Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৩


অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ৩৩

অঢেল টাকা আর ক্ষমতার জোরে নাইম খান শেষ পর্যন্ত নির্ভানকে জামিন করিয়ে আনলেন। জেলখানার পেছনের দরজা দিয়ে নির্ভানকে কালো সুট আর মুখে মাস্ক পরিয়ে বের করা হলো। অনেকটা সিনেমার অপরাধীদের মতো ওকে গাড়িতে তোলা হলো যেন কাকপক্ষীও টের না পায় যে শহরের কুখ্যাত আসামি এখন মুক্ত।গাড়িটা শহর ছাড়িয়ে অনেকটা দূরে নির্জন এক পাহাড়ের পাদদেশে এসে থামল। চারপাশটা একদম শুনশান। পাহাড়ের একদম শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে নাইম খান ধীর পায়ে নির্ভানের দিকে এগিয়ে এলেন। বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মাঝে তিনি গম্ভীর গলায় বললেন।

“তোকে আজই লন্ডনের ফ্লাইটে উঠতে হবে নির্ভান। তোর জামিনের খবর চাউর হলে সিচুয়েশন কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে। কিছুদিন তোকে দেশের বাইরে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে। আমি সময় বুঝে তোকে সিগন্যাল দেব। বর্তমানে সোহান চৌধুরীরা তাদের গ্রামের বাড়িতে আস্তানা গেড়েছে। তুই ফিরবি ঠিক সময়মতো।”

নির্ভান ভ্রু কুঁচকে বাবার দিকে তাকাল। ওর চোখে হাজারো প্রশ্ন। সে অধৈর্য হয়ে বলল।

“লন্ডন যাব সব বুঝলাম। কিন্তু বাবা? তোমার আসল প্ল্যানটা কী? জাস্ট কাজের কথাটা বলো।”

নাইম খান নির্ভানের কাঁধে শক্ত করে হাত রাখলেন। তার চোখের মণি দুটো প্রতিহিংসায় চিকচিক করে উঠল। তিনি ফিসফিস করে বললেন।

“আমি চাই সোহান চৌধুরীর ধানক্ষেত গোড়া থেকে কেটে দিতে।”

নির্ভান আকাশ থেকে পড়ল। সে হতভম্ব হয়ে বলল।

“মানে? ধানক্ষেত কাটবে মানে? এসব কী বলছো বাবা?”

নাইম খান একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন।

“সহজ হিসাব। আমাদের ঘরে যখন চাল-ডাল থাকে না আর পকেটে টাকার অভাবে সেটা আনতে পারি না। তখন আমরা অভাবটা হাড়কাঁপানোভাবে টের পাই। তেমনি সোহান চৌধুরীর ধান ক্ষেত আছে। আমি চাই ওটা এমনভাবে ধ্বংস করতে যাতে ওরা ভেতর থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ওরাও অভাব আর হাহাকার ফিল করতে পারে।”

নির্ভান অবিশ্বাসের সুরে বলল।

“হোয়াট? ধানক্ষেত ধ্বংস করবে? বাবা তুমি কি সত্যি পাগল হয়ে গেছো?”

নাইম খান শান্ত কিন্তু হিমশীতল গলায় বললেন।

“একদম না। পুরো ছকটা আগে শোন। তারপর বলিস আমি পাগল না জিনিয়াস।”

নির্ভান কৌতূহলী হয়ে বলল।

“আচ্ছা বলো।”

নাইম খান নির্ভানের কানের কাছে মুখ নিয়ে অত্যন্ত গোপনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী করতে হবে সবটা খুলে বললেন। পুরো নকশাটা শোনার পর নির্ভানের চেহারাই বদলে গেল। ওর ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক আর ধূর্ত হাসি ফুটে উঠল। সে মুগ্ধ চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল।

“ওয়াও বাবা? মানতেই হচ্ছে তুমি আস্ত একটা জিনিয়াস। আমার মাথায় তো এই আইডিয়াটা আসেইনি। আগে জানলে তো এটা আমি অনেক আগেই সাকসেসফুল করে ফেলতাম।”

নাইম খান পকেট থেকে একটা খাম বের করে বললেন।

“উঁহু। তাড়াহুড়ো করলেই সব মাটি। কাজটা করতে হবে একদম নিখুঁতভাবে। এই নে তোর পাসপোর্ট আর ভিসা। তুই আজই লন্ডন রওনা হ। সময় হলে আমি তোকে ডেকে নেব।”

নির্ভান আকাশের দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক তৃপ্তিতে অট্টহাসি দিয়ে উঠল। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলল।

“মিস্টার সাইফান শুভ্র চৌধুরী? জাস্ট ওয়েট করো। তোর সাজানো সংসারের সব সুখ ধুলোয় মিশিয়ে দিতে আমি খুব শীঘ্রই আসছি।”


সকাল গড়িয়ে বিকেল নামল। আকাশজুড়ে এখন সিঁদুরে মেঘের মেলা আর গোধূলির আলতো বাতাস বইতে শুরু করেছে। রোদের তপ্ত সোনা গলে গিয়ে চারদিকে এক মায়াবী হলুদ আভা ছড়িয়ে পড়েছে। আজ সারাদিন রিদি একটা বারের জন্যও শুভ্রের সাথে কথা বলেনি। শুভ্র বেচারা কিছু একটা বলতে গেলেই ও মুখ বাঁকিয়ে আর চোখ কপাল তুলে এমনভাবে ভেংচি কেটে সরে গেছে যে শুভ্র আর এগোতে সাহস পায়নি। ও যতটা সম্ভব শুভ্রের ছায়াও মাড়িয়ে চলেনি আজ।

ছাদের কোণে অযত্নে পড়ে থাকা পুরোনো আর মরিচা ধরা দোলনাটায় বসে রিদি মগ্ন হয়ে উপন্যাস পড়ছে। বিকেলের পাগল হাওয়া ওর অবাধ্য এলোমেলো চুলগুলো গালে মুখে উড়িয়ে এনে ফেলছে। ও বিরক্ত হয়ে বারবার তা কানের পেছনে গুঁজছে। রিদি সবসময় উপন্যাস পড়ে না। ওর যখন মন ভীষণ খারাপ থাকে আর বুকের ভেতরটা হু হু করে ঠিক তখনই ও শব্দের মায়াজালে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চায়। আজ ও পরম মনোযোগ দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মাতাল হাওয়া উপন্যাসের পাতায় ডুব দিয়েছে।

এদিকে শুভ্রের অবস্থা একদম কেরোসিন। সারাদিন রিদি ওকে এভাবে পাত্তা না দিয়ে ইগনোর করছে এটা ও কিছুতেই হজম করতে পারছে না। পিত্তি জ্বলে একাকার হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে দৌড়ে গিয়ে রিদির ওই মায়াবী গালে ঠাস ঠাস করে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। সাহস কত ওর। শুভ্র চৌধুরীকে ইগনোর করার দুঃসাহস দেখায়। কিন্তু বুকের ভেতর অবাধ্য মনটাও শান্তিতে নেই। রিদির সাথে কথা বলার জন্য ও ভেতর থেকে ছটফট করছে। শুভ্র বাঘের মতো খাঁচাবন্দী হয়ে ঘরের ভেতর অস্থির পায়ে পায়চারি করছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই রিফাত গলা ছেড়ে গান গাইতে গাইতে ঘরে ঢুকল।

~তিরিশে দিছি পা আর কবে বিয়ে করবাম ~
~লেট করলে হবে দেরি~
~কবে ইষ্টু পুলু করবাম~

~ঘুম আসে না ভালো লাগে না~
~বেকায়দা বাইরাম~
~আমায় বিয়া দাও বিয়া দাও~
~বিয়া দাও বাজান~

লাইনের রেশটুকু টেনে ঘরে ঢুকতেই শুভ্রকে ওভাবে পাগলের মতো পায়চারি করতে দেখে রিফাত চোখ টিপে শয়তানি সুরে বলল।

“কিরে শা’লা? জ্বালা উঠছে নাকি যে এইভাবে রুম পায়চারি করছিস?।”

শুভ্র রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে গর্জে উঠল।

“মজা করবি না একদম বলে দিচ্ছি। একটা থাপ্পড় দিয়ে দাঁতের পাটি সব ফেলে দেবো।”

রিফাত একদম ড্যাম কেয়ার ভাব নিয়ে বলল।

“হ। ওইটাই তো পারবা তুমি চান্দু। আর কী ছাই পারো তুমি?”

শুভ্র দাঁতে দাঁত চেপে গালি দিয়ে উঠল।

“তোর বা**লের ছাই পারি আমি। বেশি কথা বলবি না।”

রিফাতও পাল্টা গালি দিতেই শুরু হলো দুজনের তুমুল মারামারি আর ধস্তাধস্তি। শুভ্র দুমদাম কয়েকটা কিল ঘুষি বসিয়ে দিল রিফাতের পিঠে। রিফাত ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে গালি দিয়ে উঠল। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর শুভ্র কোমরে হাত দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।

“দেখ শা’লা। মুড একদম ভালো নেই আমার। তোকে বলছি সামনে থেকে সরে যা।”

রিফাত ব্যাঙ্গ করে বলল।

“কী হয়েছে সোনা তোমার?।”

শুভ্র টেবিলে রাখা একটা ধারালো ফল কাটার ছুরি হাতে তুলে নিয়ে হিংস্র গলায় বলল।

“সামনে থেকে যা বলছি। নাহলে তোর এমন জায়গায় নজর দেব যে পরে তোর বউ ভবিষ্যতের অন্ধকার দেখে আমার নামে মামলা ঠুকবে যে কেন আমি সব শেষ করে দিলাম।”

রিফাত হাবলার মতো চোখ গোল গোল করে বলল।

“ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখবে কেন রে?।”

শুভ্র টেবিল থেকে ছুরিটা উঁচিয়ে রিফাতের দিকে এগোতে এগোতে পৈশাচিক গলায় বলল।

“কারণ তোর তো আর তখন কিছুই থাকবে না রে। আমি সব কেটে উড়িয়ে দেবো। হা হা হা।”

রিফাত এবার সত্যি ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে যেতে আর্তনাদ করে উঠল।

“দে-দেখ শুভ্র। এত বড় সর্বনাশ করিস না। আরে জীবনেও কোনোদিন মামা হতে পারবি না তুই।”

শুভ্র ঠোঁটের কোণে এক পৈশাচিক শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে ধীরে ধীরে রিফাতের দিকে এগোতে থাকল। রিফাত আতঙ্কে বিছানায় সেঁটে গেছে। শুভ্র যখনই ছুরিটা রিফাতের আসল জায়গায় লক্ষ্য করে মারতে যাবে ঠিক তখনই দরজায় দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করে উঠল।

“আআআআআ!”

শুভ্র আর রিফাত দুজনেই প্রচণ্ড অবাক হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল মিহি দাঁড়িয়ে আছে। ও ভয়ে দুই হাত দিয়ে নিজের চোখ শক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শুভ্র সাথে সাথে হাতের ছুরিটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে মিহির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল।

“কারো রুমে ঢুকতে হলে যে পারমিশন নিতে হয় সেটা কি জানিস না? মাথায় কি একদম ম্যানার্স নেই তোর?”

মিহি সাবধানে চোখ দুটো খুলে কয়েকবার পলক ফেলল। তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

“আসলে ভাইয়া রিফাত ভাইয়াকে তুর্য ভাইয়া ডাকছে। তাই রুমের দরজা খোলা দেখে সরাসরি ভেতরে চলে এসেছি।”

রিফাত এতক্ষণে ধড়ে প্রাণ ফিরে পেল। সে মিহির দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতার সুরে বলল।

“তোমার হায়াত যেন অনেক বেশি হয় মিহি। একদম ঠিক সময়ে এসেছ তুমি। না হলে এই শা’লা এতক্ষণে তোমার ভবিষ্যৎ কাটতে শুরু করেছিল।”

রিফাতের কথার গূঢ় মানে মিহি বা শুভ্র কেউ না বুঝতে পেরে ওর দিকে অদ্ভুতভাবে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। রিফাত নিজের ভুল বুঝতে পেরে সাথে সাথে হেসে সামাল দিয়ে বলল।

“আরে আমি জাস্ট মজা করছি।”

শুভ্র বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করে বলল।

“ইডিয়ট একটা।”

বলেই শুভ্র হনহন করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। রিফাত লম্বা একটা শ্বাস ফেলে মিহির দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসল। সে বলল।

“ধন্যবাদ তোমাকে আমার বউয়ের ভবিষ্যৎটা বাঁচানোর জন্য।”

মিহি এবার কথাটার মানে বুঝতে পেরে প্রচণ্ড লজ্জা পেল। ও আমতা আমতা করে বলল।

“ছিহ ভাইয়া! কী বলেন এসব?”

রিফাত মুচকি হেসে বলল।

“শোনো সত্যি কথা বলতে লজ্জা পেতে নেই। তাই সত্যিটাই বললাম। কে বলতে পারে এই ভবিষ্যৎটা হয়তো তোমারও হয়ে যেতে পারে?”

মিহি কানে হাত দিয়ে তওবা করার ভঙ্গিতে বলল।

“নাউজুবিল্লাহ! আপনি থাকেন তো আপনার এসব আজেবাজে কথা নিয়ে।”

শুভ্র রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ছাদে পা রাখল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ওর মেজাজ একদম তুঙ্গে উঠল। দেখল ওর মহারানি কী সুন্দর আয়েশ করে দোলনায় বসে বই পড়ছে। শুভ্র বড় বড় কয়েকটা শ্বাস নিয়ে নিজের ভেতরের আগুন শান্ত করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করল। তারপর খুব ধীর পায়ে নিঃশব্দে রিদির একদম সামনে গিয়ে এক বিশাল ছায়া নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রিদি তখনো এক মনে বিড়বিড় করে পড়ছে। ও যে উপন্যাসের পাতায় এতটাই ডুবে আছে যে সামনে যমের মতো কেউ দাঁড়িয়ে আছে সেটা টের পাওয়ারও কোনো হুঁশ নেই।

হঠাৎ রিদির মনে হলো তার সামনে কেউ এক পাহাড় সমান স্তব্ধতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ও চমকে চোখ তুলে শুভ্রকে ওভাবে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভয়ে হাত থেকে ঠাস করে বইটা মাটিতে পড়ে গেল। রিদি তড়িঘড়ি করে উপুড় হয়ে বইটা তুলতে গেলে শুভ্র বাজের মতো ছোঁ মেরে সেটা আগে তুলে নিল। এক পলক বইটার প্রচ্ছদে চোখ বুলিয়ে ও রিদির দিকে তাকিয়ে হিমশীতল গলায় বলল।

“তাহলে আমার সাথে কথা না বলে এই উপন্যাস পড়া হচ্ছে আপনার?”

রিদি কোনো পাল্টা জবাব দিল না। ও মুখে একরাশ তাচ্ছিল্য নিয়ে শুভ্রের হাত থেকে বইটা নিতে গেল। শুভ্র সাথে সাথে বইটা দূরে সরিয়ে দিয়ে রিদির একটা হাত খপ করে ধরে হ্যাঁচকা টানে নিজের একদম কাছে নিয়ে এল। রিদির চোখের মণির দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।

“সমস্যা কী তোর? কথা কেন বলছিস না? মুখে কি তিতা বিষ লেগেছে?”

রিদি তবুও নির্বিকার। ও শুধু শুভ্রের লোহার মতো শক্ত আঙুলের বাঁধন থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর জন্য বৃথা চেষ্টা করতে লাগল। রিদির এই নীরব অবাধ্যতা শুভ্রের মাথার রগ যেন ছিঁড়ে ফেলছে। ও মুহূর্তে রিদিকে টেনে নিয়ে গিয়ে ছাদের রেলিং আর দেয়ালের সাথে সজোরে চেপে ধরল। ওর চোখের কোণে চোখ রেখে পৈশাচিক গলায় ফিসফিসিয়ে বলল।

“রিদি? আমাকে খেপিয়ে দিস না। ফল কিন্তু একদম বিষাক্ত হবে।”

রিদি এবার সত্যি জেদ চেপে গেল। লোকটা নিজেকে ভাবে কী। ভালোবাসে বলেই কি যা খুশি তাই করবে। ও চিৎকার করে বলে উঠল।

“আপনার সাথে আমার কথা বলতে একদম ইচ্ছে করে না! আমি কথা বলব না আপনার সাথে! আপনি আমার থেকে যোজন যোজন দূরে থাকবেন! একদম কাছে আসবেন না আর ছোঁবেন না আমায়!”

শুভ্রর চোয়াল শক্ত হয়ে এক বীভৎস রূপ ধারণ করল। ও কর্কশ গলায় গর্জে উঠল।

“কী বললি তুই? আবার বল? কুইক! আবার বল!”

রিদিও বিন্দুমাত্র না দমে বুক ফুলিয়ে জেদি গলায় আবার বলল।

“আপনার সাথে আমি কথা বলব না! বলব না! বলব না! আর আপনি আমার থেকে দূরে দূরে থাকবেন! একদম ছোঁবেন না আমায়!”

শুভ্র এক মুহূর্ত থমকে গিয়ে এক পাশবিক হাসি দিল। ও পৈশাচিক গলায় বলল।

“তোর থেকে আমি দূরে থাকব? তোকে ছোঁব না আমি? এটাই বলতে চাইছিস তুই?”

রিদিও জেদি গলায় উত্তর দিল।

“হ্যাঁ!”

শুভ্রের চোখে তখন অদ্ভুত নেশা। ও হিংস্র গলায় বলল।

“ওকে ঠিক আছে ছোঁব না। এই দেখ আমি তোকে ছোঁব না।”

কথাটা শেষ হতে না হতেই রিদি কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুভ্র হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রিদির ঠোঁট জোড়া নিজের করাল গ্রাসে বন্দি করে নিল। ও ভুলেই গেল যে তারা এখন দিনের আলোয় খোলা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। ও কোনো আদর বা সোহাগ নয় বরং কামড় দিয়ে নিজের জমানো সব রাগ মেটাচ্ছে। শুভ্রের মস্তিষ্ক কাজ না করলেও রিদির হুশ ঠিকই আছে। ও আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিজেকে এই পাশবিকতা থেকে মুক্ত করতে। শুভ্র এত জোরেই আক্রমণ করছে যে রিদির চোখের কোণ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়তে লাগল। ও যত নড়ছে শুভ্র ততই হিংস্রভাবে ঠোঁটে আক্রমণ করছে। রিদির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। শুভ্রের তখন কোনো হুঁশ নেই। ঠিক তখনই ছাদের দরজার ওপাশ থেকে এক গগনবিদারী চিৎকার শোনা গেল।

“শুভ্রউউউউউউ!”

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply