প্রেমবসন্ত_২ ।৫১।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
সকাল সকাল বাড়ি ভর্তি মানুষ। খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকেছেন এইতো একটু আগে। অর্ণর বন্ধুরা বাড়িতে উপস্থিত, তাই তারাও বাদ যায়নি নাস্তার টেবিলে। শেহেরকে বড্ড স্নেহ করেন মাশফিক চৌধুরী। ছেলেটা যেমন নরম মনের ঠিক তেমন তার লাইফ স্টাইল। খাওয়া দাওয়া শেষে শেহের আবদার করল তাদের সাথে তার কিছু কথা আছে। এতে মাশফিক চৌধুরী সায় জানিয়ে ওকে নিয়ে সোফায় বসলেন। পাশে আজগর চৌধুরী, নাজনীন এবং বাড়ির মহিলারাও ছিলেন। শেহের অপ্রস্তুত এত মানুষের মধ্যে বোধ করল। তবু আজ নিজেকে শক্ত করল। আদি মায়ের সাথে এখনো ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খাচ্ছে। ওকে মূলত নুসরাত খাইয়ে দিচ্ছে। শেহের আড়চোখে নুসরাতকে দেখে বলল,
“আমি এত ঘুরিয়ে কথা বলতে পারি না আঙ্কেল। আমি নুসরাতকে বিয়ে করে নিজের অর্ধাঙ্গিনীর পরিচয় দিতে চাই। আমি ওর হাত চাইলে আপনি কী আমায় ফিরিয়ে দেবেন?”
মাশফিক চৌধুরী যেন আকাশ থেকে পড়লেন। বাকিরাও চমকে তাকাল শেহেরের দিকে। নুসরাতের হাত থেমে গেছে প্লেটেই। মেয়েটা শুকনো ঢোক গিলে কোনোরকম মাথা নিচু করল। এই সময়ে এসে এমন প্রস্তাব বড্ড বেহায়াকর লাগল তার কাছে।
মাশফিক চৌধুরী স্ত্রীর সাথে চোখা-চোখী করলেন। দুজনেই যেন বড্ড অবাক হয়েছেন এমন প্রস্তাবে। আজগর চৌধুরী গলা কেঁশে বললেন,
“তোমাকে আমি সেই ছোট থেকে চিনি শেহের। অবশ্যই তুমি একজন ম্যাচিওর এই যুগের ছেলে। যা সিদ্ধান্ত নেবে ভাবনা-চিন্তা করেই নেবে। আমার বড় নাতনি একা নয়, দায়িত্ব নিলে তার সন্তানসহ কবুল করতে হবে। আজীবন একটি নয়, দুটো মানুষকে নিজের করে রাখতে হবে।”
শেহের যেন ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। হঠাৎ সোফা ছেড়ে মাশফিক চৌধুরীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তার দুহাত মুঠোয় নিয়ে বলল,
“আমি শুধু নুসরাতের হাত চাইছি না আঙ্কেল। আমি আদিকেও চাইছি। আমি কথা দিচ্ছি, কোনোদিন দুজনের একজনের চোখেও একফোঁটা জল আসতে দেব না। তাদের দুঃখ ছোঁয়ার আগে আমায় ছুঁতে হবে। শুধু বিশ্বাস করে একটাবার ওদের আমায় দিয়ে দিন না! ওদের আমি সুখে রাখব, যে সুখ এজীবনে অন্তত ফুরোবে না। আমায় দেবেন ওদের?”
বাচ্চাদের মতো বায়না করে বসল শেহের। বাড়ি শুদ্ধ মানুষ হতভম্ব ছেলেটার কাজে। তারা ভাবতেও পারছেন না একটা এক বাচ্চার মায়ের জন্য এক কুমার ছেলে এমন বাচ্চাদের মতো বায়না ধরে সেই নারীকে নিজের করে চাইছে। শুধু যে সেই নারীকে তা নয়, সেই নারীর সন্তানকেও নিজের করে পেতে চাইছে। মাশফিক চৌধুরী কথা খুঁজে পেলেন না কিছু বলার মতো। দূর থেকে স্বার্থ নাক কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে মেহরাবের সাথে। হবু শ্বশুরটাকে তার পানিতে চুবোতে ইচ্ছে করছে। এত সময় নিয়ে ভাবার কী আছে? রাজী হয়ে গেলে সে নিশাকে বিয়েটা করতে পারবে। দুই বোন এক জাতের। কারোর থেকে কেউ কম না। বড় বোন বিয়ে না করা অব্দি ছোটটা বিয়ে করবে না। স্বার্থ বিরক্ত হয়ে কপালে হাত দিল। সেটা দেখে মেহরাব ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বলল,
“আমার বাইরে যেতে হবে,তোর শরীর খারাপ লাগছে?”
স্বার্থ বলল,
“তোরা বেঈমান। তোদের মতো বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।”
মেহরাব অবাক হয়ে বলল,
“কেন?”
“সবার প্রথমে বিয়ের সিরিয়াল আমার ছিল, সেখানে শুনি অর্ণ বিয়ে করেছে ল্যাংটা থাকতে। তারপর এবার শেহের, তারপর আবার তুই। আমি কী পানিতে ভেসে এসেছি? সবার আগে বাবা হওয়ার কথা আমার, সেখানে তোরা বিয়ে সাদি করে বাবা হওয়ার প্ল্যান করছিস, হারামজাদা।”
মেহরাব বলল,
“তোকে বিয়ে করতে বারণ করেছি আমি? তুই দুনিয়ায় এত মেয়ে থাকতে নিশুকে কেন ভালোবাসতে গেলি? মেয়ের কী এতই আকাল পড়েছিল?”
“ওকে একদম নিশু বলে ডাকবি না। ওকে শুধু আমি নিশু বলে ডাকি।”
মেহরাব চোখ কুঁচকে স্বার্থকে দেখে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত নিশাকে গলা ছেড়ে ডেকে বলল,
“এই নিশু, আমাকে এক গ্লাস পানি দিয়ে যা।”
নিশা এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মেহরাবের ডাকে খানিক বিরক্ত হলেও পানির কথা শুনে চুপচাপ ছুটে গেল ডাইনিং টেবিলের কাছে। স্বার্থ দাঁত কটমট করে বলল,
“জীবনে বউয়ের ভালোবাসা পাবি না দেখে নিস।”
মেহরাব ঠোঁট টিপে বলল,
“তুই আছিস না? তোর ভালোবাসা পেলে বউয়ের ভালোবাসা লাগবে না। তোকে দিয়েই কাজ চালিয়ে নেব।”
মাশফিক চৌধুরী গম্ভীর হয়ে সে-ই যে বসেছেন আর কোনো বাক্য উচ্চারণ করেননি। শেহের সেভাবেই বসে আছে সেখানে। বাড়ির মানুষজন মাশফিক চৌধুরীর উত্তরের আশায় চেয়ে আছেন উদগ্রীব হয়ে। আদি খাওয়া বাদ দিয়ে গুটি গুটি পায়ে হেলে-দুলে শেহেরের কাছে এলো। শেহেরের শরীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে শেহেরের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুমি কাঁদছ কেন বাবা? নানাভাই তোমায় বকেছে?”
শেহেরের দৃষ্টি তখন ছলছল। আদি আসায় চোখের পানি লুকিয়ে সোফায় সোজা হয়ে বসল। দুহাত বাড়িয়ে আদির ছোট্ট শরীরটা ঊরুর উপর বসিয়ে আদির কপালে চুমু খেল। আদি ওর গলা জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ রাখল। বিড়বিড় করে বলল,
“মামু আমার বউ এখনও এনে দেয়নি।”
শেহের উত্তর দিল না। এই মুহূর্তে আদির বাচ্চামি দেখার সময় নেই। সে ফের মাশফিক চৌধুরীর দিকে তাকাল। বলল,
“আপনার উত্তরের আশায় আছি আঙ্কেল।”
তিনি এবার একটু নড়েচরে বসলেন। হালকা গলা কেঁশে আড়চোখে নুসরাতকে দেখে বললেন,
“এভাবে তো মেয়েকে দিয়ে দিতে পারি না শেহের। আমার তোমার উপর ভরসা আছে কিন্তু…”
বাকি কথা শেষ করার আগে স্বার্থ এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
“এত কিন্তু কিন্তু করছেন কেন আঙ্কেল? বিয়েটা দিয়ে দিন না! ও ওর বউ বাচ্চা নিয়ে চলে গেলে আমি আমার বউটাকে নিয়ে যেতে পারব।”
মাশফিক চৌধুরী দাঁত চেপে তাকালেন।
“তুমি এসবে কথা বলছ কেন? তোমার সাথে কথা বলছি আমি?”
“আমার সাথে কথা বলা আর আমার বন্ধুর সাথে কথা বলা একই হলো। আপনি শুধু রাজী হয়ে গেলেই এখনই আমি কাজী ডেকে এনে ওদের বিয়ে করিয়ে দিব। এত ঝামেলা কেন করছেন বলুন তো?”
তারপর শেহেরের দিকে তাকিয়ে আঙুল উঁচিয়ে বলল,
“কিরে, তুই কী মেয়ে মানুষ? এমন চুপচাপ বসে আছিস কেন? বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার ছিল দিয়েছিস, এবার মেয়ে না দিলেও তুলে নিয়ে যাবি।”
শেহের চোখ গরম করল। যেন সেই দৃষ্টি দিয়েই ওকে গিলে খাবে সে। নিশা কপালে হাত দিল। এই লোক কী জীবনেও মানুষ হবে না? কোথায় কী বলতে হয় আদৌ জানে? আব্দুর চৌধুরী খেঁকখেঁক করে উঠলেন স্বার্থর কথা শুনে। মুখ কুঁচকিয়ে বলেন,
“ভাইজান, তোমার বড় ছেলের মতন ওর বন্ধু গুলোও বড্ড বেয়াদব।”
স্বার্থ মুখ কালো করে বলল,
“আঙ্কেল, এভাবে বললে কিন্তু খুব মাইন্ডে লাগে।”
“আশ্চর্য ছেলে তো তুমি! তুমি কী আমার কথা বুঝতে পারছ না? বড়দের মাঝে একভাবে নাক গলাচ্ছ কেন? বন্ধুর মতো বাজে স্বভাব হয়েছে নাকি?”
“আমার অর্ণর জন্য বড্ড আফসোস হচ্ছে। বেচারা একটা ভালো শান্ত শ্বশুর ডিজার্ভ করে, সেখানে পেয়েছে আপনার মতো একজন বদমেজাজী শ্বশুর।”
ক্ষণে ক্ষণে আব্দুর চৌধুরীর মেজাজ আকাশে উঠে যাচ্ছে। মাশফিক চৌধুরী চোখ গরম করে নিশার দিকে তাকালেন। যেন মেয়েকে চোখ দিয়েই শাসাচ্ছেন তিনি। নিশা বাবার দৃষ্টি দেখে শুকনো ঢোক গিলে পেছন থেকে মিনমিন গলায় স্বার্থকে বলল,
“তুমি আমার সাথে একটু এসো তো!”
স্বার্থ চাচ্ছিল আর একটু ঝগড়া করতে। কিন্তু নিশার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে নিচে, ঠিক বুকের দিকে তাকিয়ে নিশাকে দেখল। নিশা হাত টেনে ধরে তাকে নিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে। স্বার্থ আড়চোখে একবার মাশফিক চৌধুরীকে দেখে গলা উঁচিয়ে বলল,
“আঙ্কেল, আপনি রাজী না হলে মেয়ে তুলে নিয়ে যাব বন্ধুর জন্য।”
নিশা ধমক দিয়ে বলল,
“চুপ করো বেহায়া লোক।”
শেহের দম নিল এবার। নিজেকে শান্ত করে মাথা নিচু রাখল। মাশফিক চৌধুরী নিজের কথা গুছিয়ে বললেন,
“এভাবে তো মেয়ের হাত দেয়া যায় না। বিয়ে তো দুদিনের কথা নয় যে, আজ বিয়ে করেছি চাইলেই কাল ছেড়ে দিতে পারব। বিয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই নুসরাতের মতামত সহ তোমার বাবা-মায়ের অনুমতির দরকার আছে। যদি সম্ভব হয় তোমার বাবা-মাকে নিয়ে এসো, আমি ভেবে দেখব। আর সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একবার নুসরাতের সাথে খোলা-মেলা ভাবে কথা বলে নিয়ো।”
নুসরাত দূর থেকে চট করে বলে ফেলল,
“আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলব বাবা। ভাইয়া কোথায়?”
মেহরাব বলল,
“অর্ণ ভাবিকে নিয়ে বাইরে গেছে। তুমি কী অর্ণর কথা বলছ? নাকি প্রেম?”
নুসরাত বলল,
“বড় ভাইয়ার কথাই বলছি। আমি আগে ভাইয়ার সাথে কথা বলব।”
শেহের উঠে দাঁড়াল আদিকে কোলে নিয়ে।
“আমি আজ আসি, আপনাদের সিদ্ধান্ত আমাকে জানালে আমি আমার পরিবার নিয়ে আসব। আজ আদিকে আমার সাথে নিয়ে যাচ্ছি, বিকেলে দিয়ে যাব।”
শেহের বাড়ি থেকে বের হলো মেহরাবের সাথে। নুসরাত ঠোঁট কামড়ে একবার সবাইকে দেখে নিজের ঘরের দিকে ছুটল। মন চাচ্ছে কোথাও পালিয়ে যেতে। এই বিয়ের মতো একটা পরিস্থিতিতে সে আবার জড়াতে চায়নি। কিন্তু এখন তার হাতে কিছু নেই।
•••
অর্ণ ঘুমঘুম চোখ জোড়া মেলে ধরল বহু কষ্ট করে। চোখে ঘুম লেগেছে ভোররাতে। খানিক মাথা ব্যথাও টের পেল সে। ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখল কায়নাত সেখানে নেই। কপাল কুঁচকে উঠে বসল বিছানায়। এদিক-ওদিক ঘরের চারপাশে খুঁজেও পেল না ওকে। বিছানার চাদরে চিপকে থাকা গোলাপের পাপড়ি গুলোর অবস্থা তখন বেহাল। অর্ণ বিছানা থেকে নেমে কোমরের ট্রাউজার ঠিক করে ঘরের বাইরে বের হলো। চারপাশটা রোদে চিকচিক করছে রুপোলি রূপকথার ন্যায়।
এটা একটা মাটির বাড়ি, যেটা অর্ণ বউকে বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে বউকে খুশি করতে উপহার হিসেবে দিয়েছে। বাড়িটা কাল এলোমেলো থাকলেও আজ বড্ড পরিষ্কার মনে হচ্ছে। অর্ণর মুখের ভাব কিছুটা হতভম্ব! বাড়ির বাম পাশ থেকে হঠাৎ রিমিঝিমি নূপুরের শব্দ ভেসে এলো। অর্ণ শব্দ শুনে বাম পাশে দৃষ্টি দিতেই দেখতে পেল এক সপ্তদশী নারী গায়ে গাঢ় লাল রঙের সুতির শাড়ি পরে আঁচল কোমরে গুঁজেছে। হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি, মাথায় ভেজা গামছা দিয়ে মাথা প্যাঁচানো। আর ওইযে ফরসা খালি পায়ে এক জোড়া নূপুর—যেটা থেকে ঝুমঝুম শব্দ বাজছে কানে। কায়নাত রোদে কপাল কুঁচকে তার ভেজা জামদানি শাড়িটা উঠোনের দড়িতে ঝুলিয়ে দিল। সে এখনও পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানবটার দিকে ফিরেও দেখেনি। অর্ণ শ্বাস খানা বন্ধ করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এমন রূপে কখনও কায়নাতকে দেখেনি সে। বাংলার নববধূর ন্যায় মেয়েটা তার সামনে এসে হাজির হয়েছে। এই রূপকে যেন বড্ড হিংসা লাগছে তার।
কায়নাত শাড়ি ঝুলিয়ে লম্বা শ্বাস ফেলে পিছু ঘুরল। বারান্দায় অর্ণকে দেখে খানিক চমকে উঠল। আজ বড্ড বাতাস বাইরে। অর্ণর খালি শরীর দেখে কায়নাত তড়িঘড়ি করে শাড়ির আঁচল ধরে নিকটে দৌঁড়ে এসে বলল,
“অমন করে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আমি কল চেপে বালতিতে পানি ভরে এসেছি। তাড়াতাড়ি গিয়ে গোসল সেরে আসুন। আপনি দেখি জামা-কাপড় আগেই এনে রেখেছিলেন এখানে। আমি কলপাড়ে কাপড় রেখে এসেছি।”
অর্ণ হঠাৎ কায়নাতের চঞ্চল দেহ টেনে কোমর জড়িয়ে ধরল। কম্পিত ঠোঁটে আঙুল চেপে জড়াল গলায় বলল,
“বিরক্ত করছ কেন আমায়?”
কায়নাত শুকনো ঢোক গিলে এলোমেল দৃষ্টি ফেলে বলল,
“বিরক্ত করিনি তো! আমি তো আপনাকে গোসল করতে বলেছি।”
অর্ণ বলল,
“তুমি আমায় বিরক্ত করছ।”
কায়নাত সত্যি ভাবল সে বোধহয় কোনোভাবে অর্ণকে বিরক্ত করেছে।
“কী করেছি আমি?”
অর্ণ কায়নাতের গলার ভাজে ভাজে দৃষ্টি বুলাল। তার দেয়া চিহ্ন উকি দিচ্ছে কড়া চোখে। সে বোধহয় ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা হাসল। হঠাৎ উন্মুক্ত বুকে ঠাঁই হলো মেয়েটার। অর্ণ পাঁজাকোলে তুলে বাড়ির পেছনে কলপাড়ের দিকে যাচ্ছে। কায়নাত আতঙ্কিত হয়ে বলল,
“আমি গোসল করেছি। আপনি আমায় আবার ওখানে নিয়ে যাচ্ছেন কেন?”
অর্ণ কলপাড়ে এসে ওকে নামিয়ে দিল। সেখানে রাখা ছোট্ট লাল টুলে বসে বলল,
“বউ থাকতে এত কষ্ট করব কেন? এখন চুপচাপ মাথায় পানি ঢেলে গোসল করিয়ে দাও।”
এত বড় লোকের মুখে এমন ধরনের বাচ্চামো কথা শুনে কায়নাত আকাশ থেকে পড়ল। মুখে হতভম্ব ভাবটা বজায় রেখে বলল,
“আপনি কী বাচ্চা? আমায় কেন গোসল করিয়ে দিতে হবে? আজ না আমরা এই বাড়িতে থাকব? রান্না ঘরে সবজি গুলো পড়ে আছে এখনও, সেগুলো রান্না করতে হবে না?”
অর্ণ বলল,
“আজ আমি রান্না করব। আপনাকে যা বলেছি সেটা করুন না ম্যাডাম!”
কায়নাত তাই করল। ঘর থেকে আরেকটা টুল এনে অর্ণর পাশে বসল। মগে করে পানি যখন অর্ণর মাথায় ঢালছিল, তখন কায়নাতের হাতে লেপ্টে থাকা কাঁচের চুড়ি গুলো পানিতে ভিজে হালকা শব্দ করছিল। অর্ণ ঠোঁট টিপে পুরোটা মুহুর্ত উপভোগ করল। কাজল চোখের বধূ তার। যেমন রূপে, তেমন গুণে। গোসল শেষে কায়নাত যখন অর্ণর পিছু পিছু ঘরে এলো, তখন অর্ণ গায়ে টি-শার্ট পরতে পরতে বলল,
“শোনো মেয়ে!”
কায়নাত ঘাড়টা উঁচু করে অর্ণর দিকে তাকাল। কোমর থেকে আঁচল ছাড়িয়ে মাথায় তুলে বলল,
“বলুন?”
“বিছানায় বসো তো!”
“বিছানা নোংরা। চাদর ধুতে হবে।”
অর্ণ মাথা নেড়ে বলল,
“তাহলে বারান্দায় যাও।”
কায়নাত ঘর থেকে বের হলে অর্ণ মিনিট খানিক সময় পর হাতে একটা একটা ছোট শপিং ব্যাগ নিয়ে বাইরে বের হয়। কায়নাত পাটি বিছিয়ে নিচে বসেছে তখন। অর্ণ বাইরে এসে দেখল, তার লাল টুকটুকে বধূ লক্ষ্মী মেয়ের মতো বসে আছে। অর্ণ ধমক দিয়ে বলল,
“চেয়ারে বসো।”
কায়নাত বুকে থুথু দিয়ে চুপচাপ বসল চেয়ারে। অর্ণ বসল ঠিক তার পায়ের কাছে। যেইনা কায়নাতের পা ছুঁলো, অমনি কায়নাত খানিক ছিঁটকে এসে বলল,
“পা ধরছেন কেন?”
অর্ণ রেগে তাকাল।
“মার খেতে ইচ্ছে করছে? এত কথা বলতে বলেছে কে তোমায়?”
কায়নাত বলল,
“আপনি পা ধরছেন কেন? জানেন না, পা ধরতে হয় না স্ত্রীদের?”
অর্ণ ওর পা টেনে ধরে নিজের ঊরুর উপর রেখে ব্যাগ থেকে আলতার প্যাকেট বের করতে করতে নরম গলায় বলল,
“এসব আপনাকে কে বলেছে বলুন তো? আপনি আর আমি কী আলাদা? লোকে কী বলবে না বলবে তা দিয়ে আমরা কী করব? দরকার হলে আমি আমার বউকে মাথায় তুলে রাখব,এতে কে কী বলবে?”
বলতে বলতে অর্ণ কায়নাতের রাঙা পায়ে আলতা লেপ্টে দিতে শুরু করল। কায়নাত স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। মেয়েটা যেন আজ অর্ণকে নতুন করে আবিষ্কার করল। লোকটা আজ লাল শাড়ি, নূপুর, কাঁচের চুড়ির সাথে আরো কত কী এনে রেখেছিল। এখন আবার যত্ন করে পায়ে আলতা পরিয়ে দিচ্ছে। এমন স্বামীর সোহাগ যে কপালে লিখা ছিল—তা মেয়েটা কল্পনাতেও ভাবেননি। অর্ণ ওর পায়ে আলতা দেয়া শেষ করে ব্যাগ থেকে একটা টিপের পাতা বের করল। খুঁজে খুঁজে ছোট লাল রঙের একটা টিপ্ বের করে কায়নাতের দুই ভ্রুর মাঝে রেখে ভেজা গামছা খুলে দিল। ভেজা চুল মুছে দিয়ে চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিল। কায়নাত পলক পিটপিট করে অর্ণর গম্ভীর মুখ পর্যবেক্ষণ করছিল এতক্ষণ। অর্ণ পকেট থেকে নিজের ফোন বের করল। তারপর কপাল কুঁচকে কায়নাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমার কোলে এসে বসো।”
কায়নাত আমতা আমতা করে বলে,
“আপনি করছেন কী এসব?”
অর্ণ শুনল না ওর কথা। টেনে এনে বসাল নিজের কোলে। ক্যামেরা অন করে ছোট্ট বউটাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“হাসো সুন্দর করে।”
কায়নাত লোকটার কাজ-কর্মে আজ বড্ড অবাক হচ্ছে। বেশ কয়েকটা ছবি তুলে সেই ছবি ফোনের ওয়ালপেপারে দিয়েছে। ভিডিও করে বেহরুজ বেগমকে পাঠিয়েছে। কায়নাত হাঁসফাঁস করে উঠল, তবু ছাড় পেল না। অর্ণ ওকে পাটিতে বসিয়ে রেখে উঠে দাঁড়াল। রান্না ঘরটা একদম উঠোনের মাঝে। কায়নাত দেখল, অর্ণ রান্নাঘরে ঢুকেছে। ভাতের চাল ধুইয়ে চুলায় বসিয়ে আগুন ধরাতে গিয়ে প্রায় আধ-ঘণ্টা লাগিয়ে দিয়েছে। নাহ! কিছুতেই আগুন ধরাতে পারছে না। কায়নাত শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“আমি আগুন ধরিয়ে দিব?”
অর্ণ ধমক দিয়ে বলল,
“বেয়াদব মহিলা, আমি কী তোমার কাছে হেল্প চেয়েছি?”
“আপনি তো জ্বালাতে পারছেন না। কত বেলা হলো খেয়াল আছে? আমার বুঝি খিদে পায়নি?”
অর্ণ ঘাড় চুলকে নাক কুঁচকে আবার চেষ্টা করল। পারল তো না-ই, আবার আগুন ধরাতে গিয়ে চুলোর ময়লা চলে এলো চোখে। কায়নাত দৌঁড়ে গেল সেদিকে। অর্ণর হাত থেকে লাইটার রেখে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের ময়লা বের করার চেষ্টা করল। কিছুটা রাগ নিয়ে বলল,
“আপনি এত জেদ কেন করেন? যেটা পারেন না সেটা নিয়েই বাহ্দুরি।”
অর্ণর চোখ লাল বর্ণ ধারণ করেছে ইতোমধ্যে। চোখটা জ্বলছে বড্ড। কায়নাত টেনে ওঁকে রান্নাঘর থেকে বের করার সময় চালের সাথে বারি খেল অর্ণ। উপরে শক্ত কাঠ ছিল, যেটায় মাথা লেগেছে তার। কায়নাত আতঙ্কিত হয়ে প্রায় কেঁদে ফেলবে ফেলবে ভাব। ওকে বারান্দায় বসিয়ে দিয়ে মাথা ডলতে ডলতে বলল,
“খুব লেগেছে? আপনি রান্না জানেন না তবু ঢঙ করতে গিয়েছিলেন কেন?”
অর্ণ উত্তর দিল না। উত্তর দেয়ার মতো কিছু পেলোই না। কায়নাত ওকে এক গ্লাস পানি দিয়ে আঁচল কোমরে গুঁজে ঢুকল রান্না ঘরে। অর্ণ ফোনের ক্যামেরা অন করে রাখল। প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগিয়ে কায়নাতের রান্না শেষ হলো। ঘামে শরীর ভিজে যাচ্ছে মেয়েটার। অর্ণ ততক্ষণে ঘর পরিষ্কার করে ফেলেছে। দুপুরে যখন দুজন একসাথে খেতে বসল, তখন অর্ণ ভাত খাবে না বলে বসে রইল। কায়নাত পড়েছে মহাবিপদে। লোকটার মিনিটে মিনিটে মুড চেঞ্জ হয়।
“এত কষ্ট করে রান্না করেছি, আপনি খাবেন না কেন?”
অর্ণ কপাল কুঁচকে বলল,
“আমি কখন বলেছি খাব না?”
“তাহলে প্লেটের ভাত পাতিলে ঢাললেন কেন?”
“তোমায় কী আমি বসিয়ে রাখার জন্য বিয়ে করেছি? বউ সেজে বসে আছো কেনো? খাইয়ে দিতে পারছ না?”
“আপনি কী সোজা কথা বলতে পারেন না? বললে কী খাইয়ে দিব না?”
কায়নাতের হাত অর্ণর হাতের চেয়ে বড্ড ছোট। ওইটুকু হাতের মুঠোয় কতটুকু ভাত ওঠে? তবু ছোট হাত দিয়েই স্বামীকে যত্ন করে খাইয়ে দিতে লাগল। কায়নাত অর্ণর পছন্দের হাঁসের মাংস কষা আর কিছু সবজি ভাজি করেছে। হাঁস বাজার থেকেই কেটে আনা হয়েছিল। অর্ণই হয়তো ব্যবস্থা করেছে। সকাল বেলা একটা লোক এসে বাজার দিয়ে গিয়েছিল।
তরকারি বোধহয় ঝাল হয়েছে খুব। অর্ণর ফরসা মুখ খানা প্রায় লাল হতে বসেছে। তবু লোকটা একটা কথা না বলে খেয়ে যাচ্ছে। কায়নাত অসহায় চোখে তাকাল। আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ঝাল হয়েছে খুব? আমার খেয়াল ছিল না আপনি ঝাল খান না।”
অর্ণ ওর আঁচল দিয়ে নাক মুছে খুব কষ্টে নিভু গলায় বলল,
“তোমাকে তুলে আমি আছাড় মারব, বেয়াদব মহিলা।”
“সরি।”
ততক্ষণে অর্ণর খাওয়া শেষ। সে পানি খাচ্ছে সমান তালে। বুকে বোধহয় ব্যথাও শুরু হয়েছে। কায়নাত মিষ্টি খাবার কিছুই পেল না। পরে মনে হলো রাতে অর্ণ তাকে গাড়িতে কিছু চকলেট কিনে দিয়েছিল। কায়নাত সেখান থেকেই একটা চকলেট এনে অর্ণকে দিলে অর্ণ ধমক দিয়ে বলে,
“সরো তো! নাটক না করে একটু আদর করলেও তো পারো নাকি?”
কায়নাত বলল,
“আপনি ঝাল খেতে পারেন না তাহলে খেলেন কেন? আমাকে বললে আমি আবার রান্না করে দিতাম।”
অর্ণ টুপ করে কায়নাতের ওষ্ঠে চুমু খেয়ে বলল,
“এই মিষ্টির কথা বলছিলাম বেয়াদব মেয়ে। এমন ঝাল ঝাল তরকারি রেগুলার হলে মন্দ হয় না, যদি মিষ্টিটা তোমার ঠোঁট হয়।”
কায়নাত লাজে ছটফট করে উঠল। অর্ণর বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“আপনি আমায় ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। খুব কষ্ট হচ্ছে?”
অর্ণ হেসে ওকে জড়িয়ে ধরল। শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে মাথায় চুমু এঁকে বলল,
“তোমায় বুকে পেলে আর কষ্ট হয় না। এভাবেই সারাটা জীবন বুকের মাঝে জড়িয়ে রেখো আমায়। বড্ড ভালোবাসি আপনাকে মিসেস অর্ণ চৌধুরী।”
কায়নাত চোখ বন্ধ করে হাতের বাঁধন শক্ত করে ফিসফিস করে বলল,
“আমিও বড্ড ভালোবাসি আমার লাটসাহেবকে।”
•••
স্মৃতি সবে বাইরে থেকে ফিরেছে বাসায়। পাতলা গড়নের মেয়েটা ঘামে ভিজে একাকার অবস্থা। সে নিজের ঘরে গিয়ে আগে গোসল সেরে নিল। তারপর খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল খাবে বলে। শেহের হাত-মুখ ধুইয়ে এসেছে আদিকে নিয়ে। আদি শেহেরের কোলে বসে আছে। সে শেহেরের হাতে ভাত খাবে। স্মৃতি এসে খালি চেয়ার টেনে বসল। মাকে খুঁজেও পেল না সেখানে। বলল,
“মা কোথায় ভাইয়া?”
শেহের বলল,
“নানুমনি কল করেছে। কথা বলতে গেছে।”
স্মৃতি ঠোঁট উল্টে আদির দিকে তাকাল। আদি কুটুরকুটুর চোখে স্মৃতিকে দেখছিল। ও তাকাতেই বলল,
“তুমি কী কানা?”
স্মৃতি হতভম্ব হয়ে বলল,
“কানা হব কেন?”
“তাহলে চোখে চশমা পরেছ কেন?”
স্মৃতি কপালে হাত দিয়ে বলল,
“চশমা পরলে মানুষ কানা হয় এই কথা কে বলেছে তোমায়?”
আদি কাঁধ উঁচিয়ে বলল,
“আমার শাশুড়ি বলেছে।”
“তোমার শাশুড়ি কে?”
“আমার বউয়ের মা।”
“তোমার বউ কে?”
“আমার শাশুড়ির মেয়ে।”
পরপর আবার বলল,
“আমার মামুর মেয়ে আমার বউ। ওকে আমার শাশুড়ি পেটে আঁটকে রেখেছে। আমি হুমকি দিয়েছি, যদি ওকে তাড়াতাড়ি বের না করে তাহলে আমি উনার পেট কে টে বের করব।”
স্মৃতি হতভম্ব হয়ে আদিকে দেখল। শেহের শব্দ করে হেসে ফেলল ওর কথা শুনে। বলল,
“তোকে বলেছে, তোর মামুর মেয়ের সাথে তোর বিয়ে হবে?”
আদি বলল,
“স্বার্থ ভাই বলেছে আমার বউ মামুর মেয়েই হবে।”
“তোর মামুর যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হয়?”
“তাহলে তোমার মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিব।”
শেহের ঠোঁট টিপে ধরল। স্মৃতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে খাওয়া শুরু করল। খাওয়ার মাঝে শেহেরের মা এলেন। সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করলেন সময় নিয়ে। শেহের নিজের ঘরে যাওয়ার আগে বলল,
“বাবা এলে আমায় ডাক দিয়ো। তোমাদের সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
মাহেলা বেগম বললেন,
“তোমার সাথে আমাদেরও কথা আছে। তৈরি হয়ে এসো।”
রাতে বাড়ি ফিরলেন নরুল সৈয়দ। রাত প্রায় অনেকটা। বিকেল বেলা আদাল এসে আদিকে নিয়ে গেছে। এই সময়ে বাড়িতে স্মৃতি পড়ছিল। বাবার ডাকে দুই ভাই-বোন হাজির হলো বাবার ঘরে। শেহের আরাম করে সোফায় বসল। মাহেলা বেগম স্বামীর অনুমতি নিয়ে বললেন,
“দেখো, তোমার বয়সী ছেলেদের ঘরে এখন বড় বড় বাচ্চা-কাচ্চা থাকার কথা। সেখানে তুমি বিয়ের কথা শুনলেই নাক কুঁচকাও। আমি এবার আর তোমার কথা শুনছি না শেহের, মেয়ে আমার ঠিক করা হয়ে গেছে। কাল আমরা মেয়ে দেখতে যাব।”
শেহের শান্ত থেকেই লম্বা শ্বাস টানল। সে জানে এখন ঠিক কী হবে। তবু নিজেকে তৈরি করল কিছু কথা বলার জন্য।
”প্রথমত জীবনটা আমার মা। এতদিন সময় নিয়েছিলাম নিজের জন্য, নিজের ফিউচারের জন্য। আমি বিয়ে করব, তবে তোমার পছন্দে নয়, আমার পছন্দে। আমি একজনকে ভালোবাসি। ওকে বিয়ে করে ঘরে তুলতে চাইছি।”
আশ্চর্য হলেন শেহেরের বাবা-মা। সাথে স্মৃতি তো আছেই। নরুল সৈয়দ বললেন,
“কে সেই মেয়ে?”
তার কথা কেটে মাহেলা বেগম বললেন,
“কীসের মেয়ে? আমি যে মেয়ে ঠিক করে রেখেছি তার কী হবে? বললেই হলো?”
শেহের বলল,
“আমি নুসরাতকে ভালোবাসি। ওকে বিয়ে করতে চাইছি।”
মাহেলা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“কোন নুসরতের কথা বলছ তুমি?”
“তুমি যার কথা ভাবছ তার কথাই বলছি।”
পুরো ঘর মুহূর্তেই থমথমে হয়ে এলো। নরুল সৈয়দ নীরবতা ভেঙে বললেন,
“অর্ণর বোনের কথা বলছ?”
শেহের মাথা নাড়ায়। মাহেলা বেগম চিৎকার করে বলেন,
“অসম্ভব! তোমার সাহস কী করে হলো শেহের? খাইয়ে পড়িয়ে মানুষ করেছি এই দিন দেখার জন্য? শেষে কিনা একটা ডিভোর্সি মেয়ের প্রেমে মজেছ? তুমি ভুলে যাচ্ছ, ও একা নয় সঙ্গে একটা বাচ্চাও আছে।”
শেহের ঠিক আগের মতোই নরম গলায় বলল,
“ওকেও চাই আমি। তোমরা রাজী থাকলে ওদের বাড়ি প্রস্তাব পাঠাও।”
মাহেলা বেগম দাঁত চাপলেন। বললেন,
“অমন বেহায়া, খারাপ মেয়েকে আমার বাড়ির বউ করব না।”
শেহের রেগে তাকাল মায়ের দিকে। হাতের ফোন ফ্লোরে ছুঁড়ে মেরে গলা উঁচিয়ে বলল,
“মুখ সামলে কথা বলো মা। শিক্ষিত হয়ে অশিক্ষিতর মতো কথা বলবে না।”
মাহেলা বেগম হঠাৎ এক কাণ্ড করে বসলেন। আজ এই প্রথম ছেলের গায়ে হাত তুললেন। গালে চড় বসিয়েই তিনি গলা বাড়িয়ে বললেন,
“তো কী করবে তুমি আমায়? ওই মেয়েকে ঘরে তুললে তুমি আমার লা’শ দেখতে পাবে শেহের।”
“মা,আমি তো ভালোই বেসেছি বলো? এখানে তার দোষটা কোথায়? ওর ডিভোর্স হয়েছে আর সাথে একটা বাচ্চা আছে বলে তাকে ভালোবাসা যাবে না?”
“শেহের,এসব নিয়ে আমি কথা বাড়াতে চাচ্ছি না। ওই মেয়েকে ঘরে তোলার আগে এই বাড়ি ছেড়ে বের হবে তুমি।”
পুরুষ মানুষ হয়েও আজ শেহেরের চোখে পানি চিকচিক করছে। সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। মায়ের মুখ খানা শেষবার দেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“আমি ওকে ভালোবাসি মা। আজ নাহয় তোমার অবাধ্য হয়ে এই বাড়ি থেকেই বেরিয়ে গেলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো,তোমার বাধ্য সন্তান হতে পারলাম না।”
(সবাই মন্তব্য করুন আজ। পর্বটা কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন।)
চলবে..?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৯