মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_২৯
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
ভোর পাঁচটা।
শহর তখনো আধো-অন্ধকারে ডুবে, পাখিরাও ঠিকমতো ডাকেনি।
শায়লা গভীর ঘুমে ছিল। হঠাৎ করে ফোনের তীক্ষ্ণ রিং তাকে চমকে উঠাল। সে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল চোখ আধখোলা মুখে বিরক্তি স্পষ্ট।ফোন টা কানে ধরে বললো,
কে রে এতো সকালে বিরক্ত করতেছে..!খেয়ে দিতে কাজ নাই—ভোর পাঁচটায় ফোন!বিরক্তির সাথে ঘুমের রেশ মিশে গিয়ে কথাগুলো আরও বেশি তীব্র শোনাল।
ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর, ঠাণ্ডা, একদম অপরিবর্তিত স্বর ভেসে এলো—এই মেয়ে কী ভাষায় কথা বলছো তুমি?এভাবে কেউ কথা বলে?
শায়লা মুহূর্তেই চুপ। ঘুমের ঘোর যেন চোখ থেকে উধাও হয়ে গেল। কণ্ঠটা ফেলিক্সের।তার গলা সবসময়ই গভীর কিন্তু আজকে অদ্ভুত রকমের কঠিন।
তাড়াতাড়ি বাড়ির বাইরে বের হও।তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।
শায়লার বুক ধক করে উঠল। সে তো একদমই বুঝতে পারছে না কী হয়েছে।শ্বাস আটকে এলো, তারপর কাঁপা কন্ঠে বললো,
আপনি এ.. এখানে এতো সকালে..?!
ওপাশ থেকে কোনো নরমতা আসেনি। বরং আগের মতোই কঠিন, নির্দেশনা দিয়ে বললো,
আমি যা বলেছি তাই করো।তাড়াতাড়ি নিচে নামো।তারপর একটুও সময় না দিয়ে ফেটিক্স ফোন কেটে দিল।
স্ক্রিন নিভে গেলে শায়লা নিজের হাতের কাঁপুনি টের পেল।ভোরের ঠাণ্ডা বাতাসে জানালার কাঁচ হালকা কেঁপে উঠছে।
ফেলিক্সের কথাগুলো শোনার পর শায়লার আর দেরি করার সুযোগ নেই।মনে ভয় আর অজানা দুশ্চিন্তা গুছিয়ে বসে আছে, তবু সে তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে ঢুকে মুখে পানি দেয়,হাতের কাছে যা পায় তাই পরে নেয়। চোখের নিচে ঘুমের ছাপ।
দ্রুত পায়ে নিচে নেমে আসে শায়লা।
বাড়ির সামনের গেটের কাছে কালো গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে—হেডলাইট বন্ধ,কিন্তু গাড়ির ঠাণ্ডা ধাতব শরীরটাতে ভোরের কুয়াশা জমে রয়েছে।
ফেলিক্স গাড়ির পাশে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে। তার মুখে আগের মতোই সেই কঠোর, নড়াচড়াহীন অভিব্যক্তি।
শায়লা যেন মুখ খুলে কিছু বলার আগেই ফেলিক্স এক ধাপ এগিয়ে এসে দরজা খুলে শুধু বলল,
বসো।
কোনো প্রশ্নের বা ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।হঠাৎ তার মধ্যে এমন এক ধরণের তাড়া যা শায়লাকে আরও বেশি ভয় ধরিয়ে দিল।
সে চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসে, আর ফেলিক্স কোনো শব্দ না করে দরজা বন্ধ করে নিজের সিটে গিয়ে বসে।স্টার্ট বাটনে হাত পড়তেই ইঞ্জিন গর্জে ওঠে। ভোরের নিস্তব্ধতার সঙ্গে সেই শব্দ যেন অদ্ভুতভাবে বেমানান।
গাড়ি রাস্তায় উঠতেই শায়লা অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে আস্তে বলে,
আমরা কোথায় যাচ্ছি?
ফেলিক্স চোখ সোজা সামনে রেখে, ঠাণ্ডা স্বরে বলল,
চুপ করে বসে থাকো। বেশি কথা আমার পছন্দ না।
এক মুহূর্তের জন্যও সে শায়লার দিকে তাকায় না।
সেই কঠিন গলা, সেই নির্দেশমূলক ভঙ্গি শায়লার বুকের ভেতরটা আরও কেঁপে ওঠে।
সে আর কোনো প্রশ্ন করে না।শুধু চুপচাপ সিটে সোজা হয়ে বসে, জানালার বাইরে তাকিয়ে দ্রুত পাল্টাতে থাকা রাস্তাগুলো দেখতে থাকে,
গাড়ি কোথায় যাচ্ছে জানে না,কিন্তু আজ ভোরটায় কিছু একটা বদলে গেছে—ফেলিক্সের চোখে, আর তার নিজের ভাগ্যেও।
প্রায় আধা ঘণ্টার নীরব যাত্রার শেষে গাড়িটি ধীরে ধীরে থেমে গেল।শায়লা জানালা দিয়ে তাকাতেই শ্বাস আটকে যায়—সামনেই দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল পাহাড়। ভোরের আলোতে পাহাড়ের গা হালকা সাদা কুয়াশায় ঢেকে আছে,যেন আকাশের সঙ্গে মিশে গেছে।
সময় তখন ৫টা ৩০।
চারপাশে ঠান্ডা হাওয়া, পাখিরা মাত্র ডাকাডাকি শুরু করেছে।
ফেলিক্স কোনো কথা না বলে গাড়ি থেকে নামে।
তারপর শায়লার পাশে এসে দরজা খুলে দেয়।
একটি শব্দও না করে সে শায়লার হাত ধরে তাকে নামিয়ে আনে—তার হাতের শক্তি আর দৃঢ়তা শায়লার অজানা ভয়ের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে মিশে যায়।
শায়লা কিছু বলার আগেই
ফেলিক্স তাকে আচমকা কোলে তুলে নিল।
শায়লা হকচকিয়ে যায়।
এই! এভাবে..? আমাকে কোলে নিচ্ছেন কেনো..?!
ফেলিক্স কোনো উত্তর দেয় না।কোলে নিয়েই পাহাড়ের খাড়া পথ ধরে উঠতে শুরু করে।
পাহাড়ের নুড়িপাথর চাপা পড়ে ক্রঞ্চ শব্দ করছে, আর ফেলিক্সের নিঃশ্বাসও যেন তার আগের মতোই স্থির।
শায়লা মিনমিন করে বলে,
এতো উপরে আপনি আমাকে নিয়ে উঠতে পারবেন না। আপনার কষ্ট হবে।
ফেলিক্স তার দিকে তাকালও না, বরং দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
আমি কি বলেছি যে আমার কষ্ট হচ্ছে?
শায়লা ছোট্ট করে মাথা না করে।
ফেলিক্স আবার বলল,
তাহলে চুপ করে থাকো।
তার গলা কঠিন, অথচ সেই কঠোরতার নিচে একটা অজানা উদ্বেগ যেন লুকিয়ে আছে।শায়লা সেটা বুঝতে পারে না,শুধু নিজের বুকের ধকধকানি বাড়তে শুনতে পায়।
ফেলিক্স কোনো বিরতি না নিয়ে আরো উঁচুতে উঠতে থাকে।শায়লার হাত আঁকড়ে আছে ফেলিক্সের শার্টে—আর ফেলিক্সের দৃঢ় পা পাহাড়ের ওপর উঠতে উঠতে যেন বলছে—সে আজ কিছুতেই থামবে না।
ফেলিক্স ধীরে ধীরে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আসে।
হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছে,দূরের গাছগুলো কুয়াশায় মিলিয়ে যাচ্ছে।চূড়ায় রাখা পুরোনো কাঠের একটি বেঞ্চের সামনে এসে সে থামে, তারপর খুব যত্ন করে শায়লাকে সেখানে বসায়।
শায়লা তখনো ভয়ে-হতবুদ্ধিতে তাকিয়ে আছে।
ফেলিক্স তার পাশে গিয়ে বসে,দু’জনের মাঝে নিঃশ্বাসের দূরত্ব পর্যন্ত নেই—তবে তারা চুপচাপ।
উপরে আকাশ ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠছে ভোরের প্রথম আলো দিগন্ত ভেদ করে উঠছে।চারপাশের নীরবতার মধ্যে শুধু বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ।
অনেকক্ষণ পর ফেলিক্সের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে
তোমাকে এখানে আনার একটা কারণ আছে।
শায়লা তাকায় ওর দিকে।
ফেলিক্সের চোখে সেই কঠোরতা আগের মতোই আছে, কিন্তু আজ তার ভেতরে অন্য কিছু
অমোঘ, অচেনা, অস্বস্তিকর।
ফেলিক্স আবার বলে,
হয়তো তুমি বলবে আমি আমার স্বার্থে তোমাকে এনেছি।হয়তো অন্য উপায়েও কাজটা আদায় করতে পারতাম..!
তারপর ফেটিক্স একটু থেমে শায়লার দিকে ঘুরে তাকাল,
কিন্তু আমি তোমার সাথে সেভাবে করতে চাই না।
আমি চাই তুমি সবটা জানো নিজের চোখে, নিজের মন দিয়ে।
শায়লার ভ্রু কুঁচকে যায়।
হাওয়া তার চুল উড়িয়ে দিচ্ছে, তার বুক ধকধক করছে।
ধীরে, সতর্কভাবে সে জিজ্ঞেস করে—
আপনি… আমার কাছে আসলে কী চান?
ফেলিক্স গভীরভাবে দীর্ঘশ্বাস টেনে নিল।ভোরের আলো তার মুখের কঠোর ছায়াকে আরও গাঢ় করে তুলল।তারপর ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল,
গতকাল যা হয়েছে তোমার জানা দরকার।
শায়লা নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে।
ফেলিক্স বলতেই থাকে—ফাহিম কিভাবে কুহেলিকে কিডন্যাপ করেছিল,কিভাবে আবরার পাগলের মতো পুরো দেশ চষে বেড়িয়েছে,কিভাবে কুকুর, বডিগার্ড, হেলিকপ্টার—সব কিছু নিয়ে সে মরিয়া হয়ে কুহেলিকে খুঁজেছে,আর শেষমেশ তাকে পেয়ে আবরার কেমন ভেঙে পড়েছিল আবার কেমনটা খুশি হয়েছিল।
শায়লার মুখ ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে আসে।
তার চোখ বিস্ফারিত—
আমার ভাই..!? এগুলো করেছে…!?
শব্দগুলো যেন তার গলা দিয়ে বেরোতেই চাইছে না।ভোরের শীতল বাতাসেও তার হাত কেঁপে উঠল।
ফেলিক্স শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
জানি বিশ্বাস করা কঠিন।
জানি তোমার খুব খারাপ লাগছে।
কিন্তু সত্যিটা এটাই, শায়লা।
কিছুক্ষণের নীরবতা।
শায়লা চোখ বন্ধ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে।
শায়লা বুদ্ধিমান এটা ফেলিক্স জানে।
এবার শায়লা চোখ খুলে দৃঢ় গলায় বললো,
ঠিক আছে।আমার ভাইয়া ঠিক কি করেছে—তা আমার কাছ থেকেই জানতে হবে। ভাইয়া কে ডেকে আনতেই হবে।
ফেলিক্স নীরবে মাথা নাড়ল।
শায়লা এবার দাঁড়িয়ে পড়ে, যাওয়ার প্রস্তুতি নিল
টেনশন করবেন না। আমি ওনাকে ডেকে আনব।
তারপর শায়লা উঠে যেতে নিলে ঠিক তখনই ফেলিক্সের হাত বিদ্যুতের মতো উঠে এসে শায়লার কব্জি চেপে ধরে।
শায়লা চমকে পিছনে তাকায়।
ফেলিক্সের দৃষ্টি এবার আর গম্ভীর নয় হাওয়ায় ভেসে থাকা আগুনের মতো কিছু একটা ঝলসে উঠছে তার চোখে।
এত সহজে যেতে দেব ভেবেছো…!?
তার স্বর নিচু, গভীর
অদ্ভুত রহস্যময়।
~~
সকালের কোমল সূর্যের আলো পর্দার ফাঁক গলে রুমে ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে।সোনালি আলো এসে থেমেছে আবরারের মুখে।আবরার ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই প্রথম যে দৃশ্যটা চোখে পড়ল,তা হলো কুহেলি।
ছোট্ট বিড়ালছানার মতো মুড়ে থাকা,খুব নরমভাবে তার বুকের ভেতর ঢুকে ঘুমাচ্ছে।বিশ্বের সব কঠোরতা,সব গর্ব—এই মুহূর্তে যেন ধুলোর মতো উড়ে গেল আবরারের ভেতর থেকে।
আবরারের ঠোঁটে অজান্তেই একটুখানি হাসি ফুটে ওঠে।
ইস এই মেয়েটাকে এতো ভালো লাগে কেন?
মনের গভীর থেকে নীরবে কথাটা উঠে আসে।
কুহেলির নিঃশ্বাস আবরারের বুক ছুঁয়ে আসছে,
চুলগুলো এলোমেলো হয়ে তার গালে লেগে আছে।
আবরার আলতো করে তার ঠোঁট ছুঁয়ে দিল কেবল এক চিলতে স্পর্শ,যেন সকালের আলোকে একটু ছুঁয়ে দেখল।
কুহেলি নড়েচড়ে উঠল।
পিটপিট করে চোখ খুলে আবরারের দিকে তাকাল
অর্ধেক ঘুমে ভরা নরম কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল
গুড মর্নিং মাফিয়া কিং।
আবরারের বুকের কোথাও যেন কিছু দপ করে উঠল।এই মেয়ের ঘুমজড়ানো স্বরেও যাদু আছে বুঝতেই পারে না ওকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে।
আবরার মিষ্টি হেসে কুহেলির কপালে আলতো ছোঁয়া দিল।
গুড মর্নিং পাখি।
কুহেলির ঠোঁটে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল।রুমের আলো, তাদের দৃষ্টি, আর নিঃশব্দ সকাল সব মিলিয়ে যেন নিখুঁত এক শান্ত মুহূর্ত তৈরি হলো দু’জনের ভেতরে।
কিছু ক্ষণ পর কুহেলি দুই চোখ আধখোলা রেখেই ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমাকে আদর করছিলেন,তাই না..?
আবরারের ঠোঁটে সেই চেনা, নরম কিন্তু দুষ্টামি ভরা হাসিটা ফুটে উঠল।এক হাত দিয়ে কুহেলির কোমর জড়িয়ে ওকে আরও কাছে টেনে নিলো।একদম কাছে মাঝে কোনো দুরুত্ব নেই।
গভীর, শান্ত কণ্ঠে বলল,
তোমাকে আদর করতে তোমার ঘুমের সুযোগ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না,পাখি।আমি চাইলে এখনো খুব সহজেই নিতে পারি।
কুহেলির গাল লাল হয়ে উঠল।
মাঝে মাঝেই এই মানুষটার এমন কথা শুনে তার মনটা অদ্ভুত উষ্ণ হয়ে ওঠে।তবে লজ্জা সাইটে রেখে ছোট্ট হেসে বলল,
কিন্তু আমার তো ইউনিভার্সিটি আছে।
এসব দুষ্টামি বাদ দিন।চলুন, ফ্রেশ হয়ে নেন। আজ আমাকে আপনিই নিয়ে যাবেন।
আবরার ভ্রু তুলল, চোখ নামিয়ে কুহেলির দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।তার ঠোঁটে আবার ধীরে ধীরে এক বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
যদি নিয়ে না যাই..?!
কুহেলি চোখ ছোট ছোট করে আবরারের দিকে তাকাল।তারপর গলা উঁচু করে বলতে শুধু করে। যেনো সত্যিকারের কোনো রাণী আদেশ দিচ্ছে,
তাহলে আমি তোমার গর্দান নিবো!
জানেন আমি কার বউ?আমি মাফিয়া কিং এরিক আবরারের বউ!আমারও ক্ষমতা কম না।
আমার অর্ডার পালন না করার শাস্তি খুব ভয়ংকর হতে পারে!
কুহেলির কথায় এক মুহূর্তের জন্য আবরার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।তারপর ধীরে ধীরে ঠোঁটের কোণে এক দুষ্টামি ভরা হাসি ফুটে উঠল।
পরক্ষণেই আবরার কুহেলিকে নিজের বুকে আরও শক্ত করে টেনে নিলো।
তারপর গভীর, খেলাভরা কণ্ঠে বলল,
আপনার রাজ্যে আমি প্রজা হয়েই থাকব, মহারানী
কুহেলির শ্বাস আটকে গেল।আবরারের চোখ তখন খুব কাছে দুষ্ট, কোমল, আর অবিশ্বাস্যভাবে নিজের।
আবরার আরও ঝুঁকে এসে ফিসফিস করল,
“তবে একটা শর্ত আছে।”
কুহেলি ভ্রু তুলল জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে আবরারের দিকে তাকালো
আবরার ধীরে ধীরে দুষ্টামির কন্ঠে বলল,
আমাকে নিয়ম করে প্রতিদিন তিনবার আর রাতে দুইবার রসমালাই খেতে দিতে হবে।আমি যতো ক্ষণ খেতে চাই ঠিক তত ক্ষণি..!
কুহেলি প্রথমে আবরারের কথা ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি। কিন্তু দেরি হয় না—এক মুহূর্তের মধ্যেই তার চোখের দুষ্টু ঝিলিক বদলে যায় লজ্জায় রাঙা কুহেলির দিকে তাকিয়ে। কুহেলির কান পর্যন্ত লাল হয়ে গেছে, যেন একটু স্পর্শ দিলেই ধোঁয়া বের হবে। সে হঠাৎই লজ্জায় আবরারের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলে।
অসভ্য লোক সারাদিন এইসবই মাথায় ঘোরে,তাই না..!
ফিসফিস করা কুহেলির কণ্ঠটা ছিল রাগের চেয়ে লজ্জায় ভরা।
কুহেলির এই অবস্থায় আবরার আর নিজের হাসি থামাতে পারে না। রুম কাঁপিয়ে শব্দ করে হেসে ওঠে। কুহেলি একটু অবাক হয়ে মাথা তোলে আর উঠতেই চোখ আটকে যায় আবরারের হাসিতে।
সে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে। সেই হাসি যেন তার বুকের মধ্যেই নরম ঢেউ তুলছে।
ইস..!হাসলে আপনাকে মারাত্মক লাগে কুহেলি ধীরে বলে।তার গলা নরম, একটু কাঁপা, ভেতরে যেন লুকোনো মুগ্ধতার সুর।আপনি হাসেন না কেন?
আবরার ভ্রু তুলে তাকে দেখে,ঠোঁটের কোণে নতুন হাসি জমে।
হাসবো তাহলে?
হুঁ শুধু আমার সামনে,কুহেলি তাড়াতাড়ি বলে ফেলে, তারপর একটু থামে।
আর কাউকে না। কারণ..!
আবরার জানতে চাওয়ার ভঙ্গিতে তাকায়।
কুহেলি ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেলে, তারপর নিচু স্বরে বলে ওঠে,
কারণ আপনি হাসলে খুব সুন্দর লাগে। এত জন্যই যে আমি চাই না অন্য কেউ আপনার এই হাসি দেখে আপনাকে চোখ দিয়ে গিলে খাক।
কুহেলির কথা শুনে আবরার বাকা হেসে বললো,
তুমি কি জেলাস পাখি..?!
কুহেলি গলা সোজা করে বলতে লাগলো,
হ্যাঁ জেলাস। কারণ আপনি আমার হাসব্যান্ড। অন্য কেউ কেনো আমার হাসব্যান্ডকে দেখবে? কেউ দেখতে পারবে না আমি দেখবো শুধু আমি।
কথা বলেই কুহেলি থমকে যায়। নিজের মুখের কথা নিজেই বিশ্বাস করতে পারে না।
ইস কি বলে ফেললাম?!ভেতরে ভেতরে লজ্জায় পুড়ে যায় সে।
আবরার এবার আর নিজেকে সামলাতে পারে না। কুহেলির মাথার উপর নরমভাবে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয় চুমুটা খুব শান্ত, আশ্বাসের মতো।
“আচ্ছা ম্যাডাম”তার গলা নিচু আর কোমল,
শুধু আপনার সামনেই হাসবো। শুধু আপনি দেখবেন। এখন প্লিজ উঠুন। ফ্রেশ হয়ে নিন। ইউনিভার্সিটিতে যেতে হবে দেরি হয়ে যাবে।
কুহেলি চোখ কুঁচকে আবরারের মুখে পুনরায় মুখ লুকিয়ে বললো,
“আর দুই মিনিট পরে উঠি..!”
আবরার হালকা হেসে বললো,
আচ্ছা ম্যাডামের যা ইচ্ছে।
কুহেলি চোখ বুজে হাসে লজ্জা, মায়া আর একটু আদর মিশে ছোট্ট হাসি। আর আবরার তাকিয়ে থাকে সেই মুখের দিকে, যেন দুই মিনিটের অপেক্ষাটাই তার কাছে দিনের সবচেয়ে প্রিয় সময়।
চলবে...!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪