সীমান্তরেখা পর্ব ৯
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
পর্ব_৯
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]
সবাই হতভম্ব। হঠাৎ বিয়ের আসরে বর এমন কথা বলছে কেন? কেউ কিছুই বুঝতে পারছে না। অবাক চোখে একে-অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। আকসার ভাই ওর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। ইফান উঠে ওপাশে গিয়ে মেজবাহ’র কানের কাছে মুখ এগিয়ে নিয়ে নিচু স্বরে উদগ্রীব কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে দোস্ত? কোনো সমস্যা?”
মেজবাহ হাতের সফেদ রুমালটা শুভ্র পাঞ্জাবির পকেটে রেখে গম্ভীর গলায় পাল্টা প্রশ্ন করলো, “আন্টি কোথায়?”
“আম্মু তো ওপাশে। পর্দার আড়ালে।”
“আন্টির সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে।”
“এখন?”
ইফান অবাক হয়ে প্রশ্নটা করতেই মেজবাহ বিনা দ্বিধায় জবাব দিলো, “হ্যাঁ, এখন-ই। কথাটা না বলে বিয়েটা করতে পারবো না। দ্যাটস হোয়াই . . .”
“আচ্ছা, ঠিক আছে। তুই আয় আমার সাথে।”
মেজবাহ ইফানের সাথে উঠে গেল আসর ছেড়ে। আকসা বিপরীত পাশে বসে ছিল ঘোমটা টেনে। কিছু কথা কানে আসছিল ওর। তবে সব কথা স্পষ্ট নয়৷ ও বসে ভাবছে, মেজবাহ’র হঠাৎ কি হলো! বুক ধুকপুক করছে ওর। এমন শুভ মুহূর্তে কোনো অশনি নয়তো?
.
.
আয়েশা বেগম মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে আজ একটা জলপাই রঙের শাড়ি পরেছিলেন। ভীষণ খুশি ছিলেন তিনি। ঠোঁটের কোণ থেকে হাসির রেখা সরছিল-ই না। তবে এখন, এই মুহূর্তে তার ঠোঁটের কোণে সেই হাসির রেখা আর নেই৷ বরং চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। মুখটা কালো হয়ে আছে একদম। মেজবাহ সবে তার সাথে কথা শেষ করে বিয়ের আসরে ফিরেছে। আয়েশা বেগম ইফানকে ডেকে বললেন, কাজীকে যেয়ে বলতে, এখন-ই বিয়ে পড়াতে। ইফান দ্রুত গিয়ে কাজীকে এবার বিয়ে পড়ানোর কথা বললো। মেজবাহ’র মুখ একদম শান্ত। কিছুক্ষণ আগের যেই বিরোধটা ছিল চোখে-মুখে, সেটা এখন আর নেই।
ফুলের পর্দার এপাশ থেকে আকসা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। যাক, কোনো ঝামেলা হয়নি অন্তত।
বিয়ে পড়ানোয় একটু তাড়াহুড়ো করা হলো। যেহেতু অনিচ্ছাকৃতভাবেই একটু দেরি হয়ে গেছে। আকসা ধীরেসুস্থে কবুল বললেও মেজবাহ একনাগাড়ে টানা কবুল বললো।
আকসা অপেক্ষা করছিল মেজবাহ’র জন্য যে, বিয়েটা হওয়া মাত্রই মেজবাহ উঠে এসে ফুলের পর্দা সরিয়ে ওর ঘোমটা খুলে সর্বপ্রথম মুখ দেখবে। তবে এমন কিছুই হলো না। বিপরীত পাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। আকসা একটু অবাক হলো। সবার আগে তো মেজবাহ’র-ই ওর মুখ দেখার কথা। এটাই তো নিয়ম। এমন নয় যে, মেজবাহ এই নিয়মটা জানে না। বরং, খুব ভালোভাবেই জানে। কারণ, আসরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মেজবাহ’র কাজিনদের মধ্যে থেকে কে যেন মেজবাহকে প্রথমে আকসার মুখ দেখার কথা বলেছিল। আকসার পাশে কলি ওর কাঁধে হাত রেখে বসে আছে। কলির পাশেই মুখ দেখার সেই সজ্জিত আয়না এবং নিকাহনামার ফ্রেমটা রাখা রয়েছে। কথা ছিল, বিয়ে শেষে এই আয়নায় নব্য স্বামী-স্ত্রী একসাথে মুখ দেখবে এবং নিকাহনামার ফ্রেমে স্বাক্ষর করবে— যা তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তের সুন্দর সাক্ষী হয়ে থাকবে।
আকসা কলির ওড়নাটা টেনে ধরে ওকে আরো পাশে এগিয়ে এনে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করলো, “মেজবাহ এখনো সামনের পর্দা তুলছেন না কেন কলি? উনি কি শোনেননি পর্দা সরিয়ে মুখ দেখার কথা? সবাই তো এখানে নানান কথা বলাবলি করছে। আমার ভীষণ অকওয়ার্ড ফিল হচ্ছে।”
কলি পরলো বিড়ম্বনায়। হচ্ছেটা কি কিছুই বুঝতে পারছে না ও। প্রথমত, শুরুতেই বিয়ের আসরে এমন একটা বিঘ্ন ঘটলো। ওর হবু দুলাভাই বিয়ে করার আগে আসর ছেড়ে উঠে গিয়ে নিজের হবু শাশুড়ির সাথে কি যে কথা বলে আসলেন, তা কেউ জানে না। শুধুমাত্র আকসার আম্মু, ওর ভাই ইফান এবং মেজবাহ জানেন।
কলি আকসাকে বললো, “দাঁড়া আমি উঠে গিয়ে দেখে আসি।”
কলি দ্রুত উঠে বিপরীত পাশে চলে গেল।
.
.
কলি যখন ফিরলো, তখন ওর কিছুক্ষণ পূর্বেরও হাস্যোজ্জ্বল সেই মুখ বিবর্ণ প্রায়। মুখে একরাশ বিষন্নতার ছাপ। আকসা এতোক্ষণ ওর অপেক্ষাতেই অধীর হয়ে বসে ছিল। কলিকে ফিরতে দেখে কিছুটা থিতু হলো। তবে ওর বিবর্ণ মুখ দেখে চিন্তায় পরলো। কলি আকসার পাশে এসে বসে ওর কানে কানে চাপা স্বরে বললো, “দুলাভাই এখানে নেই আকসা।”
“নেই মানে?”
আকসা আশ্চর্য না হয়ে পারে না। আবারও অবাক কন্ঠে কলিকে জিজ্ঞাসা করে, “নেই মানে? কোথায় উনি?”
“দুলাভাই কোথায় গেছে সেটা অতিথিদের কেউ জানে না। তোর শ্বশুরবাড়ির সবাই টেবিলে আছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে যেতেই দেখি, সবার মুখ থমথমে। তবে কেউ কিছু বললো না। তোর আম্মাকে গিয়ে বললাম। আন্টি আমাকে বললেন, এখন চুপ থাকতে। হয়তো তিনি কিছু জানেন। ইফান ভাইয়াকেও তো আশেপাশে দেখছি না কোথাও।”
আকসা স্থির চাহনিতে তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে। ওর চোখদু’টো একেবারে ভাষাহীন। কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারছে না আপাতত। বিয়ে করেই মেজবাহ যাবে কোথায়? তা-ও আবার আকসাকে না দেখেই!
আকসা এসব ভেবে ভেবেই মাথাব্যাথা করছিল, তখন-ই ভেতর থেকে ওর ডাক পরলো। ছোট খালা এসে বললেন, আকসার মা ওকে নিচে ওর ঘরে ডাকছেন। আকসা কলি এবং খালার সাথে নিচে চলে গেল। অতিথিরা তখনও কানাঘুষা করছে। আকসা আড়চোখে দেখলো তাদের।
.
.
আকসা নিজ ঘরে বিছানায় বসে আছে। সামনে ওর মা আয়েশা বেগম ওর হাতদু’টো মুঠোয় ধরে নিয়ে বসে আছেন। আকসা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মায়ের দিকে। কি যেন বলবেন ওর মা আয়েশা বেগম। তবে দ্বিধান্বিত প্রচুর। এজন্য বলতে পারছেন না। আকসা এবার ওর মায়ের দ্বিধা ভাঙতে নিজেই বলে উঠলো, “তুমি কিছু একটা বলতে চাইছো আম্মু। যা বলবে, বলে ফেলো। পরামর্শ দেবে তো, শ্বশুরবাড়িতে কীভাবে চলাফেরা করতে হবে? দাও। আমারও শিখে রাখা দরকার। অবশ্য তুমি আমাকে খারাপ শিক্ষা দাওনি যে, আমি সেখানে খারাপভাবে চলাফেরা করবো।”
আয়েশা বেগম এবার ছলছল চোখে নত মুখ তুলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বললেন, “পরামর্শ দেওয়ার মতো সময় এখন নয় মা। তোমাকে এখন কিছু ভিন্ন কথা বলবো। শক্ত থেকে শোনো।”
আকসা বুঝতে পারছে না, ওর আম্মু কি এমন কথা বলবেন। কেন সবকিছু এমন অদ্ভুত ঠেকছে! তবু ও শান্ত গলায় বললো, “আমি যে-কোনো পরিস্থিতিতে শক্ত আছি আম্মু। তুমি বলো।”
আয়েশা বেগম এবার হালকা কেশে গলা পরিষ্কার করে বলতে শুরু করলেন, “খেয়াল আছে মেজবাহ বিয়ের আগ মুহূর্তে উঠে গিয়েছিল আসর ছেড়ে?”
“জি আম্মু।”
“আসলে ও আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল।”
“হ্যাঁ সেটা তো জানি।”
“কিন্তু তুমি এটা জানো না, মেজবাহ মূলত আমার সাথে কিছু জরুরি কথা বলতে এসেছিল। এমন কিছু কথা, যা ওই মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য আমার পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দিয়েছিল। আমাকে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিল, তোমার সাথে ওর বিয়েটা হবে কিনা সেই বিষয়ে।”
“কী এমন কথা আম্মু? আমাকেও বলো।”
আকসা ওর মায়ের কথা শুনে ক্রমাগত উদগ্রীব হয়ে উঠছে। ধৈর্যের বাঁধ মানছে না আর৷ আয়েশা বেগম ওকে হতবাক করে দিয়ে বলে চললেন, “আসলে মেজবাহ চট্টগ্রামে চলে গেছে। এতোক্ষণে হয়তো রওয়ানাও দিয়েছে। পথেই আছে বোধহয়। মেজবাহ আমাকে তখন এসে বললো, ‘আম্মু, আপনাকে আম্মু বলেই সম্বোধন করলাম যেহেতু আপনি আমার হবু শাশুড়ি।’ আমি ওকে আশ্বস্ত করতেই ও বললো, ‘আমাকে বিয়ের পরপরই এখান থেকে চলে যেতে হবে আম্মু। জরুরি কল এসেছে এখানে আসার কিছুক্ষণ আগেই। একটা মিশন আছে, সেখানে যেতে হবে। আমাদের মিলিটারি নিয়ম অনুযায়ী, জরুরি তলবে আমাদেরকে অবিলম্বে যেতেই হবে। না গেলে প্রফেশনের ওপরে ইফেক্ট পরবে। আর তাই আমি চাইছিলাম, আপনাকে আগে জানাতে। কারণ, এই মিশন থেকে আমি কবে ফিরবো, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেকটা সময় পার হয়ে যাবে সেখানে। আপনি আকসার অভিভাবক, আপনাকে জানানো আমার দায়িত্ব। তাই সরাসরি আমি-ই এই বিষয়ে আলোচনা করতে আসলাম। আমার ফ্যামিলির কেউ এখনো এই বিষয়ে জানে না। তাদেরকে যাওয়ার আগে জানিয়ে যাব। আমাকে বিয়েটা করেই বেরিয়ে পরতে হবে আম্মু। এখন আপনি কী বলেন?’ — মেজবাহ’র কথাগুলো শোনার পর আমি একমুহূর্ত থমকে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তোমার ভবিষ্যৎ কী হবে? যেখানে তোমার স্বামী তোমাকে বিয়ে করার পর মুখও দেখতে পারবে না, তার আগেই তাকে মিশনে চলে যেতে হবে! তবে আমার দ্বিধা ভাঙলো মেজবাহ’র মুখটা দেখে। এতো ভদ্র, ভালো একটা ছেলে! এতো বিনয় নিয়ে কথা বলতে পারে! আর ও আমাকে এমনভাবে আম্মু বলে ডাকছিল যে, আমি ওকে তৎক্ষণাৎ মনে নিজের ছেলের জায়গা দিয়ে ফেলেছিলাম। তাই আর না করতে পারিনি মা। বিয়েতে মতামত দিয়েছি তখন৷ তোমাকে তখনই জানাতে পারিনি কারণ, ওইরকম সুন্দর একটা মুহূর্তে এই বিষয়টা জানলে হয়তো তোমার মন ভেঙে যেতো৷ তবে এখন তো জানাতেই হতো। তোমাকে এখন একাই স্বামী ছাড়া তোমার শ্বশুরবাড়িতে যেতে হবে৷ কিছু করার নেই মা। একদম নিরুপায় পরিস্থিতি।”
আকসা নিথর চোখে তাকিয়ে আছে ওর মায়ের দিকে। কলি ওকে শক্ত করে ধরে রেখেছে। আকসার চোখ ছলছল করছে। আয়েশা বেগম মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। মেয়ে যাতে শক্ত থাকে, এজন্যই কাঁদছেন না তিনি। কারণ, লোকে বলে— মায়ের কান্না দেখলে মেয়েরাও কাঁদে। একদম বাটারফ্লাই ইফেক্টের মতো।
ওদিকে বাইরে থেকে তাড়া আসছে। সবাই গাড়িতে বসে পরেছে। আকসার জন্য অপেক্ষা করছে তারা। আয়েশা বেগম একটুও কাঁদলেন না আজ। শুকনো মুখে মেয়েকে বিদায় দিতে এগিয়ে গেলেন তিনি।
.
.
বাসর ঘরে একা বসে আছে আকসা। যেই বাসরে আজ মেজবাহ’র সামনে ওর বসে থাকার কথা ছিল, সেই বাসরে আজ একা বসে আছে ও। কত-শত স্বপ্ন ছিল ওর এই দিনটা নিয়ে! সব এক নিমিষে ভেস্তে গেল। মেজবাহ অন্তত ওর মুখটা দেখে যেতে পারতো। বধু সাজে স্বামীর সামনে যাওয়ার স্বপ্নটাও আর পূরণ হলো না আকসার। আকসা এতোক্ষণ কেঁদেছে। হঠাৎ ওর মনে হলো, ও বোকামি করছে। সৈনিকের স্ত্রী’র এমন বোকা কাজে মানায় না। মিশনেই তো গেছে মেজবাহ ইফতেখার। দ্বিতীয় বিয়ে করতে তো যায়নি। মেজবাহ শুধুমাত্র আকসার-ই আছে৷ আর থাকবেও। মেজবাহ যে ওকে ভালোবাসে! এই কথাটা স্মরণ হতেই এতোক্ষণ জমা হওয়া সকল মন খারাপ উবে গেল আকসার। চোখ মুছে ফেললো ও। ঘরের দরজা অর্ধেক ভেজানো। ওর শাশুড়ি ওকে রাতের খাবার খাইয়ে দিয়েছেন। ননদেরা এই ঘরে নিয়ে এসেছে ওকে। ড্রয়িংরুমে মুরব্বিরা বসে সম্ভবত মেজবাহ’র হঠাৎ চলে যাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। আকসা গিয়ে দরজা আঁটকে দিয়ে আসলো।
পুনরায় বিছানায় এসে বসে ফোনটা বের করলো পার্স থেকে। আজ সারাদিনেও আকসা ফোনটা হাতে নেয়নি। ভাগ্যিস ফোনে আজ ডাটা ছিল ওর। সবসময় ওয়াইফাই ব্যবহার করে বলে ডাটাও কেনা হয় না। তবে গতকাল রাতে কি মনে করে যেন কিনেছিল। যাক, সেটা কাজে লেগেছে। সদ্য দ শ্বশুরবাড়িতে এসে তো আর ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড চাওয়া যায় না! আকসার আজ রাতটা যতক্ষণ জেগে থাকবে, ততক্ষণ মুভি দেখেই কেটে যাবে। আকসা ডাটা অন করতেই হুড়মুড় করে মেসেজ নোটিফিকেশন আসতে শুরু করলো। দেখলো, হোয়াটসঅ্যাপে এক ফ্রেন্ড বিয়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছে। আকসা হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে সেই ফ্রেন্ডের মেসেজের রিপ্লাই করে কনভারসেশন থেকে বের হতেই হঠাৎ খেয়াল করলো, নিচের সারিতে মেজবাহ’র আইডির প্রোফাইল ফটো গায়েব। আকসা কৌতূহলবশত ভেতরে প্রবেশ করলো। মেজবাহ কি প্রোফাইল ফটো রিমুভ করেছে? কিন্তু কখন করলো? আকসা তো দুপুর বারোটার দিকেও পুরোনো কনভারসেশন পড়ার সময়ে প্রোফাইলে ফটো দেখেছে। মেজবাহ’র জলপাই রঙা টি-শার্ট পরিহিত ফটো ছিল একটা। আকসা হঠাৎ কি মনে করে যেন মেজবাহকে মেসেজ করলো একটা। লিখলো— “আছেন?”
কিন্তু মেসেজটা সেন্ট হলো না! আকসা হতভম্ব হলো এক মূহুর্তের জন্য। লোকটা কি অনলাইনে নেই? মিশনে আছে নাকি?
আকসা তবুও প্রথমে বুঝলো না। ওর মন মানছিল না। তবুও কি মনে করে মেজবাহ’র নাম্বারে কল দিলো। ফোন ব্যস্ত বলছে! আকসার এবার পুরোপুরি খটকা লাগলো একটা। ওর মন মানতে চাইলো না। ও মেজবাহ’র নাম্বারটা ওর সেই ফ্রেন্ডকে দিয়ে বললো, “হোয়াটসঅ্যাপে নাম্বারটা সেভ করে দ্যাখ তো প্রোফাইল ফটো আছে কিনা।”
ওর সেই ফ্রেন্ড মিনিট খানেকের মধ্যে রিপ্লাই করলো, “হ্যাঁ আছে দোস্ত। কেন? কে এই লোক?”
আকসা রিপ্লাই করলো না। রিপ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই ও। মেজবাহ ওকে ব্লক করেছে! সত্যিই ব্লক করেছে! আকসার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। অবিশ্বাস্য ঠেকছে। কেন করলো মেজবাহ এমন? কেন? কেন? আকসার তবু মনে হলো, মেজবাহ বোধহয় মিশনে আছে, এই কারণে ওকে ব্লক করে রেখেছে। আকসা নিজের মনকে উল্টোপাল্টা বুঝ দিতে লাগলো। তবুও মনে শান্তি পাচ্ছে না ও। ওর আরেকটা সিম ছিল ফোনে। আকসা সেই সিম দিয়ে আরেকটা হোয়াইটঅ্যাপ আইডি খুললো তৎক্ষনাৎ। এরপর সেখানে মেজবাহ’র নাম্বার উঠিয়ে সেভ করে মেসেজ দিলো ওকে। শুধু লিখলো, “মেজবাহ।”
মেসেজ সঙ্গে সঙ্গে সেন্ট হলো৷ তারমানে মেজবাহ অনলাইনে আছে। মিনিট খানেক পরে মেসেজ সিন হয়ে রিপ্লাই আসলো, “জি, কে?”
“আকসা বলছিলাম।”
“ওহ!”
শুধু ‘ওহ!’ এটা কেমন রিপ্লাই! আকসা ভেবে পেল না। ও উদগ্রীব হয়ে লিখলো, “ব্লক কেন করেছেন আমাকে?”
“আ’ম বিজি নাউ। পরে কথা বলছি।”
আকসার মনে হলো, মেজবাহ ওকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। তবু ও থামলো না। পুনরায় টেক্সট করলো, “আপনি আগে বলুন, ব্লক কেন করেছেন আমাকে? মিশনে গিয়েছেন তাই? আমাকে বলে যেতে পারতেন না। অপেক্ষায় ছিলাম আপনার। কবে ফিরবেন আপনি?”
আকসা মেসেজটা লেখার পর তৎক্ষনাৎ সিন হলো না৷ মিনিট পাঁচেক পরে সিন হলো৷ এতোক্ষণ আকসা ফোনের দিকে উদগ্রীব হয়ে চেয়ে ছিল। টেক্সট সিন হওয়ার পরপরই একটা মেসেজ আসলো। আকসা মেসেজটা দেখে হতভম্ব হলো। মেসেজে শুধুমাত্র পাঁচটি বাক্যে লেখা রয়েছে— “দেয়ার ইজ নো গ্যারান্টি দ্যাট আই’ল এভার রিটার্ন।
ফ্রম মাই সাইড, আ’ম গিভিং ইউ কমপ্লিট ফ্রিডম।
লিভ ইয়োর লাইফ বিউটিফুলি, উইদাউট ওয়েটিং ফর মি। ইট’স বেটার নট টু হোপ ফর মাই রিটার্ন—
ডোন্ট লেট দ্যাট হোপ লিভ ডার্ক সার্কেলস বেনিথ ইয়োর আইজ। আই ডোন্ট ওয়ান্ট মাই অ্যাবসেন্স টু কার্ভ ডার্ক সার্কেলস আন্ডার ইয়োর আইজ।”
চলবে
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৫
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২০
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৪
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৩
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৬
-
সীমান্তরেখা পর্ব ২
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৫
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২৩(সমাপ্ত)
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৩