অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৫২)
সোফিয়া_সাফা
(সঙ্গীত ও মেহেন্দি স্পেশাল)
ফুলের রুমের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে অনিলা, উর্বী ও মেলো বাদে বাকিরা। অনি হালকা হেসে বলল, “আজ হয়তো আর তেহুর দেখা মিলবে না রে। আমরা শুধু শুধুই দাঁড়িয়ে আছি। কাল ডেকোরেটরের লোকেরা আসবে, চল গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।”
লুহান শার্টের কলারটা একটু টানটান করে বলল, “উফফ একটা ঝাক্কাস প্ল্যান ছিল রে। তেহ নিশ্চয়ই এবার অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকবে আমাদের কাছে।”
সোহম বলল, “ওর মন ভালো থাকলেই তো বিয়েটা জমজমাট হবে। কৃতজ্ঞ না থাকলেও চলবে।”
রিদম যখন উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরল, ঠিক তখনই এক জোরালো শব্দে ফুলের রুমের দরজা খুলে গেল। মুহূর্তেই সবার উৎসুক দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ হলো।
দরজায় দাঁড়িয়ে উদ্যান। পরনে বাথরোব, গলায় তোয়ালে প্যাঁচানো, ভেজা চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে। চোখ দুটো টকটকে লাল, চেহারায় এক দুর্ভেদ্য গাম্ভীর্য। অনি তাকে আপাদমস্তক পরখ করে বলল, “বাহ! আমি তো ভেবেছিলাম কাল দুপুরের আগে তোর দেখাই মিলবে না। কিন্তু তুই দেখছি অনেক ফাস্ট।”
অনির কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পেরে লুহান খুকখুক করে কেশে উঠল। উদ্যান শান্ত চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী খাইয়েছিস ওকে?”
তার কণ্ঠের গাম্ভীর্য চারপাশের পরিবেশকে এক নিমেষে থমথমে করে দিল। সোহম একটু নড়েচড়ে দাঁড়িয়ে আমতা আমতা করে বলল, “তেমন কিছু না তেহ। ওই একটু… ”
উদ্যান আচমকা সোহমের শার্টের কলার খপ করে চেপে ধরল। গর্জে উঠে বলল, “কোন সাহসে ওকে ওসব খাইয়েছিস? ডোন্ট ইউ নো ওগুলোতে খুব সহজে মানুষ অবসেশড হয়ে পড়ে?”
লুহান কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে এল। কাঁচুমাচু মুখে বলল, “এটা আমাদের যৌথ পরিকল্পনা ছিল। মাস্টারমাইন্ড আমি ছিলাম। তোর কিছু বলার থাকলে আমাকে বল।”
উদ্যান দাঁতে দাঁত চিপে সোহমকে ছেড়ে দিল। রিদম ফিরে এসে অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, “রেগে যাচ্ছিস কেন? আমাদের ক্যালকুলেশন অনুযায়ী তোর তো এখন ফুরফুরে মেজাজে থাকার কথা ছিল। সবকিছু কি ঠিকঠাক হয়নি?”
অনি বলল, “ওকে শাওয়ার নিতে দেখে তো সব ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে তবুও কেন মাথা গরম হয়ে আছে।”
উদ্যান ধৈর্য হারাল। কিড়মিড়িয়ে বলল, “ও আমার ওপর বমি করে দিয়ে সেন্সলেস হয়ে পড়েছে হাদারাম গুলা। সেই জন্যই শাওয়ার নিয়েছি।”
লুহান হকচকিয়ে গেল, “কীহ! ও ওইটুকুনি খেয়ে হজম করতে পারেনি?”
উদ্যান চাপা গলায় ধমক দিল, “ইচ্ছা তো করছে সবকয়টাকে রাম ধোলাই দিতে। কেন করেছিস এমন? তোদের আমি করতে বলেছি? আমি চাইলেই কি এমন কিছু করতে পারতাম না?”
সবাই অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে একস্বরে বলল, “সরি তেহ।”
উদ্যান কথা বাড়াল না। অতোটাও রাগ উঠছে না তার। হয়তো কিস করতে পারার কারণে কিছুটা স্বস্তিবোধ করছে। সে নিজের রুমের দিকে যেতে যেতে বলল, “আর কখনো এমন কিছু করবি না।”
সে চলে যেতেই সকলে বড় করে শ্বাস ছাড়ল। লুহান বলল, “উফ! জোর বাঁচা বেঁচে গেছি। তেহুর ওপর বমি করে দিয়েছে, ভাবা যায়?”
সোহম অবাক হয়ে বলল, “তাও আমাদের কিছুই বলল না। এটাই বেশি ভাবাচ্ছে।”
রিদম হাঁপ ছেড়ে বলল, “অত সাত-পাঁচ না ভেবে যা হয়েছে ভালো হয়েছে ভেবে নিজেদের রুমে চল।”
↓↑
বেলা এগারোটার দিকে ফুলের তন্দ্রা ভাঙল। আধো-বোজা চোখে তাকিয়ে দেখল চারপাশ অন্ধকারে ডুবে আছে। মাথাটা ভনভন করছে; অনেক কষ্টে দু-হাতে মাথা চেপে ধরে উঠে বসল সে। শুধু চোখ নয়, পুরো শরীরটাই যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে আছে। নিজেকে খাটের ওপর আবিষ্কার করে ফুল ভাবল রাতের সবকিছুই সে স্বপ্ন দেখেছে।
চুলগুলো কোনোমতে খোঁপা করে টালমাটাল পায়ে মেঝেতে পা রাখল সে। দেয়াল আর আসবাবপত্র ধরে ধরে কোনোমতে ওয়াশরুমে গিয়ে পৌঁছাল। আলো জ্বালাতেই আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে তার চোখ কপালে উঠল! ঠোঁটজোড়া অস্বাভাবিক ফোলা আর আরক্তিম। গালের ওপর দাঁতের দাগ স্পষ্ট।
শুকনো ঢোক গিলে মনের ভেতর জড়ো হওয়া প্রশ্নগুলো অবদমিত করে ফুল চোখেমুখে পানির ঝাপটা দিল৷ কাঁপাকাঁপা হাতে ব্রাশে পেস্ট নিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে সে খেয়াল করল; তার পরনের কামিজটার অবস্থা শোচনীয়। হতাশায় মাথা নিচু করল ফুল।
“তার মানে রাতে যা কিছু হয়েছিল তা নেহাতই আমার স্বপ্ন ছিল না?”
ফুল শাওয়ার নেবে বলে ঠিক করল। বমির নোংরা তার জামাতেও লেগে আছে। এগুলো চেঞ্জ করা অত্যাবশকীয়। সে বালতির দিকে তাকিয়ে দেখল, সেটার মধ্যে উদ্যানের শার্ট প্যান্ট রাখা। বিস্ময়ে তার মুখ হাঁ হয়ে গেল।
“উনি এখানে শাওয়ার নিয়েছেন? কিন্তু কেন? যতটুকু মনে পড়ে, তেমন কিছুই তো হয়নি আমাদের মাঝে। তবে কি… ওহ খোদা! আমি কি ওনার গায়ের ওপরই বমি করে দিয়েছিলাম? ফুল, তুই কী করলি এটা! নিজেই নিজের প্রেস্টিজ পাংচার করে দিলি?”
আফসোস করতে করতে ফুল উদ্যানের কাপড়গুলো ধুয়ে দিল। তারপর নিজেও শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এল। বারবার তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, “উনি কেন এসেছিল আমার কাছে? আর আমারই বা মাতাল মাতাল লাগছিল কেন?”
ফুল গালে থাকা কামড়ের দাগের ওপর পাউডার মেখে কিছু খাওয়ার উদ্দেশ্যে নিচে নামল। এসে দেখল আজ একটু তাড়াতাড়িই সবাই লাঞ্চ করতে বসে পড়েছে। তাকে নামতে দেখে অনিলা পাশের চেয়ার দেখিয়ে দিয়ে বলল, “ফুল, খেতে বসে পড়ো।”
ফুল মুখ নিচু করে খেতে বসল। লক্ষ্য করল, বরাবরের মতোই কেউ তার দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে না। উদ্যানও আপনমনে খাবার খাচ্ছে। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ফুল আড়চোখে উদ্যানের দিকে তাকাচ্ছে। তার আবছা আবছা মনে পড়ছে যে সে উদ্যানের ঘাড়ে আর গলায় কামড় বসিয়েছিল, কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো; উদ্যানের গলায় বা ঘাড়ে কোনো দাগ নেই! এটা কীভাবে সম্ভব? সবকিছু যদি স্বপ্নই হয়ে থাকে, তাহলে তার নিজের গালে আর ঠোঁটে দাগ এলো কোত্থেকে? আর ওয়াশরুমে পড়ে থাকা উদ্যানের জামাকাপড়ও তো বুঝিয়ে দিচ্ছে কোনো কিছুই স্বপ্ন ছিল না।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে উদ্যানের পিছু পিছু তার রুমে চলে আসে ফুল। উদ্যান অবশ্য খেয়াল করেছে, কিন্তু কিছুই বলে নি; এমনকি পিছু ফিরেও তাকায়নি। দরজার সামনে এসে ফুল বলল, “এমন ভাব করছেন যেন রাতে কিছুই হয়নি।”
উদ্যান ভ্রু উঁচিয়ে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকাল। “কী হয়েছিল?”
“আপনার না পরীক্ষা চলছে? তবুও কেন গিয়েছিলেন আমার রুমে?”
“পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিনা জানতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি এমনভাবে অ্যাটাক করলে যে প্রশ্নটা করার টাইমই পাইনি, তো এসেছো যখন বলে দিয়েই যাও। পরীক্ষা শেষ হয়েছে কিনা।”
ফুল অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। তোতলানো স্বরে বলল, “তার আগে বলুন আমার সাথে কী হয়েছিল রাতে?”
“তা আমি কীভাবে বলবো বলো? হয়তো সেদিন বাইকে ওঠার রাতে যা হয়েছিল তা আবার গতরাতে রিপিট হয়েছে।”
ফুল লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। মাথা নিচু করে ম্রিয়মাণ কণ্ঠে বলল, “সেদিন রাতে আমি মাথায় আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু গতরাতে তো আমি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলাম তাইনা?”
উদ্যান এক ধাপ এগিয়ে এল। “আমি জানিনা, পেটাল। তোমার ঠিক কী হয়েছিল। মাথায় চোট না পেয়েও কেন তুমি আমার বুকের ভেতর সেঁধিয়ে যেতে চাইছিলে, আমাকে বারবার তোমাকে টাচ করতে প্ররোচিত করছিলে।”
ফুলের গাল গরম হয়ে এলো। আচ্ছা লোকটা তাকে জেনে-বুঝেই কি লজ্জা দিচ্ছে? ফুল আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। একছুটে রুম ত্যাগ করল।
বিকেল গড়াতেই ডেকোরেটর, ইভেন্ট প্ল্যানাররা চলে এলো। চারদিকে আলোকসজ্জার ধুম পড়ে গেছে; ঠিক হয়েছে বিয়ের এক সপ্তাহ পর পর্যন্ত এই আলোকসজ্জা থাকবে। পরশু দিন মেহেন্দি প্রোগামের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
রুমের এপাশ থেকে ওপাশে অনবরত পায়চারী করছে রিদম। বারবার উর্বীর বলা একটা কথাই তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, ‘উনি… ভালোবাসবেন আমায়?’ আচ্ছা, তার কি উচিত নয় একবার গিয়ে অন্তত নিজের ভালোবাসার কথাটা উর্বীকে জানানো? হয়তো উর্বী ফিরিয়ে দেবে তাকে কিন্তু তাকে তো এই নিয়ে কখনো আফসোস করতে হবেনা যে সে তাকে ভালোবাসার কথাটাও জানাতে পারেনি।
দুদিন ভাবতে ভাবতেই চলে গেল। আজ উর্বী ও সোহমের মেহেন্দি অনুষ্ঠান। সবুজে ঘেরা প্রশস্ত টেরেসের ওপর মেহেন্দির আয়োজন করা হয়েছে। আজ অবশ্য বাইরের কেউই নেই। তারা নিজেরা নিজেরাই। বাইরের লোক আসবে রিসেপশনের দিন।
স্টেজের ওপর বসে আছে উর্বী। তার পরনে জলপাই রঙের শাড়ি। কানে, গলায় রজনীগন্ধা ফুলের ফ্লোরাল জুয়েলারি। তার একপাশে মেহেন্দি আর্টিস্ট আর অন্যপাশে ফুল, অনিলা বসা। ফুলও মেহেন্দি দিয়ে দিচ্ছে তার হাতে। ফুল আর অনিলার পরনে নীল রঙের পার্টি ড্রেস। স্টেজের সামনে বসে আছে বাকিরা। সোহম, লুহান, অনি প্রচন্ড হাসাহাসি করছে। রিদম আর মেলো বসে থাকতে হবে বলেই হয়তো বসে আছে। শতবারের মতো আরেকবার সবার দিকে চোখ বুলিয়ে আশাহত হলো ফুল। সে যাকে খুঁজে ফিরছে সেই লোকটা কোথাও নেই।
“কাউকে খুঁজছো ফুল?” অনিলা জেনে-বুঝেই প্রশ্নটা করল। ছোট্ট শ্বাস ফেলে ফুল উপরনিচ মাথা নাড়ল।
“তোমাদের তেহ কোথায়? কেন কোথাও দেখতে পাচ্ছি না তাকে?”
“আছে হয়তো রুমে বসে।”
“এখানে সবাই আছে আর উনি রুমে বসে আছেন, হুহ!” মনে মনে কথাটা বলে মেহেন্দিতে মনোযোগ দিল ফুল।
রাত তখন তিনটে। মেহেন্দির আসর ভাঙল। টেরেস থেকে নেমে ধীরপায়ে উদ্যানের রুমের সামনে এসে থামল ফুল। ইচ্ছে ছিল একবার নক করার, কিন্তু সাহসে কুলোল না। বেশ অনেকক্ষণ একভাবে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের রুমে চলে গেল সে। ভারী পোশাক বদলে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই রাজ্যের ক্লান্তি এসে যেন জাপ্টে ধরল ওকে। মেক-আপ না করে ভালোই হয়েছে। এখন আর ক্লিন করার প্যারা পোহাতে হবে না।
উর্বী যখন ক্লান্ত পায়ে নিজের রুমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল তখনই সে পেছন থেকে কারো পায়ের শব্দ শুনে থেমে গেল। ঘাড় বাকিয়ে দেখল রিদম তার পিছু পিছু আসছে। সঙ্গে সঙ্গেই সামনে ফিরে তাকাল সে। রিদম এসে ঠিক তার পেছনে দাঁড়িয়ে খুব নিচু স্বরে বলল, “আপনাকে একটা কথা জানানোর ছিল।”
“হুম বলুন।”
“আই লাভ ইউ!”
চমকে উঠল উর্বী। অবচেতনেও এমন কিছু শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না সে। বিস্ময় দমাতে না পেরে রিদমের চোখের দিকে সরাসরি তাকাল। অস্ফুট স্বরে প্রশ্ন করল, “কী বললেন?”
রিদম লুকোচুরি করার চেষ্টা করল না। উর্বীর কাজলকালো চোখের গভীরে দৃষ্টি ডুবিয়ে দিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল, “আপনি যা শুনেছেন, তাই বলেছি। আমি আপনাকে সত্যিই ভালোবাসি।”
উর্বী জোরপূর্বক হাসলো, “আর কিছু বলবেন?”
রিদম মাথা নিচু করে বলল, “হ্যাঁ, আমি খুব খারাপ। অগণিত মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছি। কিন্তু আজ প্রথমবার ভালোবাসার মানুষটাকে ভালোবাসার কথা বললাম।”
উর্বী চোখ বন্ধ করে নিল, “আরও কিছু?”
“হ্যাঁ, এটাও জেনে রাখুন আপনাকে ভালোবাসার পর অন্য কোনো মেয়ের দিকে ফিরেও তাকাইনি।”
উর্বী নিষ্প্রাণ কণ্ঠে বলল, “ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ কিন্তু…”
রিদম হাত উঁচিয়ে তাকে থামিয়ে দিল। যেন উর্বীর কাছ থেকে ‘না’ শোনার মতো শক্তি এই মুহূর্তে তার নেই।
“আমি আপনার উত্তর শুনতে চাইনা। শুধু মনের কথাটা জানিয়ে দিয়ে হালকা হলাম।” বলতে বলতেই দ্রুত পায়ে একপ্রকার পালিয়ে গেল রিদম।
↓↑
আজ রাতে সোহম আর উর্বীর সংঙ্গীত অনুষ্ঠান। সন্ধ্যার পরপরই সাজগোজের সরঞ্জাম নিয়ে উর্বীর রুমে হাজির হলো ফুল আর অনিলা। তারা দুজনে বিরামহীন গল্প করে চললেও উর্বী পুরোটা সময় পাথরের মতো নিশ্চুপ হয়ে রইল। উর্বীর এই অস্বাভাবিক নীরবতা খেয়াল করে ফুল চিন্তিত গলায় বলল, “কী হয়েছে আপু? তোমার মুড অফ? একটু পরেই কিন্তু বিউটিশিয়ান তোমাকে সাজাতে চলে আসবে।”
“রিদম আমাকে প্রপোজ করেছে ফুল।” উর্বীর কথাটা শুনে হতবিহ্বল হয়ে গেল দুজনেই। অনিলা নিজেকে সামলে নিয়ে শুধাল, “কী বলেছো তুমি?”
উর্বী মলিন হাসল। হাতে থাকা চিরুনী টা ড্রেসিং টেবিলের ওপর নামিয়ে রেখে খাটের সামনে এলো। ফুলের সামনে বসে বলল, “আমাকে কিছুই বলতে দেয়নি। তার ধারণা সে আমার উত্তর আগে থেকেই জানে।”
ফুল পেছন থেকে উর্বীর কাধের ওপর থুতনি নামিয়ে রেখে বলল, “আমিও জানি, তুমি তাকে বলতে যে তুমি তাকে ঘৃণা করো।”
উর্বীর বুকটা খালি হয়ে গেল। নিচু গলায় বলল, “আমি ঘৃণা করি না তাকে। কেন করিনা জানো, কারণ আমার সাথে সে কোনো অন্যায় করেনি। যা করার তার ভাই করেছে। আর দুটো মাস আগে যদি সে আমাকে প্রপোজ করতো আমি হয়তো তার চরিত্রের জন্য তাকে ঘৃণা করতাম। কিন্তু আজ তাও করতে পারছি না। তার দিকে আঙুল তোলার মতো যোগ্যতা নেই আমার।”
ফুল উর্বীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “এভাবে বোলো না উর্বী আপু, তোমার সাথে যা হয়েছে তাতে তোমার কোনো দোষ ছিল না। তোমার মাঝে এখনো তার দিকে আঙুল তোলার যোগ্যতা আছে।”
অনিলা তাল মিলিয়ে বলল, “হ্যাঁ, অফকোর্স আছে। রিদম জেনেশুনে মেয়েদের সাথে মেলামেশা করতো। তুমি তো আর জেনেশুনে যাওনি। তোমার ওপর জুলুম করা হয়েছে।”
উর্বী হাঁটুতে মুখ গুজলো। কেঁপে উঠল তার শরীর। তার সেই কাঁপুনি দেখে ফুল, অনিলা বুঝতে পারল সে কাঁদছে। অনিলা তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল, “কাঁদছো কেন উর্বী? সোহম কিন্তু মোটেই রিদমের মতো নয়। তোমাকে আফসোস করতে হবে না কখনো।”
“কিন্তু তাকে আফসোস করতে হবে, অনিলা। এটাই আমাকে শান্তি দিচ্ছে না। আমি কখনো কাউকে ঠকাতে চাইনি। সে আমাকে বিয়ে করলে ঠকে যাবে। আমাকে বুঝতে না দিলেও তার মন গহীনের কোথাও না কোথাও আমাকে নিয়ে বিতৃষ্ণা জমে থাকবে। কোনো এক মন খারাপের দিনে সে ভাববে, আমার চেয়েও ভালো কাউকে অনায়েসে পেয়ে যেতো সে।”
ফুল এবার একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করল। মনের অজান্তেই সে বলে ফেলল, “তাহলে কি তুমি রিদম স্যারকে মেনে নিতে পারবে? সোহম স্যার কিন্তু তোমাকে ভালোবাসার কথা বলেনি। শুধু বলেছে তোমাকে সে পছন্দ করে তাই বিয়ে করতে চায়। রিদম স্যার কিন্তু সরাসরি ভালোবাসার কথাটা বলেছে। আমার মনে হচ্ছে সে সিরিয়াসলি বলেছে। নইলে এই সময় এমন একটা কথা বলতো না সে।”
উর্বী মাথা না তুলেই বলল, “আমি তো তার দিকে তাকাতেই পারিনা, মেনে নেবো কীভাবে?”
ফুল একটু থেমে সন্তর্পণে জিজ্ঞেস করল, “শুধু চেহারাটাই সমস্যা?”
“হ্যাঁ, তাছাড়া তাকে মেনে নিতে সমস্যা ছিল না আমার। সে আমার দিকে কখনো আঙুল তুলতে পারতো না। কারণ সে বলেছে, ভালোবাসে আমায়।”
তাদের কথার মাঝেই তিনজন বিউটিশিয়ান দরজার অভিমুখে এলো। একজন পর্দা সরিয়ে বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করল, “ভেতরে আসবো?”
উর্বী দ্রুত চোখ মুছে নিজেকে সামলে নিল। তারপর মাথা নেড়ে ভেতরে আসার অনুমতি দিল।
,
,
,
উদ্যানের পরনে লেদার জ্যাকেট সঙ্গে রাইডিং প্যান্ট, হাতে গ্লাভস। মাথায় হেডব্যান্ড, পায়ে কমব্যাট বুটস। এই লুকে তাকে একদম প্রফেশনাল বাইকারের মতো দেখাচ্ছে। সে রুম থেকে বেরোনো মাত্রই সামনে সোহম আর লুহান এসে হাজির হলো। উদ্যানকে পুরোদস্তুর পর্যবেক্ষণ করে লুহান শুধাল, “কিরে কোথায় যাচ্ছিস?”
উদ্যান হাতের গ্লাভস ঠিক করতে করতে বলল, “এমনি ক্রুজিং করতে যাচ্ছি।”
সোহম অখুশি হয়ে অনুযোগ মিশিয়ে বলল, “অযথাই ঘোরাঘুরি করার সময় পাচ্ছিস কিন্তু আমার বিয়েতে থাকতে পারছিস না?”
“আমি ওসব পছন্দ করিনা, জানিসই তো। রিসেপশনে থাকব।”
লুহান বলল, “সেদিন থাকবি সেটা আমরাও জানি।”
সোহম উদ্যানের হাত টেনে ধরে বলল, “কাম অন তেহ, তোর কোনো কাজ নেই আজ। তার মানে তুই চাইলেই সঙ্গীত অনুষ্ঠান অ্যাটেন্ড করতে পারবি।”
উদ্যান হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ছোট করে বলল, “আমার ইচ্ছা নেই।”
সোহম নাছোড়বান্দা। সে আবারও হাত আঁকড়ে ধরে বলল, “আমার খুব ইচ্ছা আছে, আমার লাইফের সব বিশেষ মুহূর্তে তোকে নিজের পাশে রাখার। তুই মানেই একটা পজেটিভ এনার্জি তেহ!”
উদ্যান বিরক্ত সূচক শব্দ উচ্চারণ করল, “আচ্ছা, বিয়েতেও উপস্থিত থাকবো। এখন জোরাজুরি করিস না।”
সোহম কিছুতেই মানতে রাজি হলো না, “তোর কাজ থাকলে একটা কথা ছিল। শুধু শুধুই সঙ্গীতে থাকবি না এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়। আমার একটা কথা রাখ তেহ, আজ একটা বিশেষ দিন, তুই কি চাস এইদিনে আমার মন খারাপ থাকুক?”
উদ্যান ভ্রু কুচকে তাকাল। কণ্ঠে বিরক্তি জিইয়ে রেখে বলল, “তোর কথাগুলো আজ বড্ড বেখাপ্পা লাগছে, মনে হচ্ছে মুখস্ত করে এসেছিস।”
সোহম তার হাত ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। ঘাড় চুলকাতে চুলকাতে বলল, “এগুলো সত্যিই আমার মনের কথা। তুই নিশ্চয়ই আমাকে বিয়েতে গিফট দেওয়ার কথা ভাবছিস? দেখ তেহ, তোকে আলাদা করে কোনো গিফট দিতে হবেনা। শুধু তুই-ই গিফট হিসেবে এই তিনটা দিনের প্রত্যেকটা ইভেন্টে নরমাল পারসন হিসেবে উপস্থিত থাক।”
উদ্যান ভরাট কণ্ঠে বলল, “নরমাল পারসন? হাহ! এমনিতে কি সবসময় আমাকে অ্যাব-নরমাল পারসন বলে মনে হয় নাকি?”
সোহম অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। লুহান কথা টেনে নিয়ে বলল, “ও বলতে চেয়েছে এই কদিন তুই আমাদেরকে ভুলে যাওয়ার অনুমতি দিবি যে তুই আমাদের মাস্টার, আমরা যাই করিনা কেন নিজের পাওয়ার ব্যবহার করবি না।”
উদ্যান হালকা হাসল। আশ্চর্য এতে হাসার কী আছে? তারপর মুখটাকে আবার অনুভূতি শূন্য করে সংক্ষেপে বলল, “ওকে।”
সোহম আর লুহান অবাক তো হলেই সাথে খুশিও হলো। তারা দুজন খুশির চোটে উদ্যানকে জড়িয়ে ধরতে গেলে উদ্যান হাত উঁচিয়ে থামানোর চেষ্টা করল কিন্তু তারা আজ থামবে কেন? আর কখনো এমন সুযোগ পাবে কিনা কে জানে। থামল না সোহম লুহান, সামনে-পেছন থেকে জাপ্টে ধরল উদ্যানকে। সুযোগ দিল উদ্যান, বলল না কিছুই।
,
,
,
টেরেসে অনুপ্রবেশ করা মাত্রই ফুল এগিয়ে এলো সোহম, রিদমের দিকে। উদাস গলায় বলল, “আসেনি তাইনা গোমড়ামুখো টা?”
সোহম একে অপরের দিকে চেয়ে দুদিকে সরে যেতেই উদ্যান পেছন থেকে সামনে এলো। উদ্যানকে দেখে ফুলের শিরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমেল স্রোত বয়ে গেল। উদ্যানের পরনে পাইরেট স্টাইলের হোয়াইট শার্ট। সাথে ব্ল্যাক স্কিনি প্যান্ট, হাতে ঘড়ি। মাথায় সচরাচর দেখতে পাওয়া হেডব্যান্ড টা মিসিং। চুলগুলো ইচ্ছা করেই হয়তো কপালের ওপর ছড়িয়ে রেখেছে। খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি ওয়ালা চোয়ালে এক অবর্ণনীয় অভিব্যাক্তি।
লোকটাকে এতো ড্যাশিং লাগছে কেন আজ?
ফুল চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। উদ্যান পকেটে হাত গুজে তাচ্ছিল্য মিশিয়ে তার উদ্দেশ্যে বলল, “শ্বাস নাও, পেটাল। ম’রে যাবে নয়তো।”
কথাটা শ্রবণগোচর হতেই ফুলের সম্বিৎ ফিরল, উল্টো ঘুরে অজান্তেই কামড়ে ধরল নিজের ডান হাতের কবজিটা। চোখ বন্ধ করে নিজেকে ধাতস্থ করে লম্বা শ্বাস নিল।
উদ্যান, লুহান ও সোহম তাকে পাশ কাটিয়ে স্টেজের দিকে চলে গেল। অনিলা ফুলের পাশে এসে কানে কানে বলল, “এসে গেছেন তোমার উনি। এবার একটু সাজগোছ করাই যায় কী বলো?”
ফুল লাজুক হেসে মাথা নেড়ে দৌড়ে নিচে নেমে গেল। রুমে এসে চলে গেল ওয়াশরুমে। হাতমুখ ধুয়ে এসে বসল ড্রেসিং টেবিলের সামনে। দ্রুত চোখে সাদা কাজল আর গালে হালকা ব্লাশন লাগিয়ে নিল সে।
উঠে দাঁড়িয়ে বেরোতে যাবে তখনই গায়ে থাকা সোনালী রঙের গোল জামাটা আরেকবার আয়নায় দেখে নিল। এটা এতক্ষণ ভালো লাগলেও এখন আর ভালো লাগছে না তার। দ্রুত ওয়ার্ডোবের কপাট খুলে খুঁজতে লাগল কোনো একটা সাদা রঙের ড্রেস। পেয়েও গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই তিন তিনটে ড্রেস। সেখান থেকে একটা সিলেক্ট করে চলে গেল ওয়াশরুমে।
সেটা গায়ে জড়িয়ে তার সাথে ম্যাচিং করে কানে আর হাতে পার্লের জুয়েলারি পরে নিল সে। কারণ ট্রি হাউসের শাড়িটাতে পার্ল ছিল। যার মানে পার্ল হয়তো ভালো লাগে লোকটার।
টেরেসের কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গিয়ে উদ্যান একগ্লাস টেকিলা হাতে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই তার চোখ আটকে গেল দুটো টানা টানা উজ্জ্বল চোখের মাঝে। একটু থেমে গিয়ে সে ফুলকে পা হতে মাথা পর্যন্ত স্ক্যান করে নিল। ফুল তখন তার দিকেই তাকিয়ে অনিলার কানে কানে কিছু বলছিল। কথা শেষে উদ্যানের দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসল বোধহয় মেয়েটা। সেই হাসি দেখে উদ্যানের চাউনি নিগুঢ় হলো। এক নিঃশ্বাসে টেকিলা টুকু সাবাড় করে হেঁটে যেতে লাগল ফুলের দিকে।
তাকে নিজের দিকে অগ্রসর হতে দেখে ফুল পিছু হটলো। অনিলাকে টেনে নিয়ে দাঁড়ালো স্টেজের ঠিক সামনে। হাত দিয়ে ইশারা করতেই বেজে উঠল একটা হিন্দি গানের লিরিক্স:
কামারিয়া… কামারিয়া
কামারিয়া… কামারিয়া
মাথায় প্যাচিয়ে রাখা ওড়নাটা খুলে গলায় জড়িয়ে নিতে নিতে গানের তালে শরীর দুলিয়ে দিল ফুল। তার সাথে সাথে অনিলাও। তৎক্ষনাৎ উপস্থিত সবাই ওয়েটার থেকে শুরু করে সার্ভেন্ট এমনকি গার্ডরা পর্যন্ত নড়েচড়ে দাঁড়াল। এতোক্ষণ পর এবার মনে হচ্ছে এটা কোনো সঙ্গীত অনুষ্ঠান। তবে এই সুখ বেশিক্ষণ সইল না। উদ্যান দ্রুত পদক্ষেপে সমুখে এসে দাঁড়াতেই সকলে মাথা নিচু করে নিল। এমনি এমনি নিয়েছে তেমনটা নয়, উদ্যান এমন ভাবে তাকিয়েছে যে চোখ সরিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
বেচারা অনিও নিজের বউয়ের নাচ দেখতে পারল না। এমনটা নয় যে বউকে দেখার অপরাধে উদ্যান তাকে পানিশমেন্ট দেবে তবুও এটা একধরনের সম্মান দেখানো। সোহম আর লুহান জানতো উদ্যান তাদের পানিশমেন্ট দেবে না তারপরও সম্মান দেখানোর তাগিদে মাথা নিচু করে পায়ের আঙুলের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছে। সুযোগ পেয়ে অসম্মান করার মতো মনোভাব নেই তাদের মধ্যে কারোর।
ফুল দেখলো কেউ তাদের দিকে তাকাচ্ছে না। এতে সে আরও কম্ফোর্ট ফিল করে ইচ্ছেমতো নাচতে লাগল:
চামা চাম নাচ আজে… ধামা ধাম ঢোল বাজে
নন-স্টপ হাল্লা মাচেগা… ওয়ে নাচো সারে
পাপাপাপা পীপানি পে…আজা ন্যায়া স্টেপ শিখে
নন-স্টপ হাল্লা মাচেগা… ওয়ে নাচো সারে
আপনী ফেমাস হ্যায় রাত ওয়ালী ইয়ারিয়াঁ
জানে সারে জাহা আ…
পেঠাল পুর মা শুনলে ও ছোরিয়া
ঝুমে নাগরিয়া জাব জাব ইয়ে ঘুমে
কামারিয়া রে থারি কামারিয়া
কামারিয়া রে থারি কামারিয়া
নাচ শেষ হতেই সবাই হাততালি দিল; যদিও কেউ তাদের নাচ দেখার সুযোগ পায়নি। ফুলের গালদুটোয় লাল আভা ফুটে উঠল। ব্লাসনের গোলাপি রঙ যেন সেই লাল রঙে অন্য মাত্রা যোগ করেছে ইতোমধ্যেই। সে দেখেছে উদ্যান কীভাবে তার দিকে ঘোরলাগা দৃষ্টে তাকিয়ে ছিল পুরোটা সময়। দানবটাকে অগোছালো করে দেওয়ার মিশনে সাকসেসফুল হয়েছে সে।
ফুল যখন অনিলাকে নিয়ে স্টেজে বসা উর্বীর দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই পেছন থেকে এক জোরালো টানে সে থমকে দাঁড়াল। উদ্যান তার হাত আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ফুলকে একরকম টেনেই স্টেজের পাশের নির্জন কোণটায় নিয়ে এল। ফুল মুখ তুলে উদ্যানের দিকে তাকানোর হিম্মত জোটাতে পারল না।
উদ্যান আচমকাই ফুলের ঘাড়ে হাত দিয়ে ওড়নাটা ছড়িয়ে মাথায় টেনে রাখল। তারপর সামান্য ঝুঁকে এসে গভীর কণ্ঠে বলল, “শোনো পার্ল, তুমি কিন্তু আমার জন্য পরীক্ষাটা কঠিন করে ফেলছো। আমি কিন্তু সুযোগ পেলেই এর শোধ নেবো।”
নতুন ডাকনাম— ‘পার্ল’— শুনে ফুলের হৃৎস্পন্দন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে নিচু হয়ে হাত কচলাতে লাগল। কাঁপা গলায় কোনোমতে শুধাল, “কী… কী করেছি আমি?”
“সবকিছু যখন বুঝেশুনেই করছ, তখন আর অবুঝ সাজার ভান কোরো না, পার্ল।”
ফুল চেয়েও আর কোনো কথা বলতে পারল না। উদ্যান তার মাথার ওড়না ঠিকঠাক করে দিয়ে শাসিয়ে বলল, “আমি চাইনা তোমার চুলগুলো কেউ দেখুক। মাথার কাপড় সরে গেলে খবর আছে তোমার।”
ফুলের কপাল কুচকে গেল, “কেন, এই নতুন রুলস কেন শুনি?”
উদ্যান ফুলের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “কারণ খোলা চুলে তোমায় খুব বিশ্রী দেখায়। আমি চাইনা তোমার সেই বিশ্রী লুকটা সবাই দেখে নিক।”
ফুল বুঝতে পারল না এই কথাটা শুনে তার গাল গরম হয়ে গেল কেন। উদ্যান তো তার প্রশংসা করেনি তাইনা? সে রাগ দেখানোর ভান করল, “তাহলে কেন তাকিয়ে ছিলেন ড্যাবড্যাব করে?”
উদ্যান ফুলের ঠোঁটের খুব কাছাকাছি গিয়েও থেমে গেল। ফুল চোখ বন্ধ করে নিল সঙ্গে সঙ্গেই। “আমি তখন ভাবছিলাম, একজন মানুষকে এতোটা বিশ্রী কীভাবে দেখাতে পারে।”
ফুলের মনের আকাশটা হঠাৎ করেই ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেল। বর্ষণ নামল বন্ধ চোখের পাতা ভেদ করে। কেঁদেই ফেলল মেয়েটা। কেন যেন এবার খুব কষ্ট পেল। মনে হলো উদ্যানের চোখে আসলেই তাকে বিশ্রী দেখাচ্ছে। বুকটা ক্রমশই ভারী হয়ে এল তার। নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে উদ্যানকে পাশ কাটিয়ে দৌড়ে চলে গেল ফুল।
চলবে,,,
শব্দসংখ্যা: ৩২৫০+
Share On:
TAGS: অবাধ্য হৃৎস্পন্দন, সোফিয়া সাফা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৭
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৮
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৭
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৬
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২২
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৪
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪৩