সুখময়_যন্ত্রনা_তুমি
neelarahman
পর্ব_৮২
রুমের মধ্যে ছোট্ট চৌকিতে চুপটি করে বসে আছে নুর ।কোথা থেকে যেন সাদাফ ভাইয়া একটি লাল টুকটুকে তাঁতের শাড়ি নিয়ে এসেছে ।একদম নতুন ।আশেপাশে মার্কেট থেকে হয়তো কেয়ারটেকারকে দিয়ে আনিয়েছে।
নীলা রহমান লেখিকা
সাদাফ ভাই বাসা থেকে চলে যাবে সেই ভয়ে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে হ্যাঁ তো বলে দিয়েছেন নূর কিন্তু বাবা ও বড় বাবার কথা ভাবতেই কলিজা বারবার কেঁপে উঠছে। কি জবাব দিবে বাসায় গিয়ে? কি বলবে তাদের? লজ্জায় ও ভয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে নূর।
নুর বা কি করবে সামনে বাঘ পিছনে কুমির ।এখানে যদি বলে বিয়ে করবে না সাদাফ ভাই সব সময়ের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে ।যদি সাদাফ ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তাহলে সবাইকে কি জবাব দিবে নুর ?কেন চলে গেল ?আর বড় আম্মু সাদাফ ভাইকে ছাড়া কত কষ্ট পাবে ! নূর তো সে কষ্ট দেখতে পারবে না। নিজেও তো কষ্ট পাবে ।
আর কোথায় বা থাকবে সাদাফ ভাই ?কত কষ্ট হবে বাইরে থাকতে।আর যদি বিয়ের জন্য হ্যাঁ করে দেয় তাহলে বাবা ও বড় বাবা কত কষ্ট পাবে ! তাদেরকে জবাব কি দেবে এসব ভাবতে ভাবতে নূরের হৃদয়টা বারবার কেঁপে উঠছে।
দূরে একটি চেয়ারে বসে সব কিছুই খেয়াল করছে সাদাফ ।কাজীর জন্য অপেক্ষা করছে ।কাজী প্রায় আসলোই বলে হয়তো মিনিট দুয়েক লাগবে ।সাদাফ ভাল করে পর্যবেক্ষণ করছে নুরকে তবে মনে মনে ভাবছে যতই ভয় পাক আজকে সজ্ঞানে নূর ওকে বিয়ে করবে যাতে কেউ বলতে না পারে নুর ছোট ছিল তাই বিয়ে কি সেটা বোঝেনি।
বাসায় গিয়ে বাবা চাচার সাথে বোঝাপড়া সাদাফ করবে ।নুরকে কোন কিছুই করতে দিবে না ।কিন্তু নুরকে যে সাদাফের চাই ।খুব চাই ।কোনভাবেই রিস্ক নেওয়া যাবে না।
১০ বছরের সময় যখন নূর কবুল বলেছিল নূর বিয়ে কি সেই সময় বুঝতো না ছোট বাবার কথাটা আসলেই ভেবেছে সাদাফ।কিন্তু এখন যদি নূর কবুল বলে বিয়ে কি নূর বুঝবে স্বামী কি সেটা ও নুর বুঝবে ।এরপর যা হবার হবে দেখে নিবে সাদাফ।
ছোট বাবা রাগ করবে বকা দিবে স্বার্থপর বলবে না হয় দু চারটা থাপ্পড় ও মারবে সবকিছু সহ্য করতে পারবে ।কিন্তু নূর যে ওর স্ত্রী ও মনে প্রাণে বিশ্বাস করে কিন্তু নূর এসবের কিছুই জানে না এই অনুভূতিটা আর নিতে পারছিল না সাদাফ।
সবকিছুই কেমন যেন একতরফা একতরফা লাগছিল ।আজকে থেকে কোন কিছু একতরফা হবে না ।আজকে থেকে নূর ও জানবে সাদাফ ওর স্বামী ।নূর সাদাফ কে সেই ভাবে চাইবে যেভাবে সাদাফ চায়।
ইতিমধ্যে চলে এসেছে কাজী ।কাজীর সাথে সাদাফ ভাই কি যেন কথাবার্তা বলছে ।নূর দূর থেকে দেখছে আর নূরের মনের মধ্যে কেমন একটা সংশয় কাজ করছে। আজকের পর থেকে সবকিছু বদলে যাবে সাদাফ ভাইয়ের সাথে ওর সম্পর্ক বদলে যাবে বাড়ির সবার সাথে সম্পর্ক বদলে যাবে।
বেলা বেজে গেছে তিনটা ।এখনো খাওয়া-দাওয়া হয়নি মাছ ধরা হয়নি আর সাদাফের।কেয়ারটেকার কিছু মাছ নিজেই রান্না করে রেখেছে বিয়ে পড়ানো হলে সবাই একসাথে খাবে।
সাদাফ ভাইকি আগে থেকে জানত বিয়ে হবে ?এই শাড়ি এই ড্রেস এখানে সবকিছু সবকিছু কেমন তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে নূর ভাবতে ভাবতে সাদাফ ভাইয়ের দিকে তাকাল ?কি মনে করে যেন তাকালো একবার নূরের দিকে ?তাকিয়ে ইশারা করে জানতে চাইলো কি হয়েছে ?নুর না সূচক মাথা নেড়ে কিছু না বুঝালো। আবার মাথা নিচু করে রইলো।
এদিকে তিনটার আগেই মুভি শেষ করতে পারেনি সায়মন ও রিমা বাসা থেকে ফোন এসেছে ।ফোন দিয়েছে সামিহা বেগম।ফোন করে জানালো স্কুল থেকে ফোন দিয়েছিল একজন টিচার বলছে নূর নাকি স্কুলে নেই ।সামিহা বেগমের মাথা পা*গল হয়ে যাচ্ছে নূর কোথায় যেতে পারে সে চিন্তা ভাবনা করে ।সায়মন ও চিনতায় পড়ে গেলো। কোথায় যেতে পারে নুর এই ভেবে।
এদিকে সাদাফ কে ফোন দিচ্ছে সাদাফ এর ফোনে ব্যস্ত বলছে।কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না সায়মন?
কথাটি শুনে সায়মন ও রিমা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এলো ।বাড়িতে থমথমে পরিবেশ ।বেলা বাজে তিনটা কেউ এখনো দুপুরে লাঞ্চ করেনি ।স্কুলে প্রিন্সিপাল ফোন দেয়নি ফোন দিয়েছিল একজন টিচার আজকে একটি গণিতের টেস্ট ছিল কিন্তু নুর নেই তাই জানার জন্য ফোন দিয়েছিল কেন নূর স্কুল আসেনি।
সাদাফ কে ফোন দিয়ে সাদাফের ফোন বারবার ব্যস্ত বলছে ।ফোন ঢুকছে না সবাই চিন্তা করছে।কোথায় গেল সাদাফ নুরকে নিয়ে এমন তো হবার কথা নয় ।প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে ফোন দিয়ে ফজলুর রহমান জানতে পেরেছে সাদাফ জানিয়েছে নূরের সাথে একটু কাজ আছে তাই বাড়ি থেকে ওকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছে।তাই ফজলুর রহমান আর কিছু বুঝতে দেয়নি ঠিকআছে বলে ফোন রেখে দিয়েছে।
এদিকে সাদাফের সাথে কথা বলে কাজীর লেখালেখি কাজ সব শেষ হয়ে গেলে নূরের কাছে খাতা নিয়ে এসে কাজী সাহেব বললেন ,”হুমায়ূনর রহমানের একমাত্র জ্যেষ্ঠ পুত্র সাদাফ রহমানের সাথে ১০ লক্ষ এক টাকায় বিবাহের দেনমোহর ধার্য করিয়া বিবাহের জন্য সমর নিয়ে এসেছি।রাজি থাকলে আলহামদুলিল্লাহ বলুন মা কবুল ।”
নুর চুপচাপ বসে রইল ।কাজী সাহেব আবার বললেন ,”মা বলুন কবুল ।”
নুর এখনো নিশ্চুপ।মনে ভয় আর সংশয়।নিশ্চুপ বসে কোন কথা নেই ।এক হাতের নখ দিয়ে আরেক হাতের নখ খুটছে ।সাদাফ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে নূরের কাণ্ড ।অধৈর্য হচ্ছে সাদাফ।এমন সময় কার ধৈর্য্য থাকে। সাদাফ জোরে ধমক দিয়ে উঠলো নুরকে ।বললো,” এক থাপ্পর দিয়ে দাঁতগুলো সব ফেলে দেবো কবুল বলছিস না কেন বেয়াদব? কাজী সাহেব কতক্ষণ বসে থাকবে ?তাড়াতাড়ি কবুল বল।”নীলা রহমান
নূর সাথে সাথে কেঁপে উঠলো ।টলোমলো চোখে সাদাফের দিকে তাকিয়ে সাথে সাথে তিনবার কবুল বলে দিল ।বলল ,”কবুল কবুল কবুল কবুল বলেছি তো।”
সাদাব নুরের কবুল বলা দেখে মুচকি মুচকি হাসলো ।তারপর কাজী সাহেব সাদাফ কে কবুল বলতে বললে সাদাফ সাথে সাথে আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলল ।তারপর নূরের দিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে নুরের চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল ,”আলহামদুলিল্লাহ কবুল তুই জিতসোস রে সেরি ভালো একটা স্বামী পেয়েছিস।কাঁদছিস কেনো?”
নূর সাথে সাথে সাদাফের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল ,”আপনি ভীষণ খারাপ আপনি সবার সামনে আমাকে এরকম ধমকা ধমকি করছেন কেন ?”
সাদাফ বলল ,”আর ধমকাবো না বিয়ে হয়ে গেছে এখন শুধু আদর করবো ।”
কাজী সাহেবের সাথে সাথে কাশি উঠে গেলো সাদাফের বেফাঁস কথা শুনে।নুর লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো।
বিয়ে পড়ানো শেষ হতেই সবাই খাবারের আয়োজন করা শুরু করে দিল ।আজ খুব শান্তি মনে হচ্ছে সাদাফের কাছে। নুর কান্না কান্না চোখে খাচ্ছে।সাদাফ নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে কাঁ*টা বেছে বেছে নুর কে কারণ নূর এতো কাঁ*টা বেছে খেতে পারবেনা সব দেশি মাছ।
নুর কে খাইয়ে দিতে দিতে মনে মনে ভাবছে ,”বাসায় না জানি কি অপেক্ষা করছে সাদাফের জন্য ।তবে সাদাফ সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত ।আজকে ওর পরীটা ওর বউ হয়েছে এসব কিছু নিয়ে আর ভাবতে চায় না।”
চলবে……………
Neela Rahman
কি মনে হয় বাসর রাত হবে নাকি ঝাটা রাত কমেন্ট করে জানান।৭ কে উপরে রিয়েকশন না হলে বাসর রাত বহু দুর।
Share On:
TAGS: নীলা রহমান, সুখময় যন্ত্রণা তুমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৬
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৩
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৪৯
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৪
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৭+১৮+১৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৩
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২