দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_২১
নিহান তুবার আর কোনো কথা না শুনে তাড়াতাড়ি হেটে নিচে চলে যায়।তুবা মুখ ভার করে রুমে ঢুকল।পেট থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ব্যাথায় যেনো ছিঁ’ড়ে যাচ্ছে। তুবা ব্যাথায় যেন শেষ হয়ে যাচ্ছে। ওয়াশরুমে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা চেক করে দেখতে পেলো আসলেই সেটি এসেছে সময় মতোই এসেছে কিন্তু সে ভুলে গিয়েছে।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে লিভিংরুমে পৌছালো তুবা।নিহান সোফায় বসে মোবাইল চালাচ্ছে। নিহানের সামনে দাড়িয়ে শান্ত আওয়াজে বলে,
—“আমার ইয়ে লাগবে।”
নিহান ভ্রু কুঁচকে বলল,
—“কি লাগবে?”
—“ইয়ে আরকি ফার্মেসীতে গিয়ে কিনে যে।”
—“ক..
তুবা নিহানের মুখ চেপে ধরে বলে,
“ ছিঃ!ছিঃ!আমি এটার কথা বলিনি আমার পরিয়ড হয়েছে তাই মানপ ইয়ে প্যা’ড লাগত।”
নিহান তুবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।নরম হাতের ছোয়া ঠোঁটে লাগায় বেশ খুশি হয়েছে।এর আগে কোনোদিন নিজ ইচ্ছায় তুবা নিহানকে ছুয়ঁনি।হয়তো ভুলে ছুঁয়েছে কোনোদিন বা নিহানের পা’গলামিতে।তুবা হচকচিয়ে নিহানের গালের উপর থেকে হাত সরিয়ে নেয়।নিহান মনের ঝড় সামলে দুষ্টু হেসে বলে,
“না আমি তো মনে করেছি অন্যকিছু।”
তুবা অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নেয়। লজ্জায় যেনো মরি মরি অবস্থা!তারাহুড়ো করে রান্নাঘরের দিকে যায়।রান্নাঘরে গিয়ে আরো এক দফা অবাক হলো।রান্নাঘরে সব খাবার রেডি।এমন কোনো পদ নেই যা রান্না করে নি।তুবা অবাক কন্ঠে বলে,
—“এত মাছ,মাংস,সবজি,ভর্তা কে তৈরি করল।কোনো সার্ভেন্ট ও তো নেই।তাহলে?”
কতক্ষণ অবাক থেকে নিহানের কাছে গিয়ে বলে,
—“রান্নাঘরে এত খাবার কে তৈরি করেছে?”
—“তুমি আর আমি ছাড়া বাসায় কেউ আছে?”
—“না।”
—“তো?”
—“আমি তো অজ্ঞান ছিলাম তো রান্না?”
—“তুমি ছাড়া আর কেউ কি বাসায় নেই?”
—“আপনি রান্না করেছেন?”
—“হুম।”
—“সত্যি?”
—“না মিথ্যা।”
তুবা অবাক কন্ঠে বলল,
—“এত কম সময়ে কীভাবে?”
—“নিহান সব পারে।”
—“আচ্ছা আসুন খাবেন না?”
—“তোমার জিনিস আছে তোমার কাবার্ডের সবচেয়ে নিচে।”
তুবা কিছু বলল না রান্নাঘরের দিকে এগুতেই নিহান বলল,
—“রান্নাঘরে যাবা না।”
তুবা পেছনে তাকিয়ে বলল,
—“কেনো?”
—“তুমি ডাইনিং এ বসো।”
তুবা ডাইনিং টেবিলে এ বসে পড়ল।নিহানের কাজকর্ম কিছুই মাথায় আসছেনা এখনের মধ্যে।
এখন মারে,এখন বকা দেয়,আবার ভালো ভাবে কথা বলে,আবার মা’রে।তুবা বিড়বিড় করে বলল,
—“একটা মানুষের এত রুপ কীভাবে থাকে?কীভাবে?”
নিহান রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিল।তুবা বিড়বিড় করে কথা গুলো বললেও খুব ভলো করেই শুনেছিল সে।কিছু বলল না প্রতিউত্তরে।রান্নাঘর থেকে সব খাবার নিয়ে এসে তুবার প্লেট সাজিয়ে তুবার সামনে রাখল।তুবা চোখগুলো যেন এবার বেরিয়ে আসবে।নিহান ধমকে বলে,
—“খাও না আনার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকার কি হলো?”
—“হ্যা হ্যা খা..খাচ্ছি,খাচ্ছি।”
তুবা খাবার মুখে নিল।আরো এক দফা অবাক হলো।এত মজা করে খাবার কি কোনো পুরুষ বানাতে পারে?নিহান নরম আওয়াজে বলল,
—“খাবার ভালো হয়নি?”
তুবা আরেক বার খাবার মুখে নিয়ে চিবুতে চিবুতে বলল,
“ভীষণ ভালো হয়েছে।”
নিহান এবার নিজেও খাবার নিয়ে বসে পড়ে।
খাবার খেতে যাবে তখনিই নিহানের ছোটবেলার ফ্রেন্ড আরুর কল আসে।নিহান কল ধরতে চাইনি তাও কি মনে কের ধরলো।
—“হ্যালো।নিহান কেমন আছিস?”
—“ভালো।তুই কেমন আছিস?”
—“আমিও ভালো।একটা কথা জানিস?”
—“কি?”
—“আমি আর দুইদিন পরেই বাংলাদেশে ফিরছি।”
—“গুড!”
—“তুই খুশি হসনি?”
—“ভীষণ খুশি হয়েছি।”
—“আমি বাংলাদেশে আসার পর আমার সাথে ঘুরবি ঠিক আছে?”
—“বাংলাদেশ ঘুরার মতো জায়গা না আরু, এখানের মানুষ ও কেমন।”
—“ধূর!বাদ দে এসব।ঘুরব মানে ঘুরব।”
—“আচ্ছা।এখন রাখি।”
—“আচ্ছা।”
নিহান খাবার খেতে খেতে তুবার দিকে তাকাল।মেয়েটা মাথা নিচু করে খাচ্ছে।নিহান গম্ভীর আওয়াজে বলল,
—“কালকে ভার্সিটিতে যেও না।”
তুবা মাথা নিচে নামিয়ে রেখে বলল,
—“কেনো?আপনার কথামতে হবে সব?”
—“তো কার কথা মতো হবে?অফিসিয়ালি আমি তোমার গার্ডিয়ান।”
—“স্যরি মিঃ নিহান আমার গার্ডিয়ান’রা সেই কবেই মারা গেছে।আপনি আমার গার্ডিয়ান হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।আর আমার গার্ডিয়ান থাকলেও আপনার মতো ১০ মিনিটে এতগুলো থাপ্পড় ও মা*রতো না।”
—“তো তোমার গার্ডিয়ান কি তোমাকে মাথায় নিয়ে ঘুরত?”
—“আজে বাজে কথা বলবেন না।আপনার যখন বাংলাদেশের মানুষ ভালো লাগে না তাহলে বাংলাদেশে আসছেন কেনো?কেউ তো আপনাকে আর ধরে রাখেনি।”
নিহান এবার আসল ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বাঁকা হাসল।মেয়েটার বোকামির উপর নিহানের আগ্রহ বেশি।এই বোকা বোকা কথাগুলো শুনে নিহানের বড্ড হাসি পায়।নিহান আর কথা বাড়াল না কারন কথা বাড়ালে এখন বোকা টা কেঁদে বন্যা করবে। এসব ভাবতে ভাবতে নিজের খাবার শেষ করল নিহান।তুবা এখন ও খাচ্ছে। নিহানের বিরক্ত লাগল।
—“ভাত নিয়েছো এইটুকু এগুলো খেতে এতক্ষণ লাগে।”
—“আমার লাগে আপনি নিজের কাজে যান।”
নিহান এবারও কিছু বলল না।সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে গেল।গিটার টা নিয়ে বেলকনিতে বসল।আকাশে এখনো মেঘ জমে আছে।গুড়িগুড়ি বৃষ্টি পড়ছে।বেলকনি থেকে নিচের বাগানটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।বৃষ্টিতে যেনো ফুলগুলো আরো সুন্দর হয়ে গেছে।নিহান গিটারে টুংটাং শব্দ করল কিছুক্ষণ এরপর গয়েে উঠল,
“Mere imtihaan Tu jo le raha hai
Ab na Reyaayatien kar..
Maine ishq sheeka
Maine pyar sheeka
Tu chahe nafratein kar
Maine dil diya hai
Maine dukh liya hai
Tu sauda imaan le par
Mere Imtihaan
Tu jo le raha hai
Ab naare aayaate kar
Aawaara angaara
Aawaara angaara..”
গান গাইতে গাইতে হঠাৎ পেছনে কারো দাড়ানোর টের পেয়ে তাকাল।তুবা তাকিয়ে আছে তার দিকে।চোখদুটো যেনো জ্বলজ্বল করছে।নিহান উঠে দাড়িয়ে তুবার পেছনে দাড়াল।তুবার ঘাড়ে চিবুক রেখে দুহাতে তুবার হাত ধরল।নিহানের
ক্রিড (creed) পারফিউমের ঘ্রাণে তুবার যেনো পা’গল পা’গল অবস্থা। জোরে জোরে শ্বাস নিল কিছুক্ষণ।নিহানের হঠাৎ এমন করায় বেশ বিরক্ত লাগল তুবার।তুবা এবার স্বাভাবিক হয়ে নিহানকে বলল,
“ছাড়ুন আমাকে।”
“একটু এমন থাকি প্রমিজ আর কিছু করব না।”
তুবা চুপ করে রইল।আজকাল নিহানের কথার জালে বেশ ফাসছে তুবা।এখনও কেমন মোমের মতো গলে গেল।আজকাল নিহানকে দেখলে কেমন জানি লাগে তুবার।মনের ভেতরটাতে যেনো তোলপাড় হয়।নিহান ৩০ মিনিট পর তুবাকে ছেড়ে দেয়।তুবা ছাড়া পেয়ে নিহানকে বলে,
“আমি আজকে আপনার বিছানায় ঘুমাই কালকে থেকে আর ঘুমাবো না।সত্যি।”
নিহান মাথা নাড়ায়।তুবা হালকা হেসে বিছানায় গিয়ে বসল।নিহান আবারো আগের জায়গায় বসে বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“যার নামে পুরো রাজত্ব্যে লিখে দিতে চাইছি সে এখন আমার সামান্য বিছানায় ভাগ চায়।”
বলেই হালকা হাসল।নিহানের ফোনে কল বেজে উঠে।ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠছে নিশানের নাম।নিহান কল উঠিয়ে বলে,
—“হ্যালো।”
—“কেমন আছিস?”
—“ভালো।তুমি?”
—“আমিও ভালো।”
—“একটা কথা বলার জন্য কল করলাম।”
—“হুম বলো।”
—“আনাস বেন্জামিন টার্গেট করেছে নোভাকে।খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে আমাদের বাড়ির কাউকে টার্গেট করতে পারে।তুই তো জানিস কাকে টার্গেট করবে বাংলাদেশে।”
—“ওর গার্ডরা আসলে কিছু হবেনা কিন্তু ও নিজে স্বয়ং যেইদিন বাংলাদেশে পা রাখবে সেইদিন ই ওর মৃত্যু হবে।”
—“কুল নিহান কুল!”
—“কল রাখলাম।”
নিহান কল কেটে দেয়।মনে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন।নিহান রেলিং এ ঘুষি মেরে বলে,
—“তুই মোটেও এই ভুল করিস না।নাহলে তোকে পস্তাতে হবে।”
কিছুক্ষণ পর নিহান উঠে রুমে গিয়ে দেখল তুবা গভীর ঘুৃমে আচ্ছন্ন।নিহান নিজেও সোফায় শুয়ে গেল।
বাংলাদেশে রাত হলেও কানাডায় এখন সকাল।
নোভা উদাসীন মনে বসে আছে চুপটি করে।মন হঠাৎ আহির আহির করছে।নোভা ধীরে বলল,
—“আপনাকে খুব মিস করছি আহির।আমাদের বিয়ে হবে সংসার হবে সব হবে।আমি খুব শীঘ্রই আপনার কাছে ফিরব এটা আমাট চ্যালেন্জ নিজের কাছে।”
পেছন থেকে চলে টান পড়তেই ব্যাথায় চোখ মুখ কুঁচকালো।পেছন থেকে রাগী কন্ঠে বলল,
—“আবার বল কি বলেছিলি?”
—“ক..ক..কই কি..কিছু না।”
নিশান এবার নোভার গাল চেপে ধরে বলে,
—“তুই কি মনে করেছিস?তুই বেশি চালাক?আমি কানে শুনি না মনে করিস?তোদের মতো বে’ই’শ্যা
—“নারীদের এটাই কাজ।ভালো কিছু তোরা সইতে পারিস না।”
—“আহ্!লাগছে ছড়ুন।”
—“ছাড়ার জন্য ধরিনি।আমার সাথে বেইমানি করার ইচ্ছে তোর?সত্যি? তুই তোর বাপের মতো বেইমান হবি?”
বাবার কথা তোলায় যেনো নোভা এবার ব্যাথা ভুলে রেগে গেল।রাগী আওয়াজে বলে,
—“খবরদার নিশান এহসান আমার বাবাকে বেইমান বলার অধিকার তো আপনি রাখেন না।”
—“ ওহ্ স্যরি স্যরি!তোর পুরো বংশই বেইমান।”
—“বংশ নিয়ে কথা বলবেন না।”
—“তুই এসব করবি আর আমি বংশ নিয়ে কথা বলাই দোষ?কু*ত্তার বাচ্চা।”
নোভা এবার নিজের নরম তুলতুলে হাতগুলো দিয়ে নিশানের গালে থাপ্পড় মারল।নিশান এবার যেনো আরো রেগে ফেটে উঠল।মনে মনে কিছু ভাবল কতক্ষণ। তারপর আবারো গাল চেপে ধরে বলে,
—“আজ তোকে মারব না।মারার থেকেও বেশি কষ্ট দেবো যা জীবনে ভুলতে পারবি না।”
নিশান এক হাত দিয়ে নোভার কোমড় চেপে ধরে বিছানায় নিয়ে যায়।দরজা লাগিয়ে এক পা এক পা করে এগিয়ে আসতে থাকে নোভার দিকে।নোভা শুকনো ঢোক গিলল।মনে প্রানে দোয়া করছে নিশান যাতে কিছু না করে।নিশান হালকা ঝুকে নেবার ঠোঁটে হালকা কের চুমু খেল।সঙ্গে সঙ্গে চোখদুটো বন্ধ করে নিল নোভা।তীব্র শিহরণ খেলে যাচ্ছে সারা শরীরে।এই একটা ঠোঁটের স্পর্শেই নোভার এই অবস্তা।নিশান এবার বিছানায় বসল নেভার পাশে।আবারো ঝুঁকে নোবার ঠোঁট আঁকড়ে ধরল।আকড়ে ধরল বললে ভুল হবে রীতিমতো কামড়াচ্ছে নোভার ঠোঁট।কিছুক্ষন পর স্বাদ অন্যরকম লাগায় নিশান ঠোঁট ছেড়ে তাকাতেই দেখল রক্ত ঝড়ছে ঠোঁট থেকে।নোভার চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে আছে।নিশানের মবে দয়া হলো কিন্তু কিছুক্ষণ আগের সেই কথাগুলো মনে পড়তেই হিংস্র হয়ে উঠলো।পৈশাচিক হাসি দিয়ে আবারো আঁকড়ে ধরলো নোভার রক্তাক্ত ঠোঁটজোড়া।নোভা ধাক্কা দিয়ে সড়াতে চাইলেও সড়াতে পারলোনা শক্তিশালী পুরুষটিকে।কয়েক মিনিট পর নিশান নোভার জামার চেইনে হাত দেয়।নোভার বুকটা ধক করে উঠে।কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
—“প্লিজ এমনটা করবেন না নিশান।আমাকে অপবিত্র করবেন না।”
নিশান জামার চেইন থেকে হাত সড়িয়ে বলল,
—“তুই বলেছিলি তুই আহিরের কাছে যাবি।তুই আরেকবার এমন কথা বলবি এসিড চিনিস তো?এসিড দিয়ে চেহারার এমন অবস্থা করবো জীবনেও আমার কাছ থেকে যেতে পারবি না।”
নোভা এবার ফুঁপিয়ে কেঁদে বলল,
—“আপনি শয়তান লোক আমি আপনার সাথে থাকবো না।থাকবো না আমি। আমি বাসায় যাবো আমি আহিরের কাছে যাবো।”
নিশান এবার চোখ তুলে তাকাল।চোখগুলোতে যেনো আগুন জ্বলছে।নিশান এবার নোভার গলায় কামড়েঁ দিতে থাকে।কামড়াঁতে কামড়াতে বেশ কিছু জায়গায় লালচে দাগ বসে গেছে।নোভা অসহ্য ব্যাথায় কুকিঁয়ে উঠে।নিশান যেনে নোভার কষ্ট দেখে আনন্দ পাচ্ছে। ভীষণ আনন্দ পাচ্ছে।
এবার কানের লতিতে কামড়াতে থাকে।নোভা আবারো ফুপিয়ে কেঁদে উঠল।নিশান জামার চেইনে খুলে একটানে জামা খুলে দেয়।নোভা নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করতেই নিশান বেল্ট খুলে হাত বেঁধে দেয় নোভার।নোভা কাঁদতে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
—“আমাকে ছেড়ে দিন আর কখনো এমন করবো না।প্লিজ।”
নিশান বিরক্ত কন্ঠে বলল,
—“হুশ!কোনো কথা নই নিজের বিপদ নিজেই ডেকেছো।শাস্তি পেতেই হবে এখন।”
নোভার আকুতি মিনতি শুনলো না নিশান।টেবিলের পাশ থেকে টেপ নিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে দেয় নোভার।নোভা ভয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এভাবেই সেই রাত অসহ্য যন্ত্রনায় কাটবে নোভার।
কেউ শোনার থাকবে না তার নীরব কান্না,নীরব গলার স্বর।
মেঘের তান্ডবে পুরো আকাশ ভারী হয়ে আছে।
এ দুইদিন ধরে বৃষ্টিতে পরিবেশ ও ভারী।আকাশের অবস্থা দেখে লাগছে আজও বৃষ্টি পুরো পরিবেশকে আরো ভারী করে তুলবে।বৃষ্টির ফোঁটায় মনে পড়বে সব দুঃখ,অভিমান,মন খারাপ,প্রিয় মানুষের কথা।
তুবা হালকা হালকা চোখ খুলল।ঘুৃমে তার চোখ যেনো ঝাপসা হয়ে উঠছে।কিন্তু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ভার্সিটির সময় হয়ে যাবে।আলসেমি ছেড়ে উঠে বসল।সোফায় তাকিয়ে দেখল নিহান নেই।দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে তাকালো। দেখল নিহান এসেছে।নিহানের কোমড় পর্যন্ত টাওয়াল জড়ানো আর সারা শরীরে কিচ্ছুটি নেই।চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।নিহান তুবাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেকে বলল,
—“বেশি হট লাগছে নাকি?এভাবে তাকিয়ে আছো যে?”
তুবা চোখ ফিরিয়ে বলে,
—“ছিঃ!এত নিলর্জ্জ কেন আপনি?”
নিহান ঠোঁট কামড়ে বলে,
—“সব ই তোমার জন্য সুইটহার্ট।”
—“কিহ্?”
—“কিছু না।”
তুবা নরম কন্ঠে বলে,
—“আমি আজকে বোরকা পড়ে যাবো না।”
নিহানের কন্ঠ এবার গম্ভীর হয়।
—“তাহলে যাওয়ার দরকার নেই।”
—“যাবে মানে যাবো।”
—“আমার কথার অমত করবে না।”
—“প্লিজ আজকে যাই?”
—“না মানে না। এত কথা পছন্দ নয় আমার।আর শোন রেডি হয়ে নিচে যাও তাড়াতাড়ি।”
—“তো নাস্তা বানাবো না?”
—“চুপ করে ফ্রেশ হয়ে রেডি হও।”
নিহানের এক ধমকে তুবা চুপ হয়ে গেল।নিহানের রুম থেকে নিজরে রুমে গেল।বিড়বিড়িয়ে বলল,
—“আজকে বোরকা ছাড়া বের হতে না দিলে কি হয়েছে?আমার ভার্সিটিতে যেইদিন অনুষ্ঠান সেইদিন আমি ছক্কা মারবো।”
কিছুক্ষণ বসে থেকে তুবা কাবার্ড থেকে কালো রঙের আবায়া আর হিজাব টা বের করে রাখে।ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে আসে তুবা।তারপর রেডি হয়ে নেয়।হিজাব রেডিমেট হওয়ায় তুবার পড়তে বেশি সময় লাগেই না।
তুবা নিচে যায়।দেখে নিহান বসে আছে।তুবাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে নিহান বলল,
—“বসো।”
তুবাও নিহানের কথামতো চেয়ারে বসল।নিহান রান্নাঘরের দিকে গিয়ে এক এক করে নাস্তা নিয়ে আসে।তুবার চোখ যেনো ছানাবড়া।নিহান রাতের মতোই খাবার সার্ভ করে তুবার সামনে রাখে।
তুবা অবাক কন্ঠে বলল,
—“এগুলো ও কি সব আপনি রান্না করেছেন।”
—“হু!”
—“কীভাবে?”
—“হাত দিয়ে।”
—“আপনি রান্না ও পারেন?সত্যি?
—“খাও এত কথা না বলে।”
তুবা নাস্তা খেতে খেতে তাকাল নিহানের দিকে।এত মজা করে কি কোনো পুরুষ রান্না করতে পারে?তুবা হালকা হাসল।কিছুক্ষণ আগের রাগটা যেনো নিমিষেই কমে গেল।নিহান ও তাকাল তুবার দিকে।দুজনের চোখে চোখ পরল।
খাবারা খাওয়া শেষে নিহান তুবাকে নিয়ে বের হল ভার্সিটি যাওয়ার উদ্দেশ্য।তুবার আজকের আবহাওয়াটা বেশ ভালো লাগল।চারিদিকে বাতাস,মেঘ সবকিছু মিলিয়ে আলাদা রকমের শান্তি।কিন্তু আজও সেই একিই ভুল করল।জানালার বাইরে মুখ দেওয়াতে নিহান বেশ চটে গেল।রাগী কন্ঠে বলে,
—“বলেছি না জানালার বাইরে মুখ না দিতে।তাতে বাতাসগুলো তো তোমার মুখে লাগে।”
তুবার পেট ফেটে হাসি আসল।হাসতে হাসতে বলল,
—“আপনি কি পা’গল?কিসব বলছেন।”
—“হ্যা আমি পা’গল।আর কেনো কার জন্য তা নিশ্চই বুঝতে পারো।”
চলবে?
শব্দসংখ্যা:২০০০+
(আজকে ঘুরতে যাইনি।তাই তারাতাড়ি লিখেছি।আজকে রাতে হয়তো #আসক্তিরনীরবদহন গল্পটা ও আসবে)🙆♀️
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৩
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৪
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০