প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||১০||
ফারজানারহমানসেতু
আ্যমেলা, আলিশাকে নিয়ে মিরান ছাদে এসেছে। আজকে সানসেট দেখার বাহানায় বড়রাও ছাদে পিকনিকের আয়োজন করে ফেলেছে। ছাদের পরিবেশ আজ জমজমাট, কারণ নেওয়াজ পরিবার ইতিমধ্যে রান্নার জন্য সব ছাদে গুছিয়ে রাখা শুরু করেছে। রাতে রান্না করা হবে!
সন্ধ্যার আলো নামার আগেই বাড়ির ছাদে এক অদ্ভুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। যেন প্রত্যেকটা ইট, প্রত্যেকটা রেলিং, প্রত্যেকটা টবের গাছও জানে আজ সানসেট দেখা হবে। শুধু সূর্যাস্ত না, কারও কারও হৃদয়েরও কিছু একটা অস্ত যাবে, আবার কিছু নতুন আলো জ্বলে উঠবে।
রোজা নিজের রুমে দাঁড়িয়ে আয়নার সামনে চুল বাঁধছিল। খুব সাজগোজ না, আবার পুরো এলোমেলেও না। অন্তত আজকে কেউ তাকে ডেলিভারি বয়ের মতো কাজের লোক না ভাবুক, আর শকুনের দৃষ্টি দিক।আচ্ছা সে কি কারোর ভয়ে পরিপাটি হচ্ছে, সে তো অগোছালোকেই বেশি প্রাধান্য দেয়।
রোজা নিজেকে বোঝাতে চাইছে “আমি কারও জন্য তৈরি হচ্ছি না।তাছাড়া আমি সাজগোজ তো করছি না। জাস্ট গোছালো হচ্ছি!”
কিন্তু আয়নায় নিজের চোখের ভেতরকার অস্বস্তিটা সে নিজেই পড়তে পারছে না! আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব কি অন্য কথা বলছে? তুবা বিছানায় বসে তাকিয়ে ছিল।
“রোজা , তুই এতবার চুল ঠিক করছিস কেন?”
রোজা কাঁধ বাকিয়ে বলল,“হাওয়া লাগবে তো ছাদে, তাই শক্ত করে চুল বাঁধছি। যেন হাওয়াতে এলোমেলো না হয়! আমার তো আর নায়ক সালমান খান নেই, যে চুল ছড়িয়ে গেলে এসে ঠিক করে দেবে।”
“হাওয়া লাগবে নাকি কেউ তাকাবে?”
রোজা চিরুনিটা ছুড়ে মারার ভঙ্গি করল।
“চুপ কর, না হলে তোকে আজ ছাদে উঠতেই দিবো না। রুমে রেখে তালা মেরে দিবো!”
তুবা মুচকি হাসল। সে জানে রোজার ভিতরের কাঁপুনি। কিন্তু সেটা সে প্রকাশ করতে চায় না। কারণ রোজা যতই মুখে আগুন ছোড়ে, ভেতরে সে কাচের মতো স্বচ্ছ।তাই বলল, “ তুই আমাকে তালা বদ্ধ করতেও পারিস, তোর দ্বারা কিছুই অসম্ভব না!”
ছাদে আগে থেকেই আ্যমেলা আর আলিশা দাঁড়িয়ে ছিল। আকাশ তখন কমলা আর সোনালি রঙে রাঙা। দূরে সূর্যটা যেন ধীরে ধীরে নামছে, অথচ তার আলো পুরোপুরি মুছে যাচ্ছে না।
আ্যমেলা হাত নেড়ে বলল,“ওহ মাই গড! এটা লাইভ পেইন্টিং! আমার দেখা সেরা সানসেট!”
আলিশা বলল, “ আমার ও তাই মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের সানসেট একটু আলাদা, তাই না? এখানে আকাশে এক ধরনের ধুলো-সোনালি মিশ্রণ থাকে। যেন অপরুপার এক অমূল্য সৌন্দর্য!”
রোজা ছাদে পা রাখতেই বাতাস তার ওড়না উড়িয়ে দিল।তবে ওড়না ঠিক করে নিয়ে এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করল। এই বাতাসের ভেতর যেন একটা শান্তি আছে, আবার অদ্ভুত অস্থিরতাও।
ঠিক তখনই পেছন থেকে মিরানের গলা এলো,
“সবাই সাবধান! আজকের অনুষ্ঠান সানসেট ও লাভসেটের যুগলবন্দি!”
তুবা বলল, “ভাইয়া, তোমার লাভসেটের শিকার কে?”
মিরান নাটকীয় ভঙ্গিতে চারদিকে তাকিয়ে বলল,
“শিকার নিজে থেকেই জালে আসবে।”
সবাই হেসে উঠল।
তূর্জান একটু দেরিতে ছাদে উঠল। কালো শার্ট, হালকা ধূসর প্যান্ট। চোখে সেই চিরচেনা গভীরতা। কিন্তু আজ তার চোখে একটা নরমতা আছে। আসতে চায়নি, অনিল আর মিরান বলে এনেছে। তূর্জানের কাছে এসব নিছক কাজ ছাড়া কিছুই নয়। তবে আসতেই রোজার হাসিমুখ খানা দেখে বুকের ভিতরে উত্তাল নৌকার মতো খই হারাতে যাচ্ছে। নিজেকে শান্ত করে সে ছাদের এক কোণে দাঁড়াল। সূর্যের দিকে তাকাল। কিন্তু তার চোখ আসলে সূর্যের দিকে নয়, কোথাও আরেক জায়গায় আটকে আছে।
রোজা এখনো খেয়াল করনি তূর্জান ছাদে এসেছে। ভেবেছে মিরান আর অনিল শুধু এসেছে, তাই তাকায়নি। তূর্জান আসবে না এমনটাই বিশ্বাস, কারণ যে ধৈর্য নিয়ে থাকতে পারে না সে সূর্যাস্তের সাধ উপভোগ করতে পারে না।
রোজা আ্যমেলার পাশে দাঁড়িয়ে রঙের আলোচনা শুরু করল।“দেখো, সূর্যটা পুরো ডোবে না একবারে। আগে চারপাশের আলো কমে, তারপর সে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়। কিন্তু আকাশে তার চিহ্ন থাকে।”
তূর্জান ধীরে ধীরে তাদের কাছে এল।বলল, “কিছু কিছু মানুষও ঠিক এমনই। চলে যায়, কিন্তু চিহ্ন রেখে যায়।”
হঠাৎ তূর্জানের কথা শুনে আ্যমেলা পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। রোজা চমকে তাকাল। “আপনি এখানে.. না মানে কবে থেকে সানসেট দেখতে শুরু করলেন, সাথে আবার দার্শনিক হলেন?”
“যেদিন থেকে কেউ আমাকে তার গল্পে ভিলেন বানালো।”
রোজা ঠোঁট বাঁকালো।বলল,“ভিলেনরা নিজেকে হিরো ভাবতেই ভালোবাসে।”
তূর্জান মৃদু হাসল। “আর হিরোরা? তারা কি ভিলেনকে সুযোগ দেয়?দেয় না তো , সেইজন্যই তারা নিজেদের হিরো ভাবে!”
“ভিলেনকে সুযোগ দিলে গল্পের মজা নষ্ট হয়।তাই তারা সুযোগ পায় না।”
“গল্পের শেষটা কি জানো?”
“শেষে ভিলেন হারে।আর হিরো তাকে সব সুখ এনে দেয়।”
তূর্জান একটু ঝুঁকে বলল,“সব গল্পে না। কিছু গল্পে ভিলেন কে সুযোগ দিলে, তারা হিরোইন কে রানী বানাতে নিজের জীবন দিয়ে দেয়।”
তাদের কথোপকথন কেউ স্পষ্ট শুনছে না, কিন্তু আ্যমেলা গিয়ে তুবা, আলিশা, মিরান আর অনিলের কাছে দাড়াল। দূর থেকে তাকিয়ে বলল,“ওদের মধ্যে ইলেকট্রিসিটি আছে।”
মিরান হেসে বলল,“ওটা ইলেকট্রিসিটি না, ওটা শর্ট সার্কিট।”
তুবা বলল, “ আমার ভাইয়া, ভাবিকে একদম এসব বলবা না। তুমি কি শুনি? তুমি তো একটা ইলেকট্রিসিটির জং ধরা সার্কিট!”
★★
সূর্য প্রায় অর্ধেক ডুবে গেছে। আকাশে লাল-কমলা-গোলাপি রঙের বিস্ফোরণ। সবাই কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে আকাশ দেখছে।
তুবা ফিসফিস করে বলল,” রোজা , তুই আধারে ভয় পাস না বলেছিলি। এখন কেমন লাগছে?”
রোজা মৃদু স্বরে বলল,“ আধার সুন্দর, যদি পাশে আলো থাকে।”
তুবা বলল,“আলো না থাকলে?”
“তাহলে নিজেকেই আলো হতে হয়।”
তূর্জান তাকিয়ে রইল। তার চোখে সেই আগুন নেই, বরং একধরনের নতুন অনুভূতি ।
সূর্য পুরোপুরি ডোবার পরে মিরান হঠাৎ চিৎকার করল,
“ওকে সবাই! সূর্য ডুবে গেছে, তাহলে একটা গেম হবে নাকি?”
আলিশা বলল,“কি গেম?”
“ট্রুথ অর ডেয়ার!”
আ্যমেলা হাততালি দিল।বলল,“ইয়েস!আমি এই গেমস খেলতে চাই!”
তূর্জান চোখ কুঁচকালো। দূরে গিয়ে দোলনায় বসে ফোন হাতে নিল। মিরান ডেকে বলল, “ ভাইয়া ওখানে গেলে কেন? “
“ তো, আমি কি করবো? আমি তোদের ওই বাচ্চামো গেমস খেলবো না।আর আমাকে এসবে টানবিও না। ছাদে আসতে বলেছিস এসেছি, আর কিছু না!”
মিরান মনে মনে বলল, “কথা গুলো এমন ভাবে বলল, যেন তোমাকে ধরেবেধে আনা হয়েছে।প্রথমে না না করলেও একবার রোজার কথা বলতেই ঢিলে হয়ে ছাদে এসেছো। ঢং যত্তসব! একটু পর বউ বললেই সূর সূর করে এসে খেলায় বসবে, অথচ এখন ঢং মারাচ্ছো! বুঝি বুঝি সব বউয়ের থেকে ভালোবাসা পাওয়ার ধান্দা “
তবে বড় ভাই যেহেতু এসব বলা যাবে না। মিরান কিছু বলার আগেই রোজা বলল, “ এই আপনাকে আমার ভাইয়া কি ধরে বেধে ছাদে এনেছে। যে বলছেন ছাদে আসতে বলেছিস এসেছি, আর কিছু বলবি না। এত কথা বলার কি আছে ছাদে থাকতে মন না চাইলে রুমে যান, আর আপনি যে এই খেলায় ভয় পাচ্ছেন তা ভালো করেই জানি! নয়তো কারোর সমস্যা নেই আপনার সমস্যা কোথায়? খেলবেন না যেহেতু রুমে যান। “
“ না খেললে ছাদে থাকা যাবে না, এমনটা তো কোথাও লেখা নেই!”
“ খেলবেন না যেহেতু ছাদে থেকে কি করবেন, আমাদের খেলায় ডিসটার্ব না করে রুমে যান। “
“ ছাদ কি তোর বাপের একার যে, ছাদে তোদের কথায় আসতে হবে। তোর কথায় যেতে হবে? “
“ না ছাদ আমার বাপের আর বড় বাবার মিলে দুজনের, তো সেই একই হলো। সব লোক তো আমারই, মানে ছাদও আমার!”
“ সব লোক তোর, তাইতো? “
“ হুমম!”
“ বুঝে কথা বল রোজা? যে সব লোক তোর!“
মিরান সহ সবাই হতবাক, এই দুইটা ছোটদের মতো ঝগড়া করছে। তুবা বলল,“খেলবে.. ভাইয়া খেলবে । কারণ আজকের প্রথম টার্গেট ভাইয়া হবে।”
তারপর তূর্জানের দিকে তাকিয়ে চোখে বোঝালো, “ ও ভাইয়া, তোমার বউ আর পাঁচটা বউয়ের মতো না। এ কোনো ন্যাকা বউ না, যে তুমি কথা বললে ন্যাকামি করবে, এ হলো তোমার স্পেশাল টক ঝাল বউ, এর মধ্যে মিষ্টি খুব কম! তাই বেশি ভালোবাসা পাওয়ার আশায় খেপিয়ে দিয়ো না। “
সবাই গোল হয়ে বসে পড়ল। ছাদের এক কোণে ফেয়ারি লাইট জ্বালানো হলো। ছোট স্পিকারে হালকা গান বাজছে। রাতও নেমেছে আকাশের রঙে। নেওয়াজ পরিবার সবাই রান্নায় ব্যস্ত হলো। রাহেলা নেওয়াজ এখন বেশি হাটাচলা করতে পারেন না। তাই তিনি একপাশে বসে ছোটদের খেলা দেখতে লাগলেন। কোলে আরাজ বসে সবার খেলা দেখছে। রাফিয়াকে ডেকে খেলাতে বসানো হয়েছে। বোতল ঘুরল।
প্রথমে থামল আ্যমেলার দিকে, মিরান বলল, “ তা মিস ঝামেলা কি নিবেন? “
“ ডেয়ার। “
আ্যমেলাকে ভালোই নাকানিচুবানি দেওয়া হলো ডেয়ার নেওয়ায়। এভাবে আবার ঘুরাতেই বোতল গেল তূর্জানের দিকে।মিরান বলল,
“ভাইয়া, ট্রুথ না ডেয়ার?”
“ট্রুথ।”
“তুমি কাকে দেখে চিনি কম খেতে শুরু করেছো?”
সবাই হেসে উঠল।মিরান পারেও বটে। আসলে এমন লোক না থাকলে এসব খেলা জমেও না।
তূর্জান এক সেকেন্ড চুপ করে রোজার দিকে তাকাল।
“আমি চিনি কম খাই কারণ মিষ্টি বেশি হলে সহ্য হয় না।”
মিরান বলল,“মানে?”
“মানে, অতিরিক্ত মিষ্টি মানুষ বিপজ্জনক।”
রোজা বলল,“ভালো কথা। তাহলে মিষ্টি থেকে দূরে থাকেন।”
“দূরে থাকলে কি লাভ? বিপদ তো কাছেই।”
সবাই আবার হেসে উঠল। এরা খেলছে না ঝগড়া করছে, তা উপরওয়ালা ভালো জানেন?
বোতল এবার থামল রাফিয়ার দিকে,রাফিয়া ডেয়ার নিতেই মিরান বলল, “ রাফেজ ভাইয়া কে অন্য মেয়ে সেজে ফোন দাও! প্রমান করো ভাইয়া অন্য মেয়ের সাথে কথা বলে কি না।”
“ অন্য কিছু দেও, তোমার ভাইয়াকে অবিশ্বাস করতে পারবো না। “
তাও সবার চাপে রাফেজকে অনিলের নাম্বার থেকে ফোন করল। সবাইকে অবাক করে, রাফিয়ার অন্য কণ্ঠে বলা প্রথম কথাতেই রাফেজ ঠিক বুঝে ফেলল। মিরান চেচিয়ে বলল, “ ভাইয়া তোমার ভালোবাসা থেকে সেকরাও খাদ বের করতে পারবে না। “
রোজা আর তুবা একসাথে বলল, “ কিত না কিউট হ্যায় তোমারি লাভ স্টোরি!”
তূর্জান বিরবির করল, “ অন্যের টা কিউট স্টোরি, আর আমার টা শুরু করতেই দিচ্ছিস না। তাহলে বোঝাবো কেমনে অন্যের টা থেকে তোর টাও কম না। “
মিরান আর তূর্জান যেহেতু পাশাপাশি বসেছে। তাদের আস্তে কথা শুনতে সমস্যা হচ্ছে না। মিরান বলল, ও দুলাভাইইইইই, আমার বোন কিন্তু রাফিয়া ভাবির মতো না। যে তোমার এক কথায় বিশ্বাস করবে তুমি আসল। এ হলো আমার বাপের অতি যত্নে বড় করা মিসাইল, কেউ কিছু বললে তাকে বাঁশ দিতে ভোলেনা। “
রোজার দিকে বোতল পড়তেই, আ্যমেলা বলল,
“ট্রুথ না ডেয়ার নিবে রোজা ?”
রোজা একটু ভেবে বলল,“ডেয়ার।”
মিরান চোখ টিপল তূর্জানের দিকে, যা দ্বারা বোঝাল, তোমাকে আমার বাপের বিপরীতে গিয়ে সুযোগ দিলাম। রোজার দিকে তাকিয়ে বলল,
“ বনু তোর ডেয়ার হলো তুই পাঁচ মিনিট তূর্জান ভাইয়ার সাথে একা দাঁড়িয়ে কথা বলবি। ছাদের ওই কোণায়।”
সবাই চিৎকার করল।রোজা না বলল। কিন্তু খেলায় রুলস তো রুলস। তা ভাঙা সম্ভব না।
সে কখনো কোনো ছেলের সাথে এক দাড়িয়ে কথা বলেনি।
তুবা বলল, “ কি রে তখন আমার ভাইয়াকে বললি ভয় পাচ্ছে, এখন দেখছি তুই ভয় পাচ্ছিস।“
রোজা দাঁড়িয়ে গেল।বলল, “ ও হ্যালো, আমি ভয় পাচ্ছি না।আর আমি ভয় কেন পাবো। উনি আমাদের কাজিন সো ভয়ের কি আছে? “
তূর্জানও উঠে দাঁড়াল। দুজন ছাদের একদম প্রান্তে গিয়ে দাঁড়াল। নিচে অন্ধকার নেমে আসছে, ওপরে আকাশে শেষ আলো। কিছুক্ষণ কেউ কথা বলল না।প্রায় সাড়ে তিন মিনিট।
তূর্জানই শেষে বলল,
“তুই কেন এড়িয়ে চলছিস সবকিছু ?”
“আমি এড়িয়ে চলছি? কে বলল আপনাকে? আর আমি কি এড়িয়ে চলছি ?”
“তোর চোখ বলল, তুই কিছু এড়িয়ে চলছিস।”
“আপনি চোখ পড়তে পারেন?”
“তোরটা পারছি।”
রোজা চুপচাপ আছে । বাতাসে ওড়না উড়ছে।কেমন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। তূর্জান বলল, “ জানিস রোজা, আমাদের জীবনে কেউ পাঁচ মিনিট সময় দিলে আমরা চারমিনিট নষ্ট করি, আর বাকি এক মিনিটের চল্লিশ সেকেন্ড নষ্ট করি আজেবাজে বকে, আর বিশ সেকেন্ড আসল কথা বলবো ভেবেই সময় শেষ হয়ে যায়।
তখনি দূর থেকে মিরান চিৎকার করল,“টাইম আপ! ভাইয়া, বনু সময় শেষ।”
দুজন ফিরে এলো। কিন্তু তাদের চোখের ভাষা বদলে গেছে।
রাত গভীর হলো। ছাদে ছোটখাটো পিকনিক শুরু। গান, হাসি, ঠাট্টা।আ্যমেলা তুবার কাছে গিয়ে বলল,
“আমি একটা কথা বলবো?”
“বলো।”
“আজকের সানসেট শুধু আকাশে হয়নি।”
সে ইশারা করল রোজা আর তূর্জানের দিকে।
“ওদের মাঝেও কিছু একটা বদলেছে।আমার মনে হচ্ছে ”
মোস্তফা নেওয়াজ দূর থেকে সব দেখছিলেন। তাজারুল নেওয়াজ এসে পাশে দাঁড়ালেন।
“কি ভাবছিস ?”
“ আমাদের তূর্জান সহজ না।”
“ রোজাও সহজ না।”
মোস্তফা নেওয়াজ মৃদু হাসলেন।তাজারুল বললেন,“শেষ রাউন্ড কে জিতবে?খেলা তো শুরু হয়েছে।”
মোস্তফা নেওয়াজ বললেন,
“যে সত্যিকারের শক্তি হবে!”
রাত শেষে সবাই রুমে ফিরল। রোজা বিছানায় শুয়ে আছে, কিন্তু ঘুম আসছে না।
তুবা পাশে ফিসফিস করে বলল,
“ রোজা ”
“কি?”
“তুই আজ ভয় পাসনি, তাই না?”
রোজা চোখ বন্ধ করে বলল,“না, আমি এমনিতেও ভয় পাইনা ।”
“আধার?”
“না, আধারে আবার আমি ভয় পেলাম কবে?”
“তাহলে? কি ভাবছিস?”
রোজা ধীরে বলল,“আলোতে অভ্যস্ত হচ্ছি।কিন্তু আমার আধার ও ভীষণ পছন্দ!”
তুবা মুচকি হাসল। ছাদের ওপরে তখনও ফেয়ারি লাইট জ্বলছে।আর আকাশে তারারা উঠেছে।
কোথাও এক কোণে দাঁড়িয়ে তূর্জান আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এক রাউন্ড তুমি, এক রাউন্ড আমি… কিন্তু শেষটা?”
হালকা বাতাস বয়ে গেল। তূর্জান মনে মনে বলল, “ গল্প এখনো বাকি।অনেকটা বাকি।আমার তোর গল্প!”
ইনশাআল্লাহ চলমান….
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩৫
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২০
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা গল্পের লিংক
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১২