Golpo romantic golpo সীমান্তরেখা

সীমান্তরেখা পর্ব ১৫


সীমান্তরেখা পর্ব ১৫

লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক

পর্ব_১৫

[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]

“প্রতারক নও তুমি?”

“না আমি প্রতারক নই।”

মেজবাহ’র প্রশ্নের জবাবে আকসা কথাটা বলে আরো শক্ত করে ওর শার্টের বোতামের দিককার অংশ খামচে ধরলো। মেজবাহ’র পরনের পিচ রঙা শার্ট আকসার ধরে রাখার কারণে দুমড়ে-মুচড়ে অগোছালো হয়ে গেছে। মেজবাহ একবার নিজের পরিহিত শার্টের বুকের অংশে জোরালোভাবে খামচে ধরে রাখা চিকন হাতটা একপলক দেখে শক্ত গলায় গম্ভীর স্বরে বললো, “আস্তে ধরো। ব্যাথা পাচ্ছি।”

মেজবাহ’র কথাটা শোনামাত্র আকসা ধীরে ধীরে হাতের মুঠো আলগা করে নিলো। মেজবাহ সরে দাঁড়িয়ে ওর মুখোমুখি হলো। আকসার চোখে চোখ রেখে দৃঢ়তার সহিত বললো, “চোখ সরাবে না। যা প্রশ্ন করবো, সেগুলোর সঠিক জবাব দেবে। কার সাথে কথা বলছিলে ফোনে?”

“আছে একজন।”

“একজনটা কে? ডিটেইলস বলো।”

“বলতে পারবো না।”

“হোয়াই?”

“জানি না।”

“জানো না মানে?”

আকসার দিকে আরো খানিকটা এগিয়ে গিয়ে চড়া গলায় প্রশ্নটা করলো মেজবাহ। আকসা নতমুখে পুনরায় জবাব দিলো, “জানি না আমি।”

কথাটা বলেই ও আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না সেখানে৷ বের হওয়ার পথ খোলা-ই ছিল। এই সুযোগে দৌড় দিলো ও। মেজবাহ চাইলে ওকে আঁটকে রাখতে পারতো। তবে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিলো। বিরবির করে দৃঢ় গলায় বললো, “ওকেহ!”
.
.
দুপুরের খাবার খাওয়ার পর সবাই বেরিয়েছে। পাশের গ্রামে একটা বিল আছে, সেখানে যাবে বলে। সেই গ্রামে যাওয়ার জন্য একটা মাঝারি আকৃতির নদী পাড়ি দিতে হয়।
মেজবাহ’র ওর কাজিন ব্রাদারদের সাথে হাঁটে যাওয়ার কথা ছিল। তবে মিহিরা বিলে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা জানানোর পর মেজবাহ’র আম্মা ছেলেকে বললেন, ওদেরকে বিলে নিয়ে যেতে। সাথে বড় কেউ না গেলে হয় না। মামনির কথা শুনে মেজবাহ ভাইদের নিয়ে ওদের সাথে এসেছে।
ঘাটে দু’টো নৌকা খুঁটিতে বাঁধা ছিল। মধ্যম আকৃতির ডিঙি নৌকা। এই নদীতে এমন নৌকাগুলো-ই বেশি চলাচল করে। বৈঠা দিয়ে বাইতে হয়। একটা নৌকায় চারজনের বেশি ওঠা নিষেধ।
তাহসিন, রিমু, মিহি আর মেজবাহ’র মামাতো ভাই আফ্রিদ একটা নৌকায় উঠলো। আকসা ওদের সাথে একই নৌকায় যেতে চাইছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত দেরি করে ফেলেছে ও। ওরা সবাই আগে উঠে গেছে। আরেকটা নৌকা আছে৷ এটাতে আফিফ, মেজবাহ আর আকসার ওঠার কথা। মাঝি দ্রুত উঠতে বললেন। আফিফ আগেই উঠে অপর প্রান্তে গিয়ে বসে পরলো। মেজবাহও উঠে গেছে নৌকায়। আকসা দাঁড়িয়ে আছে দ্বিধান্বিত হয়ে। এই নৌকায় এতো সহজে উঠলো কীভাবে তারা? পা রাখলেই তো নৌকা নড়েচড়ে ওঠে। আকসা ভয় পেল। এখন নৌকায় উঠতে গিয়ে যদি ও পড়ে যায়? সবচেয়ে বড় কথা, পানিতে পরার ভয় কম, মান-ইজ্জত যাওয়ার ভয়টা বেশি। ও পড়ে গেলে নিশ্চয়ই সবাই এটা নিয়ে খুব হাসাহাসি করবে। সামনাসামনি না করলেও মনে মনে তো নিশ্চয়ই হাসবে।
আকসা ঘাটে দাঁড়িয়ে থেকে এসবই ভাবছিল। তখন মেজবাহ নৌকার মাঝখান থেকে এগিয়ে আসলো ওর কাছে। এতোক্ষণ দূর থেকে দেখছিল ওকে। ওর জন্যই অপেক্ষা। নাহলে এখন নৌকা নদীর মাঝ বরাবর অবস্থান করতো।

“সঙের মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন? মানুষকে অপেক্ষা করাতে খুব ভালো লাগে তাইনা? শখ হয়ে গেছে এটা তোমার?”

আকসা চট করেই বুঝতে পারলো, মেজবাহ কি বোঝাতে চাইছে। এর আগেও একবার আকসা ওকে অপেক্ষা করিয়েছে। সেটাই ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করা হচ্ছে। আকসা সরাসরিই বললো, “ভয় পাচ্ছি নৌকায় উঠতে। যদি পড়ে যাই!”

“এতো মানুষ উঠেও পরলো না, আর তুমি একাই পড়ে যাবে?”

মেজবাহ’র অপমানজনক কথাবার্তায় আকসার কান গরম হয়ে গেল। লজ্জায় মুখ নুইয়ে ফেললো ও। মেজবাহ ওকে ভ্রু কুঁচকে দেখে বিরক্তিস্বরে ‘চ’ উচ্চারণ করে এরপর বললো, “দেখি, এদিকে আসো।”

মেজবাহ ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলো৷ আকসা আর এই সুযোগ হাতছাড়া করলো না। চটজলদি মেজবাহ’র হাত ধরে নিলো। মেজবাহ একহাত দিয়ে ওকে টেনে নিজের কাছে এনে নৌকার ওপরে একপ্রকার পাঁজকোলা করে তুলে নিলো। মেজবাহ’র শক্তপোক্ত হাতটা তখনও আকসার পিঠে। নৌকায় ওঠামাত্র আকসা ঝটকা মেরে মেজবাহ’র হাত সরিয়ে দিলো। মেজবাহ কঠিন চোখে একবার দেখলো ওকে। পরপরই ওর দিক থেকে সেই যে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো, বাকিটা সময় আর তাকালো-ই না সেদিকে।
.
.
চলনবিলটা দেখতে মোহনীয়। সাধারণত, বিল দেখার মতো অনন্য সুন্দর হয় না৷ তবে এই বিলটা ভীষণ সুন্দর। ঘুরে দেখার মতো জায়গা-ই বটে। তবে শীতের শেষোর্ধ সময়কাল হলেও এই বিলের আশেপাশে নাকি এখনো প্রায়ই জোকের বিচরণ ঘটে। যেহেতু এই বিলে সারাবছরই পানি থাকে!
এদিকে আসার পথে স্থানীয়দের কাছে এমন সতর্কবাণী-ই শুনতে শুনতে এসেছে ওরা। তখনও সন্ধ্যা নামেনি ধরণীর বুকে। আঁধার লগ্নের আগমন হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি প্রায়। চারিদিকে সান্ধ্যের একটা আবছায়া পরেছে। আলো-আঁধারির খেলা চলছে। সবার সামনে মেজবাহ’র মামাতো ও খালাতো ভাই আফ্রিদ, আফিফ আর সাথে তাহসিন হাঁটছে। আফিফরা গাইডের মতো পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় হওয়ায় সবকিছু চেনে ওরা। ওদের পেছনে মিহি আর রিমু। তার পেছনে আকসা ওদের থেকে হাতকয়েক দূরত্বে হাঁটছে ও। একেবারে পেছনে মেজবাহ। লোকটার ফোনে কল এসেছিল। কথা বলতে বলতে পিছিয়ে গেছে। আকসা একবার কৌতূহলী হয়ে ঘুরে দেখেছিল। মেজবাহ কার সাথে যেন খুব গম্ভীর হয়ে কথা বলছে। কপালের ভাঁজও খেয়াল করেছে ও। বোধহয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা চলছিল।
হঠাৎ আকসা থমকে গেল। ওর চলমান পা জোড়া যেন আঁটকে গেল পায়ের নিচের ঘাসের ওপরে। একমুহূর্ত ও নিশ্চিত হওয়ার জন্য শ্বাস আঁটকে রাখলো। এরপর উপলব্ধি করতেই জোরে একটা চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলো। তবে আকস্মিক বিহ্বলতায় মানুষ বোধহয় প্রতিক্রিয়া জানাতে ভুলে যায়। আকসার ক্ষেত্রেও বর্তমানে ঠিক তাই ঘটেছে। আকসা আপাতত চিৎকার করার জোরও পাচ্ছে না গলায়। পা জোড়া নড়ছে না ওর। একদম রোবট বনে গেছে যেন।

— “দাঁড়িয়ে আছো কেন এখানে?”

সামনের মানুষগুলো অনেকটা দূরে এগিয়ে গেছে। আকসা যে এখানে দাঁড়িয়ে, সেই খেয়াল নেই তাদের। এমন মুহূর্তে পেছন থেকে পরিচিত পুরুষের কন্ঠস্বরটা শোনামাত্র আকসা যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেল। এবার আশ্চর্যজনকভাবে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ালো ও। মেজবাহ একহাত প্যান্টের পকেটে এবং অপর হাতে ফোন মুঠো করে রেখে দাঁড়িয়ে আছে। ওর চোখ আকসার ওপরে। ভ্রু সংকুচিত। আকসা কোনোরকমে বললো, “সা—সাপ!”

“কোথায় সাপ?”

“আমার গায়ে।”

মেজবাহ ভ্রু কুঁচকে ফেললো। ওর কাছে এগিয়ে এসে ওকে আপাদমস্তক দেখে বললো, “একটাই তো সাপ দেখতে পাচ্ছি। আর কোথায়?”

মেজবাহ’র শান্তভাবে বলা কথাটা আকসা ধরতে পারলো না প্রথমে। বোকার মতো বললো, “তারমানে সত্যিই আমার গায়ে সাপ উঠেছে? ও আল্লাহ!”

আকসা সাপে প্রচন্ড পরিমাণে ভয় পায়। সাপের প্রসঙ্গ আসলে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে যায় ও। বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে যেন৷ ও পারলে সেখানেই বেহুঁশ হয়ে যায়। তবে মেজবাহ ওকে বেহুঁশ হতে দিলো না। তার আগেই বলে উঠলো, “সাপের গায়ে সাপ উঠবে কীভাবে? আদৌও সম্ভব?”

আকসা এবেলায় অবাক হলো। একথা দ্বারা মেজবাহ কী বোঝালো? পরোক্ষভাবে সাপ বললো ওকে! আকসা কিছু বলতে যাবে, তার আগেই মেজবাহ পুনরায় বললো, “ভয় পেও না। কালনাগিনীর গায়ে কোনো সাপ উঠবে না। তাছাড়াও তোমার যে বিষ বাপরেহ! তোমাকে যেই সাপ কামড় দেবে, সে ওই বিষে বিষাক্ত হয়ে মরে যাবে!”

আকসার রাগে গা জ্বলতে লাগলো। মেজবাহ ওকে কালনাগিনী বললো! আকসা বিপরীতে কিছু কড়া কথা শোনাতেই যাচ্ছিল, তার আগেই মেজবাহ আচনক ওর হাত ধরে কাছে টেনে নিয়ে আসলো। আচনক এভাবে কাছে টেনে নেওয়ায় আকসা হতভম্ব হলো। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো মেজবাহ’র দিকে। মেজবাহ ওর সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসলো। আকসার পা টেনে নিলো নিজের হাঁটুর ওপরে। আকসা অস্বস্তিতে পড়ে পা টেনে সরিয়ে নিতে চাইলো। মেজবাহ আরো শক্ত করে টেনে ধরে রাখলো ওর পা। এরপর হঠাৎ আকসার সালোয়ারে হাত রাখতেই আকসা মরা গলায় বলে উঠলো, “মেজবাহ—”

“হুশশ!”

আকসাকে চুপ করিয়ে দিলো মেজবাহ। আকসা চুপচাপ মেজবাহকে দেখতে লাগলো। মেজবাহ আকসার সালোয়ারের একবারে নিচে হুকের অংশের এক কোণা থেকে একটা জোক হাত দিয়ে টেনে এনে পাশের বিলে ফেলে দিলো। জোকটা দেখে ঘৃণায় আকসার গা ঘিনঘিন করে উঠলো। চোখ-মুখ কুঁচকে ফেললো ও। জোকটা দেখেই তো কেমন ঠেকছে ওর। আর মেজবাহ কিনা এই বিশ্রী জোকটাকে খালি হাতে টেনে ফেলেছে! লোকটা পারেও বটে!
আকসা অবাক চাহনিতে মেজবাহকে দেখতে ব্যস্ত। এদিকে মেজবাহ উঠে দাঁড়িয়ে আপাদমস্তক একবার ওকে দেখে নিলো।
আকসার পরনে একটা আনারকলি। সালোয়ার চুড়িদার গোছের। ওড়নাটা অর্ধেক ঘাসের ওপরে ঝুলছে। মেজবাহ এবার হঠাৎ নিচু হয়ে আকসার ঝুলতে থাকা ওড়নাটা মাটি থেকে তুলে ভালোভাবে ওর পিঠ থেকে গায়ে জড়িয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, “নাম কি এই ড্রেসের? এমন ছেঁড়া-ফাড়া কেন?”

আকসা বুঝতে পারলো, মেজবাহ আনারকলির পেছনের বড় গলা দেখেই এমন কথা বলেছে। ও জবাব দিলো, “এটাকে আনারকলি বলে। আর এই ড্রেস আপনার ভাষ্যমতে ড্রেস ছেঁড়া-ফাড়া নয়৷ এটাকে স্টাইল বলে।”

“এমন চোখে লাগার মতো ড্রেস-আপ যদি লোক দেখানের উদ্দেশ্যে করে থাকো, তাহলে পরার-ই প্রয়োজন নেই। একেবারেই খুলে ফেলো!”

মেজবাহ’র স্পষ্ট বলা কথাতে আকসার লজ্জায় কান গরম হয়ে গেল। একইসাথে অপমানিত বোধ করলো ও। মেজবাহ ততোক্ষণে কিছুটা সামনে হেঁটে এগিয়ে গেছে। আকসা দ্রুত ওর কাছাকাছি পৌঁছে বললো, “আপনি এমন কথা বলতে পারেন না আমাকে! আমার ড্রেস-আপ নিয়ে আপনার সমস্যা কী? যা খুশি পরবো। আপনি কে বলার? সেনাবাহিনীর জব ছেড়ে পোশাক-বিশেষজ্ঞ হচ্ছেন নাকি?”

কথাটা বলামাত্র আকসাকে টেনে পাশ্ববর্তী নারিকেল গাছের সাথে চেপে ধরলো মেজবাহ। আকস্মিক ঘটনায় আকসা চমকে উঠলো। সন্ধ্যা নেমেছে তখন। আলোকছটা আপাতত আঁধারে ঢেকে গেছে। আকসা গাছের সাথে একেবারে মিশে গেছে। মেজবাহ ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মেজবাহ’র পেশিবহুল হাতদু’টো আকসার কাঁধে শক্তপোক্ত হয়ে আঁটকে আছে তখন। আকসা মেজবাহ’র দিকে ভীত চাহনিতে তাকালো একবার। অন্ধকারেও মেজবাহ’র কঠিন মুখটা স্পষ্ট ঠেকলো ওর কাছে। চাপা স্বরে হিসহিসিয়ে মেজবাহ বললো, “হলাম পোশাক-বিশেষজ্ঞ৷ প্রয়োজনে আরো অনেককিছু হতে পারি। দেখতে চাও তুমি?”

“ন— না।”

আকসা কাঁপা কন্ঠে জবাব দেয়। মেজবাহ’র এই রূপ প্রথম দেখছে ও। ভয়ে, হতবাকে, ঘটনার আকস্মিকতায় আড়ষ্ট হয়ে গেছে ও।

“দু’টো জিনিস আমার চরম অপছন্দ। এক হচ্ছে গালি। গালি দেওয়া মানুষ আমি পছন্দ করি না। কেউ আমার সামনে গালি দিলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। আরেকটা হচ্ছে, খোলামেলা পোশাক। আমার বোনেরাও কখনো এমন পোশাক পরতে সাহস পায় না। কখনো আমার চোখে পরলে মামনিকে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করিয়ে দিই। সেই আমি তো আমার বউকে এমন পোশাকে বরদাস্ত করবো না!”

মেজবাহ কথাটা বলে থামে। নিজেকে শান্ত করতে জোরে শ্বাস টেনে নেয় একবার। আকসা কিছু একটা বলতে যায়। তার আগেই হঠাৎ ওর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ডান গালে শীতল স্পর্শ পেয়ে থমকে গেল আকসা। মাটিতে থাকা পায়ের পাতা শক্ত হয়ে এলো৷ বুকের ভেতর উথাল-পাতাল ঢেউ খেলতে লাগলো। যেন সমুদ্রের অশান্ত ঝড়। মেজবাহ’র একহাত আকসার ডানহাতের বাহুতে। অপর হাত ওর বামগালে। আকসার বামপাশের চুলগুলো সামনের দিকে এসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পরে ছিল মুখের ওপরে। সেই চুলগুলো এই মুহূর্তে মেজবাহ’র হাতের মুঠোয় এলোমেলো হয়ে বন্দী রয়েছে। মেজবাহ সেকেন্ড পঞ্চাশের মাথায় আকসাকে চট করে ছেড়ে দিয়ে হাতঘড়িটা মুখের সামনে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে স্পষ্ট হতেই তাতে সময় দেখে বিরক্তিস্বরে বললো, “শিট! টাইম ওয়েস্ট হয়ে গেল!”

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply