তালাক_নামা
পর্ব:৪
সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)
এটুক বলে সুকন্যা থামলো।সামনে থাকা পুরুষটা তার দিকে তাকিয়ে আছে। নিশ্চয়ই পরের ঘটনাটুক জানার আগ্রহ তার। কিন্তু সুকন্যা তো বলবে না। সে আগে সবটা বুঝবে। কফির কাপের রিমে আংগুল বুলিয়ে সে বলল,
“একটা বার ভাবুন তো, এক বান্দীর বাচ্চার জন্য আমার মায়ের সংসারটা ভেঙ্গে গেল।ঠিক ষোলো বছর পর সেই বান্দীর বাচ্চার পেট থেকে জন্ম নেওয়া আরেকটা বান্দীর জন্য আমার বড় আপার সংসারটাও ভেঙ্গে যাবে? এমনটা মানা যায়?”
এবার খানিকটা হেলান দিয়ে বসলো সুকন্যার সামনে থাকা পুরুষটা। সে চশমাটা খুলে টেবিলের উপর রেখে বলল,
“সাফা আপনার সৎ বোন?”
“হ্যাঁ, যে আমার বোনের সতীন হতে চাইছে।সৌহার্দ্য সাহেবের স্ত্রী মানে আমার বোন একটু অন্য স্বভাবের। মা স্পষ্টবাদী, খালামণিরা ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয় কিন্তু আমার বোন কেমন যেন অদ্ভুত এক স্বভাবের।ও মানুষের কষ্ট দেখলে, সরি বলা দেখলে সব ভুলে যায়। কিন্তু আমি তো ভুলতে পারি না।”
“মিস সুকন্যা আমি আপনাকে কি সাহায্য করতে পারি?”
” লেটস গেট ম্যারেড প্রণভ মির্জা। আমি আপনার যে কোনো শর্ত মেনে নিতে রাজি আছি। কেবল আমাকে অফিশিয়ালি আপনার পরিবারের অংশ করুন।”
প্রণভ স্থির চোখে তাকিয়ে আছে। তার হাতটা থেমে গেল এক মুহুর্তের জন্য। তাচ্ছিল্য ছড়িয়ে পড়েছে মুখশ্রীতে। সে ধীর গলায় বলল,
“আমার মতো পঙ্গুকে নিজের দাবার গুটি হিসেবে চাল দিতে চাইছেন মিস সুকন্যা?”
“আপনার কোনো কমতি নেই। তাছাড়া হুইল চেয়ারে বসে যে মির্জা সাম্রাজ্য চালাচ্ছে তার থেকে অধিক শক্তিশালী আর কে হতে পারে মির্জা পরিবারে?”
“আর যদি না করি?”
“তাহলে হয়তো আমার বোনকে বাঁচানোর জন্য আমাকে অন্য পথ ধরতে হবে। হয়তো আপনার ছোটো ভাইয়ের তার সৎ শালীর প্রতি যে দয়া মায়াময় মুহুর্তগুলো আছে সেগুলো মিডিয়ার সামনে আনতে হবে।লস আমার না কি আপনার একটু ভেবে বলবেন।”
“আমি জীবনে সবচেয়ে অপছন্দ করি ব্ল্যাক মেইল করাটা।”
“আর আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি এই কাজটা।যে বা যারা আমার মাকে সংসার করতে দেয়নি, যে বা যারা আমাদের বাবার আদর থেকে আজন্ম বঞ্চিত করেছে তাদের জন্য যদি দ্বিতীয় বার ইতিহাস রিপিট করতে চায় কেউ আমি গোড়া থেকে উপড়ে ফেলবো।ইহ জগতে কারোর অধিকার নেই আমার বোনের সংসার শুরুর আগেই শেষ করে দেওয়ার।প্রয়োজনে সৌহার্দ্য মির্জাকে আমি নপুংসক বানিয়ে ফেলব।আফটার অল আপনি জানেন তো?আমার মেজর সাবজেক্টটা কি? এতো এতো গবেষণা হচ্ছে নিশ্চয়ই আমার কিছুটা হলেও ক্ষমতা আছে। ভাবুন প্রণভ মির্জা।ভাবুন, ভাবতে থাকুন।যদি হ্যাঁ হয় আমাকে কল দিবেন।ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আমি কাজী অফিসে চলে আসবো।”
“বাকীটা তো বললেন না?এরপর কি হয়েছিল সেদিন?”
“সময় হলেই জানতে পারবেন।”
চলবে ( সবাই রেসপন্স করবেন)
Share On:
TAGS: তালাক নামা, সাদিয়া খান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তালাক নামা পর্ব ১
-
নিগৃহীতা পর্ব ৩
-
নিগৃহীতা পর্ব ২
-
বি মাই লাভার পর্ব ১৭
-
তালাক নামা পর্ব ২
-
নিগৃহীতা অন্তিম পর্ব
-
তালাক নামা গল্পের লিংক
-
তালাক নামা পর্ব ৩
-
বি মাই লাভার পর্ব ২০
-
নিগৃহীতা পর্ব ১