মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_২০
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
সকালের নরম আলো জানালার পাতলা পর্দা ভেদ করে এসে পড়েছে কুহেলির মুখে। আলোটা প্রথমে তার চোখে লাগে সে চোখ কুঁচকে একটু নড়ে ওঠে, তারপর ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায় চারপাশে।
পরক্ষণেই বুঝতে পারে সে একা নয়।কারো বাহু দৃঢ়ভাবে তাকে জড়িয়ে আছে।
চমকে উঠে কুহেলি তাকায় পাশের দিকে আবরার।
আবরার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার মুখে সেই চেনা কঠোরতা নেই, বরং একরকম নির্ভার, শিশুসুলভ শান্তি। কুহেলির মনে হলো এই মানুষটিই যেন সেই ভয়ংকর গ্যাংস্টার নয় বরং কোনো অচেনা শান্ত সমুদ্রের মাঝে ভেসে থাকা এক নিঃস্তব্ধ প্রাণ।
কুহেলি নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ, তারপর হালকা করে হাত তোলে, আবরারের গালে ছুঁয়ে দেয়। আঙুলের ডগায় লেগে থাকে উষ্ণতার ছোঁয়া।তারপর ঠোঁটের কোণে আস্তে করে এক চিল হাসি টেনে নেয় কুহেলি।তারপর মৃদু স্বরে, প্রায় ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,
কত্তোটা কিউট আপনি ঘুমালে অস্থির লাগে আপনাকে, জানেন? কিন্তু জেগে থাকলে শুধু রাগ, গম্ভীর মুখ।একটু হাসলে কি গুনাহ হয় নাকি…?
কুহেলি ভেবেছিল আবরার ঘুমাচ্ছে, কিন্তু না চোখ বন্ধ রেখেই সে ধীরে ধীরে বলে উঠলো, ঘুম জড়ানো কর্কশ কণ্ঠে,
হাসলে গুনাহ হয় না কিন্তু এরিক আবরারের ডিকশনারিতে হাসি নামে কোনো শব্দ নেই, মাই ফাকিং স্কোয়াব।
কুহেলি থমকে যায়। চোখ বড় হয়ে তাকিয়ে থাকে আবরারের মুখের দিকে।পরক্ষণেই বুঝতে পারে আবরারের ঠোঁটের কোণে একফোঁটা বিদ্রূপ মিশ্রিত হাসি খেলা করছে।তার বুকের ধুকপুকানি আরও বেড়ে যায়।
কুহেলি আর দেরি না করে তাড়াহুড়ো করে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই আবরারের বাহু শক্ত হয়ে এলো।এক ঝটকায় সে কুহেলিকে আরও কাছে টেনে নিলো যেন মুহূর্তেই বন্দি করে ফেললো নিজের শক্ত আলিঙ্গনে।
কুহেলি থমকে গেল। বুকের ভেতর ধুকপুকানিতে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।ঠিক তখনই আবরার ধীরে চোখ খুললো। চোখদুটো ঘুমজড়ানো, অথচ ভয়ংকরভাবে তীক্ষ্ণ।
একজন গ্যাংস্টারকে তার ঘুমন্ত অবস্থায় এভাবে চোখ দিয়ে গিলে ফেলছিলেন, ম্যাডাম?তার কণ্ঠে বিদ্রূপ, কিন্তু সঙ্গে ছিল এক অদ্ভুত আকর্ষণীয় ঠান্ডা সুর।দিস ইজ নট ডান।
কুহেলির শরীর যেন জমে গেল।চোখ নামিয়ে ফিসফিস করে বললো,
আ… আমি আসলে… মানে… আমি…”
কথাগুলো গলায় আটকে গেল চোখে জল চিকচিক করছে। মনে হলো এবার হয়তো কান্না করে ফেলবে সে।
আবরার কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো ওর মুখের দিকে। তারপর হঠাৎ ঠোঁটের কোণে এক পরিচিত, স্নান হাসি ফুটলো।তারপর নরম কন্ঠে বললো,
কম ডাউন আমার ছোট্ট হরিণী।আমি তো তোমাকে জ্বালানোর জন্য বলেছি। তা ছাড়া আমি তো তোমার হাসব্যান্ড। একদম কান্না করো না তোমার আমাকে যেমন ইচ্ছে যেভাবে ইচ্ছে দেখতে পারো ইচ্ছে হলো আনড্রেস করে দেখতে পারো আমি কাছে মনে করবো না..!
কথা খানা বলেই কুহেলির দিকে তাকিয়ে ভ্রু জোরা নাচালো…!
আবরারের অবিনীত বাক্যের অভিঘাতে কুহেলির দেহমর্ম এক মুহূর্তে বিদ্যুতাহত হয়ে উঠলো।তার ভেতরে যেন কোনো অজানা স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে লজ্জা,ক্রোধ ও বিস্ময়ের এক জটিল মিশ্রণ।
চোখের পাতায় উত্তাপ জমে ওঠে, কানের পাশ দিয়ে সেই উত্তাপ গড়িয়ে আসে গাল বেয়ে।
রক্ত যেন মুখে এসে থেমে গেছে গাল দুটি রক্তাভ, চোখে একফোঁটা অস্থিরতা।
কুহেলি শ্বাস নিলো ভারীভাবে তারপর সমস্ত সংকোচকে আড়াল করতে একরকম কৃত্রিম দৃঢ়তায় মুখ তুললো।তার কণ্ঠে জড়ানো রাগ, অথচ তাতে কম্পন আছে,আপনি কোনোদিন ভালো হবেন না একেবারে অসভ্য মানুষ!
কুহেলির কথায় আবরার মৃদু হাসে তারপর কোনো সংকেত ছাড়াই আবরার কুহেলির তির তির করে কাঁপতে থাকা গোলাপি অধরে নিজের অধর মিশিয়ে দেয়। কুহেলি প্রথমে বিস্মিত হয়ে সরে যেতে চাইলো কিন্তু আবরারের শক্ত বাহুডোর থেকে বের হওয়া ওর জন্য অসম্ভব তাই বাধ্য হয়ে তাল মিলায় আবরারের সাথে। আবরার কুহেলির রেসপন্স পেয়ে আরো মত্ত হয় নিজের কাজে যাকে বলে উন্মাদ চুমুর বর্ষণ।প্রায় অনেক সময় যাওয়ার পর কুহেলি হাপিয়ে উঠে নিজেকে সরাতে চাই আবরারের থেকে কিন্তু উন্মাদ আবরার ছাড়ে না বরং আরো গভীর ভাবে চুম্বন করতে থাকে।আর হাত দিয়ে কুহেলির জামার নিচে নৃত্য চালাতে থাকে অস্বাভাবিক ভাবে।
কুহেলি এবার অক্ষম হয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। সাথে সাথে আবরার ছেড়ে দেয় কুহেলি কে ছাড়া পেতেই কুহেলি ভ্রু দ্বয় কুঁচকে হা করে লম্বা লম্বা শ্বাস নেয়।আবরার দেখে তার ছোট্ট পাখির ঠোঁট জোরা রক্তিম আকার ধারণ করেছে..!
কুহেলি কিছু ক্ষণের মধ্যেই নিজেকে ঠিক ঠাক করে তারপর আবরারের দিকে তাকিয়ে মায়া কন্ঠে বলে,
আপনাকে একটা জিনিস বলার ছিলো, বলেন রাখবেন..!
কুহেলির এরকম কথাই আবরার চোখ ছোট ছোট করে ওর দিকে তাকায়..! সেই মানুষ ওকে অসভ্য ছাড়া কথা বলে না সে এতো সুন্দর করে কথা বলছে ভাবনার বিষয়..! আবরার গম্ভীর কন্ঠে বলল কি বলবে আগে শুনি।
কুহেলি মিনমিন করে বলে, আমি ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হতে চাই আরো পড়াশুনা করতে চাই।আমাকে ভর্তি করে দেন প্লিজ..!
আবরার গম্ভীর কন্ঠে বললো, আমি তোমাকে ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি করলাম পড়ার অনুমতিও দিলাম এর বিনিময়ে আমি কি পাবো..? মানে আমার লাভ কি.?
কুহেলি ঠোঁট উল্টে বলে, আপনি তো এমনিতেই অনেক বড়লোক কতো টাকা আছে আপনার তার হিসাবে করতে গেলেই তো আপনার কয়েক মাস লেগে যাবে আমার মতো গরিবের থেকে আপনি কি নিবেন।
আবরার স্নান হেসে বললো, যদি বলি তোমাকে চাই আর আমি যতো ক্ষণ চাইবো তুমিও রেসপন্স করবে। যদি রাজি থাকো তাহলে ভর্তি করবো নয়তো না।
কুহেলি নাক মুখ কুঁচকে বলে, অসভ্য লোক সব সময় মাথায় শুধু অসভ্য মার্কা চিন্তা ভাবনা..!
আবরার মৃদু হেসে কুহেলির ফোলা ফোলা গালে নাক ঘষতে ঘষতে বলে, এতো হট লেডি যদি আশেপাশে থাকে তাহলে তো এসব চিন্তা ভাবনা মাথায় আসাটা অসম্ভব কিছু না বউ…!
আবরারের প্রথম কথা গুলো তে কুহেলির রাগ হলেও শেষ কথা টা তে শরীর শিউরে উঠলো এই ছোট্ট একটা ডাক যেনো হৃদয় পর্যন্ত স্পর্শ করলো..! কুহেলি ফিসফিস করে বললো, “বউ”
আবরার কুহেলির মতোই ফিসফিস করে বললো, তুমি আমার অনেক কিছু শুনবে কি কি..? কুহেলি বাচ্চাদের মতো উপর নিচ মাথা ঝাকালো মানে ও শুনতে চাই। আবরার চিরচেনা স্নান হেসে কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে হাস্কি
বলতে শুরু করলো,
মাই ফাকিং স্কোয়াব মাই ফাকিং হোয়াইট রোজ
ডালিং
হৃদয়ের মহারানী
বউ
জান
আমার ছোট্ট হরিণী
মাই লিটল বার্ড
বলেই আবরার কুহেলির কানে হালকা করে কামড় বসায় কুহেলি চোখ মুখ খিঁচকে বন্ধ করে। আবরারের কথা গুলো শুনে হৃদয়ের কেনো জানি শান্তির শ্রোতা বয়ে যাচ্ছে তার কাছে আবরারের এই ছোট্ট আঘাত কিছুই না। তবুও এসব কিছু কুহেলি এক সাইটে রেখে পুনরায় বললো,
আমাকে যেতে দিবেন না ইউনিভার্সিটি..?
আবরার কুহেলি গালে ছোট্ট ছোট্ট চুম্বনের বর্ষ করতে করতে বললো, আগে বলো আমার শর্ত মানবে কি না..?
কুহেলি এবার কিছু টা কৌশল খাঁটিয়ে বললো, আমার কিছু দিন সময় লাগবে এখন যদি আপনি জোর করতে চান আমি না করবো না কজ আপনার অধিকার আছে..!
আবরার থেকে গেলো কুহেলির কথায় তারপর কুহেলির চোখে চোখ রেখে বললো,
আমি এমনিতেই তোমার উপরে অনেক বেশি অন্যায় করে ফেলেছি পাখি। আর অন্যায় করতে চাই না। তুমি সময় নেও তারপর আমার কাছেই ফিরে আসো আমি অপেক্ষা করবো। কিন্তু হ্যাঁ আমি শেষ টা সুন্দর চাই। শুরু টা আমাদের তিক্ততা দিয়ে শুরু হলেও শেষ টা অমৃত দিয়ে করতে চাই।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, উঠো ব্রেকফাস্ট করে রেডি হয়ে নাও আমি তোমাকে ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি করে দিবো আর বডিগার্ড রেখে আসবো। ছুটি হওয়ার সাথে সাথে গাড়ি তে উঠে সোজা বাসায় চলে আসবে।
কথা টা বলেই আবরার উঠে সোজা ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালো কুহেলি কে কিছু বলার সুজোগি দিলো না। কুহেলি ভ্যাবনা কান্তের মতো ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো আবরারের যাওয়ার পানে..!
~~
ফাহিম ল্যাব থেকে বের হলো ক্লান্ত চোখে, তবুও মুখে একরকম শান্ত তৃপ্তির ছাপ।সারারাত ল্যাবে ছিল সে ডেটার মাঝে, রাসায়নিক সূত্রের অজস্র গাণিতিক নিঃশব্দতায়।তবুও সেই একঘেয়েমির ভেতরেও কুহেলির ছবিটা বারবার স্ক্রিনে দেখেছে।
প্রতিবার দেখার পর ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হাসি ফুটেছে,যে হাসিতে ছিল একসাথে মায়া আর রহস্য।
বাইরে তখন সকাল ফুটছে।আকাশে ধোঁয়াটে সূর্যালোক, রাস্তায় ভোরের নিস্তব্ধতা।ফাহিম গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট করলো। মৃদু গর্জনে গাড়ি চলতে শুরু করলো শহরের প্রান্তরেখা ধরে।
এলাকাটা প্রায় পরিত্যক্ত পুরনো গুদাম, বন্ধ কারখানা, ছেঁড়া পোস্টার আর ভাঙা দেয়াল।
এখানে গাড়ির শব্দ মানেই ব্যতিক্রম।
প্রায় দশ মিনিট যাওয়ার পর হঠাৎ এক অচেনা গাড়ি এসে তার গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে গেল।
ফাহিম তড়িঘড়ি করে ব্রেক চাপলো চাকার ঘর্ষণে ধুলো উড়লো, বাতাসে কাঁপন ধরলো।কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।তারপর ফাহিম মাথা উঁচু করে তাকালো সামনে চোখে কোনও ভয় নেই, বরং ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি।
হঠাৎ ফাহিম গাড়ি স্টার্ট দেয়।তারপর আর এক মুহূর্তের দেরি না করে সে ইঞ্জিনে চাপ দিল গাড়ি গর্জে উঠলো আর সামনের গাড়ি টার পাশ কাটিয়ে ঝড়ের মতো ছুটে গেল সামনে।ফাহিমের হাতের ওপর স্টিয়ারিংয়ের মুঠো আরও শক্ত হলো।চোখে ঝলসানো তেজ, মুখে কোনো শব্দ নেই শুধু বাতাসের সঙ্গে গাড়ির তীব্র গতি যেন নিঃশব্দ এক যুদ্ধ ঘোষণা করে।
পেছনের গাড়িটা কিন্তু ছাড়লো না।একই গতিতে, একই ছন্দে ফাহিমের গাড়ির পিছু নিতে লাগলো,
যেন অদৃশ্য কোনো সুতোয় বাঁধা দুই ধাতব জন্তু রাস্তায় একে অপরকে ছিঁড়ে ফেলার প্রতিযোগিতা চলছে তাদের মধ্যে।
রোদ্দুরের আঁচে ধুলো উড়ছে, টায়ারের ঘর্ষণে গন্ধ উঠছে পুড়ে যাওয়া রাবারের।ফাহিম মাঝে মাঝে রিয়ার মিররে তাকিয়ে দেখে,কালো রঙের সেই গাড়িটা এখন আরও কাছে চলে এসেছে একটা নিঃশব্দ হুমকি যেন তার ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে।
সে গাড়ির গতি আরও বাড়ালো।
ঘণ্টায় একশো একশো বিশ তারপরও যেন শেষ নেই।পুরো রাস্তা এখন এক অনিয়ন্ত্রিত দৌড়ে পরিণত।
প্রায় বিশ মিনিট ধরে চলছে এই ধাওয়া যেন এটা কোনো রেস নয়, বরং শিকার আর শিকারির খেলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এক মরণপণ যুদ্ধ।হঠাৎ!এক প্রচণ্ড শব্দে পিছনের গাড়িটা এসে ফাহিমের গাড়ির পেছনে ধাক্কা মারলো।
মুহূর্তেই স্টিয়ারিং কাঁপে, টায়ার স্লিপ করে যায়,
গাড়িটা টাল খেয়ে ডানে-বামে দুলে উঠলো।
ফাহিম পুরো শক্তি দিয়ে ব্রেক চাপলো ধুলো উড়ে গেল, টায়ারের ঘর্ষণে আগুনের মতো গন্ধ উঠলো।
গাড়ি থেমে গেল।
এক মুহূর্ত থেমে ফাহিম দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলো।তার চোখ এখন তীক্ষ্ণ, শীতল, আর প্রস্তুত।
দূরে কালো গাড়িটা স্থির দাঁড়িয়ে আছে, হেডলাইট নিভে গেলেও ভিতরের অন্ধকারে যেন কারও উপস্থিতি স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছে।
বাতাস থেমে গেছে।শুধু রাস্তার নিরবতা আর ফাহিমের ভারী নিঃশ্বাস যেন ঝড়ের আগমুহূর্তের নীরবতা।
ধুলো থেমে গেছে, বাতাসে এখন শুধু পুড়ে যাওয়া রাবারের গন্ধ।ফাহিমের চোখ সরু হয়ে এল যখন কালো গাড়ির দরজা খুলে ধীরে ধীরে কেউ বেরিয়ে এলো।
এক মুহূর্তের জন্য ফাহিম থমকে দাঁড়ায়।একজন মেয়ে লেদার জ্যাকেট, কালো জিন্স, চোখে ঠান্ডা আগুনের মতো দৃষ্টি, ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি।
তার হাঁটার ভঙ্গিতেই আছে আত্মবিশ্বাস আর বিপদের আভাস।
ফাহিম অনিচ্ছা সত্ত্বেও মুচকি হেসে বলে উঠলো,
বাহ! মেয়ে হয়েও তো বেশ ভালো গাড়ি চালাও। এমন স্পিডে তো ছেলেদেরও হাত কাঁপে!
মেয়েটা অর্থাৎ শিশা, তার কথায় ঠোঁটের কোণে আরও এক টুকরো তাচ্ছিল্যের হাসি টেনে বললো,
শুধু ড্রাইভিং না, মারামারিতেও এক্সপার্ট আমি।
তার কণ্ঠ ঠান্ডা কিন্তু তাতে ছিল একধরনের দম্ভ, যেন নিজেই নিজের বিপদের সংজ্ঞা।
ফাহিম ভ্রু কুঁচকে বলে,এসব থাক আগে বলো, তুমি আমার পিছু নিলে কেনো? কি দরকার ছিল এই সার্কাসের?
শিশা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো, ফাহিমের সামনেই এসে থামলো।দু’জনের চোখ এক হয়
একটা চোখে কৌতূহল, অন্যটায় চ্যালেঞ্জ।
তারপর শিশা নিচু গলায় বললো,
একটা ডিল করতে চাই তোমার সাথে।
ফাহিম ঠোঁট কামড়ে সংযত হাসিতে বললো,
ডিল? আমি তো তোমাকে চিনি না তোমার সঙ্গে আমি কেনো ডিল করবো কেনো? আর কিসের ডিল…!
রাস্তায় তখন রুদের ছায়া। বাতাসে টানটান উত্তেজনা যেন কিছু একটা ঘটতে চলেছে।ফাহিম হাত ভাঁজ করে শিশার দিকে তাকিয়ে ছিল, চোখে কৌতূহল আর সাবধানতা একসাথে।
শিশা ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টেনে ধীরে বলে উঠলো,এরিক আবরার খানকে চিনো নিশ্চয়…?
ফাহিমের মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই পাল্টে গেল।
চোখ সরু হয়ে এল, কণ্ঠে শীতলতা নেমে এলো,
হু, শুনেছি নামটা। কানাডার রাজা বলা হয় ওকে, ব্ল্যাকলাইট ব্রাদারহুডের গডফাদার। বাংলাদেশে খুব একটা আসে না কিন্তু ওর নাম নিলা কেনো? তোমার ওর সাথে সম্পর্কটা কি?
শিশা ধীরে ধীরে ফাহিমের চারপাশে হাঁটলো যেন শিকার ঘিরে ধরছে। তারপর তার গলায় এক অদ্ভুত শান্ত সুরে বলে উঠলো,আমি শুনেছি কুহেলিকে তুমি ভালোবাসো।”
ফাহিম থমকে গেল। মুহূর্তেই শিরায় রক্ত জমে গেল তার।কুহেলির নাম যেন এক নিষিদ্ধ সুরের মতো বাজলো তার কানে।
শিশা এবার আরও এক পা এগিয়ে এলো, চোখে এক অদ্ভুত ঝিলিক শুধু ভালোবাসো বললে ভুল হবে, না? পাগলের মতো ভালোবাসো।
ফাহিমের মুখে হালকা রাগ ফুটে উঠলো।
সে এক ধাপ এগিয়ে শিশার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে,কি বলতে চাও তুমি সোজাসুজি বলো। আর আমার ব্যাপারে এতো কিছু জানো কিভাবে?
তার কণ্ঠে ছিলো ঠান্ডা আগুন। চোখে সন্দেহের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।শিশা হেসে ফেললো, কিন্তু সেই হাসিতে ছিলো ভয়ানক।
সব জানি, ফাহিম। তুমি জানো না যে কুহেলি এখন যার খাঁচায় বন্দি, তার নাম এরিক আবরার খান।
বাতাস যেন থেমে গেল।ফাহিমের বুকের ভেতর দপ করে উঠলো এক অদ্ভুত আগুন।চোখের পাতা কেঁপে উঠলো, ঠোঁট শক্ত হলো, আর রাস্তায় নেমে এলো ভয়ঙ্কর নীরবতা।
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৮+স্পেশাল
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩