Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩৬


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_৩৬

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌

কালকে বোনাস পর্ব আসবে।

ইকরা আর মুনভি দৌড়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকছে।তারা এইতো কিছুক্ষণ আগেই ফার্মের সামনে এলো। তারপর নীলার দেওয়ার লোকেশন অনুযায়ী তারা দুজন মিলে এগোতে লাগলো।সেই কখন ধরেই হেঁটে যাচ্ছে দুজন মিলে।

হঠাৎ ইকরার নজরে পরলো কিছুটা দূরে দুজন মানুষ বসে আসে।ইকরা চোখ ছোট ছোট করে দেখতেই নীলার মুখ দেখতে পেলো।নীলার মুখ দেখার সঙ্গে সঙ্গে তার সকল চিন্তা দূর হয়ে গেল। ইকরা চিৎকার করে বলে উঠলো _
নীলা!!!

ইকরা চিৎকার শুনে মুনভি ইকরার দিকে তাকালো তারপর ইকরার দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে দিকে তাকাতেই নীলা এবং মিহাল কে দেখতে পেলো।

ওই দিকে ইকরার কন্ঠ নীলার কানে যেতেই সে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।মিহালও ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে পরলো। সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো মুনভি আর ইকরা তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। নীলা কয়েক কদম সামনের দিকে এগিয়ে গেল। ইকরা দৌড় দিয়ে এসে নীলা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।নীলাও ইকরা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।

মুনভি এসে মিহাল কে জড়িয়ে ধরতেই মিহাল মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো। আসলে মুনভি না জেনে ভুল বশত মিহালের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ব্যথা দিয়ে ফেলেছে।মিহালের আর্তনাদ শুনে নীলা, ইকরা এবং মুনভি তিন জনেই মিহালের দিকে তাকালো। মিহাল নিজের এক হাত দিয়ে আরেক হাত চেপে ধরলো।চোখ মুখ কুঁচকে রয়েছে সে।

নীলা তড়িঘড়ি করে মিহালে কাছে এসে ব্যস্ত কন্ঠে বলল_
বেশি ব্যাথা করছে কি? চলুন এখন আমরা বাড়ি ফিরে যাই। ওরা তো এসেই পরেছে।না না বাড়ি না গিয়ে আগে হসপিটালে যাব।

মিহালের নীলার কথা কর্ণপাত হলো কিনা কে জানে।মিহাল নিজের হাত চেপে ধরে মুনভির দিকে তাকিয়ে বলল_
কাউকে ফোন দিয়ে বল বাসায় ইমাম সাহেব কে নিয়ে আসতে। আমি আর নীলা আজ বিয়ে করব। এবং আমি কোন কথা শুনতে চাই না যা বলছি তাই কর।

মুনভি কি বলবে বুঝতে পারলো না।সে নীলার দিকে তাকালো নীলা তাকে ইশারা দিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছে।মুনভি এবং ইকরা কেউই কিছু বুঝতে পারলো না।তাই মুনভি আগ বাড়িয়ে মিহাল কে বলল_
ব্যথা পেয়েছিস হাতে কিন্তু তোর মাথার তার ছিঁড়ে গেল কি করে? তুই জানিস না নীলা বিবাহিত? ও তো ইরফানের স্ত্রী‌। তুই কি করে নীলাকে বিয়ে করবি? মাথা নষ্

কতটা সম্পূর্ণ করার আগেই মুনভির পেটে মিহাল ঘুষি দিল।মুনভি পেট চেপে হাঁটু গেড়ে বসে পরলো এবং মৃদু আর্তনাদ করলো।নীলা আর ইকরা অবাক হয়ে গেলো।এমন কিছুর জন্য কি ওই প্রস্তুত ছিল না।

মিহাল মুনভির পায়ে লাথি মেরে বলল_
অ্যাক্টিং ভালো করে করতে পারিস না।আমি জেনে গিয়েছি যে আমার নীলাঞ্জনা বিবাহিত না। তাই এখন নাটক বন্ধ কর তুই।

মুনভি পেট চেপে হেসে উঠলো। সে যে খুব ব্যথা পেয়েছে বিষয়টি এমন নয়। এরকম জিনিস তাদের মাঝে খুব নরমাল। সেও মিহাল কে মাঝেমধ্যে এভাবে আক্রমণ করে। কিন্তু আজ তার হাসি পেলো এইটা ভেবে যে মিহাল সব সত্যি জেনে গিয়েছে। এতদিন যে তারা মিহাল কে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে এখন না মিহাল আবার তাদেরকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরায়। এরকম কিছুরই অগ্রিম আভাস পাচ্ছে সে।তাই দুঃখে হাসছে।

মুনভি কে হাসতে দেখে নীলা আর ইকরা অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেল।ইকরা নীলাকে কুনি দিয়ে গুঁতা দিচ্ছে তো আবার নীলা ইকরাকে দিচ্ছে।

মিহাল ইকরার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করল_
তোমরা কি গাড়ি করে এসেছো?

ইকরা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।
মিহাল জিজ্ঞেস করল_
গাড়ি কোথায়?

ইকরা আমতা আমতা করে বলল _
মেইন রোডে।

কথাটি শোনা মাত্রই মিহাল একবার মুনভির দিকে তাকিয়ে সামনের দিকে যেতে লাগলো। হাঁটতে হাঁটতে বলল__
তাড়াতাড়ি তুই ওদেরকে নিয়ে আয়। আমি গাড়িতে গিয়ে বসছি। আজ আমার বিয়ে বাড়িতে গিয়ে তো একটু রেডি হতে হবে।

বলেই গট গট পায়ে সামনের দিকে এগোতে লাগলো।নীলা হা করে মিহালের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। ইকরা নীলার হা করা মুখ বন্ধ করে দিল। মুনভি নীলার কাছে এসে সবটা জানতে চাইলে নীলা ইকরা এবং মুনভিকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল এবং এটাও বলল যে মিহাল সব সত্য জেনে গিয়েছে।

ব্যাস শেষের কথাটি শুনতে না শুনতেই মুনভি পকেট থেকে ফোন বের করে কোন এক বন্ধুকে কল লাগালো এবং বলল_ এখনই মিহালের বাড়িতে ইমাম নিয়ে আয় আসবি বিয়ে পড়ানো হবে। নীলা তো মুনভির কাণ্ডে অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে মুনভির দিকে। ইকরা যেমন অবাক হয়েছে তেমনি মিটি মিটি হাসছে। মুনভি কল কেটে নীলার দিকে তাকাতেই দেখল নীলা তার দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। মুনভি দাঁত কেলিয়ে মাথা চুলকে বলতে লাগলো__
যেহেতু তোমার প্রফেসর সব সত্য জেনে গিয়েছে তারমানে এখন আমি তোমার পক্ষে। আমার পিঠের চামড়া খুলে সে তার ঘোরার শীতের কাপড় বানাবে। এবং আমি এই রিস্ক নিতে চাই না। তোমাদের কেউ বিয়ে করিয়ে দিই এবং নিজের লাইনও ক্লিয়ার করি।তোমরাও শান্তিতে থাকো আমিও শান্তিতে থাকি।

ইকরা শব্দ করে হেসে উঠলো মুনভির কথা শুনে। নীলা অসহায় দৃষ্টিতে একবার ইকরার দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার মুনভির দিকে তাকাচ্ছে। বুঝতে পারছে না পরিস্থিতি কোন দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে।

মুনভি নীলার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল_
যা হবে ভালোই হবে তাই প্যারা নিও না বনু।আর মিহাল সবসময় তোমাকে ভালো রাখবে।

ইকরা নীলার হাত ধরে আস্থা দিয়ে বলল _
সব ঠিক হয়ে যাবে। এখন চল।

তারপর আর কী তারা তিনজন মিলে সামনের দিকে অগ্রসর হলো। গাড়ির কাছে গিয়ে দেখলো মিহাল ফ্রন্ট সিটে বসে আছে।ডান দিয়ে বাম হাতের বাহু চেপে ধরে রেখেছে। গাড়ির জানালায় মাথা কাত করে চোখ বন্ধ রেখে বসে আছে।

নীলা অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো মিহালের দিকে। মনে মনে বলল __
উনার কি বেশি কষ্ট হচ্ছে?বেশ ভালোই ব্যথা পেয়েছিল তো উনি।
মুনভি ড্রাইভিং সিটে বসলো আর ইকরা পেছনে গিয়ে বসলো। নীলা ইকরার পাশে গিয়ে বসলো। মিহাল গাড়িতে মানুষের উপস্থিতিতে পেয়ে ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসলো।

নীলা মুনভির উদ্দেশ্যে বলল_
ভাইয়া গাড়িতে যদি ফার্স্ট এইড কিট থাকে তাহলে উনার হাতে ব্যান্ডেজ করে দাও।উনি অনেক ব্যাথা পেয়েছেন।

নীলার কথা শুনে মিহাল চোখ খুলে তাকালো। এতক্ষণ যাবৎ সে চোখ বন্ধ করে নীলার বলা কথাগুলোই ভাবছিল।কি করে ইরফান তাকে ধোঁকা দিয়েছে এই সব কথা বার বার ভাবছিল মিহাল। এবং ইরফান এর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার আগুন আরো জ্বলছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে নীলার তার জন্য চিন্তা দেখে মনের ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুন যেন নিভে এলো। তবুও কন্ঠে গাম্ভীর্য বজায় রেখে ফার্স্ট এইড কিট বের করতে থাকা মুনভির উদ্দেশ্যে বলল_
আমার জন্য কাউকে এত চিন্তা করতে হবেনা। যদি কারোর আমার জন্য এত চিন্তা থাকে তাহলে বিয়ের পর মনে হয় নিজ দ্বায়িত্বে আমার সেবা করবে।

মিহালের কথা শুনে মুনভির হাত থেমে গেলো।সে নিজের বন্ধু কে খুব ভালো করেই চেনে।তাই ফার্স্ট এইড কিট আবার জায়গা মতন রেখে দিল।

নীলা সরু চোখ মিহাল কে দেখছে।এই লোকটি আজ তাকে বেশি ভাব দেখাচ্ছে। নীলা মনে মনে বলল __
একবার বিয়ে করি তারপর মজা বোঝাবো।
কিন্তু পরক্ষণেই নিজের চিন্তা ভাবনা দেখে নীলা অবাক না হয়ে পারলো না।সে কেন মিহাল কে বিয়ে করার কথা ভাবছে?
নীলা বিরক্তিতে নিচে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল এবং এভাবেই বসে থাকলো।


গাড়ি এসে থামলো মিহালের এপার্টমেন্টের সামনে। একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে এলো। নীলা বুঝতেই পারছে না কি হতে চলেছে অথবা তার এখন কি করা উচিত।মিহাল হেঁটে নীলার পাশে এসে দাঁড়াল।মুনভি আর ইকরা বাড়ির ভেতরে চলে যেতে লাগলো। তারা মূলত নীলা এবং মিহাল কে একা সময় দিচ্ছে।

নীলা মিহালের দিকে তাকিয়ে বলল__
ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তো? দেখা যাবে ভবিষ্যৎএ পস্তাতে হবে।

মিহাল নীলার দিকে না তাকিয়েই বলল__
পস্তাতে তো হবেই।আমরা দুজন মিলে যদি এক না হই তাহলে অবশ্যই আমাদের যে পস্তাতে হবে। কিন্তু আমরা দুজন মিলে যদি এক হয়ে যাই তাহলে যারা আমাদেরকে কষ্ট দিয়েছে, ধোঁকা দিয়েছে, আমাদের বিশ্বাস ভেঙেছে তাদেরকে পস্তাতে হবে। তুমি চাও না তাদেরকে পস্তাতে দেখতে? প্রতিশোধ নিতে চাও না? এত সহজেই ছেড়ে দিবে? নিজের বাবা এবং চাচাদের সাথে কি নিজের ফুফুর মিল করিয়ে দিতে চাওনা?

নীলা খানিক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। আসলেই তো সে এইসব চায়। কিন্তু তবুও বিয়ে মানে সারাজীবনের একটি বিষয়।তাই মনের কথা মনের মাঝে চেপে না রেখে মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করল_
কিন্তু বিয়ে কোন ছেলে খেলা নয়। বিয়ের অর্থ অনেক ভারী। এই শব্দটাকে একা বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

“দুজন মিলে একসাথে এই ভার সামলাতে তখন আর বিয়েকে বোঝা মনে হবে না।”
নীলার কথা বলার মাঝখানেই মিহাল এই কথাটি বলে নীলাকে চুপ করিয়ে দিল।
মিহাল একবার নীলার দিকে ঘুরে চোখে চোখ রেখে
বলল __
আমরা দুজন মিলে সামলাবো। তুমি শুধু পাশে থেকো আমি একাই ভালোবেসে যাবো। এবং হ্যাঁ তোমাকেও ভালোবাসতে সাহায্য করব।সব ঠিক হয়ে যাবে।তুমি ভয় পেও না।আমি আছি তো নাকি?মিহাল খান সব ঠিক করে দিবে।আমি তোমার হৃদয় ভাঙ্গা টুকরোগুলো খুব যত্নসহকারে ধরে রাখবে। এবং তোমার ভাঙ্গা হৃদয় জোড়া লাগিয়ে দিব যা আমার দ্বারা ভাঙ্গা হয়নি এবং কখনোই হবে না।

নীলার দৃষ্টি শীতল হয়ে উঠলো। পলকহীন চোখে নীলা মিহালের দিকে তাকিয়ে আছে।মিহাল মুচকি হেসে বলল _
আমাকে এভাবে দেখো না নয়তো প্রেমে পড়ে যাবে। এখন ভেতরে চলে।
বলে সে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। নীলার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। নীলার মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে যা সে খুব ভালোভাবে টের পাচ্ছে।

সে নিজেকে যতই বলছে যে সে শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিয়ে করতে রাজি হলো মিহাল কে। কিন্তু তার মন অন্য কথা বলছে। যা সে বিশ্বাস করতে চাইছে না।নীলা আর সময় নষ্ট না করে চলে গেলো মিহালের পেছন পেছন।

ইকরা এবং মুনভি কে একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে ইসরাতুল মিনা মির্জা
।মিহাল কোথায়? মিহালের বন্ধু বাড়িতে ইমাম সাহেব কে কেন এনেছেন?
মুনভি আর ইকরা শুধু চুপ করে থেকে মিহাল এবং নীলার আসার অপেক্ষা করছে।মিহাল আসতেই তার মা তার কাছেই ছুটে গেলেন। কিন্তু ছেলের শরীরে আঘাতে চিহ্ন দেখে আঁতকে উঠলেন।

মিহাল নিজের মাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করছে। কারণ এখন যদি তার মা হাইপার হয়ে যায় তাহলে একটু পর যেই সত্য জানতে পারবে সেই সত্য শুনে শরীর খারাপ করতে পারে। তাই মিহাল মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শান্ত কন্ঠে বলল_
মা তুমি চিন্তা করো না আমার কিছু হয়নি, শুধু সামান্য এক্সিডেন্ট হয়েছিল তাও নীলা আমাকে বাঁচিয়েছে।

নীলা, ইকরা, মুনভি সবাই অবাক হলো মিহাল কে মিথ্যা কথা বলতে দেখে।
মামুন খান ছেলের কাছে এসে বললেন_
বাবা তুমি তাহলে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও‌।আর মুনভি তো আছেই সেই না হয় এখন তোমার প্রাথমিক চিকিৎসা করবে। এবং যদি তোমার শরীর ঠিক না থাকে তাহলে আমরা হসপিটালে যাব।

মিহালের মা বললেন_
হ্যাঁ হ্যাঁ তুই বাবা রুমে গিয়ে রেস্ট নে।আর নীলা মা এদিকে এসো।

কথাটি উনি নীলার দিয়ে তাকিয়ে বললেন। নীলা ধীরে ধীরে মিহাল এবং তার মায়ের কাছে আসলো।নীলা কাছে আসতেই ইসরাতুল মিনা মির্জা নীলাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিলেন।

নীলার চোখেও পানি চলে এলো আপন মানুষের স্পর্শ পেয়ে।মিহাল স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে এই মুগ্ধ ময় দৃশ্য দেখে যাচ্ছে।মামুন খান নীলার মাথায় হাত রেখে বলেন_
ধন্যবাদ মা আমাদের ছেলে সাহায্য করার জন্য।

নীলা চোখের পানি মুছে নিজের ফুফুর বাহু থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে ফুফার দিকে তাকালো এবং মুচকি হেসে বলল __
ধন্যবাদ দিয়ে আমাকে ছোট করবেন না। আর এখন সব থেকে বেশি প্রয়োজন উনার প্রাথমিক চিকিৎসা করানো।

মিহালের মা এবং বাবার যেন টনক নড়লো।তারা তড়িঘড়ি করে বলল_
হ্যাঁ মুনভি মিহাল কে রুমে নিয়ে যা।

মুনভি মিহালের কাছে আসতেই মিহাল নিজের বাবা-মা উদ্দেশ্যে বলল_
আজ তোমাদেরকে এক সত্যির সম্মুখীন হতে হবে।
নীলা ভয় পেয়ে গেল।তার গলা শুকিয়ে আসছে। মানসিকভাবে সে প্রস্তুত ছিল না এখন। কিন্তু কিছু করার নেই। সত্যি কখনো লুকিয়ে থাকে না।

ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের ছেলেকে রাগ দেখিয়ে বললেন_
যা বলার কালকে বলবি। তোর শরীরের চেয়ে কথা বলা বেশি প্রয়োজন না।

মিহাল মায়ের রাগকে পরোয়া না করে বলল__
তোমার ভাইদের সম্পর্কের কোথাও কি তোমার জন্য প্রয়োজন নেই?

ছেলের কথা শুনে থমকে গেলেন ইসরাতুল মিনা মির্জা এবং মামুন খান। হঠাৎ মিহাল পুরনো কথা কেন তুলছে তারা বুঝতে পারছেন না। মিহাল ধীরে ধীরে নীলার কাছে এসে বলল__
এইযে এই মেয়ে হলো নীলা মির্জা। মির্জা পরিবারের এক মাত্র মেয়ে। যার বাবার নাম নিলয় মির্জা।আশা করি নিলয় মির্জাকে চেনো তোমরা।

ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের ছেলের কথা শুনে দুই কদম পিছিয়ে গেলেন। নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেন। উনার স্বামী উনাকে শক্ত করে ধরে আগলে নিলেন।মিহাল দৌড়ে মায়ের কাছে গেলো এবং মাকে ধরে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসালো।

নীলাও নিজের ফুফুর দিকে এগিয়ে গেল। তারপর ফুফুর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো।মিহালের মা এবং বাবা নীলাকে দেখছে। ইসরাতুল মিনা মির্জা যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি কম্পিত হাতে নীলার থুতনি ধরে মুখ উঁচু করে দেখতে লাগলেন। এবং এই মুহূর্তে তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন কেন সেই দিন নীলা কে দেখে এত আপন আপন লেগেছিল। কিছু না বলেই নীলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলেন। এইবার নীলাও আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারল না। সেও নিজের ফুফুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। সবার চোখের কোণেই জল জমেছে।
কেবল মিহালের মুখে হাসি।সে তো এটাই চেয়েছিল। কিন্তু কখনো ভাবেনি এত তাড়াতাড়ি এবং এত সহজেই নিজের চাওয়া পূরণ করতে পারবে।

মামুন খান নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ইসরাতুল মিনা মির্জা নীলাকে মেঝে থেকে উঠিয়ে নিজের পাশের সোফায় বসালে। তারপর ইচ্ছে মতোন নীলার কপালে, চোখে, গালে চুমু খেলেন এবং নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রাখলেন।

নীলাও নিজের ফুফুর সাথে মিশে রইল। অনেকদিন পর আজ কোন আপন মানুষের আদর পেলে সে। পরিবেশটা একদম হিম শীতল। কিন্তু এই শিতল পরিবেশে বোমা ব্লাস্ট হলো মিহালের বলা একটা কথায়।
মিহাল হঠাৎ বলে উঠল __
আমি নীলাকে বিয়ে করব।আজ এইখানে এবং এই মুহূর্তে।তার জন্যই ইমাম সাহেবকে আনা হয়েছে।

দুঃখিত বেশি বড় দিতেপারেনি। ভেবেছিলাম আজকের পর্বে বিয়ে দিয়ে দিব কিন্তু কাহিনী অসমাপ্ত রয়ে যায়। তার জন্যই কালকে একটি বিয়ে স্পেশাল বোনাস পর্ব দিব।🫶🏻🫶🏻

চলবে??
ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন। কাল একটি বোনাস পর্ব আসবে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply