শেষপাতায়সূচনা [৪৭.২]
সাদিয়াসুলতানামনি
রাত পৌনে একটায় আহমেদ ম্যানশনের পেছনের দরজা দিয়ে বাসার ভেতরে জাওয়াদকে প্রবেশ করতে সাহায্য করে আরিয়ান। আরিয়ান স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেও জাওয়াদ ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে পা টিপে টিপে হাঁটছে। তাছাড়া ধরে পড়ে গেলোও বা কি? তার চাচা শ্বশুর একদম মাটির মানুষ। তার ছেলে আরিয়ানই তো তাকে সাহায্য করলো ভেতরে প্রবেশের জন্য।
বাকি রইলো, তার অভিমানী বউ পূর্ণতা আর হাতুড়ে ডাক্তার নওশাদ। জাওয়াদ নওশাদকে ব্যঙ্গ করে নাম দিয়েছে হাতুড়ে ডাক্তার। নওশাদকে সে থোরাই কেয়ার করে। শুধু ভয় পায় বউটাকেই। তার মিষ্টি, শান্তশিষ্ট বউটা তাকে এই মুহূর্তে এখানে দেখলে গার্ড ডেকে নিজে দাড়িয়ে থেকে তাকে বের করাবে বাসা থেকে।
তারা দু’জনই দোতলায় চলে আসে। জাওয়াদ পূর্ণতার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে, আর আরিয়ান চলে যায় নিজের রুমে। জাওয়াদ বুকে হালকা ভয়ের রেশ নিয়ে হাত বাড়িয়ে দরজার নবটা মুচড়ে দেয়। কিন্তু দরজা খুলে না। সে আরো একবার তাই করে। এবারও সে ব্যর্থ হয় দরজাটা খুলতে। জাওয়াদ বুঝতে পেরে যায় পূর্ণতা দরজা ভেতর থেকে লক করে ঘুমিয়েছে। এই পর্যায়ে জাওয়াদের একটু বিরক্ত লাগে। বউটা তার বেশি সেয়ানা।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জাওয়াদ আবারও বেলাজের মতো ছুটে যায় শালার কাছে। আরিয়ানকে তার সমস্যার কথা জানাতেই সেও সাথে সাথে তা সমাধান করতে লেগে যায়। তাদের বাড়ির স্টোররুমে বাড়ির সবগুলো রুমের ডুপ্লিকেট চাবি থাকে। সেই স্টোররুমটাও আবার সিকিউর রাখতে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। এবং সেই রুমের চাবি সকলের কাছেই রয়েছে। আরিয়ানের কাছে থাকা স্টোররুমের চাবিটা দিয়ে রুমটা খুলে সে ভেতরে প্রবেশ করে। তারপর পূর্ণতার রুমের চাবি খুঁজে বের করে রুমটা তালা লাগিয়ে তারা আবারও যে যার উদ্দেশ্যে চলে যায়।
জাওয়াদ মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে চাবিটা পূর্ণতার রুমের লকে প্রবেশ করায়। সে ভয় পাচ্ছে, যদি শুধু লক না করে ছিটকিনিও লাগিয়ে রাখে পূর্ণতা, তাহলে তাদের এত কষ্ট মাঠে মা”রা পড়বে। কিন্তু ভাগ্য এবার তার প্রতি সদয় হয়। চাবি দিয়ে মোচড় দিতেই লক খুলে যায়। জাওয়াদ খুশি হয়ে ঝটপট রুমের ভেতরে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেয়।
দরজাটি আস্তে বন্ধ করে পেছনে ফিরতেই জাওয়াদের ভেতরে জমে থাকা দীর্ঘক্ষণকার অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা আর চিন্তার ঘন কুয়াশা যেন মুহূর্তেই কর্পূরের মতো মিলিয়ে গেল। তার দৃষ্টিজোড়া ভরে উঠল এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে। ভালোবাসার কোমল, শীতল পরশে স্নিগ্ধ হয়ে উঠল মনটা।
কিং সাইজ বেডের মাঝখানে তার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় দুটি মানুষ গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন। পূর্ণতার বুকের সাথে ছোট্ট চড়ুই পাখির মতো লেপ্টে আছে তাজওয়াদ। নির্ভার, নিশ্চিন্ত, মায়াময় এক দৃশ্য।
জাওয়াদ বরাবরের মতো কিছুক্ষণ আগে চোখের তৃষ্ণা মেটায় তাদের দু’জনকে দেখে। তারপর পকেট থেকে ফোন বের করে ফটাফট বেশ কিছু ছবি তুলে তার স্ত্রী-সন্তানের। এমনটা সে সবসময়ই করে, যখন রাতে এমন লুকিয়ে-চুরিয়ে এদের দেখতে আসে। আর এসব তোলা ছবিগুলো সে তার বিষন্নময় রাতগুলোতে দেখে সময় পাড় করে।
ছবি তোলা শেষ হতেই জাওয়াদ পা টিপে টিপে হেঁটে বেডে চলে আসে। তারপর তাজওয়াদের দিকে ঝুঁকে তার কপালের একপাশে কোমল অথচ দৃঢ় এক স্নেহময় ঠোঁটের স্পর্শ দিয়ে বিরবিরিয়ে বলল–
—”মাই প্রিন্স, শুভ জন্মদিন আমার সোনা বাচ্চা। উইশ ইউ অ্য মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্নস অফ দা ডে। অনেক বড় হও, মানুষের মতো মানুষ হও, পৃথিবীর সকল সফলতা তোমার ঝুলিতে এসে জমা হোক বাবা।”
জাওয়াদ একটু থামে। তারপর ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে–
—”এবারের জন্মদিনে এমন লুকিয়ে চুরিয়ে উইশ করছি বলে রাগ করো না বাবা। ইনশা আল্লাহ সামনের বছর তোমার মাম্মার সাথে থেকেই তোমাকে সবার আগে উইশ করবো।”
জাওয়াদ আরো একবার তাজওয়াদের মাথায় চুমু দেয়। তারপর তার পাশ থেকে সরে চলে আসে নিজের প্রিয়তমার কাছে। আরিয়ানের থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছে, পূর্ণতা কাল রান্না-বান্নার সকল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে বলে কাল সকাল সকালই উঠবে বলেছে। এজন্য আজ তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছে। পূর্ণতার ঘুম পাতলাও না, আবার আহামরি ভারীও না। জাওয়াদ সাহস করে তার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে। একটু পর আস্তে আস্তে নিজের একটি হাত তুলে দেয় পূর্ণতার উপর। পূর্ণতার কোন নড়নচড়ন নেই দেখে সে নিজেদের নৈকট্য আরেকটু বাড়ায় এবং একপর্যায়ে নিজের মুখ গুঁজে দেয় পূর্ণতার কাঁধে।
প্রাণভরে পূর্ণতার কোমল দেহের মাতাল করা সুবাস নিজের মাঝে টেনে নেয় জাওয়াদ। কিছুক্ষণ পর পর ছোট ছোট আদরও দিয়ে বসে তাঁকে। সে তার কাজে এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিল যে, প্রায় হুঁশ হারিয়ে ফেলেছিল। জাওয়াদ নিজের পাগলামি থেকে একটু বিরতি নিয়ে ঘুমন্ত পূর্ণতার কানের লতির পেছনে ঠোঁট ঠেকিয়ে বলল–
—” এত আদুরে একটা বউকে আগে পাশে নিয়ে ঘুমাতাম, তাও কাছে টানতাম না। কেমনে ভাই? কেমনে এত ধৈর্যশীল ছিলাম আমি? ছ্যাহ্! শেইম অন মি। একে দেখলেই তো মন চায় দিনের বেলাতেই রুমে রাত নামিয়ে এনে আদরে আদরে ভরিয়ে দেই।
আল্লাহ, বউটার মনটা কোমল করে দাও আগের মতো মাবুদ। সে যাতে সকল মান-অভিমান ভুলে গিয়ে আমাকে আরেকটা সুযোগ দেয়। আমার তাজওয়াদকে যেন সামনের জন্মদিনে একটা বোন গিফট করতে পারি।”
জাওয়াদ নিজের মতো বিরবিরায় আরো কতক্ষণ। আনমনেই গেয়ে ওঠে দুই লাইন,
“তোকে একার দেখার লুকিয়ে কি মজা,
সে তো আমি ছাড়া কেউ জানে না।
তোকে চাওয়ারা পাওয়ারা নয়ত সোজা,
সে তো আমি ছাড়া কেউ জানে না।”
এমনই উদ্ভট সব কাজ করতে করতে একসময় ক্লান্ত দেহ-মন নিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে সে নিজেও টের পায় না।
অন্যদিকে নিজের কাঁধে জাওয়াদের ভারী নিঃশ্বাসের আভাস পেতেই পূর্ণতা চোখ মেলে তাকায়। তার ঘুম তখনই ভেঙে গিয়েছিল যখন জাওয়াদ তার পাশে এসে শুয়েছিল। তারপর তো জনাব কত ধরণের কাজই করলো। এতসবের পরও কেউ ঘুমাতে পারে?
পূর্ণতা মাথাটা অল্প একটু নুইয়ে দেখে জাওয়াদের হাতটা তার কোমড়ের উপর। সে কিছুক্ষণ তার কোমড়ে থাকা জাওয়াদের হাতটার দিকে তাকিয়ে থাকে। তারপর আস্তে করে হাতটা সেখান থেকে সরিয়ে এনে তাজওয়াদের উপর রাখে এবং পরবর্তীতে নিজেও তার হাতের উপর হাত রেখে চোখ বন্ধ করে নেয়।
রাজধানীর আভিজাত্যপূর্ণ এক এলাকায় কয়েক যুগ আগে নির্মিত আহমেদ ম্যানশন আজও তার রূপ-যৌলুষে কারণে অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সেই সাথে বাড়িটি বুঝায়, এর নির্মাতা কতটা রুচিশীল ও সৌখিন ছিলেন। সেই বাড়িটি আজ বেশ কয়েক বছর পর খুশিতে মেতে উঠেছে। আহমেদ পরিবারের ছোট পুত্র মরহুম আফজাল সাহেবের একমাত্র কন্যার পুত্র তাজওয়াদ আহমেদ আদরের জন্মদিন উপলক্ষেই এই খুশির রব।
বাসার মানুষদের নিয়েই দিনটি কাটানোর প্ল্যান করা হলেও, পূর্ণতা টুকটাক করে সাজাতে সাজাতে বেশ আকর্ষণীয় ভাবেই সাজিয়ে তুলেছে আহমদের ম্যানশনের ড্রয়িংরুমটি। তার এই কাজে অবশ্য সাহায্য করেছে তার দুই ভাই ও এক বন্ধু। তারা হলো– আরিয়ান, টনি ও নওশাদ।
ড্রয়িংরুম সাজানো হয়ে গেলে পূর্ণতা সামান্য বিশ্রামটুকু না নিয়েই ছুটে আবার কিচেনে। সাদা ভাত, কাচ্চি, রোস্ট, বিফ রেজালা, ডিমের কোর্মা, ডেজার্টে ফিরনি ও একমাত্র ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে তার হাতের বানানো কেক। আহনাফ সাহেব ও মি.শেখ কাচ্চি খান না তাই তাদের জন্য সাদা ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবই সে নিজ হাতে করবে বলে ঠিক করেছে।
এতগুলো রান্না সে নিজেই রাধবে, এই কথা শুনে যদিও বাকিরা তাকে নিষেধ করে এত রান্না একা না করতে, কিন্তু তার জেদের কাছে হার মেনে যায়। তার কথা, আমার ছেলের জন্মদিন বছরে একবারের জন্যই আসে। সেইদিনটাও যদি নিজের অসুস্থতার কথা ভেবে হাত গুটিয়ে বসে থাকি, তাহলে নিজের কাছেই কেমন ছোট হয়ে যাবো। পূর্ণতাকে এসব রান্নায় সাহায্য করার জন্য মালতী কাকী ও সকাল সকালই আরওয়া চলে এসেছে।
ফিরনি বানানোর জন্য যাবতীয় জিনিস আরওয়াকে একটু গুছিয়ে দিতে বলে, পূর্ণতা রোস্ট রান্না শুরু করে। দুপুর বারোটা বাজতে চলেছে। ছেলেকে গোসল করিয়ে আবার খাওয়াতেও হবে। রোস্ট রান্না শেষ করে পূর্ণতা চটজলদি উপরে গিয়ে তাজওয়াদকে গোসল করিয়ে দেয়। তারপর খাইয়ে আবারও রান্নায় লেগে যায়।
তিনটার দিকে তার সব রান্না শেষ হয়ে যায় ভালোভাবে। কেকটা শাওয়ার নিয়ে এসে ঠান্ডা মাথায় বানাতে বসবে বলে ঠিক করে পূর্ণতা। তার প্ল্যান অনুযায়ী বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে তার সব রান্নাবান্না শেষ হয়ে যায়। আরওয়া ফ্রেশ হয়ে আসলে তার সাথে বসে নিজেও অল্পকিছু খেয়ে নেয়। তারা যখন খেতে খেতে কথা বলছিল, তখনই সেখানে উপস্থিত হয় আরিয়ান। তার কাঁধের উপর বসে আছে তাজওয়াদ। দু’জনে হৈহৈ-রৈরৈ করতে করতে সেখানে আসে। কিন্তু পূর্ণতার সাথে আরওয়াকে দেখে আরিয়ান নিমিষেই শান্তশিষ্ট লেজ বিশিষ্টের চরিত্র ধারণ করে ফেলে। এই অসময়ে এদের দু’জনকে খেতে দেখে আরিয়ানের কপালে ভাজ পড়লেও সে এই বিষয়ে কিছু বলে না।
আরিয়ান আরওয়ার থেকে চোখ সরিয়ে পূর্ণতাকে উদ্দেশ্য করে বলে–
—”বোনু, তোর ছেলেকে বলেছি, আয় আমরা দুই মামা-ভাগ্নে রেডি হয়ে ফটোসেশান করি কতক্ষণ। তোর ছেলে আমার কাছে রেডি হতেই রাজি হচ্ছে না। আমি নাকি তার মান-সম্মান সব দেখে ফেলবো। সে নাকি তার মায়ের কাছেই রেডি হবে। তুই ওকে কিছু বলবি?”
আরিয়ানের কথা শুনে আরওয়া খেতে খেতেই ফিক করে হেঁসে দেয়। যার ফলে খাবার তার তালুতে উঠে যায় আর আরওয়া কাশতে থাকে। আরিয়ান তাড়াতাড়ি করে তাজওয়াদকে নিজের কাঁধের উপর থেকে নামিয়ে টেবিলের কাছে এসে আরওয়ার গ্লাসে পানি ভরে দেয়। তার গ্লাসটা খালি হয়ে গিয়েছিলো বলে বেচারি পানি খেতেও পারছিল না এমন একটা অবস্থায়। আরিয়ান আরওয়ার মাথার তালুতে ফু দিতে থাকে। পানিটা খেয়ে আরওয়ার কাশি একটু কমতেই আরিয়ান তার থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ায়।
পূর্ণতা এতক্ষণ তাদের দু’জনকে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছিল। বলাবাহুল্য, আরওয়া এখনও তার কোন উত্তর আরিয়ানকে জানায়নি। আরিয়ানও সেই বিষয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি বা কথা বলেনি। আরিয়ান আরওয়াকে সময় দিচ্ছে এবং নিজেকেও মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে আরওয়ার উত্তর শোনার জন্য।
আরিয়ানা আওয়ার থেকে নজর সরিয়ে পূর্ণতা বলে–
—”থাক ভাইয়া, ও যখন লজ্জা পাচ্ছে তখন আর জোর করো না। পরে কাঁদবে। আমিই ওকে রেডি করিয়ে দিবো।”
আরিয়ান আর দ্বিরুক্তি করে না পূর্ণতার কথায়। তাজওয়াদকে নিয়ে যেভাবে হইহই করে এসেছিল, সেভাবেই হইহই করতে করতে চলে যায়। তারা দু’জন যেতেই পূর্ণতারা আবারও খেতে শুরু করে। খাওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে পূর্ণতা হঠাৎই আরওয়াকে জিজ্ঞেস করে–
—”ভাইয়াকে নিয়ে কি ভাবলে?”
পূর্ণতার প্রশ্ন শুনে আরওয়ার চলতে থাকা হাতটা থেমে যায়। সে অবুঝ দৃষ্টি নিয়ে তার দিকে তাকালে পূর্ণতা বলে–
—”আরিয়ান ভাইয়াকে নিয়ে কি ভাবলে?”
পূর্ণতা তাদের বিষয়টা জানে বুঝতে পেরে আরওয়ার চোখ জোড়া বড় বড় হয়ে যায়। সে কণ্ঠে বিস্ময় নিয়ে সুধায়–
—”আপনি জানেন আমাদের বিষয়ে?”
পূর্ণতা শান্ত গলায় উত্তর দেয়–
—তোমার সাথে আরিয়ান ভাইয়া কথা বলে আসল যেদিন, সেদিন থেকেই জানি।
—”ওহ্হ।”
—”তো কি ভাবে আমার ভাইকে নিয়ে? সুযোগ দিবে কি দিবে না? দেখো আমার ভাই শুরু থেকেই বিভ্রান্তি ও ধোঁকার মধ্যে ছিলো। তুমি তো সব আমার থেকে ভালোই জানো। নিশ্চয়ই বুঝবেও সব।”
—”আমি আসলে একটু কনফিউজড। আপনাদের স্ট্যাটাসের সাথে আমাদের স্ট্যাটাস যায় না ম্যাম। সমাজ কি বলবে যদি আমি আরিয়ান স্যারকে বিয়ে করি? তখন তো আমার চরিত্রে আঙ্গুল তুলবে সকলে। বলবে, টাকার লোভে পড়ে আমি তাকে বিয়ে করেছি।”
—”সমাজ আমাদের খাওয়ায় না, পড়ায়ও না। সমাজের গুটিকয়েকের কাজই অন্যের সুখ দেখে জ্ব”লা। আর স্ট্যাটাসের কথা বললে, সংসার স্ট্যাটাস মিলিয়ে করা যায় না। সম স্ট্যাটাসের কাপলদের কি ডিভোর্স হচ্ছে না? তারা যদি এতই সুখী হতো স্ট্যাটাসে স্ট্যাটাস মিল হওয়ার পরও, তাহলে তাদের ডিভোর্স কেন হচ্ছে?
আসলে সংসার হয় আন্ডারস্ট্যান্ডিং, বিশ্বাস, ভালোবাসা আর কিছুটা স্যাক্রিসাইফ দিয়ে। আমার মতে, সংসারে করতে গেলে স্ট্যাটাস এতটা ম্যাটার করে না, যদি স্বামী-স্ত্রী দু’জনই একে অপরের প্রতি সন্তষ্ট থাকে এবং ভালোবাসে।”
আরওয়া পুরোটা সময় চুপ করে পূর্ণতার কথাগুলো শুনে। পূর্ণতার কথাগুলো আরওয়ার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করতে সহায়তা করে।
খাওয়া শেষ করে আরওয়া তার জন্য বরাদ্দকৃত রুমে এসে পড়ে রেস্ট নেওয়ার জন্য। আজ সন্ধ্যায় পার্টিতে পরার জন্য ড্রেসও নিয়ে এসেছে নিজের সাথে। একটু পর রেডি হবে। আরওয়া তার ফোনটা হাতে তুলে নেয়। দেখতে পায় সেখানে কিছুক্ষণ আগেই আরিয়ানের করা একটা মেসেজ উঠে রয়েছে। মেসেজটা দেখে আরওয়ার বুকের ধুকপুকানি বৃদ্ধি হয়ে যায়। আরিয়ান মেসেজে লিখেছে, “আজ তাজওয়াদের কেক কাটিংয়ের পর বাগানে আসবে। আমি তোমার উত্তর জানতে চাই।”
সন্ধ্যার পরপর দিয়ে সকলে রেডি হয়ে একে একে জড়ো হতে শুরু করে ড্রয়িংরুমে। জাওয়াদরাও এসে পড়েছে। মিসেস শেখের শরীরটা হুট করে খারাপ করায় মি. শেখ আসতে পারেনি নাতনির জন্মদিনে।
সন্ধ্যা সাতটায় পূর্ণতা আর তাজওয়াদ রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে। পূর্ণতা যখন তাজওয়াদের হাত ধরে নিচে নামছিল তখন সর্বপ্রথম তার উপর নজর পড়ে নওশাদের। সে তাদেরকে দেখেই কিছুটা উঁচু গলায় বলল–
—ঐ তো আমাদের বার্থডে বয় এসে পড়েছে।
তার কথা শুনে সবাই সিঁড়ির দিকে তাকায়। জাওয়াদও বাকিদের মতো সেদিকে তাকালে এক মুহুর্তের জন্য থমকে যায়। আজ পূর্ণতা ও তাজওয়াদ ম্যাচ করে ড্রেস পরেছে। পূর্ণতা ওশান গ্রীণ কালারের একটা গাউন পরেছে। মুখে বরাবরের মতোই লাইট মেক-আপ করেছে। তার ডানহাতে রোলেক্সের লেডিস ওয়াচ। চুলগুলো খোঁপা করে রেখেছে।
আর তাজওয়াদ পরেছে হোয়াইট শার্ট তারউপরে ওশান গ্রীণ কালারের কোর্ট । আর কোর্টের কালারের সাথে ম্যাচ রেখে প্যান্টও পরেছে। দুই মা-ছেলেকে এত সুন্দর আর স্নিগ্ধ লাগছে যা বলার মতো না।
পূর্ণতারা নেমে আসতেই আরিয়ান আর টনি গিয়ে তাজওয়াদের কা””টার জন্য কেক নিয়ে আসে। প্রতিবার তাজওয়াদ মায়ের হাতে হাত রেখে কেক কাটে। কিন্তু এবার কেক কাটিং করার সময় সকলকে অবাক করে দিয়ে তাজওয়াদ জাওয়াদকে ডেকে ওঠে–
—ভালো আঙ্কেল, আসো আমাল কাছে আসো।
জাওয়াদ তার কাছে এগিয়ে গেলে তাজওয়াদ নিজে তার ডান হাতটা তুলে নিয়ে নিজের হাতের উপর রাখে। তারপর সেভাবেই কেক কাট করে। পূর্ণতা ও জাওয়াদসহ সবাই অবাক হয়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। সকলে যেমন অবাক হয় তেমনই খুশিও হয়। আরিয়ান আর জিনিয়া তো ধপাধপ ফোনে ছবি তুলতে থাকে মুহূর্তটার। কেক কাটা শেষে তাজওয়াদ পূর্ণতাকে কেক খাওয়ানোর পর জাওয়াদকে খাইয়ে দেয়। প্রতিবার সে কেক কাটার পর পূর্ণতাকে খাওয়ানোর পর নওশাদকে খাওয়াত। কিন্তু এবার নওশাদের জায়গায় জাওয়াদকে খাওয়ালো। পরে অবশ্য নওশাদকে খাইয়েছে কেক।
একে একে সকলকে কেক খাওয়ানোর পর সবাই তাজওয়াদকে অনেক অনেক গিফট দেয়। একমাত্র পূর্ণতা বাদ রয়ে যায়। আরিয়ান দুষ্টুমি করে বলে–
—কিরে বোনু, রান্নাবান্না করতে করতে কি তাজের জন্য গিফট কিনতেই ভুলে গিয়েছিস নাকি? নাহলে তোর গিফট কই?
পূর্ণতা শান্ত গলায় বলে–
—আমি আমার ছেলের জন্য যেই স্পেশাল গিফট রেখেছি তা কোথাও কিনতে পাওয়া যায় না।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
শব্দসংখ্যা~২০৫৩
চলব?
[পূর্ণতার স্পেশাল গিফট কি গেস করেন তো সকলে?
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪৬.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪০.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১১