মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব_অন্তিম
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
অনেকক্ষণ ধরে রাস্তার বাতাস চুল উড়িয়ে গেছে, শহরের আলো পিছনে পড়ে ছিল রেখার মতো—অবিরাম। বাইকের গতি থেমে থেমে রাতের নিস্তব্ধতায় মিশে যেতে লাগলো। কুহেলি আবরারের পিঠে মাথা রেখে বসেছিল, দুই হাত শক্ত করে জড়িয়ে আর আবরার রাইডিং করতে করতে মাঝে মাঝে পিছনে তাকিয়ে হেসে দিচ্ছিল। বাড়িতে ফিরতে ফিরতে দু’জনেই ক্লান্ত—কিন্তু এ ক্লান্তিতে একটা তৃপ্তি ছিল, এক ধরনের নরম সুখ।
হলরুমে ঢুকতেই কুহেলি পা গুটিয়ে সোফায় বসলো—মুখে রাগ দেখিয়ে বললো,
“ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড আমার এখানে ভালো লাগছে না। চলুন না বাংলাদেশ চলে যাই। নিশ্চই শায়লা আর ফেটিক্স ভাইয়া আমাদের মিস করছে।”
আবরার ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে কুহেলির কপালে নরম চুমু এঁকে দিলো।
“আমার ওয়াইফি যা বলবে ঠিক তাই হবে।”
সুরটা আশ্বাসের, তার চেয়েও বেশি—স্বত্বের।
কুহেলি মুচকি হেসে ফেললো—চোখের কোণে ছোট্ট উজ্জ্বলতা, যেন পুরোনো শঙ্খের মতো আলো করে উঠলো। তার হাসিটা দেখে আবরারের বুকটা ভরে গেল।
~~
তিনদিন পর….!!
বাংলাদেশে ফিরেই জীবনের গতি যেন হঠাৎ অন্যদিকে মোড় নিলো। ফেটিক্স অনেকদিন ধরেই কথার মাঝেই বিয়ের কথা ফেলে দিতো—হালকা রসিকতা, হালকা গুরুত্ব। আর সেই কথাই একদিন রূপ পেল। শায়লা আর ফেটিক্সের বিয়েটা হয়ে গেছে—গুছানো, তাড়াহুড়ো ছাড়া, কিন্তু হৃদয়ভরা।
শায়লা লাজুক হাসিতে বউ, ফেটিক্স একটা নতুন গাম্ভীর্যে স্বামী—যেন জীবনের নতুন দায়িত্ব বুকের ভেতর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এদিকে কুহেলি বসে ছিল বেলকনিতে—গোধূলি পার হয়ে রাতের দিকে আলো নেমেছে। নয়টা বাজে। বাহিরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক যেন পুরো প্রকৃতিকে আরেক রকম সুরে বেঁধে ফেলেছে।
চাঁদের আলো উজ্বল—বেলকনির রেলিং আর দোলনায় নরম ঝিলিক পড়ছে। এ আলোয় কুহেলি আরও নরম লাগছিল, আরও চুপচাপ, যেন ভেতরে ভেতরে কিছু চিন্তা জেগে উঠছে।
আবরার আস্তে হেঁটে এসে কুহেলির পাশে দোলনায় বসলো।
আবরার দোলনায় বসতেই কুহেলি যেন শব্দে অস্তিত্ব চিনে ফেললো। না তাকিয়েই উঠে এসে আবরারের বুকে মাথা রাখলো—এত স্বাভাবিক, এত আপন, যেন বহুদিনের অভ্যাস। আবরার একটু আঁতকে গেলো—এই মেয়েটা এভাবে কাছে এলে তার ভেতরের সব কঠিনপনা নরম হয়ে যায়।
কুহেলির মাথার ওপর হাত রাখলো সে—সযত্নে, ধীরে, যেন ভয় হচ্ছে কোথাও আঘাত লাগবে।
দোলনা আস্তে আস্তে দুলছে চাঁদের আলো কুহেলির চুলে মিশে রুপার ঝলক দিচ্ছে।
বেলকনির বাইরে শহর নীরব, কিন্তু তাদের ভেতরের পৃথিবী অদ্ভুতভাবে শান্ত। একটু পর আবরারই নরম গলায় বললো
জানো পাখি..! আমার জীবনে তোমাকে পেয়ে আমি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। কুহেলি নড়লো না—মাথা আগলে রাখলো ঠিকই। আবরার কথা থামালো না, জানি আমাদের শুরুরটা ছিল একদম অন্যরকম! মানুষের মতো না—যেন যুদ্ধে জয় করার মতো। আমি জোর করে তোমাকে নিজের করেছি। জোরে, রাগে, হুমকিতে সব দিয়ে।”
কুহেলির চোখ বন্ধ—নিঃশ্বাসের শব্দ ধীরে ওঠানামা করছে। আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
“কিন্তু আমার এতে আফসোস নেই, পাখি।
কারণ কোনো ভুল করিনি আমি। তোমাকে নিজের করে ঠিকই করেছি। ভুল হলে হয়তো তোমাকে হারাতাম কিন্তু সঠিক বলেই আজ তুমি আমার এভাবে পাশে।”বলে কুহেলির কপালে ঠাণ্ডা চুমু এঁকে দিলো।
কুহেলি এবার ধীরে মাথা তুলে তাকালো আবরারের চোখে। তার চোখে পানি নেই, কিন্তু সেই পানিহীন চোখেই যেন হাজারটা অনুভূতি ভালোবাসা, ভয়, কৃতজ্ঞতা—সব একসাথে জমে আছে। কুহেলি নরম গলায় বললো,
আমিও তো একটা উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কাছে এসেছিলাম..! তারপর যখন জানতে পারলাম আপনি আমার মা বাবার খুনি না তারপর থেকেই আপনার প্রতি আমার অনুভূতি বদলে গেলো।
জানিনা কখন আপনি আমার অভ্যাস পরিণত হয়ে গেলেন। আবরার নিঃশব্দ—চোখ নামিয়ে শুনছে শুধু। “আপনাকে ছাড়া আমি অসহায় হয়ে যাই। ভাগিস আপনার সাথে দেখা হয়েছিলো
নয়তো আমি কখনো বুঝতেই পারতাম না
আমাকেও কেউ এতোটা ভালোবাসতে পারে।”
“আপনি সত্যিই আমার জীবনকে ধন্য করেছেন আবরার। আমি আপনাকে অনেক… অনেক….
অনেক ভালোবাসি—ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড।”
শব্দগুলো এত কাছে থেকে বের হলো যে আবরারের বুকে সরাসরি লাগে। আবরার যেন আচমকা চমকে গেলো—যেন কেউ তার বুকের ভেতর গোপনে লুকানো জায়গায় হাত রেখে দিয়েছে।
আবরার হালকা হাসলো। তার চোখে সেই চিরচেনা দুষ্টুমি—কিন্তু কন্ঠটা আশ্চর্য নরম,
এতো বেশি বলো না পাখি। না হলে আমি অতিরিক্ত সুখেই মরেই যাবো।”
কুহেলি মুচকি হেসে ঠোঁট কামড়ালো।
“আমার প্রেমে ডুবিয়ে আপনাকে মেরেই ফেলবো ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড।”
আবরার বাঁকা ঠোঁটে হাসি চেপে বললো,
“ডুবা তো কবেই গেছি। আর মারতে চাইলে কোনো দ্বিধা নেই—আমি রাজি।”
কুহেলি এবার গুরুতর হলো না, কিন্তু চোখ দুটো অদ্ভুত শান্ত। “ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড… আমার একটা জিনিস চাই।”
আবরারের চোখে ঝলক খেললো,“বলেই দেখ পাখি তোমার পায়ের সামনে এনে ফেলবো।”
কুহেলি এক মুহূর্ত নীরব।
হালকা বাতাস চুল উড়িয়ে দিতে লাগলো।
চাঁদের আলো বেলকনির রেলিংয়ে চকচক করছিলো। তারপর খুব ধীরে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললো, “আমার… বেবি চাই।”
আবরার কুহেলির চুলে আঙুল চালিয়ে বললো,
কিন্তু তুমি তো এখনো পুরো সুস্থ না, পাখি!
আগে ভালো হও, তারপর না হয় আমি বেবি দিবো তোমাকে।
কুহেলি আর এক সেকেন্ডও ভাবলো না ঝট করে বলে ফেললো, না! আমার এখনই বেবি চাই..!
বলেই নিজের মুখ টেনে আবরারের বুকে লুকিয়ে ফেললো। কি থেকে কি বলে ফেলেছে—নিজেই বুঝতে পারলো না। গাল দুটো টকটকে লাল।
আবরারের হাসির শব্দে পুরো নীরব বেলকনি হালকা কেঁপে উঠলো। বেবি করে তো আকাশ থেকে পড়বে না, পাখি! তার জন্য প্রসেসিং লাগে!
আর আমার বউ তো দেখি ভয়ঙ্কর ফাস্ট—এইটা তো জানতাম না!
কুহেলি লজ্জায় আরও গভীরভাবে মুখ লুকালো।
“চুপ করেন… লজ্জা লাগছে।”
আবরার খুব ধীরে দু’হাত দিয়ে কুহেলিকে আগলে ধরলো এতটা কাছে যেনো দম একসাথে ওঠানামা করছে। তারপর দুষ্টামি কন্ঠে বললো, বাহ্.. আমার বউটা আবার লজ্জাও পায়! বিশ্বাসই হচ্ছে না।
কুহেলি ছোট্ট গলায় ফিসফিস করলো,
“হু..”
আবরার এবার শব্দ করে হেসে উঠলো—তার সাথে কুহেলিও আর চাপতে পারলো না, চুল ঝাপটাতে ঝাপটাতে হাসলো। বেলকনির দোলনা ধীরে দুলছে, চাঁদের আলো দুজনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে—সাদা আলোয় ভিজে গেছে কুহেলির চুল, আবরারের চোখে পড়েছে শান্তির ছায়া। চুপচাপ রাতটা যেনো সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—মাফিয়ার রক্তমাখা জীবনের মাঝেও দুজন মানুষের একেবারে নিখাদ ভালোবাসার।
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৮+স্পেশাল
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮