মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_১১
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
রাতের অন্ধকারে কানাডার রাজধানী অটোয়ার আকাশে নেমে এলো আবরারের প্রাইভেট জেট। নিচে হাজারো আলো ঝলমল করছে যেনো শহরটা ঘুমের ভেতরেও জেগে আছে। কিন্তু সেই ঝলমলে শহরের আলোও ম্লান হয়ে যায় আবরারের চোখের দৃষ্টিতে—একটা দৃষ্টিতে যেখানে ক্লান্তি, ক্রোধ আর অজানা এক কোমলতা মিলেমিশে আছে।
কুহেলি তখনও অজ্ঞান। বিমানের নরম আলোয় তার মুখটা যেনো আরও ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। নিঃশ্বাসের হালকা ওঠানামা ছাড়া কোনো সাড়া নেই তার শরীরে। আবরার নিজের কোট খুলে কুহেলির গায়ে জড়িয়ে দিলো, তারপর নিঃশব্দে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ তার চোখে পড়লো মেয়েটার গালের দাগগুলো, নিজেরই দেওয়া সেই চিহ্ন। ঠোঁটের কোণে অনুতাপের হালকা রেখা ফুটে উঠলো, কিন্তু পরের মুহূর্তেই আবার শক্ত হয়ে গেলো তার মুখের ভাঁজ।
বিমানটি থামতেই দরজা খুলে দিলো ফ্লাইট ক্রু। বাইরে অপেক্ষায় ছিলো শীতল কানাডিয়ান বাতাস আর এক ঝাঁক কালো পোশাক পরা বডিগার্ড।
আবরার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো, তারপর নিঃশব্দে কুহেলিকে কোলে তুলে নিলো। তার বাহুর ভেতর মেয়েটা কতটা নরম, কতটা ভঙ্গুর তা অনুভব করেও সে কোনো কথা বললো না।
জেটের ধাতব সিঁড়ি বেয়ে নামার সময়, কুহেলির সাদা আর সোনালী মিশ্রিত চুলের গোছা আবরারের গলার কাছে ছুঁয়ে গেলো। হালকা শীতলতা ছুঁয়ে গেলো তার ত্বকে, কিন্তু তার ভিতরটা তখনও আগুনের মতো জ্বলছে।
এয়ারপোর্টের বাইরে আগে থেকেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে পনেরোটা কালো গাড়ি। মাঝের গাড়িটা একটা কালো রেঞ্জ রোভার ছিলো আবরারের জন্য। পেছনে ছিলো ফেটিক্স, আবরারের একনিষ্ঠ সিকিউরিটি হেড, নিঃশব্দে সব তদারকি করছিলো সে।
আবরার কোনো কথা না বলে গাড়ির দরজা খুলে কুহেলিকে আলতো করে ভেতরে শুইয়ে দিলো। ফেটিক্স পেছনের গাড়িতে উঠে বসলো, তারপর এক ইঙ্গিতে জানালো সবাইকে।
দশ সেকেন্ডের মধ্যেই ইঞ্জিনের গর্জনে ভরে উঠলো রাতের নীরবতা। একে একে সব গাড়ি শহরের দিকের হাইওয়েতে ঢুকে পড়লো অটোয়ার রাতের বাতাসে শুধু টায়ারের ঘর্ষণের শব্দ আর দূরের আলোয় ঝাপসা হয়ে যাওয়া প্রাইভেট কনভয়ের লাইন।
~~
দুই ঘণ্টা পথ পেরিয়ে গাড়িগুলোর কনভয় ঢুকে পড়লো কানাডার মন্ট্রিয়ালের শান্ত অথচ অভিজাত এলাকায়। রাত তখন গভীর, কিন্তু শহরের বাতাসে এখনো কুয়াশার হালকা ঘ্রাণ, দূরে তুষারপাতের মতো কিছু ভাসছে। রাস্তার দুইপাশে সারি সারি ম্যাপল গাছ, আর সেই নীরবতার মাঝে হঠাৎই দেখা গেলো—একটা বিশাল দু’তলা ডুপ্লেক্স বাড়ি।
বাড়িটা যেনো কোনো রাজপ্রাসাদ। উঁচু লোহার গেটের ওপরে ঝুলছে একটা নামফলক The Crestvale Manor গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বডিগার্ডরা একসাথে মাথা নত করলো যখন সামনের কালো রেঞ্জ রোভারটা ধীরে ধীরে থামলো।
গাড়ি থামতেই প্রথমে নেমে এলো ফেটিক্স। দ্রুত চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিলো, তারপর এগিয়ে গিয়ে আবরারের পাশের দরজা খুলে দিলো।
আবরার ধীরে ধীরে নেমে এলো। কোলে নিথর কুহেলি চোখ এখনো বন্ধ, নিঃশ্বাসের হালকা ওঠানামা।
আবরারের মুখে তখন এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা। তার চোখে কোনো কোমলতা নেই, বরং যেনো বরফের মতো ঠান্ডা কঠিনতা।কুহেলির মাথা তার কাঁধে হেলে আছে, সাদা আর সোনালী চুলের এক গোছা মুখে লেগে আছে, তবুও আবরার তা সরালো না শুধু স্থির চোখে সামনে তাকিয়ে রইলো।
ফেটিক্স এক পা এগিয়ে এসে বললো নিচু গলায়,
Sir, everything’s ready.
আবরার ধীরে তাকালো তার দিকে ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো এক বাকা হাসি। সেই হাসি যেনো শীতের রাতের থেকেও বেশি ঠান্ডা, আর হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়ার মতো নির্মম।
তারপর সে নিচু হয়ে কুহেলির মুখের কাছে ঝুঁকলো
চোখের পাতা কাঁপছে মেয়েটার, কিন্তু জ্ঞান ফিরেনি এখনো।
আবরার ফিসফিস করে বললো,
এখন থেকে শুরু হবে তোমার শাস্তি My fucking squab।
এরপর আবরার কুহেলিকে কোলে নিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ির ভিতরের দিকে এগিয়ে চললো। পথচারীদের পদচারণার মতো নীরবতার মাঝে তার একমাত্র লক্ষ্য সুইমিং পুল যেভাবে বলেছিলো সেইভাবে করেছে তা দেখেই আবরারের ঠোঁটের কোণে এক হালকা হাসি ফুটলো। পুরো সুইমিং পুলটি বরফে ঢেকে গেছে চমকপ্রদ হিমবাহের মতো স্বচ্ছ বরফ, কিন্তু এই বরফের নিচে চাপা শক্তি আছে, এক অদ্ভুত নিঃশব্দ দমন।
আবরার কুহেলিকে আলতো করে শুয়ালো বরফের পুলের ধারে। কুহেলির শরীর নিঃশ্বাস ছাড়ছে, কিন্তু এখনও অজ্ঞান। আবরারের এবার ধীরে ধীরে কোটটি কুহেলির কোমল শরীর থেকে খোলে ফেললো..!তারপর আবরার পেছনে ঝুঁকলো।কুহেলির দুই পায়ে শিকল নিয়ে লাগালো, শক্তভাবে বাঁধলো। শিকলের ঠান্ডা স্পর্শ কুহেলির ত্বককে চরমভাবে জাগিয়ে তুলছে, কিন্তু আবরারের ঠাণ্ডা চোখে সে কেবল ধৈর্য্যের পরীক্ষা।
কুহেলি উঠছে না দেখে আবরার এবার কুহেরি পাশে শুয়ে ওর অধর খানা নিজের অধরে মিশিয়ে নিলো প্রায় চার পাঁচ মিনিটের মাথায় কুহেলির আস্তে আস্তে পিটপিক করে তাকালো…!
নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসছে ছটফট করতে থাকে আবরার এবার ছেড়ে দিয়ে দুই হাতে ভর দিয়ে কুহেলির দিকে ঝুঁকলো কুহেলি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে কিছু ক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে ফিসফিস করে বলে, জানোয়ার..!একটা মানুষ অজ্ঞান থাকলেও কি তাকে এভাবে অত্যাচার করতে হয়…? হৃদয় হীন মানুষ…!
আবরার স্নান হেসে বলে যাক অবশেষে ধানি লঙ্কা তাকালো…! কি ভেবেছো জান তোমাকে এমনি এমনি ছাড়বো..? কখনো না..! আমার থেকে প্রতিশোধ নিতে এসেছিলে তাই না..? চলো তাহলে শুরু করি এই প্রতিশোধের খেলা…!
কুহেলি কিছু টা ভয় পেলেও মুখে তা প্রকাশ না করে বলে আমি তো তকে মারবোই তার আগে বল তাকরিম ভাইয়া কোথায় ওকে কোথায় রেখেছিস..? সাথে সাথে কুহেলির দুই গাল শক্ত করে চেপে ধরে আবরার লাল টকটকে চোখ যেনো আরো বেশি লাল হয়ে গেছে আর গাড়ের রগ রাগে ফুলে গেছে,তারপর দাঁতে দাঁত চেপে রাগি কন্ঠে বলে,
এই হারামির বাচ্চা তর সাহস কি করে হয় আমার বউ হয়ে অন্য কোনো পুরুষের নাম এই মুখে নেস..? আর এক বার যদি এই মুখে অন্য কোনো পুরুষের নাম নেস তাহলে আমি তর জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো..! দরকার পড়লে বোবা বউ পালবো তাও অন্য কোনো পুরুষের নাম মুখ নিতে দিবো না।
কথা খানা বলেই আবরার কুহেলির গল ছেড়ে দিয়ে উঠে বসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।
কুহেলি বেচারির এমনিতেই গালে এতো গুলো থাপ্পড় খেয়েছে তারপর আবার এভাবে চেপে ধরাই গাল কেটে রক্ত বের হচ্ছে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে উঠে বসে তারপর পায়ের দিকে তাকাতে আরো বেশি কান্না পাই তবুও নিজেকে সংযত করে কাঁপা কন্ঠে বলে,
আপনার সাহস কি করে হয় আমার পা এভাবে বাঁধার..? খোলে দেন পা জানোয়ার কোথাকার। লজ্জা করে না একটা মেয়ে কে এভাবে বেঁধে রাখতে..?
আবরারের এমনি রাগ উঠে তারপর উপরে এরকম কথা বলাই আবরার এবার কুহেলির চুলে ধরে বলে তর লজ্জা করলো না ভাতার থাকতে আরেক ভাতার ধরতে..?
কুহেলি ব্যাথা পেলেও অনেক কষ্টে মুখে হেসে ফুটিয়ে বলে না কারণ আমি তকে ভাতার মানি না তুই একটা খুনি আমার ফ্যামিলি খুন করেছিস আবার ভাতার বলতে আসছিস..?
আবরার হঠাৎ কুহেলির চুল ছেড়ে দিলো তারপর পকেট থেকে একটা গ্যাস লাইট বের করে কুহেলির হাত শক্ত করে ধরে বলে এই হাত দিয়ে তো ঐ ছেলের হাত ধরেছিলি তাই না..? এই হাত তাহলে আর আস্ত থাকার যোগ্য না…!
আবরারের কথা শুনে কুহেলি শুকনো ঢুক গিলে বলে একদম আমার হাতের কিছু কবরেনা বলেই হাত ছাড়ানোর মুচরা মুচরি করতে থাকে কিন্তু আবরার হাত ছাড়ে না বরং আরো শক্ত করে ধরে
শব্দ করে এক ভয়ংকর হাসি দেয় তারপর বলে,
তর হাত কিছু করবো না বলছিস..? কালকে সকালে নিজেকে চিনতে পারবি না ডালিং..! বিশ্বাস কর আমি একটু মিথ্যা বলছি না তুই ভাবতেও পারছিস না আজকে রাতে কি কি হবে তর সাথে…!
কথা টা শেষ করেই এক ঝটকায় কুহেলি কে নিজের কোলে বসিয়ে গ্যাস লাইট টা জ্বালিয়ে কুহেলির হাতের ধরে সাথে সাথে কুহেলি চিৎকার করে উঠে চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু ঝরতে থাকে ছটফট করে থাকে কিন্তু আবরারের সেই দিকে কোনো খেয়াল নেয় সে নিজের মতো করে পুড়াতে থাকে কুহেলির হাত আর হাসতে থাকে যেনো মজা পাচ্ছে..!
প্রায় দশ মিনিটের মতো এভাবে পুড়ার পর আবরার কুহেলির হাত থেকে গ্যাস লাইট টা সরায় হাত পুড়ে গেছে অনেক জায়গায় বিশেষ করে হাতের তালুতে। কুহেলি কাঁদতে কাঁদতে বলে,
শয়তান কি করেছিস এটা তুই তকে আমি শেষ করে দিবো আমার হাত টা এভাবে কেনো পুড়ালি..? আমার কষ্ট হচ্ছে তুই এরকম হৃদয় হীন মানুষ কেনো তর কি হৃদয় নেই..? একটা মানুষ কে এভাবে কষ্ট দিতে তর হৃদয় একটুও কাঁপলো না..?
আবরার বাকা হেসে কুহেলি কে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়ায় তারপর কুহেলির কানে হাস্কি কন্ঠে ফিসফিস করে বলে আমার সত্যি হৃদয় বলতে কিচ্ছু নেই মাই ফা*কিং ডালিং…!
তারপর হঠাৎ কুহেলি কে এক ডেল দেয় বরফ ভর্তি সুইমিং পুলে সাথে সাথে কুহেলি বরফ ভর্তি সুইমিং পুলে পড়ে যায় বিস্মিত হয়ে তাকায় আবরারের দিকে..!
আবরার হাসতে হাসতে একটা চেয়ারে বসে তারপর একটা সিগারেটে ধরিয়ে একটা টান দেয় দেখে কুহেলি উঠার চেষ্টা করছে। আবরার ড্রিঙ্কস গ্লাসে ঢালতে ঢালতে বলে,
লাভ নেই বউ পাখি তোমার পায়ে শিকল বাঁধা আর হাত পুড়া আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না চাইবো তুমি ততক্ষন পর্যন্ত উঠতে পারবে না তাই ঐখানেই ইনজয় করো আমি এখানে…!
কুহেলি শীতে কাঁপতে কাঁপতে বলে,
মাঙ্গের নাতি ঐ সব হবি ওয়াটার পরে খাবি আগে আমাকে এখানে থেকে উঠা আমি মরে যাবো আর কিছু ক্ষণ এখানে থাকলে…..!
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭