অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ১৭
🚫 অনুমতি ব্যতীত কপি করে নিষিদ্ধ 🚫
রিদিকে হন্যে হয়ে না দেখে শুভ্রা রিয়া ভাবনা মিথি বড় মাঠটার দিকে বেরিয়ে এল। চারদিকে মানুষের ভিড়, সবাই আলাদা আলাদা জায়গায় খুঁজছে। অস্থির মনে দ্রুত হাঁটতে হাঁটতে আচমকা কার সাথে যেন বেশ জোরে ধাক্কা খেল শুভ্রা। বিরক্তির চরমে থাকা শুভ্রা সামনে কে দাঁড়িয়ে আছে তা না দেখেই ঝাঝালো গলায় বলে উঠল।।
“আব্বে কানা নাকি? চোখে দেখেন না?”
এদিকে ঈশানও ধাক্কা খেয়ে প্রচণ্ড বিরক্ত। মেজাজটা এমনিতেই খিটখিটে হয়ে ছিল, তার ওপর এমন কর্কশ মেয়েলি কণ্ঠ শুনে সে যেই না কড়া কিছু বলতে যাবে, ওমনি শুভ্রার দিকে তাকিয়ে তার কণ্ঠস্বর যেন গলার কাছেই আটকে গেল। কালো শাড়িতে মোড়ানো শুভ্রাকে আজ অন্যরকম লাগছে, দুহাত ভরে পরা কালো চুড়িগুলো যেন ওর গায়ের রঙের সাথে মিলে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করেছে। ঈশান নিজের অজান্তেই স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে।
এতক্ষণে শুভ্রাও খেয়াল করল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে। কালো পাঞ্জাবিতে ঈশানকে দেখে শুভ্রা এক মুহূর্তের জন্য সব ভুলে গেল। পাঞ্জাবির হাতাগুলো কনুই পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ফোল্ড করা, চুলে পরিপাটি কাট সব মিলিয়ে ঈশানকে আজ বড্ড বেশি হ্যান্ডসাম লাগছে। ঈশানকে ওভাবে অপলক নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে শুভ্রা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তারপর সামলে নিয়ে ওর চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলল।
“ও হ্যালো ঈশান ভাইয়া! এই জগতে আছেন নাকি মঙ্গল গ্রহে চলে গেছেন?”
তুড়ির শব্দে ঈশানের ঘোর কাটল। মুহূর্তেই সে নিজেকে সামলে নিয়ে মুখটা পাথরের মতো গম্ভীর করে ফেলল। তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলল।
“পৃথিবীতে বাস করি, দাঁড়িয়েও আছি এই শক্ত মাটিতেই। তাহলে এই জগতে থাকবো না তো আর কোথায় থাকবো?”
শুভ্রা ঠোঁট উল্টে বাঁকা হেসে বলল।
“তাই? তাহলে ওভাবে ড্যাবড্যাব করে আমার দিকে তাকিয়ে কী দেখছিলেন?”
ঈশান নিজের ধরা পড়ে যাওয়া অস্বস্তিটা ঝেড়ে ফেলার জন্য গলার স্বর কিছুটা চড়িয়ে বলল।
“শুভ্রা, তুমি তো জ্যান্ত মানুষ! তোমাকে কি দেখাও বারণ নাকি?”
শুভ্রা এবার যেন মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেল। সে ছাড়ার পাত্রী নয়, তাই ফোড়ন কেটে বলল।
“হ্যাঁ, দেখা যায়। তবে ওইভাবে হা করে দেখার কী আছে? যেভাবে তাকিয়ে ছিলেন, তাতে আপনার মুখে মশা ঢুকে গেলেও আপনি টের পেতেন না!”
শুভ্রার এই অনর্গল তর্কাতর্কি একসময় ঈশানের ভালো লাগত, কিন্তু এখন সে চরম অস্থির। একদিকে বস অর্থাৎ শুভ্রকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তার ওপর শুভ্রার এই বকবকানি ঈশানকে আরও বিরক্ত করে তুলছে। সে হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো করে দুই হাত তুলে বলল।
“আচ্ছা বাবা সরি! তাকিয়ে ভুল হয়েছে। এবার মাফ করো বোন, দয়া করে মাফ করো!”
বলেই ঈশান তিতিবিরক্ত হয়ে উল্টো ঘুরে হনহন করে হাঁটতে লাগল। কিন্তু নিস্তার নেই, পিছন পিছন শুভ্রাও সমান তালে হাঁটতে শুরু করল। ঈশান আড়চোখে শুভ্রাকে আসতে দেখে হঠাত থমকে দাঁড়িয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে কর্কশ গলায় বলল।
“কী হয়েছে? আমার পিছু নিচ্ছ কেন?”
শুভ্রা এবার একটু গম্ভীর হয়ে চারপাশটা দেখে নিয়ে বলল।
“আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?”
ঈশান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কপালে হাত দিয়ে বলল।
“হ্যাঁ, বসকে খুঁজছি। হুট করে কোথায় যে গায়েব হয়ে গেল লোকটা!”
শুভ্রা এবার বেশ অবাক হয়ে গেল। সে চোখ বড় বড় করে বলল।
“কী! আপনি ভাইয়াকে খুঁজছেন? আর আমি তো রিদিকে খুঁজছি! দুজনেই তো গায়েব! চলেন, দুজন মিলে একসাথেই খুঁজি।”
ঈশান আর কোনো কথা বাড়াল না, গটগট করে সামনের দিকে এগোতে লাগল। শুভ্রাও দমবার পাত্রী নয়, ঈশানের লম্বা লম্বা কদমের সাথে তাল মিলিয়ে প্রায় দৌড়ানোর মতো করে হাঁটছে আর সমানে বকবক করে চলেছে। ঈশানের কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়, সে ওসব দিকে কান না দিয়ে চুপচাপ আশেপাশে তীক্ষ্ণ নজরে শুভ্রকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।শুভ্রা ঈশানের লম্বা কদমের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। শাড়ির কুঁচিগুলো বারবার ওর পায়ের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে, জর্জেট শাড়ি সামলানো এমনিতেই কঠিন। হঠাৎ হাঁটতে হাঁটতে এক মোক্ষম জায়গায় কুঁচিতে পা আটকে গেল শুভ্রার। সে টাল সামলাতে পারল না, সামনের দিকে উপুড় হয়ে পড়ে যেতে লাগল। ভয়ে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করে উঠল।
“ঈশান ভাই…..!”
ঈশান পেছন ফিরে শুভ্রাকে ওভাবে পড়ে যেতে দেখে নিজের সবটুকু শক্তি দিয়ে দৌড়ে এল। শুভ্রাকে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে সে দুই হাত বাড়িয়ে ধরল ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। শুভ্রা আতঙ্কে নিজের শরীরের পুরো ভারটা ঈশানের ওপরই ছেড়ে দিল। হুট করে আসা এই প্রচণ্ড ভার ঈশান সামলাতে পারল না। দুজনেই টাল খেয়ে পেছনের দিকে উল্টে মাঠের নরম ঘাসের ওপর আছড়ে পড়ল।
শুভ্রা সজোরে আছড়ে পড়ল সরাসরি ঈশানের বুকের ওপর। ঈশানের পিঠ আর কোমর গিয়ে ঠেকল শক্ত মাটিতে। যন্ত্রণায় মুখটা বিকৃত হয়ে গেল তার, দাঁতে দাঁত চেপে কোমরটা এক হাতে চেপে ধরে কুঁকিয়ে উঠল সে।
“আহহহ… আল্লাহ! আমার কোমরটা মনে হয় গেল!”
শুভ্রা ভয়ে আর লজ্জায় ঈশানের বুকের ওপরই জমে গেছে। তার নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে ঈশানের গলায়। ঈশান যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতেও শুভ্রার দিকে তাকিয়ে দেখল মেয়েটা একদম থম মেরে আছে। ব্যথার চোটে ঈশান কপাল কুঁচকে হিসহিসিয়ে বলল।
“কী হলো? সারাজীবন কি এভাবেই আমার বুকের ওপর শুয়ে থাকার ইচ্ছা আছে নাকি? ওঠো বলছি, আমার হাড্ডিগুড্ডি তো সব গুঁড়ো হয়ে গেল।”
আচমকা শুভ্রা ঈশানের বুকের ওপর ওভাবেই জমে গেল। ঠিক এই মুহূর্তটায় ঈশানের ফর্সা মুখটা কড়া রোদে একদম আপেলের মতো লাল টকটকে হয়ে উঠেছে। কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে নামছে নাকের ডগা দিয়ে। শুভ্রা নিজের অজান্তেই ঘোরের মধ্যে তলিয়ে গেল। ওর মনে হলো, মানুষটা রাগী হলে কী হবে, এই অবস্থায় দেখতে বড্ড কিউট লাগছে!
ভয় আর লজ্জা ভুলে গিয়ে শুভ্রা ঈশানের বুকের ওপর শুয়ে থাকা অবস্থাতেই বিড়বিড় করে বলে উঠল।
“ওয়াও! কী কিউট!”
ঈশান পুরো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। কোমরের ব্যথায় যেখানে তার প্রাণ ওষ্ঠাগত, সেখানে শুভ্রার মুখে এমন রোমান্টিক ডায়ালগ শুনে সে চোখ বড় বড় করে আকাশ থেকে পড়ার মতো করে বলল।
“এ্যাঁ কি বললে?।”
মুহূর্তের মধ্যে শুভ্রার ঘোর কেটে গেল। নিজের কানকে সে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না কী বলতে কী বলে ফেলেছে! লজ্জায় ওর মনে হলো এখনই মাটি ফাঁক হলে সে ভেতরে ঢুকে যেত। সে তড়িঘড়ি করে ঈশানের ওপর থেকে উঠে ছিটকে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। এক পলক চোরের মতো আশেপাশে তাকিয়ে নিল। ভাগ্যিস, সবাই তখন মঞ্চের অনুষ্ঠান নিয়ে পাগল ছিল, তাই কেউ তাদের এই কাণ্ডটা দেখেনি।ঈশান অনেক কষ্টে দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাঁড়াল। ধুলোমাখা পাঞ্জাবিটা ঝাড়তে ঝাড়তে বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে বলল।
“আমার কোমরের সাথে তোমার কি কোনো জন্ম-জন্মান্তরের শত্রুতা আছে? বারবার কেন তুমি আমার এই কোমরটাতেই আক্রমণ করো, অ্যাঁ?”
শুভ্রা অপ্রস্তুত হয়ে আমতা আমতা করে বলল।
“আমি কি ইচ্ছে করে করেছি? ওই তো শাড়িতে পা আটকে ভুল করে হয়ে গেছে!”
ঈশান আর কথা বাড়াল না। কোমরে এক হাত দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আবার সামনের দিকে হাঁটতে লাগল। শুভ্রাও কাঁচুমাচু মুখ করে ওর পিছু পিছু হাঁটছে। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর শুভ্রা হঠাৎ শান্ত গলায় ডাকল।
“একটা কথা বলি।”
শুভ্রার এই হঠাত কথায় ঈশান বেশ বিরক্ত হলো। ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি নিয়ে তাকাল সে। শুভ্রার সাথে কথা বলতে তার এখন একদমই ইচ্ছে করছে না এই মুহুর্তে , তবুও অনিচ্ছাসত্ত্বে বলল।
“বলো।”
“আপনাকে না পাঞ্জাবিতে অনেক সুন্দর লাগছে।”
ঈশান এবার অবাক হয়ে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল। শুভ্রা নিজের অজান্তেই বেশ লজ্জা পেয়ে গেল, মাথাটা নিচু করে ফেলল সে। ঈশান কিন্তু খুব একটা পাত্তা দিল না, বরং অবহেলার সুরে ঠোঁট ফুলিয়ে বলল।
“থ্যাংক ইউ।”
শুভ্রার এবার বেশ রাগ হলো। সে আশা করেছিল ঈশানও পাল্টা তাকে নিয়ে কিছু একটা বলবে। সে অভিমানে মুখ কালো করে প্রশ্ন করল।
“আমাকে কেমন লাগছে বলবেন না?”
ঈশান বাঁকা চোখে একবার আপাদমস্তক শুভ্রাকে দেখে নিল। তার চেহারায় কোনো ভাবান্তর নেই। সে নিস্পৃহ গলায় বলল।
“একটুও ভালো লাগছে না।”
ঈশানের কথায় মুহূর্তে রাগে জ্বলে উঠল শুভ্রা। অভিমানে আর রাগে গাল দুটো ফুলিয়ে সে যেই না কড়া কিছু বলতে যাবে, অমনি দেখল ঈশান সামনে থাকা কারো বলিষ্ঠ বুকের সাথে সজোরে ধাক্কা খেল। ঈশান ভড়কে গিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখল শুভ্র! শুভ্রর চোখের মণি দুটো আজ কেমন যেন টকটকে লাল হয়ে আছে, চেহারায় এক ভয়াবহ কাঠিন্য।
শুভ্রকে দেখামাত্র ঈশান সব ভুলে উদ্বেগ নিয়ে বলল।
“বস, আপনি ঠিক আছেন তো?”
শুভ্র কেবল যান্ত্রিকভাবে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। তার দৃষ্টি তখনো পাথরের মতো স্থির। তারপর শুভ্রার দিকে তাকিয়ে খানিকটা বিরক্ত হয়েই বলল।
“তুই এখানে কেন?”
শুভ্রা অবাক হয়ে আমতা আমতা করে বলল।
“ওই… ভাইয়া, রিদিকে খুঁজছি। হঠাৎ গান গেয়ে ও কোথায় যে চলে গেল!”
শুভ্র এক বুক হাহাকার নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিজের ভেতরের ঝড়টা আড়াল করে দিয়ে শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল।
“রিদি চলে গেছে, ওকে আর খুঁজতে হবে না।”
শুভ্রা আকাশ থেকে পড়ার মতো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল।
“অ্যাঁ! চলে গেছে মানে? কই, আমাদের তো কিছু বলেনি?”
শুভ্র আর কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন মনে করল না। কেবল হুকুমের সুরে বলল।
“আমি পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন আর এখানে ঘুরাঘুরি না করে চুপচাপ মঞ্চে গিয়ে বস।”
বলেই শুভ্র হনহন করে হাঁটতে হাঁটতে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেল। ওর চোখের সেই লাল আভা আর চোয়ালের হাড়ের কাঁপন বলে দিচ্ছিল ভেতরে কোনো এক আগ্নেয়গিরি ফুটছে। ঈশানও কালবিলম্ব না করে বসের পিছু নিল।
“বস, কাজ শেষ। নিয়ে এসেছি।”
নির্ভানের ঠোঁটে এক পৈশাচিক আর বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে পায়ের ওপর পা তুলে আরাম করে বসে ছিল। রিদিকে ওভাবে গাড়িতে তুলে আনতে পেরে সে বেশ তৃপ্ত। নির্দয় গলায় বলল।
“গুড। তবে দেরি করিস না, মেরে ফেল।”
গার্ডের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। সে ইতস্তত করে বলল।
“বস, মেয়েটাকে মারলে হয়তো আপনি বিপদে পড়বেন আমার যা মনে হয়। শুভ্রের ব্যাপারে খবর নিয়েছি, শুভ্র মেয়েটার প্রতি অনেক সিরিয়াস। যদি শুভ্র জানতে পারে, তবে আপনাকে ছাড়বে না।”
শুভ্রের নাম শুনতেই নির্ভানের চোখে যেন আগুন জ্বলে উঠল। অপমানে আর রাগে সে হিতাহিত জ্ঞান হারাল। সে এক ঝটকায় গার্ডের চিবুক শক্ত করে চেপে ধরল। দাঁতে দাঁত চেপে হিশহিশিয়ে বলল।
“শুভ্র আমার বা’ল করবে! গুষ্টি মারি আমি ওকে। ১০ মিনিটের মধ্যে ওই মেয়েটার মৃত্যু সংবাদ যদি না শুনি, তাহলে ১০ মিনিটের মধ্যে তোর মৃত্যু নিশ্চিত করে রাখ!”
নির্ভানের সেই রক্তশীতল করা হুমকির পর গার্ডটা ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল।
“ঠি-ঠিক আছে বস, এখনি যাচ্ছি।”
নির্ভান ঝটকা দিয়ে গার্ডের চোয়াল ছেড়ে দিল। তার চোখেমুখে এখন কেবল রিদির মৃত্যুর অপেক্ষা। গার্ডরা আর দেরি না করে সরাসরি সেই অন্ধকার গুমোট ঘরে চলে আসল, যেখানে রিদিকে আটকে রাখা হয়েছে।
রিদি তখন প্রচণ্ড যন্ত্রণায় মাথা দুহাতে চেপে ধরে এপাশ-ওপাশ করছে। মাথায় অসহ্য দপদপানি, চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছে। সে কিছুতেই মেলাতে পারছে না, হঠাৎ করে তাকে কারা আর কেন এখানে তুলে নিয়ে এল। রিদি অনেক কষ্টে চোখ তুলে সামনে তাকাতেই তার চোখ কপালে উঠে গেল।
এরা তো সেই রাস্তার বখাটে ছেলেগুলো! যাদের সে সেদিন ইচ্ছেমতো ঝেড়েছিল। রিদির বুকের ভেতরটা ভয়ের চোটে গুড়গুড় করে উঠল। আজ তবে কেন তারা তাকে এভাবে তুলে নিয়ে এল? তবে কি সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতে এরা এখন ওর সাথে খারাপ কিছু করবে? ভাবতেই রিদির কলিজা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। সে কোনোমতে টাল সামলে মাথা ধরে উঠে দাঁড়াল। দেয়ালের সাপোর্ট নিয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় গার্ডদের দিকে তাকিয়ে বলল।
“আপনারা? আপনারা আমাকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?”
গার্ডরা পৈশাচিক উল্লাসে হেসে উঠল। একজন গার্ড দাঁত বের করে রিদির দিকে তাকিয়ে বলল।
“আমি তোর আজরাইল! আজ তোর জান কবজ করব।”
রিদির পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। সে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“মা-মানে? কী বলছেন আপনারা?”
গার্ডটা কোনো মায়া ছাড়াই নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল।
“আরে হ্যাঁ, এত কথা বলার সময় নাই। দশ মিনিটের মধ্যে তোকে মারতে না পারলে আমাদের মরতে হবে। তাই আমি আর সময় নষ্ট করতে চাইছি না। শেষ ইচ্ছা থাকলে মনে মনে বলে নে, আর কালেমা পড়ে মৃত্যু গ্রহণ কর।”
রিদি আতঙ্কে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে পিছাতে পিছাতে আর্তনাদ করে বলল।
“দে-খুন, আমি কী করেছি? আমাকে কেন মারবেন? প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দেন! আমি তো আপনাদের কোনো ক্ষতি করিনি।”
গার্ডটা এবার পকেট থেকে একটা ধারালো ছুরি বের করল। ফলার ওপর বিচ্ছুরিত আলো রিদির চোখে গিয়ে লাগল। গার্ড রিদির দিকে এগোতে এগোতে বলল।
“তুই কী করেছিস সেইটা জানি না। তবে বস যেহেতু তোকে মারতে বলেছে, তাহলে তুই বসের শত্রু। আর বসের শত্রু মানে আমাদের শত্রু। এখন মর!”
বলেই গার্ডটা ঝড়ের বেগে এগিয়ে গিয়ে রিদির পেটে ছুরি বসিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু প্রাণের ভয়ে রিদি শেষ মুহূর্তের মরণপণ চেষ্টা চালাল। সে আচমকা সজোরে এক লাথি মারল গার্ডের পেটে। অপ্রস্তুত গার্ড টাল সামলাতে পারল না, ছুরিটা হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল আর সে ব্যথায় চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
রিদি সুযোগ বুঝে এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে দ্রুত দৌড়ে রুম থেকে বের হতে চাইল। কিন্তু অন্য একটা গার্ড পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। সে রিডিকে পালাতে দেখে ক্ষিপ্র হাতে পাশ থেকে একটা ভারী পাথরের ফুলদানি তুলে নিল। রিদি যখন দরজার প্রায় কাছাকাছি, ঠিক তখনই গার্ডটা পিছন থেকে ওর মাথায় সজোরে আঘাত করল।
রিদির পা জোড়া সেখানেই থেমে গেল। সারা পৃথিবী যেন চোখের সামনে দুলতে শুরু করল। অসহ্য এক যন্ত্রণায় মাথা চেপে ধরে সে আর্তচিৎকার করে উঠল।
“আহহহহহহ!”
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৭
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৬