Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩৪


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_৩৪

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌

পায়ের শব্দ শুনে নীলা এবং মিহালের যেন হুঁশ ফিরল।তারা পেছন দিকে তাকাতেই দেখলো দু’জন বডিগার্ড আসছে। নীলা আর মিহালের চোখ আতংক।তারা ধীরে ধীরে পেছনের দিকে যেতে লাগলো তখনই পেছন থেকে আরো একজন বডিগার্ড চলে এলো। এবার তারা মাঝখানে এবং তাদের দুই পাশে বডিগার্ডরা। সামনে জঙ্গল আর পিছনে সে ভাঙা গোডাউন।মোট কথা তারা এখন ফেঁসে গেছে।

মিহাল নীলার জন্য চিন্তা করছে‌। কিভাবে সে নীলার প্রটেক্ট করবে।আর নীলা ভাবছে মিহালের তো হাতে ব্যথা তাকে কি করে প্রটেক্ট করা যায়।হুট করে পিছন থেকে বডিগার্ড এসে নিজের বাহু দিয়ে মিহালের গলা জড়িয়ে ধরলো। এমন আচমকা আক্রমণের নীলা এবং মিহাল কেউই প্রস্তুত ছিল না মিহাল দু কদম পিছিয়ে গেল।হাত আপনা আপনি গলায় জড়িয়ে থাকা হাতের দিকে চলে গেলো।নীলা যেন কিছুক্ষণের জন্য নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।


বৃষ্টি ভেজা পিছল রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ইকরা এবং মুনভি। ইউনিভার্সিটি থেকে কয়েক মিনিট পথ এগোতেই তাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাই এখন মাঝ পথে দুজন দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তাটা একদম নিরিবিলি তাই গাড়ি খুঁজে পাওয়া অসম্ভব বললেই চলে।মুনভি এবং ইকরা দুজনের কপালেই চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। প্রয়োজনের সময় সব বিপদ এক সাথে ঘটে। এখন তাদের যেখানে পৌঁছানো প্রয়োজন তারা সেখানে পৌঁছানো তো দূরের কথা সে স্থানের নিকটবর্তী জায়গায়ও পৌঁছাতে পারেনি।
ইকরার রিতিমত হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।নীলা এখন কোন অবস্থায় আছে সে যানে না। ভীষণ চিন্তা হচ্ছে নীলা এবং মিহালের জন্য।

মুনভি কুল না পেয়ে নিজের এক বন্ধুকে কল দিয়ে বলল তার এক জায়গাই পৌঁছানো খুব প্রয়োজন কিন্তু মাঝ রাস্তায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সে সময়মতো সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না। তার সমস্যার কথা শুনে তার বন্ধু বলল তার জন্য গাড়ি পাঠাচ্ছে। এখন মুনভি আর ইকরা কে আরেকটি গাড়ি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।আর এখান থেকে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না।

মুনভি ইকরার দিকে তাকালো। দেখল বৃষ্টির ফোঁটায় মেয়েটির বোরকা এবং হিজাব খানিকটা ভিজে গিয়েছে। মুখে বৃষ্টির ফোটা পড়ছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ।মুনভি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ইকরার উদ্দেশ্যে বলল__
গাড়ির ভেতর গিয়ে বসো। বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকলে বৃষ্টির ফোঁটা শরীরে পড়বে এবং তোমার সর্দি হবার আশঙ্কা থাকবে। কিছুদিন আগেই জ্বর থেকে উঠেছো এখন আবার নতুন করে জ্বর বাধিও না। আর গাড়ি কিছুক্ষণের ভেতর চলে আসবে তাই চিন্তা কোরো না।

ইকরা তাকালো মুনভির দিকে।মুনভি তার দিকেই তাকিয়ে আছে।তাই চোখাচোখি হলো দুজনের।তখন মুনভির সাথে কথা বলার পর ভেবেছিল সে আর যাই হোক মুনভির সামনে আসতে পারবে না আর চোখে চোখ রাখা তো দূরেই থাক। অথচ এখন পরিস্থিতির শিকার হয়ে দুজনকে পাশাপাশি থাকতে হচ্ছে। এমনি হয়তো দেখা হলে ইকরা অস্বাভাবিক ব্যবহার করত কিন্তু এখন পরিস্থিতির কারণে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারছে এবং স্বাভাবিক থাকতে পারছে। সে কন্ঠ নিচু করে মুনভির উদ্দেশ্যে বলল__
আপনিও ভেতর আসুন। আপনারও ঠান্ডা জ্বর লাগতে পারে এখন আপাতত দুজন মিলে ভিতরে গিয়ে বসি যখন গাড়ি আসবে তখন না হয় বের হয়ে নতুন গাড়িতে উঠে আবার উদ্দেশ্যে রওনা দিব।

ইকরার নিজের জন্য চিন্তা দেখে মুনভির অধর জোড়া একটু ফাঁক হলো‌।হাসির চিহ্ন দেখা গেলো সেথায়।মুনভি ইকরার কথায় সায় জানাতেই দুজন মিলে গাড়ির ভেতর গিয়ে বসলো।মুনভি গাড়ির ভেতরে থাকা টিস্যু বক্স ইকরার দিকে এগিয়ে দিল এবং ইশারা দিয়ে বলল নিজের মুখ হাত মুছে দিতে।ইকরা বিন বাক্যে দুই হাতে কিছু টিস্যু নিল‌। এবং ডান হাতে থাকা টিস্যুগুলো মুনভির দিকে এগিয়ে দিয়ে ইশারা করল নিতে।

মুনভি ঠোঁট কামড়ে ধরে টিস্যু গুলো নিল‌। ইকরা হাতে থাকা টিস্যু দিয়ে নিজের মুখ হাত মুছে নিলো এবং মুনভি হাত মুখ এবং হালকা করে চুল মুছে নিল। এখন যতক্ষণ না পর্যন্ত তার বন্ধু গাড়ি পাঠাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের দুজনকে এখানে বসে থাকতে হবে।


মিহাল নিজেকে ছাড়ানোর যথাসম্ভব করছে। কিন্তু প্রথমত অনেকক্ষণ অজ্ঞান ছিল বলে তার শরীরে তেমন শক্তি নেই তার ওপর হাত জখমি।বলতে গেলে শরীর একদম ছেড়ে দিচ্ছে। নীলার মস্তিষ্ক সজাগ হতেই সে ব্যাগের সাইড পকেটে থাকা মরিচের গুঁড়ার প্যাকেট বের করে ফেলল।এখন যা করার তাকেই করতে হবে।পেছন থেকে দুজন ব্যক্তির পায়ে শব্দ পেয়ে পেছন ফিরে দেখল একজনের হাতে বন্দুক ।নীলা আর বেশি কিছু না ভেবে পরনের বোরকা কিছু উপরে তুলে যেই লোকটার হাতে বন্দুক ছিল তার হাতে লাথি দিল। সঙ্গে সঙ্গে বন্দুক মাটিতে পরে গেল। নীলা বন্দুক হাতে নিয়ে বন্দুক থেকে সকল বুলেট বের করে বলল। কাজটি সে খুব তাড়াতাড়িই করেছিল যে কেউই কিছু বুঝতে পারেনি।নীলা বন্দুকের বুলেট গুলো ব্যাগের সাইট পকেটে রেখে বন্দুক দিয়ে বাড়ি মারলো লোকটির নাকে।নাক একটি সংবেদনশীল জায়গা এখানে আঘাত করলে মানুকে কাবু করা সহজ হয়। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে পরে গেল।নাকে বাড়ি লাগার কারণে নাক থেকে রক্ত পরছে। আরেকটি বডিগার্ড নীলার দিকে এগিয়ে আসতে নিলেই নীলা হিল পড়া পায়ে এগিয়ে গিয়ে লোকটির পায়ের পাতায় চাপ দিল। লোকটা সঙ্গে সঙ্গে এক পা উঠিয়ে লাফাতে লাগলো।নীলা লোকটির আরেক পায়ে চাপ দিতে লোকটি দুই পা এক সাথে উঠানোর চেষ্টা করতেই পরে গেল।

মিহাল কে যেই বডিগার্ড ধরে রেখেছিল সেই সব দেখে অবাক হয়ে গেল তার হাতের বাধন কিছুটা আলতো হয়ে গেল।মিহাল সুযোগ পেয়েই হাতের কুনি দ্বারা তাকে ধরে রাখা বডিগার্ডের পেটে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আঘাত করলো। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে ব্যথায় চোখমুখ কুঁচকে পেট চেপে বসে পড়ল এবং মিহাল কে ছেড়ে দিল। নীলা সুযোগ বুঝে মিহালের হাত ধরে তার দিকে টেনে নিয়ে এলো।মিহালও নীলার টান পেয়ে নীলার কাছে চলে এলো।নীলা মরিচের গুঁড়ার প্যাকেট ছিড়ে নিল‌। যখন এইসব কিনেছিল তখন হ্যান্ড গ্লাভসও কিনেছিল।ব্যাগ থেকে একটি হ্যান্ড গ্লাভস বের করে পড়ে নিল এবং হাতে থাকা প্যাকেট থেকে মরিচের গুড়া ঢেলে নিল। মিহাল শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার নীলা রাণীর লীলা দেখছে।নীলা যাদেরকে মেরেছিল তারা আবার ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে পড়ল। নীলা তাদের দিকে এগিয়ে গেলো কিছুটা। লোক দুটি প্যান্টের পকেট থেকে ছোট ছুরি বের করতে লাগলো। নীলা সুযোগ বুঝে মুরিচে গুঁড়ো চোখ মাখিয়ে দিল লোক দুটির। দুজনের চোখই জ্বালা পোড়া করতে লাগলো। দুজন বডিগার্ডই চোখের জ্বালায় হাত দিয়ে চোখ বলতে লাগলো কিন্তু এতে কোন উপকার পেলো না তারা। উল্টো আরো মরিচের গুঁড়া চোখের ভেতর ঢুকে গেল। দুজন চোখ বন্ধ করে একদিকে চলতে লাগলো অমনি একজন আরেকজনের সাথে বারি খেয়ে আবার মাটিতে পড়ে গেল।

নীলার বাঁকা হেসে বলল__
আসছে আমার সাথে পাঙ্গা নিতে।আমি নীলা মির্জা দিনের বেলায় তারা দেখিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।

মিহাল মুগ্ধ নয়নে দেখছে নীলাকে। মূলত এমন পরিস্থিতিতে মেয়েরা ছেলেদের উপর ডিপেন্ড থাকে, ভয়ে সাঁটিয়ে যায়। কিন্তু নীলা তা না করে রুখে দাঁড়ালো।

নীলা মিহালের দিকে তাকিয়ে দেখলো মিহাল তার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর যেই লোকটিকে মিহাল মেরে ছিল সেই লোকটি আবার উঠে দাঁড়ালো। সঙ্গে সঙ্গে আবার মিহালের উপর হামলা পড়ল। এইবার মিহালও ইচ্ছে মতোন ঘুষি মারতে লাগলো লোকটিকে। লোকটি সেই ছিল যে মিহালের বাহুতে ছুরি চালিয়ে দিয়েছিল। সে মিহালের সেই আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আরেকবার আঘাত করলো।মিহাল ব্যথাম মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো।

নীলার যেন মাথার রক্ত চড়ে উঠলো।সে লোকটিকে ইচ্ছে মতো চড় দিতে লাগলো।যখন দেখলো লোকটি মিহালকে ছাড়ছে না তখন লোকটির দুই হাতে নিজের নখ দিয়ে খামছি দিল। লোকটি তার দিকে তাকাতেই সে থুতু দিলো লোকটির মুখে। থুতু মুখে লাগতেই এবং হাতে নখের আঁচড় লাগতেই লোকটি চোখ মুখ কুঁচকে মিহাল কে ছেড়ে দিল।
ছাড়া পেতেই মিহাল হাঁপাতে লাগলো।হাতে বেশ ব্যাথা পেয়েছে সে। এতক্ষণ রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেলেও এখন আবার রক্ত বের হতে শুরু করল হাতের ক্ষতস্থান থেকে। ঘুষি লাগায় ঠোঁটের কোণে থেকেও রক্ত পড়ছে।

নীলা মিহালের কাছে আসতেই প্রথমে তার নজর গেল মিহালের বাহু থেকে গড়িয়ে পড়তে থাকা রক্তের দিকে। তার দৃষ্টি শীতল হয়ে এলো।মিহালের ক্ষতস্থানে আলতো করে আঙুল ছুঁইয়ে কন্ঠে নরম ভাব এনে জিজ্ঞেস করল__
খুব বেশি ব্যথা করছে কি?

নীলার কন্ঠ মিহালের কাছে ঔষুধের মতোন লাগালো। নিমিষেই মনে হলো নীলার স্পর্শ যেন তার ক্ষতস্থানে মলম লাগিয়ে দেওয়ার মতোন লাগলো। যেন সব ব্যথা এক নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেল। মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে
বলল_
না না আমি ঠিক আছি একদম।

মিহালের কথা নীলার বিশ্বাস হলো না।সে নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছে মিহালের হাত থেকে রক্ত গড়িয়ে পরছে। নীলা কিছু বলতে যাবে অনমি মিহাল কারোর হাত ধরে ফেলল।নীলা পেছন ফিরে দেখলো যে লোকটির মুখে সে থুতু মেরেছিল সে লোকটি আবার তাদেরকে আক্রমণ করতে এসেছে। নীলার মেজাজ গরম হয়ে গেল। এ লোকটি সর্বপ্রথম ভুল করেছে তার পেয়ারে লাল কে চাকু মেরে। তারপর আবার তার পেয়ারে লাল কে ধরে রেখেছিল এবং ব্যথা দিয়েছিল। আর এতেও লোকটি ক্ষান্ত হয়নি বরং মিহালের আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে আরো ব্যাথা দিয়েছে। নীলার ইচ্ছে করছে এই সাদা চামড়ার লোকটির গা থেকে চামড়া খুলে ফেলতে।

মিহাল লোকটির দুই হাত মুছরে পেছনে টেনে নিল। যাতে লোকটি আর কাউকে আঘাত করতে না পারে।নীলা আবার প্যাকেট থেকে মরিচের গুঁড়ো হাতে ঢেলে নিল। এই লোকটিকে সে শিক্ষা দিয়ে ছাড়বে। মিহাল লোকটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। নীলা মিহালের দিকে তাকিয়ে আদেশি স্বরে বলল _
প্যান্টের চেন খুলেন।

মিহাল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইল।নীলা এইসব কি বলছে। আঘাতে পেলো সে তাও হাতে। অথচ মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে নীলার।সে বোকার মতোন বলল_
ছিঃ ছিঃ ছিঃ নীলা এইসব কি বলছো? আমি এই ধরনের ছেলে না।যা করার বিয়ের পরে করবে।প্লিজ কন্ট্রোল ইউর সেল্ফ। আর যা করার,খোলার তা রুমে বন্ধ ঘরে‌। এইসব পাবলিক প্লেসে না প্লিজ।

নীলার মেজাজ তুঙ্গে পৌঁছে গেল।গা গুলিয়ে এলো এমন উল্টো পাল্টা কথা শুনে।সে মিহালের দিকে চোখ পাকিয়ে বলল_
আপনার প্যান্টের চেইন খুলতে বলিনি এই লোকটির প্যান্টের চেইন খুলুন।

মিহালের চোখ যেন এবার বের হয়ে আসার উপক্রম। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল _
আস আস আস আস্তাগফিরুল্লাহ নীলা।কি বলছো তুমি তোমার কী মাথা খারাপ হয়ে গেছো‌। এসব অশ্লীল কথাবার্তা কেন বলছো পাখি? প্লিজ সময় থাকতে ভালো হয়ে যাও। নয়তো আমার মান ইজ্জত থাকবে না।

নীলার রাগে দুঃখে কান্না চলে আসার অবস্থা।তার এখন ইচ্ছে করছে মিহালের মুখের ভেতর মরিচের গুঁড়ো ভরে দিয়ে একদম চুপ করিয়ে দিতে কিন্তু এটা সে করতে পারবে না। তাই ধৈর্য্য ধরে ভারী ভারী নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের রাগ কন্ট্রোল করলো। এবং দাঁতে দাঁত চেপে মিহালের উদ্দেশ্যে বলল _
আরে বলদ সবসময় উল্টো পাল্টা জিনিস ভাবেন কেন? অশ্লীল কথাবার্তা আমি বলছি না বরং আপনি অশ্লীল চিন্তাভাবনা করছেন। বেশি কথা না বলে যা বলছি তাই শুনুন প্লিজ। এই লোকটি আপনাকে আঘাত করেছে এই লোকটিকে তো শাস্তি দিতে হবে নাকি?

মিহাল কিছুই বুঝতে পারলো না তবুও নীলা যেহেতু বলেছে সে না শুনে যাবে কোথায়?তাই চোখ বন্ধ করে লোকটির দুই হাত নিজের এক হাত দিয়ে ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে লোকটির প্যান্টের চেইন খুলে ফেলল। মিহালের কাছে বন্দি থাকা লোকটি কিছুই বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হতে চলেছে সে তো শুধু নিজেকে ছাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে। নীলা লোকটির সামনে গিয়ে মুখে রঙ মাখার মতোন মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দিল। লোকটি জ্বালায় আর্তনাদ করে উঠলো। নীলা দেরি না করে স্প্রের বোতল হাতে নিয়ে লোকটি প্যান্টের খোলা চেনেই ফাঁক দিয়ে স্প্রে করল।কোনো কাজ হবে কিনা জানা নেই কিন্তু তার ইচ্ছে জেগেছে তাই সে এমনটা করলো। অন্যদিকে মিহাল এই দৃশ্য দেখে চোখ বের হয়ে আসবে এমন অবস্থা।তার মনে হচ্ছে তার দুই পা কাঁপছে। শুকনো ঢোঁক গিলল সে।

নীলা মিহালের দিকে তাকিয়ে বলল_
এভাবে দাঁড়িয়ে থেকে কি আরো গুন্ডাদের আসার জন্য অপেক্ষা করবেন?

মিহালের হুঁশ ফিরল।সে তৎক্ষণাৎ লোকটিকে ছেড়ে দিয়ে নীলার দিকে তাকালো। এবং বলল চলো।
বলেই নীলা আর মিহাল এগোতে লাগলো। ফার্মটির সামনে দিকে যেতেই দেখলো আরো কিছু বডিগার্ড ফার্মের দিকে আসছে। হাতে তাদের খাবার হয়তো তারা খাবার আনতে গিয়েছিল। নীলা এবং মিহাল একে অপরের দিকে তাকালো। মিহাল লড়াই করার মত অবস্থাই নেই।আর নীলাও পারবে না।তাই সামনের দিকে এগোনো মানে নিজ ইচ্ছায় বাঘের সামনে ধরা দেওয়া। দুজনে মিলে পেছনে তাকাতেই দেখল ঘন জঙ্গল।এখন তাদের এই পথ ছাড়া যাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। নীলা আর মিহাল মিলে জঙ্গলের দিকে দৌড় লাগালো।নীলা বুদ্ধি করে ফোন বের করলো এবং নিজের ফোনে ইকরার জন্য ভয়েস দিয়ে রাখলো এবং বলল সে মিহাল কে বাঁচাতে পেরেছে এবং তারা ফার্মের পেছনে থাকা জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। নিজের লোকেশন সে অন করে রেখেছে।

নীলা আর মিহাল মিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দৌড়াতে লাগলো‌। থেমে পরলে চলবে না। দৌড়াতে দৌড়াতে তারা গভীর জঙ্গলে চলে এলো।পেছন ফিরে দেখল কেউই নেই।তাই দুজনেই থামলো।নীলা আর মিহাল থেমেই হাঁপাতে লাগলো। অতিরিক্ত দৌড়ানোর কারণে এখন শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তার উপর মিহালের হাতে আঘাত আছে। সেখান থেকে আরো রক্ত বের হচ্ছে।হাত নাড়ানো একেবারে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। মিহাল আর না পেরে বসে পরলো।নীলাও মিহালের পাশে বসলো। কিন্তু তাদের দুজনের মাঝে খানিকটা দূরত্ব আছে। নীলার ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করলো। বোতলে এখনো খানিকটা পানি আছে। সে মিহালের দিকে এগিয়ে দিল।মিহাল নীলার দিকে তাকিয়েই বোতলটা হাতে নিল‌। সামান্য পানি আছে যা দিয়ে একজনের তৃষ্ণা মেটানো কষ্টকর সেইখান থেকেও মিহাল কিছুটা পানির নিজে খেয়ে কিছুটা নীলার জন্য রেখে দিল এবং নীলার দিকে বোতলটি আবার এগিয়ে দিল।

নীলা মিহালের হাত থেকে বোতল নিয়ে যখন দেখল বোতলে পানি আছে সে কিছুটা অবাক হলো। কিন্তু মনে মনে খুশি হলো কারণ দৌড়ানোর কারণে তার গলা শুকিয়ে এসেছে অল্প পানি পেলেও হতো। তাই কিছু না বললে অবশিষ্ট পানি সে খেয়ে ফেলল। এখন কিছুটা ভালো লাগছে।

দুজনের মাঝেই নীরবতা। এই নীরবতা ভেঙে নীলা বলে উঠলো_
ইকরা কে মেসেজ দিয়ে বলেছি সব ‌। সে মুনভি ভাইয়া কে নিয়ে আসছে।হাতে কি আপনার অনেক ব্যাথা করছে? আর আপনার ঠোঁট থেকেও তো রক্ত বের হচ্ছে।

নীলার দিকে মিহাল কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। মেয়েটিকে যত দেখছে ততই মুগ্ধ হচ্ছে সে‌। নীলার চোখে চোখ রেখে
বলল __
তুমি কাছে থাকলে আমি কি করে খারাপ থাকতে পারি?

নীলার মেজাজ বিগড়ে গেলো। লোকটি সবসময় ফ্লার্ট করার ধান্দায় থাকে। সিরিয়াস সিচুয়েশনেও নিব্বা মার্কা কথা বার্তা।নীলা কিছু বলতে যাবে তার পূর্বেই মিহাল বলে
উঠলো _
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমার এবং ইরফানের ডিভোর্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

নীলার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। এই বয়সে সে বিবাহিত না হয়েই ডিভোর্সের কথা শুনছে। কত কি শুনতে হবে তাকে আর? মিহালের কথা শুনে হাসি পেলেও অনেক কষ্টে নিজের হাসি চাপিয়ে রাখল নীলা।নাক ফুলিয়ে বলল_
আমি ইরফান কে ডিভোর্স দিব না। আপনি কি করবেন শুনি?

নীলার কথায় মিহাল কিছুক্ষণ নীরব থেকে বাঁকা হিসেবে বলল __
আমি কিছুই করবো না।

নীলা খানিকটা অবাক হলো কারণ সে নিহালের কাছ থেকে এত শান্ত উত্তর আশা করেনি। তাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল_ কিছুই করবেন না আপনি? মিহাল দাঁতে দাঁত চেপে বলল__
ইরফান কে খুন করে তোমাকে বিধবা বানিয়ে তারপর বিয়ে করব।

নীলার চোখ বের হয়ে আসার উপক্রম। তার শরীর যেন ভারী হয়ে উঠছে। তার প্রতি নিহালের এত পজেসিভনেস দেখে শরীরের পসম হারিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে সবটাই স্বপ্ন।

পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি চলে আসবে।

কিছু পাঠক বি লাইক: আপু এত ছোটপর্ব দিয়েছেন কেন? ও আচ্ছা হয়তো আপনার বড়পর্ব ডিলিট হয়ে গিয়েছিল তাই না?
নো জবাব।

কিছু পাঠক বি লাইক: এসব ফালতু পোস্ট না করে গল্প দিন।
শুনুন সম্মানীয় পাঠকগণ যদি আমার পেইজের গল্প ছাড়া অন্যান্য পোষ্ট ফালতু হয়ে থাকে তার মানে আমার গল্প অবশ্যই ফালতু হবে আপনি চাইলে এই ফালতু জিনিস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেন।

আপনারা যদি ভেবে থাকেন বড় পর্ব মানে একটি বই লিখে দিব তাহলে দিতাম তো এটা ভুল ধারণা। আমি জানি যে আমি সব সময় কত সংখ্যার গল্প দেই যখন বলি বড় পর্ব দিব তার মানে যত সংখ্যার গল্প দেই তার থেকে ৫০০ কিংবা এক হাজার শব্দ আমি বেশি দিই এতোটুকুই পার্থক্য থাকে। এর বেশি কোন পার্থক্য থাকে না আপনারা চাইলে এখন সংখ্যা গুনতে পারেন নিতান্তই আপনাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি আমি।
এবং সব থেকে বড় সত্যি কথা হলো পাঠকদের সাথে বেশি ফ্রি হতে হয় না নয়তো তাদের কাছ থেকে ভালোবাসা এবং সম্মান কোনটাই পাওয়া যায় না সবকিছুই প্রফেশনাল রাখা উচিত।
আগামীকাল ঈদ দোয়া করি সবার ঈদ ভালো কাটুক এবং সুস্থ থাকেন সবাই। ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। এমনিতেও পরীক্ষা চলে আসছে খুব শীঘ্রই হয়তো বিদায় নিব জানিনা আবার ফিরে আসবো কিনা। 🫶🏻🥰

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply