই ঠিক করতে করতে দৌড়ে এলো একজন কালো ফর্মাল সুটবুট পরা মাঝ বয়সী লোক।কোনো মতে নিজেকে থামিয়ে সারফরাজ এর সামনে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো সে।অধিক ভয় নাকি তীব্র ঠান্ডায় এই কাঁপুনির উৎপত্তি তা বোঝা গেলো না।কিন্তু কপালের ভাঁজে জমা দরদরে ঘাম জানান দিলো কাপুনিটা আসলে কিসের।আগত ভদ্রলোক নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতেই সারফরাজ একটা রুমাল এগিয়ে ঠান্ডা ভার গলায় বলে উঠলো
“কোর্টেও এভাবে কাঁপেন?
ভদ্রলোক নিজেকে ধাতস্থ করে মাথা নত করলো।অতঃপর নিজেকে গুছিয়ে একটা পেপার এগিয়ে বলে উঠলো
“ভেতরে চলুন।অনেক কষ্টে ফরেনসিক হোল্ড করে রেখেছি।মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেবে পুলিশ ডেড বডি দেখার জন্য।এমনিতেই বডির অবস্থা ভয়াবহ রকমের বাজে।
সারফরাজ সম্মুখ পানে তাকিয়ে রইলো।উকিলের কথা যেনো তার কর্ণকুহরে প্রবেশই করলো না।লরেন্স খেয়াল করলো সেই কঠিন অভিব্যক্তি।সে হাত ইশারা করে সারফরাজ কে বলল
“চলুন।
দাম্ভিক পদ চারণে এগুতো লাগলো সারফরাজ।পায়ের কদম যেনো তাল মিলিয়ে চলছে।এই ছাপ্পান্ন বছর বয়সেও মানুষটা কতোটা পরিপাটি ।যেনো নিজেই নিজের নিয়ম তৈরি করে রেখে দিয়েছে।সব কিছু যেনো তার মতোই চলছে।ধূসর টাইলসে ঠকঠক আওয়াজ চালিয়ে ফ্রিজারের সামনে দাঁড়ালো সারফরাজ।সারফরাজ এর পায়ের চলন মর্গের সমস্ত নীরবতা কে ছুটি দিয়ে পরিস্থিতি আরেকটু ভয়াবহ করে তুললো।
একজন ডক্টর দৌড়ে এসে সারফরাজ এর পাশে দাঁড়ালো।সারফরাজ প্যান্টের পকেটে দুই হাত গুঁজে বুক প্রশস্ত করে লম্বা শ্বাস নিলো।শ্বাসের গন্ধের সাথে ভুরভুর করে ঝাঁঝালো ফিনাইল ,জীবাণুনাশক ,পচন ধরা গন্ধ বুক পর্যন্ত ঢুকে গেলো।সারফরাজ এর সঙ্গে আসা সকলেই রুমালে নিজেদের নাক চেপে ধরলো মর্গের গন্ধে।কিন্তু সারফরাজ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো।এরপর একজন ডোম কে চোখের ইশারা দিয়ে শার্টের দুই হাত গুটিয়ে বডি রাখার একটা স্টিলের ট্রেতে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো।
ডোম বুঝলো সারফরাজ এর চাহনির মানে।ডোমের বুদ্ধিমত্তায় সারফরাজ বাঁকা হাসলো।ফ্রিজের ড্রয়ার খোলে ডোম বের করলো জনের দেহ।এরপর আরো দুজনের সহায়তায় বের করে ট্রেয়ের উপর মেলে ধরলো জনের দেহ।সারফরাজ টেবিলের উপর থাকা হ্যান্ড গ্লাভস দুই হাতে পরে প্লাস্টিক ব্যাগের চেইন খুললো এক টানে।জনের জমে যাওয়া ফ্যাকাসে দেহ একটু নড়ে উঠলো কেমন।সারফরাজ অভিজ্ঞ চোখে উল্টে পাল্টে দেখলো জনের শরীর।হাত পা দেখেই বোঝা যাচ্ছে জন্তু জানোয়ারের কাজ।কিন্তু একটা সুস্থ জলজ্যান্ত মানুষকে নিশ্চয় জন্তুরা তাঁবু থেকে বের করে জঙ্গলে নিয়ে যায় নি।সারফরাজ আরেকটু গভীর দৃষ্টি তাক করলো।জনের গলার বাম পাশের ভেইন কাটা।সারফরাজ কেমন অদ্ভুত হেসে উঠলো সেই কাটা দেখে।এরপর জনকে নিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়ে লরেন্স কে বলে উঠলো
“ডক্টরকে আজীবন বসে খাওয়ার ব্যাবস্থা করে দাও লরেন্স আর মস্কোতে একটা বিলাস বহুল বাংলো গিফট করে দাও ।বিনিময়ে রিপোর্টে লিখতে বলো হায়েনা এট্যাক করেছে।
লরেন্স মাথা ঝাঁকালো।সারফরাজ আর দাঁড়ালো না।সে তার ছেলের কাছে যাবার জন্য উদগ্রীব হলো।
।লরেন্স একটা ব্ল্যাঙ্ক চেক ফরেনসিক ডক্টরের সামনে মেলে বলে উঠলো
“রাইট হুয়াটেভার এমাউন্ট ইউ ওয়ান্ট অন দ্যা চেক।
ডক্টর ভীত মুখে চাপা গলায় বলল
“ইটস অ্যা ক্রাইম।
মুহূর্তেই থেমে গেলো সারফরাজ এর পা।চোয়াল আরো কঠিন হলো।চোখ মুখে নেমে এলো ক্রুরতা।নীল চোখ গুলো কেমন জ্বলে উঠলো।যেনো সর্বনাশী মাউন্ট ভেসুভিয়াস এর লাভা ।যখন তখন এই লাভা তার উত্তাপে খাক করে ফেলবে সব কিছু ।চোখে মুখে অঙ্গি স্ফুলিঙ্গ ফুটিয়ে সারফরাজ পুনরায় ধেয়ে এলো লরেন্স এর নিকট ।এরপর লরেন্স এর পকেট থেকে গান নিয়ে ডক্টরের কপালে তাক করে হুংকার ছাড়লো
“দ্যান ডাই।
ডক্টর কেঁপে উঠলো।তার প্রাণ বায়ু আকাশে উড়াল দিলো বোধ হয়।এই ক্রুর মানবের হাতে মরলে দ্বিতীয় বার আর পুনর্জন্ম হবে না সেই ভয় মনে বাজতে লাগলো।এক জনমেই নিজের জীবনের সমাপ্তি চায়না ডক্টর লিথিয়ান।তাই প্রানের মায়ায় সারফরাজ এর পা চেপে কেঁদে বলে উঠলো
“প্লিজ ডোন্ট কিল মি।আ উইল ডু হুয়াট এভার ইউ স্যা।
সারফরাজ ঠোঁট উলটে হাসলো।জয়টা বোধ করি তারই হলো।সালা পয়সা আর ক্ষমতা ছড়ালে এই দুনিয়ায় সব পাওয়া যায়।নির্বোধ ।মানুষ গুলো তা বুঝতেই চায়না।অহেতুক নীতিকথা আর সততার বুলি আউড়িয়ে মন মেজাজ বিগড়ে দেয়।
সেলে নিজের বরাদ্দ স্টিলের ছোট বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে আছে শাহরান।এখানে শীতের প্রকোপ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।গায়ের পাতলা টিশার্ট এ শীত মানছে না।দরজা জানালা হীন পাথুরে দেয়াল ভেদ করেও কিভাবে যেনো মৃতুতুল্য হিমবাহ এই সেলে ঢুকে যাচ্ছে।বিছানার পাশেই নীল রঙের একটা পাতলা কম্বল।দৃশ্যমান নোংরা সেটাতে।কেমন এক উটকো গন্ধ আসছে তা থেকে।কয়েদিদের জন্য এটাও এক ধরনের সাজা।শাহরান নিজের হাত পায়ের দিকে তাকালো।চামড়া গুলো সাদা ফ্যাকাসে হয়ে কুঁচকে যাচ্ছে।মসৃন ঠোঁট গুলো ফেটে রক্ত ঝরছে।গায়ে অদ্ভুত জ্বালা করছে।এই বুঝি চামড়া ফেটে যায়।শাহরানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো।সে চিৎকার করতে চাইলো।তার আগেই ভেসে এলো আবেগ ঘন কম্পিত স্বর
“পাপা কি খুব দেরি করে ফেলেছি?
অতি পরিচিত ভরসা ময় প্রাণাধিক প্রিয় বাবার গলা পেয়ে লাফিয়ে বিছানা থেকে নেমে সামনে এগুলো শাহরান।কতদিন বাদে নিজের পাপার দেখা পেলো সে।মনে হচ্ছে যুগ যুগ ধরে তাদের দেখা সাক্ষাৎ নেই।সারফরাজ শাহরান দুজনেই দুজনকে জড়িয়ে ধরতে চাইলো অধিক আবেগে।কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ালো নিষ্ঠুর লোহার শিক।সারফরাজ নিজের চোখের জল আড়াল করে মুখে হাসি ফুটিয়ে বললো
“আর ক্ষণকালের অপেক্ষা।
বলেই নিজের গায়ের ভারী ওভারকোট ছেলের গায়ে জড়িয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো
“পাপা কাউকে ছাড়বো না।একটা একটা করে জ্যান্ত গেড়ে তবেই ফিরবো এখান থেকে।
শাহরান ঠোঁট কামড়ে বলে উঠলো
“আমি খু*ন করিনি পাপা।
সারফরাজ মাথা ঝাকিয়ে দাঁত মুখ কামড়ে বলে উঠলো
“পাপা নোজ বেটার।আই ট্রাস্ট ইউ।ডোন্ট বি আপসেট।আমি সব ঠিক করে দেব ,সব।
শাহরান সারফরাজ এর হাত জড়িয়ে অসহায়ের ন্যয় বলে উঠলো
“শরীরে যে অনেক কালি লেগে গেলো পাপা।কোন সাবানে উঠবে এই কালি বলতে পারো?
ছেলের চোখ চোখ রাখতে ব্যর্থ হলো এবার সারফরাজ।ছেলেকে সব কিছু উজাড় করে ভালোবেসে এতবড় করেছে সে।একটা মন্দ বাতাস পর্যন্ত ছেলের গায়ে লাগতে দেয়নি সারফরাজ।আর আজ সেই ছেলে খুনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে জেলে বসে সময় গুনছে।এটাও কি দেখার বাকি ছিলো দ্যা গ্রেট মাফিয়া সারফরাজ শাহজাইনের জীবনে?
সারফরাজ আড়ালে চোখের জল মুছল।উকিল আর পুলিশ দৌড়ে এলো তাৎক্ষণিক।সেলের দরজা খোলে পুলিশ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।শাহরানকে বুকে টেনে শক্ত আলিঙ্গনে বেঁধে ফেললো সারফরাজ।পাপার বুকে হামলে পড়লো শাহরান।সারফরাজ এর বুক কেঁপে উঠলো।মনে হচ্ছে এ তার পুত্র নয়।এক খন্ড শক্ত হাজার বছরের জমে যাওয়া বরফ।শাহরান সারফরাজ কে শক্ত করে জড়িয়ে গুঙিয়ে উঠলো ছোট শিশুর ন্যয়
“বাড়ি যাবো পাপা।এখানে আর ভালো লাগছে না।এখানে শুধু কষ্ট আর কষ্ট।এখানকার মানুষ হৃদয় হীন।
ছেলের কপালে চুমু খেয়ে সারফরাজ বলে উঠলো
“একজনের সাথে বহু বছরের হিসেব নিকেস বাকি আছে।শেষ না করে কি করে যাই?
বলেই লরেন্স কে ইশারা করলো।লরেন্স ইশারা পেয়ে শাহরান কে টেনে নিজের কাছে নিয়ে বলে উঠলো
“মস্কো চলো।তোমার নানা অপেক্ষা করছে।
নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মেয়েকে ট্যুর থেকে বাড়িতে ফেরত আসতে দেখে বেশ অবাক হলো রুদ্র।সবেই হসপিটালে যেতে নিয়েছে সে।কিন্তু মেয়ের হঠাৎ একাকী আগমন তাকে রুখে দিলো।হাতের ব্যাগ সোফায় ছুড়ে সন্দিহান চোখ মুখে বলে উঠলো
“আজই ফিরলে যে?তোমার তো পরশু বিকেলে ফেরার কথা।
সত্য জানলে পাছে নিজের স্বাধীনতা খর্ব হয় ভেবেই রোদ নিজেকে ভেতরে ভেতরে তৈরি করলো।সাজালো মিথ্যের বুলি।
“অধিক ঠান্ডায় কয়েকজন স্টুডেন্ট অসুস্থ হয়ে পড়েছে।তাই ইমারজেন্সি চলে আসতে হয়েছে।
“একটা বার জানালে না কেনো?এয়ারপোর্ট আনতে যেতাম!
“বন্ধুদের সাথে মজা করতে করতে ভুলে গেছি।আসলে কি বলোতো এত সুন্দর একটা জায়গা!ওখানে গেলে পৃথিবীর আর কিছুই মনে থাকে না।
রুদ্র মেয়ের চোখ মুখের অভিব্যক্তি বোঝার চেষ্টা করলো।কেমন যেনো ভয়ানুভুতি চোখ জোড়ায়।রুদ্র বাঁকা চোখে ভ্রু সরু করে শুধালো
“তুমি কি আমাকে উল্টো পাল্টা বুঝ দেবার চেষ্টা করছো?
রোদের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে উঠলো।সে এদিক সেদিক তাকিয়ে ফট করে বলে উঠলো
“অনেক লম্বা জার্নি হয়েছে পাপা।পা দুটো সায় দিচ্ছে না।সন্ধ্যায় কথা বলবো তোমার সাথে।
রুদ্র মেয়ের যাবার পানে অনিমেষ তাকিয়ে রইলো।মেয়ের হাবভাব সব কেমন অদ্ভুত।
“কোথাও কিছু হলো না তো?কি হলো?
রুদ্র ফোন বের করলো।কেভিনের নম্বর ডায়াল করে বলে উঠলো
“হসপিটালে এসো!
চারপাশে আধার ঘনিয়ে রাতের আগমন সবে।ভারী কুয়াশা রাতের আধারকে আরেকটু অন্ধকার করলো।নিজের খরগোশ দুটোকে আজ কেমন অনীহা দেখালো রোদ।সেই সকালে এসে দরজা আটকেছিলো এখনো রুম থেকে বেরোই নি সে।রুদ্র সন্দেহ করবে ভেবে চুপকথা কে দিয়ে শীতের দোহাই দিয়ে রুমেই খাবার আনিয়েছে।কিন্তু গলা দিয়ে নামাতে পারেনি এক বিন্দু জল।জনের ভয়ানক দেহ,শাহরানকে টেনে হিঁচড়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা সব স্পষ্ট ভেসে ভেসে উঠছে বার বার।চুপিসারে সমস্ত খাবার বারান্দা দিয়ে বাড়ির পেছনের ঝোপে ফেলে দিয়েছে সে।চোখ শরীর দুটোই ক্লান্ত।কিন্তু শাহরানের হুমকিতে চোখে ঘুম পর্যন্ত ধরা দিচ্ছে না।কি এক নিদারুণ অনুভূতি।মনে হচ্ছে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই বুঝি উন্মাদিনী খেতাব গ্রহণ করাবে তাকে।
ধীরে ধীরে রাত বাড়লো।ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক সময় চোখ বুঝে ফেলল রোদ।তলিয়ে গেলো ঘুমে।কানের কাছে কেউ ফিসফিস করে বলে উঠলো
“আজীবন হৃদয়টা ছটফট করবে তোমাকে না পাওয়ার যন্ত্রণায়।কিভাবে কিভাবে যেনো আমায় প্রেম ভালোবাসা সব শেখালে তুমি।অথচ তুমি আমার হলেই না।নিয়তির খেলা বড় নিষ্ঠুর।তোমাকে পেয়ে পুরো পৃথিবী জয়ের আনন্দ উপভোগ করতে চেয়েছিলাম ।অথচ কি দুর্ভাগ্য আমার।আমি তোমাকেই জয় করতে পারলাম না।গুড বাই রোদসী অরোরা।গুড বাই।
খুব সকালে ঘুম ভাঙল রোদের।বাইরে আজ কুয়াশা নেই।খুব রোদ উঠবে মনে হচ্ছে।নিজেকে স্বাভাবিক উপস্থাপন করার জন্য পূর্বের ন্যয় রুদ্রের আগে বাইরে বেরিয়ে এলো রোদ।এরপর সোফায় বসে খরগোশ নিয়ে খেলতে লাগলো।কিন্তু কানে বেজে উঠলো ফিসফিস সেই স্বর।
সবটাই ভ্রম নাকি স্বপ্ন নাকি এ কদিনের ধকল বুঝে উঠতে পারলো না রোদ।
ধীরে ধীরে সময় গড়িয়ে রোদের ঝলকানি আছড়ে পড়লো জমাট বাঁধা বরফের স্তূপে।গলতে শুরু করলো সেগুলো।এমন সময় জগিং থেকে ফিরে এলো রুদ্র।মেয়েকে বিমর্ষ দেখে শুধালো
“কাল থেকে কি হয়েছে খুলে বল দেখি
রোদ চমকে উঠলো আকস্মিক গলায়।নিজেকে ধাতস্থ করে বলে উঠলো
“শরীরটা ঠিক লাগছে না ওখান থেকে ফিরে।
রুদ্র দ্রুত পায়ে এসে মেয়ের কপালে হাতের উল্টোপিঠ ছুইয়ে বলে উঠলো
“জ্বর ও তো নেই।এক কাজ করো। খেয়ে হসপিটালে চলো আমার সাথে।তোমার মান্থলি চেকআপ এর সময় হয়েছে।
রোদ কথা না বাড়িয়ে মাথা ঝাকিয়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে সন্ত্পর্নে বসলো।রুদ্র সবেই এক গ্লাস জল হাতে নিয়ে মুখে তুলতে যাবে।এমন সময় ভেসে এলো নাটকীয় গম্ভীর চিরচেনা স্বর
“গুড মর্নিং ডিয়ার রুদ্ররাজ।লং টাইম নো সী।
কর্ণকুহরে এই স্বর বাড়ি খেতেই চমকে উঠলো রুদ্র।হাত কেঁপে গ্লাস পরে যেতে নিলো।কিন্তু মুঠো পাকিয়ে শক্ত করে গ্লাস চেপে ধরলো রুদ্র।
সারফরাজ ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে একটা সিগারেট ফুকতে ফুকতে আভিজাত্য চলনে রুদ্রের সামনে এসে দাড়ালো।রুদ্রের ওপাশে রোদ ডাইনিং টেবিলে বসে ব্রেকফাস্ট এর প্রস্তুতি নিচ্ছে।সারফরাজ এর গলা পেয়ে সেও সামনে তাকালো।মাঝ বয়সী উঁচু লম্বা নীল চোখের লোককে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো তাৎক্ষণিক সে।মানুষটার চেহারার সাথে শাহরানের হুবুহু মিল।শুধু চোখ জোড়া বাদে।রুদ্রের কাঁধের ওপাশ দিয়ে রোদ কে এক পলক দেখলো সারফরাজ এরপর রুদ্রকে মাড়িয়ে রোদের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত পিষে কষিয়ে এক চড় বসালো মেয়েটির নরম সফেদ গালে।চড়ের মাত্রা সইতে পারলো না রোদ।মুহূর্তেই ঠোঁট কেটে রক্ত বেরুলো সেই সঙ্গে গালে বসে গেলো চার আঙুলের দাগ।লুটিয়ে মেঝেতে পড়ে গেলো সে।টিস্যু দিয়ে হাত মুছে নিজের বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে রইলো সারফরাজ।অতঃপর পুনরায় সিগারেট এর ধোয়া উড়ানোই ব্যস্ত হলো।রুদ্র দৌড়ে এসে বিস্মিত গলায় বলল
“তুই আমার মেয়েকে চড় মারলি?
“হ্যা মারলাম।
“কি করেছে আমার মেয়ে?এই অপরাধে তোকে পুলিশে দিতে পারি তুই জানিস?
“ডাকো পুলিশ।আমিও চাই পুলিশ আসুক।যাতে আমার ছেলের হৃদয় ভাঙার অভিযোগে তোমার মেয়েকে টেনে হিচড়ে ধরে নিয়ে জেলে বন্দি করে রাখে।
“ভালোবাসা জবরদস্তিতে হয় না।
“তুমি বলছো এই কথা?
রুদ্র লজ্জায় মাথা নুইয়ে মেয়ের কাছে গিয়ে মেয়েকে হুঁশে আনার চেষ্টা করলো।সারফরাজ শক্ত মুখে বলল
“মেয়েকে এমন মাথা মোটা বানিয়েছো কেন?না বুঝে বক বক করে।
“কি করেছে₹
“না জেনে না বুঝে শাহরান কে পুলিশে দেবার চেষ্টা করেছে।
“হুয়াট?কখন?কবে?
“ট্যুরে গিয়ে এক ছেলে খু ন হয়েছে।তোমার মেয়ে পুলিশ কে জবান বন্দি দিয়েছে।খু ন নাকি আমার ছেলে করেছে।
রুদ্র যেনো আকাশ থেকে পড়লো।মেয়ের হাবভাব আগেই সন্দেহ ঠেকছিলো তার কাছে।তাই বলে এতবড় ঘটনা গোপন?কিন্তু রুদ্র ভাব প্রকাশ করল না।সে কঠিন মুখে বললো
“তাই বলে আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলবি তুই?
“ইচ্ছে তো করছে তোমার মেয়েকে কুচি কুচি করে এঞ্জেলো কে দিয়ে বারবিকিউ করে খাওয়াতে।কিন্তু এতই মোমের শরীর।এক চড়েই বেহুশ।
রুদ্র এবার তেঁতে উঠলো।সে গর্জে উঠলো
“সারফরাজ!
রুদ্রের গলা চেপে ধরে সারফরাজ হুংকার ছেড়ে বলে উঠলো
“ইয়েস আই অ্যাম।গলা নামিয়ে কথা বলো।
এরপর দাঁত চেপে বলে উঠলো
“মেয়ের মুখে লাগাম দাও রুদ্র।যেখানে সেখানে বেফায়েস কথা বলে।যতক্ষণ আমার হাতের মা র না খেয়েছো ততক্ষণ তোমার যেমন শিক্ষা হয়নি।তোমার মেয়ের বেলাতেও তাই ঘটলো।তোমার বংশধরদের বিধাতা বুঝি আমার হাতের মার খাওয়ার জন্যই দুনিয়ায় পাঠিয়েছে।তোমার দাদা,তুমি,তোমার মেয়ে কেউ বাদ যাচ্ছে না।এইজে আজ তোমার মেয়েকে উচিত শিক্ষা দিয়ে গেলাম এবার যদি শোধরায় তবে আলহামদুলিল্লাহ।মেনে নেব এ তোমার ই মেয়ে।যদি হুশ ফেরার পর এমনই ঘিলু হীন থেকে যায় তবে বুঝে নেব কোনো সাদা চামড়া বিদেশির পয়দা।
চলবে।
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৬
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
চেকমেট সিজন ২ গল্পের লিংক