Golpo romantic golpo সুপ্রভা

সুপ্রভা পর্ব ৩


সুপ্রভা (০৩)

শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার সুপ্রভার কোমর জড়িয়ে ধরে রেখেছে। নারীদেহে জীবনের প্রথম পুরুষ স্পর্শে তার সর্বাঙ্গে যেনো বিদ্যুৎ রয়ে যায়। সজারুর ন্যায় দাঁড়িয়ে যায় শরীরের সমস্ত লোমকূপ। তাদের মধ্যে আর এক ইঞ্চি সমান দূরত্ব রয়েছে। এক জনের গরম নিঃশ্বাস অন্য জনের গাঁয়ে আঁচড়ে পড়ছে।সুপ্রভা কেমন যেন হাঁসফাঁস করতে থাকে।সিয়াদাতের বাঁধন থেকে মুক্তি পেতে চায়।

কিন্তু সিয়াদাতের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। তার দৃষ্টি আটকে গেছে সুপ্রভার হরিণীর ন্যায়কাজল-কালো চোখ দু’টোর গভীর খাদে।

সুপ্রভা শুকনো ঢোক গিলে। অস্থিরতায় ছটফট করতে করতে বলে– “ ছাড়ুন মা‌ …” সম্পূর্ণ কথাটা শেষ করার আগেই সিয়াদাতের শক্ত হাতের বাঁধন আলগা হয়ে যায়।যার দরুন সুপ্রভা ঠাস করে নিচে পড়ে যায়।ব্যাথায় মুখের রং ফিকে হয়ে আসে সুপ্রভার।

মারুফ দৌড়ে এসে সুপ্রভার হাত ধরে টেনে তোলে। বিচলিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে– “ তোর কোথাও লাগে নি তো? তুই ঠিক আছিস সুপ্রভা?”

সুপ্রভা ছলছল নয়নে সিয়াদাতের পানে তাকায়।
সিয়াদাত ফোনে কারো সাথে কথা বলছে।সারা এগিয়ে আসে সিয়াদাতের দিকে। শক্ত গলায় বলে– “ তুমি ইচ্ছে করে মেয়েটাকে ফেলে দিলে।

কী মিষ্টি দেখতে মেয়েটা।একদম তুলতুলে পুতুলের মতো।আমার তো দেখেই আদর করতে ইচ্ছে করছে। তুমি কিভাবে পারলে মেয়েটাকে কষ্ট দিতে?”

সিয়াদাত কিছু বলে না। পকেটে হাত দিয়ে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকে। সারা নরম গলায় শুধোয় –“মেয়েটা কে ভাইয়া?”

সিয়াদাত নির্লিপ্ত গলায় বলে –“ মারুফের বড় বোনের মেয়ে।সুপ্রভা।”

সুপ্রভা নামটা বারকয়েক ঠোঁটে আওড়ায় সারা।
মনে মনে বলে – “ নামটা যেমন মিষ্টি, ঠিক তেমন‌ই মিষ্টি তার মুখের আদল।আই উইশ এমন একটা মিষ্টি পুতুল যদি আমার ভাইয়ের ব‌উ হতো।”

সারা এগিয়ে যায় সুপ্রভার দিকে।নরম হাসি হেসে বলে—“তুমি সুপ্রভা?”

সুপ্রভা ছোট করে জবাব দেয় – “ জ্বি।”

“ আমি সারা।সিয়াদাত শাহারিয়ার একমাত্র আদরের ছোট বোন।”

সারা কিছু একটা ভেবে আদেশের সুরে বলে–

“শোন আমাকে তুমি খালামণি বা আন্টি বলে ডাকতে পারবে না।হয় সারা আপু বলবে না হয় সারা বলবে।”

সুপ্রভা অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ে। চোখ দুটো এখনও ভেজা। সারা আলতো করে সুপ্রভার হাতদুটো ধরে । নরম গলায় বলে–

“আমার ভাইটা একটু রাগী স্বভাবের। কিন্তু মনটা খারাপ না। তুমি কষ্ট পেয়ো না, প্লিজ।”

সুপ্রভা কিছু বলে না।সারা পরম মমতায় সুপ্রভার চোখের পানি মুছে দেয়‌।আদুরে গলায় বলে–“ কান্না করলেও যে কোনো মেয়েকে এতো সুন্দর লাগে, সেটা হয়তো তোমাকে না দেখলে জানতেই পারতাম না।
মেয়ে হয়েও আমি তোমার থেকে নজর সরাতে পারছি না।না জানি তোমার হাজবেন্ডের কী হাল হবে? বেচারা কাজ কর্ম বাদ দিয়ে সারাক্ষণ তার ব‌উয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবে।তোমার হাজবেন্ডের নজরে নজরে তুমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাবে।”

সারার কথা শুনে লজ্জায় গাল দুটো কেন্নোর মতো লাল হয়ে উঠে সুপ্রভার। সিয়াদাত একপলক সুপ্রভার দিকে তাকিয়ে শেখ মঞ্জিলের ভেতর প্রবেশ করে।সারা সুপ্রভার হাত ধরে শেখ মঞ্জিলের ভেতরে নিয়ে আসে।

শেখ মঞ্জিলের ভেতর প্রবেশ করে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সুপ্রভার।মুহূর্তের জন্য তার শ্বাস আটকে যায়। এটা কি বাড়ি, নাকি স্বপ্নের কোনো রাজপ্রাসাদ!এতো বড় বাড়ি টিভি সিনেমায় দেখেছে সে।বাস্তবে এমন আভিজাত্যের স্পর্শ পাবে, তা কখনো ভাবেনি।

বিস্ময়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুপ্রভা হঠাৎই চমকে ওঠে তার কাঁধে শীতল হাতের ছোঁয়া পেয়ে।।

সুপ্রভা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে সারা হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।সুপ্রভা ইতস্তত বোধ করে বলে– “ আপনাদের বাড়িটা খুব সুন্দর আপু।”

“এখনো তো কিছুই দেখো নি।পুরো বাড়িটা তোমাকে ঘুরে ঘুরে দেখাব।”

সুপ্রভা খুশি হয়ে যায়।সারা সুপ্রভার খুশি মুখের দিকে তাকিয়ে বলে– “ কিন্তু এখন নয়। এতো দূর জার্নি করে এসেছো।তোমার রেস্ট প্রয়োজন। তুমি বরং ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নাও। আগামীকাল তোমাকে সবটা ঘুরে ঘুরে দেখাব।”

সুপ্রভা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।নরম গলায় শুধোয় – “ আমি থাকবো কোথায়?”

“গেস্ট হাউসে আমার সব কাজিনরা থাকবে।সব কটা বদের হাড্ডি।তুমি এদের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না।তুমি বরং আমার সাথে থাকো।”

সুপ্রভা চমকে উঠে বলে– “ আপনার সাথে?”

“ অ্যানি প্রবলেম?”

“ আমি আপনাকে যতো দেখছি ততই অবাক হয়ে যাচ্ছি আপু।মাত্র কয়েক মিনিটের পরিচয়ে আমাকে এতোটা আপন করে নিবেন, এটা ভাবতেও পারিনি আমি।”

সারা সুপ্রভার থুতনি ধরে আদুরে গলায় বলে –

“ তোমার মতো এতো মিষ্টি একটা মেয়েকে শুধু আপন নয়, নিজের পরিবারের সদস্য করে নিতে মন চাচ্ছে।”

সুপ্রভা হতভম্ব গলায় বলে– “ নিজের পরিবারের সদস্য মানে?”

সুপ্রভা #নতুনপ্রেমেরগান ।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply