Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫২


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫২
দুপুর ১ঃ৩৫ মিনিট। কলেজ গন্ডি পেরিয়ে যথারীতি পিছনের রাস্তা ধরে লুকিয়ে চুকিয়ে মেইন রাস্তায় এসে নামলো মায়া। সাথে রয়েছে টিয়া। উদ্দেশ্য ধানমন্ডির শপিংমল। আপাতত কাউকে না জানিয়ে দু’জন পাড়ি জমাচ্ছে ধানমন্ডি শপিংমলে দিকে। টিয়া উদ্দেশ্য তেমন কিছু না থাকলেও মায়া উদ্দেশ্য ছিল সুবিশাল। রিদের জন্য গিফট কিনতে চাই নিজের জমানো টাকা গুলো দিয়ে। নিজের দীর্ঘ সময় নিয়ে জমানো টাকার মাটির বড় ব্যাংক ভেঙ্গেছে আজ সে। সবগুলো টাকা একত্র করে একটা পলিথিনে মুড়িয়ে পুটলি বানিয়ে ব্যাগে ভরে কলেজে নিয়ে এসেছে রিদের জন্য গিফট কিনবে বলে। রিদকে কি গিফট দিবে? সেটাও আর দুইমাস আগেই নিধারিত করা ছিল মায়ার মাথায়। তবে সে নিজের বাড়িতে হুট করে চলে যাওয়াতে রিদকে গিফট করার সেই সুযোগটা আর হয়ে উঠেনি মায়ার। তারপর খান বাড়িতে ফিরে আসার পর শফিকুল ইসলামের অসুস্থতার জন্য! কলেজ শেষ করে দ্রুত বাসায় ফিরতে হয়েছে নিজের বাবাকে হসপিটালে দেখতে যেতে হবে বলে। কিছু না কিছু কারণ বশত বা ঝামেলায় জড়িয়ে মায়া আর এতো দিন রিদের জন্য গিফট নিতে পারেনি। তাই আজ প্ল্যানিং করেই মায়া বাসা থেকে বের হয়েছিল কিভাবে? কিভাবে? কলেজে থেকে পালিয়ে শপিংমলে যাওয়া যাবে। এই বিষয়ে অবশ্য ছায়া টিয়া থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্যও নিয়েছে সে। তিনজন মিলে ক্লাসভর প্ল্যানিং ফ্লোটিং পরিকল্পনা করে করে বাকি ক্লাস গুলো মিস দিয়ে কলেজর পিছনের রাস্তা ধরে লুকিয়ে বের হয়ে এসেছে রাস্তায়। আর ছায়াকে রেখে এসেছে কলেজে। আপাতত দুজনের সেফটির জন্য। মায়ার গায়ে সাদা বোকরা পরিহিত হাত মোজা, পা মোজা দিয়ে। টিয়া স্বাভাবিক কলেজ ড্রেসেই আছে। তবে গায়ের ওড়নাটা গোল করে মাথায় দিয়ে মুখ ঢেকে বেঁধে নিয়েছে সে, যাতে কেউ চিন্তে না পারে। এই মূহুর্তে মায়ার ডাইভার কাকুও মায়াকে খুঁজবে না। কারণ মায়ার ক্লাস তিনটায় শেষ। কিন্তু এখন দেড়টা বাজে! তারমানে মায়ার হাতে আরও দেড় ঘন্টা সময় আছে। চল্লিশ মিনিট সময় তাদের দু’জনের আসা যাওয়াতে লাগবে। বাকি পঞ্চাশ মিনিট সময় মায়া রিদের জন্য আগের থেকেই অর্ডার দেওয়া স্পেশাল রিংটা নিবে। দোকানটাও খান বাড়ির পরিচিত দোকান। মায়াকেও চিনে তাঁরা খান বাড়ির সদস্য হিসেবেই। মায়া যেদিন হেনা খান সাথে আয়নের বিয়ের শপিং করতে গিয়েছিল রিদের অফিস থেকে সেইদিন মায়া সবার অগোচরে, রিদের জন্য একটা রিং অর্ডার করে এসেছিল। তাও মায়ার স্পেশাল ডিজাইন করা ছিল। সবাই যখন গহনা কিনতে ব্যস্তছিল, তখনই মায়া ফিহাকে সাথে নিয়ে রিংটা লুকোচুরি ভাবে অর্ডার করেছিল। মায়ার রিংটা অর্ডার করার সময় ফিহা তখন অবাক নেত্রে মায়াকে প্রশ্নও করেছিল! জিজ্ঞাসা করেছিল! এটা কি আয়ন ভাইয়ার জন্য অর্ডার করছিস মায়ুরানী? মায়া তখন লাজুক হেসেছিল! লজ্জা বলতে পারেনি। নাহ! রিংটা তার মিস্টার ভিলেন জন্য ছিল। কিন্তু আজ ফিহাকে চাইলেও মায়া নিজের কাজের জন্য ডাকতে পারছে না। কারণ আজ ফিহা মানসিক ভাবে সুস্থ নয়। সুস্থ নয়! আর তার জন্যই মায়া অনেকটা বাঁধ্য হয়েই টিয়াকে সাথে নিয়ে বের হলো অনেকটা সাহস নিয়ে। যে করেই হোক না কেন, তাদের দু’জনকে কলেজ ছুটি হওয়ার আগে আগে উপস্থিত থাকতে হবে এখানে, নয়তো বড় ধরণের সর্বনাশ হয়ে যাবে। মায়াকেও সবাই খোজাখুজি করা শুরু করে দিবে। এমনিতে কিছুক্ষণ পরপর কেউ না কেউ এসে মায়ার খোঁজ করে যায় ক্লাসে। সে ঠিক আছে কিনা সেটা দেখতে। এখন যদি কলেজের কেউ না কেউ খোঁজ করে তাদের দু’জনকে না পায় তাহলে নিশ্চয়ই খান বাড়িতে বলে দিবে সেটা। তাহলে মায়ার আর শেষ রক্ষা হবে না এতো লুকোচুরি করেও। তাই যেভাবেই হোক মায়াকে নিদিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে হবে কলেজের মধ্যে। কিন্তু মায়া যাতে দীর্ঘ দেড় ঘন্টা সময় বাহিরে নিশ্চিতে নিজের কাজটা শেষ করে আসতে পারে তার জন্যও দারুণ বুদ্ধি খাটিয়ে এসেছে কলেজে। ছায়াকে ওয়াশরুমের বাহিরের দাঁড় করিয়ে এসেছে যদি কেউ মায়ার কথা জিজ্ঞাসা করে তাহলে বলবে মায়া ওয়াশরুমের আছে। ব্যস! কেউ আর সন্দেহ করতে পারবে না। যে মায়া আসলেই কলেজে নেই সেটা। পরবর্তীতে তাদের তিনজনের দীর্ঘ প্ল্যানিং ফ্লোটিং পরিকল্পনাও অবশেষে কাজে দিবে। দীর্ঘ মনস্তাত্ত্বিক বিষয় গুলো কাটিয়ে মায়া মেইন রোড ধরে দাঁড়ালো সিএনজি জন্য। আশেপাশের রাস্তাঘাট তেমন একটা চেনাপরিচয় নেই মায়ার। কখনো একা ঢাকা শহরে বের হয়নি আজই প্রথম। অপরিচিত রাস্তায় ও মায়া অনেকটা সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশেই ভয়ে কাচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো টিয়া। চাতক পাখির ন্যায় দৃষ্টি এদিক সেদিক ঘুরিয়ে ভয় ভয় কন্ঠে মায়ার উদ্দেশ্য বলে উঠে…
—” মায়ু! এইভাবে কাউকে না জানিয়ে যাওয়াটা কি ঠিক হবে? চল না কলেজ ফিরে যায় আমরা। আমার না ভয় করছে। এমনিতেও আমরা দু’জন ঢাকা শহরের রাস্তা ঘাট চিনি না কিছু। যদি কোনো বিপদে পড়ি তাহলে?
টিয়া ভয়ার্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারলো মায়া। তারপরও আমলে নিল না বিষয়টি। কারণ সে দৃঢ় স্থির নিজের মনোবলে। যে করে হোক না কেন আজই রিংটা নিতে হবে মায়ার নয়তো পরে যদি সময় না পায় তো?
—” দেখ টিয়া! ভয় দেখাবি না একদম। আমি আছি তো তোর পাশে। ভয় পাসনা কেমন। শুন আমরা যে রাস্তাঘাট চিনিনা সেটা আমি তুই ছাড়া বাকি কেউ জানে না। তাই রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে সোজা ধানমন্ডি চলে যাব। সিএনজি ডাইভারই আমাদের ধানমন্ডিতে পৌঁছাবে। আপাতত আমাদের রাস্তাঘাট না চিনলেও চলবে। তবে দোকানটা আমার চিনা আছে। সেটাই চলবে। এবার চল তাড়াতাড়ি! দেরি হলে ধরা পড়ে যাব! আয়!

দুজনই সিএনজি ধরলো। গন্তব্য উদ্দেশ্য পাড়িও জমালো। তবে পিছনে রেখে গেল মুখোশদারী গুপ্তচরকে। কে বা কার লোক তা জানা নেই। তবে মায়ার একা বের হওয়ার তথ্য ততক্ষণে পৌঁছানো হলো তার মালিকের কানে।
~~
রিদের অফিসে বসে আছেন মেহেরবান। এসেছে নিজ প্রয়োজনেই রিদের সাথে কথা বলতে। নিজের স্বামীর কনস্ট্রাকশন সাইডে কিছু কারণ বশত সরকারি লোকদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ায় আপাতত সেখানটার কাজ বন্ধ আছে কয়েক সাপ্তাহ ধরে। এই কয়েক সাপ্তাহ নিজেরা অনেক চেষ্টা করেছিল মিটমাট করে নেওয়ার। কিন্তু সরাসরি দেশের সরকারি ও উপরস্থ ক্ষমতাসীন লোকজন জড়িত থাকায় বিষয়টি কোনো মতেই হ্যান্ডেল করতে পারছেন না তাঁরা। আয়নের সাথে মনমালিন্যতা থাকায়, ছেলের সাথেও বিষয়টি শেয়ার করেনি তাঁরা। তাছাড়া উনাদের জানা মতে একমাত্র ক্ষমতাধর লোক ছাড়া বিষয়টি হ্যান্ডেল করাও পসিবল না। সেক্ষেত্রে রিদ দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্ষমতাসীন ব্যক্তি। দেশের সরকারের সরাসরি পিছনের হাত তাঁরা। তাদের ডিসিশনই সর্বত্র মূল্যায়ন বেশি থাকে সরকার কাছে। কারণ দেশের ক্ষমতাধর মাফিয়াদের কালো টাকায় আর পাওয়ারের দাপটে দেশে প্রায় ছোট বড় ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে থাকে। সেই সুবাদে মেহেরবান এক প্রকার বাধ্য হয়েই আজ আসতে হয়েছে রিদের কাছে। তাছাড়া পারিবারিক মনমালিন্যটাও দূর করতে চান তিনি রিদের সাথে। আয়ন বা রিদ কাউকেই আলাদা চোখে দেখেননি তিনি। বরাবরই তিনি দু’জনকে সমান ভালোবাসে এসেছেন সবসময়। তবে কষ্ট পেয়েছিল সেদিন রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মেহেরবানের আপত্তি ছিল কেন রিদ আগে উনাদের জানাননি মায়ার সাথে তার বিয়ে বাতিল না হওয়ার বিষয়টি। উনারা জানলে হয়তো আয়নকে মায়ার প্রতি দূর্বল হতে সাহায্য করতো না। মায়াকেও আয়নের বউ করার জন্য আয়নকে স্বপ্ন দেখাতো না। তিনিও একজন মা। তাই মা হয়ে সেদিন শুধু ছেলের মন ভাঙ্গার বিষয়টি দেখেছিল নীরবে। তারপরও রিদকে কিছু বলেন নি। চুপ ছিল। কারণ তিনি জানেন আয়ন প্রাণবন্ত মানুষ! সহজেই জীবন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। জীবনের দ্বিতীয় কাউকে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা হয়তো করবে। কিন্তু রিদ! সে সহজেই কাউকে নিজের জীবনে ভিড়তে দেয় না। যদি একবার ভিড়ে যায় তাহলে সেটা ছাড়তে পারে না! কোনো মূল্যেই না। জীবনে একা থেকে যাবে তারপরও দ্বিতীয়বার কাউকে সুযোগ দিবে না বলেই তিনি সবটা ভেবে চুপ ছিলেন। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা যে, রিদ তার জীবনে কোনো নারীসঙ্গ নিয়েছে। একা জীবন কাটায়নি। বড় দুশ্চিন্তা থেকে উনার মুক্ত করেছেন এটাই অনেক। তাছাড়া রিদ অন্তত বিচক্ষণ বুদ্ধিমান ছেলে। যাহ করবে নিশ্চয়ই ভেবে চিন্তে করে। এবং সবকিছুর করার পিছনে যথেষ্ট পরিমাণ কারণও থাকে। মায়াকে নিজের জীবনে নিয়ে আসার পিছনেও হয়তো কোনো কারণ আছে। এমনি এমনি তো আর নিজের বেপরোয়া জীবনে জড়াবে না কাউকে সে। এবার কারণটাও নাহয় সময়ে সাথে সাথে রিদ নিজেই প্রকাশ করবে। নিজের ভাবনা চিন্তের মধ্যেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন মেহেরবান। সামনে থাকা কফি মগে পুনরায় চুমুক বসাতেই গমগম পায়ে রুমে প্রবেশ করলো রিদ। সূক্ষ্ম চোখে মেহেরবান দেখে নিয়ে বসলো নিজের চেয়ারটিতে। রিদ বসতেই স্মিথ হসলো মেহেরবান। ঠান্ডা স্বরে বললেন…
—” কেমন আছিস রিদ?
রিদ উত্তর করলো না মেহেরবানের এমন প্রশ্নে বরং কপাল কুঁচকে জোরালো দৃষ্টিতে তাকালো সেদিকে। মেহেরবান রিদের দৃষ্টির মানে বুঝতে পেরে আলতো হেঁসে হাতে থাকা কফির কাপটা জায়গায় রাখতে রাখতে বললো….
—” রাগ করে আছিস এখনো??
মেহেরবানের কথায় গা এলিয়ে নিজের চেয়ারে বসতে বসতে গম্ভীর মুখে বলে উঠে রিদ…
—” আপাতত না! তবে তোমার এখানে আসার কারণটা জানতে চাচ্ছি!
—” কারণ ছাড়া কি আসা যাবে না?
—” তারমানে তুমি বলতে চাচ্ছ! তোমার এখানে আসার কোনো কারণ নেই তাই তো?
—” ঠিক তা না! কারণ আছে অবশ্যই! তবে…
মেহেরবানকে বলতে না দিয়ে সোজা হয়ে বসে রিদ বলে..
—” গ্রেট! এবার সমস্যা বলো!
—” তুই কি ব্যস্ততা দেখাচ্ছিস রিদ? তোর সাথে কথা বলতে কি এখন আমার সময় ধরতে হবে?
নিজের বামহাতে ঘড়িটি একপলক দেখে নিলো রিদ। মেহেরবানের দিকে তাকিয়ে আগের ন্যায় গম্ভীর মুখে বলে উঠে…
—” আপাতত! কারণ ২ঃ৩০ আমার মিটিং আছে। এখন বাজে ২ঃ১৫। সো তোমার হাতে পনেরো মিনিট সময় আছে কথা শেষ করার জন্য। এখন তুমি হেয়ালি কথা বলে তোমার পনেরো মিনিট শেষ করবে না নিশ্চয়ই।
রিদের কথা খানিকটা নড়েচড়ে বসলো মেহেরবান। রিদ নিজের সময় ও কাজ নিয়ে বেশ পাংচুয়াল। তাই রিদের সাথে হেয়ালি কথা বলা মানেই নিজের সময় নষ্ট করার ছাড়া আর কিছুই না। তিনি খানিকটা হাসফাস করে রিদের দিকে তাকালেন। রিদ বেশ স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে আছেন উনার দিকে। থমথমে পরিবেশের নিরবতা ভেঙ্গে মেহেরবান আগে বলেন…
—” আসলে আয়নের আব্বু ঢাকার কনস্ট্রাকশনের কাজটা বন্ধ হয়ে আছে আজ বেশ কয়েক সাপ্তাহ ধরে।সরকারি লোকজনের সাথে আয়নের আব্বুর ঝামেলা হওয়ার! তারা কনস্ট্রাকশন সাইডে সিল করে তালা মেরে দিয়েছে সেখানে। আমাদের অনেক চেষ্টার করেও কিছু…
মেহেরবানের কথার শেষ হওয়ার আগে রিদের লিপিপ্ত স্বীকারোক্তি বলে…
—” জানি সেটা! আমার নির্দেশেই করা হয়েছে। তারপর বলো…
রিদের কথায় বিস্ফোরণে চমকিত ভঙ্গিতে মুখ খুললো মেহেরবান…
—” মানে তুই করেছিস কিন্তু কেন?
সোজাসাপ্টা উত্তরে বলে…
—” কেন উত্তরটা তোমার স্বামীর দিবে! তবে তোমার স্বামীকে বলো আমার সাথে ক্ষমতা ক্ষমতা না খেলতে। কারণ ক্ষমতার আসনে বসে দিনের আলোতে কালো রাজ্যত্ব করা রিদ খানের কাজ। তাই সেখানে সম্পর্কের জের টেনে কিন্তু ছাড় আমি কাউকে দিব না। তাই ঘর সামলাও ফুপি। বাহিরে পরিবেশ হানিকারক হতে পারে তোমার স্বামীর জন্য।
হতভম্ব হয়ে সচকিত কন্ঠে বলেন মেহেরবান…
—” মানে ঝামেলা হয়েছে তোদের মাঝে?
মেহেরবানের কথার উত্তর করলো না রিদ। বরং টেবিলের উপর থাকা ল্যাপটপটা টেনে নিজের কাছে নিতে নিতে বলে..
—” তোমার কাজ হয়ে যাবে! তুমি যাও!
রিদের কথায় খানিকটা ইতস্তত বোধ করলো মেহেরবান। তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেন নিজের স্বামী ও রিদের লোকেদের মাঝে কিছু একটা নিয়ে নিশ্চয়ই ঝামেলা হয়েছে। নয়তো রিদ এমনি এমনি এই কথা গুলো বলতে না। কিন্তু কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে সেটা উনার স্বামীও উনাকে কিছু বলিনি। এবং আজ এতো করে বলার পরও মেহেরবানের সাথে আসেনি উনার স্বামী। বরং রিদের কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য মেহেরবানের স্বামীই উনাকে বলেছিল বিষয়টি। উনি তো উনার স্বামীর কথা মতোই এখানে এসেছিল। মেহেরবান কথা না বাড়িয়ে ইতস্তত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়াতে চাইলে পুনরায় থামিয়ে দেয় রিদ। মেহেরবানকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলতে চাই রিদ। সেটাই বললো রিদ। মেহেরবান দৃঢ় আগ্রহ নিয়ে রিদের দিকে তাকাতেই, রিদ স্বতঃস্ফূর্ত গলায় বনিতা ছাড়ায় বলতে শুরু করে…

—” দেখ ফুপি! বনিতা করে কথাবার্তা বলাটা আমার পারসোনালিটির সাথে যায় না। তাই সোজাসাপ্টা বলছি তোমাকে যেকারণে ডাকা আমার। শুরু থেকে বলছি নয়তো বুঝবে না তুমি। দেখ! ফিহা সাথে আরিফের সম্পর্ক বিগত তিন বছরের। আমার বউকে খান বাড়িতে নিয়ে আসার পূবে থেকেই দুজনার ভালোবাসা সম্পর্ক ছিল। এই বিষয়টি আমার কানে এসেছিল আরও আড়াই বছর আগে। দাদী রিতকে হুটহাট খান বাড়িতে নিয়ে আসা! আমার সাথে একমাস পর দেখা হওয়া। তারপর সেদিন জানতে পারি রিত আমার বাল্যকালের বউ! তাই আমি রিতের সম্পর্কে সকল ইনফরমেশন বের করতে লোক লাগায়। কারণটাও সিম্পল ছিল! আমাদের বিয়ের পর দূরত্ব হিসাবে দুজনের মাঝে দীর্ঘ নয় বছরের একটা গ্যাপ ছিল। একে অপরের সাথে সাথে দুজন দুজনার নামটা সহকারে ভুলে গিয়েছিলাম তখন। তাই রিতের পাড় করে আসা দীর্ঘ নয় বছরের তথ্য যোগাড় করতে আমি লোক লাগিয়ে ছিলাম মূলত। যার দারুণ রিত ও রিতের পরিবারের প্রতিটা সদস্য সম্পর্কেও আমার কাছে সকল তথ্য এসেছিল। আমি সেদিনই জানতে পারি ফিহা সাথে আরিফের ভালোবাসার সম্পর্কের বিষয়টি। তখন আমার কাছে বিষয়টি আহামরি কিছু মনে হয়নি তাই বাঁধা দেয়নি। আমি কারও পার্সোনাল বিষয়ে ইন্টারফেয়ার করা পছন্দ করি না বলেই চুপ ছিলাম। আজও থাকতাম! কিন্তু বিপত্তি ঘটলো আমার বউকে নিয়ে। সে বড্ড শোকাহত নিজের ভাইয়ের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে। আমার কাছেও কতক্ষণ কেঁদেকুটে বুক ভাসিয়ে আবদার করেছে, নিজের ভাইয়ের সম্পর্কটা ঠিক করে দিতে। আমাকে নাকি তার ম্যাজিক ম্যান মনে হয়। যায় হোক! বউ আমার অন্তত ছোট মানুষ, তাই মাথায় যতটুকু ধরেছে ততটুকু বলেছে। বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নয় সে। যদি আমার বউ বাস্তবতা বুঝতো তাহলে সবার আগে আমাকেই ঘৃণায় করতো ভালো না বেসে। আমাকে আপন ভেবে সারাক্ষণ পিছন পিছন ঘুরঘুর করতো না। বরং ভয়ে ঘৃণায় মুখ ছিটকে দূরে সরে যেতো। এজন্য আমার সর্বত্র প্রথম দোয়াটায় থাকে যে, আমার বউ অবুঝই থাকুক। তার বাস্তবতার জ্ঞান কখনোই না হোক! সে থাকুক সারাজীবন আমার উপর নির্ভরশীল। আমি শক্ত হাতে তাঁকে সামলিয়ে নিতে পারবো। কিন্তু বুঝদার বউ হলে আমার সাথে থাকতে চাইবে না। আর কেন থাকতে চাইবে না সেটাও তোমার জানা ফুপি। এবার আসি মেইন পয়েন্টে!
আমার বউ অবুঝ! তুমি কিন্তু নও! বাস্তবতা সম্পর্কে অনেক জ্ঞান রয়েছে তোমার। এখন তুমি যদি ফিহাকে জোরপূর্বক সমাজের উঁচু শ্রেণির কারও সাথে বিয়ে দাও। তাহলে তুমি কি নিশ্চিত রুপে ফিহার জন্য সুখটা এনে দিতে পারবে? তোমার ঠিক করে দেওয়া পাত্রের সাথেই কি তোমার মেয়ে সারাজীবন সুখী সংসার করতে পারবে! এমনটাও কি তুমি শিওর ফুপি। যে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হবে না কখনো।

কথা গুলো বলেই রিদ থামলো। মেহেরবান রিদের কথায় চমকে উঠে প্রশ্ন সিক্ত চোখ বলেন…
—” মানে? কি বলছিস এসব! ডিভোর্স হবে কেন?
রিদ খানিকটা বিরক্তি বোধ করলো মেহেরবানকে নিজের কথা গুলো বুঝাতে না পেরে। তাই বনিতা না করে পুনরায় আগের ন্যায় গম্ভীর মুখ বলে উঠে রিদ….

—“দেখ ফুপি! তোমার পরিবারের স্ট্যাটাস বজায় রেখে মেয়ে বিয়ে দিলে, দুইদিন যেতে না যেতে ছেলে টাকার দাপটে অন্য নারী আসক্ত হয়ে পড়লো। তোমার মেয়ের সংসার ভাঙ্গলো! ডিভোর্সি হয়ে ঘরে আসলো। তখন তুমি বুঝতে পারলে ফিহার জন্য নেওয়া ডিসিশনটা তোমার ভুল ছিল। তুমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারনি। তুমি অন্যায় করেছো মেয়ে সাথে। তখন তুমি পারবে না অতীতে গিয়ে ফিহার জীবনটা ঠিক করে দিতে। ফিহাকে তার ভালোবাসার মানুষটা ফিরিয়ে দিতে। তোমার মেয়ে ভালোবাসা হারিয়ে তোমার কথার তলে পড়ে, দ্বিতীয় সংসার করলেও সেই সংসারটাতেও সুখের হবে না। বরং সেটা চুক্তি বা যান্ত্রিক সংসার হবে ফিহার। ভালোবাসা থাকবে না। কারণ তুমি টাকা জাত দেখে মেয়ের বিয়ে দিবে মন দেখে নয়। সংসার করতে হবে বলেই সংসার করবে তোমার মেয়ে। তখন তুমি মা হয়ে কিভাবে নিজের মেয়ের সাথে ফেইস করবে কিছু ঠিক করেছ ফুপি। দেখো ফুপি! সময় হারিয়ে বুঝার কোনো মানেই হয়না। তখন তুমি শত চেষ্টা করলেও সবটা আগের মতো ঠিক করতে পারবে না। বরং নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবে সারাজীবন। তুমি ফিহা জন্য বড়লোক স্বামী যোগাড় করে দিতে পারবে কিন্তু তোমার দেওয়া সেই ছেলেটি আদর্শ স্বামী হবে, সেই গ্যারান্টি তুমি দিতে পারবে না। অথচ ফিহা তোমাকে আরিফ সম্পর্কে সেই গ্যারান্টি দিতে পারবে। নিঃসন্দেহে বলতে পারি আরিফ একজন আদর্শ স্বামী হবে। তোমার মেয়েকে ভালোবাসে সারাজীবন আঁকড়ে রাখবে। উহুম! আমি আন্দাজে কোনো কথা বলি না ফুপি! সেই সকল তথ্য আমার কাছে আছে আরিফ সম্পর্কে। কোনো রকম বাজে নেশায় নেই। সাত বছর ধরে চট্টগ্রাম থাকছে পড়াশোনার সূত্র ধরে তবে চার বছর হয়েছে নিজের একটা বিজনেস দাঁড় করিয়েছে। মোটামুটি ভালোই চলে কর্মচারী বাবদ ছোটখাটো একটা এমাউন্টও পাই তিন লক্ষ মতোন। নিজের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসাটা বড় করার চেষ্টায় আছে হয়তো জীবনের একটা সময় গিয়ে সফলও হয়ে যাবে অনাহেষেই। কারণ সে একজন পরিশ্রম ছেলে। কথায় আছে না পরিশ্রম সৌভাগ্য চাবিকাঠি। অনেকটা তাই-ই আরিফের ক্ষেত্রে। যায় হোক! তুমি বাস্তবতা বুঝ ফুপি! তাই তোমাকে আবারও সেই বাস্তবতা দিয়েই বুঝায়। তুমি সমাজ! জাত! শ্রেণি! উঁচু নিচু বুঝ। অথচ তুমি একদিন না খেয়ে থাকতে এই সমাজই তোমাকে জিজ্ঞাসা করতে আসবে না। তুমি খেয়েছ কিনা! তাহলে তোমার এতো দরদ কিসের এই সমাজে জন্য। আজ তুমি হুচট খেয়ে দেখ! তোমার এই সমাজেই তোমাকে নিয়ে নিন্দা জানাবে। ভালো মন্দ যাচাইও করতে আসবে না। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমি না খেয়ে থাকতে যদি আমার খোঁজ করার জন্য সমাজ এগিয়ে না আসে তাহলে আমি কেন সমাজের চিন্তা করে করে নিজের বর্তমানটা নষ্ট করবো। কোনো দরকার আছে এতে। হ্যাঁ! আমি সমাজের খায় না পড়ি? দেখ ফুপি! আমি ভালো মানুষ না! সমাজের উচ্চ শ্রেণির নিকৃষ্টতর জাতির মধ্যে পড়ি। কেউ আমার কালো টাকার পাহাড় বা কালো ক্ষমতা ডিঙিয়ে আমি অবধি পৌছাতে পারবে না সহজে। তোমার পিছনে এতক্ষণ সময় দিলাম তাও আমার বউয়ের মন রক্ষাতে। নয়তো আমার মতো মানুষ কাউকে ধৈর্য্য নিয়ে বুঝানোটাও আমার ধৈর্য্য পরীক্ষা হয়ে যেত। আরিফ তার ভালোবাসার জন্য তোমার দুয়ারে এসেছিল। তুমি ফিরিয়ে দিয়েছ বলে বিনা শব্দের চলেও গেছে ইতিমধ্যে। কিন্তু আমি হলে এতক্ষণ কিয়ামত করে ফেলতাম। নিজের ভালোবাসার মানুষকে নিজের কাছে রাখার জন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করতাম না। আমি ভালোবাসি মানে এখানেই কথা শেষ। এরপর অন্য কারও কথায় থাকতে পারবে না। তারপরও যদি কেউ কথা বলতে আসে তাহলে আমার বন্দুক তার কপাল। এবার যদি আমার বউও হয় তাহলে তাঁকেও ছেড়ে দিব না আমি। আমার না হলে কারও হতে দিব না তাঁকে। জানে মেরে দিব। এক কথায়! এবার তুমি বাসায় যাও ফুপি। আশা করছি তুমি আমার কথা গুলো বুঝতে পেরেছ!

রিদের কথা শেষ হতে হতেই রিদের অফিসে কক্ষের দরজা টেনে হঠাৎ প্রবেশ করে মেহু আব্দুল্লাহ। গায়ে গোলাপি রঙ্গের প্যান্ট, কোট পড়া সাদা শার্টের সাথে। একদম অফিশিয়াল গেটআপেই আছে। তবে বুকের পাশের দুটো বোতাম টেনে খুলে দেওয়া। রিদ মেহুকে নিজের অফিস রুমে প্রবেশ করতে দেখেও কিছু বললো না যেন। বরং স্বাভাবিক দৃষ্টিতে এক পলক সেদিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে তাকায় মেহেরবানের অশ্রু সিক্ত ভেজা চোখের দিকে। রিদ বুঝতে পারে মেহেরবান নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন আরিফকে নিয়ে। তাই রিদ পুনরায় মনোযোগ হয় নিজের কাজে। ল্যাপটপে নিজের ইমেইল চেক করতে করতে রিদ পুনরায় বলে…
—” বাসায় গিয়ে দ্রুত ফিহার সাথে কথা বলো ফুপি! আমার যদি ভুল নাহয়। তাহলে তোমার মেয়ে এই মূহুর্তে সুইসাইড করার চেষ্টায় আছে। এবার মা হয়ে তোমার করনীয় কি সেটা তুমি জানো…

রিদের কথা শেষ হতে না হতেই হতভম্ব হয়ে দৌড়ে বের হয়ে যায় মেহেরবান। রিদের সকল কথার মানেই তিনি বুঝতে পারছেন। নিজের ভুলটাও বুঝতে পারছেন তিনি। কিন্তু নিজের ভুলের জন্য যদি এখন উনার একমাত্র মেয়েটাকে তিনি চিরতরে হারিয়ে ফেলে। তাহলে মা হয়ে সারাজীবন এই কষ্টটা বয়ে বেড়াতে পারবেন না তিনি। বুক ফাটা কষ্টে তিনিও মরে যাবেন। নিজের সাজানো গোছানো সংসারটাও ধ্বংস হয়ে যাবে। স্বামী বা নিজের ছেলেকে কি উত্তর দিবেন নিজের একমাত্র মেয়ের কিছু হলে? না মেহেরবান আর কিছু ভাবতে পারলো না। কান্না ভেঙ্গে পড়ে এক ছুটে দৌড় বের হলো রিদের অফিস থেকে। যতদ্রুত সম্ভব নিজের বাড়িতেও পৌছালো। কিন্তু ফিহার রুমের যেতে যেতে বুঝতে পারলো ততক্ষণে ফিহা সত্যি সত্যিই সুইসাইড করে ফেলেছে। দু’হাতে রগ কেটে চেয়ার হেলান দিয়ে কাত হয়ে পড়ে আছে। দু-হাতের রক্তে সারা ফ্লোর ভেসে গেছে। ফ্লোরে রক্তের স্রোত দেখে বুঝায় যাচ্ছে অনেকটা দেরি করে ফেলেছেন মেহেরবান নিজের মেয়েকে বাঁচাতে। স্তব্ধ মেহেরবান গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে ধুপ করে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। বাড়ির সার্ভেন্ডরা জড়ো হয়ে দ্রুত খবর দিল আয়নকে। উত্তেজিত ভঙ্গিতে আয়ন চৌধুরী বাড়িতে ছুটে এসে অজ্ঞান অবস্থায় মেহেরবানকে ও ফিহাকে ধরাধরি করে হসপিটালের নিল। ততক্ষণে ফিহার অবস্থা আরও হতাশা জনক হলো। এরিমধ্য আরিফের কানেও গেল ফিহার হঠাৎ মৃত্যু সংবাদটি। ফিহার হঠাৎ সুইসাইডের মৃত্যুর সংবাদটি নিতে না পেরে উত্তেজনা সেও জ্ঞান হারালো বসার রুমেই।
~~
অন্ধকারময় থমথমে নিরব পরিবেশ। দেশি-বিদেশি সকল কর্মীই গুরু গম্ভীর মুখে সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে আছে সামনে হোয়াইট বোর্ডের দিকে তাকিয়ে। রিদের মিটিং ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কনফারেন্স রুমে বড় হোয়াইট বোর্ডের প্রজেক্টের ফুটেজ চলছে একের পর এক। অন্ধকারময় রুমটিতে সাদা আলো আলোকিত চারপাশ। একজন পারদর্শী কর্মী প্রজেক্টটি বুঝাচ্ছেন সিরিয়াস ভঙ্গিতে। থমথমে পরিবেশে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষেরই মনোযোগ স্থির এই প্রজেক্টের মধ্যে। রিদ গম্ভীর মুখে কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকেই। তার একপাশে মেহু আব্দুল্লাহ বসা তো অন্য পাশে আসিফ দাঁড়িয়ে আছে হাতে ফোন নিয়ে। অনেকটা বিরক্তি সহিতই দাঁড়িয়ে আছে আসিফ। মূলত বিগত অনেকটা সময় ধরেই হাতের ফোনটি বিরতিহীন ভাবে লাগাতার বেজেই চলেছে। থামা থামি নেই। জরুরি মিটিংয়ে আছে বলে আসিফ অনেক বার কল কেটেও দিয়েছে ইতিমধ্যে। তারপরও বারবার কল করে যাচ্ছে আননোন নাম্বার থেকে তাঁকে। আসিফ কল কাটতে কাটতে বিরক্ত। এবার অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে রিসিভ করতে হবে। কারণ আসিফ বুঝতে পারছে হয়তো জরুরি ভিত্তিক কোনো কল হবে তার জন্য। নয়তো এতটা ব্যস্ত ভঙ্গিতে তাকে কেউ কল করার সাহস পেতো না। আসিফ এক পলক রিদকে দেখে নিয়ে হোয়াইট বোর্ডের দিকে তাকালো। কাউকে কিছু না বলে আস্তে করে রুমের পিছনে দরজা ধরে বাহিরে বের হয়ে কলটি রিসিভ করলো। উদ্দেশ্য কলদাতা ব্যক্তিকে শক্ত গলায় হুমকি দিবে তাকে এতোবার কল করার জন্য। কিন্তু আসিফ কল রিসিভ করে ফোনটি কানে ধরতে ধরতেই যাহ শুনলো তাতে মুহূর্তেই গা শিউরে তরতর করে কেঁপে উঠলো শরীর। কাঁপা কাঁপা শরীর এক মূহুর্তেও দেরি না করে দ্রুত ছুটে ঢুকলো কনফারেন্স রুমের ভিতর। কোনো দিক না তাকিয়ে দৌড়ে এসে রিদের কানের কাছে ঝুঁকে কিছু বলতেই উত্তেজিত ভঙ্গিতে তৎক্ষনাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে মৃদু স্বরে আওড়ায় রিদ.. শিট!
রিদ যতটা উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথাটা বললো তার থেকে দ্বিগুণ উত্তেজিত ভঙ্গিতে ছুটে বের হলো কনফারেন্স রুমে থেকে। রিদের হঠাৎ এমন করায় তাৎক্ষণিক রুমের আলো জ্বলে উঠলো। হতভম্ব দৃষ্টিতে সবাই তাকিয়ে থাকলো রিদের চলে যাওয়ার দিকে। রিদের পিছন পিছন আরিফ সাথে সাথে মেহুও দৌড়ালো। রিদের গাড়ি বের হয়ে যেতেই পিছন পিছন আসিফও বডিগার্ড নিয়ে বের হলো তৎক্ষনাৎ। তাদের প্রায় সাথে সাথে মেহুও গাড়ি নিয়ে বের হলো কৌতূহল বশত কি হয়েছে জানতে। রিদ উত্তেজিত ভঙ্গিতে দ্রুত গাড়ি ছুটাচ্ছে ধানমন্ডি শপিংমল উদ্দেশ্য। অস্থির দৃষ্টির সাথে সাথে ছটফট মনে বিরাজ করছে মায়ার নিরাপত্তা বিষয়টি।

( এতোটা দেরিতে পার্ট গুলো দিতে হয় বলে অন্তত দুঃখিত আমি। তবে এবার থেকে এতটা দেরি হবে না। রোজ দিতে না পারলেও একদিন পরপর দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ!)
.

চলিত…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply