Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৭


মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

পর্ব_২৭

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

     হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

গাড়ির দরজা বন্ধ হতেই আবরারের চারপাশে নেমে এলো এক ধরনের ভারী নীরবতা।ইঞ্জিনের মৃদু গর্জন আর দূরে টহলরত গাড়িগুলোর হেডলাইট সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন অদ্ভুতভাবে চাপা।

প্রায় আধা ঘণ্টা পথ যাওয়ার পর হঠাৎ আবরার পকেট থেকে ফোন বের করলো। স্ক্রিন অন হতেই সাদা আলো তার মুখে প্রতিফলিত হলো। সে ফেসবুকে ঢুকলো এবং প্রথমেই চোখে পড়লো

Breaking News..!

আজকের তাজা খবর:
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।
পুরো ভবন আগুনে পুড়েছে। ভিতরে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী,তার স্ত্রী, মেইড ও নিরাপত্তারক্ষী। কারো সন্ধান মেলেনি।।আক্রমণকারীর পরিচয় অজানা।
দেশজুড়ে তিন দিনের কার্ফু ঘোষণা করেছে আর্মি কমান্ড।তদন্ত চলবে আরো আপডেট পেতে আমাদের সাথে থাকুন।

খবরটা পড়ার পর গাড়ির ভেতর এক মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গেল। আলো-আঁধারের মাঝে আবরারের মুখটা একটু ঝুঁকে এলো চোখ সরু হয়ে গেল, ঠোঁটের কোনায় অদ্ভুত এক বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।

গাড়ির ভেতর নীরবতা ভেঙে হঠাৎ আবরারের ফোন বেজে উঠলো। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো পরিচিত নাম—ফেটিক্স এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট না করে আবরার কল রিসিভ করলো।

লাইন ওপাশ থেকে তৎপর কণ্ঠ—স্যার, কাজ হয়ে গেছে,ফেটিক্স নিঃশ্বাস ফেলে বললো।

আবরারের গলা ঠাণ্ডা, কিন্তু তীক্ষ্ণ,
গুড।

ফেটিক্স আবার বললো,
স্যার, আপনার নির্দেশ অনুযায়ী সব প্রস্তুত। একশো হেলিকপ্টার আকাশে উঠেছে। বিশ হাজার গাড়ি রাস্তায় টহল দিচ্ছে। দশ হাজার ট্র্যাকিং কুকুর নামানো হয়েছে। আর পঞ্চাশ হাজার বডিগার্ড সার্চ শুরু করেছে।জঙ্গল, পাহাড়, শহর, গ্রাম—একটাও জায়গা বাদ দিচ্ছি না।

আবরারের চোখ একটু বন্ধ হলো, যেন হিসেব মিলিয়ে নিচ্ছে।মুঠোফোনের দিকে তাকিয়েই নিচু কিন্তু ভয়ংকর শান্ত কণ্ঠে বললো—

খুঁজতে থাকো। আর শোন আজ রাত শেষ হওয়ার আগেই আমি “পাখি” কে চাই। যদি না পায় তাহলে সবাই কে মেরে পুতে দিবো..!

শেষে কথা টা খানিক টা জোরে বললো ফেটিক্স ভয় পেলো তবুও নিজেকে সামলে দ্রুত সম্মতি জানালো,

“আচ্ছা স্যার। নির্দেশ পালিত হবে।”

কল কেটে যেতেই গাড়ির ভেতর আবার নেমে এলো চাপা অন্ধকারের মতো নীরবতা।গাড়িটি তখন ঘন জঙ্গলের পাশ দিয়ে ছুটে চলেছে। লম্বা গাছের ছায়া হেডলাইটে কাঁপছে, যেন কোনো অজানা ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঠিক তখনই,
আবরারের চোখ পড়লো রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়ের দিকে। তবে মেয়েটা উল্টো দিকে মুখ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো মেয়ে টা কে পিছনে থেকে একদম কুহেলির মতো লাগছে অল্প আলোয় দেখা যাচ্ছে হালকা হাওয়া তার সাদা চুল উড়ছে,যেন কোনো রহস্যের ছায়া তাকে ঘিরে আছে।

আবরার চোখ সরু করে তাকাল।
ড্রাইভার গাড়ি থামাও।

ড্রাইভার যেন বজ্রাহত, তৎক্ষণাৎ ব্রেক চাপলো।
গাড়ি থেমে গেল অন্ধকার জঙ্গলের মাঝে।

আবরার দরজা ঠেলে গাড়ি থেকে নেমে এল। বাতাসে হালকা কুয়াশা, জঙ্গলের ভেতর থেকে আসছে অচেনা গন্ধ। দূর থেকে বাতাসে দুলছে পাতার শব্দ—সব মিলিয়ে পরিবেশটা অস্বাভাবিকভাবে রহস্যময়।

আবরার এগিয়ে গেল সেই মেয়েটার দিকে। অল্প আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার মুখ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না।আবরার হাত বাড়ালো ছুঁতেই যাবে ঠিক তখনই দৃশ্যটা যেন ভেঙে গেল।
মেয়েটা এক মুহূর্তে পাঁচটি ছায়ায় বিভক্ত হয়ে গেল, আর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সব অবয়ব এক নামে মিলিয়ে গিয়ে রইলো শুধু

“কুহেলি।”

কুহেলির হাসি কানে এল, কিন্তু কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।আবরার এক পা পিছিয়ে গেল। চারদিকে শুধু ধোঁয়াটে অবয়ব, ঝাপসা হাসি
আর হাত বাড়ালেই মিলিয়ে যাওয়া মুখ।

আবরারের শ্বাস ভারী হয়ে উঠলো।

সে বুঝে গেল—এটা বাস্তব নয়।এটা তার নিজের হ্যালুসিনেশন।

এক মুহূর্তে হাঁটু ভেঙে বসে পড়লো মাটিতে।
দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো।

হঠাৎই সে ফেটে চিৎকার করে উঠলো,

“পাখি…!!!”

চিৎকারটা এত তীব্র ছিল যে জঙ্গলের ভেতর লুকিয়ে থাকা পশুপাখিরাও চমকে উঠে চারদিকে ছুটে গেল।

আবরারের চোখে জল টলমল করতে লাগলো।
কণ্ঠ ভেঙে গেল,আতঙ্ক আর অসহায়তায় ভরা—

পাখি তুমি কোথায়? প্লিজ… প্লিজ আমার কাছে ফিরে আসো তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারছি না, পাখি রে….!

তার কণ্ঠে এমন বেদনা ছিল যে দূর দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডরা থমকে দাঁড়িয়ে গেল।এই আবরারকে তারা কোনোদিন দেখেনি।

হেড গার্ড জলিল দ্রুত এগিয়ে এসে আবরারের পাশে বসে পড়লো।চোখেমুখে চিন্তার ছাপ, কিন্তু কণ্ঠ শান্ত এবং দৃঢ়—

স্যার, দয়া করে নিজেকে সামলান। আমরা ম্যাম কে খুঁজে আনবো—আজ রাতেই।আপনি শান্ত হন, প্লিজ। আমরা সব দিক দিয়ে সার্চ করছি।

আবরারের নিঃশ্বাস তখনো ভারী, কিন্তু জলিলের স্বর তাকে সামান্য হলেও স্থির করলো।

আবরার জলিলের দিকে ধীরে ধীরে তাকালো
আবরারের চোখ দুটো লাল,তবু তীক্ষ্ণ—এক ধরনের ভয়ঙ্কর দৃঢ়তা সেখানে জ্বলছে।সে গভীর শ্বাস নিলো, তারপর ঠাণ্ডা, ধারালো কণ্ঠে বললো,

জলিল তিনশো কুকুর আনো।আমি নিজেই খুঁজবো এখানে থেকে শুরু করবো খোঁজা।

জলিল থমকে গেল, কারণ আবরারের মুখের সেই আগুন সে বহুদিন দেখেনি—এটা ছিল এমন এক দৃঢ়তা, যেন ওর সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবে না।

এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে জলিল পাশের বডিগার্ডের দিকে তাকালো।কোনো শব্দ হলো না শুধু চোখের ইশারাই যথেষ্ট ছিল।

বডিগার্ড সঙ্গে সঙ্গে মাথা নত করে সম্মতি দিলো।
তারপর দৌড় দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল অন্ধকারের ভেতর।

জঙ্গলের চারদিক তখন নিস্তব্ধ।শুধু হালকা বাতাসে পাতার মর্মর শব্দ।মাটির নিচে যেন অদ্ভুত এক স্পন্দন ছড়িয়ে আছে।

আবরার এখনো বসে আছে একদম স্থির হয়ে।
তার চোখ জঙ্গলজুড়ে ঘুরছে—প্রতিটা গাছ, প্রতিটা ছায়া, প্রতিটা শব্দ সে শোনার চেষ্টা করছে।

জলিল আবরারের পাশে বসে চিন্তিত চোখে তাকিয়ে আছে,আর আবরার আগুনে পোড়া দৃষ্টিতে দেখছে পুরো জঙ্গলটাকে—যেন নিজের চোখ দিয়েই অন্ধকার ছিন্ন করে ফেলবে।

অল্প দূরে থেকে কুকুরের ভৌতিক গোঙানি শোনা গেল।কুকুরগুলো আসছে।

পাখিকে খুঁজে পাওয়ার যুদ্ধ এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

~~

ফাহিম এখনো পুরো পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে।কয়েক মিনিট আগেও কুহেলি ভয় আর দুশ্চিন্তায় কাঁপছিল,আর এখন—যেন কিছুই হয়নি, স্বাভাবিকভাবে বসে আছে।

ফাহিম কুঁচকে যাওয়া ভ্রু নিয়ে কুহেলির দিকে তাকালো।তুমি ঠিক আছো তো? প্রশ্নটা মুখ থেকে বেরুলো অজান্তেই।

কুহেলি একেবারে শিশুসুলভ ভঙ্গিতে বললো,
ভাইয়া খিদে পেয়েছে।

ফাহিম স্তম্ভিত।এত ভয় পাওয়ার পর কেউ এমনভাবে খাবার চাইতে পারে?

তুমি সত্যি খেতে চাও?
তার গলায় অবিশ্বাস স্পষ্ট।

কুহেলি ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
তাহলে কি খাবো না? খিদে পেয়েছে তো!

ফাহিম একটু হেসে মাথা নেড়ে বললো,ঠিক আছে, তুমি বসো। আমি এখনই খাবার এনে দিচ্ছি।

সে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই দরজা ধীরে বন্ধ হওয়ার শব্দ হলো।সেই শব্দটা মিলিয়ে যাওয়া মাত্রই কুহেলির মুখের শান্ত ভাবটা এক মুহূর্তে বদলে গেল।

সে চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় এক লম্বা, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।তারপর দ্রুত উঠে দাঁড়ালো চোখে এখন অন্য এক আগুন, অন্য এক উদ্দেশ্য।

চেয়ারের ওপর রাখা ফাহিমের ফোনটা সে তুলে নিলো।আঙুলের ছোঁয়ায় স্ক্রিনে আলো জ্বলে উঠলো।

সে ঠিক এটিই আশা করেছিল—ফাহিম যেন ফোনটা রেখে যায়।

তারপর ফোন হাতে নিয়ে কুহেলি দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে বুঝলো দরজাটা ফাহিম বাইরে থেকেই লাগিয়ে দিয়েছে।

তার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বাড়তে লাগলো।
সময় খুব কম।যদি ফাহিম ফিরে আসে—তাহলে আর রক্ষা নেই।

কাঁপা হাতে ফাহিমের ফোনটা শক্ত করে ধরে
সে দ্রুত আবরারের নাম্বার ডায়াল করলো।
স্ক্রিনে কলিং শব্দটা যেন হাজার বছর সময় নিচ্ছে।

ওদিকে,
আবরার তখনো জঙ্গলে কুকুর আর বডিগার্ডদের নিয়ে পাগলের মতো অনুসন্ধান চালাচ্ছে।মাটিতে হাঁটু গেড়ে,গাছের ছায়ার নিচে,প্রতিটা শব্দের দিকে কান পেতে একটাই নাম ডাকছে বারংবার

“পাখি…!”

ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠলো।

অচেনা নম্বর।

আবরার প্রথমে কেটে দিতে চাইলো,
আঙুল ছুঁয়েও গেল স্ক্রিনে—কিন্তু হঠাৎ কিছু একটা অনুভব করে আবার ফোনটা কানে তুললো।

হ্যালো…?

ওপাশে কুহেলির কাঁপা গলা—
আ… আপনি.. শুনতে পাচ্ছেন…?আমি কুহেলি.!

এক মুহূর্তেই আবরারের শ্বাস থেমে গেল।তার চোখের লাল ভাব, উত্তেজনা, সব বদলে গেল নিস্তব্ধতায়।

পাখি?
তার কণ্ঠ নরম হয়ে গেল।
পাখি তুমি.. তুমি কোথায়…?

কুহেলির গলা আটকে গেল।এতক্ষণ জমিয়ে রাখা ভয়, ব্যথা, কষ্ট—সব মিলিয়ে হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

আবরার তৎক্ষণাৎ কণ্ঠ শক্ত করলো,কিন্তু ভালোবাসা আর স্নেহে ভরা সেই সুর—

পাখি পাখি, রিল্যাক্স।
কাঁদবে না।শান্ত হও।বলো তুমি কোথায় আছো আমি এখনই আসছি।

কুহেলির শ্বাস যেন ঠিকমতো উঠানামা করছে না।
হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতেই কথা বলতে লাগলো,

আমি ঠিক ঠিক বলতে পারছি না কিন্তু মনে হচ্ছে এটা সিলেটের লাক্কাতুরা চা–বাগান।আপনি প্লিজ… প্লিজ ফোনটা লোকেশন বের করে এখানে চলে আসুন।আমার খুব ভয় লাগছে..!”

তার গলা কাঁপছে, কথা টুকরো টুকরো হয়ে বেরোচ্ছে।

ফাহিম ভাইয়া বাজে কথা বলছে আমাকে জানেন কি বলছে?কুহেলি আবার জোরে কাঁদতে কাঁদতে
বলে,আমি যেন আপনাকে ডিভোর্স দিই এবং তাকে বিয়ে করি!কিন্তু আমি তো আপনার স্ত্রী তাই না?আপনি বলুন!তাহলে আমি কেনো আপনাকে ছেড়ে ওনার কাছে আসবো..?!

ওপাশে আবরারের মুঠি শক্ত হয়ে গেল।তার বুকের ভেতর তীব্র রাগ জমে উঠছে—কিন্তু সে সেটা কণ্ঠে ফুটতে দিলো না।কারণ এখন কুহেলি এমনি ভয় পেয়ে আছে।আর তার প্রথম কাজ হলো তাকে শান্ত করা। তাই আবরার গভীর শ্বাস নিলো নিয়ে ফোনের ওপার থেকে খুব শান্ত গলায় বলল,

রোজ রিলাক্স। আমার জান তো সব সময় স্ট্রং, তাই না?তাহলে আজ এভাবে ভেঙে পড়ছো কেন?

কুহেলি কিছু বলতে পারল না শুধু নরম হয়ে শুনলো।আবরার আবার বলল,শোনো, তুমি যখনই ভেঙে পড়বে, তখনই আমার কথা মনে করবে।
এখন এক কাজ করো কান্না থামাও, আর চোখ দু’টো বন্ধ করো।

কুহেলি তাই করলো প্রথমে কান্না থামালো তারপর ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল।

আবরারের কণ্ঠ আরও নরম হয়ে গেল, যেন ওর বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে,

এবার আমার সাথে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলো মনে করো। দেখবে মনটা শান্ত হয়ে যাবে, সাহস ফিরে পাবে।মনে রেখো পৃথিবীর দুই প্রান্তে থাকলেও আমরা আলাদা নই।আমাদের শরীর দু’টো দূরে থাকতে পারে,কিন্তু আত্মা? আত্মা তো একটাই।

কুহেলির নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে স্থির হয়ে এল। হাত কাঁপা থেমে গেল।

আবরার বলল,
আমি আসছি, পাখি জাস্ট রিলাক্স।

ফোনের ওপার থেকে ভেসে আসা এই কথাগুলো যেন কুহেলির বুকের গভীর শূন্যতায় আলো ফেলল।যে অস্থিরতা কিছুক্ষণ আগেও তাকে ছিঁড়ে ফেলছিল,তা ধীরে ধীরে কোমল হয়ে নেমে গেল পানির মতো।

হয়তো এই কারণেই
এই কয়েকটা বাণী শোনার জন্যই সে এতক্ষণ এত উতলা হয়ে ছিল।

                           চলবে....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply