Golpo romantic golpo মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১


মাই টক্সিক হাসব্যান্ড

পর্ব_২১

কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা

     হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

সকালের বাতাসে এক অদ্ভুত শীতলতা।শহরের রাস্তাগুলো তখনও অর্ধনিদ্রিত কোথাও পত্রিকার গাড়ির শব্দ,কোথাও দোকানের শাটার উঠছে। সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই দুইজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার এক কোণে ফাহিম আর শিশা।

ফাহিমের চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মুখে অদ্ভুত দৃঢ়তা। সে বললো,মানে কুহেলি এখন কোথায়…? আর এই এরিক আবরার কুহেলি কে কিভাবে চিনলো?

শিশা ঠোঁটের কোণে হালকা এক বাকা হাসি টেনে দিলো। চোখের পলকে যেন অনেক কিছু লুকানো।
সেটা আমি ঠিক জানি না,শিশা মৃদুস্বরে বললো, আর জানতে চাইও না। আমি শুধু জানি আমি চাই এই আবরারকে আর তোমার কুহেলিকে।

এক মুহূর্তের জন্য ফাহিমের দৃষ্টি স্থির হলো শিশার মুখে। সেখানে সে নিঃশব্দ আগুন দেখলো এক আসক্তি।

তো?শিশা ধীরে ধীরে এক পা এগিয়ে এল, চোখে চ্যালেঞ্জ ছড়িয়ে বললো,আমার সাথে হাত মিলাবে, ফাহিম?

হঠাৎ সকালের আলোটা তাদের মুখে পড়লো দুজনের ছায়া এক হয়ে গেলো ধূসর পিচের ওপর। ফাহিম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শিশার দিকে তাকালো, তারপর শান্ত স্বরে বললো,
ওকে আমার কুহেলি হলেই হলো। আর কিছু চাই না।

শিশা ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে উঠলো সেই হাসিটা অদ্ভুত, যেন অন্ধকারের ভেতর একটা নতুন পরিকল্পনার জন্ম নিচ্ছে।

দূরে সূর্য উঠছে ধীরে ধীরে, অথচ এই শহরের এক কোণে দুইজন মানুষ হাত মেলালো এক গোপন চুক্তিতে যার শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না।
রাস্তার বাতাস নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, যেন সে-ও বুঝে গেছে আজ একটা নতুন খেলা শুরু হলো।

~~

গাড়ির ইঞ্জিনের মৃদু গুঞ্জনে সকালটা যেন আরও শান্ত হয়ে উঠেছে। জানালার বাইরে সূর্যের আলো ফোটে উঠছে রাস্তায়,গাছের পাতাগুলো বাতাসে দুলে খেলছে এক ছন্দে। কুহেলি সেদিকে তাকিয়ে আছে চোখে আনন্দের ঝিলিক, মুখে হালকা হাসি।

আজ বহুদিন পর তার মনে অদ্ভুত এক প্রশান্তি। কারণ শায়লার সাথে অনেকদিন পর কথা হয়েছে। ফোনে বলেছে আজ এডমিশন নিতে আসছি, তোকে দেখবো অবশেষে!

কুহেলির বুকটা আনন্দে ভরে উঠেছে। এই শহরের ভিড়ে নিজের প্রিয় মানুষটার সঙ্গে দেখা হবে ভাবতেই যেন মনটা নাচছে।

গাড়ির অন্য পাশে বসে আছে আবরার। হাতে ফোন, কিন্তু মন অন্য জায়গায়। চোখের কোণ দিয়ে সে একটানা কুহেলির দিকে তাকিয়ে থাকে। কুহেলির মুখে এমন প্রাণোচ্ছ্বল হাসি দেখে হঠাৎ তার মনে এক অচেনা অনুভূতি জেগে ওঠে একটা চাপা জ্বালা, নামহীন ঈর্ষা।

ইউনিভার্সিটি ভর্তি হবে বলেই কি এতো খুশি কুহেলি.? ওর সাথে থাকার সময় তো এতো খুশি থাকে না মেয়ে টা..!

আবরারের ফোনের স্ক্রিন নিভে গেলো, অথচ তার দৃষ্টি স্থির কুহেলির দিকে। কুহেলি তখনও জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে, অজান্তেই কারও হৃদয়ে এক ঝড় তুলে।

হঠাৎ আবরার গম্ভীর গলায় বললো,
গাড়ি থামাও।

তার গলার স্বর এতটাই কঠিন ছিল যে ড্রাইভার এক মুহূর্ত দ্বিধা না করেই ব্রেক চেপে ধরলো। গাড়ি থেমে গেলো রাস্তার এক পাশে।পিছনে থামলো আরো চারটা গাড়ি..!

ড্রাইভার একবার পেছনে তাকাতে গিয়েও সাহস পেলো না। আবরারের চোখে এমন দৃষ্টি যেন সামান্য প্রশ্ন করলেই ঝড় নেমে আসবে।

কুহেলি ভ্রু কুঁচকে আবরারের দিকে তাকালো, মুখে বিস্ময় নিয়ে বললো, কি হয়েছে?

কুহেলির প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই আবরার ড্রাইভারকে গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
তুমি বাইরে যাও।

ড্রাইভার কিছু না বলেই গাড়ি থেকে নেমে গেলো।

গাড়ির দরজাগুলো ক্লিক শব্দে লক হয়ে গেলো, জানালার কাঁচ আস্তে আস্তে ওপরে উঠলো। মুহূর্তেই গাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এলো শুধু দুইজন মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত উত্তেজনা তৈরি করলো।

কুহেলির বুক ধকধক করতে লাগলো। সে হালকা গলায় বললো,আবরার, কী হয়েছে? আপনি এভাবে ড্রাইভার কে বাইরে বের করে দিলেন কেনো আর কেনোই বা…

কথা টা সম্পন্ন করার আগেই আবরার এক হ্যাঁচকা টান দিয়ে কুহেলি কে নিজের কোলে বসায় তারপর কুহেলির কোমর শক্ত করে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে কুহেলির গালায় মুখ ডুবিয়ে ছোট ছোট অজস্র চুমুর বর্ষণ একে দিতে থাকে। এতে কুহেলির ছোট্ট বদন খানা অসম্ভব রকম কাঁপাতে থাকে সাথে অত্যাধিক বিস্মিত হয়…! এই সময় এরকম কিছু মোটেও আশা করে নি কুহেলি।

কুহেলি নিজেকে সামলাতে আবরারের সিল্কি লম্বা লম্বা চুল খামচে ধরে শক্ত করে তারপর বহু কষ্টে ফিসফিস করে কাঁপা কন্ঠে বলে, আপনি কি করছেন এখন আমাদের ইউনিভার্সিটি যাওয়ার সময় রাস্তার মাঝখানে এভাবে গাড়ি থামালেন কেনো…?

কথা বলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে কুহেলি আহ্ করে মৃদু চিৎকার করে উঠলো। কারণ আবরার ওর গলায় কামড় বসিয়েছে..!

আবরার মুখ তুলে এবার কুহেলির ললাটে নিজের কপাল ঠেকিয়ে তারপর ফিসফিস করে হাস্কি কন্ঠে বললো, ইউনিভার্সিটি যাওয়া নিয়ে এতো খুশি..? আমার সামনে তো কখনো এতো হাসতে দেখি নি? তার মানে কি আমার থেকে তোমার কাছে ইউনিভার্সিটির প্রায়োরিটি বেশি.? যদি তাই হয় তাহলে আমি তোমাকে ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি করবো না কজ আমার থেকে তোমার জীবনে সেই জিনিসের প্রায়োরিটি বেশি থাকবে তাকেই আমি সরিয়ে দিবো বুঝলে..!

আবরারের কথা শুনে কুহেলি হতভম্ব একটা মানুষ পড়াশুনা বা ইউনিভার্সিটি যাওয়া নিয়েও জেলাস ফিল করতে পারে..? আর যদি শুনে শায়লার সাথে দেখা হবে দেখে এতো খুশি তাহলে তো ওকে সায়লার সাথে দেখা করতেই দিবো না। কুহেলি নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে আমতা আমতা করে বললো,

আপনি ভুল ভাবছেন অনেক দিন পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছি তো তাই আ.. আমি এতো খুশি..! আপনার থেকে কোনো কিছুই আমার জীবনে বেশি প্রায়োরিটি নেই। আপনি সবার আগে তারপর অন্য কিছু..!

ব্যাস এই কয়টা শব্দ আবরারের মতো হিংস্র বাঘ কে শান্ত করে দেয়। হৃদয় কেমন শান্তির স্রোত বয়ে যায়। আবরার বুঝতে পারে না মেয়েটার মধ্যে কি আছে যায় কথা শুনেই আবরারের মতো ক্ষ্যাপা সিংহ টাও শান্ত হয়ে যায়।

আবরার বাকাঁ হেসে কুহেলির গালে নাক ঘষতে ঘষতে বলে, আচ্ছা তোমার কথা বিশ্বাস করলাম আই হোপ তুমি তা রক্ষা করবে। একটা কথা মনে রেখো রোজ মাফিয়া কিং এরিক আবরার খান কখনোই কাউকে বিশ্বাস করে না সেই তোমাকে বিশ্বাস করছে যদি ভেঙ্গে ফেলো তাহলে বুঝতে পারছো তো কেমন পরিণতি হবে তোমার..!?

আবরার এবার কুহেলির গাল চোখের পাতা ললাট কানের নতি কানের নিচে আস্তে গলার দিকে নেমে আসে চুম্বন করতে করতে..! কুহেলি ছোট্ট বদন খানা তরতর করে কেঁপে উঠছে বারংবার। নিজেকে সংযত রাখতে আবরারের গলার কাছে শার্ট খানা খামচে ধরে ফিসফিস করে বলে,

আমি আপনার বিশ্বাস রাখাব সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এবার তো চলুন প্লিজ এমনি দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাড়ি যেয়ে না হয় আদর করবেন।

আবরার কুহেলির প্রথম কথা গুলো শুনলেও নিজের কাজ অব্যাহত রাখছিলো কিন্তু লাস্টের কথা শুনে থেমে গেলো লাল টকটকে চোখের মনি দিয়ে কুহেলির দিকে তাকিয়ে সেই চিরচেনা ভয়ংকার স্নান হেসে বললো,

আচ্ছা বাড়ি যেয়ে আদর করলে বুঝি আজকে রেসপন্স করবে বাঁধা দিবে না বা মরার মতো পড়ে থাকবে না..?!

আবরারের এরকম সরাসরি লাগাম ছাড়া কথাই কুহেলি লজ্জায় কুঁকড়ে উঠলো দু’কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হতে লাগলো গাল দু’টো পাকা টমেটোর মতো টকটকে হয়ে গেলো আর দৃষ্টি অগোছালো ভাবে এদিকে সেদিন করতে লাগলো। যেনো নিজেকে লুকানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে…!

আবরার তা দেখে হাসলো তবে শব্দহীন তারপর টুপ করে কুহেলির ঠোঁটে একটা শব্দ করে চুমু খেয়ে বললো, হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না তাহলে আমি আরো কন্ট্রোলেস হয়ে যাবো তাহলে গাড়িতেই তোমার লজ্জা ভেঙে দিবো তার থেকে ভালো লজ্জা কম পাও। আর আজকে রাতে তোমার লজ্জা কমাতে হবে এভাবে লজ্জা পেলে চলবে না।

তারপর একটু থেকে বাকা হেসে বললো,

আর মাঝে মাঝে স্বামী রাগ করলে স্বামীর রাগ ভাঙানোর জন্য নিজে থেকে কাছে আসতে হবে..! তাই লজ্জা কমানো টা জরুরি বুঝলে মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ…!

কুহেলি যেনো লজ্জাই এবার কেঁদেই দিবে লোক টা এতো কেনো লজ্জা দিচ্ছে ওকে..? আবরার এবার জানালাম কাঁচ নামালো সাথে সাথে ড্রাইভার উঠে বসলো কুহেলি লজ্জা পেয়ে নেমে যেতে চাইলে আবরার গম্ভীর কন্ঠে বললো, চুপচাপ বসে থাকো নয়তো ইউনিভার্সিটি ভর্তি করবো না। ব্যাস চুপচাপ বসে রইলো কুহেলি। আর মনে মনে বললো, লোক টা তো ভারি খারাপ কথাই কথাই শুধু ওর ইউনিভার্সিটি ভর্তি নিয়ে ব্ল্যাকমেল করতে এটা তো ভারি মশকিল জিনিস..!

~~

ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমের এক কোণে চুপচাপ বসে আছে কুহেলি। চারপাশে নতুন মুখ, নতুন পরিবেশ সব কিছুই এখনো ওর কাছে অচেনা, অচেনা এক জগতের মতো। জানালার ধারে বসে ওর চোখ বারবার চলে যাচ্ছে বাইরে, যেখানে প্রখর রোদ ঘাসের ওপর ছড়িয়ে আছে শান্তভাবে।

আবরার নিজে ওর সব ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে ক্লাস রুটিন পর্যন্ত। এমনকি যাওয়ার সময় ওকে বলে গেছে,

পাখি বাইরে কোথাও যেও না, কারো সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই। কিছু লাগলে বাইরে বডিগার্ডরা আছে ওদের বলো।

ওর গলায় ছিলো দৃঢ়তা, আবার এক অদ্ভুত রকম যত্নও।

বাহিরে সত্যিই দু’জন বডিগার্ড দাঁড়িয়ে আছে কালো পোশাক, গম্ভীর মুখ। ওরা যেন ছায়ার মতো ওর নিরাপত্তার পাশে রয়েছে।

কুহেলি জানে, আবরার রাগী—রাগের ভিতরে একরাশ ছন্নছাড়া ভাবও আছে। তবু ওর ভেতরে কিছু একটা আছে, যেটা ওকে আলাদা করে রাখে।
ও খারাপ না, একদমই না।হয়তো আগে খারাপ ব্যবহার করতো, কিন্তু এখন—এখন তো ওর যত্ন নেয়,খোঁজ রাখে, ভালোবাসা না হোক, যত্নটা তো আছে।

এই ভাবনাতেই কুহেলির ঠোঁটের কোণে একটা মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো। ও নিজের অজান্তেই মুচকি হাসছিলো, ঠিক তখনই পাশে কেউ এসে বসলো।

কুহেলি চমকে তাকালো। পরক্ষণেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। সেই হাসিটা যেটা দীর্ঘ দিন ধরে হারিয়ে গিয়েছিল এবার ফিরে এসেছে। চোখের সামনে কেউ নয়, আর কেউ নয়, শুধুই তার প্রিয়, একমাত্র ব্রেস্টু শায়লা।

কুহেলি দুই হাত বাড়িয়ে শায়লা কে ঝাপটে ধরলো শক্ত করে। হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছিল, কণ্ঠে ছটফট করে উঠলো,

আমার জান, কেমন আছিস তুই? জানিস আমি তকে কতো মিস করেছি!

শায়লার চোখে মুহূর্তের জন্য কোমলতা ফুটে উঠল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে অভিমানও ধরা দিলো। সে কুহেলিকে নিজ থেকে ছাড়িয়ে দূরে সরালো, কন্ঠে সেই পরিচিত অভিমানী সুর,

হয়েছে, কত মিস করেছিস তা আমার জানা আছে! তাহলে এতো দিন কোথায় ছিলি?একবার বলে যেতি তাতে কি হতো? আমি যে তকে মিস করেছি, তাই নিয়ে চিন্তা করেছি তার কোনো দাম নেই তোদের কাছে?

শায়লার কথার শেষাংশে একটি ক্ষুদ্র বিরতি। তার চোখের নিচে ছোট্ট রোদনাপ্রবণ ছায়া। তারপর মুখে বাকি কথা না রেখে সে চুপ করে রইলো মুখ বাকা, কিন্তু চোখ বলছে তার সব অনুভূতি।

কুহেলি হালকা করে হাসলো। শায়লার অভিমান দেখে হাসিটা যেন আরও মিষ্টি হয়ে উঠল।সে কন্ঠে মৃদু হেসে বললো,সরি জান, সময় ছিলো না আচ্ছা, চল এখন তকে সব বলবো।

শায়লা মুহূর্তের জন্য চুপ রইলো, চোখে যেন একধরনের অমিশ্র অভিমান ও আগ্রহের মিশ্রণ। সে কণ্ঠে ফুঁপিয়ে বললো,না, আমি শুনবো না।

কুহেলি একটু হাসলো, তার চোখে খেলা-খেলা চকচক ভাব ফুটলো,সত্যি, শুনবি না?

শায়লা আর কোনো শব্দ হলো না। কুহেলি একটু থেমে, আঙুলে কৌতূহলের হালকা হাসি নিয়ে বললো,আচ্ছা, তাহলে বলবো না। আর কেউ যখন আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না, তাহলে আমি অন্য কারও সঙ্গে ফ্রেন্ড বানাবো।

ঠিক সেই মুহূর্তে, শায়লার রেগে যাওয়ার আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে কুহেলির পিঠে হঠাৎ করে পড়ে কিল!শায়লার ছোট্ট ছক্কার মতো আক্রমণ, আর কুহেলি প্রস্তুত, তাই সে হালকা করে লাফ দিয়ে টিকে রইলো।

শায়লা আঙুল তুলে শাসিয়ে বললো,আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে ফ্রেন্ড বানালে, মেরে ফেলবো!

কুহেলি হাসি ধরে রাখতে পারলো না। চোখ চকচক করে, হেসে বললো,ঠিক আছে, জান! আর কারো সঙ্গে ফ্রেন্ড বানানোর কোনো চিন্তা নেই।

তারপর কুহেলি ধীরে উঠে দাঁড়ালো, হাত বাড়িয়ে শায়লাকে টেনে দাঁড় করালো।আচ্ছা, চল, এখানে না বাহিরে যেয়ে কথা বলবো।

শায়লা ছোট্ট চুলচেরা হাসি নিয়ে বললো,

চল।

মৃদু বাতাসের সঙ্গে ক্লাসরুমের দরজা খোলার শব্দ, আর দুই বন্ধুর মিলিত পদক্ষেপ যেন নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করল। বাইরে বেরিয়ে, নতুন দিনের আলোয় তারা হাঁটছিল হাসি, অভিমান আর বন্ধুত্বের মিশ্রণে ভরা।

                     চলবে....!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply