দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২৩
রান্নাঘরে স্থির হয়ে দাড়িয়ে আছে তুবা।রান্না করতে এসেছিল সে কিন্তু তার রান্নায় মন বসছে না।খালি মাথায় আসছে কাল কি করবে? যদি নিহান ধরে ফেলে তাকে?পরমুহূর্তেই নিজের মনকে শান্ত করল তুবা।রান্নায় মনযোগ দেওয়ার চেষ্টা করল।আতিয়া বেগম আজ অসুস্থ তাই তুবাকে রান্না করতে হবে।কিছু সবজি কা’টছে তুবা হঠাৎ অন্যমনস্ক হওয়ায় হাতের আঙুলের মাঝখানের অংশে কে’টে যায়।তুবা “উফ” করে উঠল।নিহান সিঁড়ি দিয়ে নামছিল হঠাৎ তুবার আওয়াজ শুনে তাড়াতাড়ি নিচে নামল।রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে আসল আস্তে আস্তে।তুবা কা’টা জায়গার দিকে তাকিয়ে আছে চুপচাপ আর চোখবেয়ে টপটপ করে পানি পরছে।নিহান এসব দেখে তাড়াতাড়ি এসে হাত ধরল।তুবাকে টেনে এনে বসাল সোফায়।ফার্স্ট এইড বক্স এনে যাবতীয় ঔষধ লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল সেখানটাই।নিহান রেগে বলল,
“চোখ কোথায় থাকে তোমার?”
তুবা আমতা আমতা করে বলল,
“ইয়ে মানে..”
“ইয়ে মানে মানে করছো কেন?এরকম বাচানোর জন্য আমি কি সবসময় থেকে যাবো?”
“কেনো আপনি কই যাবেন?”
নিহান হতভম্ব হলো এই প্রথমবার।মেয়েটা যে সত্যিই বোকা সে আজ বিশ্বাস করল।এত বোকাও মানুষ হই?সে এই সহজ কথাটার মানেও বুঝলো না?এতটাই বোকা সে?নিহান ধীরে বলল,
“তুমি এত বোকা কেন?”
“একদম বোকা বলবেন না আমাকে।”
“বোকাকে বোকা না বলে কি বলবো শুনি?”
তুবা গাল ফুলিয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।নিহান মুচকি হাসল।নিহান হাঁটু গেড়ে বসে ছিল এতক্ষণ।তুবাকে গাল ফুলিয়ে রাখতে দেখে দুইহাত দিয়ে পা ধরে বলল,
“ম্যাডাম মাফ করা যাবে আমাকে?”
তুবা নিহানের দিকে মুখ ঘুরালো।অবাক হলো বেশ।অবাক কন্ঠে বলল,
“পায়ে হাত দিয়েছেন কেনো?শুনেছিলাম আপনি নাকি নত হওয়ার মানুষ না?”
নিহান মৃদুস্বরে বলে,
“আপনার কাছে নত হতেও কোনো লজ্জা নেই ম্যাডাম।”
তুবা এবার আরো অবাক হয়।লোকটাকে সে কোনোদিন বুঝতে পারেনি এই রাগ,এই ভালো।এখন মা’রবে তো আবার তখন মাফ চাইবে।তুবা নরম কন্ঠে বলল,
“উঠুন।”
“মাফ করেছো তো?”
“হু হু!”
নিহান উঠে দাড়াল।সাদা টিশার্ট টাই হালকা হালকা র’ক্তের ছাপ লেগেছে।তুবা সোফা থেকে উঠে রান্নাঘরের দিকে যেতে নিলে নিহান গম্ভীর স্বরে বলে,
“কই যাচ্ছো?”
“রান্না করব।”
“লাগবে না।”
“তো?খাবো কীভাবে?”
“আমি করব।”
“কিহ্!আপনি?”
নিহান তুবার সাথে আর কথা বাড়ালো না।নিজেই রান্নাঘরে চলে যায়।তুবা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে।তুবা আবারো বসে যায় সোফায়।
নিশান বসে আছে জানালায়।অপেক্ষা করছে নাহিয়ানের।কখন আসবে নাহিয়ান?নিশানের চোখমুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।নিশান এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ নাহিয়ান প্রবেশ করল রুমে।নিশান বলে,
“এনেছিস?”
“হুম।”
নাহিয়ান ছোট্ট বক্সটা বের করল প্যাকেট থেকে।
নিশান খুলে দেখল রিংটা।চকচক করছে।নাহিয়ান নিশানের হাতে ধরিয়ে দেয় বেশ কিছু কালো গোলাপ।নাহিয়ান বলল,
“তুমি কালো গোলাপ আনতে বললে যে?”
“সবাই লাল দেয় আমি নাহয় কালো দিবো।”
“ভালোবাসো নোভাকে?”
“জানি না।”
“কেনো?”
“উত্তর নেয় আমার কাছে।”
নিশান আর এক মিনিট ও অপেক্ষা করল না।নোভার রুমের দিকে এগিয়ে গেল ধীর পায়ে।
গিয়ে এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল।নোভা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।গোলাপ রাঙা ঠোঁট দুটো আনমনেই হালকা হালকা কাঁপছে।নিশান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।মাথার পাশে গোলাপগুলো আর রিংটা রেখে নিজের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য বেরিয়ে গেল।
নিহান রান্না শেষ করে তুবাকে ডেকে বসাল ডাইনিং এ।তুবা চোখমুখে ক্লান্তি ছাপ স্পষ্ট।হাতের দিকে তাকালো একটিবার।ডান হাত কেটে গিয়েছে সে কীভাবে খাবে?নিহানের চোখের দিকে তাকাল নিহান খাবার সার্ভ করছে।নিহান গম্ভীর স্বরে বলল,
“হা করো।”
কয়েক সেকেন্ডের জন্য অবাক হলো কিছুটা।হৃদয়স্থল যেনো থমকে গেছে।নিহান কীভাবে বুঝল সে খেতে পারবে না?কীভাবে বুঝে গেল মনের কথা?নিহান ধমকের সুরে বলে,
“হা করতে বললাম না?”
তুবা হা করল।নিহান ভাত খাইয়ে দিল।তুবা চিবুতে চিবুতে বলে,
“আম..আমি খেতে পারতাম তো।”
নিহান একিই ভাবে বলল,
“চুপ করে গিলো এত কথা বলো কেন?”
নিহানের এক কথায় তুবা চুপচাপ খেতে শুরু করে।তুবাকে খাবার খাওয়ানো শেষে নিহান তুবাকে বলল,
“রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ো,আর কালকে ভার্সিটিতে যেতে হবে না।আমার কালকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।”
“আমি ড্রাইভার এর সাথে যাবো প্লিজ।”
“পারবে তো যেতে?”
“হুম।”
তুবা ডাইনিং থেকে উঠে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলে,
“উফ্!বাঁচা গেছে।শয়তান টা তাহলে কালকে যাবে না।হিহি।”
এসব বলতে বলতেই রুমে যায়।তুবা বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ায় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল এগারোটা সাত।কিন্তু তুবার চোখে ঘুম নেই,অথচ সকালে উঠতে গেলে চোখে সব ঘুম চলে আসে।
তুবা কিছুক্ষণ পর গিয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায়।কালকে দিনের জন্য কত কিছু যে ভেবে রেখেছে তার হিসাব নেই।
নোভা দুপুরবেলা ঘুম থেকে উঠল।ধীরে ধীরে চোখ খুলে উঠে বসল।সকালে ব্রেকফাস্ট করে কীভাবে যে ঘুমিয়ে গেল বুঝতেই পারলোনা।মাথার পাশ থেকে মোবাইল নিতে গিয়ে হঠাৎ হাতে কি যেনো হাতে লাগায় হতভম্ব হয়ে তাকাল।চোখ মুখ কুঁচকে বলল,
“এসব কে রাখল?”
গোলাপ ফুলগুলো হাতে নিলো পাশের রিং এর বক্সটাও হাতে তুলে নিল।খুলে তার চোখদুটো বেশ বড় বড় করে তাকালো।রিংটা যেন জ্বলজ্বল করছে আলের মতো।নোভা খুশি হবে নাকি কি করবে বুঝতে পারলো না।ইতিমধ্যেই নিশান উপস্থিত হলো সেখানে মুখটা আজ শান্ত।নোভার হাতে এগুলো দেখে বাঁকা হাসি ফুটল অধরে।নোভা অবাক হয়ে বলে,
“এসব কার জন্য?”
“যার রুমে রেখেছি তার জন্য।”
“এগুলো আমার লাগবে না।”
নিশানের রাগ হলো বেশ।রাগী স্বরে বলে,
“শালি ঢং কম কর এসব তোর বাপ জীবনে চোখে দেখিয়েছে।তো এত ঢং কেন করিস?”
নোভা মনে বেশ কষ্ট পেল।এ লোকটা খালি তার বাবা নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলে লোজটার তার বাবার সাথে কিচু কি আছে?তার বাবা লোকটাকে কি করেছে?এসব ভাবতে ভাবতে চোখের কোণে জল জমল।ছোটবেলা থেকেই তার বাবা আদর ভালোবাসায় তাকে বড় করেছে যদিও নোভা ছোট্ট থাকতে তাদের পরিবার মধ্যবিত্ত ছিলো তাও কোনো অভাব তাকে বুঝতে দেইনি।নিশান ধমকে বলে,
“হাতে পরো।”
নোভা চুপ। নিশান আবারো বলে,
“হাতে পরতে বলেছি।”
নোভা এবারো একিই মুখ করে বসে আছে।হাত থেকে রিংয়ের বাক্স ও ফুলগুলো ও রেখে দিলো।নিশান এবার এগিয়ে আসল নোভাট দিকে।বিছানা থেকে রিং এর বাক্স টা নিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল।চোখমুক কঠিন কিন্তু স্থির।নোভার হাতকে ধরে অনামিকা আঙ্গুল(রিং ফিঙ্গার)এ পড়িয়ে দেয়।নোভা খুলতে চাইলে নিশান বড়বড় চোখ করে তাকাল।নিমিশেই শান্ত হয়ে গেল নোভা।
আজ সকালটা বাকিগুলোর থেকে একটু অন্যরকম।চারদিকে রোদ ঝলমল করছে।পাখির কিচিরমিচির শব্দ আসছে।তুবার আজ একটু তারাতারিই ঘুম ভেঙে গেছে।আজকে বিশেষ দিন বলে কথা!তুবা উঠে বসতে বসতে একটা লম্বা হামি দেয়।হালকা করে চোখ কচলিয়ে উঠে দাড়ালো।নীল রঙের শাড়িটা বের করে বিছানার একপাশে রাখলো।সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ।কাবার্ড থেকে মেরুন কালারের একটি থ্রিপিস বের করে চলে যায় গোসল করতে।
নিহান বসে আছে সোফায়।গালে হাত দিয়ে সামনে ল্যাপটপ।পড়নে সাদা কালারের শার্ট আর কালো ট্রাউজার।মনযোগ দিয়ে কিছু একটা করছে।হঠাৎ মোবাইলে কল বেজে উঠল।ওপাশ থেকে বলল,
“হ্যালো স্যার।”
“হুম কে বলছেন।”
“ওইদিন কল করেছিলাম যে।”
“ওহ্ আপনি।”
“আপনাকে কিন্তু আজকে আসতেই হবে।”
“চেষ্টা করব।”
“আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণটাই আপনি।”
“আচ্ছা।”
বলেই কল কেটে দেয়।নিহান কিছুক্ষণ ভাবল।
পরক্ষণেই কোট নিয়ে বাসা থেকে নের হয়ে যায় অফিসের উদ্দেশ্য।
আতিয়া বেগম ব্রেকফাস্ট সার্ভ করছে তুবার জন্য।সে এখন আর তুবাকে কিছু বলে না।কারণ তুবাকে কিছু বলা মানেই এ বাড়ির সবার কাছে খারাপ হওয়া, বিশেষ করে নিহানের কাছে।আর আতিয়ার এখন হুট করেই মেয়েটার প্রতি মায়া কাজ করা শুরু করে।
তুবা চেয়ারে বসে খেতে খেতে আতিয়াকে বলে,
“আন্টি নাস্তা খাওয়ার পর আমাকে শাড়িটা পড়িয়ে দিয়েন।”
“আচ্ছা।”
তুবা আবারো বলে,
“নিহান স্যার যাতে না জানে।”
“আচ্ছা মা।”
তুবা অবাক চোখে তাকাল।আতিয়া তাকে মা ডাকল।চোখের জল নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া শেষ করল।মনে মনে ভয়ে শেষ যদি নিহান কোনোমতে আজ তুবাকে ধরতে পারে তুবা শেষ আজ!ভয়ে তুবার কলিজা সহ কাঁপছে।
চলবে
(দেরি হয়ে গেল বেশ।স্যরি! ১ কে কের দিবেন আাশাকরি।এখন থেকে রেগুলার গল্প দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।)❤️
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭