Golpo romantic golpo অন্তরালে আগুন

অন্তরালে আগুন পর্ব ৫৮


অন্তরালে_আগুন

পর্ব:৫৮

তানিশা সুলতানা

নুপুরের হাত ধরে তালুকদার বাড়িতে প্রবেশ করে নওয়ান। নায়েব তালুকদার এবং মজনু তালুকদার ড্রয়িং রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নওয়ানকে দেখেই নায়েব তালুকদার এগিয়ে যায়। সরাসরি প্রশ্ন করে

“এই মেয়ে আমার বাড়িতে কি করছে?

নওয়ান বাবার চোখে চোখ রেখে জবাব দেয়
“তুমি ভুলে যাচ্ছো এটা আমার বাড়ি।
আর ও আমার বউ।

” কিসের বউ?
কেমন বউ?
তোমার নামে অভিযোগ আনলো কি করে সে? জেলের ভাতই বা কিভাবে খাওয়ালো?

চিৎকার করে বলে নায়েব তালুকদার।
নুপুর ভয় পেলো। নওয়ান এর পেছনে গিয়ে লুকায়।

“আস্তে কথা বলো আব্বু। চাঁদ ভয় পাচ্ছে।

মজনু তালুকদার লাঠি ভর দিয়ে এগিয়ে আসে।
” দাদুভাই তুমি পাগল হয়ে গিয়েছো?এই মেয়ে খা

বাকিটা শেষ করতে পারে না মজনু তালুকদার। নওয়ান আঙুল তাক করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে
“আমার চাঁদের ব্যাপারে একটা খারাপ কথা বললে জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলবো।

” আমরা কেউ না?
এই মেয়েটাই তোমার জীবনের সব হয়ে গেলো?

বাবার প্রশ্নের জবাব দেয় না নওয়ান।
নুপুরের হাত ধরে নিজ কক্ষের পানে এগোয়। কয়েক সিঁড়ি ডিঙিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। পেছন ফিরে বাবার মুখ পানে তাকায়
“তোমাকে কারো সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে কখনো ভাবি নি আব্বু।।
তুমি আমায় ঠকিয়েছো।
ভীষণ বাজে ভাবে ঠকিয়েছো।
তবুও তোমায় ভালোবাসি। এখনো
মায়ের থেকেি বেশি।।

নায়েব তালুকদার স্তব্ধ হয়ে কিছু মুহুর্ত দাঁড়িয়ে থাকে। মজনু তালুকদার বলে
“ছেলেকে সামলাও।
তোমার আর তোমার ছেলের জন্য আমি আমার ক্ষমতা হারাতে পারবো না। প্রয়োজনে তাকেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারি আমি।

নায়েবের কপালে ভাজ পড়ে।
“পাগলের মতো কিসব বলছেন আপনি বাবা? ওকে সরিয়ে দিবেন মানে?

“তুমি আমার একমাত্র সন্তান নও। আরো সন্তান আছে আমার তাদের নিয়ে ভাবতে হয়। তোমার আর তোমার ছেলের জন্য আমি আমার বাকি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবো না।

চলে যায় মজনু তালুকদার। নায়েব সোফায় বসে পড়ে। চোখ বন্ধ করে কিছু মুহুর্ত চিন্তা করতে থাকে তার আসলে কি করা উচিত?


মীরা খুব ভালো একটা মানুষ। আমিনাকে ভীষণ ভালোবাসে। যবে থেকে তালুকদার বাড়িতে বউ হয়ে এসেছে তখন থেকেই দুজনের গলায় গলায় ভাব।
তাদের শাশুড়ি মা কে তারা দেখেনি। তার সম্পর্কে কিছু জানেও না। তবে সবিতাকে দেখেছে প্রথম থেকেই।
লোকমুখে শুনেছে ” সবিতার জন্য তাদের শাশুড়ী মাকে খু/ন করেছিলো মজনু তালুকদার”
তার সত্যতা ওনাদের যাচাই করা হয় নি। তবে সবিতা তাদের ভালো চোখে দেখতেন না। ভালোও বাসতেন না।
দুজনের মাঝে ঝগড়া লাগানোর অনেক চেষ্টা করেছে। তবে ওনারা দুজন এক জোট হয়েই এতোগুলো বছর সংসার করে আসলো।
এই যে এই মুহুর্তে আমিনা বেগম শুয়ে আছে হাসপাতালের বেডে। তার পাশে রয়েছে মীরা। ঠিক আঠার মতো।
কখন কি লাগবে?
কোন ঔষধ কখন খাওয়াতে হবে সবটাই তার দায়িত্ব।
এতোগুলো নার্স ডাক্তার সবাইকে উপেক্ষা করে নিজেই সবটা করে যাচ্ছে। চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বড্ড ক্লান্ত সে। কতো রাত যে ঘুমায় না। তবুও বিরক্তির রেশমাত্র নেই।
আমিনা অবাক হয়ে কিছু মুহুর্ত তাকিয়ে থাকে মীরার মুখ পানে। সে এখন আয়াশকে খাওয়াচ্ছে।।
এই কয়েকদিনে বাচ্চাটা মীরার ভক্ত হয়ে উঠেছে। সে বোধহয় বুঝে গিয়েছে আমিনার পরে মীরাই তার শেষ আশ্রয়। আর শেষ আশ্রয় কে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে।

“উনি কল করেছিলো?

উদাস ভঙ্গিমায় জিজ্ঞেস করে আমিনা। মীরা ইলিশ মাছের কাঁটা ছাড়াচ্ছিলো। আমিনার প্রশ্নে হাত থামে। এক পলক তাকায় ছোট বেড়ে শুয়ে থাকা আমিনার পানে।
চট করেই জবাব দিতে পারে না। কেনোনা মিথ্যে বলতে যে তার বড্ড অস্বস্তি হয়। কখনো মিথ্যে বলেছে কি না অনেক ভেবেও মনে করতে পারল না।
তবে এই মুহূর্তে খুব করে ইচ্ছে করছে মিথ্যে বলতে। অসুস্থ মানুষটা একটুখানি স্বস্তি পাক। রোগে পচে যাওয়ার শরীরটা বাঁচার ইচ্ছে খুঁজে পাক।

“করে নি তাই না?
করবেই বা কি করে? অনেক ব্যস্ততা তার। সেকি আর আমাদের মত সাধারন মানুষ? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব তার কাঁধে। আমার কথা ভাবলে কি আর চলবে?
সবার কথাই তো ভাবতে হবে।।

অভিমানী স্বরে বলে ওঠে।।
মীরা একটু হাসার চেষ্টা করে বলে
“ক…রেছিলো কল।
তখন তুমি ঘুমুচ্ছিলে।

আমিনা জানে মীরা মিথ্যে বললো তবুও বিশ্বাস করে নিলো। একটুখানি হাসির রেখা ফুটে ওঠে তার শুকনো ঠোঁটে।
বলতে ইচ্ছে করছে “এখন একবার কল করুক সে। তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে খুব। দুটো মিনিট কথা বলতো সে”


নুপুরকে আজকে পাক্কা গৃহিণী মনে হচ্ছে। তালুকদার বাড়িতে এসে জামাকাপড় ছেড়ে কিচেনে ঢুকে পড়েছে। নিজ উদ্যোগে বাড়ির সকলের জন্য রান্না করছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজকে সবাই মিলে একসাথে খাবে।
রান্নাবান্নায় খুব বেশী পটু না হওয়ায় ইউটিউবের সাহায্য নিচ্ছে।
এমন মুহূর্তে কিচেনে প্রবেশ করে সিনথিয়া। মাথাটা বেশ ধরেছে একটু কফি খাওয়া প্রয়োজন।
নুপুর কে দেখে প্রথমে কপাল কুঁচকালেও পরে ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফুটিয়ে এগিয়ে যায়।

“হ্যালো আমি সিনথিয়া। স্নেহা নিরব এর বড় বোন।

নুপুরও হেসে বলে
” আমি নুপুর।
ভালো আছেন আপু?

“এই তো আলহামদুলিল্লাহ
তোমায় আমি চিনি।
মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর তুমি।

” ধন্যবাদ আপু।।

“তো কি করছো?

“রান্না করছি।।
ডাল ভাত গরুর মাংস আর ইলিশ মাছ।

” আচ্ছা
চলো আমি তোমায় সাহায্য করছি।

“না না আপু আপনাকে করতে হবে না।
বলুন কি লাগবে আমি করে দিচ্ছি

” আরেহহ দুজন মিলেই রান্না করবো।।
রান্না করতে দারুণ লাগে আমার।

নুপুরের কথায় গুরুত্ব না দিয়ে দুধ চা বানায় সিনথিয়া। ট্রে এবং চায়ের কাপ এনে চা ঢালে। তারপর সেটা নুপুরের হাতে দিয়ে বলে
“তুমি সবাইকো চা দিয়ে এসো।
আমি পেঁয়াজ কাটি।

নুপুর মাথা নেরে চলে যায় চা দিতে।প্রথমে যায় সবিতা এবং মজনু তালুকদারের কক্ষে। দুজন একান্তে বসে কোনো বিষয় নিয়ে সলাপরামর্শ করছিলো। নুপুর নক করতেই কথা বন্ধ করে।
সবিতা বলে
” তুমি চা এনেছো কেনো?

নুপুর কক্ষে ঢুকে টি টেবিলের ওপর চায়ের কাপ নামায়।
“খারাপ পরামর্শ দিতে দিতে আপনার গলা শুকিয়ে গিয়েছে কি না এটা ভেবে আনলাম চা।
খান খান
খেয়ে আবার পরামর্শ দেওয়া শুরু করুন।

বলেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। পাশেই নায়েব তালুকদারের কক্ষ। সেখানে ঢোকে।
দেখতে পায় বিছানার ওপর কপালে হাত ঠেকিয়ে বসে আছে নায়েব।

” আপনার চিন্তা কমিয়ে দিবো?

নায়েব তাকায় নুপুরের মুখ পানে। নুপুর এক কাপ চা এগিয়ে দিতে দিতে বলে
“আপনার ছেলের ওপরে করা সব অভিযোগ আমি তুলে নিবো।
সাথে আপনারা নির্দোষ এটাও বলবো। তবে আমার একটা শর্ত আছে।।

নায়েব তাকিয়েই থাকে নুপুরের মুখ পানে। জিজ্ঞেস করে না “কি শর্ত”
নুপুর নিজেই বলে
“আম্মুকে সুস্থ করে দিন।।
তাকে একটু ভালোবাসুন।
মিথ্যে মিথ্যে হলেও। ওই মানুষটা সুস্থ হলে আমি সব অভিযোগ তুলে নিবো। কখনোই আপনাদের বিরুদ্ধে যাবো না।

” ভেবে বলছো?

“নুপুর শিকদার ভাবনা চিন্তা ছাড়া কোনো কথা বলে না।
কল করুন আম্মুকে। কথা বলুন তার সাথে।


নওয়ান একটু বেরুবে বলে শার্ট বদলে নিয়েছে। সিগারেট টানতে টানতে সিঁড়ি বেয়ে নামতেই কিচেন থেকে হাসাহাসির আওয়াজ শুনতে পায়। কৌতুহল দমাতে না পেরে এগিয়ে যায়। গিয়ে দেখে সিনথিয়া তরকারি কাটছে আর গল্প বলছে। স্নেহা মাছ কাটছে। আর নুপুর ডিম সিদ্ধ করছে।
বেশ খুশি তারা।
নওয়ানের ভালো লাগে। সেও ওদের সাথে যুক্ত হতল এগিয়ে যায়। বলে
“এতো খুশি কেনো তোমরা?

স্নেহা এক পলক তাকালো নওয়ানের পানে। পরমুহূর্তেই নিজের কাজে মন দেয়।
সিনথিয়া হাসতে হাসতে লুটোপুটি খেয়ে বলে
” নুপুর বলছে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আর নিউটন সিঙ্গাপুরের।

নওয়ানও হেসে ওঠে শব্দ করে।। বেশ সুন্দর তার হাসি। এতোক্ষণ নুপুর মিছামিছি রাগ দেখালেও এবার সেও হাসে।
ভাব দেখিয়ে বলে
“আমি চাঁদ না?
চাঁদ যেটা বলে সেটাই সঠিক।
স্নেহা আপু বলো?

স্নেহা বলে
” হ্যাঁ
চাঁদ বলেছে মানেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী বানাতেই হবে। চাঁদের জামাই দায়িত্বটা আপনার।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply