দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২২
**
এভাবেই কেটে গেল একদিন।তুবার সামনেই পরীক্ষা।তাই ভার্সিটির পক্ষ থেকে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কালকে।তুবা আর তিশা প্ল্যান করে তারা দুজনিই শাড়ী পড়বে।তুবা কাবার্ড থেকে একটা শাড়ী বের করে।শাড়িটা নীল রঙের।
তার উপর হালকা কারুকাজ।কিন্তু তুবা শাড়ী পড়তে জানেনা।ভাবল আতিয়া বেগমকে বলবে।
তুবার চোখে মুখে খুশির ঝলক।উৎফুল্ল আওয়াজে বলল,
—“অবশেষে কালকে অনুষ্ঠান।কি যে খুশি লাগছে!”
পরক্ষণেই মনে পড়ল নিহানের কথা।নিহান তো বোরকা ছাড়া বাইরে যেতেই দিবেনা তাকে।তুবা কিছু একটা ভেবে নিহানের রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য বেরোয়।নিহানের রুমের সামনে গিয়ে থমকায়।ভেতর থেকে কারো কথার শব্দ। আওয়াজটা খুব অচেনা। অচেনা লোকটি বলছে,
—“তোর জানকে কেঁড়ে নিবো আমি।”
নিহান তারসাথে তাল মিলিয়ে উত্তর দেয়,
—“বা*স্টার্ড হাত দিয়ে দেখা পুরাে জ্যান্ত কবর ঢুকিয়ে দিবো আমি।”
আর কোনো শব্দ এলো না ভেতর থেকে।হয়তো কল কেটে দিয়েছে।তুবা মনে মনে ভাবল,
—“ইস্!আরেকটু আগে আসলে পুরোটা শুনতে পারতাম।”
ভেতর থেকে গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—“ভেতরে এসো।”
তুবা আতঙ্কিত চোখে তাকায়।মনে মনে নিজেকে গালি দিতে থাকে।হয়তো তাকে দেখেই নিহান কল কেটে দিয়েছে।তুবা ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকে।নিহান বিছানায় বসে আছে ল্যাপটপ আর হাতে মোবাইল।তুবা নরম কন্ঠে বলল,
—“ ই..ইয়ে ম..মান..মানে।”
—“এতো মানে মানে করছো কেন?যা বলবে সোজা কথা বলো।”
—“আপনি কি কালকে কোথাও যাবেন।”
—“কেনো?”
তুবা জিহ্বায় কামড় দেয়।সে এটা কেন বলল?নিহান যদি বুঝে যায়।তুবা কথা ঘুড়িয়ে বলে,
—“না এমনিই কালকে আমাকে ভার্সিটিতে কে দিয়ে আসবে তাই আরকি বলছিলাম।”
নিহান ভ্রু কুঁচকে বলল,
—“আমি কালকে ব্যাস্ত থাকবো।দুইদিন অফিসে যেতে পারিনি কালকে মিটিং আছে।ড্রাইভার দিয়ে আসবে।কিন্তু আজ হঠাৎ তোমার এত চিন্তা কেন?”
তুবা মনে মনে বেশ খুশি হলো।মনের খুশিটুকু লুকিয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলে,
—“না এমনিই।আমি এবার আসি।”
বলেই ধীর পায়ে হেটে চলে যায়।নিহান তুবার চলে যাওয়ার দিকে তাকাল।নিহান গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।নিশানের নাম্বারে কল লাগায়।অপাশ থেকে নিশান বলে,
—“হ্যালো নিহান।”
নিহান সরাসরি বলে,
—“ভাইয়া ওই বা’স্টার্ড কল করেছিলো।”
—“কি বলেছে।”
—“তুমি তো জানো,ওই বাস্টার্ড কি বলতে পারে।তোমার কথাই ঠিক হয়েছে।”
—“কুল নিহান,মাথা গরম করে লাভ নেই।”
—“ও যেইদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে আমার জানের দিকে হাত বাড়াবে সেইদিন ই হবে ওর শেষ দিন।ওকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারবো আমি নিহান এহসান।”
—“আচ্ছা শান্ত হ এখন।ও কি করবে দেখা যাবে।”
—“আচ্ছা।”
নিহান কল কেটে দেয়।আবারো ল্যাপটপে মনযোগ দেয়।কালকে অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং তাই বেশ ব্যাস্ত নিহান।
তুবা রুমে ঢুকে নাচতে থাকে।আজকের মত খুশি সে কোনোদিন হয়নি।তুবা যদিও মেকাপের ‘ম’ ও জানে না।শুধু শাড়ি পড়ে যাবে আর ভার্সিটি গেলে তিশা সুন্দর করে সাজিয়ে দিবে।
তুবার আজকে হঠাৎ বাগানে যেতে ইচ্ছে হলো।খুশি খুশি মনে রুম থেকে বেরিয়ে পরে।নিচে গিয়ে দেখে আতিয়া বেগম কাজ করছে।একজেড়া স্যান্ডেল পড়ে এহসান বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে।বাগানটা বাড়ির ডানদিকে।নিহানের রুম ও বেলকনি থেকে পুরো স্পষ্ট।তুবা পা টিপে টিপে যায় বাগানের দিকে।কারণ একটু থেকে একটু হলে কাঁদায় পরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।তুবা বাগানটাকে ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে।বাগানাটাতে আগে তেমন ফুল ছিলো না যদিও তুবা আসার পর থেকে যেনো ফুলের গাছ বেশি লাগছে।হঠাৎ ফুলগুলো দেখতে দেখতে তুবার লাগল কেউ তাকে দেখছে।পেছনে তাকাতেই দেখল কেউ নেই।আবারো মনযোগ দিল ফুল দেখায়।গাছের পাতাগুলো ভিজে আছে।
তুবার আবারো একি জিনিস লাগল।তুবা বিড়বিড় করে বলল,
“ভূত নয়তো।”
তাড়াহুড়ো করে বাগান থেকে বেরোতে গিয়ে পিছলা খেয়ে সেখানেই ধপাস করে পড়ে যায়।জোড়ে একটা চিৎকার দেয়।নিহানের তুবার চিৎকার শুনে বুকটা ধক করে উঠে।তাড়াতাড়ি করে নিচে নেমে আসে।চারদিকে খুজতে খুজতে বাগানের দিকে চোখ যায়।মেয়েটা কাঁদায় মাখামাখি পুরো।নিহান ধমকের সুরে বলে,
—“সন্ধ্যাই বাগানে কে আসতে বলেছে?কে?”
—“আগে আপনি আমাকে তুলুন।”
—“তুলবো না তোমাকে,স্টুপিড একটা।”
—“আচ্ছা যান আমি স্টুপিড আপনি আমাকে তুলুন।”
নিহান এগিয়প আসে তুবার দিকে।দুই হাত দিয়ে তুবাকে তুলার চেষ্টা করে।কিন্তু কাঁদা বেশি হওয়ায় নিহান সহ পড়ে যায় তুবার উপরে।নিহানের সাদা টিশার্ট টা কাঁদায় ভরে গিয়েছে।তুবা চিল্লিয়ে বলে,
—“আরেহ সমস্যা কি কম ছিল নাকি?যে এই হাতিটা আমার গায়ের উপর পড়ল?”
নিহান রাগী চোখে তাকাল।
_“আমাকে দেখে হাতি মনে হয়?”
—“হুম আপনি পড়ায় আমি কত ব্যাথা পেয়েছি।”
—“কোথায় ব্যাথা পেয়েছো কোন জায়গায়?”
তুবা চোখগুলো বড় বড় করে তাকায়।নিহান কি বুঝাতে চেয়েছে তুবা ভালো করেই বুঝতে পারে।
—“উঠুন তো।শয়তান লোক।”
নিহান ঠোঁট কামড়ে হাসল।আর বলল,
—“কাঁদায় রেমান্স করার অনেক ইচ্ছে আমার।ট্রাই করি চলো।”
—“ইস্!শখ কত,সরুন।”
—“সরব না।”
নিহান তুবার গালে ছোট্ট একটা চুমু দেয়।তুবা হতভম্ব হয়ে তাকায় নিহানের দিকে।
—“একদম অসভ্যতামি করবেন না।উঠুন,আমার উওর থেকে।”
নিহান এবার উঠে যায়।তুবাও সাথে সাথে উঠে।
দুজনিই কাঁদায় মাখামাখি।তুবার গায়ের সাথে লেপ্টে আছে জামাটা।নিহান সেদিকে তাকিয়প শুকনো ঢোক গিলে।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখাটা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।নিহান কোনোকিছুর পূর্বাভাস না দিয়েই ঝাপটে জড়িয়ে ধরল তুবাকে।তুবার মুখ নিহানের বুকের সাথে মিশে যাচ্ছে।শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।তুবা ছাড়ানোর চেষ্টা করল কিন্তু নিহানের পুরুষালি শরীরটাকে সরাতে অক্ষম হয়।গেটের কিছু গার্ড তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।তুবা ধীরে স্বরে বলে,
—“সরুন সবাই তাকিয়ে আছে।”
নিহান নেশালো কন্ঠে বলে,
—“তোমাকে দেখলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে যায় কেন?হুয়াই তুবা?বুকের ভেতরটা কেন এমন করে? কেন?”
তুবা অবাক হলো বেশ।নিহান কি বলছে এগুলো?
নিহান কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে তুবাকে ছেড়ে দেয়।তুবা আর এক সেকেন্ড ও অপেক্ষা না করে
বাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়।নিহান ও যায় কিছুক্ষণ পরে।তুবা রুমে এসে নিজের চেহারা আয়নাতে দেখল,আর বিড়বিড় করে বলে,
—“কি দারুণ চেহারা বানিয়েছি তুবা।তার উপর কোমড় টাও ভেঙেছিস মনেহয় কালকে নাচবি কোমড় ভাঙা নিয়ে?”
এসব বলতে বলতে কাবার্ড থেকে কালো রঙের একটা থ্রিপিস বের করে ওয়াশরুমের দিকে যায়।
ওয়াশরুম থেকে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বের হয়।
—“উফ! এই বৃৃষ্টির দিনে আমাকে আবার সন্ধ্যাই গোসল করতে হলো।”
টাওয়াল নিয়ে নিজরে হাটু সমান চুলগুলো মুছতে মুছতে একটা হাঁচি দেয় তুবা।
কানাডা।
ওইদিন রাতের পর থেকে নোভা আর নিশানের সাথে কথা বলে না।যদিও নিশান আগেও প্রয়োজন ছাড়া নোভার সাথে কথা বলতো না।
এখন একদমিই বন্ধ তাদের কথা।নিশানের মনটা আনচান করছে।মেয়েটা ঘুরছে,ফিরছে,এক রুমে থাকছে অথচ তার সাথে একটা কথা ও বলেনা।
অন্তত আগে ঝগড়া টুকুও করত এখন তা ও করেনা।সোফায় বসে এসব ভাবতে ভাবতেই নাহিয়ানকে ডাক দেয়।নাহিয়ান রুম থেকে বেরিয়ে উত্তর দেয়,
—“বলো।”
—“এদিকে বস।”
নাহিয়ান চুপচাপ সোফায় বসল।নিশান গলা খাঁকড়ি দিয়ে বলে,
—“আচ্ছা মেয়েদের রাগ কীভাবে ভাঙায় রে?”
নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
—“জানিনা তো।ইউটিউবে সার্চ দাও।”
নিশান কিছু বলতে যাবে তার আগেই নাহয়িান আবারো প্রশ্ন ছুড়ল,
—“আচ্ছা তুমি এটা জেনে কি করবে?”
—“আরে লাগবে।তো কি সার্চ দেবো?”
—”How can break a girls angry.”
নিশান নাহিয়ানের কথামতো সার্চ দেয়।কয়েকটা ভিডিও সমানে আসে।নিশান আর নাহিয়ান মিলে একটা ভিডিও ক্লিক করে।কিছুক্ষণ বকবক করার পর ভিডওতে নানা জিনিস বলে কি করলে রাগ ভাঙাতে পারে।নিশান ভিডিও বন্ধ করে কিছুক্ষণ ভাবল।পরে গম্ভীর আওয়াজে বলে,
“যা একটা দোকানে যাবি সেখান থেকে একটা ডায়মন্ডের রিং আনবি আর কিছু ফুল।”
নাহিয়ান গোল গোল চোখ করে বলে,
“কার জন্য?”
“তোর না হওয়া ভাবির জন্য।”
নাহিয়ান হতভম্ব হয়ে গেল।
“আমার হাতে একটা চিমটি কাটো।”
নিশান নাহিয়ানের কথামতো জোরে একটা চিমটি কাটলো নাহিয়ানের হাতে।নাহিয়ান “উফ” করে উঠে।নিশান বলল,
“এবার যা নিয়ে আয়।”
নাহিয়ান এমনিতেও এখন বাহিরে বের হত কিছু কেনাকাটার জন্য।নিশানের কথা মতো বেরিয়ে পড়ে।
চলবে?
( শুনুন প্রিয়তমারা,
আমি তো বলেছি যে আপনারা ১ কে করে দিলে আমি পর্ব দিয়ে দেবো।আর তাই ই করি আপনারা ১ কে করে যত তাড়াতাড়ি দিবেন তত তাড়াতাড়ি পর্ব দিয়ে দেবো।ভালোবাসা সবাইকে।)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৯
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১