সমম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৭ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
পরদিন সকাল বেলা চৌধুরী বাড়ি যেন একটা জমজমাট মেলা। চারদিকে সাজ সাজ রব আর মানুষের গুঞ্জন। সবাই যার যার পছন্দমতো দামী পোশাক পরে তৈরি হচ্ছে রাজকীয় বিয়েবাড়িতে যাওয়ার জন্য। রিদিও তৈরি হয়েছে। একদম সাদামাটাভাবে সবার ভিড়ে নিজেকে মিশিয়ে নিয়েছে সে। তার ভেতরটা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক কষ্টে সে নিজের মুখটাকে পাথরের মতো শান্ত রেখেছে। সে মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে আজ বিয়েবাড়ি থেকে ফিরে সে কাঁদবে। অনেক কাঁদবে। ততক্ষণ কাঁদবে যতক্ষণ না বুকের এই চিনচিনানি ব্যথাটা একটু শান্ত হয়।
কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো যার বিয়ে সেই বরেরই কোনো পাত্তা নেই। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চলল অথচ শুভ্রর রুমের দরজা এখনো খোলেনি। সোহান চৌধুরী কয়েকবার গিয়ে দরজায় কড়া নেড়েছেন কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসেনি। মেহমানরা সব রেডি। অনেকে তো গাড়িতে গিয়ে বসেও পড়েছে। বাড়ির আত্মীয়স্বজনরা হলরুমে বসে অপেক্ষা করছে। রিদি। শুভ্রা। পাখি আর মিহিদের সাথে এক কোণায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। কারও মুখে কোনো কথা নেই। সোহান চৌধুরী হলরুম জুড়ে অস্থিরভাবে পাইচারি করছেন। তার গম্ভীর মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তিনি কতটা রেগে আছেন। রাগে তার কপালটা কুঁচকে আছে।
অনেকক্ষণ পর অবশেষে শুভ্র রুম থেকে বের হলো। শুভ্রকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখেই শুভ্রা উত্তেজিত হয়ে চিল্লিয়ে উঠল।
“ওই তো ভাইয়া আসছে।”
সবাই একযোগে সিঁড়ির দিকে তাকাল। কিন্তু পরক্ষণেই উপস্থিত সবাই যেন একটা বড়সড় শক খেল। যেখানে শুভ্রর পরনে থাকার কথা জমকালো শেরওয়ানি সেখানে সে একটা সাদা ধবধবে সাধারণ শার্ট আর নীল ট্রাউজার পরে নামছে। চুলগুলো হালকা ভেজা যা কিছুটা অবাধ্যভাবে তার কপালের ওপর লেপ্টে আছে। তার চোখেমুখে কোনো উত্তেজনা নেই বরং এক অদ্ভুত আর রহস্যময় প্রশান্তি খেলা করছে।
শুভ্র সোজা নিচে নেমে কারো দিকে একপলকও না তাকিয়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টেনে বসল। তারপর সাহেরা চৌধুরীর উদ্দেশ্যে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল।
“আম্মু। খুব খিদে পেয়েছে। খেতে দাও।”
পুরো হলরুমে এক পিনপতন নীরবতা নেমে এল। সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। বিয়ের লগ্ন পার হয়ে যাচ্ছে? বরযাত্রী যাওয়ার সময় হয়ে গেছে? আর বর এখন খেতে চাইছে? তাও আবার এই সাদামাটা পোশাকে। সাহেরা চৌধুরী কথা বাড়ালেন না। তিনি তড়িঘড়ি করে শুভ্রর সামনে খাবার বেড়ে দিলেন। শুভ্র যেন চারপাশের এই হাহাকার আর উত্তেজনা থেকে অনেক দূরে সে বেশ আয়েশ করে নিঃশব্দে খেতে লাগল। এতক্ষণ সোহান চৌধুরী দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সামলে রাখলেও শুভ্রর এই চরম নির্লিপ্ততা দেখে তিনি আর ধৈর্য ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি হনহন করে শুভ্রর পাশে এসে দাঁড়ালেন এবং কর্কশ কণ্ঠে ধমক দিয়ে বললেন।
“শুভ্র। তুই কি ছোট বাচ্চা যে তোকে বুঝিয়ে বলতে হবে বিয়ের দিন বরের কী করতে হয়? হোয়াট ইজ রং উইথ ইউ? আমরা সবাই যে এখানে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছি সেটা কি তোর চোখে পড়ে না? তোর আজ বিয়ে আর তুই এত স্বাভাবিক আচরণ করছিস কীভাবে?”
বাবার একনাগাড়ে ধেয়ে আসা এতগুলো প্রশ্নের মুখেও শুভ্র একটুও ঘাবড়াল না। সে খুব ধীরস্থিরভাবে তার প্লেট থেকে এক লোকমা মুখে তুলে নিল। তারপর বাবার দিকে না তাকিয়েই অত্যন্ত শান্ত স্বরে বলল।
“আব্বু। আপনিই তো শিখিয়েছেন খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই।”
শুভ্রর এমন ঠান্ডা আর যুক্তিনির্ভর জবাবে সোহান চৌধুরী এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। তার চোয়াল শক্ত হয়ে এল। তিনি আবারও গর্জে উঠে বললেন।
“শুভ্র। তুই ভুলে যাচ্ছিস আজ তোর বিয়ে?”
শুভ্র এবার কোনো উত্তর দিল না। সে নির্বিকার চিত্তে খাবার চিবোতে লাগল। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে সাহেরা চৌধুরী তাড়াতাড়ি সোহান চৌধুরীর কাছে এসে নরম সুরে বললেন।
“আপনি একটু শান্ত হোন। ও খাওয়া শেষ করেই রেডি হতে যাচ্ছে।”
সোহান চৌধুরী আর কথা বাড়ালেন না। তিনি চরম বিরক্তি নিয়ে সোফায় ধপ করে বসলেন। শুভ্র তখনো নিজের জগতেই আছে চারপাশের এই হুলস্থুল যেন তাকে স্পর্শই করছে না। সে নিরুদ্বেগ চিত্তে খেয়ে যাচ্ছে। তুর্য শুভ্রর এমন অদ্ভুত আর অতি-স্বাভাবিক আচরণ দেখে আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারল না। সে বিড়ালের মতো টিপটিপ পায়ে এগিয়ে এসে শুভ্রর একদম পাশে দাঁড়াল। তারপর ফিসফিস করে কিন্তু বেশ রসিয়ে বলল।
“সিরিয়াসলি ভাই। বিশ্বাস কর জীবনে এমন কুল বর আমি আর একটাও দেখি নাই। তুই একমাত্র বর যে কিনা নিজের বিয়ের দিন দুপুর পর্যন্ত নাক ডেকে ঘুমাস আবার সবাইকে রেডি করিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখে নিজে এখন আয়েশ করে লাঞ্চ করছিস? হ্যাভ সাম সেম ম্যান। বাহ ভাই বাহ তুই সেরা।”
শুভ্র এক পলক আড়চোখে তুর্যের দিকে তাকাল। শুভ্রর সেই বরফশীতল আর তীক্ষ্ণ চাহনি দেখা মাত্রই তুর্য একদম চুপসে গেল। সে মনে মনে ভাবল ‘বাপরে। এ তো জ্যান্ত যমরাজ।’ তুর্য আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পেল না। সোহান চৌধুরীর বিরক্তি যখন চরমে ঠিক তখনই তার পাঞ্জাবির পকেটে থাকা ফোনটা সজোরে বেজে উঠল। তিনি ফোন বের করে স্ক্রিনে নম্বরটা দেখেই সাহেরা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে রাগে গরগর করে বললেন।
“এই যে। খান বাড়ি থেকে ফোন এসেছে। নিশ্চয়ই তারা গেটে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এদিকে তোমার গুণধর ছেলে এখানে যমরাজের মতো বসে বসে গিলছে। যেন আজ তার বিয়ে নয় অন্য কারও।”
কথাটা বলেই তিনি কড়া মেজাজে কলটা রিসিভ করলেন। কিন্তু ফোনের ওপাশ থেকে নেহার বাবা নাইম খানের কোনো রাগী কণ্ঠ নয় বরং অত্যন্ত অসহায় আর ভেঙে পড়া কণ্ঠ ভেসে এল। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন।
“ভাই সাহেব। কোন মুখে যে আপনাদের সামনে দাঁড়াবো তা ভেবে পাচ্ছি না। আসলে নেহা পালিয়ে গেছে। সে একটা চিঠি লিখে জানিয়ে গেছে যে সে অন্য কাউকে ভালোবাসে শুভ্রকে সে বিয়ে করতে পারবে না। আই অ্যাম সো সরি ভাইসাব আমাদের মাফ করে দেন। আমরা সত্যি লজ্জিত।”
মুহূর্তের মধ্যে সোহান চৌধুরীর পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সোহান চৌধুরী কিছু বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই ওপাস থেকে খট করে কলের লাইনটা কেটে গেল। তার ফ্যাকাশে মুখ আর পাথরের মতো বসে থাকতে দেখে ইকবাল এহসান দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্বেগের সাথে বললেন।
“কী হলো ভাইসাব? কোনো প্রবলেম?”
সোহান চৌধুরী যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি অস্ফুট স্বরে কাঁপা গলায় বললেন।
“নেহা পালিয়ে গেছে। সে শুভ্রকে বিয়ে করবে না।”
সোহান চৌধুরীর মুখ থেকে এই কথাটি বের হওয়া মাত্রই পুরো হলরুমে যেন একটা শক্তিশালী বোমা ব্লাস্ট হলো। উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত কারও মুখে কোনো ভাষা নেই। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন অথচ কনে নেই। সবার মাঝে যদি কেউ একদম নিস্পৃহ থাকে সে হলো শুভ্র। সে তার খাওয়া শেষ করে হাত মুছে ধীরস্থিরভাবে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াল। আশেপাশে কী হচ্ছে কার সম্মান যাচ্ছে এসব নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথাই নেই। সে সোজা ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা রিদির দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে হুকুমের সুরে বলল।
“রিদি। আমার রুমে আয়।”
কথাটা বলেই শুভ্র আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। কারো কোনো প্রশ্নের সুযোগ না দিয়ে সে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে গেল। শুভ্রর এই অদ্ভুত আচরণ আর নেহার পালিয়ে যাওয়ার খবর সব মিলিয়ে চৌধুরী বাড়ির পরিবেশ এখন থমথমে।
এদিকে রিদি শুভ্রর হঠাৎ এমন ডাকে একদম কুঁকড়ে গেল। তার আত্মা কেঁপে উঠল বললেও কম বলা হবে। এই পরিস্থিতির মাঝে শুভ্র তাকে হঠাৎ কেন ডাকল? তবে মনে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি যেন রিদির সারা শরীরে বয়ে যাচ্ছে। নেহা পালিয়ে গেছে। তার মানে আজ আর বিয়ে হচ্ছে না? বউ ছাড়া তো আর বিয়ে সম্ভব না। এই আনন্দটা যেন বাঁধ মানছে না রিদির মনে। তার এখন ইচ্ছে করছে খুশিতে হাত-পা ছুড়ে নাচতে। কিন্তু শুভ্রর সেই গম্ভীর ডাকটা মাথায় আসতেই তার সবটুকু আনন্দ আবার ভয়ে রূপ নিল।
লন্ডন মানেই এক মায়াবী কুয়াশা আর ঝিরঝিরে বৃষ্টির শহর। চারদিকে ভিক্টোরিয়ান আমলের কারুকাজ করা পাথুরে দালান আর তার মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে টেমস নদী। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেই আইকনিক লাল রঙের দোতলা বাস আর টেলিফোন বুথ। আকাশে সবসময় একটা ধূসর মেঘের খেলা চলে যা শহরটাকে এক অদ্ভুত রাজকীয় আভিজাত্য আর রহস্যময়তায় মুড়িয়ে রাখে।
লন্ডনের সেই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরটা এখন এক ধ্বংসস্তূপ। নেহা যেন এক উন্মাদিনী। তার ড্রয়িংরুমের দামী ফুলদানি ল্যাপটপ এমনকি দেয়ালের পেইন্টিংগুলোও রেহাই পায়নি। সে সব আছড়ে আছড়ে ভাঙছে। কাল রাতেই সে জান বাঁচিয়ে ফ্লাইটে করে লন্ডনে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু এখানে এসেও তার বুকের জ্বালাটা কমছে না। যাকে পাওয়ার জন্য সে হন্যে হয়ে উঠেছিল যার জন্য সে সবকিছু বাজি রেখেছিল সেই শুভ্রকে হাতের মুঠোয় পেয়েও এভাবে হেরে গেল। ভাবতে গেলেই নেহা বাঘিনীর মতো হুঙ্কার দিয়ে উঠছে।
কিছুক্ষণ পর রুমের দরজা ঠেলে ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকল এক যুবক। ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট শরীরটা উন্মুক্ত। আয়নার মতো দুধের মতো ফর্সা তার গায়ের রঙ আর সেই সুগঠিত বুক ও পিঠ জুড়ে আঁকা রয়েছে বিচিত্র সব জটিল ট্যাটু। পরনে কেবল একটা ঢিলেঢালা শর্ট প্যান্ট। এই যুবকটি আর কেউ নয় নেহার বড় ভাই আরহাম খান নির্ভান। লন্ডনের অন্ধকার জগতের একচ্ছত্র অধিপতি সে পুরোদস্তুর এক মাফিয়া। নেহা এই বিপদে সব ফেলে তার এই ভয়ংকর ভাইয়ের কাছেই আশ্রয় নিয়েছে।
নির্ভান এক হাতে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে অন্য হাতে ফ্রিজ থেকে বের করা এক ক্যান ঠান্ডা কোক নেহার দিকে বাড়িয়ে দিল। নেহার বিধ্বস্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত অথচ ভারী গলায় সে বলল।
“কুল ডাউন নেহা। নে এটা খা। মাথাটা একটু ঠান্ডা কর।”
নেহা লাল টকটকে চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ক্যানটা ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে চিৎকার করে বলল।
“মাথা কীভাবে ঠান্ডা করব ভাইয়া? শুভ্র আমাকে অপমান করেছে! ও আমাকে গু খেতে বলেছে! আই কান্ট টলারেট দিস!”
নির্ভান কোকটা বেশ জোর করেই নেহার হাতে ধরিয়ে দিল। তারপর সোফায় আয়েশ করে বসে সিগারেটে লম্বা একটা টান দিল। ধোঁয়াটা কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরের দিকে উড়িয়ে দিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল।
“জানিস নেহা? কোনো কিছু করার আগে একদম এক্সাইটেড হতে নেই। নেভার গেট ইমোশনাল বিফোর আ ডিল। তুই আগে কোকটা খা মাথা ঠান্ডা কর। তারপর সব আমাকে খুলে বল।”
নেহা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতেই কোকের ক্যানে চুমুক দিল। তার চোখ দিয়ে তখনো রাগের আগুন ঝরছে। নির্ভান সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল।
“শুভ্র। নাইস নেইম। আমার বোনটার মন কেড়েছে একটা চোর। চুরির ফল তো তাকে দিতেই হবে। হি হ্যাজ টু পে ফর দিস।”
কথাটা বলেই নির্ভান সরাসরি নেহার চোখের দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করল।
“তুই এই শুভ্রকে চিনিস কীভাবে? হাউ ডিড ইউ মিট হিম?”
নেহা কোকটা টেনে শেষ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।
“চৌধুরী গ্রুপের অফিসের CEO সে। আগে সোহান আঙ্কেল বসতেন আমি ড্যাডের সাথে অফিসে গেলে শুধু ওনাকেই দেখতাম। কিন্তু হঠাৎ একদিন গিয়ে দেখি আঙ্কেলের জায়গায় তার ছেলে বসে আছে। তখনই জানতে পারি ওটাই আঙ্কেলের একমাত্র ছেলে সাইফান শুভ্র চৌধুরী। প্রথম দেখা থেকেই ওকে আমার ভালো লেগে যায়। এক কথায় বলতে পারো আমি ওকে ভালোবাসি ভাইয়া। আমার যেইভাবেই হোক শুভ্রকে চাই। আই ওয়ান্ট হিম অ্যাট এনি কস্ট।”
নির্ভান কিছু একটা গভীর চিন্তা করল। তার ট্যাটু আঁকা আঙুলগুলো সিগারেটের ফিল্টারে খেলা করছে। সে হঠাৎ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল।
“তোর তো বিয়ে হতে যাচ্ছিল। সব তো সেটেল্ড ছিল। তাহলে হঠাৎ শুভ্র তোর সাথে এমন কী করল যার জন্য তোকে ওভাবে সব ফেলে পালিয়ে আসতে হলো? হোয়াট হ্যাপেন্ড জাস্ট বিফোর দ্য ওয়েডিং?”
রিদি নেহার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটা ভাবতে ভাবতে নিজের রুমে এল। তার মাথায় এখন হাজারো প্রশ্নের মেলা। নেহা কেন পালিয়ে গেল? কাল পর্যন্ত তো মেয়েটাকে এই বিয়ে নিয়ে বেশ উত্তপ্ত আর খুশিই দেখেছিল তাহলে হঠাৎ এমন কী হলো? পরক্ষণেই সে নিজের মনকে মনে মনে একটা বড়সড় ধমক দিল। ‘আরে ধুর। নেহা কেন পালিয়েছে সেটা দিয়ে আমার কী কাজ? পালিয়েছে এটাই তো মেঘ না চাইতেই জল। আমার শুভ্র ভাই অন্তত ওই ডাইনির হাত থেকে বেঁচে গেল।’ ভাবতেই রিদি খুশিতে আত্মহারা হয়ে সোজা বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পড়ল। কোলবালিশটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বিছানায় গড়াগড়ি খেতে খেতে সে বিড়বিড় করে বলতে লাগল।
“উফ কী যে আনন্দ লাগছে। শুভ্র ভাই ও আমার শুভ্র ভাই। ও আমার প্রিয়দর্শন পুরুষ। তোমালে এত্তু এত্তু আলাবু।”
রিদি যেন খুশিতে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। সে চট করে উঠে গিয়ে রুমের দরজাটা লক করে দিল। তারপর ফোন থেকে একটা দেহাতি চটুল গান বের করে ভলিউম একদম বাড়িয়ে দিয়ে উরাধুরা নাচতে লাগল। তার মনে হচ্ছে বুকের ওপর থেকে যেন হিমালয় পাহাড় সরে গেছে।
ফোনে তখন তারস্বরে গান বাজছে।
~ বরিশালের লঞ্চে উইঠা লইবো কেবিন রুম,আহ্ বন্ধুরে~ ~মোর বুকে লইয়া দিবো একটা ঘুম, ঠাইসা দিবো একটা ঘুম~
রিদি গানের তালে তালে কোমড় দুলিয়ে নাচছে আর ভাবছে যাক আপদ বিদায় হয়েছে। কিন্তু সে ভুলেই গেছে যে কয়েক মিনিট আগেই শুভ্র তাকে নিজের রুমে ডেকে পাঠিয়েছে।
রানিং…!
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬০
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৭
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭১